একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে চারা গাছ বিতরণ ও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন করা হয়েছে। টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে রবিবার(৫ জুন) সকালে শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে বেলুন উড়ানোর মধ্য দিয়ে দিবসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের গুরত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা শিল্পকলা একাডেমীতে গিয়ে শেষ হয়।
এরপর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক। টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনি’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, পৌরসভার মেয়র এস.এম. সিরাজুল হক আলমগীর, পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জমির উদ্দিন, টাঙ্গাইলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাজ্জাদুজ্জামান, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনসারী ও টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি বেলার বিভাগীয় কর্মকর্তা গৌতম চন্দ্র চন্দ, পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক তুহিন আলম, তাপস চন্দ্র পাল ও পরিদর্শক বিপ্লব কুমার সূত্রধর।
অনুষ্ঠানে সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে জোরপূর্বক স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে দুই সন্তানের জনক সোহেল খানের (৩০) বিরুদ্ধে।শনিবার (০৪ জুন) সন্ধ্যায় ওই ছাত্রীসহ তার বাবা সোহেল খানের বিরুদ্ধে ভূঞাপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ধর্ষণের শিকার ওই স্কুল ছাত্রী বর্তমানে ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। ধর্ষিতা স্থানীয় একটি স্কুলের অস্টম শ্রেণীর ছাত্রী। অভিযুক্ত সোহেল উপজেলার ফলদা ইউনিয়নের মাদারিয়া গ্রামের গোলাপ খানের ছেলে।
ধর্ষণের ওই ঘটনায় স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধির বাড়িতে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে সেখানে কোন সমাধান না হওয়ায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন দরিদ্র ধর্ষিতার পরিবার।
ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রী জানায়, প্রতিবেশি দুই সন্তানের জনক সোহেল স্কুলে যাওয়া-আসার সময় নানাভাবে উত্ত্যক্ত আর কু-প্রস্তাব দিত। একদিন সন্ধ্যার দিকে বাড়ির পাশে এক দোকানে জিনিস (পন্য) কিনে ফেরার পথে একা পেয়ে সোহেল রাস্তা থেকে পাশের এক বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করেন। ধর্ষণের চিত্র ভিডিও করেন। এরপর ধর্ষণের বিষয়টি কাউকে জানালে ধর্ষণের ওই ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় হুমকি দেন। এরপর বিয়ের কথা বলে মাঝে মধ্যেই ধর্ষণ করতো। তার ধর্ষণের ফলে আমি এখন অন্তঃসত্ত্বা। এখন বিয়ের কথা বললেই তিনি আমাকে মারধর করেন। এছাড়াও গর্ভের সন্তান ফেলে না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়। তারা এলাকায় প্রভাবশালী।
স্কুল ছাত্রীর বাবা জানান, দিনমজুরের কাজ করে সংসার চলে। ঠিকমতো বাড়িতেও থাকা হয় না জীবিকার তাগিদে। মেয়ের মা কানে কম শুনে। সোহেল বাড়িতে বিভিন্ন সময় আসা-যাওয়া করতো। এনিয়ে তাকে বহুবার নিষেধ করেছি। কিন্তু সে মানেনি। পরে জানতে পারি আমার মেয়ের সাথে তার শারীরিক সর্ম্পকের কথা। এনিয়ে তার পরিবারকে জানালে উল্টো আমার মেয়েকে সোহেল মারধর করতো। এছাড়া সোহেল প্রভাবশালী হওয়ায় হুমকি দিয়ে আসছে নানাভাবে। যার কারণে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
অভিযুক্ত সোহেল খানের মুঠোফোনটি বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
উপজেলার ফলদায় ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম তালুকদার দুদু জানান, মেয়ের অভিযোগে সম্প্রতি ভূঞাপুর পৌরসভার কাউন্সিলর আল-আমিন, উপজেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধার ডেপুটি কমান্ডার আব্দুল জলিল খান, সাবেক ইউনিয়ন কমান্ডার আবুল কাশেম আজাদ, ইউপি সদস্য খাইয়ুল ইসলামসহ এলাকার মাতাব্বরদের নিয়ে গ্রাম্য সালিশে বৈঠক হয়। পরে সালিশে সোহেল ধর্ষণ ও বিয়ের প্রলোভনের কথা অস্বীকার করায় আমরা ভুক্তভোগী পরিবারকে আইনের আশ্রয় নেয়ার পরামর্শ দেই।
এ বিষয়ে ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম জানান, শনিবার (০৪ জুন) সন্ধ্যায় ওই ছাত্রীসহ তার বাবা থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। আসামী গ্রেফতার চেষ্টাও শুরু করেছে পুলিশ।
একতার কণ্ঠ: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে টাঙ্গাইলে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
শনিবার (৪ জুন) সকালে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে কয়েক হাজার নেতাকর্মী শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে হাজির হয়। সেখানে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক, একুশে পদক প্রাপ্ত ফজলুর রহমান খান ফারুকের সভাপতিত্বে বক্তৃতা করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও টাঙ্গাইল-৮ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের, টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য মো. ছানোয়ার হোসেন, টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির, টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর প্রমুখ।
পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের বিভিন্ন সড়ক পদক্ষিণ শেষে আবার শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে এসে শেষ হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আম পাড়া নিয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মারামারির ঘটনা ঘটেছে।
গত বুধবার (০১ জুন) ক্যাম্পাসে আম পাড়া নিয়ে একজন আরেকজনকে চড় মারলে তা ঘটনার শুরু হয়।
জানা যায়, গত বুধবার আম পাড়া নিয়ে বাগবিতন্ডার জেরে মানিক শীলের এক কর্মী চড় মারে নিবিড় পালের অনুসারী এক শিক্ষার্থীকে।
পরে সেই দিনই নিবিড় পালের অনুসারীরা এক হয়ে মানিক শীলের রাজনীতিতে জড়িত ঐ শিক্ষার্থীকে মারধর করে।
শুক্রবার (০৩ জুন) মানিক শীলের অনুসারীরা নিবিড় পালের অনুসারী এক শিক্ষার্থীকে বঙ্গবন্ধু ও মান্নান হলের মাঝে পেয়ে মারধর করে।
পরে নিবিড় পালের গ্রুপ এক হয়ে ধাওয়া দিলে তাদের একজন মেয়ে শিক্ষার্থীদের আলেমা খাতুন ভাসানী হলে আশ্রয় নেয়।
এরপর মানিক শীল গ্রুপের ঐ শিক্ষার্থীদের সন্ধানে পাল্টা হামলা করতে বিজয় অঙ্গনে অবস্থান নেয় নিবিড় পালের প্রায় শ’খানেক কর্মী।
সেখানে শিক্ষকবৃন্দ তাদের নানাভাবে বোঝানোর চেষ্টা করে।ঐ সময় মানিক শীলের দুই-তিন জন অনুসারীকে একা পেয়ে শিক্ষকদের সামনেই তাদের মারধর শুরু করে নিবিড় পালের অনুসারীরা।
প্রক্টর ক্যাম্পাসে না আশা পর্যন্ত শিক্ষকবৃন্দ নিবিড় পালের অনুসারীদের শান্ত থাকার অনুরোধ জানালে তারা হলে গিয়ে অবস্থান নেয়।
ক্যাম্পাসে এখন থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সামনে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
এই বিষয়ে জানতে ছাত্রলীগের একগ্রুপের নেতৃত্বে থাকা মানিক শীল জানান, খুব ছোট বিষয় নিয়ে জুনিয়রদের মধ্যে একটা ঘটনা ঘটেছে, প্রক্টর স্যারকে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে ছাত্রলীগে অপর গ্রুপের নেতৃত্বে থাকা নিবিড় পালের মুঠোফোনে কয়েকবার কল করলেও তিনি কলটি রিসিভ করেন নি।
এবিষয়ে প্রফেসর ড. মীর মো. মোজাম্মেল হক জানান, বিষয়টি জেনে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
এসময় তিনি আরো জানান, এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ শান্ত আছে, আমরা উভয় পক্ষের সাথে কথা বলে বিষয়টি মিমাংসার চেষ্টা করছি।
একতার কণ্ঠঃ ঢাকার রমনা এলাকায় আবু হাসান মুহম্মদ তারিক নামে পুলিশের এক অতিরিক্ত আইজিপির বাসা থেকে গৃহকর্মীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ওই গৃহকর্মীর নাম মৌসুমী আক্তার (১৪)। তার বাড়ি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার বাইচাইল গ্রামে। ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ আজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মৌসুমির বাবার নাম মুক্তার। যিনি ১০ বছর আগে মারা গেছেন। তার মায়ের নাম ফরিদা। তার মা বাইচাইল গ্রামে একটি জীর্ণশীর্ণ ঘরে কোনরকমে বসবাস করেন। ২০১৯ সাল থেকে মৌসুমি ওই বাসায় কাজ করে আসছিল। ঘটনার সময় বাসায় মৌসুমি ছাড়া আর কেউ ছিল না।
জানা যায়, বুধবার (১ জুন) বিকেলে রমনা অফিসার্স কোয়ার্টারের বাসা থেকে দরজা ভেঙে গৃহকর্মী মৌসুমির লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ওই গৃহকর্মী আত্মহত্যা করেছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদনে ‘আত্মহত্যা’ উল্লেখ করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ তার গ্রামের বাড়ি ঘাটাইলের বাইচাইল গ্রামে নিয়ে আসা হয়েছে। বাড়ীতে লাশ পৌছার পর সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যর অবতারণা হয়।
রমনা থানা পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে বলা হয়, মরদেহের গলার মাঝখানে রশি পেছানোর দাগ পাওয়া গেছে। এছাড়া মরদেহের হাত ও শরীরের দুই পাশ স্বাভাবিক অবস্থায় ছিল। তবে দুই হাতের মুষ্টিবদ্ধ অবস্থায় ছিল। মরদেহে আর কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মৌসুমি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার (২ জুন) মৌসুমির মরদেহের ময়নাতদন্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে সম্পন্ন হয়েছে। মৌসুমির বাড়ি থেকে তার নানী এবং বড় বোন ঢাকায় গিয়ে লাশ শনাক্ত করেছে বলে পরিবার সুত্রে জানা গেছে।

ঘাটাইলে সরেজমিনে মৌসুমির বাড়ীতে গিয়ে দেখা যায় সেখানে চলছে শোকের মাতম। তার মা বারেবার মূর্ছা যাচ্ছেন। সেখানে পুলিশ সদস্যরা রয়েছেন।
এ বিষয়ে রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, মৌসুমির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশ সদর দপ্তরের এক পুলিশ সদস্য আমাদের থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেছেন। মামলাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। বুধবার (১ জুন) বিকেল ৫টার দিকে রমনায় অবস্থিত অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক আবু হাসান মোহাম্মাদ (অতিরিক্ত আইজিপি) তারিকের বাসায় যান নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্য। এসময় বাসার দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। অনেকক্ষণ ডাকাডাকির পর দরজা না খোলায় ওই পুলিশ সদস্য রমনা থানায় বিষয়টি জানান। পরে রমনা থানা পুলিশ খবর পেয়ে বাসার দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে বাসার বারান্দা থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় মৌসুমি আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে।
রমনা থানা পুলিশ জানায়, ঘটনার সময় অতিরিক্ত আইজিপির বাসায় মৌসুমি ছাড়া আর কেউ ছিল না। তার স্ত্রী-সন্তানরা তখন বাসার বাইরে ছিলেন। অতিরিক্ত আইজিপি আবু হাসান মোহাম্মাদ তারিক বর্তমানে রাজশাহীর সারদায় পুলিশ ট্রেনিং কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত।
মৌসুমির মৃত্যু নিয়ে পুলিশ প্রাথমিকভাবে কী মনে করছে জানতে চাইলে ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) আজহারুল ইসলাম জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ছাড়া এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলা যাবে না। তবে মরদেহের সুরতহাল আত্মহত্যার দিকে ইঙ্গিত দিচ্ছে। আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, এটি আত্মহত্যার ঘটনা হয়ে থাকতে পারে। তবে সে যদি আত্মহত্যা করে থাকে, তাহলে কী কারণে করেছে আমরা তা জানার চেষ্টা করছি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ১২ লাখ ৮০ হাজার টাকার হেরোইনসহ দুই মাদক ব্যবসায়িকে আটক করেছে র্যাব।
বৃহস্পতিবার (২ জুন) ভোরে সদর উপজেলার রাবনা বাইপাস এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণের হেরোইনসহ ওই দুই মাদক ব্যবসায়িকে আটক করা হয়।
অভিযানে আটককৃতরা হলেন-রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার চর কানাপাড়া গ্রামের মো. আহাদুল এর ছেলে মো. জাহাঙ্গীর (৩০) ও মৃত আব্দুস সামাদ এর স্ত্রী মোছাঃ বেগম (৪৫)।
উদ্ধারকৃত হেরোইনের পরিমাণ ১২৭ গ্রাম। যার আনুমানিক মূল্য ১২ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রেসবিজ্ঞপ্তি মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-১২, সিপিসি-৩, টাঙ্গাইল এর কোম্পানী কমান্ডার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান।
প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়, র্যাব-১২, সিপিসি-৩, টাঙ্গাইল এর কোম্পানী কমান্ডার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান ও স্কোয়াড কমান্ডার এএসপি মো. এরশাদুর রহমান এর নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল টাঙ্গাইল জেলার সদর উপজেলার রাবনা বাইপাস এলাকার নিটল সি.এন. জি পাম্পের সামনে ফাঁকা জায়গায় ইটের সলিং এর উপর অভিযান পরিচালনা করে রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার চর কানাপাড়া গ্রামের মো. আহাদুল এর ছেলে মো. জাহাঙ্গীর (৩০) ও মৃত আব্দুস সামাদ এর স্ত্রী মোছাঃ বেগম (৪৫)কে আটক করে। এ সময় তাদের কাছে থাকা ১২৭ গ্রাম হেরোইন, তিনটি মোবাইল ও এক হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত হেরোইনের আনুমানিক মূল্য ১২ লাখ ৮০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে র্যাব।
আটককৃতদের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল সদর মডেল থানায় ২০১৮ সালের মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন এর ৩৬ (১) এর ৮ (গ) ধারায় একটি মামলা করেছে র্যাব।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের নিকরাইল ইউনিয়নে বালু ঘাটে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠেছে। গত এক সপ্তায় সংঘর্ষ, হামলা-পাল্টা হামলা এবং ধাওয়া- পাল্টা ধাওয়ায় দুই পক্ষের অর্ধশতাধিক মানুষজন আহত হয়েছে।
এসব ঘটনায় উভয়পক্ষই থানা ও আদালতে ১০-১২টি মামলা দায়ের করেছে। ফলে ওই এলাকার আট গ্রামের মানুষ চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
জানাগেছে, নিকরাইল ইউনিয়নের পুনর্বাসন-১, পুনর্বাসন-২, পুনর্বাসন-৩ ও পুনর্বাসন-৪ এবং পলশিয়া, সারপলশিয়া, সিরাজকান্দি, পাটিতাপাড়া গ্রামের বেশিরভাগ মানুষের মূল ব্যবসা বালু উত্তোলন ও সরবরাহ। গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর ওই ইউনিয়নের নির্বাচনে ইউনয়ন আ’লীগের সভাপতি মুহাম্মদ আব্দুল মতিন সরকার নৌকা এবং সাবেক ইউপি সদস্য মাসুদুল হক মাসুদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আনারস প্রতীকে নির্বাচন করেন। নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আনারস প্রতীকে মাসুদুল হক মাসুদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন। নির্বাচিত হওয়ার পর পরই বালু ঘাট দখলের চেষ্টায় সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান চেয়ারম্যানের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, হামলা-পাল্টা হামলা এবং ধাওয়া- পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।

ওই এলাকায় মোট ১৩টি বালুঘাট রয়েছে। বালু ঘাটগুলো হচ্ছে- নাজির মেম্বারের ঘাট, কদ্দুছ সরকারের ঘাট, ভাবীর ঘাট, মাসুদ মেম্বারের ঘাট, নুহু মেম্বারের ঘাট, করিম মেম্বারের ঘাট, বাগানবাড়ী ঘাট, মুক্তিযোদ্ধা ঘাট, মিনহাজ মন্ডলের ঘাট, ছানোয়ারের ঘাট, বাবুর ঘাট, তাঁতি লীগের ঘাট এবং চিতুলিয়াপাড়া ঘাট। এক সময় বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের(বাসেক) কাছ থেকে ডাব(পুকুরের পার) ইজারা নিয়ে ও জমির মালিকদের সাথে চুক্তির মাধ্যমে স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিরা এলাকার লোকদের সাথে নিয়ে ওইসব বালুঘাট পরিচালনা করতেন। বাসেক ডাব ইজারা দেওয়া বাতিল করায় জমির মালিকদের সাথে বালু ব্যবসার হিস্যা দেওয়ার চুক্তি কিংবা অংশীদারিত্ব দিয়ে স্থানীয় লোকজন রাজনৈতিক নেতাদের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করছেন।
বালু ঘাটগুলোর মধ্যে করিম মেম্বারের ঘাট, বাগানবাড়ী ঘাট, মুক্তিযোদ্ধা ঘাট ও মিনহাজ মন্ডলের ঘাট সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মুহাম্মদ আব্দুল মতিন সরকার স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে পরিচালনা করেন। অন্য বালুঘাটগুলো বর্তমান চেয়ারম্যান মাসুদুল হক মাসুদ(সাবেক মেম্বার) তার নেতাকর্মীদের নিয়ে পরিচালনা করেন। তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আব্দুল মতিন সরকারের নেতাকর্মীদের বালুঘাট চারটি দখলে নিতে মরিয়া হয়ে ওঠেন।
সিরাজকান্দি গ্রামের বাবলু মিয়া, পলান শেখ, পলশিয়া গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিক, মোখলেছুর রহমান, অটোভ্যান চালক আলামিন, আব্দুর রহিম, সিরাজকান্দি বাজারের খোদাবক্স সহ আরও অনেকে জানান, বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যানের মধ্যকার বিরোধ মূলত: ইউপি নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে। বর্তমান চেয়ারম্যান মাসুদুল হক মাসুদ মনে করেন সাবেক চেয়ারম্যানের ইন্দনে তাকে দলের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি মুহাম্মদ আব্দুল মতিন সরকার মনে করেন, ভূঞাপুর উপজেলা আ’লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র মাসুদুল হক মাসুদের ইন্দনে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে মাসুদুল হক মাসুদ বালুঘাট দখলে নিতে হামলা চালাচ্ছে। উভয় পক্ষের এহেন ঘটনায় এলাকার মানুষ বাইরে বের হতে পারছেনা। তারা আতঙ্কের মধ্যে দিনাতিপাত করছে। বাজারে যেতে পারছেনা, কোন রকমে গেলেও দোকানপাট খুলতে পারছেনা। অনেকেই ভিন্ন স্থানে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছেন। তারা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে ভ্যান-অটোরিকশা থামিয়ে মারপিট করা হচ্ছে। তারা এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান চান।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, ২৭ মে(শুক্রবার) দুপুরে পাটিতাপাড়া এলাকায় সাবেক চেয়ারম্যানের নিয়ন্ত্রণাধীন মিনহাজ মন্ডলের ঘাটে বালু তোলা হচ্ছিল। এমতাবস্থায় ঘাট দখলে নিতে বর্তমান চেয়ারম্যানের লোকজন ওই ঘাটে হামলা চালায়। পাশের মোজাফ্ফর প্রামানিক ও ফেরদৌস প্রামানিকের বাড়ি থেকে ইট-পাটকেল ছুঁড়ে ও লাঠি সরবরাহ করা হয়। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের ৩০-৩৫জন আহত হয়।
২৯ মে(রোববার) সাবেক চেয়ারম্যানের নিয়ন্ত্রণাধীন বাগানবাড়ী বালুঘাট বর্তমান চেয়ারম্যানের ভাই রফিক ও নুহু মেম্বার ভূঞাপুর পৌর মেয়র মাসুদুল হক মাসুদের গাড়ি চালক আ. আলীম ও এপিএস পাভেলের উপস্থিতিতে দখল করতে যায়। এ সময় দুই পক্ষের লোকদের মধ্যে ধাওয়া- পাল্টা ধাওয়া হয়। পরে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাশের নেংড়া বাজারে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে দুই পক্ষের ২৫-২৬ জন আহত হয়। ৩০ মে(সোমবার) ওই দখলকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া- পাল্টা ধাওয়া হয়। ৩১ মে(মঙ্গলবার) বতমান চেয়ারম্যানের সমর্থক জুরান মন্ডল ও নুহু মেম্বারের নেতৃত্বে ১৫-২০ জন সমর্থক বাগানবাড়ী বালুঘাট দখল করতে যায়। এ সময় সাবেক চেয়ারম্যানের সমর্থকদের পাল্টা হামলায় উভয় পক্ষে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ১০-১২ জন আহত হয়। ১ জুন(বুধবার) ভাবীর ঘাট দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষে ধাওয়া- পাল্টা ধাওয়া হয়।
উল্লেখিত ঘটনায় গত এক সপ্তায় অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়। তাদেরকে স্থানীয় হাসপাতাল, বেসরকারি ক্লিনিক ও টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একই ঘটনায় পাল্টা- পাল্টি অভিযোগ এনে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। ওই ঘটনাগুলোয় ভূঞাপুর থানা ও টাঙ্গাইলের আদালতে ১০-১২টি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। ওই ইউনিয়নে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
নিকরাইল ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুল হক মাসুদ জানান, বালুঘাট কেউ কারোটা দখল করছে না। তবে জমির মালিকরা সাবেক চেয়ারম্যান ও তার লোকজনকে জমি না দেওয়ায় তাদের উপর হামলা করা হচ্ছে। প্রত্যেক ঘটনাই পুলিশকে জানানো হয়েছে। আবার হামলার শিকার যারা হয়েছেন তারাও থানায় অভিযোগ দিয়েছে।
নিকরাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আব্দুল মতিন সরকার জানান, তার নামে কোন বালুর ঘাট নেই। তিনি বালুর ব্যবসাও করেন না। পরিকল্পিতভাবে তাকে নির্বাচনে হারানো হয়েছে। আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত মাসুদ চেয়ারম্যান, নুরুল ইসলাম ওরফে নুহু মেম্বার ও জুরান মন্ডলের নেতৃত্বে প্রতিদিনই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উপর নির্যাতন ও হামলা চালানো হচ্ছে। তারা আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছেন।

তিনি জানান, বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের দিয়ে এই হামলা চালানো হচ্ছে। ভূঞাপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের এক প্রভাবশালী নেতার ইন্দনে বালু ঘাট দখলে নেওয়াকে কেন্দ্র করে এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে।
ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম জানান, হামলা- পাল্টা হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় দুই পক্ষ থেকে দুইটি মামলা দায়ের হয়েছে। দুইটি মামলায় এ পর্যন্ত ১০জনকে আটক করা হয়েছে। নিকরাইল এলাকায় আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সকল ধরণের ব্যবস্থাসহ অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
ভূঞাপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি পৌর মেয়র মাসুদুল হক মাসুদ জানান, নিকরাইল ইউনিয়নে বালুঘাটকে কেন্দ্র করে হামলা- পাল্টা হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা তাকে কেউ জানায়নি। সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আব্দুল মতিন সরকার ঘাট সংশ্লিষ্ট জমির মালিকদের ন্যায্য হিস্যা না দেওয়ায় এসব ঘটনা ঘটছে।
ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. ইশরাত জাহান জানান, সমস্যাটি মূলত রাজনৈতিক। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে দুই পক্ষের সাখে আলোচনা করে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলায় ট্রাকের ধাক্কায় শাপলা বেগম (৫৬) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। এঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুইজন।
বৃহস্পতিবার( ০২ জুন) সকাল ৯ টার দিকে সদর উপজেলার ভাতকুড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।করটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য উমর ফারুক খান মানিক দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত শাপলা বেগম সদর উপজেলার ভাতকুড়া গ্রামের শাহিন মিয়ার স্ত্রী।
আহতরা হলেন- নিহত শাপলা বেগমের মেয়ে সাথী আক্তার(২৬) ও সদর উপজেলার ভাতকুড়া গ্রামের মোহুরি মিয়ার স্ত্রী তারাবানু বেগম(৪৫)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইল থেকে একটি ট্রাক বাসাইলের দিকে যাচ্ছিল। ট্রাকটি অপর একটি গাড়িকে ওভারটেক করতে গেলে তাদের তিনজনকে ধাক্কা দেয়। ধাক্কা খেয়ে শাপলা বেগম বিদ্যুৎতের খুঁটির সঙ্গে মাথায় আঘাত পান। এবং ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় অপর দুই জনকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মোশাররফ হোসেন জানান, দুর্ঘটনার বিষয়টি জানতে পেরেছি। ট্রাকের ধাক্কায় একজনের মৃত্যু হয়েছে।এঘটনায় দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। লাশ পরিবার কাছে রয়েছে। নিহতের পরিবার অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একতার কন্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে শিক্ষককে পেটানোর ঘটনায় দুই বখাটেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। বুধবার (১ জুন) বিকেলে উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নের পুনর্বাসন গ্রাম থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, ১নং পুর্নবাসন গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে মো. স্বপন (১৮) ও আ. আলিমের ছেলে মো. সাগর (১৮)।
বুধবার (১ জুন) সন্ধ্যায় প্রেসবিজ্ঞপ্তি মাধ্যমে টাঙ্গাইল এর কোম্পানী কমান্ডার মেজর মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রেসবিজ্ঞপ্তি জানানো হয়েছে, রোববার (২৯ মে) দুপুরে মাদরাসার মেয়েদের কমন রুমের কাছে টয়লেটের উপর দিয়ে উঁকি মারছিল জাহিদ ও সাগর নামের দুই বখাটে। ঘটনাটি ওই মাদরাসার শিক্ষকরা টের পেলে বখাটে দু’জনের মধ্যে সাগর পালিয়ে যায় এবং জাহিদকে ধরে অফিস কক্ষে নিয়ে যায় শিক্ষকরা। আটক জাহিদকে কৃতকর্মের জন্য সবার কাছে ক্ষমা চাইতে বলেন। পরে সোমবার (৩০ মে) দুপুরে ওই মাদরাসার শিক্ষক নজরুল ইসলাম ও মুন্নাফ টিফিনের সময় নামাজ পড়তে পুনর্বাসনের মাঝামাঝি কমিউনিটি ক্লিনিকের কাছে পৌঁছালে জাহিদ, সাগর, শাহাদত, বাছেদ, স্বপনসহ ৮-১০ জন বখাটে শিক্ষক নজরুল ইসলামকে মারার জন্য পথ আটকায়।

একপর্যায়ে বখাটেরা তাকে রড ও ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্প দিয়ে মাথায় ও হাতে আঘাত করে আহত করে। পরে এলাকাবাসী ও শিক্ষকরা তাকে উদ্ধার করে ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি করেন।
এরপর মঙ্গলবার (৩১ মে) ওই শিক্ষক বাদি হয়ে জড়িতদের আসামী করে ভূঞাপুর থানায় অভিযোগ এবং বুধবার (১ জুন) মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চালিয়ে স্বপন ও সাগর নামে দুই বখাটে কে আটক করে র্যাব।
প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে আরও জানা গেছে, র্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে বহুদিন ধরে তারা মাদরাসার ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করে আসছিল বলে স্বীকার করেছে। পরে আটককৃতদের ভূঞাপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হওয়া এক রোগীর মরদেহ মিললো নদীতে। বুধবার (১ জুন) সকালে হাসপাতাল সংলগ্ন বৈরাণ নদী থেকে তার গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মৃত ওই ব্যক্তির নাম বেলায়েত হোসেন (৭৬)।তিনি পৌরশহরের সূতি পলাশ গ্রামের মৃত হাতেম আলীর ছেলে।
পুলিশ জানায়, বেলায়েত হোসেন ২০০৬ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে অবসরে যান। নানা কারণে স্বজনদের সাথে তার দুরত্ব তৈরি হয়। এরপর ক্যান্সার আক্রান্ত হওয়ার পর দেখা দেয় মানসিক ভারসাম্যহীনতা। এ কারণে গত তিন বছর যাবৎ নিজ বাড়ি ছেড়ে উপজেলার উত্তর পাথালিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘরে নিঃসঙ্গ জীবনযাপন করতেন। গত ২৭ মে জ্বর ও পেট ব্যথা নিয়ে তিনি গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। গত রোববার হাসপাতাল থেকে তিনি উধাও হয়ে যান। আত্মীয় স্বজনরা কেউ আর তাঁকে খুঁজে পায়নি।
হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার প্রসেনজিৎ কুমার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে তিনি জানান, সবার অজান্তে সে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যান। এরপর তাঁকে কোথাও আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে গোপালপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আলীম আল রাজী জানান, বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে আমি গত দুইদিন যাবৎ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এ মিটিংয়ের জন্য ঢাকায় অবস্থান করছি। ওই ব্যাপারে হাসপাতালে কি ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে সেটি জেনে আমি রাতে জানাবো।
গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারফ হোসেন জানান, প্রথমে অজ্ঞাতনামা হিসেবে মরদেহ উদ্ধার হয়। পরে পিবিআই ও সিআইডি পুলিশ আলামত সংগ্রহ করে লাশ সনাক্তে সক্ষম হন। ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ওসি আরও জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগী উধাওয়ের বিষয়টি পরিবারকে জানিয়েছেন। তবে এ ব্যাপারে তারা থানায় সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করেননি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল কারাগারে সুচিকিৎসার অভাবে নাদীয়া জাহান শেলী নামে এক নারী কয়েদীর মৃত্যুর অভিযোগ তুলেছেন পরিবারের সদস্যরা। এ ঘটনায় জেল সুপার মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন ও ডেপুটি জেলারসহ অজ্ঞাতনামা অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন মৃতের স্বামী মো. মিনহাজ উদ্দিন।
মঙ্গলবার (৩১ মে) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে আসামিদের বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেন ওই কয়েদীর পরিবার।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ওই নারীর মেয়ে সোনালী আক্তার বলেন, তার মা নাদীয়া জাহান শেলী ডায়াবেটিক ও কিডনি রোগে আক্রান্ত ছিলেন। জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সখীপুর আমলী আদালতে চলমান সি.আর ৩১১/২০২১ এর মামলায় তিনি ছিলেন ২নং আসামি। ৪ এপ্রিল অসুস্থ অবস্থায় তার মা অন্য একটি মামলায় সখীপুর আমলি আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিন প্রার্থনা করেন। জামিনের জন্য আদালতে শারীরিক অসুস্থতার সকল প্রতিবেদন (রিপোর্ট) দাখিল করার পরও বিচারক তাকে কারাগারে পাঠান। নাদীয়া জাহান শেলী অসুস্থ হওয়ায় তার সুচিকিৎসার জন্য জেল সুপারকে নির্দেশ দেন বিচারক।
কিন্তু জেল সুপার মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন ও ডেপুটি জেলারসহ অজ্ঞাতনামা অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তার চিকিৎসার সু ব্যবস্থা না করে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে তাকে সাধারণ কয়েদী হিসেবে জেনারেল ওয়ার্ডে রাখেন। চিকিৎসা না পেয়ে তিনি কারাগারে খুবই কষ্ট করেছেন। অবশেষে গত ৮ এপ্রিল রাতে তিনি (শেলী) চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুবরণ করেন।
সোনালী আরও জানান, ১৯ এপ্রিল তার বাবা মিনহাজ উদ্দিন বাদী হয়ে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট টাঙ্গাইল সদর থানা আমলী আদালতে বাংলাদেশ দণ্ডবিধি আইনের ১০৪(খ)/১০৯ ধারায় মামলা করেন। বিচারক এই অবহেলিত হত্যা মামলার বিষয়ে তার আদেশে উল্লেখ করেন ‘আসামিগণ উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারী হওয়ায় এবং অভিযোগের গভীরতা বিবেচনায় মামলার ঘটনার বিষয়ে পুলিশ বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা দ্বারা তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন হলে ন্যায় বিচার নিশ্চিত হবে বলে আদালত মনে করেন।’ সার্বিক পর্যালোচনায় টাঙ্গাইল পুলিশ সুপারকে মামলার ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ পূর্বক তদন্ত করে প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের জন্য নির্দেশ দেন।
সংবাদ সম্মেলনে তার পাঁচ বছরের যমজ দুই ভাই হাসান ও হোসাইন উপস্থিত ছিল।
সোনালী আক্তার বলেন, আমার মা খুব অসুস্থ ছিলেন। তারপরও জেল সুপার তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেননি। জেল সুপার আদালতের নির্দেশকে অমান্য করেছেন। আমরা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করি।
এ বিষয়ে জেলা সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, কারাগারের দুজন চিকিৎসক নাদীয়া জাহান শেলীর সুচিকিৎসার দায়িত্বে ছিলেন। কারাগারে তাকে সুচিকিৎসাই দেওয়া হয়েছে। তিনি মারা যাওয়ার পর সকল প্রকার আইনি পক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মরদেহ নেওয়ার সময় তাদের কোনো অভিযোগ ছিলো না। এরপরও তারা চিকিৎসার অভাবে ওই কয়েদীর মৃত্যু হয়েছে দাবি করে আমাদের বিরুদ্ধে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট টাঙ্গাইল সদর থানা আমলি আদালতে বাংলাদেশ দণ্ডবিধি আইনের ১০৪(খ)/১০৯ ধারায় মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলার বিষয়ে পুলিশ সুপার নিজেই তদন্ত করছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের এমপি পদে মোহাম্মদ হাছান ইমাম খান সোহেল হাজারী কোন কর্তৃত্ববলে বহাল আছেন, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব, নির্বাচন কমিশন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও এমপি পদে মোহাম্মদ হাছান ইমাম খান সোহেল হাজারীসহ সংশ্লিষ্ট ১০ জনকে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
রিটকারীর পক্ষের আইনজীবী মো. বুরহান খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এ সংক্রান্ত রিটের শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার (৩১ মে) হাইকোর্টের বিচারপতি জাফর আহমেদ ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
আদালতে মঙ্গলবার রিটের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. বুরহান খান।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম জি সারোয়ার পায়েল, ইশিতা পারভীন ও আশিকুল হক।
টাঙ্গাইল-৪ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। তাকে দল থেকে বহিষ্কারের পর ২০১৭ সালে ওই আসনের উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে নৌকা প্রতীক নিয়ে খান সোহেল হাজারী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে দ্বিতীয়বারের মতো এমপি হন তিনি।
আইনজীবী মো. বুরহান খান জানান, হলফনামায় শিক্ষাগত যোগ্যতায় গড়মিল আছে উল্লেখ করে গত বছরের ২৫ জুলাই স্পিকার বরাবর মোখলেছুর রহমান চিঠি দেন। ওই চিঠিতে বিতর্কের বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য নির্বাচন কমিশনে পাঠানোর অনুরোধ করা হয়েছিল। সেটি নিষ্পত্তি না করায় তিনি হাইকোর্টে রিট করেছেন। আবেদনে রিটটি নিষ্পত্তির নির্দেশনা চাওয়া হয়েছিল।
২০২১ সালের ১৭ নভেম্বর ওই রিট খারিজ করেন হাইকোর্টের অন্য একটি বেঞ্চ। এবার তার সংসদ সদস্য বাতিল চেয়ে আরও একটি রিট করা হয়। ওই রিটের শুনানি নিয়ে আজ এ রুল জারি করেন আদালত।
রিটের বিষয়ে আইনজীবী মো. বুরহান খান জানান, এবার পিটিশনার সরাসরি কোয়ারেন্ট নিয়েছেন। আমরা যেটা বলি, তার এমপির যে পোস্ট, সেটা কোন অথরিটির বলে (কর্তৃত্ববলে), এটা চ্যালেঞ্জ করে কোয়ারেন্ট করা হয়। কোর্ট এনিয়ে রুল ইস্যু করেছেন।’
তিনি আরো জানান, ‘আদালতে রিট আবেদনটি করেছিলেন আমার চেম্বারের জুনিয়র অ্যাডভোকেট মাহফুজ চৌধুরী বাপন। আর সিনিয়র কাউন্সিলর হিসেবে ছিলেন আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী।’
সংবাদ সূত্র – Jagonews24.com