একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী দুজন নিহত হয়েছেন। তারা হলেন-নাটোর জেলার বাসিন্দা হাফিজুর রহমান (৩৬) ও আরিফুল (৩৫)।
শুক্রবার (৮ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উপজেলার জামুর্কী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গোড়াই হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মো. বিল্লাল বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তারা দুজন মোটরসাইকেল নিয়ে ঢাকা থেকে নাটোরে যাচ্ছিলেন। জামুর্কী এলাকায় পৌঁছালে একটি ট্রাক তাদের ধাক্কা দেয়। এ সময় একজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। অপরজন কুমুদিনী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ ঈদকে কেন্দ্র করে মহাসড়কে গাড়ির চাপ বেড়েছে। অতিরিক্ত যানবাহন ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি বিকল হওয়ায় ঢাকা-টাঙ্গাইল বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব পাড় থেকে শহরের রাবনা বাইপাস পর্যন্ত উত্তরবঙ্গগ্রামী লেনে দীর্ঘ ২০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (৬ জুলাই) রাত থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে গাড়ির চাপ বৃদ্ধি পায়। বৃহস্পতিবার (৭ জুলাই) ভোর রাত থেকে এ যানজট দেখা দেয়। ফলে কুরবানির ঈদে ঘরমুখো নারী ও শিশুসহ সকল বয়সী মানুষ চরম বিপাকে পড়েছেন।
পুলিশ জানায়, মহাসড়কে ফিটনেসবিহীন বেশ কয়েকটি যানবাহন বিকল হওয়ায় যানজটের সৃষ্টি হয়। যানজট নিরসনে পুলিশ এলেঙ্গা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত দুই লেনের সড়ক একমুখী করেছে। ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী যানবাহন এলেঙ্গা থেকে সেতুর দিকে যাচ্ছে। অপরদিকে, উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকামুখী যানবাহন সেতু পার হয়ে ভূঞাপুর সড়ক দিয়ে এলেঙ্গা হয়ে ঢাকায় যাচ্ছে। তবে উত্তরবঙ্গ থেকে গরুবাহী ট্রাক একমুখী সড়কের আওতায় বাইরে রয়েছে।
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানজটে আটকে থাকা শহরের রাবনা বাইপাস, রসুলপুর, পৌলিং ও এলেঙ্গায় গাড়ি চালক ও যাত্রীরা জানান, প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা ধরে এই মহাসড়কে যানজটে আটকে আছি। এতে করে সীমাহীন দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রচন্ড গরমে পানি ও ক্ষুদায় কষ্ট করতে হচ্ছে। উত্তরবঙ্গগামী লেনে দিনাজপুরগামী বাসের যাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইশিতা আক্তার জানান, আড়াই ঘণ্টা যাবৎ রসুলপুরে যানজটে আটকে আছি। কখন যানজট ছাড়বে জানি না। কেউ কিছু বলতে পারছে না। পরিবারের সদস্যদের সাথে ঈদ করার জন্য বাড়ি যাচ্ছি। কখন বাড়ি পৌঁছাবো তাও জানি না। অন্য দিকে এলেঙ্গায় রাজশাহীগামী বাসের যাত্রী আশিকুর রহমান জানান, প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে এলেঙ্গায় আটকা পড়ে আছি। গাড়ির যাত্রীরা সবাই সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। বিশেষ করে গাড়ীতে থাকা নারী ও শিশুদের অবস্থা বেশি করুণ।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, ফিটনেসবিহীন বিকল হওয়া কয়েকটি যানবাহন রেকার করে সরাতে সময় লেগেছে। এছাড়া, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ রয়েছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে। এদিকে উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকাগামী লেনে যানবাহন চলাচল অনেকটা স্বাভাবিক রয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী শিহাবের মৃত্যুর ঘটনা সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ এবং মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা। একইসঙ্গে এ ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (৬ জুলাই) সকালে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘প্রশাসনের আশ্বাসে আমরা আন্দোলন স্থগিত করে ঘরে ফিরে গিয়েছিলাম, কিন্তু ঘটনার পর ১৬ দিন পেরিয়ে গেলেও তদন্তে কোনো অগ্রগতি দেখাতে পারেননি তারা।’

তারা আরও বলেন, ‘আমরা জানতে চাই শিহাব হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের পর কেন শিহাবের পরিবারকে থানায় প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। আটক করার পরও কেন আসামিদের ছেড়ে দেওয়া হলো।’
এ ছাড়াও, শিহাবের মৃত্যুর ঘটনকে আত্মহত্যা বলে চালানোর জন্য যারা বা যেসব মহল পায়তারা করেছে এবং প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।
শিহাবের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন শিক্ষার্থীরা।
সমাবেশে শিহাবের বাবা ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘আমি একজন সাধারণ মানুষ। প্রবাসে পরিশ্রম করে রোজগার করা টাকায় ভাল লেখাপড়ার আশায় সন্তানকে তাদের কাছে পড়তে দিয়েছিলাম। কিন্তু বিনিময়ে আমি আমার সন্তানের লাশ পেয়েছি।’
জানতে চাইলে শিহাব হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এবং টাঙ্গাইল সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হাবিবুর রহমান বলেন, ‘মামলায় গ্রেপ্তার এক আসামি রিমান্ডে পুলিশকে যেসব তথ্য দিয়েছেন সেগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার রহস্য উদঘাটনে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।’

প্রকাশ, গত ২০ জুন টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার বেরবাড়ি গ্রামের প্রবাসী ইলিয়াস হোসেনের পুত্র শিহাবকে (১১) সৃষ্টি স্কুলের ছাত্রাবাসে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তবে, স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি শিহাব ছাত্রাবাসের বাথরুমে গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তবে, শিহাবের মরদেহের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে শ্বাসরোধে মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করা।
ওই ঘটনার ছয়দিন পর গত ২৭ জুন শিহাবের মা আসমা আক্তার বাদী হয়ে আবু বক্করসহ সৃষ্টি স্কুলের ৬ আবাসিক শিক্ষককে আসামি করে টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এরপর পুলিশ গ্রেপ্তার শিক্ষক আবু বক্করকে ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠান।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের ডাকপ্লেগ রোগের মেয়াদোত্তীর্ণ ভ্যাকসিন প্রয়োগের পর রিপন সিকদার নামের এক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার প্রায় ১৪০০ হাঁসের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা রিপন সিকদার দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত রিপন জেলার বাসাইল উপজেলার ফুলকী ইউনিয়নের ময়থা উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে বেকার অবস্থায় থাকা যুবক রিপন সিকদার ৪২ শতাংশ জমি লিজ নিয়ে ঘর তৈরি করে হাঁসের খামার করেন। প্রথম অবস্থায় তিনি এক হাজার হাঁস নিয়ে খামার শুরু করেন। প্রথমে তার বেশ কিছু টাকা লাভ হয়। এরপর দ্বিতীয়বারে তিনি নাগেশ্বরী জাতের ডিমের জন্য ১৭৩০টি হাঁসের বাচ্চা ও মাংসের জন্য বেলজিয়াম জাতের ৭০টিসহ মোট ১৮০০টি হাঁসের বাচ্চা খামারে তুলেন। বাচ্চাগুলোর এক মাস বয়সে গত ৫ জুন রিপন সিকদার বাসাইল উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে ভ্যাকসিনের দায়িত্বে থাকা উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (সম্প্রসারণ) জাহিরুল ইসলামের কাছে ডাকপ্লেগ রোগের ভ্যাকসিনের জন্য যান। ওই সময় জাহিরুল ইসলাম তাকে ১৯টি ভ্যাকসিনের বোতল দেন। এরপর ৭ জুন রিপন হাঁসগুলোকে ওই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করেন। ভ্যাকসিন প্রয়োগের একদিন পর থেকে হাঁসগুলো মারা যেতে শুরু করে। ক্রমেই মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকে। কয়েকদিনের ভেতরে প্রায় ১৪০০ হাঁসের মৃত্যু হয়। ওই সময় ভ্যাকসিনের বোতল চেক করলে দেখা যায় চলতি বছরের ২০ মে ভ্যাকসিনটির মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে।
রিপনের স্ত্রী তানিয়া আক্তার জানান, ‘উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় থেকে ভ্যাসকিন আনার পর প্রায় ১৭০০ হাঁসকে প্রয়োগ করা হয়। আর বাকিহাঁসগুলোকে একটি কোম্পানির ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের ভ্যাকসিন প্রয়োগের পরেরদিন থেকে হাঁস মারা যাওয়া শুরু হয়। একদিনেই প্রায় ৫০০ হাঁসের মৃত্যু হয়। এভাবেই প্রায় ১৪০০ হাঁস মারা গেছে। এরপর বাকি প্রায় ৪০০ হাঁসকে বিলে ছেড়ে দেওয়া হয়। সেখানেও হাঁস মারা যাচ্ছে। ঋণ নিয়ে এই খামারটি করেছিলাম। আমরা এখন নিঃস্ব হয়ে গেলাম।’
ক্ষতিগ্রস্ত রিপন সিকদার জানান, ‘গত ৫ জুন আমি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে ভ্যাকসিনের দায়িত্বে থাকা জাহিরুল ইসলামের কাছে হাঁসের ডাকপ্লেগ রোগের ভ্যাকসিন আনতে যাই। তিনি আমাকে ১৯টি ভ্যাকসিনের বোতল দেন। এরপর আমি ৭ জুন প্রায় ১৭০০ হাঁসকে ওই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করি। ভ্যাকসিন প্রয়োগের পরেরদিন থেকে হাসগুলো মারা যেতে শুরু করে। একদিনে ৫০০ হাঁসের ওপরেও মারা গেছে। এভাবে কয়েকদিনের মধ্যে আমার খামারের প্রায় ১৪০০ হাঁস মারা গেছে। মৃত হাঁসগুলো মাটিতে পুতে রাখা হয়েছে। এরপর বাকি জীবিত হাঁসগুলো বিলে ছেড়ে দেওয়া হয়। সেগুলোও মারা যাচ্ছে।’
তিনি আরও জানান, ‘হাঁসগুলো মারা যেতে থাকলে ভ্যাকসিনের বোতল চেক করে দেখি প্রায় এক মাস আগে ভ্যাকসিনের মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে। জাহিরুল ইসলামের ভুলের কারনে আমার প্রায় ৭ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনার পর আমি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে গেলে জাহিরুল ইসলাম, তার ভুল হয়েছে বলে জানায়। তবে আমি ঋণ নিয়ে এই হাঁসের খামারটি করেছি। এই ক্ষতি আমার জীবন শেষ করে দিয়েছে। এই ক্ষতি পোষানোর মতো আমার ক্ষমতা নেই। এ কারণে আমি ক্ষতিপূরণ দাবি করছি। এ ঘটনায় আইনের আশ্রয় নেওয়া হবে।’
স্থানীয় বাসিন্দা শামছুল হক জানান, ‘রিপন ঋণ করে এই খামারটি করেছিল। প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের কর্মকর্তার ভুলের কারণে রিপনের অনেক ক্ষতি হয়ে গেলো। অভিযুক্ত কর্মকর্তার শাস্তি ও পাশাপাশি রিপনকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবী জানান তিনি।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য সুমন সরকার জামাল জানান, ‘একজন কর্মকর্র্তার ভুলের কারনে রিপনের ১৪০০ থেকে ১৫০০ হাঁসের মৃত্যু হয়েছে। রিপনের অনেক টাকা ক্ষতি হয়ে গেলো। এলাকাবাসী হিসেবে রিপনের ক্ষতিপূরণের দাবি জানাচ্ছি।’
এ বিষয়ে উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (সম্প্রসারণ) অভিযুক্ত জাহিরুল ইসলাম জানান, ‘রিপন নামের ওই ছেলেটা আমার কাছে গত ৬ জুন এসেছিল। পরে তাকে ২০টি ডাকপ্লেগ রোগের ভ্যাকসিন দেয়া হয়। কয়েকটি হাঁস মারা যাওয়ার পর রিপন আমার কাছে এসে ১০টি ভ্যাকসিন ফেরত দিয়ে গেছে। পরে চেক করে দেখি ২০ মে ভ্যাকসিনের মেয়াদ শেষ হয়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ ওই ভ্যাকসিন গুলো দেখে আমাদের অফিসে থাকা বাকিগুলো ফেলে দিয়েছি। হঠাৎ করে আবার এসে সে বলছেন তার সর্বমোট ১৪০০ হাঁস মারা গেছে। ভ্যাকসিন গুলো তাকে দেওয়ার সময় আমি মেয়াদটি খেয়াল করিনি,এটাই আমার ভুল হয়েছে। তবে ভ্যাকসিনের মেয়াদ না থাকলে উপকার না হলেও ক্ষতি হবার কোন কারণ নেই বলে দাবি করেন তিনি।’
বাসাইল উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্র্তা ডা. ফারুক আহাম্মদ জানান, ‘আমি এখানে নতুন এসেছি। এখানে এসেই হাঁসগুলোর মৃত্যুর ঘটনাটি জেনেছি। মেয়াদোত্তীর্ণ ভ্যাকসিন বিতরণ করে থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়াও ভুক্তভোগীকে প্রণোদনার মাধ্যমে সহায়তা করা হবে।’
এ বিষয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রানা মিয়া জানান, ‘এ ঘটনায় ওই কর্মকর্তার কোনও গাফিলতি থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার চরপাড়া গ্রামে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন করছে এক কিশোরী। বুধবার (৬ জুলাই) সকালে ফাজিলহাটি ইউপি চেয়ারম্যান শাহাদাৎ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
জানা গেছে, শনিবার (২ জুলাই) বিকেলে প্রেমিক পায়েলের বাড়িতে গিয়ে ওঠেন ওই কিশোরী। এ সময় বাড়িতে প্রেমিকার অবস্থানের কথা শুনে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান প্রেমিক পায়েল। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা ফাজিলহাটি ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের খোরশেদ আলমের ছেলে পায়েলের সঙ্গে চলাফেরার সুবাদে পরিচয় হয় ওই কিশোরীর। এরপরে দু’জনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রেমিক পায়েল ওই কিশোরীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়।কিছুদিন আগে মেয়েটি পায়েলকে বিয়ের কথা বললে, সে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। পরে শনিবার বিকেল থেকে কিশোরী প্রেমিক পায়েলের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অনশন শুরু করে।
অনশনরত এই কিশোরী জানান, পায়েল আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। সে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেছে।এখন বিয়ের কথা বললে, তালবাহানা করছে। অনশন অবস্থায় আমাকে জোর করে কয়েকবার বাড়ি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
অনশন প্রসঙ্গে, স্থানীয় ইউপি সদস্য সেকান্দার আলী জানান, বিষয়টি শুনেছি। তবে ওই বাড়িতে যাওয়া হয়নি।
এ প্রসঙ্গে, ফাজিলহাটি ইউপি চেয়ারম্যান শাহাদাৎ হোসেন জানান, বিষয়টি শুনেছি। দু’পক্ষের লোকজনকে ডেকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল পৌরসভার অনুকূলে অত্যাধুনিক বাস ও ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণের জন্য ৪ দশমিক ৯৪ একর ভূমি বরাদ্দ দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে আনন্দ শোভাযাত্রা করা হয়েছে।
বুধবার (৬ জুলাই) সকালে টাঙ্গাইল শহরের দেওলা এলজিইডি মোড় থেকে আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়ে গুরত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাবনা বাইপাস এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।
সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন, টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র এস এম সিরাজুল হক আলমগীর, জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আশরাফউজ্জামান স্মৃতি, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী, টাঙ্গাইল প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ, প্যানেল মেয়র হাফিজুর রহমান স্বপন, কাউন্সিলর কামরুজ্জামান মামুন, আমিনুর রহমান আমিন, জেলা বাস মিনিবাস শ্রমিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক চিত্তরঞ্জন সরকার প্রমুখ।
আনন্দ শোভাযাত্রা শেষে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রানুয়ারা খাতুন অত্যাধুনিক বাস ও ট্রাক টার্মিনালের জন্য বন্দোবস্তের চিঠি টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র এস এম সিরাজুল হক আলমগীরের কাছে হস্তান্তর করেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা, পৌর ও সরকারি জিবিজি কলেজ শাখা ছাত্রদলের এক যৌথ পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঘাটাইল পৌর শহরের দক্ষিণ পাড়া এলাকায় মঙ্গলবার (৫ জুলাই) বিকেলে ওই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র নির্বাহী কমিটির সদস্য ওবায়দুল হক নাসির।
ঘাটাইল উপজেলা ছাত্রদলের আহব্বায়ক নাসির উদ্দিন রনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভা সঞ্চালনা করেন উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব এডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম।
সভার উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রদলের আহব্বায়ক দূর্জয় হোড় শুভ। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব এম এ বাতেন। বিশেষ বক্তা ছিলেন ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মেসকাত হোসেন তনয়। বিশেষ অতিথি ছিলেন, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাজেদ শিকদার, এস এম নূর নবী আহমেদ।
এছাড়া সভায় বক্তব্য রাখেন ঘাটাইল উপজেলা বিএনপির আহব্বায়ক সিরাজুল হক ছানা, সদস্য সচিব বিল্লাল হোসেন, যুগ্ন আহব্বায়ক শাহিনুর রহমান।
পৌর বিএনপির আহব্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা বাসেত করিম, সদস্য সচিব আনোয়ার হোসেন হেলাল, সদস্য রফিকুল ইসলাম।
উপজেলা যুবদলের আহব্বায়ক আব্দুল্লাহ আল মামুন বুলবুল, সদস্য সচিব মাহবুব হাসান সৌরভ, যুগ্ন আহব্বায়ক আবু হান্নান।
পৌর যুবদলের সভাপতি সাদিক মাহমুদ টিটু, সাধারণ সম্পাদক পারভেজ মিয়া।
স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ন-আহব্বায়ক সারোয়ার জাহান, সদস্য সচিব শাহিন মিয়া। পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব কামরুল ইসলাম। শ্রমিক দলের সদস্য সচিব খোকন মিয়া।
উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ন-আহব্বায়ক সোহান খান, জাহাঙ্গীর আলম খান, আসাদুল ইসলাম নিশাত।
পৌর ছাত্রদলের আহব্বায়ক বিজয় হাসান, সদস্য সচিব মোঃ রোকন, সিনিয়র যুগ্ন আহব্বায়ক মোঃ নিশাত। সরকারি জিবিজি কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহব্বায়ক মেহেদি হাসান স্বপন, সিনিয়র যুগ্ন আহব্বায়ক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, সদস্য সচিব মোঃ আশিক হোসেন, সদস্য রতন খান প্রমুখ।
ঘাটাইল উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে যথাযথ অনুমোদন সাপেক্ষে পূর্বনির্ধারিত প্রোগ্রাম করতে না দেয়ার পরও নেতৃবৃন্দের অক্লান্ত পরিশ্রমে তাৎক্ষণিক একই সময়ে অন্যত্র জায়গায় এত সুন্দর একটি আয়োজন করার জন্যে সভায় উপস্থিত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান বিএনপি’র নির্বাহী কমিটির সদস্য ওবায়দুল হক নাসির। এভাবেই ষড়যন্ত্রকারীদের সকল বাঁধা পেরিয়ে দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ ঘাটাইল বিএনপি এবং এর সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কার্যক্রম এগিয়ে যাবে বলে বলিষ্ঠ কণ্ঠে সভায় উল্লেখ করেন তিনি।
উল্লেখ্য,চলতি বছরের মার্চে ঘাটাইল উপজেলা, পৌর ও সরকারি জিবিজি কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহব্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে জেলা ছাত্রদল।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে দেড় লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার দায়ে স্বামীকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক খালেদা ইয়াসমিন। মঙ্গলবার(৫জুলাই) দুপুরে আসামীর উপস্থিতিতে তিনি ওই রায় ঘোষনা করেন তিনি।
দন্ডিত ব্যক্তি টাঙ্গাইল পৌর শহরের আদি টাঙ্গাইল এলাকার মৃত আ: সালামের ছেলে মো: সুজন মিয়া (৩৫)।
টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের এপিপি মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুস জানান, প্রায় ১৪ বছর পূর্বে মো: সুজন মিয়ার সাথে আদি টাঙ্গাইল দাসপাড়া (মাঝিপাড়া) শিউলী আক্তারের (২৭) বিয়ে হয়। বিয়ের পর দেড় লক্ষ টাকা যৌতুকের দাবিতে তার স্বামী বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতো। ২০১৪ সালের ১৭ জুন সকাল ১১ টার দিকে তার স্বামী ঘরের দরজা বন্ধ করে যৌতুকের টাকার জন্য মারপিট করে। পরে পরিকল্পিতভাবে সেভেনআপের বোতল ভর্তি কেরোসিন তেল ঢেলে তার স্ত্রীর শরীলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এসময় তার ডাক চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। ঘটনার পরের দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিউলী আক্তারের মৃত্যু ঘটে। পরে তার ভাই মো: শিবলু মিয়া বাদী হয়ে ২০১৪ সালের ১৮ জুন টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার দেওভোগ দক্ষিণপাড়া এলাকার ক্লু-লেস হযরত আলী হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) টাঙ্গাইল।
হত্যাকান্ডে জড়িত নিহত হযরত আলীর নাতি আসিফকে গ্রেফতার করেছে পিআইবি। সোমবার (৪ জুলাই) দুপুরে এক প্রেসবিফিং এর মাধ্যমে এ তথ্য জানান পিবিআই।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০২১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় হযরত আলী ও তার বড় ছেলে জাহাঙ্গীর এবং নাতি আসিফ কুমুল্লির বিলে নিজেদের জায়গায় পানি সেচে মাছ ধরতে যায়। সেখান থেকেই নিখোঁজ হয় হযরত আলী। পরে ২০২১ সালের ৩ মার্চ সকালে বাদীর চাচাতো ভাই মোস্তফা ঘটনাস্থলের পাশে ইরি ক্ষেতে সার দিতে গিয়ে দূর্গন্ধ পায়। পরে সে তার ক্ষেতের পাশে পুকুরে কচুরী পানার মধ্যে একটি লাশ দেখতে পায়। এ সময় তার ডাক- চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসে। পরে বাদী সুজন মোল্লা তার পিতার লাশ সনাক্ত করে। এ বিষয়ে মির্জাপুর থানায় অজ্ঞাতনামা একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। পরে মামলাটি পিবিআই তদন্তভার গ্রহণ করে। পিবিআই এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সিরাজ আমীনের দিক নির্দেশনায় তথ্য প্রযুক্তি এবং বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ পরিদর্শক খন্দকার আশরাফুল কবির ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিরস্ত্র) ফরহাদ হোসেনের নেতৃত্বে একটি চৌকশ দল অভিযান পরিচালনা করে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার লাউহাটি এলাকা থেকে আসিফ (১৮) কে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার হওয়া আসিফ জানায়, হযরত আলী, সে ও তার মামা জাহাঙ্গীর মোল্লা ঘটনার রাতে মাছ ধরতে যায়। পরে জাহাঙ্গীর পিছন থেকে হযরত আলীকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে। এ সময় আসিফকে তার মামা জাহাঙ্গীর হত্যার বিষয়ে কাউকে কিছু বলতে নিষেধ করে এবং লাশ গুম করার জন্য সহযোগিতা করতে বলে। লাশ গুম করতে যদি সহযোগীতা না করে তাহলে তাকেও হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেয় জাহাঙ্গীর। পরে আসিফ ও তার মামা হযরত আলীর লাশ পুকুরের এক পাশে কচুরি পানা দিয়ে ঢেকে রাখে এবং রক্ত পানি ও কাঁদা দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করে রাখে। পরে তারা বাড়ি চলে যায়।
টাঙ্গাইল পিবিআই পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সিরাজ আমীন জানান, জায়গা জমির ভাগ বাটোয়ার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বাপ-ছেলের মধ্যে বিরোধ চলছিল। আর এ কারণেই এই হত্যাকান্ড। রোববার(৩জুলাই) হত্যাকান্ডে জড়িত হযরত আলীর নাতি আসিফকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নিহত হযরত আলীর বড় ছেলে জাহাঙ্গীর মোল্লা আগে থেকেই কারাগারে রয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় আব্দুল্লাহ (৭) নামে এক মাদ্রাসাছাত্র নিহত হয়েছে।
রোববার (৩ জুন) দুপুরের উপজেলার আলমনগর বাজার এলাকায় ওই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আব্দুল্লাহ আলমনগর গ্রামের আফাজ উদ্দিনের ছেলে। সে আলমনগর দাখিল মাদরাসার নুরানী শাখার প্রথম শ্রেণির ছাত্র ছিল।
আলমনগর দাখিল মাদরাসার সুপার আমিনুল ইসলাম মারুফি জানান, আব্দুল্লাহ মাদ্রাসা ছুটির পর সড়কের পাশ দিয়ে সহপাঠী বন্ধুর সঙ্গে বাড়ি ফিরছিল। পথে বাজার এলাকায় একটি অটোরিকশা আসতে দেখে সহপাঠী ও আব্দুল্লাহ দু’দিকে দৌড় দেয়।
তিনি আরো জানান, এ সময় অটোরিকশার চালক একজনকে বাঁচাতে গাড়ি ঘোরানোর সময় আবদুল্লাহকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। আহতাবস্থায় স্থানীয়রা শিশুটিকে উদ্ধার করে গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে স্কুল ছাত্রাবাসে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী শিহাবের মৃত্যুর দুই সপ্তাহ পার হলেও তদন্তের অগ্রগতি ও তদন্তকারীদের আচরণ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ জানিয়েছে নিহত শিহাবের পরিবার।
রোববার (৩ জুলাই) এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় একমাত্র গ্রেপ্তারকৃত আসামি স্কুলের আবাসিক শিক্ষক আবু বক্করকে ৫ দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠিয়েছেন বিজ্ঞ-আদালত।
রোববার সকালে সদর থানা পুলিশ ৫ দিনের রিমান্ড শেষে আবু বক্করকে টাঙ্গাইলের সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রট শামছুল আলমের আদালতে উপস্থাপন করলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন আদালত পরিদর্শক তানভীর আহম্মেদ।
শিহাবের বাবা ইলিয়াস হোসেন জানান, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মামলার এজহারভুক্ত বাকি ৫ আসামির কাউকে এখনো গ্রেপ্তার করেনি।
তিনি আরো জানান, স্কুলের মালিকপক্ষ ধনাঢ্য ও প্রভাবশালী হওয়ায় একইসঙ্গে তদন্তকারীদের আচরণে আমি এখন সন্তান হত্যার ঘটনায় ন্যায়বিচার না পাওয়ার আশঙ্কা করছি।
উল্লেখ্য, গত ২০ জুন সখীপুর উপজেলার বেরবাড়ি গ্রামের প্রবাসী ইলিয়াস হোসেনের ছেলে শিহাবকে (১১) টাঙ্গাইল সৃষ্টি একাডেমী স্কুলের হোস্টেলে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে স্কুল কর্তৃপক্ষ দাবি করেন, শিহাব হোস্টেলের সপ্তম তলার একটি বাথরুমে ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
পরে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে শিহাবের মৃত্যু শ্বাসরোধ বা গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
ঘটনার ৬ দিন পর গত ২৬ জুন শিহাবের মা আসমা আক্তার আবু বক্করসহ ওই স্কুলের ৬ আবাসিক শিক্ষককে আসামি করে টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এ প্রসঙ্গে, টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন জানান, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষকের দেওয়া তথ্যগুলো যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে যমুনা নদীর ওপর নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধু রেল সেতুর এক সাইট প্রকৌশলী ট্রেনের ধাক্কায় নিহত হয়েছে। শনিবার (২ জুলাই) রাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়েছে।
নিহত ওই প্রকৌশলীর নাম জাবের খান জনি (২৪)। তিনি বঙ্গবন্ধু রেল সেতুর কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশন কোম্পানির সাইট প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
এর আগে বিকেলে কাজ শেষে কালিহাতী উপজেলার বিয়ারামারুয়া এলাকায় রেললাইনের ওপর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় মোবাইলে কথা বলছিলেন জাবের খান জনি। এ সময় জামালপুরগামী ধলেশ্বরী এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় তিনি গুরুতর আহত হন।
নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধু রেল সেতুর কর্মীরা জানান, বিকেলে কাজ শেষে মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে বিয়ারামারুয়া এলাকায় রেললাইন পার হচ্ছিলেন জাবের খান জনি। এ সময় বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব রেলস্টেশন থেকে ছেড়ে আসা জামালপুরগামী ধলেশ্বরী এক্সপ্রেস ট্রেনটি তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তার পা বিচ্ছিন্ন হয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান। পরে তাকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করেন।
নিহতের খালাতো ভাই জায়েদ জানান, দুর্ঘটনার পরই তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে জনির মৃত্যু হয়।