একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সন্তোষে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর মাজার প্রাঙ্গনে মৌসুমী ফলের উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুন) বাদ আসর এ মৌসুমী ফলের উৎসবে মওলানা ভাসানীর অনুসারী, ভক্ত ও মুরিদানগণ অংশগ্রহণ করেন।

মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী তাঁর জীবদ্দশায় ভক্ত-মুরিদানদের নিয়ে প্রতি বছরই এ মৌসুমী ফল উৎসবের আয়োজন করতেন বলে জানা যায়।

অনুষ্ঠানে ন্যাপ ভাসানী ও খোদা-ই-খেদমতগারের সভাপতি হাসরত খান ভাসানী, ভাসানী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য-সচিব আজাদ খান ভাসানীসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে কলেজ ছাত্রী সুনিকা খাতুনের হত্যার বিচার চেয়ে মানববন্ধন করেছেন তার সহপাঠীরা।
মঙ্গলবার (৭ জুন ) দুপুরে উপজেলার হেমনগর ডিগ্রী কলেজের সামনে এই মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়।
এতে কলেজের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী, নিহত সুনিকার পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী অংশগ্রহণ করেন।
মনববন্ধনে হেমনগর ডিগ্রী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. নুরুল ইসলাম, প্রভাষক সোহেল রানা, আজমত হোসেন, স্থানীয় ইউপি সদস্য মাহবুব হাসান টুটুল, কলেজ শাখা ছাত্র লীগের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক শাকিল আহমেদ, ইউনিয়ন ছাত্র লীগের সাবেক সম্পাদক সবুজ আহমেদ, সুনিকার বাবা দুলাল হোসেন প্রমুখ বক্তব্য দেন।
বক্তারা সুনিকার হত্যাকারী তার স্বামী সুমনের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি কার্যকরের দাবি জানান।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২০ এপ্রিল হেমনগর ডিগ্রি কলেজর শিক্ষার্থী সুনিকার সঙ্গে সুমনের বিয়ে হয়। সুনিকা সুমনের দ্বিতীয় স্ত্রী হওয়ায় তাদের সংসার প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। গত ২১ মে টাঙ্গাইলের গোপালপুরের নতুন শিমলা পাড়া গ্রামের শ্বশুর বাড়িতে এসে স্ত্রী সুনিকা খাতুনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন তার স্বামী সুমন (৩১)। ঘটনার পর সুনিকার বাবা গোপালপুর থানায় মেয়ের স্বামী সুমনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ে করেন। এরপরই পুলিশ সুমনকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠায়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে সহপাঠী সুমাইয়া হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন টাঙ্গাইলের কালিহাতীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
রোববার (৭ নভেম্বর) দুপুরে শামসুল হক কলেজ মোড় এলাকায় আয়োজিত মানববন্ধনে এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় ছাড়াও শামসুল হক কলেজ, লুৎফর রহমান মতিন কলেজ, এলেঙ্গা বিএম কলেজ, জিতেন্দ্রবালা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আড়াইহাজার শিক্ষক, শিক্ষার্থী অংশ নেন।
এসময় বক্তব্য দেন- এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মোল্লা, সরকারি শামসুল হক কলেজের অধ্যক্ষ আনোয়ারুল কবীর, লুৎফর রহমান মতিন মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম, এলেঙ্গা বিএম কলেজের অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম, এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুল করিম তালুকদার, জিতেন্দ্রবালা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রদান শিক্ষক গোবিন্দ চন্দ্র সাহা ও নিহত সুমাইয়ার চাচা ফিরোজ মিয়া প্রমুখ।

একাধিক ছাত্রী বলেন, এ হত্যাকাণ্ডে যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যারা জড়িত, তাদের চিহ্নিত করতে হবে। এছাড়া তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অপরদিকে নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ, ইভটিজিং মুক্ত শিক্ষাঙ্গন এবং রাস্তাঘাটে মেয়েদের নিরাপত্তার দাবি জানান তারা।
নিহত সুমাইয়ার চাচা ফিরোজ মিয়া জানান, এ হত্যাকাণ্ড একা ঘটানো সম্ভব হয়নি। পুলিশ এ ঘটনায় কয়েকজনকে আটকও করেছিল। আমরা মামলা করার পরও তাদের আদালতে পাঠায়নি। প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তাদেরও বিচার দাবি করছি। আমরা ধারণা করছি এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা জড়িত।
এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সভাপতি আনোয়ার হোসেন মোল্লা জানান, এলেঙ্গা ক্লাব থেকে কিশোর গ্যাংয়ের সৃষ্টি। এ কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা সুমাইয়াকে হত্যা করেছে। কিশোর গ্যাং তৈরিতে যারা অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করেছে তাদেরও বিচার চাই। যে ছুরি দিয়ে সুমাইয়াকে হত্যা করা হয়েছে সেই ছুরি হাতে নিয়ে ৭২ ঘণ্টা আগে কিশোর গ্যাংয়ের প্রধান মনির টিকটক করেছে। ভিডিওটি প্রশাসনের সব গোয়েন্দা সংস্থার হাতে আছে। এছাড়াও ওই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা হয়েছে। এলেঙ্গা শিক্ষা নগরীকে যারা অরক্ষিত বানাতে চায়, সেই হত্যাকারীদের ফাঁসি দাবি করছি। এই ফাঁসির মধ্য দিয়ে এলেঙ্গা আবার শান্তির নগরীতে পরিণত হবে।
এ বিষয়ে কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান জানান, মামলাটি তদন্তাধীন। তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে মনির ছাড়া হত্যাকাণ্ডে কিংবা পরিকল্পনায় আর কেউ জড়িত থাকলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ২৭ অক্টোবর সকালে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গার কলেজ পাড়া এলাকার খোকনের নির্মাণাধীন বাড়ির নীচতলার সিঁড়িকোঠা থেকে সুমাইয়ার মরদেহ ও আহত অবস্থায় মনিরকে উদ্ধার করা হয়। নিহত সুমাইয়া কালিহাতী পালিমা গ্রামের ফেরদৌস আলমের মেয়ে। পরদিন সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় মনিরের মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার ভোরে ফেরদৌস আলম বাদী হয়ে মনিরকে আসামি থানায় মামলা করেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় বুড়িগঙ্গা নদী পানি প্রবাহ বৃদ্ধি প্রকল্পে উত্তোলনকৃত সরকারি বালু রাতের আঁধারে বিক্রি করছে একটি চক্র।
সরকারি বিধি নিষেধ তোয়াক্কা না করে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছাঁয়ায় ওই মহলটি সরকারি বালু বিক্রির এই হরিলুট চালাচ্ছে। প্রশাসনের তৎপরতার কারনে বর্তমানে বালু বিক্রি বন্ধ থাকলেও, চক্রটি আবার বালু বিক্রির জন্য তৎপর হয়ে উঠছে।
জানাগেছে, এলেঙ্গা পৌরসভার কুড়িঘুড়িয়া ও ধলাটেঙ্গর নামকস্থানে স্থানীয় আশরাফ আলী, জহিরুল ইসলাম, আব্দুল বারেক, কালিহাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও দশকিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক ভুইয়ার ছেলে যুবলীগ নেতা রাসেল ভুইয়া, দেলোয়ার হোসেন, অছিমুদ্দিন, ফজল হক, হারুন , জাহাঙ্গীর, সোহেল রানা, রিপন মিয়া, অমিত ও জাকির মিয়া খননকৃত বালু রাতের আঁধারে ট্রাক দিয়ে দেদারছে বিক্রি করছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখাযায়, উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভার কুড়িঘুড়িয়া ও দশকিয়া ইউনিয়নের ধলাটেঙ্গর নামকস্থানে নিউ ধলেশ্বরী নদীর পাশে খননকৃত সরকারি বালু রশিদের মাধ্যমে বিক্রি করছে। মাঝে মধ্যে প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করলে কিছুদিন বন্ধ রাখার পর আবার তৎপর হয়ে উঠে প্রভাবশালী এই চক্রটি। কোন ভাবেই সরকারি এই বালু বিক্রি বন্ধ করা যাচ্ছে না। ফলে সরকার বিপুল পরিমান আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, রাতের আঁধারে বালু বিক্রি করলে প্রশাসনের চোখকে অতি সহজেই ফাঁকি দেওয়া যায়। তাই রাতের আঁধারে ড্রাম ট্রাকের মাধ্যমে সরকারি উত্তোলনকৃত বালু বিক্রি করছে একটি চিহ্নিত চক্র। চক্রটি প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেনা।সারারাত বালু ভর্তি ট্রাক চলাচলের কারনে স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘুমসহ জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। তারা দ্রুত এ অবৈধ বালু বিক্রি বন্ধের দাবি জানান।

এই অবৈধ বালু বিক্রি চক্রের হোতা আশরাফ আলীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রশাসনের কড়া নজরদারীর কারনে দুদিন ধরে অবৈধ বালু বিক্রি বন্ধ আছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার বালু বিক্রি শুরু হবে।
এ বিষয়ে কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার( ইউএনও) নাজমুল হোসাইন জানান, অবৈধভাবে সরকারি উত্তোলনকৃত বালু বিক্রি চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত আছে। ধলাটেঙ্গর ও কুড়িঘুড়িয়া নামকস্থানে যদি অবৈধভাবে বালু বিক্রি করা হয়ে থাকে, দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত। সরকারি উত্তোলনকৃত বালু রাতের আঁধারে বিক্রিকারীদের নাম উল্লেখ করে ইতোমধ্যে কালিহাতী উপজেলা প্রশাসনকে মামলা করতে বলা হয়েছে। আশাকরি, উপজেলা প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুরে সাবেক পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী, বিএনপি কেন্দ্রীয় পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট গৌতম চক্রবর্তী’র আদ্য শ্রাদ্ধানুষ্ঠান সোমবার (৬ জুন) অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ অনুষ্ঠান নাগরপুর উপজেলা সদর চৌধুরী বাড়ি এলাকায় অবস্থিত প্রয়াতের নিজ বাড়িতে নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আয়োজন করা হয়েছে। এসময় প্রয়াতের স্ত্রী, পুত্র, কন্যা ও আত্মীয়-স্বজন সহ শুভানূধ্যায়ীরা উপস্থিত থেকে পরলোকের আত্মার শান্তি কামনা করেন।
বিএনপি কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, নির্বাহী কমিটি সদস্য অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী এবং আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক উপ-কমিটি সদস্য তারেক শামস খান হিমু শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে প্রয়াত এই কেন্দ্রীয় নেতার মৃত্যুতে গভীর শোক ও আত্মার শান্তি কামনা করেছেন।
এছাড়াও সাবেক মন্ত্রী নূর মোহাম্মদ খান, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি আহ্বায়ক আহমেদ আযম খান, সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, যুগ্ম আহ্বায়ক এড. ফরহাদ ইকবাল, সদস্য আলী ইমাম তপন, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রবিউল আওয়াল লাভলু, নাগরপুর উপজেলা বিএনপি সদস্য সচিব হাবিবুর রহমান হবি, সদস্য শরিফ উদ্দিন আরজু, সহবতপুর ইউপি চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ মোল্লা সহ জেলা-উপজেলা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা তার আত্মার শান্তি কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, এড. গৌতম চক্রবর্তী গত ২৭ মে দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে শেষ নিঃস্বাস ত্যাগ করেন। গৌতম চক্রবর্তী ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১, ২০০৬ মেয়াদ কালে তিনি পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও ২০০৮ ও ২০১৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৬ সংসদীয় আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৬৮ বছর। দীর্ঘ সংসার জীবনে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়ে সন্তান সহ অসংখ্য রাজনৈতিক সহকর্মী, আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
একতার কণ্ঠঃ কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, করোনা, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক বাজারে দামবৃদ্ধিসহ নানা কারণে চালের দাম কিছুটা বেড়েছে।
শীঘ্রই চালের বাজার স্বাভাবিক হয়ে আসবে। এ বছরও পর্যাপ্ত চাল উৎপাদন হয়েছে। দেশে খাদ্য নিয়ে কোনো হাহাকার হবে না, খাদ্যের কোনো সংকট থাকবে না।
সোমবার (৬ জুন) দুপুরে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলের গণ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে কৃষিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, আজকের আওয়ামী লীগ যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক সুসংহত, শক্তিশালী ও সচেতন। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সক্ষম। দলের এই অবস্থাকে ধরে রাখতে হবে। সেজন্য যারা বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত ও শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দলের সুনাম ক্ষুণ্ন করছে, তাদেরকে দলের নেতৃত্বে আনা যাবে না। দলের বিপদে-আপদে সব আন্দোলন-সংগ্রামে যারা সামনে থাকবে তাদেরকে নেতা নির্বাচন করতে হবে, দলে জায়গা দিতে হবে।
তিনি বলেন, গত ১৪ বছরে আজকের দিন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের আমলে একজন মানুষও না খেয়ে মারা যায়নি। কোনো মানুষ না খেয়ে থাকার কষ্ট করেনি। আমাদের যে সম্পদ রয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রার যে রিজার্ভ রয়েছে, তাতে যেকোনো পরিস্থিতি আমরা মোকাবিলা করতে পারব।
উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম ওরফে লেবুর সভাপতিত্বে সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, শিক্ষা ও মানবসম্পদ সম্পাদক শামসুন নাহার চাঁপা, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রিয়াজুল কবীর কাওছার, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা জোয়াহেরুল ইসলাম (ভিপি জোয়াহের) এমপি প্রমুখ।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে সূত্রহীন (ক্লু-লেস) ২য় শ্রেনির ছাত্রী তিশা (৯) কে গনধর্ষণসহ হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করার দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) টাঙ্গাইল। গনধর্ষণ ও হত্যাকান্ডে জড়িত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার(৬ জুন) সকালে এ তথ্য প্রকাশ করে পিবিআই।
পিবিআই জানিয়েছে, শিশু তিশার প্রতি বিকৃত যৌন লালসা গ্রেফতারকৃত আসামিরা মনে পোষণ করে। সেই জেরে তিশাকে গনর্ধষণ ও হত্যা করার জন্য ওড়না দিয়ে সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে পালিয়ে যায় আসামীরা।
গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা হলো- টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার ভাটপাড়া এলাকার স্বপন মন্ডলের ছেলে গোবিন্দ মন্ডল (১৯), একই এলাকার আনন্দ মন্ডলের ছেলে চঞ্চল চন্দ্র মন্ডল (১৭) ও লালিত সরকারের ছেলে বিজয় সরকার (১৬)। আসামীরা শিশু তিশাকে গনর্ধষণ ও হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা পিবিআই এর কাছে স্বীকার করেছে।
টাঙ্গাইল পিবিআই এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সিরাজ আমীন সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানায়, গত ২৬ মে সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার বন্দে ভাটপাড়া গ্রামের মো: আবু ভূইয়ার কন্যা শহীদ ক্যাডেট একাডেমির ২য় শেনির ছাত্রী তিশা আক্তার (৯) কে বসত ঘরের উত্তর পাশের রুমে ফ্যানের সাথে গলায় ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগানো অবস্থায় পাওয়া যায়।
ওই সংবাদের ভিত্তিতে পিবিআই এর একটি চৌকস ক্রাইমসিন টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সংগ্রহ করে। পরে পিবিআই টিম জানতে পারে ঘটনার দিন সকালে মো: আবু ভূইয়ার স্ত্রী সম্পা বেগম তার ছেলে ৫ম শ্রেনির ছাত্র মো: শুভ ভূইয়া (১২) ও ২য় শ্রেনির ছাত্রী মেয়ে তিশা আক্তারকে (৯) স্থানীয় শহীধ ক্যাডেট একাডেমিতে নিয়ে যায়।
দুপুরে স্কুল ও কোচিং শেষ হলে তিশা বাড়িতে চলে আসে। ছেলে শুভ সময় মত বাড়িতে না আসায় তার মা তাকে খুঁজতে বের হয়। এসময় তিশা বাড়িতে একাই ছিলো। পরে শুভকে এলাকার ফজলুর দোকানে বসে থাকতে দেখে। এসময় শুভকে জুস কিনে দেয় এবং পাশের অমত মেম্বারের দোকান হতে বিস্কুট কিনেন ও দোকানদারের সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন।
এতে প্রায় ঘন্টাখানিক সময় দেরি হয় তাদের বাড়িতে ফিরতে। বাড়িতে ফিরে মা ও ভাই দেখতে পায় বসত ঘরের উত্তর পাশের রুমে তিশা খাটের উপর ফ্যানের সাথে গলায় ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলে আছে। এসময় মা ও ভাই তিশাকে বাঁচানোর জন্য ফাঁসের ওড়না খুলে দেয়ে। পরে তাদের ডাক চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসে এবং তিশাকে অচেতন অবস্থায় প্রথমে বাসাইল উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়।
এসময় দায়িত্বরত চিকিৎসকরা তিশাকে টাঙ্গাইল ২৫০ শয্যা হাসপাতালে রেফার্ড করে। কিন্তু তিশার অবস্থা ভালো না থাকায় টাঙ্গাইল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন চিকিৎসকরা। মেয়ের মা সম্পা বেগম মেয়েকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হলে পথিমধ্যে এ্যাম্বুলেন্সটি নষ্ট হয়। এতে শিশু তিশার অবস্থা আরো থারাপ হতে থাকে। ফলে মেয়েকে সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৮ মে বিকেলে শিশু তিশা মারা যায়। বাসাইল থানা পুলিশ তিশার লাশের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত ও ময়না তদন্ত শেষে ২৯ মে তার পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেয়। এ ঘটনায় পিবিআই টাঙ্গাইল তাদের ছায়া তদন্ত অব্যাহত রাখে। এ ঘটনায় ২৯ মে বাসাইল থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়।
পরবর্তীতে ৪ জুন তিশার ময়না তদন্ত রির্পোটে গনধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়। ওইদিনই তিশার বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে বাসাইল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা নেওয়া হয়। পরে পিবিআই টাঙ্গাইল গনধর্ষণ ও হত্যা মামলাটি নিজ উদ্যোগে তথ্য প্রযুক্তি, ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা ও বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (নি:) খন্দকার আশরাফুল কবিরের নেতৃত্বে একটি চৌখস দল অভিযান পরিচালনা করে ঘটনার সাথে জড়িত তিন আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়। আসামী গোবিন্দ মন্ডল পেশায় একজন পিকআট ড্রাইভার, বিজয় সরকার তার সহযোগী ও চঞ্চল একজন অটো মেকানিক। এদের মধ্যে একজনকে বাসাইল পৌরসভার কাঁচাবাজার এলাকায় ও অপর দুই আসামীকে তাদের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামীরা এ ঘটনার সাথে জড়িত হওয়ার কথা স্বীকার করে এবং তারা জানায়, তিশা বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ও পুজায় চমৎকার নাচ করতো। তার নাচের প্রতিভায় সবাই মুগ্ধ ছিল।
পাশাপাশি বাড়ি হওয়ায় আসামিরা সকল অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতো। তখন থেকে আসামিরা শিশু তিশার প্রতি বিকৃত লালসা তাদের মনে মনে পোষণ করে এবং বিভিন্ন ভাবে তিশাকে উতক্ত্য করতো। পরে তারা তিশার মায়ের গতিবিধি অনুসরণ করতে থাকে। একদিন আসামিরা জানতে পারে তিশার মা তিশাকে বাড়িতে একা রেখে ছেলেকে আনতে যায়। এই সুযোগে ঘটনার দিন বাড়িতে কেউ না থাকায় তিশার রুমে প্রবেশ করে তার হাত, মুখ, পা চেপে ধরে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ধর্ষনের ফলে তিশা জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। তখন আসামিরা ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য তিশার গলায় তার মায়ের ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে ঘরের সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। পুলিশ সুপার আরো জানায়, এ বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
নিহত শিশু তিশার বড় ভাই শিশু শুভ কান্না জড়িত কন্ঠে ছোট্ট বোনটির হত্যাকারীদের বিচার দাবী করে বলে, আমি সব সময় বাড়িতে আমার ছোট বোনকে খুঁজে বেড়াই। কিন্তু ওকে কোথাও পাই না। তখন আমার অনেক কষ্ঠ লাগে। আমার বোনকে যারা হত্যা করেছে তাদের ফাঁসি চাই।
শিশু তিশার মা সম্পা বেগম বলেন, আমার ওই ছোট্ট মেযেটিকে কখনো ফুলের টোকাও দেয়নি। ওরা আমার অবুঝ মেয়েকে যে অমানবিক নির্যাতন করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করেছে তাদের একই রকমভাবে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হোক। আমি এর বিচার চাই।
শিশু তিশার বাবা মো: আবু ভূইয়া বলেন, যারা আমার মেয়ের সাথে এ ধরনে কাজ করেছে তাদের কঠিন শাস্তি চাই। বিচার বিভাগের মাধ্যমে এমন একটি শাস্তি চাই যা দেখে আর কেউ যেন এমন করার সাহস না পায়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে সাপের দংশনে হায়দার আলী মণ্ডল (৬৫) নামের এক সাপুড়ের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার ( ৪ জুন) বিকালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতিকালে তার মৃত্যু হয়। নিহতের জামাতা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত হাফিজুল ইসলাম বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
নিহত হায়দার আলী মণ্ডল মধুপুর উপজেলার ফুলবাগচালা ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুর গ্রামের মৃত তহর মণ্ডলের ছেলে। ছোটবেলা থেকে সাপ ধরা, সাপ নিয়ে খেলা ছিল তার প্রধান শখ। খবর শুনলেই ছুটে যেতেন সাপ ধরতে।
পারিবারিক সূত্র জানায়, শোলাকুড়ি দীঘির পশ্চিমপাড়ের ভাসানী মোড় এলাকা থেকে ধরা বিষধর সাপ শনিবার সকালে হায়দার আলী মণ্ডলকে দংশন করে। এতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে টোটকা চিকিৎসা দেওয়া হয়। এতে কালক্ষেপণে আরও খারাপ অবস্থার দিকে আগাতে থাকে। বিকালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতিকালে হায়দার আলীর মৃত্যু হয়।
স্বাস্থ্য বিভাগের সাবেক উপ-পরিচালক ডা. শামসুল হক জানান, প্রতিটি হাসপাতালেই এখন এন্টিভেনম (সেরাম) থাকার কথা। অবৈজ্ঞানিক টোটকা চিকিৎসা আর অবহেলায় বিলম্ব না করে হাসপাতালে নিয়ে আসলেই এ পরিণতি নাও হতে
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে চারা গাছ বিতরণ ও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন করা হয়েছে। টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে রবিবার(৫ জুন) সকালে শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে বেলুন উড়ানোর মধ্য দিয়ে দিবসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের গুরত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা শিল্পকলা একাডেমীতে গিয়ে শেষ হয়।
এরপর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক। টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনি’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, পৌরসভার মেয়র এস.এম. সিরাজুল হক আলমগীর, পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জমির উদ্দিন, টাঙ্গাইলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাজ্জাদুজ্জামান, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনসারী ও টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি বেলার বিভাগীয় কর্মকর্তা গৌতম চন্দ্র চন্দ, পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক তুহিন আলম, তাপস চন্দ্র পাল ও পরিদর্শক বিপ্লব কুমার সূত্রধর।
অনুষ্ঠানে সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে জোরপূর্বক স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে দুই সন্তানের জনক সোহেল খানের (৩০) বিরুদ্ধে।শনিবার (০৪ জুন) সন্ধ্যায় ওই ছাত্রীসহ তার বাবা সোহেল খানের বিরুদ্ধে ভূঞাপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ধর্ষণের শিকার ওই স্কুল ছাত্রী বর্তমানে ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। ধর্ষিতা স্থানীয় একটি স্কুলের অস্টম শ্রেণীর ছাত্রী। অভিযুক্ত সোহেল উপজেলার ফলদা ইউনিয়নের মাদারিয়া গ্রামের গোলাপ খানের ছেলে।
ধর্ষণের ওই ঘটনায় স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধির বাড়িতে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে সেখানে কোন সমাধান না হওয়ায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন দরিদ্র ধর্ষিতার পরিবার।
ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রী জানায়, প্রতিবেশি দুই সন্তানের জনক সোহেল স্কুলে যাওয়া-আসার সময় নানাভাবে উত্ত্যক্ত আর কু-প্রস্তাব দিত। একদিন সন্ধ্যার দিকে বাড়ির পাশে এক দোকানে জিনিস (পন্য) কিনে ফেরার পথে একা পেয়ে সোহেল রাস্তা থেকে পাশের এক বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করেন। ধর্ষণের চিত্র ভিডিও করেন। এরপর ধর্ষণের বিষয়টি কাউকে জানালে ধর্ষণের ওই ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় হুমকি দেন। এরপর বিয়ের কথা বলে মাঝে মধ্যেই ধর্ষণ করতো। তার ধর্ষণের ফলে আমি এখন অন্তঃসত্ত্বা। এখন বিয়ের কথা বললেই তিনি আমাকে মারধর করেন। এছাড়াও গর্ভের সন্তান ফেলে না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়। তারা এলাকায় প্রভাবশালী।
স্কুল ছাত্রীর বাবা জানান, দিনমজুরের কাজ করে সংসার চলে। ঠিকমতো বাড়িতেও থাকা হয় না জীবিকার তাগিদে। মেয়ের মা কানে কম শুনে। সোহেল বাড়িতে বিভিন্ন সময় আসা-যাওয়া করতো। এনিয়ে তাকে বহুবার নিষেধ করেছি। কিন্তু সে মানেনি। পরে জানতে পারি আমার মেয়ের সাথে তার শারীরিক সর্ম্পকের কথা। এনিয়ে তার পরিবারকে জানালে উল্টো আমার মেয়েকে সোহেল মারধর করতো। এছাড়া সোহেল প্রভাবশালী হওয়ায় হুমকি দিয়ে আসছে নানাভাবে। যার কারণে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
অভিযুক্ত সোহেল খানের মুঠোফোনটি বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
উপজেলার ফলদায় ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম তালুকদার দুদু জানান, মেয়ের অভিযোগে সম্প্রতি ভূঞাপুর পৌরসভার কাউন্সিলর আল-আমিন, উপজেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধার ডেপুটি কমান্ডার আব্দুল জলিল খান, সাবেক ইউনিয়ন কমান্ডার আবুল কাশেম আজাদ, ইউপি সদস্য খাইয়ুল ইসলামসহ এলাকার মাতাব্বরদের নিয়ে গ্রাম্য সালিশে বৈঠক হয়। পরে সালিশে সোহেল ধর্ষণ ও বিয়ের প্রলোভনের কথা অস্বীকার করায় আমরা ভুক্তভোগী পরিবারকে আইনের আশ্রয় নেয়ার পরামর্শ দেই।
এ বিষয়ে ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম জানান, শনিবার (০৪ জুন) সন্ধ্যায় ওই ছাত্রীসহ তার বাবা থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। আসামী গ্রেফতার চেষ্টাও শুরু করেছে পুলিশ।
একতার কণ্ঠ: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে টাঙ্গাইলে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
শনিবার (৪ জুন) সকালে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে কয়েক হাজার নেতাকর্মী শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে হাজির হয়। সেখানে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক, একুশে পদক প্রাপ্ত ফজলুর রহমান খান ফারুকের সভাপতিত্বে বক্তৃতা করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও টাঙ্গাইল-৮ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের, টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য মো. ছানোয়ার হোসেন, টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির, টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর প্রমুখ।
পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের বিভিন্ন সড়ক পদক্ষিণ শেষে আবার শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে এসে শেষ হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আম পাড়া নিয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মারামারির ঘটনা ঘটেছে।
গত বুধবার (০১ জুন) ক্যাম্পাসে আম পাড়া নিয়ে একজন আরেকজনকে চড় মারলে তা ঘটনার শুরু হয়।
জানা যায়, গত বুধবার আম পাড়া নিয়ে বাগবিতন্ডার জেরে মানিক শীলের এক কর্মী চড় মারে নিবিড় পালের অনুসারী এক শিক্ষার্থীকে।
পরে সেই দিনই নিবিড় পালের অনুসারীরা এক হয়ে মানিক শীলের রাজনীতিতে জড়িত ঐ শিক্ষার্থীকে মারধর করে।
শুক্রবার (০৩ জুন) মানিক শীলের অনুসারীরা নিবিড় পালের অনুসারী এক শিক্ষার্থীকে বঙ্গবন্ধু ও মান্নান হলের মাঝে পেয়ে মারধর করে।
পরে নিবিড় পালের গ্রুপ এক হয়ে ধাওয়া দিলে তাদের একজন মেয়ে শিক্ষার্থীদের আলেমা খাতুন ভাসানী হলে আশ্রয় নেয়।
এরপর মানিক শীল গ্রুপের ঐ শিক্ষার্থীদের সন্ধানে পাল্টা হামলা করতে বিজয় অঙ্গনে অবস্থান নেয় নিবিড় পালের প্রায় শ’খানেক কর্মী।
সেখানে শিক্ষকবৃন্দ তাদের নানাভাবে বোঝানোর চেষ্টা করে।ঐ সময় মানিক শীলের দুই-তিন জন অনুসারীকে একা পেয়ে শিক্ষকদের সামনেই তাদের মারধর শুরু করে নিবিড় পালের অনুসারীরা।
প্রক্টর ক্যাম্পাসে না আশা পর্যন্ত শিক্ষকবৃন্দ নিবিড় পালের অনুসারীদের শান্ত থাকার অনুরোধ জানালে তারা হলে গিয়ে অবস্থান নেয়।
ক্যাম্পাসে এখন থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সামনে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
এই বিষয়ে জানতে ছাত্রলীগের একগ্রুপের নেতৃত্বে থাকা মানিক শীল জানান, খুব ছোট বিষয় নিয়ে জুনিয়রদের মধ্যে একটা ঘটনা ঘটেছে, প্রক্টর স্যারকে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে ছাত্রলীগে অপর গ্রুপের নেতৃত্বে থাকা নিবিড় পালের মুঠোফোনে কয়েকবার কল করলেও তিনি কলটি রিসিভ করেন নি।
এবিষয়ে প্রফেসর ড. মীর মো. মোজাম্মেল হক জানান, বিষয়টি জেনে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
এসময় তিনি আরো জানান, এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ শান্ত আছে, আমরা উভয় পক্ষের সাথে কথা বলে বিষয়টি মিমাংসার চেষ্টা করছি।