একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ৯০ বোতল ফেন্সিডিলসহ ২ যুবককে আটক করেছে গোড়াই হাইওয়ে থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার(২৯ এপ্রিল) ভোরে উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের ধেরুয়া এলাকায় অবস্থিত নাসির গ্লাস অ্যান্ড ফ্যাক্টরি সংলগ্ন ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন- ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গি উপজেলার মাশাইলডাঙ্গি গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে মো. আ. গফুর (২৮) একই গ্রামের নুরুল আমিনের ছেলে রাকিব হোসেন (২২)।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ভোর পৌনে ৬টার দিকে মহাসড়কের ওইস্থানে অভিযান পরিচালনা করে ৯০ বোতল ফেন্সিডিলসহ ২ জনকে আটক করা হয়।
গোড়াই হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মোজাফফর হোসেন জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে মির্জাপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।শুক্রবার( ৩০ এপ্রিল) তাদের কোর্টে হাজির করা হবে।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলে শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশন পবিত্র রমজানে প্রতিদিন প্রায় তিন শতাধিক দরিদ্র মানুষের মধ্যে ইফতারি বিতরণ করছে। গত ৭ বছর ধরে টাঙ্গাইল ছাড়াও দেশের আরও ১১ জেলায় প্রায় পাঁচ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবীর মাধ্যমে বিভিন্ন মানবিক কাজে অংশ নিয়ে আসছে সংগঠনটি।এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার(২৯ এপ্রিল) বিকালে টাঙ্গাইল সদরে ঘুরে ঘুরে প্রায় তিন শত জন দরিদ্র মানুষের মাঝে ইফতার বিতরন করেন সংগঠনের সেচ্ছাসেবীরা।
শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মঈদ হাসান তড়িৎ জানান, গত ৭ বছর ধরে টাঙ্গাইল ছাড়াও দেশের আরও ১১ জেলায় প্রায় পাঁচ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবীর মাধ্যমে বিভিন্ন মানবিক কাজে অংশ নিয়ে আসছে সংগঠনটি। তারই ধারাবাহিকতায় নিজেরা রান্না করে টাঙ্গাইলের রাস্তায় ছিন্নমূল অসহায় ও দরিদ্র মানুষকে খুঁজে খুঁজে ইফতার সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। ১১টি জেলায় প্রায় ৯ হাজার মানুষের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।
টাঙ্গাইল জেলা সদর বস্তির বাসিন্দা শাহিদা বেগম (৫০)। প্রায় ৩৫ বছর আগে বিয়ে হয়। স্বামী রিকশা চালক। বিয়ের পর থেকেই সংসারে সুখের টানাটানি।
একে একে তাদের সংসারে এলো তিন মেয়ে ও এক ছেলে। মেয়েদের বিয়ের পর তারা স্বামীর বাড়িতে বসবাস করেন। ছেলেও বিয়ের পর পৃথক হয়েছে। এদিকে প্রায় ১৫ বছর ধরে স্বামী ভরণপোষণ দেন না।
অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে কোনো রকমে সংসার চলে তার। টানাটানির সংসারে ভালো মানের খাবার জোটানো স্বপ্নের মতো লাগে। কোনো রকম সেহেরি ও ইফতার খেয়ে রোজা রাখেন।
এ অবস্থা দেখে তার পাশে দাঁড়িয়েছে ‘শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশন’ সংগঠন। প্রতিদিন তাকে ভাল মানের ইফতার সামগ্রী দেওয়া হয়।
শুধু শাহিদা বেগম নয়, তার মতো প্রতিদিন টাঙ্গাইল শহরের অসহায় তিন শতাধিক দরিদ্র মানুষকে খুঁজে খুঁজে ইফতার সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছে ‘শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশন’ নামের এই সংগঠনটি।
শাহিদা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী আমাকে দেখাশোনা করেন না। ছেলেও খোঁজ খবর নেয় না। নিজে অন্যের বাড়িতে কাজ করে চলি। ভালো মানের ইফতার কখনও তৈরি করতে পারি না। শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশন আমাকে প্রতিদিন অনেক ভালো মানের ইফতার সামগ্রী দেয়। তাদের জন্য দোয়া করি। তারা যেনো আমার মতো মানুষের পাশে সবসময় এভাবেই দাঁড়াতে পারে।’
ইফতার সামগ্রী পাওয়া বস্তিবাসী রত্না বেগম বলেন, ‘রোজার শুরু থেকে তারা ইফতার সামগ্রী দিচ্ছে। এমন ইফতার সামগ্রী বানানো আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাদের দেওয়া ইফতার সামগ্রী দিয়ে পরিবারের সবাই মিলে আমরা ইফতার করি।’
হাসনা বেগম বলেন, ‘লকডাউনের মধ্যে আয় রোজগার বন্ধ। অনেকের ঘরে খাবার নেই। আবার অনেকেই খাবার পায় না। এই খাবার পেয়ে আমরা অনেক আনন্দিত। খাবার পেয়ে অনেকেই খুশিতে কেঁদে ফেলেছে।’
কদবানু বেগম বলেন, ‘আমি রাস্তায় ঘুরে ঘুরে টাকা তুলি। কিনে ইফতার খেতে হয়। আজ বানানো ইফতার পেয়ে খুব আনন্দিত।
রিকশা চালক হারুন মিয়া বলেন, ‘সারাদিন রিক্সা চালিয়ে শহরের শহীদ মিনারে এসে বসলে শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশনের লোকেরা ইফতার দিয়ে যান। কোনো দিন বিরিয়ানি আবার কোনো দিন খিচুড়ি দিয়ে থাকেন। আবার কোনো দিন ছোলা, মুড়ি, খেজুর দেন।’
স্বেচ্ছাসেবক কাজী সিনথিয়া জেরিন বলেন, ‘শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করতে খুব ভাল লাগছে। মানুষের মাঝে ইফতার বিতরণ করাও মানবতা। ছিন্নমূল মানুষকে ইফতার করিয়ে নিজেদের ইফতার করার মধ্যে এক আত্মতৃপ্তি থাকে। ছিন্নমূল মানুষের জন্য কিছু করতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে হয়।’
অপর স্বেচ্ছাসেবক তানজিলা ইসলাম সেমন্তি বলেন, ‘এই কাজটা করতে আমাদের অনেক ভাল লাগে। মানুষের পাশে দাঁড়ালে তারাও আমাদের ভালবাসে এবং আমাদের জন্য দোয়া করেন। তারা দোয়া পাওয়াই অনেক বড় ব্যাপার।’
স্বেচ্ছাসেবক তাহমিদ সাম্য বলেন, ‘আমরা যখন ইফতার বিতরণ করি ছিন্নমূল মানুষগুলো অনেক খুশি হয়। মন থেকেই আমাদের জন্য তারা দোয়া করেন। মানুষের ভালবাসা পেয়ে আমরা অনুপ্রাণিত হচ্ছি। নিজ বাসায় ইফতার করা বাদ দিয়ে ছিন্নমূল মানুষের সাথে ইফতার করি। তাদের সাথে ইফতার করতে আমাদেরও ভাল লাগে। সারাদিন রোজা রাখার পর আমাদের ইফতার পেয়ে তারা যে হাসি দেয়। সেই হাসি দেখার জন্য বাড়ি থেকে তাদের কাছে ছুটে আসি।’
মুঈদ হাসান তড়িৎ বলেন, ‘লকডাউন উঠে গেলে মার্কাস মসজিদ ও এতিমখানায় ইফতারের আয়োজন করা হবে। এ ছাড়াও ঈদের আগের দিন ছিন্নমূল মানুষের বাড়িতে বাড়িতে চাল, ডাল, সেমাই, মাংস, দুধ চিনিসহ ঈদ বাজার পৌঁছে দেওয়া হয়। এ বছরও দেওয়া হবে। ছিন্নমূল শিশুদের জন্য ঈদের নতুন পোশাক দেওয়া হয়। এ বছর প্রায় এক হাজার শিশুকে ঈদের নতুন পোশাক দেওয়া হবে। সবার সহযোগিতায় আগামী বছরগুলোতেও এমন আয়োজন করা হবে। এমন কাজে সামর্থ অনুযায়ী সবার সহায়তায় এই মানুষগুলির পাশে দাঁড়াতে আহ্বান জানাই।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ পবিত্র রমজান মাসে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পঁচা খেজুর বিক্রির অপরাধে ৫ জনকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত।
বুধবার(২৮ এপ্রিল) বিকেল ৫ টায় উপজেলার এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে টাঙ্গাইল র্যাব-১২ এর সহযোগীতায় ভ্রাম্যমান আদালতের এ অভিযান পরিচালনা করেন কালিহাতী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. কামরুল হাসান।
এ সময় র্যাব-১২, সিপিসি-৩, টাঙ্গাইল এর ভারপ্রাপ্ত কোম্পানী কমান্ডার সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ এরশাদুর রহমান সহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য উপস্থিত ছিল।
এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. কামরুল হাসান জানান, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ অনুযায়ী মাহে রমজান মাসে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পঁচা খেজুর বিক্রির অপরাধে ভ্রাম্যমান আদালতের এ অভিযান পরিচালনা করে উপজেলার এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডের দোকান ব্যবস্যায়ী সবুজকে ৩০ হাজার, ফয়সালকে ৩০ হাজার, খুশি মোহন দাসকে ৩০ হাজার, সাইফুলকে ২০ হাজার ও দ্বীপকে ৫০ হাজার টাকা সহ মোট ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করে আদায় করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, পবিত্র রমজান মাসে প্রশাসন সার্বক্ষনিকভাবে বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে মনিটরিং করে থাকে। তারই অংশ হিসাবে এই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনা হলো।
একাতর কণ্ঠ ডেস্কঃ বঙ্গবন্ধুসেতু-ঢাকা মহাসড়কে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার করাতিপাড়া বাইপাসে মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) ভোরে অভিযান চালিয়ে ৮টি চোরাই গরু সহ একটি ট্রাক জব্দ করেছে পুলিশ।বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হারুনুর রশিদ এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হারুনুর রশিদ জানান, বঙ্গবন্ধুসেতু-ঢাকা মহাসড়কে মোবাইল ডিউটি করার সময় ঢাকাগামী একটি ট্রাক দেখে ট্রাকটিতে তল্লাসী চালালে তিনটি বাছুরসহ মোট আটটি গরু পা বাধা অবস্থায় রেখে চালক ও জড়িতরা পালিয়ে যায়। গরুগুলো ত্রিপল দিয়ে ঢাকা ছিল।তবে এ ঘটনায় জড়িত কাউকে আটক করা যায়নি।
ধারণা করা হচ্ছে- পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে গরুসহ ট্রাক(ঢাকা মেট্রো-ড-১২-২৮৯৯) পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। পরে গরুসহ ট্রাকটি উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়।
উদ্ধারকৃত গরুগুলো থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। ট্রাক ও গরুর মালিকের এখনও খোঁজ পাওয়া যায়নি বলেও তিনি জানান।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলে বকেয়া সম্মানী ভাতার দাবিতে চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে ধর্মঘট পালন করছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। বুধবার (২৮ এপ্রিল) বেলা ১১টা থেকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা হাসপাতালে অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচি পালন করছেন।এদিকে চিকিৎসকদের এমন ধর্মঘটে হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগীরা চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
আন্দোলনরত চিকিৎসকরা জানান, গত জানুয়ারি মাস থেকে তারা তাদের সম্মানী ভাতা পাচ্ছেন না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানোর পরও এ বিষয়ে তারা কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। তাই বাধ্য হয়ে তারা এ অবস্থান ধর্মঘট পালন করছেন। যতক্ষণ পর্যন্ত সম্মানী ভাতার টাকা পরিশোধ হবে না ততক্ষণ পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. খন্দকার সাদেকুর রহমান বলেন, হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে নতুন যোগদান করেছে তিনি। বিষয়টি জানার পরই আন্দোলনরতদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। হাসপাতালের ফান্ডে টাকা নেই। তিনি আরো জানান, খুব দ্রুতই তারা তাদের প্রাপ্য সম্মানী ভাতা পেয়ে যাবেন।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ সুষ্ঠু পরিকল্পনা, ইচ্ছেশক্তি আর যথাযথ শ্রম দিলে, যে কোন কাজেই যে, প্রতিষ্ঠা লাভ করা সম্ভব-সেটাই প্রমাণ করেছে টাঙ্গাইলের সখীপুরের কচুয়া গ্রামের গৃহবধূ হাসিনা বেগম । স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহযোগিতায় বাণিজ্যিকভাবে ভূট্টা ও সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছেন তিনি । স্বামী আর সন্তানদের সময় দেওয়ার পর অবসরে নিজেদের সীমিত সম্পদের প্রতি ইঞ্চি মাটির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে অধিক ফসল ফলিয়ে একের পর এক সফলতা বয়ে এনেছেন হাসিনা বেগম। তার এ সাফল্যে উৎসাহিত হয়ে আশপাশের গ্রামের চাষীরাও ঝুকছেন ভূট্টা ও সূর্যমুখী ফুল চাষে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রতিটি সূর্যমুখী গাছে মৌচাকের মতো বিশাল একেকটি গোল ফুল হলুদ রঙের নজরকাড়া রূপ ছড়িয়ে দিচ্ছে। সূর্যের মুখোমুখি প্রতিটি ফুল ফলভারে কিছুটা নুয়ে আছে। খেতজুড়ে হলুদ আর সবুজের মাখামাখি। পাশেই ভুট্টাখেত। তাতেও নরম সবুজের প্রতিটি ভুট্টাগাছের মাথায় কাশফুলের মতো ছড়ানো খয়েরি রঙের ফুল। প্রতিটি গাছেই ভুট্টা ধরেছে। ক্রমশ পুরুষ্ট হয়ে উঠছে ভুট্টার দানা। ভুট্টা আর সূর্যমুখীর দুটি খেতই এলাকায় নতুন আলো ছড়াচ্ছে।
চাষী হাসিনা বেগম জানান, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে সূর্যমুখী ও ভুট্টার প্রদর্শনী প্লট নিয়ে এক বিঘা জমিতে সূর্যমুখী ও ৪৫ শতাংশ জমিতে ভুট্টার চাষ করেছি। আমাকে কৃষি অফিস থেকে সার্বক্ষণিক পরামর্শে দিয়েছে। আশার চেয়েও ফলন ভালো হয়েছে ।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো.আব্দুস ছাত্তার বলেন, হাসিনা বেগম কৃষি অফিসের প্রদর্শনী প্লট নিয়ে ভুট্রা ও সূর্যমুখী চাষ করেছে।ফলনও ভালো হয়েছে। অন্য ফসলের চেয়ে ভুট্টা ও সূর্যমুখী ফুল চাষে খরচ কম। এতে সার, ওষুধও কম লাগে। তেমন পরিচর্যা করতে হয় না। উপজেলার অনেক কৃষক এখন ভুট্টা ও সূর্যমুখী ফুল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো.নূরুল ইসলাম বলেন, আমরা চাইছি অনাবাদি জমি আবাদের আওতায় নিয়ে আসতে। গতানুগতিক চাষের বাইরে কম খরচে যাতে বেশি লাভ হয়, সে রকম চাষাবাদে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে সূর্যমুখীর চাহিদা আছে। এখন সাধারণ মিলেও এগুলো প্রক্রিয়াজাত করা যায়। প্রথমে স্থানীয় চাহিদা পূরণ করা হবে। কোলেস্টেরলমুক্ত। অন্য তেলের মতো ক্ষতিকর না। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সূর্যমুখীর তেলের এখন অনেক চাহিদা। এখানেও আস্তে আস্তে চাহিদা তৈরি হবে। সূর্যমুখী ও ভুট্টা বাড়তি হলে বাজার চেইন আমরা সৃষ্টি করে দিব। ফসল বিক্রি করতে তখন অসুবিধা হবে না। কৃষক এক বিঘা জমিতে লক্ষ টাকা আয় করতে পারবে। ধান চাষে এটা পাবে না।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলে মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) গভীর রাতে র্যাবের সহযোগিতায় সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি)ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. খায়রুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন একটি ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে ১১ জন অবৈধ বালু উত্তোলন কারীকে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদন্ড দিয়েছে। টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের এলেংজানী নদীর উত্তর তারটিয়া অংশে ওই ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে অবৈধ বালু উত্তোলনের মূলহোতা উত্তর তারটিয়া গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে মো. উজ্জ্বল মিয়াকে(৪৮) ৩ মাস, একই এলাকার পূর্ব লামছী গ্রামের মো. জামাল উদ্দিনের ছেলে রায়হানকে(২৫) ৭ দিন ও বাকি ৯ জনকে ৫দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
দণ্ডিত অন্যরা হচ্ছেন- উত্তর তারটিয়া গ্রামের মো. হুরমুজ আলীর ছেলে আব্দুর রাজ্জাক(৪০), বররিয়া গ্রামের মৃত খন্দকার রকিবুল হকের ছেলে খন্দকার মাসুম(৪৩), উত্তর তারটিয়ার মো. সামাদ খানের ছেলে মো. নিলয় খান(২২), কালাচাদের ছেলে মো. মঞ্জুর(৩০), মো. তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে আবুল কালাম আজাদ(৩৮), একই এলাকার খাবিদা গ্রামের আ. মজিদ খানের ছেলে মো. রাসেল খান(৪০), গোলড়া গ্রামের মো. সোহেল মিয়ার ছেলে মো. অভি(২০), বররিয়া গ্রামের নারায়নের ছেলে নিরঞ্জন(১৯) এবং কালিহাতী উপজেলার ছাতিহাটী গ্রামের নুরু মিয়ার ছেলে মনির(২০)।
সহকারী কমিশনার(ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. খায়রুল ইসলাম জানান, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও সরবরাহের দায়ে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ এর ৪(খ) ধারায় মূলহোতা মো. উজ্জ্বল মিয়াসহ ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে বালু উত্তোলন ও সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত চারটি ড্রাম ট্রাক ও একটি ভেকু জব্দ করা হয়।
অভিযানকালে র্যাব-১২ সিপিসি-৩ টাঙ্গাইলের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানী কমান্ডার সহকারী পুলিশ সুপার মো. এরশাদুর রহমান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে স্ত্রীর আঘাতে মৃত্যু হয়েছে তার স্বামীর। সোমবার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার ইছাদিঘী গ্রামে এমন ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর আটক করা হয় অভিযুক্ত ওই নারীকে। পরে গ্রেপ্তার দেখানো হয় তাকে।
জানা গেছে, নিহত ওই স্বামীর নাম কিতাব আলী (৪০)। তিনি উপজেলার ইছাদিঘী গ্রামের মৃত কেরামত আলীর ছেলে। নিহত কিতাব আলী ভাঙারির ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন । আর গ্রেপ্তার হওয়া তার স্ত্রীর নাম হামিদা আক্তার (২৫)।
উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার আবুল কালাম আজাদ বলেন, সোমবার বিকেলে তিনটার দিকে কিতাব আলীর সঙ্গে তার স্ত্রী হামিদা আক্তারের ঝগড়া হয়। সে সময় তারা একে অপরকে কামড় দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে স্বামীর স্পর্শকাতর স্থানে কামড় দেন স্ত্রী, তাতেই ঢলে পড়েন স্বামী কিতাব আলী। পরে তাকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করেন কতর্ব্যরত চিকিৎসক।
এ বিষয়ে সখীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এএইচএম লুৎফুল কবির বলেন, নিহত কিতাব আলীর তৃতীয় স্ত্রী হামিদা আক্তারকে আটকের পর গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। নিহত কিতাব আলীর আগের ঘরে মেয়ে বাবলি আক্তার বাদী হয়ে তার সৎ মা হামিদা আক্তারের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃত ওই নারীকে মঙ্গলবার(২৭ এপ্রিল) আদালতে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান পরিদর্শক লুৎফুল কবির।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার কাশিল ইউনিয়নের কাশিল পশ্চিমপাড়া থেকে কনা আক্তার (২৪) নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) সকালে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন বাসাইল থানার অফিসার-ইন -চার্জ(ওসি) হারুনুর রশিদ।
নিহত গৃহবধূর পরিবার জানায়, প্রায় পাঁচ বছর আগে কাশিল পশ্চিমপাড়া এলাকার বাবু মিয়ার দুবাই প্রবাসী ছেলে কবির মিয়ার সঙ্গে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের দরুন গ্রামের জয়নাল মিয়ার মেয়ে কনা আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাকে যৌতুকের জন্য শাশুড়ি ও দুই ননাশের নানা নির্যাতন সহ্য করতে হয়। এরপর তার শাশুড়ি কহিনূর বেগম ও স্বামী কবির মিয়া পুনরায় প্রবাসে পাড়ি জমান।
ফলে ওই গৃহবধূ তার শিশু সন্তানকে নিয়ে বাকপ্রতিবন্ধী শ্বশুরের সঙ্গে বসবাস করছিলেন। এরমধ্যে এক ননাশের স্বামী অন্যত্র বিবাহ করায় ও আরেক ননাশের স্বামী প্রবাসে থাকায় তারা শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়িতেই অবস্থান নেয়। সেই থেকে দুই ননাশই গৃহবধূর উপর নানা ধরনের নির্যাতন চালাতে থাকে।
সর্বশেষ সোমবার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায়ও ওই গৃহবধূ কনাকে তার দুুই ননাশ মিলে মারধর করে। পরে (মঙ্গলবার) সকালে তার বসত ঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত গৃহবধূর মা বলেন, ‘রাতের কোনও এক সময় তারা আমার মেয়েকে হত্যা করে লাশ ঘরের ধন্নার সাথে ঝুঁলিয়ে রেখে আমাদের খবর দেয়। খবর পেয়ে ওই বাড়িতে গিয়ে দেখি ঘরের বাইরে থেকে তালা লাগানো অবস্থায় রয়েছে। আমি আমার মেয়ের হত্যার বিচার চাই।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য আক্কাছ মিয়া বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে জানানো হয়। পরে পুলিশ এসে নিহতের লাশটি ঝুঁলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এটা হত্যা নাকি আত্মহত্যা কিছু বলা যাচ্ছে না।’
বাসাইল থানার অফিসার-ইন -চার্জ ( ওসি )হারুনুর রশিদ বলেন, ‘খবর পেয়ে নিহতের লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। পরে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেয়ে মৃত্যুর রহস্য জানা যাবে। এ ঘটনায় ইউডি মামলার প্রস্তুতি চলছে।’
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় মুরগির ফার্মে কাজ করার সময় সাপের ছোবলে লাভলু খন্দকার (৩০) নামের এক মুরগী ফার্ম মালিকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার(২৬ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার জামাল হাটখুরা পশ্চিম পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত লাভলু ওই এলাকার খন্দকার মোতালেব মিয়ার ছেলে।
এ প্রসঙ্গে লাভলুর চাচাতো ভাই ও ত্রিশাল উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ বলেন, লাভলুর দুই হাজার সেটের একটি লেয়ার মুরগির ফার্ম রয়েছে। সোমবার সকালে ফার্মে লাভলূ মুরগির খাবার দিতে যায়। যাওয়ার পথে হঠাৎ তাকে একটি বিষধর সাপে ছোবল দেয়। ছোবলের সাথে সাথে লাভলুর শরীরের যন্ত্রণা শুরু হয়। প্রথমে তাকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। এখানে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে লাভলুর মৃত্যু হয়।
নিহত লাভলু বিবাহিত ও এক সন্তানের জনক। এ ঘটনায় ওই পরিবারের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
একতার কণ্ঠ ডেস্ক: টাঙ্গাইল সদর উপজেলার হুগড়া ইউনিয়নের কাজীর বাজার এলাকায় যমুনা নদীতে অবৈধ ড্রেজার এর মাধ্যমে বালু উত্তোলনের দায়ে, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ এর ৪(খ) ধারা লংঘন করায়, হুগড়া গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে তোফাজ্জল হোসেনকে ৫০০০০/ ( পঞ্চাশ হাজার) টাকা ও পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে একই এলাকার মোঃ চান মোল্লার ছেলে মাজেদুর রহমানকে ১০০০০/-(দশ হাজার) টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
সোমবার(২৬ এপ্রিল) দুপুরে, টাঙ্গাইল সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি )ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ খায়রুল ইসলামের নেতৃত্বে এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা হয়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ খায়রুল ইসলাম জানান, অবৈধ ড্রেজার এর বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।