/ হোম / অর্থনীতি
আবারও বাড়লো বঙ্গবন্ধু সেতুর টোলের হার - Ekotar Kantho

আবারও বাড়লো বঙ্গবন্ধু সেতুর টোলের হার

একতার কণ্ঠঃ দেশের বৃহৎ বঙ্গবন্ধু সেতুতে দ্বিতীয় দফায় বেড়েছে যানবাহন থেকে টোল আদায়ের হার। এর আগে ১৯৯৮ সালে সেতুটি চালু হওয়ার পর ২০১১ সালে টোল বৃদ্ধি করা হয়। মঙ্গলবার (২ নভেম্বর) বঙ্গবন্ধু সেতুতে টোল আদায় বৃদ্ধি নিয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (উন্নয়ন) মোহাম্মদ আনোয়ারুল নাসের এর স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে ওই তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপন জারি হলেও বুধবার ৩ (নভেম্বর) বঙ্গবন্ধু সেতুতে পারাপার হওয়া যানবাহন থেকে পূর্বে ধার্যকৃত রেটে টোল আদায় করছে কর্তৃপক্ষ। তবে বঙ্গবন্ধু সেতু কর্তৃপক্ষ প্রজ্ঞাপন জারির দিন থেকেই চালকদের অবহিত করতে তাদের হাতে টোল বৃদ্ধি সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন বিলি করছেন।

বঙ্গবন্ধু সেতুতে টোল বৃদ্ধি সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, সেতু বিভাগের আওতাধীন বঙ্গবন্ধু সেতুর জন্য অনুমোদিত যানবাহনের শ্রেনীবিন্যাস এবং টোল হার ধরা হয়েছে যথাক্রমে মোটরসাইকেল ৫০ টাকা, হাল্কা যানবাহনের মধ্যে কার/জিপ ৫৫০, মাইক্রো, পিকআপ ৬০০, ছোট বাস (৩১ আসন বা এর কম) ৭৫০, বড় বাস (৩২ আসন বা এর বেশি) ১০০০, ছোট ট্রাক (৫ টন) ১০০০, মাঝারি ট্রাক (৫ টন থেকে ৮ টন) ১২৫০, মাঝারি ট্রাক (৮ টন থেকে ১১ টন) ১৬০০ টাকা, ট্রাক (৩ এক্সেল) ২০০০, ট্রেইলার (৪ এক্সেল) ৩০০০, ট্রেইলার (৪ এক্সেলের অধিক) ৪০০০ টাকা এবং সেতুর উপর দিয়ে ট্রেন চলাচলের জন্য প্রতিবছর ১ কোটি টাকা টোল আদায় করা হবে।

বঙ্গবন্ধু সেতু সাইট কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবীর পাভেল বলেন, টোল বৃদ্ধির প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে। অতিদ্রুতই নতুন রেটে সেতুতে টোল আদায় শুরু হবে। টোল বৃদ্ধির প্রজ্ঞাপন চালকদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও ব্যাপক প্রচারের জন্য সেতু কর্তৃপক্ষ আলাদাভাবে এই সংক্রান্ত লিফলেট ছাপানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সেতু টোল বৃদ্ধি নিয়ে চালকদের মাঝে কোনো প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়নি।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৪. নভেম্বর ২০২১ ০১:২৬:এএম ৫ বছর আগে
টাঙ্গাইলে জাতীয় স্যানিটেশন মাস ও বিশ্ব হাত দোয়া দিবস পালন - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে জাতীয় স্যানিটেশন মাস ও বিশ্ব হাত দোয়া দিবস পালন

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে বিভিন্ন কর্মসুচির মধ্যে দিয়ে জাতীয় স্যানিটেশন মাস ও বিশ্ব হাত দোয়া দিবস পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার(২১ অক্টোবর) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শরিফুল ইসলাম, সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ সাজ্জাদ, এনজিও ফোরামের প্রতিনিধি শামীম আল মামুন, সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার শিমু সাহা, মেজর জেনারেল মাহমুদুল হাসান আর্দশ মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ আব্দুর রহমান প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন, জেলা জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইবনে মায়াজ প্রামানিক।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২২. অক্টোবর ২০২১ ০৩:২১:এএম ৫ বছর আগে
আন্তর্জাতিক “শিশু শান্তি” পুরস্কারের জন্য মনোনিত হলেন টাঙ্গাইলের সিয়াম - Ekotar Kantho

আন্তর্জাতিক “শিশু শান্তি” পুরস্কারের জন্য মনোনিত হলেন টাঙ্গাইলের সিয়াম

একতার কণ্ঠঃ ২০০৫ সালে রোমে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীদের এক সম্মেলন থেকে আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার চালু করা হয়।নেদারল্যান্ড ভিত্তিক শিশু অধিকার সংগঠন ‘কিডস রাইটস’ এই পুরস্কার প্রদান করে। প্রতিবছর একজন নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী পুরস্কারটি হস্তান্তর করেন।

এ বছর ‘শিশুদের নোবেল’খ্যাত এই পুরষ্কারটির জন্য বাংলাদেশ থেকে প্রাথমিক ভাবে মনোনিত হয়েছেন টাঙ্গাইলের মেধাবী কিশোর ফিরোজ আহম্মেদ সিয়াম।

১৭ বছর বয়সী সিয়াম এ বছর বাংলাদেশ থেকে তার সংগঠন One Step For Tomorrow এর জন্য মনোনিত হয়েছেন।তিনি Education এবং Violence এই দুই ক্যাটাগরিতে মনোনয়ন পেয়েছেন। শিশুদের অধিকার রক্ষায় কাজ করে তার সংগঠন। One Step For Tomorrow সংগঠনটির সিইও হওয়ায় ‘কিডস রাইটস’ আর্ন্তজার্তিক এই সংগঠনটি সিয়ামের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে মনোনিত করেছেন।

টাঙ্গাইলের কৃতি কিশোর ফিরোজ আহম্মেদ সিয়াম ঢাকা নটর ডেম কলেজ থেকে এ বছর এইচ এস সি পরীক্ষার্থী।তিনি ২০১৯ সালে বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ ফাইভ (গোল্ডেন) পেয়ে কৃতিত্বের সাথে এসএসসি পাস করেছেন।সিয়াম কিশোর আলো বুক ক্লাব, প্রথম আলো বন্ধুসভা, সেভ দ্যা স্টুডেন্টসহ অনেক সংগঠনের সাথে জড়িত।

দুই ভাইয়ের মধ্যে বড়, সিয়ামের জন্ম কালিহাতী উপজেলার পারখী ইউনিয়নের রৌহা গামে। বাবা মুহাম্মদ রমজান আলী , পারখী মনির উদ্দিন পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। মা ফিরোজা আক্তার কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষিকা। ছোট ভাই ফাহাদ আহম্মেদ শাফি টাঙ্গাইল প্রি ক্যাডেট স্কুলের পঞ্চম শ্রেনীর ছাত্র। সিয়ামের পরিবার বর্তমানে টাঙ্গাইল শহরের স্টেডিয়াম এলাকায় থাকেন।

এ প্রসঙ্গে ফিরোজ আহম্মেদ সিয়াম বলেন,“ এই অনুভুতি এটা তো ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। আলহামদুলিল্লাহ, এরকম বিশ্বমঞ্চে নিজেকে দেখতে পেরে আমি অবশ্যই আনন্দিত। আমার বেড়ে ওঠা অজপাড়া গায়ে তাই স্বভাবতই আমার জানা বাংলাদেশের শিশুরা কত প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে যায়। ছিন্নমূল শিশুরা কিভাবে দিনাতিপাত করছে। নিজের জায়গা থেকে আমার সংগঠন One Step For Tomorrow এর সকল স্টেপারদের সাধ্যমত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। শিশু অধিকার রক্ষায় কাজ করে যেতে চাই আজীবন। যদিও পুরষ্কার কিংবা সম্মাননা লক্ষ্য নয় তবুও সাদাত ভাই, গ্রেটা কিংবা মালালা ইউসুফজাইয়ের মতো আইকনদের পরবর্তী প্রজন্ম হতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে হয়। সবাইকে সাথে নিয়ে বাস্তবায়ন করতে চাই স্বপ্নের পৃথিবী। আজীবন বুকে ধারণ করতে চাই স্টেপার মূলমন্ত্র ” Let’s make dreaming world visual together.

উল্লেখ্য, কিডস রাইটস ফাউন্ডেশন হল নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামে অবস্থিত একটি শিশুদের সহায়তা এবং অ্যাডভোকেসি সংস্থা।ফাউন্ডেশনটি ২০০৩ সালে মার্ক দুলার্ট এবং ইনেগ ইকিংক প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

সংস্থাটি নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ডেসমন্ড টুটুকে উদ্ধৃত করে বলেছে, “কিডস রাইটস পুরোপুরি নির্বাককে কণ্ঠ দেওয়ার চেষ্টা করছে।”সংস্থার লক্ষ্য হ’ল বিশ্বজুড়ে দুর্বল শিশুদের সহায়তা ও ক্ষমতায়ন করা, ছোট-ছোট স্থানীয় প্রকল্পগুলির জন্য তহবিল সংগ্রহ করা এবং আন্তর্জাতিক মিডিয়াগুলির মাধ্যমে শিশুদের অধিকারের জন্য সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৮. অক্টোবর ২০২১ ০১:১৮:এএম ৫ বছর আগে
আ’লীগের পালানোর ইতিহাস নেই, বিএনপি সব সময়ই পলায়নপর দলঃ কৃষিমন্ত্রী - Ekotar Kantho

আ’লীগের পালানোর ইতিহাস নেই, বিএনপি সব সময়ই পলায়নপর দলঃ কৃষিমন্ত্রী

একতার কণ্ঠঃ আওয়ামীলীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী ডক্টর মো. আব্দুর রাজ্জাক এমপি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, আওয়ামী লীগের ভিত্তি ও শক্তি হল এদেশের জনগণ। জনগণের কল্যাণে ও জীবনমান উন্নয়নে আওয়ামী লীগ আন্দোলন, সংগ্রাম ও কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশে দীর্ঘ ২১ বছরের শত জুলুম-নির্যাতনের মধ্যেও আওয়ামী লীগের পালানোর ইতিহাস নেই। আওয়ামী লীগ দেশ স্বাধীন করেছে; এই দল, দলের নেতাকর্মী ও দল প্রধান কোনদিন দেশ এবং জনগণকে ছেড়ে পালাবে না।

মির্জা ফখরুলকে মন্ত্রী বলেন, বিএনপি সবসময়ই পলায়নপর দল। দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে ও দু:সময়ে তারা কখনই এগিয়ে আসে নি, বরং পালিয়ে পালিয়ে থেকেছে। দলটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বন্দুকের নলের মুখে- ক্যাণ্টনমেণ্টে। জনগণের সাথে আপনাদের কোন সম্পর্ক নেই। জনগণের কল্যাণে আপনারা কখনও কোন কাজ করেন নি। ধনী-বণিক ও সুযোগসন্ধানীদের জন্য কাজ করেছেন।

তাই আপনারা সবসময়ই জনবিচ্ছিন্ন ছিলেন- এখনও জনবিচ্ছিন্ন আছেন, ভবিষ্যতেও থাকবেন। মন্ত্রী বলেন, আপনাদের মুখে পালানোর কথা মানায়না, পালাবেন তো আপনারা। আপনাদের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট বিদেশে পালিয়ে থেকে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে দল চালাচ্ছে। আপনারা আর কোনদিন এদেশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাবেন না।

বুধবার(১৩ অক্টোবর) টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে স্থানীয় গরীব, অসহায় ও দু:স্থ ব্যক্তির মাঝে ঢেউটিন ও অর্থ সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ধনবাড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হারুনার রশিদ হীরা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সামিউল হক, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শামছুল হুদা, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার জেব-উন-নাহার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মীর ফারুক আহমাদ প্রমুখ।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৪. অক্টোবর ২০২১ ১২:৪৬:এএম ৫ বছর আগে
আজ মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী - Ekotar Kantho

আজ মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

একতার কণ্ঠঃ আজ ১২ অক্টোবর(মঙ্গলবার) মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষা আর গবেষণার বদৌলতে মানুষ আজ অনেক অজানাকে জেনেছে, অসাধ্যকে সাধন করেছে এবং পৌছেছে উন্নতির স্বর্ণশিখরে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার গুরুত্ব আজ সমগ্র পৃথিবীব্যাপী সমাদৃত ও অনস্বীকার্য।

বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জ মােকাবেলা করে বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তােলার লক্ষে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবময় ভূমিকা সর্বজনবিদিত। বর্তমানে গবেষণায় বাংলাদেশে ২য় অবস্থানকারী এ বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েটরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়কসহ বিশ্বের খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠানগুলােতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

এটি বর্তমানে দেশের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পছন্দের অন্যতম তালিকায় রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকমন্ডলী, ছাত্র-ছাত্রী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এটি সম্ভব হয়েছে।উপমহাদেশের ইতিহাসে ১৯৫৭ সালের ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলনে মাওলানা ভাসানী সন্তোষে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিক ঘােষণা দেন।

১৯৭০ সালের ৮ই সেপ্টেম্বর সন্তোষে অনুষ্ঠিত এক বিশাল সম্মেলনে মাওলানা ভাসানী “আমার পরিকল্পনায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়” শিরোনামে একটি লিখিত বক্তব্য (নিবন্ধন) এর মাধ্যমে মাওলানা ভাসানী তার প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয় (ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়) এর চূড়ান্ত প্রস্তাব পেশ করেন।

প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয় এর ৫টি মূলনীতি ছিল ? ক. বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীর জন্যে যে কোন একটি কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক থাকবে। খ. প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীর জন্য নির্দিষ্ট মাত্রার দৈহিক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক থাকবে। গ. প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীকে তার ধর্মের মূলশিক্ষা বিজ্ঞান সম্মত উপায়ে দান করা হবে এবং তা অনুশীলন করা বাধ্যতামূলক থাকবে। ঘ. কেরােসিন তৈল ও লবণ ছাড়া বাকী সবকিছু বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে উৎপাদন করে নিতে হবে । ঙ. প্রতিটি ছাত্রছাত্রীকে শিক্ষাবর্ষগুলির মধ্যে চার-পাঁচ সপ্তাহ কাল প্রত্যন্ত গ্রামে কিংবা শিল্প এলাকায় হাতে কলমে কাজ করতে হবে।

নানা প্রতিবন্ধকতার পর ১৯৯৯ সালের ১২ অক্টোবর তৎকালীন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নামে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাশ হয় ২০০১ সালের ১২ জুলাই এবং একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করে ২০০৩ সালের ২৫ অক্টোবর। যা টাঙ্গাইল শহর থেকে মাত্র ৫ কি.মি. দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত।

৫৭.৯৫ একর (২৩.৩২ অধিগ্রহণকৃত) আয়তনের উপর প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬ টি অনুষদের অধীনে ১৮ টি বিভাগ চালু রয়েছে। সম্প্রতি ‘মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং’ বিভাগ খোলার অনুমোদন দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫৩৩৩ জন (ছাত্র: ৩১০৩ জন ও ছাত্রী: ২২৩০ জন) শিক্ষার্থী রয়েছে। যার মধ্যে স্নাতক/ইঞ্জিনিয়ারিং পর্যায়ে ৪৩২৬ জন, স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ৯৬৮ জন, পিএইচডিতে ১৫ জন ও পিজিডি-ইন-আইসিটি ২৪ জন অধ্যয়নরত। সর্বমোট শিক্ষক সংখ্যা ২৪৩ জন (পুরুষ: ১৮১ জন ও নারী: ৬২ জন)। যার মধ্যে অধ্যাপক ৩০ জন, সহযোগী অধ্যাপক ৭৭, সহকারী অধ্যাপক ৯৬ জন, প্রভাষক ৪০ জন এবং পিএইচডি ডিগ্রীধারী ৬০ জন। এছাড়া ২৪৯ জন কর্মকর্তা ও ৩৬৬ জন কর্মচারী রয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য মুক্তিযােদ্ধা আব্দুল মান্নান হল, আলেমা খাতুন ভাসানী হল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, শহীদ জিয়াউর রহমান হল, শহীদ জননী জাহানারা ইমাম হল, শেখ রাসেল হল ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল নামে ৭ টি হল রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিএসসি (ইঞ্জিনিয়ারিং) এ ১৪২৯ জন, বিএসসি (অনার্স) এ ২৬৩৪ জন, বিবিএ তে ২৭৯ জন, বিএসএস (অনার্স) এ ১৮৩ জন, বি ফার্ম এ ২৭ জন, এমএস/এমএসসি তে ১২৯৬ জন, এমএসসি (ইঞ্জিনিয়ারিং)/এম ইঞ্জিনিয়ারিং এ ২০৫ জন, এমএসএস এ ২৮ জন, এমবিএ তে ১০৮ জন, পিজিডি-ইন-আইসিটিতে ২৮৭ জন শিক্ষার্থী ডিগ্রী সম্পন্ন করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে প্রায় ২০০০০ টি বই, ৯৪১ টি জার্নাল এবং সাময়িকী ও প্রায় ৩০০০০ টি ই-বুক রয়েছে। মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাথে চীনের স্বনামধন্য ৫ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমঝোতা স্নারক রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোঃ China Three Georges University, Hubei University PR China, Chengdu Textile College (CTC) China, University of Electronics Science & Technology China ও Shenyang University of Chemical Technology (SUCT) China

বর্তমান বিশ্বের সাথে তালমিলিয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার প্রসার ও বাংলাদেশের ‘রূপকল্প’ এবং ‘সমৃদ্ধ বাংলাদেশ ২০৪১’ বাস্তবায়নের স্বপ্ন নিয়ে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩শ ৪৫ কোটি ৭৭ লক্ষ টাকার উন্নয়ন কর্মকান্ড প্রায় সমাপ্তির পথে।বিশ্ববিদ্যালয়টি ২২ বছরে পদার্পণ করলেও ২০০৮ সাল পর্যন্ত অবকাঠামোগত উন্নয়নের চিত্র সন্তোষজনক ছিল না। বর্তমান সরকারের সময়ে এসে এর অগ্রযাত্রা শুরু হয়ে বর্তমানে এর উন্নয়ন চিত্র চোখে পড়ার মতো হয়েছে।

বর্ণিত প্রকল্পে ভৌত অবকাঠামোগত সকল কম্পোনেন্টের ই-জিপি তে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে ও কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।

অনুমোদিত প্রকল্পটির আওতায় বাস্তবায়নাধীন ১২.৭৪ একর ভূমি অধিগ্রহণ, ভূমি উন্নয়ন, ১২-তলা বিশিষ্ট একাডেমিক-কাম-রিসার্চ ভবন নির্মাণ, ১০-তলা বিশিষ্ট প্রশাসনিক অ্যানেক্স উত্তর ভবন নির্মাণ, ২৫০ ছাত্রের জন্য নির্মাণাধীন জননেতা আব্দুল মান্নান হলের অবশিষ্ঠ ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম তলার উর্দ্ধমূখী সম্প্রসারণ, ৭০০ ছাত্রীর জন্য ১০ তলা বিশিষ্ট ”শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল” নির্মাণ, ৫৫০ ছাত্রের জন্য ১০-তলা ভিতে ০৫ তলা পর্যন্ত ”শেখ রাসেল হল” নির্মাণ, ১০-তলা ভিতে ০৫ তলা পর্যন্ত মাল্টিপারপাস ভবন নির্মাণ, সিনিয়র শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের জন্য  ১০ তলা ভিতে ০৫ তলা পর্যন্ত আবাসিক ভবন নির্মাণ।

এছাড়া বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের লক্ষ্যে পানি বিশুদ্ধকরণ প্লান্ট স্থাপন, মাটি ভরাটসহ অভ্যন্তরীণ আরসিসি রাস্তা নির্মাণ কালভার্ট নির্মাণ, আরসিসি ড্রেইন এবং ঢাকনাযুক্ত ডাষ্টবিন নির্মাণ, নতুন স্থাপনাসমূহে গ্যাস লাইন সংযোগ, প্রস্তাবিত ভবনসমূহের জন্য আসবাবপত্র ক্রয়, বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি/ল্যাব যন্ত্রপাতি, মেডিকেল যন্ত্রপাতি ক্রয়, ক্রীড়া সামগ্রী ক্রয়, অফিস যন্ত্রপাতি ক্রয়, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের জন্য বই ও সাময়িকি ক্রয়, ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ০২ টি বাস, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের জন্য ০১টি মিনিবাস ও ০১টি মাইক্রোবাস ক্রয় কার্যক্রমসমূহের বাস্তবায়ন কাজ বর্তমানে সমাপ্তির পথে। আশা করা যাচ্ছে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন কাজ সমাপ্ত হলে শিক্ষা, প্রশাসন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। অবকাঠামোগত উন্নয়নের কারণে ছাত্র-ছাত্রীরা নতুন ও উন্নত শিক্ষার পরিবেশ পাবে যা দক্ষ মানব সম্পদ গঠনে সহায়ক হবে।

ইতোপূর্বে ”মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় উন্নয়ন”-শীর্ষক প্রকল্প (জুলাই ২০১৩ হতে জুন ২০১৭ মেয়াদে) ৫১ কোটি ৭৪ লক্ষ টাকা (সংশোধিত ৫৬ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা) ব্যয় সম্বলিত প্রকল্পটি গত ৩০ জুন ২০১৭ সমাপ্ত হয়। এ প্রকল্পের আওতায় ছিল: ভাইস-চ্যান্সেলর মহোদয়ের বাসভবন নির্মাণ, জননেতা আব্দুল মান্নান হল নির্মাণ, আলেমা খাতুন ভাসানী হল নির্মাণ, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারীদের জন্য ডরমিটরী নির্মাণ (২০ ইউনিট), নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণ, অভ্যন্তরীণ রাস্তা নির্মাণ, বৈদ্যুতিক সাব-ষ্টেশন নির্মাণ, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, গ্যাস লাইন, জেনারেটর যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্র ক্রয়, ১টি মাইক্রোবাস ও ১টি এ্যাম্বুলেন্স ক্রয় ইত্যাদি।

এছাড়াও “পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের উন্নয়ন”-শীর্ষক গুচ্ছ প্রকল্পের আওতায় এ বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই ২০০৮ হতে জুন ২০১৬ পর্যন্ত মেয়াদে মোট ৩৭ কোটি ০৫ লক্ষ টাকার প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়। প্রকল্পের আওতায় ৫-তলা লাইব্রেরী কাম ক্যাফেটেরিয়া ভবন নির্মাণ, ৪০০ আসনের ছাত্র হল বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান হল নির্মাণ, ৫-তলা ৩০ ইউনিটের শিক্ষক কর্মকর্তা ডরমিটরী নির্মাণ, বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পে ৪-তলা ভিতে ২-তলা একাডেমিক ভবনের ৩য় ও ৪র্থ তলার উর্দ্ধমূখী সম্প্রসারণ কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।

অন্যান্য উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের মধ্যে রয়েছে শহীদ বুদ্ধিজীবি স্মৃতিস্তম্ভ ও এর চত্ত্বর নির্মাণ, মুক্তমঞ্চের উন্নয়ন, বিজয় অঙ্গন চত্ত্বর নির্মাণ, ঢাকাস্ত গেস্ট হাউজ ক্রয় (শ্যামলীতে দু’টি ফ্লাট), লাইব্রেরীতে ”মুক্তিযুদ্ধ কর্ণার” স্থাপন এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রায় ৪০০ পুস্তক ক্রয়, মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মরণে নির্মিত ”প্রত্যয় ৭১” এর সম্প্রসারণ ও সংস্কার এবং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস আইপি ক্যামেরা-এর আওতায় আনয়ন।

একাডেমিক কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে লাইব্রেরী অটোমেশন, ই-বুক, ই-জার্নাল, আইসিটি সেল স্থাপন, ইনিস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি এ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি) স্থাপন, রিসার্স সেল-এর মাধ্যমে শিক্ষকগণের গবেষণা পরিচালনা, বিডিরেন কতৃক ইন্টারনেট সংযোগ প্রদান, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য হায়ার এডুকেশন কোয়ালিটি এনহেনসমেন্ট প্রজেক্ট  (হেকেপ) বাস্তবায়ন।

বিশ্ববিদ্যালয় আইনে সন্তোষ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হবে বলে বর্ণিত আছে। মাওলানা ভাসানীর উদ্যোগে এ ক্যাম্পাসে ৪৯.১৫ একর জমির মধ্যে ১২.৯০ একর জমিতে সন্তোষ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় নামে একাধিক সরকারী (দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১টি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ইত্যাদি), স্বায়ত্ব শাসিত বা সন্তোষ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্ট কর্তৃক পরিচালিত (শিশু হােস্টেল, মাদ্রাসা, ভাসানী হুজুর এর দরবার হল, মুসাফির খানা, মাজার, মসজিদ ইত্যাদি), বেসরকারীভাবে পরিচালিত (ভােকেশনাল হাইস্কুল, সাধারণ হাই স্কুল, টেকনিক্যাল কলেজ, এদের আবাসিক ছাত্র/ছাত্রী হল), মন্দির, পুরাতন ঐতিহাসিক ভবন রয়েছে এবং অত্র ক্যাম্পাসে ১৫.৪০ একর জমিতে ১টি দিঘীসহ বড় বড় ৪টি পুকুর রয়েছে। অবশিষ্ট মাত্র ২০.৮৫ একর জমিতে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নমুলক প্রকল্পের নির্মাণকাজ চলছে। বিকল্প কোন রাস্তা না থাকায় ক্যাম্পাস অভ্যন্তরীণ রাস্তা দিয়ে পার্শ্বস্ত এলাকার জনসাধারণ অবাধে চলাচল করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ভবিষ্যতে আরও উন্নয়নমুলক প্রকল্প নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে যার মধ্যে-কেন্দ্রীয় গবেষণাগার, একাডেমিক ভবন, ছাত্র হল, ছাত্রী হল, কেন্দ্রীয় মসজিদ, অডিটোরিয়াম, স্টেডিয়াম, জিম্নেসিয়াম, ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তন, শিক্ষক ক্লাব, কর্মকর্তা ক্লাব নির্মাণ ইত্যাদি থাকবে। তাছাড়া ক্যাম্পাস চত্বরে অবস্থিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য সকল প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সহযোগিতায় স্থানান্তর করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

করোনাকালীন পরিস্থিতি ও অন্যান্য প্রতিবন্ধকতার কারণে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম সমস্যা সেশনজট। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ স্নাতক/ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রী সম্পন্ন করতে লাগছে ৫ থেকে ৬ বছর এবং স্নাতকোত্তরে লাগছে ১.৫ থেকে ২ বছর। সব মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন ৭ থেকে ৮ বছর।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স এন্ড রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী মানিক শীল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের বেশিই ভালবাসে এ কারণে ছাড়তে চায় না, আমাদেরও যেতে ইচ্ছা করে না। অভিমান-ক্ষোভ যতই থাক, প্রাপ্তি অপ্রাপ্তি ছাপিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সেরা তালিকায় উঠে আসুক সেই প্রত্যাশা রাখি, এগিয়ে যাক সামনের দিকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী নুরে আলম মাসুম বলেন, প্রাণের বিশ্ববিদ্যালয় এর কথা মনে পরলেই নস্টালজিয়ায় ভুগি। সংস্কৃতিমনা মানুষ ছিলাম বলে ক্যাম্পাসে ঘটনাবহুল সময় পার করেছি আমি। যৌবন এর অনেক গুরুত্বপূর্ণ সময়টা কাটিয়েছি সন্তোষের প্রতিটি অলি গলিতে। মাভাবিপ্রবি আমার পরিচয়, আমার এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে সমগ্র বিশ্বে গবেষণা ও সৃষ্টিশীলতার এক অনন্য নাম হয়ে উঠুক মাভাবিপ্রবি। ২২ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এই আমার প্রত্যাশা।

২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোকাদ্দেছ আলী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি নেয়া হয়েছে, সরকার ঘোষিত নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে এ সকল কর্মসূচি পালন করা হবে।

দিনটি উপলক্ষে  মঙ্গলবার সকাল ১০ টায় জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয় পতাকা উত্তোলন, ১০ টা ১০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যূরালে ও মাওলানা ভাসানীর মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ১০ টা ২০ মিনিটে পায়রা, বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শোভাযাত্রা, কেককাটা এবং বাদ যোহর দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১২. অক্টোবর ২০২১ ০৬:৫২:পিএম ৫ বছর আগে
কোটি টাকার ভলভো বাস ভাঙারি দরে বিক্রি - Ekotar Kantho

কোটি টাকার ভলভো বাস ভাঙারি দরে বিক্রি

একতার কণ্ঠঃ  প্রায় ২০ বছর আগে সুইডেন থেকে চড়া দামে ৫০টি আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত ভলভো বাস কেনে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)। দৃষ্টিনন্দন বাসগুলো প্রথম সাত-আট বছর সড়কে দাপটের সঙ্গে চলাচল করে। ধীরে ধীরে সেগুলোর বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হতে শুরু করে। এসব যন্ত্রাংশ মেরামতে দফায় দফায় প্রকল্প হাতে নেয় বিআরটিসি। কিন্তু যন্ত্রাংশগুলো দেশে দুষ্প্রাপ্য ও ব্যয়বহুল হওয়ায় তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি সংস্থাটি।

ফলে অকেজো বিলাসবহুল বাসগুলো বিআরটিসির জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। দীর্ঘদিন পড়ে থাকার পর ৫০টি ভলভো বাসের মধ্যে ৪৯টি বিক্রি করে দিয়েছে বিআরটিসি। রাজধানীর বিভিন্ন ডিপোতে পড়ে থাকা এসব বাস ভাঙারি হিসেবে কেজিদরের মতো বিক্রি করা হয়েছে। সচল আছে কেবল একটি। সেটি রাজধানীর মিরপুর ডিপোর নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে। বাসটি এখন সুপ্রিম কোর্টের স্টাফদের আনা-নেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।

বিআরটিসি সূত্র বলছে, ২০০১ সালে সুইডেন থেকে ৭০ কোটি টাকায় বাসগুলো কেনা হয়। সেই হিসাবে প্রতিটি বাসের দাম পড়ে প্রায় এক কোটি ৪০ লাখ টাকা। সরকারি তহবিল ও সুইডিশ ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সির (সিডা) যৌথ অর্থায়নে বাসগুলো কেনা হয়। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের তথ্যমতে, বাসগুলোর সাধারণ মেয়াদ ১২ বছর। তবে ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে চলবে ২০-২৫ বছর, যাকে আর্থিক মেয়াদ বলা হয়।

এ বিষয়ে পরিবহন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সামছুল হক বলেন, ‘সরকারি দপ্তরগুলো কেনাকাটা পছন্দ করে। রক্ষণাবেক্ষণ করে তাদের কী লাভ? দরদ দিয়ে কাজ করলে, তার নিজের তো লাভ নেই। কিন্তু প্রকিউরমেন্টে (সরকারি ক্রয়) অনেক লাভ আছে। সেই চিন্তা মাথায় রেখে গাড়িগুলোর যত্নটা তারা সেভাবে নেন না।’

সংশ্লিষ্টদের মতে, যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বাসগুলো কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে পারেনি। সড়কে নামানোর সাত-আট বছর পর বাসগুলোর যন্ত্রাংশ নষ্ট হতে শুরু করে। তখন নতুন যন্ত্রাংশ কেনা উচিত ছিল। তা না করে একটি বাসের যন্ত্রাংশ নষ্ট হলে, আরেকটি বাস থেকে সেই অংশ খুলে লাগানো হতো। যেটি থেকে খুলে নেওয়া হতো, সেটি অকেজো হয়ে পড়ে থাকতো। এভাবে এক-একটি করে বাস অকেজো হতে থাকে।

ফলে নির্ধারিত মেয়াদের আগেই ৪৯টি বাস অকেজো হয়ে পড়ে। দফায় দফায় রক্ষণাবেক্ষণের প্রকল্প হাতে নিলেও সেই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়নি। অবশেষে বোঝা হয়ে থাকা অকেজো সেই বাসগুলো বেচে দেয় বিআরটিসি।

পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ভলভো নয়, এ পর্যন্ত যত বাস কেনা হয়েছে; সেগুলোর কোনোটিরই যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি। ফলে প্রত্যাশিত সার্ভিসও পাওয়া যায়নি। দেশে একটি বাজে সংস্কৃতি চালু রয়েছে, তা হলো রক্ষণাবেক্ষণের চেয়ে নতুন কেনায় আগ্রহ বেশি। নতুন করে কিনলে লাভ বেশি, রক্ষণাবেক্ষণে তো সেটি নেই।

এ বিষয়ে পরিবহন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সামছুল হক বলেন, ‘সরকারি দপ্তরগুলো কেনাকাটা পছন্দ করে। রক্ষণাবেক্ষণ করে তাদের কী লাভ? দরদ দিয়ে কাজ করলে, তার নিজের তো লাভ নেই। কিন্তু প্রকিউরমেন্টে (সরকারি ক্রয়) অনেক লাভ আছে। সেই চিন্তা মাথায় রেখে গাড়িগুলোর যত্নটা তারা সেভাবে নেন না।’

তিনি বলেন, ‘ওই (ভলভো) গাড়িগুলোর যেহেতু মেনটেইনেন্স সেভাবে হতো না। ভলভোর একটা পার্টস (যন্ত্রাংশ) না থাকলে আরেকটা থেকে খুলে নিয়ে এসে সেটি সচল রাখতো। এসব করতে করতে কিছু বাস এমনিতেই অকেজো হয়ে গেছে।’

অধ্যাপক সামছুল হক বলেন, ‘বড় কথা হলো—এখানে জবাবদিহিতার সিস্টেম নেই। পাশাপাশি বিআরটিসি যেটা করে, প্রাইভেট সেক্টরের মতো তারাও লিজ দেয়। অথচ মেনটেইনেন্সটা নিজেদের ঘাড়ে রাখে। লিজ যারা নেন, তারা তো আসেন বড় লোক (ধনী) হতে। নিজের গাড়ি যেভাবে দরদ দিয়ে চালান, এটাকে তো তা করেন না। বিআরটিসির গাড়ির অপব্যবহার করে তারা ধনী হন। ফলে শুধু ভলভো নয়, কোনো বাসই টেকসই হয়নি, হচ্ছে না। এটার জন্য তাদের কোনো দর্শনও নেই। এবার পারলাম না, পরেরবার যেন পারি, তেমন চিন্তাও নেই।’

এ পরিবহন বিশেষজ্ঞ মনে করেন, পুরো বিষয়টিতে সরকারের বিরাট গাফিলতি আছে। সরকার প্রকিউরমেন্টের আগে প্রশ্ন করে না, যেটা করা উচিত। গাড়িগুলোর কমার্শিয়াল লাইফ কত দিন থাকার কথা ছিল, কত দিন গেলো- এ প্রশ্ন করার কারোই সময় নেই। সবাই কেনাকাটায় ব্যস্ত।

সামছুল হক বলেন, ‘মন্ত্রী বলবেন, আমি এতগুলো বাস কিনে দিয়েছি। অর্থাৎ বাসের সংখ্যা বলায় আগ্রহ যার, তিনি তো জবাবদিহিতার দিকে যাবেন না। মাঝে মাঝে হুঙ্কার হয়তো দেবেন যে, জিরো টলারেন্সে থাকবেন, এভাবেই চলছে।’

‘সার্বিকভাবে আমি বলবো, যে কার্যকর ব্যবস্থা নিলে সম্পদকে টেকসইভাবে ব্যবহার করা যায়, সেটার দর্শনের ধারেকাছেও আমরা নেই। ওই কালচারটা তৈরিই হয়ে ওঠেনি। কালচার তৈরি হয়েছে এমন, যত দ্রুত খারাপ করতে পারবো, প্রকিউরমেন্টের জন্য তাড়াতাড়ি পয়সা পাবো। তাতে তো কোনো অসুবিধা হয় না’—যোগ করেন সামছুল হক।

জানতে চাইলে বিআরটিসি চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলাম জানান, ‘এগুলো (ভলভো বাস) তো অনেক আগের বাস। আমি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যোগ দিয়েছি। আগে থেকেই এগুলো অকেজো ছিল। অকেজো গাড়ি যত থাকবে, ততই লোকসান। কারণ দিন দিন এগুলোর ক্ষয়ক্ষতি বাড়ে, দামও কমে। এজন্য আমরা যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রত্যাশিত দাম পেয়ে বিক্রি করেছি।’

তিনি বলেন, ‘শুধু ৪৯টি ভলভো বাসই নয়, অযোগ্য ঘোষণার জন্য বিইআর (প্রস্তাবিত) ১৭৮টি গাড়ি ছিল। আগেও অকেজো এ বাসগুলো টেন্ডারে দেওয়া হয়েছিল। প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় বিক্রি করা যায়নি। এবার প্রত্যাশিত দাম পেয়েছি, বিক্রি করে দিয়েছি।’

সংবাদ সূত্র- জাগো নিউজ অনলাইন

সর্বশেষ আপডেটঃ ১১. অক্টোবর ২০২১ ০৩:৪৯:এএম ৫ বছর আগে
টাঙ্গাইলে হঠাৎ ভেঙে পড়ল পল্লী বিদ্যুতের হাইভোল্টেজ ১২টি খুঁটি - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে হঠাৎ ভেঙে পড়ল পল্লী বিদ্যুতের হাইভোল্টেজ ১২টি খুঁটি

একতার কণ্ঠঃ একসঙ্গে পল্লী বিদ্যুতের হাইভোল্টেজের ১২টি খুঁটি ভেঙে যাওয়ায় বিদ্যুৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি থেকে রক্ষা পেয়েছেন এলাকাবাসী। শনিবার( ৯ অক্টোবর) রাত ১টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর বাইপাস এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

রবিবার(১০ অক্টোবর) সকালে বাইপাস এলাকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী মো. মাসুদ মিয়াসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর বাইপাসের উত্তর পাশে বংশাই রোডের দুই পাশে ড্রেন নির্মাণের উদ্যোগ নেন মহাসড়ক কর্তৃপক্ষ।

পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগকে না জানিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মহাসড়কের উত্তর পাশে ড্রেন নির্মাণের জন্য মাটিকাটার খনন যন্ত্র (ভ্যেকু) দিয়ে গত কয়েক দিন ধরে গর্ত করতে থাকেন।

খুঁটির আশপাশে থেকে মাটি সরানোর ফলে বিদ্যুতের খুঁটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। শনিবার রাত ১টার দিকে হঠাৎ করে একসঙ্গে ১২টি খুঁটি ভেঙে বিকট শব্দের সৃষ্টি হয় এবং খুঁটিতে আগুন ধরে যায়। আশপাশের লোকজন ঘুমন্ত অবস্থায় ঘটনাটি টের পেয়ে পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগ, হাইওয়ে ও থানা পুলিশকে খবর দেন।ঘটনার পর পরই পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে অন্ধকার নেমে আসে।

রবিবার সকাল থেকেই টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ১-এর মির্জাপুর ও গোড়াই জোনাল অফিসের শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী ভেঙে পড়া রাস্তার ওপর থেকে খুঁটি সরানোর কাজ শুরু করেছে। কবে নাগাদ বিদ্যুৎ যোগাযোগ সচল হবে তা কেউ সঠিক করে বলতে পারছেন না। এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

এ ব্যাপারে সড়ক বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, খুঁটি ভেঙে যাওয়ার পর পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে মেরামতের কাজ শুরু করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ১-এর মির্জাপুর জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. জাকির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মহাসড়কের পাশ দিয়ে হাইভোল্টেজের বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন করা হয়েছে। ড্রেন নির্মাণের জন্য মহাসড়ক কর্তৃপক্ষ তাদের না জানিয়ে খুঁটির নিচ থেকে মাটি কেটে সরিয়ে নিয়েছে। লোড না থাকার কারণে রাতে একে একে ১২টি খুঁটি ভেঙে পড়েছে। নতুন খুঁটির ব্যবস্থা করে লাইন সচল করার চেষ্টা চলছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১১. অক্টোবর ২০২১ ০২:৫৭:এএম ৫ বছর আগে
টাঙ্গাইলে সড়ক সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে সড়ক সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে সরকারি মুজিব কলেজে যাওয়ার প্রধান সড়ক সংস্কারের দাবিতে সড়ক অবরোধ, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে কলেজর শিক্ষার্থীরা। শনিবার( ৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সখীপুর-সাগরদিঘী সড়কের সরকারি মুজিব কলেজের মূল গেইটে ঘন্টাব্যাপি ওই কর্মসূচি পালন করে ওই কলেজের সহস্রাধিক শিক্ষার্থী। এতে দুই পাশের শত-শত যানবাহন আটকে পড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

মানববন্ধনে সড়কটির দ্রুত সংষ্কারের দাবি জানিয়ে শিক্ষার্থীদের  মধ্যে থেকে রুমান সিকদার, বৃষ্টি আক্তার, মারুফ হাসান, তানজিম ইসলাম, রিফাত আহমেদ, বায়েজিদ প্রমুখ বক্তব্য দেন।

পরে সখীপুর থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) একে সাইদুল হক ভূইয়া, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের পক্ষে শিক্ষার্থীদের আগামি তিন দিনের মধ্যে সড়ক চলাচলে উপযোগী করার প্রতিশ্রুতি দিলে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেয়।

এ প্রসঙ্গে একে সাইদুল হক ভূইয়া বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চিত্রা শিকারী বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সড়কটি দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা করা হবে।

উল্লেখ, চলতি বর্ষায় সরকারি মুজিব কলেজে যাওয়ার দুই কিলোমিটার প্রধান সড়কটির পলেস্তারা উঠে বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। আর সৃষ্ট খানাখন্দে বৃষ্টির পানি জমে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। প্রধান এবং একমাত্র সড়কটি চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়ায় শিক্ষার্থীরা সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়ে সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১০. অক্টোবর ২০২১ ০১:৪৫:এএম ৫ বছর আগে
আঞ্চলিক মহাসড়কে পরিনত হচ্ছে “টাঙ্গাইল-দেলদুয়ার-মানিকগঞ্জ-ঢাকা সড়ক” - Ekotar Kantho

আঞ্চলিক মহাসড়কে পরিনত হচ্ছে “টাঙ্গাইল-দেলদুয়ার-মানিকগঞ্জ-ঢাকা সড়ক”

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল, দেলদুয়ার, নাগরপুর, ধামরাই ও সাটুরিয়া উপজেলার সঙ্গে মানিকগঞ্জ ও ঢাকার মধ্যে স্বল্পতম সময়ে নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন করতে যাচ্ছে সরকার। আর তাই প্রায় ১৪শ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকার ।মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত চলতি অর্থ বছরের ৫ম একনেক সভায়  টাঙ্গাইল-দেলদুয়ার-লাউহাটি-সাটুরিয়া-কাওয়ালিয়া-কালামপুর সড়কটিকে আঞ্চলিক মহাসড়কে উন্নীত করতে ১ হাজার ৪৩৫ কোটি ৮৯ লাখ টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

একনেক চেয়ারপার্সন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত চলতি অর্থ বছরের ৫ম একনেক সভায় এই প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভার্চ্যুয়ালি সভায় যোগ দেন। নগরীর শেরে বাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রিবর্গ, প্রতিমন্ত্রীগণ, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যবর্গ ও সচিবগণ সভায় যোগ দেন।

সড়ক পরিবহন এবং মহাসড়ক বিভাগের অধীন সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্প কাজ সম্পন্ন হলে,টাঙ্গাইল-দেলদুয়ার-লাউহাটি-সাটুরিয়া-কাওয়ালিয়া-কালামপুর সড়কে যান চলাচল নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন হবে এবং এতে সময়ও কম লাগবে।সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উদ্যোগে প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। 

পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি বলেন, আজকের সভায় ৬ হাজার ৫৫১ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে মোট নয়টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়।অনুমোদিত ৯টি প্রকল্পের মধ্যে চারটি প্রকল্প নতুন এবং ৫টি প্রকল্প সংশোধিত।

মোট প্রকল্প ব্যয়ের মধ্যে ৩ হাজার ৭৪২ কোটি ২৯ লাখ টাকা সরকারের পক্ষ থেকে, ২৬ কোটি ২২ লাখ টাকা সংস্থাগুলোর নিজস্ব তহবিল থেকে এবং বাকি ২ হাজার ৭৮২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা প্রকল্প সহায়তা হিসাবে পাওয়া যাবে।

পরিকল্পনা মন্ত্রী আরও বলেন, সড়ক পরিবহন এবং মহাসড়ক বিভাগের অধীন সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্প কাজ সম্পন্ন হলে,টাঙ্গাইল-দেলদুয়ার-লোহাটি-সাটুরিয়া-কাওয়ালিয়া-কালামপুর সড়কে যান চলাচল নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন হবে এবং এতে সময়ও কম লাগবে।সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উদ্যোগে প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর।

বাকি প্রকল্পগুলো হচ্ছে- ৭৩.৪৪ একর ভূমি অধিগ্রহণ, ৫টি পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ, পেভমেন্ট প্রশস্তকরণ ও জোরদারকরণ, এক গ্রেড পৃথক ইন্টারসেকশন এবং একটি ইউলুপ অথবা আন্ডারপাস নির্মাণ, ৩১টি আরসিসি বক্স কালভার্ট নির্মাণ, ১৩.২৬ লাখ কিউবিক মিটার সড়ক প্রশস্তকরণ ও ড্রেন নির্মাণ।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৭. অক্টোবর ২০২১ ০১:২৪:এএম ৫ বছর আগে
টাঙ্গাইলে পেশাজীবী গাড়ি চালকদের দক্ষতা ও সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে পেশাজীবী গাড়ি চালকদের দক্ষতা ও সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ

একতার কণ্ঠঃ বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি(বিআরটিএ) টাঙ্গাইল সার্কেলের আয়োজনে পেশাজীবী গাড়ি চালকদের পেশাগত দক্ষতা ও সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিশু একাডেমি মিলনায়তনে মঙ্গলবার(৫ অক্টোবর) দিনব্যাপী ওই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।

প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহমুদ হাসান। টাঙ্গাইল সার্কেলের সহকারী পরিচালক মো. আলতাব হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বিআরটিএ টাঙ্গাইল সার্কেলের মোটরযান পরিদর্শক বশির উদ্দিন আহমেদ, ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক (টিআই-প্রশাসন) মো. জানে আলম ভূইয়া, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার আব্দুল আজিজ প্রমুখ।

প্রশিক্ষণে বাস, ট্রাক ও মাইক্রোবাস সহ বিভিন্ন যানবাহনের ১৫০ জন চালক অংশ নেন। চালকদের ট্রাফিক আইন, দুর্ঘটনার পর প্রাথমিক চিকিৎসা সহ দক্ষতা ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে করণীয় বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৬. অক্টোবর ২০২১ ০২:৪৭:এএম ৫ বছর আগে
টাঙ্গাইলে বনে সিসা তৈরির কারখানাঃ হুমকিতে পরিবেশ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে বনে সিসা তৈরির কারখানাঃ হুমকিতে পরিবেশ

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় বনের ভেতর গড়ে উঠেছে পুরোনো ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা তৈরির কারখানা। উপজেলার লক্ষ্মণেরবাধা বা ভূঁইয়া বাড়ির মোড় এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে এ কারখানা। কারখানার বিষাক্ত ধোঁয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে এলাকার পরিবেশ ও বনভূমি।

কারখানার চারপাশে বন বিভাগের সামাজিক বনায়নের গাছসহ বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক গাছপালায় ঘেরা ঘন জঙ্গল। আশপাশে রয়েছে মানুষের বসতি। স্থানটি নিরাপদ ভেবে পুরোনো ব্যাটারি পুড়িয়ে তৈরি করা হচ্ছে সিসা।

কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মালিকপক্ষ ব্যাটারি সংগ্রহ করে এখানে নিয়ে আসে। অন্য কোথাও গলানোর জায়গা না পেয়ে বনের ভেতর কাজ শুরু করেন তারা। এ কাজ চলছে বছরখানেক ধরে। প্রতিদিন ব্যাটারি পোড়ানো হয় প্রায় ৬ টন। প্রতিটি পুরোনো ব্যাটারি ক্রয় করা হয় প্রায় পাঁচ হাজার টাকায়। কারখানার মালিক প্রভাবশালী হওয়ায় ভয়ে মুখ খুলতে পারে না এলাকাবাসী।

ব্যাটারি পোড়ানোর সময় তাদের শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। শ্বাসকষ্টসহ এলাকার মানুষের দেখা দিচ্ছে নানা ধরনের রোগ। ক্ষতি হচ্ছে বনের। ভারসাম্য হারাচ্ছে পরিবেশ।

আশপাশের তিন ইউপি সদস্য লিয়াকত হোসেন, ওয়াজেদ আলী ও সফিউল ইসলাম স্বীকার করেননি যে কারখানা স্থাপনের ওই এলাকা তাদের  নির্বাচনী এলাকার মধ্যে। তবে তিনজনই এ বিষয়ে পাশ কাটিয়ে যান।

বনের ভেতর কারখানা স্থাপনের কথা স্বীকার করে কারখানা মালিক তানভীর বলেন, শুধু যে এই কারখানার কারণে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে, তা তো নয়, দেশে তো পরিবেশের এর চেয়েও বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে।

বন বিভাগের ঘাটাইল ধলাপাড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, বন বিভাগের জায়গায় কোনো অবৈধ কারখানা গড়ে উঠেনি। তবে বনের ক্ষতি হয় এমন কারখানা কোথাও গড়ে উঠলে পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকদের সঙ্গে নিয়ে তা উচ্ছেদ করা হবে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) বিভাগীয় সমন্বয়কারী গৌতম চন্দ্র চন্দ বলেন, এ ধরনের কারখানার কারণে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে এবং ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। কারখানাটি পরিদর্শন করে পরিবেশ অধিদপ্তরকে অবগত করা হবে। তারা ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে বেলা এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

টাঙ্গাইল পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, উন্মুক্ত স্থানে সিসা তৈরি মানবদেহসহ প্রাণীকুলের জন্য মারাত্মক ক্ষতি করবে। এটি বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সোহাগ হোসেন বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত এ বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৬. অক্টোবর ২০২১ ০১:১৬:এএম ৫ বছর আগে
টাঙ্গাইলে স্বপ্নের আগর বাগান করে দুঃস্বপ্ন দেখছে মালিকরা - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে স্বপ্নের আগর বাগান করে দুঃস্বপ্ন দেখছে মালিকরা

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের পাহাড়িয়া অঞ্চল মধুপুর ও ঘাটাইলের বাগান মালিকরা স্বপ্নের আগরগাছের বাগান করে এখন দুঃস্বপ্ন দেখছে। চারা লাগানোর ১০ বছরে বড় হয়ে পরিপক্ক হয়ে সুগন্ধি কষ বেড়োনোর কথা। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পাড় হওয়ায় পরও তার কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছেনা।

গাছগুলো পরিপক্ক হতেই আরও ৫-৬ বছর সময় লাগবে বলে বন বিভাগ সাফ বলে দিয়েছে। ফলে স্বপ্নের আগর বাগান তাদের কাছে এক দুঃস্বপ্নের গাছে পরিণত হয়েছে।

জানাগেছে, ২০০৭-০৮ অর্থবছরে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বনবিভাগ আগর বনায়নের প্রকল্প হাতে নেয়। আগর মূলত একটি গাছের নাম। আগর শব্দের আভিধানিক অর্থ উৎকৃষ্ট বা সুগন্ধবিশিষ্ট কাঠ। ওই সময় মধুপুর ও ঘাটাইলের পাহাড়ি অঞ্চলের লালমাটির বেশ কিছু এলাকায় আগরের বাগান করা হয়।

এক প্রকার জোর করেই তাদের দিয়ে আগরের বনায়ন করানো হয়েছিল। মূল্যবান আগরগাছের বাগান করলে তাড়াতাড়ি ধনী হওয়া যাবে। ১১ বছরের মধ্যে গাছগুলোতে নম্বর দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ১৩-১৪ বছরেও গাছে নম্বর ফেলানো হচ্ছে না। এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে বনবিভাগকে বার বার অনুরোধ করা হয়েছে।

ওই সময় বন বিভাগ থেকে বলা হয়েছিল, আগর চাষ দারুণ লাভজনক। এর কাঠ বিশেষ কায়দায় খ-বিখ- করে প্রসেসিংয়ের পর এর নির্যাস বাস্পীভবন ও শীতলীকরণের মাধ্যমে দামি সুগন্ধি আতর, ওষুধ, সাবান, শ্যাম্পু, পারফিউম এবং অবশিষ্ট অংশ আগরবাতি বানানোর কাজে ব্যবহৃত হবে।

এভাবে আগর চাষে বাগান মালিকদের ভাগ্য বদল হবে। সে সময় ভাগ্য বদলের স্বপ্নে অনেকেই আগর চাষ করেছিল। বর্তমানে গাছের বয়স ১৩-১৪ বছর হলেও আগরগাছগুলো এখনও পরিপক্ক বা কষ বেড় হওয়ার উপযুক্ত হয়নি। বনবিভাগ বাগানের আগরগাছ থেকে কষ বের করার জন্য পেরেক মারার কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি।

আগর গাছের কোন নাম্বারিংও করেনি। এছাড়া টাঙ্গাইল জেলায় আগরগাছ প্রসেসিংয়ের কোনো কারখানা নেই। মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়ায় কারখানা থাকলেও ফরেস্ট ট্রানজিট রুলসের কারণে সেখানে গাছ সরবরাহ করা কষ্টসাধ্য।

সরেজমিনে জানা যায়, মধুপুর ও ঘাটাইল উপজেলার পাহাড়ি অঞ্চলের বেশ কয়েকটি এলাকায় সারি সারি আগরগাছ দাঁড়িয়ে আকাশ ছোঁয়ার চেষ্টা করছে। তবে গাছগুলো এখনও পরিপক্ক বা প্রসেসিং করার উপযোগী হয়নি।

রোপণের সময় বন বিভাগ জানিয়েছিল, আগর চারা লাগানোর ১০ বছরের মধ্যে তা প্রসেসিংয়ের পর কষ থেকে সুগন্ধি তৈরি করা হবে- যার দাম লাখ লাখ টাকা, কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি।

ঘাটাইলের সাঘরদিঘী রেঞ্জের কামালপুর গ্রামের বাগান মালিক কামরুল হাসান জানান, তিনি দেড় একর পৈত্রিক সম্পত্তিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় খাস হওয়ার ভয়ে এক রকম বাধ্য হয়েই আগরগাছের বাগান করেন। যদিও বাগান করতে তখন তাকে লাখ লাখ টাকা লাভের স্বপ্ন দেখানো হয়।

কিন্তু লাভ তো দূরের কথা দীর্ঘ ১৩-১৪ বছরেও আগরগাছ পরিপক্কই হয়নি। দেড় একর জায়গায় আগরগাছ লাগিয়ে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এটা থেকে কোনো আয় হবে কি না সন্দেহ রয়েছে। শুধু তিনি নন এলাকার অনেকেই আগরগাছ লাগিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

তিনি জানান, আগরগাছ সম্পর্কে তাদের কোন ধারণা ছিল না। বনবিভাগ জানিয়েছিল, এই গাছ থেকে এক ধরণের সুগন্ধি বের হবে- যা অনেক মূল্যবান।

কামরুল হাসান জানান, এক প্রকার জোর করেই তাদের দিয়ে আগরের বনায়ন করানো হয়েছিল। মূল্যবান আগরগাছের বাগান করলে তাড়াতাড়ি ধনী হওয়া যাবে। ১১ বছরের মধ্যে গাছগুলোতে নম্বর দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ১৩-১৪ বছরেও গাছে নম্বর ফেলানো হচ্ছে না। এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে বনবিভাগকে বার বার অনুরোধ করা হয়েছে।

সাঘরদিঘী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. ওয়াজেদ আলী ও ভুক্তভোগী অপর বাগান মালিক আব্দুল খালেক জানান, আগর গছের জন্য যে সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল তা তিন বছর আগেই পাড় হয়েছে। ২০০৭-০৮ অর্থবছরে আগরগাছের বাগান করা হয়েছিল।

বনবিভাগ বলেছিল এগুলো থেকে বহু টাকা আয় হবে। তখন বনবিভাগের সঙ্গে বাগান মালিকদের দলিলের মাধ্যমে চুক্তিনামা হয়েছিল। সেখানে গাছের ১০ বছরের মেয়াদ ছিল। কিন্তু এখন ১৩-১৪ বছর পাড় হলেও গাছের বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। প্রথম দিকে বনবিভাগ খোঁজ-খবর নিলেও গত কয়েক বছরে তারা কোনো খোঁজই নেয়নি।

তারা জানান, ওই ভূমিতে অন্যান্য গাছ, বিভিন্ন সবজি বা ফল জাতীয় গাছ লাগালে ১৩ বছরে অনেক লাভবান হতে পারতেন। আগরগাছ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো কষ বের হতে তারা দেখেন নাই। এ বিষয়ে বনবিভাগ কোন উদ্যোগও নেয়নি।

মধুপুর উপজেলার কুড়াগাছা ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুল হক জানান, বনবিভাগের প্রভাবে দীর্ঘ একযুগ আগে তিনি দেড় বিঘায় আগরগাছ লাগিয়েছেন। আগর গাছে না কি সোনা ফলে- সোনার দামে তো দূরের কথা, সস্তা জ্বালানি কাঠ হিসেবেও ওই গাছ বিক্রি করা যাচ্ছে না।

টাঙ্গাইলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক জানান, মধুপুর ও ঘাটাইলের পাহাড়িয়া অঞ্চলে সরকারি আগর প্রকল্পের গাছ এখনও পরিপক্ক হয়নি। তাদের আরও কয়েক বছর অপেক্ষা করতে হবে। এখনও আগর প্রডাশনের অবস্থায় আসেনি।আগর সত্যিই অতি মূল্যবান গাছ। যখন আগর প্রডাকশন হবে তখন তাদের ভুল ভেঙে যাবে। তারা লাভবান হবেন।তিনি আরও জানান, আগর গাছগুলো তিনি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। গাছগুলো এখনও যথেষ্ট চিকন এবং অপরিপক্ক। পরিপক্ক হতে আরও সময় দিতে হবে।

আগামি ৫-৬ বছরের আগে গাছ পরিপক্ক হওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। জেলায় প্রসেসিংয়ের ব্যবস্থা করা হলে তা থেকে খুব একটা লাভবান হওয়া যাবে না। গাছগুলো থেকে পুরোপুরি লাভবান হতে হলে মৌলভীবাজারে পাঠাতে হবে।

 

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৬. অক্টোবর ২০২১ ০১:৪২:এএম ৫ বছর আগে
কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।