টাঙ্গাইল শাড়ির জিআই স্বীকৃতি মিলল


০৯:৩৭ পিএম, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
টাঙ্গাইল শাড়ির জিআই স্বীকৃতি মিলল - Ekotar Kantho
ঐতিহ্যবাহী টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি

একতার কণ্ঠঃ সম্প্রতি টাঙ্গাইল শাড়ির জিআই (জিওগ্রাফিকাল ইন্ডিকেশন) বা ভৌগলিক নির্দেশক পণ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের হস্ত শিল্প দফতর। এরপরেই তা নিয়ে বিতর্কের ঝড় ওঠে।

এরইমধ্যে বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে টাঙ্গাইল শাড়িকে স্বীকৃতি দিয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদফতর (ডিপিডিটি)।

বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) এ বিষয়ে গেজেট প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শিল্পসচিব জাকিয়া সুলতানা। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

20230826-141431

সংশ্লিষ্টরা জানান, ইতোমধ্যে ভারত টাঙ্গাইল শাড়িকে তাদের জিআই পণ্য ঘোষণা করায় আইনগত বিষয় নিয়ে চিন্তা ভাবনা করা হচ্ছে। প্রয়োজনে বিশ্ব মেধাসম্পদ সংস্থা বা ওয়ার্ল্ড ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অর্গানাইজেশনের মাধ্যমে (ডাব্লিউআইপিও) সমাধানের জন্য উদ্যোগ নেয়া হবে।

এরআগে, মঙ্গলবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পেতে মন্ত্রণালয়ে ই-মেইলের মাধ্যমে আবেদন করেছিলেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মো. কায়ছারুল ইসলাম।

গেল ২ জানুয়ারি ঐতিহ্যবাহী টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ির ভৌগলিক নির্দেশকের সত্ত্ব পেয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার ফুলিয়া। আর এটাও সত্য যে, টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি পৃথিবী বিখ্যাত এবং সবারই জানা এর ভৌগলিক অবস্থান বাংলাদেশেই।

এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে ফুলিয়ার তাঁত শিল্পীরাও বিব্রত। যেমন- ২০২১ সালে তাঁত শিল্পের জন্য ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের স্বীকৃতি পদ্মশ্রীপ্রাপ্ত তাঁত শিল্পী বীরেন কুমার বসাক, যার পূর্বপুরুষের বাড়ি বাংলাদেশের টাঙ্গাইলে, তিনিও কিছুটা অবাক হয়েছেন।

তার ভাষায়, ‘বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দুই সরকারের দেখা উচিত।’ তবে তিনি যোগ করেন, ‘যেহেতু ফুলিয়া-টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়িতে জিআই স্বীকৃতি পেয়েছে, তাই তারা এটা নিয়ে খুশি।’

বীরেন কুমার বসাক নিজেই স্বীকার করে বললেন, টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ির উৎস বাংলাদেশের টাঙ্গাইলের জেলাতেই। আর ফুলিয়ার প্রায় সব তাঁতিই এসেছেন পূর্ববঙ্গ থেকে।

ফুলিয়া প্রগতিশীল তন্তুবায় সমিতির কর্মকর্তা অশ্বীনি কুমার বসাক জানালেন, মাধ্যমিক পাস করার পর তিনি বাংলাদেশ থেকে এসেছেন ফুলিয়াতে। এসে যুক্ত হয়েছেন তাঁত শিল্প উন্নয়নের কাজে। এই সমবায়ে প্রায় ৪০৫ জন তাঁত শিল্পী রয়েছেন। যদিও করোনার পর অনেকেই এখন এই পেশা ছেড়ে দিয়েছেন। টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ির জিআই পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে খোদ টাঙ্গাইলে তার বন্ধু-স্বজনরাও ক্ষুব্ধ হয়েছেন বলে জানান তিনি।


পাঠকের মতামত

-মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

নিউজটি শেয়ার করুন

কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।