একতার কণ্ঠঃ কয়েক দিন ধরে টাঙ্গাইলে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের সংখ্যা বাড়ছে। এ জন্য টাঙ্গাইলকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই শনাক্তের হার বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আগামী শনিবার থেকে জেলার সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ তিন উপজেলায় সর্বাত্মক লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উপজেলাগুলো হলো টাঙ্গাইল সদর, কালিহাতী ও মির্জাপুর।
সোমবার( ১৪ জুন) বিকেলে জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এই তিন উপজেলায় মঙ্গলবার থেকে মাস্ক পরিধান ও কঠোর স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, মাইকিং করে করোনার ভয়াবহতা সম্পর্কে প্রচারণাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।
জেলা প্রশাসক মো. আতাউল গনির সভাপতিত্বে সভায় সিভিল সার্জন আবুল ফজল মো. সাহাব উদ্দিন খান, শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ নুরুল আমিন মিঞা, টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক খন্দকার সাদিকুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শরফ উদ্দিন, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী, প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ প্রমুখ বক্তব্য দেন।
এদিকে টাঙ্গাইলে ৭৭ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। ২৩১ জনের নমুনা পরীক্ষা করে এ আক্রান্ত শনাক্ত হয়। আক্রান্তদের মধ্যে টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় ৩৯ জন, কালিহাতীতে ২১ জন, বাসাইলে ৫ জন, সখীপুরে ৪ জন, গোপালপুর ও ঘাটাইলে ৩ জন করে এবং মধুপুর ও দেলদুয়ারে ১ জন করে রয়েছেন। এ নিয়ে সোমবার সকাল পর্যন্ত জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্তের মোট সংখ্যা ৪ হাজার ৫৩২। করোনায় আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৯৫ জন।
সিভিল সার্জন আবুল ফজল মো. সাহাব উদ্দিন খান বলেন, টাঙ্গাইল সদর ও কালিহাতীতে করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার বেশি। করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে সরকারি নির্দেশনা, স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে হবে। নিজে সচেতন হতে হবে, অন্যকেও সচেতন করতে হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের মহেড়া পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের বিভাগীয় ক্যাডেট (এসআই) এর ১৯তম ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৪ জুন) সকালে ট্রেনিং সেন্টারের প্যারেড গ্রাউডে এ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়।এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট (ডিআইজি) ময়নুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধান অতিথি ময়নুল ইসলাম কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন। পরে তিনি ৪টি ক্যাটাগরিতে প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে পুরষ্কার বিতরণ করেন।
ময়নুল ইসলাম জানান, ৮৭৭ জন প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে ২২৫ জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ৬৫২ জন প্রশিক্ষণার্থী চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পেয়েছে। তবে যেসব প্রশিক্ষণার্থীকে অব্যহতি দেওয়া হয়েছে তারা পুনরায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত ডিআইজি মাহবুবুর রহমান, পুলিশ সুপার (ট্রেনিং) আব্দুর রহিম শাহ চৌধুরী, পুলিশ সুপার (প্রশাসন) সালমা সৈয়দ পলি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) শেখ রাজীবুল হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রেনিং) মারুফা আক্তার প্রমুখ। এছাড়া পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের অন্যন্য অফিসারবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রকাশ, ১৯তম ব্যাচের মোট প্রশিক্ষণার্থী ছিলেন ৮৭৭ জন। প্রশিক্ষণ চলাকালে বিভিন্ন কারণে ২২৫ জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে করোনা সংক্রমণের হার দিন দিন বাড়ছে। জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ২৩১ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৭৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। সংক্রমণের শতকরা হার ৩৩.৩৩ শতাংশ। যা গত এক মাসে সর্বোচ্চ। এ পর্যন্ত জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ৯৫ জন।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এ নিয়ে সোমবার(১৪ জুন) সকাল পর্যন্ত জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৫৩২ জন। এদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ী ফিরেছেন ৪ হাজার ৩২২ জন।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটে এ পর্যন্ত ৪১৯ জন রোগী ভর্তি হয়। হাসপাতালের করোনা ডেডিকেডেট ইউনিটে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২০ জন।কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ২৫ হাজার ১০০ জন।
টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মো. সাহাবুদ্দিন জানান, আক্রান্তদের মধ্যে টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় ৩৯ জন, কালিহাতীতে ২১ জন, বাসাইলে পাঁচজন, সখীপুরে চারজন, গোপালপুর ও ঘাটাইলে তিনজন করে, মধুপুর ও দেলদুয়ারে একজন করে রয়েছেন।
তিনি আরো জানান, টাঙ্গাইল সদর ও কালিহাতী উপজেলা উত্তরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার ট্রানজিট পয়েন্ট হওয়ায় এ দুই উপজেলায় করোনা শনাক্তের হার অন্য উপজেলার তুলনায় অনেক বেশি। ইতোমধ্যে দুই দফায় কালিহাতী উপজেলার ৩৩টি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। টাঙ্গাইল সদর উপজেলাকেও কড়া নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলা শ্রমিক ফেডারেশন ও আওয়ামীলীগ সমর্থক পরিবারের ব্যানারে সোমবার(১৪ জুন) সকাল ৬ টা থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত শ্রমিকদের কর্মবিরতি পালন করা হয়েছে। এই কর্মবিরতি পালন কালে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে এক কাউন্সিলরের কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য, জেলা রিকশা ও হোটেল শ্রমিকদের উপর কথিত ‘খান পরিবারের’ হামলা ও হুমকির প্রতিবাদ এবং বীরমুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদের হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে ওই কর্মসূচি পালন করা হয়।সোমবার সকালে শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে শ্রমিকরা খন্ড খন্ড বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে একত্রিত হয়। পরে বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমি মিলনায়তনে সমাবেশে মিলিত হয়।
টাঙ্গাইল জেলা শ্রমিক ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. বালা মিয়ার সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, টাঙ্গাইল-২(গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান ছোট মনির, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক মেয়র জামিলুর রহমান মিরন, জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব গোলাম কিবরিয়া বড় মনি, বাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক চিত্র রঞ্জন সরকার, জেলা অটোরিকশা শ্রমিক সমিতির সভাপতি আব্দুস সবুর মিয়া, জেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি কোরবান আলী, জেলা নির্মাণ প্রকৌশল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি বিপ্লব সবুর খান, টাঙ্গাইল পৌরসভার কাউন্সিলর আমিনুর রহমান আমিন ও আতিকুর রহমান মোর্শেদ প্রমুখ। সমাবেশ পরিচালনা করেন, জেলা আওয়ামী যুবলীগ নেতা মুন্সী তারেক পটন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, জেলা আওয়ামীলীগের জনপ্রিয় নেতা বীরমুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদ হত্যা মামলায় আসামি হয়ে তথাকথিত ‘খান পরিবারের’ চার ভাই আত্মগোপণে চলে যাওয়ার পর টাঙ্গাইলের মানুষ অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছিল। কিন্তু খান পরিবারেরর এক ভাই আমানুর রহমান খান রানা জামিনে মুক্ত হওয়ার পর থেকে তারা আবার টাঙ্গাইলকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ইতোমধ্যে তারা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে পেটে রিভলভার ঠেকিয়ে হত্যার হুমকি দিয়ে শহর ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। শ্রমিকদের উপর হামলা করা হচ্ছে, হুমকি দিয়ে শ্রমিকদের কাজ বন্ধ করে দেওয়ার পায়তারা করছে।
বক্তারা শ্রমিকদের উপর হামলা ও হুমকি বন্ধ এবং বীরমুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদের হত্যাকারীদের ফাঁসি দাবি করেন।
এরআগে জেলা শ্রমিক ফেডারেশনের আহ্বানে সোমবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে জেনারেল হাসপাতালের নতুন করে আরও তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে দুইজনের বাড়ি দেলদুয়ার ও একজনের বাড়ি কালিহাতী উপজেলায়। এ নিয়ে রোববার(১৩ জুন) সকাল পর্যন্ত জেলায় মোট ৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মো. সাহাবুদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, জেলায় নতুন করে আরও ২৩ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ঘাটাইলে ১০ জন, দেলদুয়ারে ৭ জন, কালিহাতীতে ৫ জন, গোপালপুরে একজন রয়েছেন।জেলায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা পাঁচ হাজার ৪৫৫ জন। জেলায় মোট শনাক্তের হার ১৪.৪৭ ভাগ।
সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, শনিবার টাঙ্গাইল এবং ঢাকায় ৭১টি নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। এতে নতুন করে ২৩ জন করোনা ভাইরাস পজেটিভ শনাক্ত হয় এবং ৪৮ জনের করোনা নেগেটিভ আসে- যা একদিনে শতকরা শনাক্তের হার ৩২.৩৯ ভাগ।
করোনায় মোট সুস্থ হয়েছে চার হাজার ৩১২ জন, হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৪১৯ জন। বাড়িতে আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছে এক হাজার ২২ জন। এখন পর্যন্ত মোট ২৬ হাজার ৪১৩ জনকে কোয়ারেন্টাইনে আনা হয়েছিল।
এর মধ্যে ২৫ হাজার ৯০ জনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। জেলায় এখন পর্যন্ত ৩৭ হাজার ৬৯০টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।
এর মধ্যে মোট পাঁচ হাজার ৪৫৫ জনের করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে জেলায় মোট করোনা শনাক্তের হার ১৪.৪৭ ভাগ।
একতার কণ্ঠঃ বঙ্গবন্ধু সেতুর ওপর ট্রাক্টর ও বাসের সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ট্রাক্টরে আগুনে লেগে যায়। এতে আহত হয়েছেন আরও ৭ জন। শনিবার (১২ জুন) দিবাগত রাত তিনটার দিকে বঙ্গবন্ধু সেতুর ১৯ নম্বর পিলারের কাছে উত্তরবঙ্গগামী লেনে এই ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন-নীলফামারী জেলার ডিমলা থানার মজনু (৩৩) ও একই উপজেলার রমজান আলীর ছেলে নজরুল ইসলাম (৩৪)। দুর্ঘটনার পর সেতুর দুইপাশে যানজটের সৃষ্টি হয়।
বঙ্গবন্ধু সেতুর ট্রাফিক কন্ট্রোল রুম (টিসিআর) সূত্র জানায়, রাত তিনটার দিকে বঙ্গবন্ধু সেতুর ওপর উত্তরবঙ্গগামী লেনে শ্যামলী পরিবহনের যাত্রীবাহী বাস একটি ট্রাক্টরকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে ট্রাক্টরটি উল্টে গিয়ে আগুন ধরে যায়। এসময় ট্রাক্টরে থাকা দুইজন আগুনে পুড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। এসময় ৭জন আহত হয়। আহতদের টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আগুনে পুড়ে যাওয়া দুইজনের লাশ সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে
বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানার উপ-পরিদর্শক আরিফুল রহমান জানান, দুর্ঘটনায় কবলিত দুইটি পরিবহন সরানোর পর সেতুর ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচল শুরু হয়। এরআগে সেতুর ওপর গাড়িতে আগুন লাগার সেতুর দুইপাশের মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। সকাল ৮টা পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু সেতুপশ্চিম টোলপ্লাজা হতে কড্ডার মোড় পর্যন্ত মহাসড়কে এক লেনে যানজট রয়েছে।
বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, রাতে বঙ্গবন্ধু সেতুর ওপর আগুন লাগার ঘটনার পর থেকেই মহাসড়কে থেমে থেমে যানবাহন চলাচল করছে। সকালের পর কিছুটা গাড়ির চাপ কমেছে। ঢাকাগামী লেনে পরিবহনের চাপ বেশি রয়েছে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে যানচলাচল স্বাভাবিক হবে
একতার কণ্ঠঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্পর্কে কটূক্তি করার কারণে টাঙ্গাইল পৌরসভার প্যানেল মেয়র হাফিজুর রহমান স্বপনকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।রোববার(১৩ জুন) দুপুরে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম এমপি স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ওই বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়।তিনি টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পদে ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৫ জুন প্যানেল মেয়র হাফিজুর রহমান শহরের আকুরটাকুর পাড়ায় একটি জমি পরিমাপকে কেন্দ্র করে ওই জমির মালিকের জামাতার সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন।
কথা বলার একপর্যায়ে তিনি তাঁকে বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও মানি না’। তা ছাড়া তিনি নানা অশ্লীল বক্তব্য দেন।
তাঁর ওই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।অনেকেই তাঁকে বহিষ্কারের দাবি জানান।

এ বিষয়ে শহর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আহমদ মজিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ঘোষণা দেন হাফিজুর রহমান স্বপনকে দল থেকে বহিষ্কার করা না হলে তিনি পদত্যাগ করবেন।
এর আগে গত ৯ জুন প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে কটূক্তির কারণে ১৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল সদর থানায় পৌরসভার ১৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আতিকুর রহমান মোর্শেদ বাদী হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেন।
এ ছাড়া মুঠোফোনে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় শহরের আকুরটাকুর পাড়ার প্রয়াত আশরাফ চৌধুরীর জামাতা মফিজুর রহমান টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, হাফিজুর প্রথমে ছাত্রদল ও পরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০১৪ সালের জুন মাসে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন।
যোগদানের পরই তিনি প্রথমে পৌর আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও পরে সহ-সভাপতির দায়িত্ব পান। তিনি টাঙ্গাইল পৌরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে পর পর চার বার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন।
সর্বশেষ, গত ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত পৌরসভা নির্বাচনে কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর প্যানেল মেয়রের দায়িত্ব পান।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার পারখী ইউনিয়নের ভিয়াইল মৌজায় অবস্থিত কড়িল(কুমরী) বিলের বাংলা ড্রেজার বন্ধের জন্য জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে এলাকাবাসী।
জানা যায়, ভিয়াইল মৌজার কুড়িল বিলের সরকারি খাস খতিয়ানের ভূমিতে কতিপয় দুস্কৃতকারী দুইটি বাংলা ড্রেজার বসিয়ে দিন-রাত বালু উত্তোলন করছে। পারখী ইউনিয়নের ভিয়াইল গ্রামের পশ্চিমে কুড়িল(কুমরী) বিলে বাংলা ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বীর বাসিন্দা ইউনিয়নের কস্তুরি পাড়ায় বসবাসকারী ঘাটাইল উপজেলার আশারিয়া চালা গ্রামের সিদ্দিক হোসেনের ছেলে মো. আব্দুল লতিফ। তাকে সহযোগিতা করছেন ভিয়াইল গ্রামের মৃত কাজীম উদ্দিনের ছেলে আব্দুস সাত্তার, নুর মোহাম্মদের ছেলে মজনু মিয়া ও নজরুল ইসলাম। অবৈধভাবে বাংলা ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে আশপাশের ব্যক্তি মালিকানাধীন আবাদী জমি ভেঙে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে তারা অত্যন্ত দুর্ধর্ষ ও দাঙ্গা-হাঙ্গামাকারী হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়রা বাঁধা দিতে গেলে উল্লেখিত ব্যক্তিরা নানা ধরণের হুমকি দিয়ে থাকে। এজন্য এলাকার জমির মালিকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। তাদের ভয়ে ভীত হয়ে স্থানীয় প্রায় অর্ধশত ব্যক্তি এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসকের কাছে গত ৭ জুন(সোমবার) লিখিত আবেদন করেছেন।
এ বিষয়ে কালিহাতী উপজেলা সহকারী কমিশন(ভূমি) কমরুল হাসান জানান, ওই বিলে ইতোপুর্বে একাধিকবার বাংলা ড্রেজারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দাখিলকৃত অভিযোগটি হাতে পেলে তিনি দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বৈরাণ নদীর উপর নির্মিত ফুট ওভার ব্রিজটি ভেঙে গোপালপুরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। শুক্রবার( ১১ জুন) সকালে গোপালপুর পৌরসভার কোনাবাড়ি এলাকায় বৈরাণ নদীর উপর নির্মিত ফুটওভার ব্রিজটি ভেঙে পৌরসভার পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তবে কেউ হতাহত হয়নি।
জানা গেছে, টানা দুই দিনের বৃষ্টিতে দুটি পিলারসহ ব্রিজের একপাশ ভেঙে পড়ে। পরে ক্রমশ:ই ব্রিজের ভাঙা অংশ বাড়তে থাকে। অনেক আগেই ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছিল। তারপরও সংস্কারে কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেনি কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয়রা জানায়, ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণার পরও জনগুরুত্বপূর্ণ ব্রিজটি সংস্কার বা পুননির্মাণে কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নেয়নি। ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় মানুষের চলাচলের ব্যাপক দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
গোপালপুর পৌরসভার মেয়র রকিবুল হক ছানা জানান, ফুট ওভার ব্রিজটি ভেঙে পড়ার পর দ্রুত তিনি পরিদর্শন করেন। ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজটি টানা দুই দিন ভারি বৃষ্টির ফলে দুর্বল হয়ে ভেঙে পড়েছে। খুব দ্রুত চলাচলের জন্য তিনি বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল শহরের বিশ্বাস বেতকা এলাকার বাসিন্দা মৌসুমী মাহমুদা নামে এক নারী উচ্চ শিক্ষার জন্য বিদেশে যেতে জমি বিক্রির চেষ্টায় বাঁধা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। শনিবার (১২ জুন) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে পৌরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আতিকুর রহমান মোর্শেদের বিরুদ্ধে তিনি ওই সংবাদ সম্মেলন করেন। মৌসুমী মাহমুদা শহরের ১৭ নং ওয়ার্ডের বিশ্বাস বেতকা এলাকার মোহাম্মদ আলী শাহাজাদার মেয়ে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মৌসুমী মাহমুদা জানান, উচ্চ শিক্ষার জন্য তিনি দেশের বাইরে যাওয়ার জন্য বিশ্বাস বেতকা মৌজায় নিজের ৬ শতাংশ বাড়ি বিক্রির চেষ্টা করেন। বাড়ি কেনার আগ্রহী ক্রেতারা তার সাথে কথা বলে চলে যাওয়ার পর বর্তমান কাউন্সিলর তাদের হুমকি-ধমকি দেন। ওই জমি কিনলে তাদের হাত-পা কেটে ফেলবে বলে হুমকি দেওয়ায় ক্রেতারা তার বাড়ি কিনতে আসেন না। কাউন্সিলর মোর্শেদ তার প্রায় কোটি টাকা মূল্যের বাড়িটি মাত্র ২০-২৫ লাখ টাকায় তার কাছে বিক্রি করতে বলেন। আতিকুর রহমান মোর্শেদকে বাড়ি দিতে অস্বীকার করায় তিনি অন্য কারও কাছে বাড়ি বিক্রি করলে তাকে মোটা অংকের চাঁদা দিতে হবে। অন্যথায় তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন।
সংবাদ সম্মেলনে মৌসুমী মাহমুদা আরও জানান, কাউন্সিলর মোর্শেদের হুমকিতে নিজের বাড়িতে তিনি বসবাস করতে পারছেন না। শহরে অন্যের ভাড়া বাসায় থাকতে হয়। তিনি নিজের জীবনের নিরাপত্তা চান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- মৌসুমী মাহমুদার মা মাহমুদা আলী, ভাবি সুমাইয়া আক্তার তৃষা ও তার দুই কন্যা শিশু।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে গত ২৪ ঘণ্টায় ২১৩টি নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে জেলায় ৭০জনের করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার আক্রান্তের শতকরা হার ৩২.৮৬ শতাংশ- যা গত এক মাসে সর্বোচ্চ। এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে আরও এক জনের মৃত্যু হয়েছে। তার বাড়ি টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায়। এ পর্যন্ত জেলায় মৃত্যুবরণ করেছে ৯২ জন। টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মো. সাহাবুদ্দিন শনিবার( ১২ জুন) দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, আক্রান্তদের মধ্যে টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় ৩৯জন, নাগরপুরে একজন, দেলদুয়ারে পাঁচজন, মির্জাপুরে একজন, কালিহাতীতে ২১ জন, ঘাটাইলে একজন, মধুপুরে একজন ও ভূঞাপুর উপজেলায় একজন রয়েছে।
তিনি আরও জানান, টাঙ্গাইল সদর ও কালিহাতী উপজেলা উত্তরাঞ্চল সহ দেশের বিভিন্ন জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার ট্রানজিট পয়েণ্ট হওয়ায় এ দুই উপজেলায় করোনা শনাক্তের হার অন্য উপজেলাগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। ইতোমধ্যে কালিহাতী উপজেলায় দুই দফায় ৩৩টি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। টাঙ্গাইল সদর উপজেলা কড়া নজরদারীতে রাখা হয়েছে।
সিভিল সার্জর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এ নিয়ে জেলার ১২টি উপজেলায় করোনা আক্রান্তের মোট সংখ্যা দাঁড়াল পাঁচ হাজার ৪৩২ জন। আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ্য হয়েছে চার হাজার ৩০৮ জন। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ইউনিটে এ যাবৎ ৩৪০জন রোগী ভর্তি হয়। তাদের মধ্যে সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৪৪ জন। উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর(রেফার্ড) করা হয়েছে ৬০ জন। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের আইসিউ বেডে বর্তমানে ৬জন ও জেনারেল বেডে ১১জন নিয়ে মোট ১৭ জন করোনা ডেডিকেডেট ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে গত ২৪ ঘন্টায় করোনা আক্রান্ত হয়ে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। তার বাড়ি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায়। টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মো. সাহাবুদ্দিন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জেলা সিভিল সার্জন অফিসের সুত্র মতে, গত ২৪ ঘন্টায় ১৩০টি নমুনা পরীক্ষায় জেলায় সর্বোচ্চ ৪০জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় ২০জন, দেলদুয়ারে ৬জন, সখীপুরে ৩জন, বাসাইলে ১জন, কালিহাতী ৯জন ও ঘাটাইলে ১জন নিয়ে মোট ৪০জন করোনায় আক্রান্ত।
এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৫ হাজার ২৭৬ জন। আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ্য হয়েছে ৪ হাজার ২৭৪ জন। এ পর্যন্ত জেলায় মোট মৃত্যুবরণ করেছে ৯০ জন।
এদিকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ইউনিটে সর্বমোট ৩২৭ জন রোগী ভর্তি হয়। এদের মধ্যে সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২২৭জন। উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করা হয়েছে ৬০জন। বর্তমানে টাঙ্গাইল জেনালে হাসপাতালে আইসিউ বেডে ৬জন ও জেনারেল বেডে ১৭জন নিয়ে মোট ২৩জন চিকিৎসাধীন রয়েছে।