একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার তক্তারচালা গ্রামে অভিযান চালিয়ে ৪০ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক ব্যবসায়িকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শুক্রবার (১৭ জুন) রাতে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার বড় কাঞ্চনপুর গ্রামের মো. জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে মো. রাইসুল ইসলাম(২৮), টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার হাটুভাঙ্গা চিতেশ্বরী গ্রামের মো. বাছেদ খানের ছেলে মো. উজ্জল খান (৩৩) ও শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার সন্যাসী ভিটা গ্রামের মৃত হাফিজুর রহমানের ছেলে মো. নয়ন হোসেন(২০)।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি দক্ষিণ) অফিসার ইনচার্জ (ওসি)মো. দেলোয়ার হোসেন শনিবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ডিবি দক্ষিণের একটি দল এস আই রাইজ উদ্দিন এর নেতৃত্বে সখীপুর উপজেলার তক্তারচালা গ্রামে অভিযান চালায়। অভিযানে ৪০ কেজি গাঁজা ও একটি মাইক্রোবাসসহ ওই তিন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়। জব্দকৃত গাঁজার বাজার মূল্য প্রায় ৮ লাখ টাকা।
তিনি আরো জানান,গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে শনিবার(১৮ জুন) সখীপুর থানায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ১২ ঘণ্টায় পানি বৃদ্ধি পেয়েছে ১০ সেন্টিমিটার। এ ছাড়াও সমানতালে বৃদ্ধি পাচ্ছে অন্যান্য নদ-নদীর পানিও।
শনিবার (১৮ জুন) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ভূঞাপুর, টাঙ্গাইল সদর ও কালিহাতী উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে তলিয়ে গেছে হাজার হাজার একর জমির পাট, আউশ ধান, তিল, বাদামসহ বিভিন্ন ফসল। তবে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ভূঞাপুর, কালিহাতী ও টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কয়েকটি এলাকায় ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে।
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, শনিবার সন্ধ্যায় যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলায় যমুনাসহ সবকটি নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় জেলার বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতির দিকে যাচ্ছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহি করটিয়া হাটে ভিটি বরাদ্দের মাধ্যমে প্রতিবছর হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। এতে করে চরম ক্ষতির মূখে পড়ছেন প্রকৃত ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতারাও।
সরকারের পক্ষ থেকে স্বচ্ছভাবে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের সরাসরি ভিটি বরাদ্দ দেওয়া হয় না। এ কারণে সরকারি ইজারা মূল্য (ভিটি প্রতি) ৫৮৫ টাকার পরিবর্তে কয়েক হাত ঘুরে একটি ভিটির দাম পড়ে কয়েক লাখ টাকা।
এমনটা হওয়ার কারণে ব্যবসার আনুসাঙ্গিক খরচ বেড়ে গিয়ে সরাসরি প্রভাব পড়ে ক্রেতাদের ওপরে, বেড়ে যায় পণ্যের দাম। সরকারিভাবে ভিটি বরাদ্দ দেওয়া হলে হাটে দূরদূরান্ত থেকে আসা ক্রেতারাও কম মূল্যে তাদের চাহিদামত পণ্য ক্রয় করতে পারতেন।
ফলে হাটের সিন্ডিকেটের সদস্যদের কারণে ব্যবসায়ীসহ সাধারণ ক্রেতারাও ক্ষতির সন্মুখিন হচ্ছেন। এভাবে চলতে থাকলে এ ঐহিত্যবাহী করটিয়া হাট থেকে অনেক সাধারণ মানুষ মুখ ফিরিয়ে নেবেন বলে মনে করছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীরা জানান, হাটে বেশিরভাগ ব্যবসায়ী তাদের ভিটি ভাড়া বা অন্য কারো কাছ থেকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে কিনে ব্যবসা পরিচালনা করেন। কিন্তু যারা প্রকৃত ভিটির মালিক তাদের মধ্যে অনেকেই হাটে কোনো ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন। তারা সবাই রাজনৈতিক নেতা, নইলে জনপ্রতিনিধি অথবা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের স্বজন। তাদের এ সিন্ডিকেটের কারণে ভিটিগুলো বিক্রি হয় দেড়, দুই এমনকি পাঁচ লাখ টাকাতেও। অথচ এসব ভিটির বাৎসরিক সরকারি ইজারা মূল্য (ভিটি প্রতি) ৫৮৫ টাকা।
মঙ্গলবার (১৪ জুন) করটিয়া হাটে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই হাটে সাধারণ ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। দূরদূরান্ত থেকে আসা ক্রেতা ও বিক্রেতারা পণ্য কেনা-বেচায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
বগুড়া থেকে আসা সোলায়মান মিয়া নামের এক কাপড় ব্যবসায়ী জানান, গত বছরের তুলনায় এবার কাপড়ের দাম অনেক বেশি। তারপরেও ব্যবসা ও ক্রেতার চাহিদার কারণে বেশি দাম দিয়েই কাপড় কিনতে হচ্ছে।
করটিয়া এলাকার শাকের আলী জানান, দীর্ঘদিন ধরে হাটের কিছু জায়গা দখল করে ব্যবসা করেন তিনি। কিন্তু এবার বৈধভাবে জায়গা বরাদ্দ পেয়েছেন। তবে নিজের নামে না দেওয়ায় তার মেয়ে ও ভাই এবং ভাতিজার নামে ভিটি বরাদ্দ নিয়ে ব্যবসা করছেন। এগুলোর একটি তিনি নিজেই পরিচালনা করেন এবং বাকি তিনটি ভাড়া দিয়েছেন।
শুধু প্রভাবশালী নয়, এ হাটে ভিটি আছে সরকারি চাকরিজিবীদেরও। তবে এসব জমি তারা নিজের নামে না করে নিয়েছেন পরিবারের সদস্যদের নামে।
এমনই একজন হচ্ছেন করটিয়া এলাকার কালিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. আরিফ। এ হাটে তার তিন বোন, মা, মামা, মামাতো ভাইয়ের নামে নিয়েছেন আটটি ভিটি। পরে ওই ভিটিগুলো আবার একই এলাকার চাচাতো ভাই মো. ইসমাইল হোসেনের কাছে এক বছরের জন্য ভাড়াও দিয়ে দিয়েছেন।
ইসমাইল হোসেন জানান, আরিফের কাছ থেকে আটটি ভিটি লিজ নিয়ে তিনিও সেগুলো ভাড়া দিয়েছেন। সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ায় আরিফ এগুলো তার বোন, মা, মামা ও মামাতো ভাইয়ের নামে বরাদ্দ নিয়েছেন।
জানা গেছে, হাটে ভিটি বরাদ্দের প্রক্রিয়া করে জেলা প্রশাসন। এ কারণে প্রকৃত ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ ভিটি বরাদ্দ পাওয়ার জন্য আবেদন করেন। পরে তাদের জানানো হয় হাটে নতুন করে কোনো ভিটি বরাদ্দ দেওয়া হবে না। যারা ইতোমধ্যেই হাটের জায়গা দখল করে ব্যবসা করছেন, তাদের মধ্যেই ভিটি বরাদ্দ দেওয়া হবে।
খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, প্রভাবশালী এক জনপ্রতিনিধির ছত্রছায়ায় এলাকার প্রল্লাদ দাস, হেলাল উদ্দিন, ছানোয়ার হোসেন ছানু ও আনিসুর রহমান বিরু দীর্ঘদিন ধরেই করটিয়া হাট নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন। আর তাদের মাধ্যমেই পুরো হাটে ভিটি বরাদ্দ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি তাদের প্রত্যেকের নামে একটিসহ বিভিন্ন স্বজনদের নামে একাধিক ভিটি নেওয়া হয়েছে। পরে সেগুলো ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে এক লাখ ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিবছর ৪০-৫০ হাজার টাকায় ভাড়া দেওয়া হচ্ছে ভিটিগুলো।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যবসায়ী জানান, তিনি গত ১০-১২ বছর ধরে এ হাটে ব্যবসা করছেন। ৪-৫ বার তিনি ভিটি বরাদ্দ পাওয়ার জন্য আবেদন করেও পাননি। তাই বাধ্য হয়ে ভিটি ভাড়া নিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ কারণে ক্রেতাদের কাছে কিছুটা বেশি দামে পণ্য বিক্রি করতে হচ্ছে। আর যদি প্রকৃতভাবে সরকারি মূল্য অনুযায়ী ভিটি বরাদ্দ পেতেন তাহলে সাধারণ ক্রেতাদের কাছ থেকে বেশি মূল্য নিতেন না।
শুধু তিনি নন, এরকম প্রায় সব ব্যবসায়ীরাই প্রতিবছরে মোটা অংকের ভাড়ার টাকা আদায়ের জন্য ক্রেতাদের কাছ থেকে বেশি মূল্য রেখে থাকেন।
করটিয়া হাটের হোটেল ব্যবসায়ী প্রল্লাদ দাস জানান, তিনি ভিটি বরাদ্দের বিষয়ে কিছু জানেন না। তবে তিনি গত ৩-৪ বছর আগে আনিসুর রহমান বিরুর কাছ থেকে একটি ভিটি কিনে হোটেল ব্যবসা করছেন।
আনিসুর রহমান বিরু জানান, বর্তমানে তার কাছে কোনো ভিটি খালি নেই। তবে যেগুলো ছিল, সেগুলো সব ভাড়া দিয়েছেন। ভিটি বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়টি উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী ও প্রল্লাদ দাস দেখেন। তারাই ঠিক করেন, কার ভাগে কয়টি ভিটি পড়বে বলেও জানান তিনি।
ছানোয়ার হোসেন ছানু জানান, এবার যাদের ভিটি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তারা আগে থেকেই সেখানে দখলে ছিলেন। আর একজন ব্যবসায়ী একটি মাত্র ভিটি পাবেন। তবে তার পরিবার বড় হওয়ায় তিনি ও তার স্বজনরা মিলে ১০-১২টি ভিটি বরাদ্দ পেয়েছেন।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী জানান, করটিয়া হাটে আগে থেকেই যারা ভিটি দখল করে ছিলেন তাদের মাঝেই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। নতুন ভাবে কাউকে বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। এর বেশি কিছু তিনি জানেন না।
একতার কণ্ঠঃ কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের আমলে কৃষি, যোগাযোগ ব্যবস্থা, বাণিজ্য, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আইসিটিসহ প্রতিটি খাতে অভাবনীয় উন্নতি সাধিত হয়েছে। যা সারা পৃথিবীতে প্রশংসিত ও নন্দিত হচ্ছে। তবে সকল উন্নয়নের মধ্যে স্বাধীনতার পরে যে অর্জনটি সবচেয়ে বড় ও লক্ষণীয়- তাহলো পদ্মা সেতু। সকল দিক বিবেচনায় উন্নয়নের ক্ষেত্রে স্বাধীনতার পর জাতির শ্রেষ্ঠ অর্জন এটি। পদ্মা সেতু জাতির ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে থাকবে। একইসাথে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
শুক্রবার (১৭ জুন) বিকালে টাঙ্গাইল শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে এক স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। টাঙ্গাইলের কৃতি সন্তান, ভাষা সৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বঙ্গবন্ধুর সহচর মির্জা তোফাজ্জল হোসেন মুকুল এর একুশে পদক (মরণোত্তর) প্রাপ্তিতে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ এ স্মরণসভার আয়োজন করে।
মন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু জাতির স্বপ্নের সেতু, গর্বের সেতু, অহংকারের সেতু। ২৫ তারিখে এটির উদ্বোধন হবে, সেদিন সারা জাতি আনন্দে মেতে উঠবে। এ মহোৎসবকে কেউ যদি ষড়যন্ত্র করে বানচাল করতে চায়, তাদেরকে কঠোরভাবে মোকাবেলা করা হবে। কোন অপশক্তিই পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের আনন্দকে ব্যাহত করতে পারবে না।
পদ্মা সেতু দক্ষিণাঞ্চলের কৃষিতেও বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, যশোরের ফুল, সাতক্ষীরার আমসহ দক্ষিণাঞ্চলে উৎপাদিত শাকসবজি, ফলমূল সহজেই ঢাকা আসতে পারবে। ঐসব অঞ্চলে কৃষি প্রক্রিয়াজাত প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে। এর ফলে স্থানীয় পর্যায়ে বাজার তৈরির পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানিও হবে।
কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন সুন্দর ও সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনায় খুবই সক্ষম। কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সুন্দর ও সুষ্ঠু হয়েছে। শুধু হার-জিত দেখলে হবে না। দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে, অল্প ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জিতেছে-এদিকগুলোও বিবেচনা করতে হবে। সব মিলিয়ে নির্বাচন সুন্দর হয়েছে।
স্মরণসভায় টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুকের সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম এমপি, মো. ছানোয়ার হোসেন এমপি, পৌর মেয়র সিরাজুল হক আলমগীর প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে আদালতের আদেশ অমান্য করায় পশুখাদ্য ব্যবসায়ী নজরুল ইসলামকে ৬ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
শুক্রবার (১৭ জুন) বিকেলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা আলম এ আদেশ দেন।
ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের মৃত আবদুল গণির ছেলে।
এর আগে গত ৬ জুন ওই ব্যবসায়ীকে বিষাক্ত পশুখাদ্য তুলা বিক্রির দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় একই সঙ্গে প্রায় দুই টন বিষাক্ত তুলা পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এছাড়াও ওই ব্যবসায়ীর চারটি স্টকে রাখা তুলার গুদাম সিলগালা করে দেয় আদালত।
আদালত সূত্রে জানা যায়, পৌরসভার জামতলা এলাকায় রোজা এন্টারপ্রাইজের মালিক নজরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে পোশাক কারখানার পরিত্যক্ত ঝুট বা কাপড়ের অংশ দিয়ে তৈরি করা তুলা বিকল্প গোখাদ্য বিক্রি করে আসছিল। তিনি উপজেলাজুড়ে খুচরা ও পাইকারী বিক্রি করতো।
এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা আলম জানান, গত ৬ জুন বিষাক্ত পশুখাদ্য তুলা বিক্রির অপরাধে ওই ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও প্রায় দুই টন তুলা পুড়ানো হয়। তার স্টকে রাখা বিষাক্ত তুলার চারটি গুদাম সিলগালা করে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে তুলা নষ্ট বা পুড়িয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু ওই ব্যবসায়ী গোপনে গুদামের তালা ভেঙ্গে তুলা অন্যত্র সরিয়ে ফেলে। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে শুক্রবার বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে এর সত্যতা পায় আদালত। ফলে ওই ব্যবসায়ীকে সরকারি আদেশ অমান্য করায় ৬ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে লৌহজং নদীর উপর নির্মিত সেতু দেবে গেছে।বৃহস্পতিবার (১৭ জুন) রাতে টাঙ্গাইল-বেড়াডোমা-ওমরপুর সড়কের বেড়াডোমা এলাকার লৌহজং নদীর উপর নির্মিত সেতুটি দেবে যায়। এদিকে সেতু নির্মাণ কাজে গাফিলতি আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছে টাঙ্গাইল পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী শিব্বির আহমেদ আজমী।
স্থানীয়রা দ্রুত সময়ের মধ্যে সেতু নির্মাণ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় টাঙ্গাইল পৌরসভা সেতুটির নির্মাণ বাস্তবায়ন করছে। আট মিটার প্রস্থ ও ৩০ মিটার দীর্ঘ সেতুটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৬০ লাখ ১৮ হাজার টাকা। ২০২০ সালের ১২ নভেম্বর থেকে সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু করে ব্রিক্সস অ্যান্ড ব্রিজ লিমিটেড ও দি নির্মিতি নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে কাজটি শুরু করে। গত ১১ মে কাজটি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ৫৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। গত সপ্তাহে সেতুটির উপরে অংশে ঢালাই করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে সেতুটির সেন্টারিং সাটারিং সরে গিয়ে মাঝখানে সাড়ে তিন ফুট দেবে যায়।
শুক্রবার (১৮জুন) সকালে সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, লৌহজং নদীর মাঝখান থেকে গাছ ও বাঁশের পাইল সরে গিয়েছে। সেতুটি মাঝ খানে দেবে যাওয়ায় স্থানীয় লোকজন ভিড় করেছে। কয়েকজন শ্রমিক সেতু নির্মাণে কাজ করে যাচ্ছে। দেবে যাওয়া স্থান টাঙ্গাইল পৌরসভা প্রকৌশলী ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা পরিদর্শন করেছেন।
বেড়াডোমা এলাকার বাসিন্দা হাফিজুর রহমান জানান, ইতোপূর্বে এখানে যে বেইলি সেতু ছিলো সেটিও দুবার ভেঙে আমাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে কয়েক বছর। এ সেতু নির্মাণের কারণেও দুর্ভোগ অব্যাহত আছে।
স্থানীয় বাসিন্দা খোরশেদ হোসেন বলেন, প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে সেতুটি দেবে গেছো। এতে আমাদের আরও কয়েক বছর দুর্ভোগ পোহাতে হবে।
পথচারী আজাদ মিয়া জানান, পার্ক বাজার থেকে বাজার করে নিজেই বহন করে আনতে হয়। কোন রিকশা আসে না। দুই বছরের অধিক সময় ধরে আমাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সোলায়মান হাসান জানান, এই সেতুটির নির্মাণ কাজ অন্যজন পেয়েছিলেন। স্থানীয় এমপি তার কাছ থেকে প্রভাব খাটিয়ে কাজটি হাতিয়ে নেয়। পরে তার কর্মী আমিরুলসহ তার অনুসারীদের কাজটি দিয়েছে।
৪ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবুল কালাম আজাদ জানান, দুর্ভোগ লাঘবে কাজটি শেষ করার জন্য বার বার তাগিদ দেয়া হয়েছে। কিন্তু পৌরসভার প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন কোন কথাই শুনেন না। সেতুটি দেবে যাওয়ায় লাখ লাখ মানুষের কয়েক বছরের জন্য দুর্ভোগ বেড়ে গেলো।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের আমিরুল ইসলাম জানান, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি ঢাকার। তবে স্থানীয় জামিল সহ কয়েকজন মিলে সেতু নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করছে। তিনি এই কাজের সাথে যুক্ত নয়।
টাঙ্গাইল পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী শিব্বির আহমেদ আজমী জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রকল্প পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে অবগত করা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি করে মূল রহস্য উদঘাটন করা হবে।
একতার কন্ঠ: টাঙ্গাইলে ১৮ ইউনিয়নের মধ্যে আওয়ামী লীগ ১১টিতে বিজয়ী হয়েছে। এছাড়া ৫টিতে স্বতন্ত্র ও ২টিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। বুধবার (১৫ জুন) গভীর রাতে নির্বাচন কমিশন সূত্রে এসব ফলাফল পাওয়া যায়।
এর মধ্যে মধুপুরে ৬ ইউনিয়নের ৫টিতে আওয়ামী লীগ ও ১টিতে বিদ্রোহী প্রার্থী, মির্জাপুরে ৬ ইউনিয়নের ৩টিতে আওয়ামী লীগ ও ৩টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী, সখীপুরে ২ ইউনিয়নেই আওয়ামী লীগ প্রার্থী, বাসাইলে ১টি আওয়ামী লীগ ও ১টি স্বতন্ত্র, নাগরপুরে স্বতন্ত্র ও দেলদুয়ারে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, মধুপুরের ৬টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫টিতে আওয়ামী লীগ এবং ১টিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন।
এরা হচ্ছেন-
কুড়াগাছা ইউনিয়ন: এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ফজলুল হক সরকার (নৌকা) ৫৮৭৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আজহারুল ইসলাম (আনারস) পেয়েছেন ৩৪৭৯ ভোট।
আউশনারা ইউনিয়ন: আওয়ামী লীগ প্রাথী গোলাম মোস্তফা (নৌকা) ৪৩০২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুস ছালাম (আনারস) পেয়েছেন ৪০১৪ ভোট।
শোলাকুড়ী ইউনিয়ন: আওয়ামী লীগের প্রার্থী ইয়াকুব আলী (নৌকা) পেয়েছেন ৬৭০১ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আকতার হোসেন (টেলিফোন) পেয়েছেন ৩০২৬ ভোট।
বেরীবাইদ ইউনিয়ন: আওয়ামী লীগ প্রার্থী জুলহাস উদ্দিন (নৌকা) ৭৬৩৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মজিবর রহমান (আনারস) পেয়েছেন ২১৫১ ভোট।
মহিষমারা ইউনিয়ন: আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মো. মহি উদ্দিন মহির (আনারস) ৯৪৩৬ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুল মোতালেব (নৌকা) পেয়েছেন ৪৭৩৮ ভোট।
কুড়ালিয়া ইউনিয়ন: আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. ফজলুল হক (নৌকা) জয়লাভ করেছেন।
মহিষমারা ইউনিয়ন: আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মো. মহি উদ্দিন মহির (আনারস) ৯৪৩৬ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুল মোতালেব (নৌকা) পেয়েছেন ৪৭৩৮ ভোট।
কুড়ালিয়া ইউনিয়ন: আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. ফজলুল হক (নৌকা) জয়লাভ করেছেন।
মির্জাপুরে ৩ ইউনিয়নে নৌকা ও ৩টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন।
বহুরিয়া ইউনিয়ন: আবু সাইদ ছাদু (নৌকা) বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ৬৬০০ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুস ছামাদ (ঘোড়া) পেয়েছেন ৪৫৩২ ভোট।
আজগানা ইউনিয়ন: আওয়ামী লীগ প্রার্থী আব্দুল কাদের (নৌকা) ১০২৬৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম স্বতন্ত্র প্রার্থী রফিকুল ইসলাম (মোটরসাইকেল) পেয়েছেন ৫৪৫৪।
ফতেপুর ইউনিয়ন: আওয়ামী লীগ প্রার্থী হাজী আব্দুর রউফ (নৌকা) ৩৬৩৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী হুমায়ুন তালুকদার (মোটরসাইকেল) পেয়েছেন ৩৪৭৬ ভোট।
তরফপুর ইউনিয়ন: স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা আজিজ রেজা (মোটরসাইকেল) ৫৯০৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফুর রহমান (চশমা) পেয়েছেন ৫৫২৩ ভোট।
ভাওড়া ইউনিয়ন: মাসুদুর রহমান (ঘোড়া) ৪৫৮৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাহিদুর রহমান খান (আনারস) পেয়েছেন ৩৭৬০ ভোট।
লতিফপুর ইউনিয়ন: স্বতন্ত্র প্রার্থী আলী হোসেন রনি (মোটরসাইকেল) ৪৩২৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোশারফ হোসেন (আনারস) পেয়েছেন ৩৭২৪ ভোট।
সখীপুর উপজেলা দুইটি ইউনিয়নের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন।
দাড়িয়াপুর ইউনিয়ন: আওয়ামী লীগের প্রার্থী আনছার আলী আসিফ (নৌকা) পান ৮০২৬ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী ছানোয়ার হোসেন (আনারস) পেয়েছেন ৫৫৮০ ভোট।
গজারিয়া ইউনিয়ন: আওয়ামী লীগের প্রার্থী আনোয়ার হোসেন (নৌকা) ৪৪৬৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী বাদল মিয়া (মোটরসাইকেল) পেয়েছেন ২ হাজার ১৮৯ ভোট।
বাসাইল উপজেলায় দুটি ইউপি’র নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
বাসাইল সদর ইউনিয়ন: আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী সোহানুর রহমান সোহেল (নৌকা) ২৬৭২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফুল ইসলাম (আনারস) পেয়েছেন ২১৫২ ভোট।
কাশিল ইউনিয়ন: স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপি নেতা রমজান আলী মিয়া (মোটরসাইকেল) ৮৬৫৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম আওয়ামী লীগের প্রার্থী মির্জা রাজিক (নৌকা) পেয়েছেন ৭২১৯ ভোট।
নাগরপুরের ভারড়া ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল কুদ্দুছ মিয়া (ঘোড়া) বিজয়ী হয়েছেন।
দেলদুয়ার উপজেলার আটিয়া ইউনিয়ন পরিষদ উপ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সাজ্জাত হোসেন (ঘোড়া) ৫৫০১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ প্রার্থী কৃষ্ণ কান্ত দে সরকার (নৌকা) পেয়েছেন ৩৩৭৩ ভোট।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এ এইচ এম কামরুল হাসান বলেন, সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোন কোন কেন্দ্রে ইভিএমে ধীরগতিতে ভোট গ্রহণ হয়। নির্বাচন সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ করতে পর্যাপ্ত সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দায়িত্ব পালন করে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে নিখোঁজের পরের দিন সোয়েব তালুকদার ওরফে সুমন (৩৮) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে কালিহাতী থানা পুলিশ।
বুধবার (১৫ জুন) সকালে উপজেলার আউলটিয়া কানাইগাড়া শ্মশান ঘাটের পাশে গাবগাছের সঙ্গে গলায় গামছা পেঁচানো ঝুলন্ত অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত সুমন পেশায় একজন পল্লী চিকিৎসক। সে কালিহাতীর বাংড়া ইউনিয়নের দয়থা গ্রামের আলতাফ মিয়ার ছেলে।
নিহতের স্ত্রী খালেদা ও স্বজনদের দাবি, সুমন মঙ্গলবার (১৪ জুন) রাতে এশার নামাজ পড়তে গিয়ে ভোর থেকে নিখোঁজ ছিলেন। পূর্বশক্রতার জের ধরে কেউ তাকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে দিয়েছে বলে সন্দেহ তাদের।
কালিহাতী থানার সাব ইন্সপেক্টর (এসআই) মাহাবুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ভোট দেওয়ার পর কেন্দ্রেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন সুকমল সরকার নামের এক ভোটার। বুধবার(১৫ জুন) সকালে উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের ফতেপুর পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ঘটেছে এ ঘটনা।
ইউপি নির্বাচনের ৬নং মেম্বার প্রাথী দিলীপ রাজবংশী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সুকমল সরকার উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের থলপাড়া গ্রামের মৃত বিরমনির ছেলে।
দিলীপ রাজবংশী জানান, বুধবার সকালে সুকমল সরকার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোট দিতে আসেন। এরপর ভোটাধিকার প্রয়োগ করার পর কেন্দ্রেই ঢলে পড়লে তাৎক্ষণিক তাকে পল্লী চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে পানিতে ডুবে আপন দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জুন) বিকেলে সন্ধ্যানপুর ইউনিয়নের গারো চালাগ্রামের ডোবা থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহতরা হলেন- ইউনিয়নের গারো চালাগ্রামের শাহজাহান আলী (৬০) ও তার ভাই নূরুল ইসলাম (৫৭)। তারা বিয়েও করেছেন আপন দুইবোনকে। দু’জনই কৃষক।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ফারুক মিয়া জানান, সকালের নাস্তা করে তারা দুই ভাই জমির আইল ছাঁটতে যান। দুপুর হলেও তারা বাড়ি ফিরে আসেননি। দুপুর থেকে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বিকেল ৪টার দিকে বাড়ির পাশেই ছোট ডোবায় শাহজাহানের মরদেহ ভাসতে দেখেন তার স্ত্রী জায়েদা বেগম (৫০)। পরে নূরুল ইসলামেরও মরদেহ উদ্ধার করা হয় ওই ডোবা থেকেই।
পরিবারের সদস্যদের জানান দুই ভাইয়ের মধ্যে কেউ সাঁতার জানতেন না।
সন্ধানপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম শহীদ জানান, ধারণা করা হচ্ছে সাঁতার না জানার কারণেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।
ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম সরকার জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পানিতে ডুবেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে যদি কোনো আপত্তি না থাকে তবে লাশ দাফন করার জন্য অনুমতি দেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে অনিল চন্দ্র দাস (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ছাগল চুরির সন্দেহে গোড়াই দক্ষিণ নাজিরপাড়া গ্রামের শাহিনুরের ছেলে রাফি (১৮) ও তার সহযোগীরা লাঠি দিয়ে পিটিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে নিহতের পরিবার।
মঙ্গলবার (১৪ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার গোড়াই শিল্পাঞ্চল এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে মর্গে প্রেরণ করেছে।
নিহত অনিল চন্দ্র দাস কালিহাতী উপজেলার আগচারান গ্রামের রাজেন্দ্র চন্দ্র দাসের ছেলে। তারা গোড়াই নাজিরপাড়া এলাকার মেছের আলীর বাড়িতে ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। স্ত্রী আন্নারানী দাস গোড়াই সাউথ ইস্ট ফেব্রিকস কারখানায় চাকরি করেন। অনিল রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্র জানায়, দক্ষিণ নাজিরপাড়া গ্রামের শাহিনুরের একটি ছাগল চুরি হয়। মঙ্গলবার দুপুরে শাহিনুরের ছেলে রাফি লাঠি হাতে কয়েকজন সহযোগী নিয়ে দক্ষিণ নাজিরপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী আলম মিয়াকে ছাগল চুরির অপবাদ দিয়ে হুমকি দেন। এ সময় তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে তারা চলে আসেন। পথে আওয়ামী লীগ নেতা শওকত হোসেন ফালু মিয়ার বাড়ির পাশে মসজিদের সামনে অনিল চন্দ্র দাসকে ছাগল চুরির অপবাদ দেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।
এক পর্যায়ে রাফি ও তার সহযোগীরা লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই অনিল মারা যান। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে গোড়াই এলাকার রংধনু নামের একটি ক্লিনিকে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে ক্লিনিকের সামনে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে ভ্যানের ওপর মরদেহ রেখে স্থানীয়রা চলে যান।
খবর পেয়ে মির্জাপুর থানা পুলিশ সুরতহাল শেষে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে মর্গে প্রেরণ করে।
অনিলের স্ত্রী আন্নারানী দাস বলেন, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে স্বামী অনিল চন্দ্র দাসকে ঘুমন্ত রেখে তিনি কারখানায় যান। দুপুর ২টার দিকে বাসায় ফেরার পথে ভ্যানের ওপর স্বামীর মরদেহ দেখে বাড়ির মালিককে জানান। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
গোড়াই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার আদিল খান জানান, রাফি তার সহযোগীদের নিয়ে ছাগল চুরির অপবাদ দিয়ে অনিল চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে খুন করেছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন।
এদিকে ঘটনার পর থেকে পলাতক রাফি। যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরে রাফির বাবা শাহিনুরের মোবাইলে কল দিলে নিলুফা বেগম নামের এক নারী তার ফুপু পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘রাফি ও তার বাবা বাড়িতে নেই। পুলিশ এসে বাড়ি তল্লাশি করে কিছু না পেয়ে ভাইয়ের মোটরসাইলে নিয়ে গেছে।’
মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আইয়ুব খান জানান, গোড়াই দক্ষিণ নাজিরপাড়া গ্রামের শাহিনুরের ছেলে রাফি ও তার কয়েকজন সহযোগী অনীল চন্দ্র দাসকে ছাগল চুরির অপবাদ দিয়ে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে খুন করেছে বলে লোকমুখে জানতে পেরেছি। পুলিশ রাফিসহ তার সহযোগীদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান চালাচ্ছেন বলে তিনি জানান।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণের মানববন্ধনে গিয়ে আইয়ুব আলী খান (৫৫) নামের এক কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুন) দুপুরে টাঙ্গাইলের আদালত চত্বরের সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
মারা যাওয়া আইয়ুব আলী জেলার কালিহাতী শাজাহান সিরাজ কলেজের কৃষি শিক্ষা বিভাগের প্রদর্শক (প্যাকটিক্যাল ক্লাস করান) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের টাঙ্গাইল জেলার সভাপতি একেএম আব্দুল আউয়াল বলেন, ‘বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে মঙ্গলবার মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। আইয়ুব আলী ওই মানববন্ধনে অংশ নেন। এসময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আইয়ুব আলীকে মৃত ঘোষণা করেন। আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি- তিনি হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন।’
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক খালিদ হক তমাল জানান, ‘আইয়ুব আলীকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। কি কারণে তার মৃত্যু হয়েছে, এটা ময়নাতদন্ত ছাড়া বলা সম্ভব না।’