আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর দখল থেকে উদ্ধার করা জমিতে আধুনিক কাঁচাবাজার নির্মিত হচ্ছে। টাঙ্গাইল পৌরসভা জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে অস্থায়ী ভিত্তিতে বাৎসরিক ইজারা নিয়ে সেখানে বাজার নির্মাণ করছে। উদ্ধার করা ওই জমিতে শেখ রাসেল শিশুপার্ক করার কথা ছিল। কিন্তু বিভিন্ন জটিলতা থাকার কারণে পার্ক নির্মাণ করা যায়নি বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। শহরের আকুরটাকুর পাড়ায় সড়কের ওপর বটতলা বাজার স্থানান্তর করে উদ্ধার করা ওই জমিতে কাঁচাবাজার নির্মিত হচ্ছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, শহরের আকুরটাকুর পাড়া মৌজায় ২৪২ খতিয়ানের ৭৮৮ দাগে ৬৬ শতাংশ অর্পিত সম্পত্তি মামলা মূলে ১৯৭২ সালে ইজারা নেন সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত নিয়মমতো লিজমানি পরিশোধ করেন। এরপর দীর্ঘ সময় তিনি ইজারার শর্ত ভঙ্গ করেন। এ ছাড়া টাঙ্গাইল জেলা জজ আদালতে ওই জমির মালিকানা দাবি করে মামলা করেন। মামলায় তিনি ডিক্রিও পান। সরকারপক্ষ জেলা জজ আদালতে রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে লিভ টু আপিল করেন। ওই সিভিল রিভিশন মামলায় সরকারপক্ষে রায় দেন আদালত। এ ঘটনায় আবদুল লতিফ সিদ্দিকী উচ্চ আদালতে সরকারপক্ষের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে লিভ টু আপিল করেন। সুপ্রিম কোর্টও সরকারের পক্ষে রায় দেন। পরে গত ২৪ জানুয়ারি আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর অবৈধভাবে দখলে রাখা ৬৬ শতাংশ জমি উদ্ধার করে জেলা প্রশাসন।
এদিকে আকুরটাকুর পাড়ার কয়েকজন ঘনবসতি এলাকা হওয়ায় সেখানে বাজার না করার দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি দিয়েছেন।
স্থানীয় মাসুদ রানা, রাসেল সিদ্দিকী, সংগ্রাম খন্দকার, সৈয়দ সাদেক জানান, এলাকাটির একদিকে জেলা সদর রোড় অন্য দিকে তালতলা রোড়। এখানে বাজার বসলে চলাচল করা কষ্টকর হয়ে পড়বে। আবাসিক এলাকায় নতুন করে বাজার বসানো সিদ্ধান্তটি সঠিক হয়নি। এখানে শিশুদের জন্য বিনোদন কেন্দ্র চাই, বাজার নয়।
জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনি জানান, উদ্ধার করা জমির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা পার্ক না করে জনহিতকর কোনো কাজে ব্যবহার করার পরামর্শ দেন। এ ছাড়া জমিটি ক তফসিলভুক্ত অর্পিত সম্পত্তি হওয়ায় সরকারি কোনো দপ্তরকে স্থায়ী ভিত্তিতে দেওয়া যায়নি। মাসিক উন্নয়ন সভায় বিভিন্ন মহল থেকে উদ্ধার করা ওই জায়গায় সড়কের ওপর অবস্থিত বটতলা বাজার স্থানান্তরের দাবি তোলা হয়। সভার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভিন্ন শর্তসাপেক্ষে টাঙ্গাইল পৌরসভাকে অস্থায়ীভাবে বাৎসরিক ইজারা দেওয়া হয়েছে। সেখানে ৬৭টি কাঁচা সেমিপাকা দোকান হবে। পয়ঃনিস্কাশনের ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থাকবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে খামার ও কৃষক পর্যায়ে কোরবানির জন্য প্রায় দেড় লাখ গরু প্রস্তুত থাকলেও করোনার কারণে হাট না বসানোয় ক্রেতা মিলছে না।সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে কোরবানির পশু বিকিকিনির জন্য অনলাইন হাটের ব্যবস্থা করা হলেও এ বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা না থাকায় জমে ওঠছে না।ফলে কোরবানির পশু বিক্রি নিয়ে কৃষক ও খামারীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। তবে ঈদুল আযহার আগে ৩-৪দিন হাট বসানোর অনুমতি দেওয়া হলে এ অবস্থার কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তন হওয়ার আশায় বুক বেঁধেছেন খামারী ও কৃষকরা।
জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানাগেছে, টাঙ্গাইল জেলার ১২টি উপজেলায় ছোট-বড় ৬ শতাধিক গরু মোটাতাজা করণের খামার রয়েছে।খামারগুলোতে ৯৫ হাজার ২০০ কোরবানির গরু বিক্রির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া জেলার কৃষক পর্যায়ে প্রায় ৫০ হাজার পশু মোটাতাজা করে কোরবানির জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সূত্রমতে, সরকারি হিসেবে জেলায় কোরবানির জন্য ৮৪ হাজার ২২০টি(গত দুই বছরের অনুপাতে) পশুর চাহিদা রয়েছে। কিন্তু বেসরকারি হিসেবে এর সংখ্যা প্রায় দেড় লাখ। করোনার কারণে দেশে কঠোর লকডাউন চলমান থাকায় জেলার গরুর হাটগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।জেলার গরুর হাট হিসেবে খ্যাত ৩-৪টি হাটে ইজারাদাররা ব্যক্তি উদ্যোগে হাট বসানোর চেষ্টা করায় জেলা-উপজেলা প্রশাসনের তৎপরতায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তারা কোরবানির হাট বসানোর বিষয়ে সরকারি সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন।

এদিকে, অনলাইন কেনাকাটা উৎসাহিত করতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কোরবানিকে সামনে রেখে ১৩টি অনলাইন পশুর হাট পেইজ খোলা হয়েছে।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক পেইজে খোলা এসব হাটগুলোর মধ্যে জেলার ১২টি উপজেলায় ১২টি এবং জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে একটি রয়েছে।এসব পেইজে বৃহস্পতিবার(৮ জুলাই) পর্যন্ত তিন হাজার ৬৮১টি পশুর বিবরণ সহ ছবি আপলোড করা হয়েছে। এরমধ্যে ১৩২টি কোরবানির পশু সরকারি অনলাইনে বিক্রি হয়েছে।
সরেজমিনে কৃষক জাহাঙ্গীর আলম, বুলবুল হোসেন, দবির উদ্দিন, আজিজুর রহমান, বাবলু মিয়া, রমজান আলী, লালচান মিয়া, নজরুল ইসলাম সহ অনেকেই জানান, তারা প্রতি বছর কোরবানি সামনে রেখে ২-৪টি ষাড় বাছুর কিনে মোটাতাজা করেন।মোটাতাজাকরণে পরিবারের সবাই কম-বেশি শ্রম দেন। কোরবানির সময় বিক্রি করে তারা বেশ লাভবান হন। এ বছরও তারা ষাড় বাছুর কিনে মোটাতাজা করেছেন।কিন্তু এবার করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় কঠোর লকডাউন চলছে। ফলে এখনও পর্যন্ত কোন পাইকার তাদের গরু কেনার জন্য আসেনি। হাট বন্ধ থাকায় তাদের গরুগুলো বাড়িতেই রয়েছে। অনলাইন হাট সম্পর্কে তাদের ধারণা না থাকায় সেখানেও কোন রকম যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছেনা। সব মিলিয়ে তারা এবার গরু নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
টাঙ্গাইল পৌরসভার বালুচরা এলাকার বীণা এগ্রো ফার্মের মালিক শাহ আজিজ তালুকদার জানান, কোরবানিকে সামনে রেখে তিনি ১৫টি দেশি জাতের গরু লালন-পালন করছেন।ইতোমধ্যে গরুগুলো ক্রয় ও পালনে তিনি ২০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন। করোনায় হাট-বাজার বন্ধ থাকায় তিনি অনলাইনে চেষ্টা করে আশানুরূপ সাড়া পাননি। ভারতীয় গরু দেশে না এলে তিনি এবারও লাভের মুখ দেখবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।
ভূঞাপুরের বৃহৎ খামার চকদার গরুর খামারের মালিক মো. দুলাল হোসেন চকদার জানান, এ বছর কোরবানির জন্য তিনি ১০০টি ষাড় ও বলদ মোটাতাজা করেছেন। এরমধ্যে ৪০টি বলদ ও ৬০টি ষাড় গরু রয়েছে।করোনার কারণে এবার তিনি অনলাইনে গরু বিক্রির উপর জোর দিয়েছেন। ফেসবুকে পেইজ খুলে গরুর ছবি দিয়ে তিনি ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষনের চেষ্টা করছেন। এতে ভালো সাড়াও পেয়েছেন।প্রতিদিনই অনলাইনে লোকজন যোগাযোগ করছেন, পাইকাররাও ফেসবুকে দেখে স্বশরীরে আসছেন। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তিনি ২৬টি ষাড় ও বলদ বিক্রি করেছেন।
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর গরুর হাট ভূঞাপুরের গোবিন্দাসী গরুর হাটের ইজারাদার মো. লিটন মন্ডল জানান, স্থানীয় নানা জটিলতার কারণে বৃহত্তর এ হাটটি ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলেছে।করোনার কঠিন আঘাত তাদের জন্য ‘মরার উপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার হাটবারেও গরু থাকলেও কঠোর লকডাউনের কারণে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে হাটে বিকিকিনি বন্ধ করে দিয়েছে।এছাড়া লকডাউনের কারণে ক্রেতা ও পাইকাররা আসতে পারছেনা। গত বছর হাট ইজারা নিয়ে বেশ লোকসান গুনতে হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে গোবন্দিাসী গরুর হাট অস্তিত্ব হারাবে।
টাঙ্গাইল জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রানা মিয়া জানান, কঠোর লকডাউনের কারণে হাট-বাজার বন্ধ রয়েছে।কোরবানির পশু বিকিকিনি করতে জেলা প্রশাসন ও প্রাণি সম্পদ দপ্তরের উদ্যোগে একটি এবং জেলার ১২টি উপজেলায় ১২টি মোট ১৩টি ফেসবুক পেইজ খোলা হয়েছে। ওইসব পেইজে খামারী ও সাধারণ কৃষকদের অনলাইনে পশু কেনাবেচাঁর সুযোগ তৈরি হয়েছে।অনেকে এ সুযোগ গ্রহন করছেন। সরকারি নির্দেশনা পেলে পশুর হাট বসানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে বাসাইল উপজেলার ফুলকী ইউনিয়নে আইসড়া বাজারে ডাচ্-বাংলা এজেন্ট ব্যাংকিং এর এজেন্ট গ্রাহকের কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এজেন্টের নাম সারোয়ার হোসেন সবুজ। সে বাসাইল উপজেলার ফুলকী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি।অভিযুক্ত সবুজ ফুলকী ইউনিয়নের আইসড়া গ্রামের মারিফত মিয়ার ছেলে।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) সকালে গ্রাহকরা তাদের টাকা ফেরতের দাবীতে আইসড়া বাজারে অবস্থিত আইসড়া ডাচ্-বাংলা এজেন্ট ব্যাংকিং বুথ ঘেরাও করে মিছিল সমাবেশ করেছে।
জানা যায়, তিন বছর আগে ডাচ্-বাংলা কেন্দ্রীয় ব্যাংক আইসড়া বাজারে এজেন্ট ব্যাংকিং বুথ চালু করে। বাসাইলের ফুলকী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সবুজ এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন। বাজারে একটি দালান ভাড়া নিয়ে এজেন্ট ব্যাংকিং শুরু করেন। আইসড়া গ্রাম তাঁত সমৃদ্ধ এবং অনেক মানুষ প্রবাসী হওয়ায় তাদের স্ত্রী এবং তাদের পরিবারকে টার্গেট করেন সবুজ। ব্যাংকিং নীতিমালা উপেক্ষা করে সাধারণ রেটের চেয়ে উচ্চ হারের রেটের প্রলোভন দেখিয়ে ব্যাংকে টাকা জমা রাখতে প্রলুব্ধ করেন। অতি মুনাফার আশায় গ্রামের অনেক মানুষ বিদেশ থেকে পাঠানো টাকা এবং আইসড়া বাজারের ব্যবসায়ীরা এজেন্ট ব্যাংকে টাকা জমা রাখেন।
অতি সম্প্রতি জমাকৃত টাকা উত্তোলন করতে গিয়েস গ্রাহকরা দেখেন তাদের জমানো টাকা ব্যাংক হিসেবে নেই। এজেন্ট সবুজের কাছে টাকা বিষয়ে জানতে চাইলে সে বিভিন্ন গ্রাহকে টাকার দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে টালবাহানা শুরু করেন এবং গ্রাহকেদের ঘুরাতে থাকেন। টাকা না পেয়ে গ্রাহকরা বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেন। তাদের জমানো টাকা পাওয়ার আশায় বাজারে সালিশী বৈঠক বসান। সেখানে সবুজ টাকা ফেরত দেয়ার প্রতিশ্রতি দেন। হঠাৎ করে গত সাতদিন ধরে সবুজ এজেন্ট ব্যাংকিং বন্ধ করে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় গ্রাহকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে মিছিল সমাবেশ করেন।
সরেজমিন তথ্য নিয়ে জানা গেছে, গ্রাহক রুম্পা বেগমের ১৪ লাখ টাকা, আফজাল হোসেনের ৯ লাখ টাকা, রাজু আহমেদের ৭ লাখ টাকা, জলি বেগমের পৌঁনে ৪ লাখ টাকা, বাজারের চা বিক্রেতা আবুল হোসেনের ১ লাখ টাকা, ইতি খানের ৪০ হাজার টাকাসহ অসংখ্য গ্রাহকের প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে গেছে এজেন্ট সবুজ।
ক্ষুব্ধ দোকানদার রাজু বলেন, তিনি পাঁচ লাখ জমা দিয়ে প্রতারিত হয়েছেন। ডাচ্-বাংলা এজেন্ট ব্যাংকিং এর টাঙ্গাইল অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা এর পেছনে জড়িত রয়েছে। তা নাহলে সবুজ জমাকৃত কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সাহস পেত না। আত্মসাতের সাথে জড়িতদের বিচার ও টাকা ফেরতের দাবি জানান তিনি।
গ্রাহক ইতি খান অভিযোগ করে বলেন, তিনি বিশ্বাস করে ব্যাংকে টাকা রেখেছেন। সবুজ এমন প্রতারণা করবে বুঝতে পারেননি তিনি। প্রথম যখন তিনি টাকা জমা রাখতেন তখন মোবাইলে এসএমএস আসতো। পরবর্তীতে ব্যাংকে টাকা জমা দিলে এসএমএস আসতো না। এ বিষয়ে ব্যাংকে জানালে তারা বলতো সার্ভার বিকল হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্থ আফজাল হোসেন বলেন, বিদেশে থেকে পাঠানো ৯ লাখ টাকা তার মা ও স্ত্রী জমা রেখেছে। উচ্চ হারের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের টাকা জমা রাখতে বাধ্য করেছে। তারাও গ্রামের ছেলে হিসেবে সবুজকে বিশ্বাস করেছে। দেশে এসে টাকা উঠাতে গেলে জানতে পারেন টাকা নিয়ে পালিয়েছে সবুজ।
এ প্রসঙ্গে ফুলকী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, গ্রাহকের টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে গত তিন দিন আগে আইসড়া বাজারের সকল গ্রাহক, ব্যাংকের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বাজার কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং পলাতক সবুজের বাবাকে নিয়ে সালিশী বৈঠকে বসা হয়। সবুজের বাবা তার সম্পতি বিক্রি করে গ্রাহকের টাকা পরিশোধের রাজি হন। সকলের উপস্থিতিতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের হিসাবের ভিত্তিতে সবুজের বাবা টাকা পরিশোধ করবেন বলে সালিশি বৈঠকে জানান।
বাসাইল উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কামরান খান বিপুল বলেন, সবুজ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি। সে একটি ব্যাংকের এজেন্ট ছিল। বহু গ্রাহকের টাকা নিয়ে পালিয়েছে বলে শুনেছি। এ ঘটনায় তাকে পদ থেকে অব্যহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে উপজেলা ছাত্রলীগ। উপযুক্ত প্রমাণ পেলে, তাকে সংগঠন থেকে বহিস্কার ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
টাঙ্গাইল ডাচ্-বাংলা এজেন্ট ব্যাংকিং অফিসের ব্যবস্থাপক আব্দুর রউফ বলেন, বিষয়টি নিয়ে ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ একটি বৈঠক করেছে। স্থানীয় লোকজনকে সাথে নিয়ে গ্রাহকদের টাকা পরিশোধের চেষ্টা করা হচ্ছে।
একতার কন্ঠঃ আগামীকাল সোমবার(২১ জুন) থেকে সারাদেশে ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। রবিবার (২০ জুন) সচিবালয়ে এক সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে আদেশ জারি করা হবে।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাস টার্মিনাল ছাড়া কোনো জায়গা থেকে চাঁদা আদায় করা যাবে না। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হচ্ছে।আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘সড়ক পরিবহন সেক্টরে শৃঙ্খলা জোরদারকরণ এবং দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। যেই কমিটির ১১১টি সুপারিশ ছিল। পরে এ বিষয়ে টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। বেশ কিছু সুপারিশ বাস্তবায়নে পথে, অল্প কিছু বাস্তবায়িত হয়েছে। বাকিগুলো কীভাবে বাস্তবায়ন করবো, আমরা সেই বিষয়ে কর্মপন্থা নির্ধারণ করেছি।
’আজকে সভার সিদ্ধান্ত তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা লক্ষ্য করেছি সারাদেশে রিকশা-ভ্যানের মধ্যে মোটর লাগিয়ে রাস্তায় চলছে। শুধু সামনের চাকায় ব্রেক, পিছনের চাকায় কোনো ব্রেক নেই বা ব্যবস্থা থাকলেও তা অপ্রতুল। সেগুলো যখন ব্রেক করে যাত্রীসহ গাড়ি উল্টে যায়। এই ধরনের দৃশ্য আমরা দেখেছি।’‘আমরা দেখেছি হাইওয়েগুলোতেও এই রিকশা চলে আসছে।
এ জন্য সারাদেশের প্যাডেল চালিত রিকশার বিষয়ে আমরা বলছি না। প্যাডেল চালিত রিকশাকে যারা ইঞ্জিন দিয়ে রূপান্তর করেছেন, সেই সব রিকশা-ভ্যান বন্ধ করার সিদ্ধান্ত আজকের সভায় নেয়া হয়েছে।’ইজিবাইক, নছিমন, করিমনের জন্য দুর্ঘটনা ঘটছে। এগুলোর বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত- জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘নছিমন, করিমন, ভটভটি বিভিন্ন শহরে অটোরিকশা চলছে। আমরা সব জায়গায় যানবাহনের ব্যবস্থা করতে পারিনি। গ্রাম-গ্রামান্তরে সুন্দর রাস্তা হয়ে গেছে। হাঁটা কিংবা সাইকেল, মোটরসাইকেল, রিকশা ছাড়া পর্যাপ্ত যানবাহন নেই। সেজন্য নছিমন, করিমন পণ্য পরিবহন কিংবা যানবাহনের বিকল্প হিসেবে কাজ করছে। এটা নিয়েও আলোচনা হবে। খুব শিগগিরই এটাকে পরিমিত করা এবং ফাইনালি বন্ধ করা যায় কি-না সেটা নিয়ে আলোচনা হবে। আমরা সেখানেও কাজ করবো।’স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ইজিবাইক যথেষ্ট পরিমাণ এসে গেছে। ছোট ছোট গলিতে এগুলোর চলার কথা ছিল, প্রথমে সেভাবেই আসছিল। কিন্তু এরা সর্বত্র বিচরণ করছে। কমিশনার (ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার) জানিয়েছেন, ১৩ হাজার মোটরচালিত রিকশা-ভ্যান আমরা ধ্বংস করেছি।
ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে, যাতে তারা তাদের নির্দিষ্ট স্থান থেকে বের হতে না পারে। হাইওয়েতে কিংবা বড় রাস্তায় না আসতে পারে। ক্রমান্বয়ে আমরা এটাও বন্ধ করে দেব।’সভায় সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি শাজাহান খান, সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি মো. মসিউর রহমান রাঙা, পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ, টাস্কফোর্সের অন্যান্য সদস্যরা সশরীরে ও ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ সারা দেশের ন্যায় টাঙ্গাইলেও জেলা বিএনপির উদ্যোগে বৃক্ষ রোপন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে শুক্রবার(১৮ জুন) দুপুরে টাঙ্গাইল শহরের পদ্মমনি (বড়) পুকুর পাড়ে এ বৃক্ষ রোপন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ছাইদুল হক ছাদু, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল, জেলা বিএনপির সহ সভাপতি সাদেকুল আলম খোকাসহ দলীয় নেতাকর্মীরা।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে পরিবেশ বান্ধব নিম গাছের চারা রোপন করা হয়। জেলার অন্যান্য উপজেলা পর্যায়েও বৃক্ষ রোপন করা হবে বলেও দলীয় সূত্র জানান।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বৈরাণ নদীর উপর নির্মিত ফুট ওভার ব্রিজটি ভেঙে গোপালপুরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। শুক্রবার( ১১ জুন) সকালে গোপালপুর পৌরসভার কোনাবাড়ি এলাকায় বৈরাণ নদীর উপর নির্মিত ফুটওভার ব্রিজটি ভেঙে পৌরসভার পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তবে কেউ হতাহত হয়নি।
জানা গেছে, টানা দুই দিনের বৃষ্টিতে দুটি পিলারসহ ব্রিজের একপাশ ভেঙে পড়ে। পরে ক্রমশ:ই ব্রিজের ভাঙা অংশ বাড়তে থাকে। অনেক আগেই ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছিল। তারপরও সংস্কারে কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেনি কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয়রা জানায়, ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণার পরও জনগুরুত্বপূর্ণ ব্রিজটি সংস্কার বা পুননির্মাণে কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নেয়নি। ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় মানুষের চলাচলের ব্যাপক দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
গোপালপুর পৌরসভার মেয়র রকিবুল হক ছানা জানান, ফুট ওভার ব্রিজটি ভেঙে পড়ার পর দ্রুত তিনি পরিদর্শন করেন। ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজটি টানা দুই দিন ভারি বৃষ্টির ফলে দুর্বল হয়ে ভেঙে পড়েছে। খুব দ্রুত চলাচলের জন্য তিনি বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।
একতার কন্ঠঃ মন মাতানো ফ্লেভারের কফি, সুমিষ্ট ড্রাগন, ভিটামিন সি সমৃদ্ধ মাল্টার পর এবার পুষ্টিকর পার্পেল পটেটো চাষে সফলতা দেখিয়েছেন এক অদম্য কৃষক। এ কৃষকের নাম সানোয়ার হোসেন। বাড়ি টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার মহিষমারা গ্রামে।
গ্রাজুয়েশনের পর সানোয়ার শিক্ষকতা শুরু করেন। কিন্তু বছর না ঘুরতেই সেটি ছেড়ে বাপ-দাদার জীবিকা কৃষিকেই জীবিকা হিসেবে বেছে নেন। পারিবারিকভাবে পাহাড়ি লাল মাটির ছয় একর জমিতে বরাবরই আনারস আবাদ হয়। সেটির পাশাপাশি নতুন করে চার একরে মাল্টা, এক একরে ড্রাগন, তিন একরে কফি, বাতাবি লেবু, অ্যারাবিয়ান খেজুর ও পেঁপের আবাদ যোগ করেন তিনি। গতবার এক কৃষিবিদের মাধ্যমে আমেরিকান জাতের পার্পেল পটেটো বা বেগুনি আলুর কন্দ সংগ্রহ করেন। সেটি লাগান এক একর জমিতে। শতাংশে ফলন পেয়েছেন দুই মণ। কেজিতে বিক্রি ১০০ টাকা দরে। আকর্ষণীয় রং আর ব্যতিক্রম স্বাদের দরুন বেচাবিক্রিতে কোনো সমস্যা হয়নি। সানোয়ার জানান, রাসায়নিক সার ও কীটনাশক নয়, নিরাপদ ও জৈব কৃষিকে অগ্রাধিকার দিয়ে আনারসসহ বৈচিত্রময় ফল ও ফসল আবাদ করেন তিনি। বাড়িতে রয়েছে গরুর খামার। সেটির গোবরে তৈরি হয় কম্পোস্ট সার।
পার্পেল চাষ সম্পর্কে জানান, মধুপুরের পাহাড়ি এলাকায় শ্রাবণ-ভাদ্রে মাসে বাগান থেকে আনারস তোলার পর এমনিতেই চার মাস জমি পতিত থাকে। সেই জমিতে মধ্যবর্তী ফসল হিসেবে সহজেই পার্পেল আবাদ সম্ভব। খরা প্রতিরোধক হওয়ায় সেচ এমনকি সারও লাগে না। পোকামাকড়ের উপদ্রব তো নেই-ই। আলু তোলার পর জমিতে লতানো গাছ গবাদিপশুর উত্তম খাবার হিসেবে বিবেচিত হয়।
একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত পুষ্টিবিদ ড. আবু রায়হান জানান, বিশ্বে ৪০০ রকমের মিষ্টি আলুর মধ্যে জাপানি এবং আমেরিকান জাতের বেগুনি আলু বা পার্পেল পটেটো সবচেয়ে পুষ্টি সমৃদ্ধ। আঁশ সমৃদ্ধ এ আলুতে প্রচুর শর্করা ছাড়াও পটাশিয়াম, ভিটামিন এ বি সি বিটা ক্যারোটিন এবং প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এটি কোষের ক্ষয়রোধ এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।সনাতন রীতিতে খাওয়া ছাড়াও ভেজিটেবল, স্যুপ এবং সালাদের সঙ্গেও এটি চলে।
মধুপুর উপজেলার মহিষমারা ব্লকের উপসহকারী কৃষি অফিসার এরশাদ আলী জানান, দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ মাটি পার্পেলসহ যে কোনো মিষ্টি আলু চাষের উপযোগী। সেপ্টেম্বর-অক্টোবর কন্দ বা চারা লাগানোর উপযুক্ত সময়। আগে নদীতীরের পলি মাটিতে এর আবাদ হতো। এখন সানোয়ার হোসেনের মতো খামারিরা মধুপুরের লাল মাটিতে লাভজনক ফসলের তালিকায় পার্পেলকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। খামারের একই জমিতে পর্যায়ক্রমিকভাবে ফল ও ফসল আবাদ করে তিনি তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। পুষ্টিকর পার্পেল এলাকায় সাড়া ফেলেছে।
মধুপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মাহমুদুল হাসান জানান, মধুপুর গড়ে প্রায় ৫০ একরে মিষ্টি আলুর আবাদ হয়। তবে পার্পেল জাতের আবাদ এবারই প্রথম। মধ্যবর্তী বা একক ফসল হিসেবে পার্পেলের বানিজ্যিক চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। শতভাগ বিশুদ্ধ খাবার হিসেবে বিদেশে রফতানির সুযোগও রয়েছে। চাষিদের আবাদে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এজন্য ‘কন্দাল ফসল উন্নয়ন প্রকল্প’ নেওয়া হয়েছে। হাতে-কলমে শিক্ষার জন্য প্রদর্শনী প্লটও করা হয়েছে। পার্পেল ছাড়াও বারী উদ্ভাবিত দুটি উফসি জাতকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে করোনা পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত দারুল আরকাম ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষকদের আপদকালীন সহায়তা হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে এককালীন আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার(২০ মে) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের হাতে অনুদানের টাকা তুলে দেন, টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) আমিনুল ইসলাম।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন টাঙ্গাইলের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে ওই অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় ৪৬ জন শিক্ষককে ২৫ হাজার করে টাকা মোট ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে কোভিড-১৯ ভীতি উপেক্ষা করে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপনের লক্ষ্যে কেনাকাটায় মহাব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন মধুপুরবাসী। সরকারের কঠোর বিধিনিষেধ জারির পরও মধুপুররবাসীর মধ্যে যেন কোনো ধরনের করোনা ভীতি নেই। এই সংকটকালেও নিশ্চিন্তে ঈদের কেনাকাটা করছেন তারা।
টাঙ্গাইলের মধুপুরে বিভিন্ন বয়সী মানুষ তাদের পছন্দের জিনিসপত্র কিনতে এক মার্কেট থেকে অন্য মার্কেটে ছুটছেন। প্রতিটি মার্কেটেই ক্রেতাদের জনসমাগম চোখে পড়ার মতো। এক্ষেত্রে তাদের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বা স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো তাড়না চোখে পড়েনি। কিছু কিছু মার্কেটে পা ফেলার জায়গাও পাওয়া খুবই মুশকিল হয়ে পড়েছে।
মধুপুরের পাইলট সুপার মার্কেট, সরকার মার্কেটসহ অন্যান্য মার্কেটগুলোতেও একজনের সঙ্গে আরেকজনের গা ঘেঁষে ঘেঁষে চলতে দেখা গেছে। এমনকি অভিভাবকদের সঙ্গে ঈদ শপিংয়ে মার্কেটে আসা শিশুদেরকেও মাস্ক পড়তে দেখা যায়নি।
মার্কেটগুলোতে উপচে পড়া ভীড় দেখা গেলেও বেচাকেনার পরিমাণ চাহিদার তুলনায় খুবই কম বলে দাবি করেছেন বিক্রেতারা। বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ক্রেতাদের ভীড় অনেক বেশি। কিন্তু বেচা-বিক্রি অনেক কম। যে পরিমাণ জনসমাগম রয়েছে সবাই যদি একটি করে জিনিসও কিনতেন তাহলে আমাদের দোকানের জিনিসপত্র অনেক কমে যেত। কেনাকাটা হচ্ছে কম, অধিকাংশই শুধু জিনিসপত্র দেখছেন।
সরেজমিনে মধুপুরের বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, শপিংমল ও দোকানপাট খুলে দেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই একপ্রকার হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন ক্রেতারা। কেউ নিজস্ব গাড়ি হাঁকিয়ে যাচ্ছেন মার্কেটে। কেউ যাচ্ছেন অটোরিকশা কিংবা রিকশায়। তবে এখন আর কোনো চিন্তা-ভাবনা নেই মানুষের মধ্যে। স্বাস্থ্যবিধি কেউ কেউ মানছেন আর কেউ বা মানছেন না, যারা মানছেন না তাদেরকে বাধ্য করাররও যেন কেউ নেই।
মধুপুরের সরকার মার্কেটের কয়েকজন ক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঈদের শপিং করতে এসেছেন তারা। করোনার মধ্যেও তো ঈদ করতে হবে। এ কারণেই কিছু কেনাকাটা করতে এসেছেন। তবে এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ঘোরাঘুরি কম করছেন, পছন্দ হলেই কিনে নিচ্ছেন পছন্দের পোশাক বলে তারা জানান। করোনা সংক্রমণের মধ্যেও অনেকে শপিংমলগুলোতে ঘুরতে বেরিয়েছেন। দেখছেন নতুন কী কী কাপড়-চোপড় কিংবা জিনিসপত্র এসেছে। এতে করেও লোকজনদের ভিড় বাড়ছে।
মধুপুরের সাথী মোড়ের ফুটপাতের কাপড় বিক্রেতাদের সাথে কথা বললে তারা জানান, গত কদিনে লকডাউনে অনেক টাকার ক্ষতি হয়েছে। মাত্র কয়েকদিন বসতে পারছি। তবে আজ ক্রেতা অনেক। বিক্রিও মোটামুটি আগের দিনের তুলনায় ভালোই হচ্ছে।
একতার কণ্ঠঃ বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩১ হাজার ৮০২টি যানবাহন পারাপার হওয়ায় যে কোন সময়ের চেয়ে বেশি টোল আদায় হয়েছে। রোববার (৯ মে) ভোর ৬টা থেকে সোমবার(১০ মে) ভোর ৬টা পর্যন্ত সময়ে দুই কোটি ২০ লাখ ২৭ হাজার ৬৩০ টাকা টোল আদায় হয়েছে। এরমধ্যে উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকাগামী পরিবহনের সংখ্যা ছিল ১৬ হাজার ৭৭৯ এবং ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী পরিবহনের সংখ্যা ছিল ১৫ হাজার ২৩টি। যা অন্য যে কোন স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ। বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম ও সেতু কর্তৃপক্ষের একাধিক সূত্র এতথ্য নিশ্চিত করেছে।
নাম সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, বঙ্গবন্ধুসেতু দিয়ে পণ্যপরিবহনে নিয়োজিত ট্রাক, পিকআপভ্যান, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত যানবাহন ছাড়াও বিপুল সংখ্যক যাত্রীবাহী বাস স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ সেতু দিয়ে পারাপার হয়েছে। এদিকে, সোমবার সকাল থেকে উত্তরবঙ্গমুখী সড়কে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ বেড়েছে। ঈদুল ফিতরের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। করোনা সংক্রমণ ঝুঁকি নিয়ে মালবাহী ট্রাক, খোলা ট্রাক, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ব্যক্তিগত গাড়িতে গাদাগাদি করে বাড়ি ফিরছেন ঘরমুখো মানুষ।
অন্যদিকে, সরকার ঘোষিত দূরপাল্লার গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও ঈদে ঘরমুখো মানুষ তা মানছে না। ব্যক্তিগত পরিবহনের পাশাপাশি ট্রাক, মাইক্রোবাস, পিকআপে করেই প্রিয়জনের সাথে ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে বাড়ি ছুটছে মানুষ। ফলে ঈদের দিন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কয়েকগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব পাড় থেকে কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে থেমে থেমে যান চলাচল করছে। দূরপাল্লার গণপরিবহন বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে যাত্রী সাধারণ। এছাড়া মহাসড়কে যাতায়াতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে জেলার অভ্যন্তরে গণপরিবহন চলাচলের নির্দেশনা থাকলেও তা মানা হচ্ছেনা। খুবই কম সংখ্যক দূরপাল্লার গণপরিবহন চলাচল করতে দেখাগেছে। তবে রাতে দূরপাল্লার যানবাহেেনর আধিক্য বেশি লক্ষ্য করা গেছে।
এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইয়াসির আরাফাত জানান, মহাসড়কে দূরপাল্লার কোন গণপরিবহন চলাচল করছে না। তবে সোমবার সকাল থেকে মহাসড়কে গাড়ির চাপ রয়েছে।
বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, গত কয়েকদিন ধরে এ মহাসড়কে যানবাহনের চাপ ক্রমাগত বাড়ছে। তবে এখনও যানজট ছাড়াই স্বাভাবিক গতিতে যানবাহন চলাচল করছে।
একতার কণ্ঠঃ লকডাউনে’ চাকরির নিযোগ পরীক্ষা নিতে না পারায় গতবছরের ন্যায় এবছরও চাকরিপ্রার্থীদের বয়সে ছাড় দিতে যাচ্ছে সরকার।জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় শিগগিরই বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে বয়সে ছাড় দিয়ে বিজ্ঞপ্তি দিতে নির্দেশনা দেবে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে গত ৫ এপ্রিল থেকে বিধিনিষেধ ঘোষণা করে সরকার। এরপর বিধিনিষেধ বাড়ানো হয় আগামী ১৬ মে পর্যন্ত।সংক্রমণ পরিস্থিতিতে চাকরির পরীক্ষা নেওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, করোনায় বিধিনিষেধের কারণে চাকরিপ্রার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।তাদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে চেষ্টা করবো। বয়সটা যাতে ছাড় দেওয়া হয় সেই পদক্ষেপ আমরা নেবো।
তিনি বলেন, যে সময়টা তাদের নস্ট হয়েছে, যখন যে সময় বিজ্ঞপ্তি হওয়ার কথা ছিল, আগের সময় ধরেই পরবর্তীকালে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে বয়সে ছাড় দিয়ে সেই সময়টা পুষিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা দেব। পরিস্থিতি স্বাভবিক হলে আমরা এ বিষয়ে নির্দেশনা দেবো।গত বছর করোনা মাহামারিতে সাধারণ ছুটির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত চাকরি প্রার্থীদের বয়সের ক্ষেত্রে ছাড় দেয় সরকার।
ওই বছর ২৫ মার্চ যাদের বয়স ৩০ বছর পূর্ণ হয়েছিল তাদের পরবর্তী ৫ মাস পর্যন্ত সরকারি চাকরিতে আবেদনের সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু এ বছর কতদিন ছাড় দেওয়া হবে তা নির্দিষ্ট করেননি জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী।
একতার কণ্ঠ : টাঙ্গাইল পৌর সভার বেড়াডোমা এলাকায় লৌহজং নদীর উপর অবস্থিত বেড়াডোমা ব্রিজের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার( ৩ মে) বেলা ১১ টায় টাঙ্গাইল পৌরসভার অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় পাইলিং শুরুর মধ্য দিয়ে এই কাজের উদ্বোধন করেন পৌর মেয়র এস,এম সিরাজুল হক আলমগীর।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী শিব্বির আহমেদ আজমী, উপ-সহকারী প্রকৌশলী রাজীব কুমার গুহ, পৌর কাউন্সিলর সাইফুল সরকার, মামুন জামান সজল সহ পৌরসভার অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।
এ প্রসঙ্গে এস,এম সিরাজুল হক আলমগীর বলেন, বেড়াডোমা এলাকায় লৌহজং নদীর উপর নির্মিত ব্রিজটি দীর্ঘদিন যাবৎ সংস্কার হয়নি। ফলে ব্রিজটি ভেঙ্গে গিয়ে লৌহজং নদীর পশ্চিম পাড়ের জনগণ সহ পশ্চিম টাঙ্গাইলের বিভিন্ন এলাকার মানুষের টাঙ্গাইল শহরের সাথে যোগাযোগ বিঘ্নিত হয়ে চরম ভোগান্তি শিকার হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, এই ব্রিজের নির্মান কাজ সম্পন্ন হলে এই এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল ও জনগণের ভোগান্তি নিরসন হবে।