একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ জন্মের চার দিনের মাথায় পিতার হাতে মাতা খুন এবং খুনের মামলায় আসামি হয়ে পিতা পলাতক থাকায় অসহায় শিশুর ঠিকানা হয়েছিল কুমুদিনী হাসপাতালের শিশু বিভাগে। হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সগণ শিশুটিকে আদর আর মমতা দিয়ে লালন পালন করে নাম রেখেছিল ‘রোদেলা’।
আইনি প্রক্রিয়ায় ৩৫ দিন পর প্রশাসনের সহযোগিতায় অবশেষে কুমুদিনী হাসপাতালের সেই ফুটফুটে শিশু কন্যার ঠাঁই হলো মামা-মামির ঘরে। এখন থেকে মামা মামীই তার বাবা-মা। শিশুটিকে হস্তান্তরের সময় এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। রবিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় শিশু কল্যাণ বোর্ডের সদস্যগণ কুমুদিনী হাসপাতালে এসে শিশু কন্যাকে বৈধ অভিভাবক হিসেবে মামা খন্দকার আশরাদুল হক এবং মামি সাবিহা ইসলামের হাতে তুলে দেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ মার্চ দুপুরে কুমুদিনী হাসপাতালে টাঙ্গাইল জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার খন্দকার রেদোয়ানা ইসলাম ইলুকে তার স্বামী দেলোয়ার রহমান মিজান বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার পর পালিয়ে যান। তখন থেকেই বাবা-মা ছাড়া অসহায় ফুটফুটে শিশু কন্যার আশ্রয় হয় কুমুদিনী হাসপাতাল।
শিশুটির লালন-পালন নিয়ে গত ১ এপ্রিল টাঙ্গাইল জেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডের এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। শিশুটির দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে জেলা প্রশাসক ডক্টর মো. আতাউল গনির সভাপতিত্বে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়।
অন্যদিকে, মামলার বাদি ও কালচারাল অফিসার খন্দকার রেদোয়ানা ইসলাম ইলুর ভাই খন্দকার আশরাদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই তার বোনের উপর স্বামী মিজান অমানবিক অত্যাচার-নির্যাতন করছিল। মিজান সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি টাঙ্গাইল থেকে সম্প্রতি ভোলা জেলায় বদলি হয়ে যান।
গত ২২ মার্চ প্রসব ব্যাথা নিয়ে তার বোন খন্দকার রেদোয়ানা ইসলাম ইলু কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি হন।ওইদিনই কন্যা শিশুর জন্ম হয়। তার বোনের ছুটি হলেও শিশু কন্যা অসুস্থ্য থাকায় কেবিন ভাড়া নিয়ে তিনি থেকে যান।
গত ২৭ মার্চ মিজান কুমুদিনী হাসপাতালে শিশু কন্যাকে দেখতে আসেন। মিজানকে ওয়ার্ডে রেখে তার মামি খোদেজা বেগম শিশু কন্যাকে দুধ খাওয়ানের জন্য তিন তলায় যান। ফিরে এসে দেখেন রুমের দরজায় তালা।
ঘটনাটি কর্তব্যরত নার্স ও চিকিৎসকদের জানালে তারা বিকল্প চাবি এনে দরজা খুলে দেখেন বালিশ চাপা দিয়ে তার বোন ইলুকে হত্যার পর ঘাতক স্বামী মিজান পালিয়েছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, তার বোনকে পরিকল্পিত ভাবে খুন করা হয়েছে। এ বিষয়ে মির্জাপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। খুনের পর থেকেই দেলোয়ার রহমান মিজান পলাতক রয়েছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মির্জাপুর থানার এসআই মো. শাজাহান মিয়া জানান, মামলার পর থেকে একমাত্র আসামি দেলোয়ার রহমান মিজানকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তাকে গ্রেপ্তারে বিভিন্ন তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ অবশেষে টাঙ্গাইলের যৌনপল্লীতে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে দেশ বিপর্যস্ত হলে এবার লকডাউন ঘোষনার পর সরকারী কিম্বা বেসকারী পর্যায়ে টাঙ্গাইলের যৌনপল্লীর ৭০০ সদস্যদের মাঝে শনিবার(২৪ এপ্রিল) পর্যন্ত কোন ধরনের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়নি । বিভিন্ন গণমাধ্যমে যৌনকর্মীদের অধাহারে-অনাহারে জীবন-যাপনের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর এই ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হলো।রবিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল ১১ টায় শহরের কান্দাপাড়ায় জেলা প্রশাসন এবং দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
এছাড়াও লেডিস ক্লাবের উদ্যোগে শিশুদের মাঝে নগদ টাকা বিতরণ করা হয়েছে।করোনাভাইরাসে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে গিয়ে কর্মহীন হয়ে পড়া টাঙ্গাইল যৌন পল্লীর সদস্যদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর উপহার সামগ্রীও বিতরণ করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনি, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আমিনুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সোহানা নাসরিন, টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রানুয়ারা খাতুন, সহাকারি কমিশনার (ভূমি) মো. খায়রুল ইসলাম, ডেপুটি নেজারত কালেক্টটর (এনডিসি) আনোয়ার হোসেন, সিনিয়র সহকারি কমিশনার মোছা. নুর নাহার বেগম, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ প্রমুখ।
এ সময় যৌনপল্লীর ৫৫০ পরিবারের মাঝে ১০ কেজি চাল, দুই কেজি আলু, এক লিটার তেল, এক কেজি ডাল, এক কেজি পেঁয়াজ, এক কেজি ছোলা, এক কেজি চিনি, এক কেজি লবণ বিতরণ করা হয়। এ ছাড়াও ঈদে নতুন জামা কেনার জন্য ১২০ জন শিশুর মাঝে নগদ ৫০০ টাকা করে বিতরণ করা হয়।
প্রকাশ, টাঙ্গাইল পৌর এলাকার ১১ নং ওয়ার্ডে অবস্থিত ২০০ বছরের পুরোনো কান্দাপাড়া যৌন পল্লীটি ৩০২ শতাংশ জমির উপর প্রতিষ্ঠিত। এর ৫৯টি বাড়িতে প্রায় ৭০০ যৌনকর্মী বসবাস করে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে গত বছরের ২০ মার্চ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতি জনকে ৩০ কেজি করে চাল দিয়ে এই পল্লীকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। এর পর ঈদুল ফিতরের আগে প্রতি সদস্যকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নগদ ৫০০ করে টাকা দেওয়া হয়।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার পোড়াবাড়ি ইউনিয়নের বানিয়াবাড়ী এলাকায় ছেলের নামে জমি লিখে না দেয়ায় বাবা-মাকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে।
ছেলের এমন অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে ছেলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে টাঙ্গাইল সদর ফাঁড়ি পুলিশের কাছে গিয়ে লিখিত অভিযোগ দিলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ।
এ ব্যাপারে অসহায় বৃদ্ধা বাবা মোহাম্মদ আলী পল্টু জানান, তার স্ত্রী রুমিছা বেগমের নামে বাড়ির সাড়ে ৯ শতাংশ জমি রয়েছে। সেই জমি ছেলে শুকুর আলী তার নামে লিখে দেয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে তাদের চাপ প্রয়োগ করে আসছে। প্রতিনিয়তই শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে।
তিনি জানান, এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (১৯ এপ্রিল) আবারও জায়গা লিখে দিতে বলে ছেলে শুকুর আলী । তার কথায় রাজি না হওয়ায় ছেলে, ছেলের বউ, নাতি, ছেলের শ্যালকসহ কয়েকজন মিলে মোহাম্মদ আলী ও তার স্ত্রী রুমিছা বেগমকে মারধর করে।
এ সময় মোহাম্মদ আলীর আরেক ছেলে ও নাতিরা এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর করা হয়। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।
এ ব্যাপারে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ। এতে আতঙ্কে দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের।
মোহাম্মদ আলী পল্টুর আরেক ছেলে ফজল হক বলেন, গায়ের জোরে শুকুর বাবা-মাসহ সবাইকে লোক ভাড়া করে মারধর করেছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আলী বলেন, বাবা-মাকে মারধর করার ঘটনাটি ন্যক্কারজনক। ছেলে হয়ে বাবা-মায়ের গায়ে হাত তোলা ঠিক হয়নি। তদন্তসাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
টাঙ্গাইলের কাগমারি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোশারফ হোসেন বলেন, বিষয়টি জানি। তবে শুনেছি তারা সামাজিকভাবে বিষয়টি সমাধান করবেন।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ তরমুজ কেবল খেতেই সুস্বাদু নয়, শরীর-স্বাস্থ্যের জন্যও ভালো। এতে চর্বি নেই। প্রচুর ভিটামিন এ, বি৬, সি, পটাশিয়াম, লাইকোপেন ও সিট্রুলিনের মতো উপাদান থাকে।মৌসুমী রসালো ফল তরমুজ এখন টাঙ্গাইলের মধুপুরে কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা তাদের ইচ্ছামতো দাম হাকিয়ে তরমুজ বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ জানিয়েছেন ক্রেতা ও জন সাধারণ। নিম্ন আয়ের মানুষের এবছরের তরমুজের স্বাদই নিতে খুবই হিমশিম খাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
রমজান মাস এলেই বাঙালীদের প্রতিটি পরিবারেই ইফতারে থাকে তরমুজসহ হরেক রকমের মৌসুমী ফলের সমাহার। কিন্তু এবছর সেই তরমুজের দাম এখন আকাশ ছোঁয়া। তবে দাম বৃদ্ধির কারনে অনেক রোজাদারসহ নিম্ন আয়ের মানুষ আজও তরমুজের স্বাদ নিতে পারেনি। গেল বছর মধুপুরের সর্বত্রই তরমুজের ছড়াছড়ি এবং পিচ হিসেবে বিক্রি হতে দেখা গেছে। কিন্তু এবার চিত্রটা ভিন্ন! চলতি মৌসুমে বাজারে পর্যাপ্ত তরমুজের দেখা গেলেও এ বছর তরমুজ কেজিতে বিক্রি হচ্ছে এবং তাও কেজিপ্রতি আবার ৫০ থেকে ৬০ টাকায়।
শনিবার (২৪ এপ্রিল) মধুপুরের মোটের বাজার হাট এবং শুক্রবার জলছত্র বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কেজি দরে তরমুজ বিক্রি হচ্ছে। অনেক ক্রেতা এসে বিক্রেতার সাথে দাম নিয়ে রীতিমতো বিবাদে জড়িয়ে পড়ছেন। আবার অনেক ক্রেতা যেহেতু কেজিতে বিক্রি হচ্ছে তাই কেটে ১ কেজি তরমুজ চাচ্ছেন দোকানির কাছে। এ নিয়েও চলছে বাক বিতন্ডতা।
অটোচালক ফরিদ, হীরা মিয়া, আসাদুজ্জামান আসাদ সহ আরও অনেকেই বলেন, লকডাউন চলছে। ভয় নিয়ে সড়কে আসি, দিন শেষে যা আয় হচ্ছে কোনো রকমে পরিবার পরিজন নিয়ে বেঁচে আছি। এই রোজগারে এ বছর তরমুজ খাওয়া সম্ভব হবে না।
বাজারে আসা রোজাদারসহ নানা শ্রেনী পেশার মানুষের প্রশ্ন তরমুজ কেজিতে বিক্রি হওয়ার কারন কি? যে তরমুজ গত বছরও মানুষ পিচ হিসেবে কিনেছে, সেই তরমুজ এ বছর কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। তবে কেজিতে যদি ১৫/২০ টাকা হতো তাহলে সাধ্যের মধ্যে থাকতো ; অথচ ৫০/৬০ টাকা কেজি দরে তরমুজ বিক্রি হতে দেখা গেছে। ভোক্তাদের প্রশ্ন এই টাকা কি প্রকৃতপক্ষে ওই চাষি, যে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে তরমুজ উৎপাদন করেছে তার পকেটে যাচ্ছে নাকি অন্য কারও পকেটে? কৃষকের তরমুজের ক্ষেত থেকে শুরু করে বাজারে বিক্রেতা পর্যন্ত যারা ভোক্তার পকেট খালি করে চলেছে তাদের খুজে বের করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
বাজারের কয়েকজন খুচরা ব্যবসায়ী জানান, বড় ব্যবসায়ীরা তরমুজ পাইকারী বাজার হতে শ’ হিসেবে কিনে তা কেজিতে বিক্রি করছেন। আমরাও কেজিতে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি। বাজার মনিটরিং করলে কেজি কাহিনী উন্মোচন হবে বলে তারা মনে করছেন।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ফ্যান দিয়ে ধানের কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎ পৃষ্টে মোকাদ্দেস আলী নামে এক শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) রাতে পৌর শহরের পশ্চিম ভূঞাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
তিনি উপজেলার পৌর শহরের পশ্চিম ভূঞাপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় রামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, ওই শিক্ষক তার বাড়িতে ফ্যান দিয়ে ধানের কাজ করছিল। একপর্যায়ে ফ্যানে হাত দিলে বিদ্যুতায়িত হন তিনি। পরে ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে গেলে কর্মরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার কোদালিয়া এলাকায় ট্রাকচাপায় দেলোয়ার হোসেন দেলু (১৮) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। শনিবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দেলোয়ার ওই উপজেলার আজগানা ইউনিয়নের চিতেশ্বরী গ্রামের জলিল মিয়ার ছেলে বলে জানা গেছে।
মির্জাপুর গোড়াই হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোজাফ্ফর হোসেন জানান, মহাসড়কটির কোদালিয়া এলাকায় মোটরসাইকেলটি ওভারটেক করার সময় ট্রাকচাপায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন। ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘাতক ট্রাকটি জব্দ করলেও চালক পালিয়ে গেছেন। নিহতের মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠ ডেস্ক :টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে এলেংজানি নদীতে গোসল করতে নেমে ৯ম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার সল্লা ইউনিয়নের আনালিয়া বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক রেজাউল করিম নিশ্চিত করেছেন।নিহত মীম আক্তার (১৫) আনালিয়াবাড়ী গ্রামের মো. আব্দুল্লাহর মেয়ে।
জানাগেছে, স্কুল ছাত্রী প্রতিবেশীদের সাথে নদীতে গোসল করতে গিয়ে হঠাৎ তলিয়ে যায়।অনেক খোঁজাখোজি করে তাকে পাওয়া না গেলে ডুবরী দলকে খবর দেয়্ হয় ।খবর পেয়ে টাংগাইল জেলা ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরী দল ঘটনা স্থলে পৌঁছে নদীর পানিতে ডুবে নিখোঁজ হওয়া মীম আক্তার (১৫) কে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে ।পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি মো. শফিকুল ইসলামের কাছে মরদেহটি হস্তান্তর করা হয় ।
এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, শুক্রবার দুপুরে মীম আক্তার গোসল করতে এলেংজানি নদীতে নামেন। এক পর্যায়ে তিনি পানিতে ডুবে নিখোঁজ হয়। পরে টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌছে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ওই শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করে।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে একটি প্রাইভেটকারসহ ডাকাত দলের ৪ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার( ২২ এপ্রিল) রাতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উপজেলার কোদালিয়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার(২৩ এপ্রিল) তাদের ৪ দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো পটুয়াখালী জেলার মির্জাগজ্ঞ থানার নতুন শ্রীনগর গ্রামের ইলিয়াস হাওলাদারের ছেলে জুয়েল হাওলাদার (২৭), একই জেলা সদরের কালিচন্না গ্রামের চান মিয়ার ছেলে নুর আমিন (২৪) শরীয়পুর জেলার জাকিরা উপজেলার পালেরচর গ্রামের সিরাজ মিয়ার ছেলে মুরাদ (২৫), বড়গুনা জেলার আমতলী উপজেলার বনইবুনিয়া গ্রামের মাজেদ মৃধার ছেলে নজরুল মৃধা (৩২)।
পুলিশ জানায়, মহাসড়কে প্রাইভেটকার অথবা মাইক্রোবাস নিয়ে নিজেরাই যাত্রী ও চালক সেজে যানবাহনের জন্য অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের কম টাকা ভাড়ায় গন্তব্যে পৌছে দেয়ার কথা বলে গাড়ীতে উঠাতেন। পরে সুবিধামতো জায়গায় পৌঁছে তাদের অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে গলায় গামছা পেঁচিয়ে সর্বস্ব লুটে নিতো। অনেক সময় চলন্ত গাড়ী থেকে লাথি মেরে ফেলে দিয়ে পালিয়ে দিতো। কোন কোন ক্ষেত্রে অনেক যাত্রীকে মেরেও ফেলে।
গ্রেপ্তারকৃতরা মহাসড়কের বাইপাইল-চন্দ্রা-টাঙ্গাইল এবং গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস থেকে মিরের বাজারসহ আশপাশের এলাকায় অপরাধ সংগঠিত করতো বলে মির্জাপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ রিজাউল হক জানিয়েছেন।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে ফের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজির ৭৬ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার(২২ এপ্রিল) বিকালে উপজেলার হাদিরা ইউনিয়নের চাতুটিয়া মধ্যপাড়ার লাল মিয়ার বাড়ি থেকে চালের বস্তা গুলো উদ্ধার করে উপজেলা প্রশাসন। গোপালপুর থানার অফিসার-ইন-চার্জ(ওসি) মোশাররফ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পারভেজ মল্লিক বলেন, দুইজন ব্যক্তি ১০ টাকা কেজি দরের ৩০ কেজি বস্তার খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল ক্রয় করে লাল মিয়ার বাড়িতে মজুদ করে রাখেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে ৭৬ বস্তা চাল জব্দ করা হয়।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে লাল মিয়াসহ বাড়ির লোকজন পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা আবদুল্লাহ ইবনে হুসাইন বাদী হয়ে গোপালপুর থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন।
প্রকাশ,এর আগে মঙ্গলবার(২০ এপ্রিল) বিকালে উপজেলার আলমনগর মধ্যপাড়ায় অভিযান চালিয়ে ৬০ বস্তা খাদ্য বান্ধব চাল জব্দ করা হয়।
জেলা প্রতিনিধি
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে সংঘর্ষে উভয়পক্ষের পাঁচজন আহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) ভোরে উপজেলার হাতিবান্ধা গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। উভয়পক্ষ সখীপুর থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগও করেছেন।
জানা যায়, হাতিবান্ধা গ্রামের আবদুল মালেক (৪০), আবদুল আজিজ (৪৫), আবদুল আলীম (৪২) এবং বড়ভাই আবদুল হাকীমের (৫৫) মধ্যে জমির ভাগ-ভাটোয়ারা নিয়ে বিরোধ চলছিল। বৃহস্পতিবার ভোরে মাত্র ১০ শতাংশ জমি নিয়ে ওই দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। সংঘর্ষের সময় দা’-শাবলের আঘাতে বড়ভাই আবদুল হাকীম, তার স্ত্রী মালেকা বেগম ও মেয়ে মাহমুদা আহত হন।
অন্যদিকে, ওই সংঘর্ষে অপরপক্ষের আবদুল আজিজ ও আবদুল আলীম আহত হয়ে হাসপতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এদের মধ্যে আবদুল আজিজের বাম হাত ভেঙে গেছে।
এ ঘটনায় আবদুল হাকীমের মেয়ে মাজেদা আক্তার অপরপক্ষের আবদুল আজিজের স্ত্রী সোনিয়া আক্তার বাদী হয়ে সখীপুর থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।
সখীপুর থানার সেকেন্ড অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওমর ফারুক বলেন, মূলত পৈত্রিক সম্পত্তি ভাগ নিয়ে ভাইদের মধ্যে বিরোধ।
আমরা দুই পক্ষেরই অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুরে বালু মহালে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) তারিন মসরুরের নেতৃত্বে পরিচালিত মোবাইল কোর্টে হামলা চালিয়েছে অবৈধ বালু ব্যবসায়ীরা। হামলাকারীরা এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও নাগরপুর উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা তারিন মসরুরকে শারীরিক ভাবেও লাঞ্ছিত করে। বৃহস্পতিবার(২২ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার দপ্তিয়র ইউয়িনের বাগ কাটারী বালু মহালে এ ঘটনা ঘটে।
পরে এই ঘটনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)ও র্যাব-১২ কে অবহিত করা হয়। টাঙ্গাইল র্যাব-১২ এর ডিএডি মো.আক্তারুজ্জামানের নেতৃত্বে র্যাবের একটি দল ও নাগরপুর থানা পুলিশ ঘটনা স্থলে পৌছে ভূমি কর্মকর্তাকে উদ্ধার ও হামলাকরী সেনা সদস্য শরিফ উদ্দিন সহ ২ জন কে আটক করে।
উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) তারিন মসরুর জানান, উপজেলার বাগ কাটারী যমুনার শাখা নদীতে দীর্ঘদিন যাবৎ প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এক শ্রেণীর অবৈধ বালু ব্যবসায়ী ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছিল। এমন সংবাদে বৃহস্পতিবার বিকেলে সরেজমিন ঘটনাস্থলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এ সময় অবৈধ বালু উত্তোলনের দায়ে জাহাঙ্গীর ও উজ্জ্বল নামে দুই অবৈধ বালু ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। এ খবরে ক্ষিপ্ত হয়ে সেনা সদস্য শরীফ উদ্দিন দল বল নিয়ে মোবাইল কোর্টে হামলা করে তাকে শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত ও আটককৃতদের ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।
সেনাসদস্য শরিফ উদ্দিন (আইডি নং-১৩০৫৭২)কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে কর্মরত। তার গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলায়। সে বর্তমানে দুই মাসের ছুটিতে রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত-ই-জাহান সন্ধ্যায় তাঁর কার্যালয়ে সাংবাদিকদের জানান, হামলাকারী সেনা সদস্য শরিফউদ্দিনকে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। শুক্রবার(২৩ এপ্রিল) তাকে ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্টে হস্তান্তর করা হবে। পরে সেনা আইনে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলেও জানান ইউএনও সিফাত-ই-জাহান।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে করোনার মধ্যে সরকারি বিধি নিষেধ উপক্ষো করে বিএন কোচিং সেন্টার খোলা রাখায় মালিককে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমান আদালত। বৃহস্পতিবার(২২ এপ্রিল) সকালে ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) জুবায়ের হোসেন এ জরিমানা করেন।
জানা যায়, সদরের কলেজ রোডস্থ ফারুক ভিলার নীচতলায় অবস্থিত বিএন কোচিং সেন্টারে নিয়মিত ছাত্র-ছাত্রীদের কোচিং করানো হয়। সকালে সেখানে অভিযান চালিয়ে ঘটনার সত্যতা পায় ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক। সেন্টারের মালিক উপজেলার আজগানা ইউনিয়নের লতিফপুর গ্রামের নাজির আহমেদকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
একই দিন উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে জনসচেতনা বৃদ্ধির লক্ষে সদরে মাইকিংও করা হয়। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে জানিয়েছেন এসিল্যান্ড জুবায়ের হোসেন।