একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে নদীতে গোসল করতে এসে প্রিয়াঙ্কা বণিক (৬) নামে একটি শিশু নিখোঁজ হয়েছে।
শুক্রবার (২২ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
প্রিয়াঙ্কা মির্জাপুর উপজেলার সাহাপাড়া গ্রামের প্রবীর বণিকের মেয়ে।
জানা গেছে, সকালের দিকে প্রিয়াঙ্কা তার দাদীর সঙ্গে লৌহজং নদীর দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার বাড়ির ঘাটে গোসলে নেমে পানিতে তলিয়ে নিখোঁজ হয়।
খবর পেয়ে টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিসের ডুবরি দল মির্জাপুরে এসে নদীর ওই স্থানের আশপাশে উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে।
মির্জাপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র তাপস সাহা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
একতার কণ্ঠঃ: টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলাকে ভূমি ও গৃহহীন ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি টাঙ্গাইলের তৃতীয় পর্যায় দ্বিতীয় ধাপে ৩৪৯ জন গৃহহীন পরিবারের মধ্যে জমিসহ বাড়ির কবুলিয়ত দলিল হস্তান্তর কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গোপালপুর উপজেলায় মোট ১৯৪টি পরিবারকে ভূমিহীন ও গৃহহীন (‘ক’ শ্রেণির পরিবার হিসাবে) চিহ্নিত করা হয়। এদের মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ৬৮টি, দ্বিতীয় পর্যায়ে ৯০টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়। কিন্তু এদের মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে বরাদ্দ পাওয়া ১০টি পরিবার জীবিকার তাগিদে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় চলে যাওয়ায় ১০টি বাড়ির বরাদ্দ বাতিল করে পূর্বের তালিকাভুক্ত পরিবার থেকে নতুন করে ১০টি পরিবারকে বাছাই করা হয়। বাছাইকৃত ওই পরিবারগুলোকে খালি বাড়িগুলোতে পুনর্বসন করা হয়েছে।
এছাড়া অত্র উপজেলায় ‘ক’ শ্রেণির ভূমি ও গৃহহীন ছিল ২৬টি পরিবার। সর্বশেষ তৃতীয় পর্যায়ে ওই ২৬টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। সেহেতু অত্র উপজেলায় কোনো ভূমিহীন ও গৃহহীন অর্থাৎ ‘ক’ শ্রেণির পরিবার অবশিষ্ট নেই।
প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর হস্তান্তরের সময় টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক, টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন, জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনি, টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর, স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক শামীম আরা রিনি, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আমিনুল ইসলাম, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ প্রমুখ।
জেলা প্রশাসক মো. আতাউল গনি জানান, জেলায় তিন হাজার ২০৬টি ভূমিহীন, গৃহহীন পরিবার চিহ্নিত করা হয়। এদের মধ্যে দুই হাজার ৯৯৩টি পরিবারকে বাড়ি দেওয়া হয়েছে। এ জেলায় অবৈধ দখলে থাকা ১৫০ বিঘা খাস জমি উদ্ধার করা হয়েছে। এই জমির মূল্য প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। উদ্ধার করা জমিতে আশ্রয় প্রকল্পের বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছে সারা বাংলাদেশে একজন মানুষও ভূমি ও গৃহহীন থাকবে না। তারই অংশ হিসেবে সারা বাংলাদেশে আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে গৃহহীনদের গৃহ নির্মাণ করে দেওয়া হচ্ছে। ইতোপূর্বে যে সব গৃহহীনদের মধ্যে ঘর হস্তান্তর করা হয়েছে। সেই সব আশ্রয়ণে বিশুদ্ধ পানি, বিদ্যুৎ, বৃক্ষরোপন করা হয়েছে। এছাড়াও গৃহহীনদের স্বাবলম্বী করতে সেলাই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। বন্যায় ভাঙনের শিকার হয়ে যে সব মানুষ গৃহহীন ও ভূমিহীন হয়েছে তাদেরও তালিকা প্রস্তুত করে বাড়ি নির্মাণ করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ: টাঙ্গাইলে পরকীয়া প্রেমিকাকে সন্তুষ্ট করতে না পারায় ওড়না দিয়ে মুখ চেপে ধরে খুন করা হয় প্রেমিক শফিকুল ইসলামকে। পরে তার মরদেহ বস্তায় ভরে পাশের ব্রিজের নিচে ফেলে দেওয়া হয়। পরকীয়া প্রেমিকা মোরশেদা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এসব তথ্য জানান।
মোরশেদা আক্তার (৩৩) নাগরপুর উপজেলার পাকুটিয়া ইউনিয়নের মানড়া নয়াপাড়া গ্রামের সিঙ্গাপুর প্রবাসী বাবুল হোসেনের স্ত্রী।
বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) দুপুরে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মোরশেদার দেবর বারেক ও ভাসুর ফুলচানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
স্বীকারোক্তিতে মোরশেদা জানান, প্রতিবেশি মৃত সমেশ আলীর ছেলে শফিকুল ইসলাম (৪৫) নানা রোগে জর্জরিত। তার স্বামী বাবুল হোসেন ১ বছর ধরে সিঙ্গাপুরে চাকুরি করছেন।
সম্প্রতি শফিকুল সুসম্পর্কের (পরকীয়ার) জের ধরে তার সাথে জোর করে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। পরকীয়ার সম্পর্ক থাকাকালে অসুস্থতার কারণে শফিকুল কখনোই মোরশেদাকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি।
সোমবার (১৮ জুলাই) বিকালে শফিকুল আবারও মোরশেদা আক্তারের বাড়িতে যান। ওই সময় বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে শফিকুল ইসলাম তার পরকীয়া প্রেমিকা মোরশেদা আক্তারের সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতে চায়।
এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে বাগবিতন্ডার এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। বাড়ির টিউবওয়েলের কাছে ধস্তাধস্তির সময় মোরশেদা তার পড়নের ওড়না দিয়ে শফিকুলের মুখ চেপে ধরেন।
এ সময় শফিকুল টিউবওয়েলের পাকা মেঝেতে পড়ে গুরুতর আহত হন। ওড়না দিয়ে মুখ চেপে ধরে রাখায় শফিকুলের মৃত্যু হয়। পরে তার মরদেহ পাশের টয়লেটে লুকিয়ে রাখে। পরে মোরশেদা বিষয়টি তার দেবর বারেক ও ভাসুর ফুলচানকে জানায়।
এরপর তারা মরদেহ লুকানোর সিদ্ধান্ত নেয়। ওইদিনই রাত প্রায় ১২ টার দিকে মরদেহটি চটের বস্তায় ভরে বারেকের অটোরিকশায় উঠিয়ে গ্রামের ব্রিজের নিচে ফেলে দিয়ে চলে যায়।
বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) দুপুরে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন।
প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) সকালে নাগরপুর উপজেলার মানড়া নয়াপাড়া গ্রামের ব্রিজের নিচ থেকে পুলিশ অজ্ঞাত পরিচয় এক ব্যক্তির বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহটি শফিকুল ইসলামের বলে তার স্ত্রী মোছা. রাহেলা বেগম সনাক্ত করেন এবং নিজে বাদী হয়ে নাগরপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এ ব্যাপারে নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুনের নির্দেশনায় এসআই মনোয়ার হোসেন ওই ঘটনার তদন্ত করেন। উন্নত তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ও সনাতন পদ্ধতির পুলিশি কৌশল ব্যবহার করে এসআই মনোয়ার হোসেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে ওই ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেন। একই সাথে বাকি অভিযুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তার করেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল শহরের প্রাণ কেন্দ্রে অবস্থিত পাঁচআনী-ছয়আনী বাজার সাধারণ ব্যবসায়ী মালিক সমিতির নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ ব্যবসায়ীদের মাঝে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
আগামী ১১ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে প্রকাশিত নতুন ভোটার তালিকা নিয়ে এ উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, পাঁচআনী- ছয়আনী বাজার ব্যবসায়ী সমিতির পূর্বের ভোটার ছিল ১০৩৭জন। গত ১৮ মার্চ অনুষ্ঠিত সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভায় সিদ্ধান্ত মোতাবেক সদস্য যাচাইবাছাই কমিটি ৯৪৭ জনের একটি নতুন ভোটার তালিকা প্রকাশ করেন। এই নতুন ভোটার তালিকায় পূর্বের তালিকা থেকে সমিতির ৯৮ জন প্রকৃত ভোটার বাদ পড়েন। এই বাদ পড়াকে কেন্দ্র করে সাধারণ সদস্যদের মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এই নতুন তালিকাকে প্রত্যাখ্যান করে যাচাইবাছাই কমিটির একজন ও সমিতির উপদেষ্টা মো: মশিউর রহমান হিরন ইতিমধ্যে পদত্যাগ করেছেন। এছাড়া উক্ত সমিতির আরো দুইজন উপদেষ্টা মো শহিদুর রহমান ও হরি প্রসাদ পোদ্দার পদত্যাগ করেছেন। নতুন এই তালিকায় সিরাজ উদ্দিন মার্কেটের মালিক মো: রফিক আহমেদ, আসলাম খান জনি, আর রহমান খান টুটুল, শহিদুজ্জামান শহিদ, রাশেদুজ্জামান রাশেদসহ আরো অনেক প্রকৃত ব্যবসায়ী বাদ পড়েছেন।
এছাড়া সমিতির গঠনতন্ত্র মোতাবেক গোডাউন মালিক, মাংসের দোকান, মুরগির দোকান, চৌকি দোকানদার, এনজিও অফিস, স্যালুন ও ফুটপাতের দোকান মালিকরা সদস্য হওয়ার এখতিয়ার রাখে না। নতুন ভোটার তালিকায় এই শ্রেণীর বেশ কয়েকজন মালিককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যেটা এই ক্ষোভকে আরো ঘনীভূত করেছে।
এই প্রসঙ্গে সাবেক সাধারণ সদস্য আসলাম খান জনি ও রফিক আহমেদ বলেন, এই নতুন ভোটার তালিকায় নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই সস্পূর্ণ গঠনতন্ত্রের পরিপন্থী একটি কারচুপির নির্বাচন করার জন্য একজন সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী তার নিজস্ব লোকজনদের ভোটার বানিয়ে প্রকৃত সাধারণ ব্যবসায়ীদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন।
সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আহসান খান আছু বলেন, নতুন তালিকাকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই নতুন ভোটার তালিকায় সমিতির গঠনতন্ত্রকে উপেক্ষা করে বেশ কয়েকজন মাংসের দোকানদার ও স্যালুন মালিককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অথচ প্রকৃত ব্যবসায়ীদের বাদ দেওয়া হয়েছে। টাঙ্গাইলের ক্ষমতাসীন দলের একজন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ সমিতিকে কুক্ষিগত করার জন্য এই পকেট তালিকা তৈরি করেছে। আমি এই পকেট তালিকা প্রত্যাখ্যান করে এর তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছি।
সমিতির সাবেক সভাপতি শাহানুর রহমান রঞ্জু বলেন, সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি প্রহসনের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এই তালিকায় অনেক প্রকৃত ব্যবসায়ী বাদ পড়েছেন। যেটি অত্যন্ত নিন্দনীয়।
সমিতির সাবেক উপদেষ্টা ও যাচাইবাছাই কমিটির থেকে পদত্যাগকারি সদস্য মো: মশিউর রহমান হিরন বলেন, যাচাইবাছাই করে আমরা যে তালিকা প্রণয়ন করেছিলাম পরবর্তীতে সেই তালিকা পরিবর্তন করে তাদের পছন্দের ব্যবসায়ীদের অন্তর্ভুক্ত করে তালিকা প্রকাশ করায় আমি এই সমিতির উপদেষ্টা ও যাচাইবাছাই কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছি।
উপরোক্ত অভিযোগের বিষয়ে পাঁচআনী-ছয়আনী ব্যবসায়ী সমিতির আহবায়ক আরফান আলী খান বলেন, বিষয়গুলো সমিতির প্রধান উপদেষ্টা সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ছানোয়ার হোসেন ও যাচাইবাছাই কমিটির অন্যতম সদস্য শামসুর রহমান ( শাসছু) জানেন বলে প্রসঙ্গটি এড়িয়ে যান।
অভিযোগের বিষয়ে পাঁচআনী-ছয়আনী বাজার ব্যবসায়ী সমিতির প্রধান উপদেষ্টা ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সানোয়ার হোসেন বলেন, সদস্য যাচাই বাছাই কমিটিকে তিনি অন্তর্ভুক্ত নন। যাচাই-বাছাই কমিটির পাঁচজন সদস্য তার সামনে স্বাক্ষর করে নতুন ভোটার তালিকা জমা দিয়েছেন। এরপর কেন তারা পদত্যাগ করল সেটা আমার বোধগম্য নয়। এছাড়া বাদ পড়া সদস্যদের আপিল করার সুযোগ রয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব সমিতির উপদেষ্টাদের নিয়ে নতুন তালিকা বিষয়ে সভা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে হারুন অর রশিদ (৪০) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২০ জুলাই) বিকেলে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের উপজেলার পাকুল্যা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত হারুন অর রশিদ রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার সুবিথ গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে।
গোড়াই হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা টুটুল বলেন, ‘সকালে হারুন মোটরসাইকেল নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। পথিমধ্যে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে গেলে আহত হন তিনি। স্থানীয়রা উদ্ধার করে কুমুদিনী হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলা শাখা আইনজীবী সহকারী (অ্যাডভোকেট র্ক্লাক) সমিতির সাধারণ সস্পাদকসহ ১২ জনের নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারে দাবিতে মানববন্ধন করা হয়েছে। বুধবার(২০ জুলাই) দুপুরে আইনজীবী সহকারী সমিতির সামনে ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধন করা হয়। মানববন্ধনে পাঁচ শতাধিক আইনজীবী সহকারী অংশ নেন।
মানবন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন, টাঙ্গাইল জেলা আইনজীবী সহকারী সমিতির সভাপতি মো. শাজাহান মিয়া, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মির্জা কামাল হোসেন,সাবেক সভাপতি মো. ফরহাদ হোসেন, মো. নুরুল হক, মো. আব্দুল মান্নান সিকদার,সাবেক সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন মিঞা, মো. আব্দুস ছালাম সিনিয়র সদস্য আবু বক্কর সিদ্দিক, হিসাব রক্ষক স্বপন কুমার, সদস্য আলেয়া আক্তার, বিথি ও সুমি বেগম প্রমুখ।
এ সময় বক্তারা বলেন, ঘুষের টাকা লেনদেন নিয়ে আইনজীবী সহকারী সমিতির সাধারণ সম্পাদকসহ ১২ জনের নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। দাবি না মানলে পরবর্তীতে আরো কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারী দেন তারা।
উল্লেখ্য, গত ২৩ জুন এফিডেফিটের কাজ সম্পন্ন নিয়ে আদালতের কর্মচারীদের সাথে আইননজীবী সহকারীদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে জারীকারক মোহাম্মদ আজিজুল হক বাদি হয়ে সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফ হোসাইনের নাম উল্লেখ করে ১২ জনের নামে দ্রুত বিচার আইনের মামলা দায়ের করেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে অবৈধভাবে অ্যাসিড বিক্রির দায়ে তিন জনকে তিন বছর করে সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) দুপুরে টাঙ্গাইলের অ্যাসিড অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক জেলা ও দায়রা জজ ফাহমিদা কাদের ওই রায় দেন।
রায়ে দণ্ডিত প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাস করে কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। টাঙ্গাইলের সরকারি কৌশুলি (পিপি) এস আকবর খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দণ্ডিতরা হচ্ছেন- টাঙ্গাইল সদর উপজেলার গালা ইউনিয়নের পাছ বেথৈর গ্রামের আনন্দ দত্তের ছেলে অনন্ত দত্ত, একই গ্রামের হেলাল উদ্দিনের ছেলে আব্দুল লতিফ এবং করটিয়া ইউনিয়নের নগরজালফৈ গ্রামের কাদের মিয়ার ছেলে চান মিয়া।
পিপি এস আকবর খান জানান, ২০১৮ সালের ১৯ জুলাই র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন(র্যাব) এর একটি টহল দল শহরের ছয়আনী বাজারের অনামিকা জুয়েলার্সের সামনে থেকে ৩৫ কেজি নাইট্রিক অ্যাসিডসহ দণ্ডিত তিনজনকে আটক করে।
তারা সেখানে অবৈধভাবে অ্যাসিড বিক্রি করছিলেন। আটকের পর তারা অ্যাসিড বিক্রির বৈধ লাইসেন্স দেখাতে ব্যর্থ হন। পরে র্যাবের উপ-সহকারী পরিচালক মো. নাজিম উদ্দিন বাদি হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত শেষে টাঙ্গাইল সদর থানার উপ-পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন ২০১৮ সালের ২০ অক্টোবর ওই তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। মামলায় ১১ জনকে সাক্ষী করা হয়। রায় ঘোষণার পর আদালতে উপস্থিত দণ্ডিত তিন জনকে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে যমুনা নদীর তীরবর্তী এলাকা থেকে স্কুলব্যাগে রাখা ১০ বোতল নিষিদ্ধ ফেনসিডিলসহ শাকিল হোসেন(৩০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) বিকালে উপজেলার জগৎপুরা উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে যমুনা নদীর অংশে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত শাকিল হোসেন ঠাকুরগাঁও জেলার রানীশংকৈল উপজেলার ভবানী ডাঙ্গা গ্রামের মো. খতিব আলীর ছেলে।
ভূঞাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহমুদুল হক জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এএসআই মঞ্জুরুল হাসান ও কাজল কুমারকে সঙ্গে নিয়ে উপজেলার জগৎপুরা উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে যমুনা নদীর তীরবর্তী অংশে অভিযান চালানো হয়। এসময় তার ব্যবহৃত স্কুলব্যাগ থেকে ১০ বোতল ফেনসিডিলসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে জমি চাষ করার সময় ট্রাক্টরের ফলার আঘাতে সুমন আহমেদ (১৫) নামের এক কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে । সোমবার (১৭ জুলাই)সন্ধ্যায় উপজেলার যাদবপুর চাকলাপাড়া এলাকায় ওই দূর্ঘটনা ঘটে।
নিহত সুমন আহমেদ ওই গ্রামের মৃত কবির মিয়ার ছেলে। খবর পেয়ে পুলিশ সুমনের খন্ডবিখন্ড লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে মর্গে পাঠায়।
জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যায় সুমনের বাড়ির পাশে ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ করার সময় চালককে সহযোগিতা করার জন্য ট্রাক্টরে ওঠ বসে সুমন। জমি চাষের একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত চলন্ত ট্রাক্টরের ফলার নিচে পড়ে গেলে তার দেহ খন্ডবিখন্ড হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়।
সখীপুর থানার উপপরিদর্শক এসআই সজল বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুরে এক ব্যাক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।মঙ্গলবার (১৯ জুলাই ) সকালে উপজেলার পাকুটিয়া ইউনিয়নের মানড়া নয়াপাড়া এলাকায় বিজ্রের নিচ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। নাগরপুর থানার এস আই জাহাঙ্গীর আলম তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত ব্যক্তির নাম শফিকুল ইসলাম (৪৫)। সে উপজেলার পাকুটিয়া ইউনিয়নের মানড়া নয়াপাড়া গ্রামের মৃত সমেশ আলী ওরফে শুম্ভুর ছেলে।
নাগরপুর থানার এস আই জাহাঙ্গীর আলম
জানান, সকালে উপজেলার পাকুটিয়া ইউনিয়নের মানড়া নয়াপাড়া বিজ্রের নিচে লাশটি দেখতে পায় এলাকাবাসী। এরপর থানায় খবর দিলে লাশ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়।প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শ্বাসরুদ্ধকরে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, উদ্ধারের পর মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
তবে এ বিষয়ে থানায় এখনও কেউ অভিযোগ দায়ের করেনি বলে জানান তিনি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেয়ালে দেয়ালে ছেঁয়ে গেছে স্কুল ছাত্র শিহাব হত্যার বিচার ও দোষীদের ফাঁসি দাবির পোস্টার। হত্যাকান্ডের দিন থেকে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিচারের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছে।
মামলাসহ আবাসিক ভবনের এক শিক্ষক গ্রেপ্তাতারের পর হত্যার ২৭ দিনেও রহস্য উদঘাটন ও প্রকৃত দোষী গ্রেপ্তাতার না হওয়ায় নিহত স্কুল ছাত্রের পরিবার, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরাসহ হতাশায় ভুগছেন অভিভাবকমহল।
রোববার (১৭ জুলাই) শহীদ মিনার চত্তর, শহরের ভিক্টোরিয়া রোড, নিরালা মোড়, শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি সড়কের দেয়াল, মার্কেট চত্তরে ওই পোস্টার দেখা গেছে।
টাঙ্গাইল জেলার সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে সৃষ্টি একাডেমির চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম রিপনের ছবি সম্বলিত ছাপানো পোস্টারে সৃষ্টি একাডেমিক স্কুলের আবাসিক ভবনে পঞ্চম শ্রেণীর শিশু শিক্ষার্থী শিহাব মিয়ার উপর পাশবিক নির্যাতনের মাধ্যমে ন্যাক্কারজনক হত্যাকান্ডটি ভিন্নধারায় প্রবাহের সৃষ্টি একাডেমিক স্কুল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা ও পৃষ্টপোষকতায় হত্যাকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার মিথ্যা ও ভিত্তিহীন নাটকীয়তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানোসহ হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু বিচারের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবি করা হয়েছে।
এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও ছড়িয়ে পরেছে ওই পোস্টার। ফেসবুকেও দোষীদের ফাঁসি দাবি করা হচ্ছে।
টাঙ্গাইল জেলা সংবাদ নামের এক ফেসবুক পেইজেও গেল ১ ঘন্টা আগে আল আমিন শিকদার হিমু নামের এক যুবকের পোস্ট দেখা গেছে সেখানে লেখা রয়েছে- আমি মৃত শিহাবের (ফুপাতো ভাই) বড় ভাই। সোনার বাংলাদেশ।
দশ বছরের শিশুকে নির্মম ভাবে হত্যা করা হলো এর কোনো বিচারই হলো না। টাকার বিনিময়ে সব বিক্রি হয়ে গেছে। আইন শৃঙ্খলাবাহিনী, জেলা প্রশাসন, এমপি, মন্ত্রী, সুশীল সমাজ, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, মানবাধিকার সংস্থা, সংবাদমাধ্যম এসব লোকদের লজ্জা হওয়া উচিত। বেঁচে থাকতে আমি অন্তত এদের সম্মান দিবো না। এরা রক্ষক না তো বক্ষক। সব কিছুর হিসেব দিতে হবে, হয় এ কালে না হয় পরকালে। যারা খুন করছে তারা যেমন খুনী, তেমনি যারা টাকা খেয়ে এ ঘটনাটি ধামাচাপা দিতেছে তারা ও সমান দোষী।
এতো প্রমাণ থাকা সত্তেও শিহাব হত্যার কেনো বিচার হচ্ছে না কেন? এই আন্দোলন থামবে না। কারণ আমি চাই না আমার পরিবারের মতো আর কোনো পরিবার তাদের সন্তানকে হারিয়ে বিচারের জন্য রাস্তায় রাস্তায় ঘুরুক। আর এই হত্যাকান্ডের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই যাতে করে সমাজে আর কোনো নরপশু কোনো মায়ের বুক খালি করতে না পারে। আবারো রাস্তায় নেমে আন্দোলন করা হবে।
যত দিন না সঠিক বিচার হচ্ছে আমি তো আন্দোলন করবোই, সাথে সবার অংশ গ্রহণ আশা করছি। আমার একজনের আন্দোলনে কিচ্ছু হবে না, কিন্তু সবাই একত্র হলে শিহাব হয়তো ওর বিচার পাবে। ঈদের বন্ধের কারণে সব থেমে গেছে কিন্তু খুব তাড়াতাড়ি আবার আন্দোলন করা হবে। সবাই দয়া করে আসবেন।
শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মুঈদ হাসান তরিৎ বলেন, আমরা খুব শীঘ্রই শিহাব হত্যার বিচার নিয়ে আন্দোলনে নামবো।
তরিৎ বলেন, শিহাব হত্যার বিচার দাবি করে দেয়ালে দেয়ালে পোস্টার লাগানো হয়েছে বলে শুনেছি। আন্দোলনরত আমরা সকলেই শিক্ষার্থী, পোস্টার ছাপানোর মত এত টাকা খরচ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। শহর জুড়ে পোস্টার লাগানো কি অন্য কোন সংগঠনের আন্দোলন নাকি আমাদের আন্দোলন বন্ধ করার ষড়যন্ত্র। এ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান জানান, শহরের বিভিন্ন দেয়ালে দেয়ালে শিহাব হত্যার বিচার দাবিতে পোস্টার লাগানো হয়েছে বলে শুনেছি। এটা আন্দোলনের একটি প্রক্রিয়া, এটা চলবেই। ওই স্কুল ছাত্র হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলমান রয়েছে। আশা করছি দ্রুতই এর রহস্য উম্মোচন হবে।
উল্লেখ্য, গত ২০ জুন শহরের বিশ্বাস বেতকা সুপারি বাগান এলাকার সৃষ্টি একাডেমিক স্কুলের ছাত্রাবাস থেকে পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র শিহাবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ছাত্রাবাসের আবাসিক শিক্ষকরা তার মরদেহ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। নিহত শিহাব সখীপুর উপজেলার বেড়বাড়ী গ্রামের প্রবাসী ইলিয়াস হোসেনের ছেলে। শিহাবকে চার মাস আগে সৃষ্টি একাডেমিক স্কুলে ভর্তি করা হয়। সে সুপারি বাগান এলাকায় ওই স্কুলের একটি ছাত্রাবাসে সপ্তম তলায় থাকতো।
ওইদিনই শিহাবের মা আছমা আক্তার বাদি হয়ে আবু বক্করকে প্রধান আসামী করে ৬ জন শিক্ষকের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাত আরও সাত আট জনকে আসামী করা হয়েছে।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে মর্গে শিহাবের ময়নাতদন্ত হয়। শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগে সহকারী অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম মিয়ার নেতৃত্বে তিন সদস্যের চিকিৎসক দল শিহাবের ময়না তদন্ত করেন। পরে টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন আবুল ফজল মো. সাহাবুদ্দিন খান ময়না তদন্তের প্রতিবেদন পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পাঠান। শিহাবকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
শিহাবের মরদেহ উদ্ধারের পর মৃত্যুর কারণ ও হত্যায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে টাঙ্গাইল এবং ঢাকায় মানববন্ধন এবং বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৮ জুন) বিকেলে শুনানী শেষে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. শামসুল আলম ওই মামলায় স্কুলের আবাসিক শিক্ষক আবু বক্করের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
৩ জুলাই গ্রেপ্তাতারকৃত স্কুলের আবাসিক শিক্ষক আবু বক্করকে ৫ দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে ধারাবাহিক শিহাব হত্যার বিচারের দাবিতে প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার নিউ ধলেশ্বরী নদীর কুর্শাবেনু এলাকায় সোমবার (১৮ জুলাই) বিকেলে উত্তোলিত বালু (ড্রেজড ম্যাটার) পরিমাপকারীদের ওপর হামলায় একজন প্রকৌশলী আহত ও এসি ল্যান্ডের গাড়িসহ তিনটি গাড়ি ভাঙচুর করেছে স্থানীয় বালু ব্যবসায়ীরা।
এ ঘটনায় র্যাব ঘটনাস্থল থেকে ৮ জনকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে।এলাকায় এখনও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
জানা গেছে, সম্প্রতি জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় এলেঙ্গা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতুর গোল চত্বর পর্যন্ত মহাসড়ক চার লেন করার নিমিত্তে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্তৃক উত্তোলিত বালু (ড্রেজড ম্যাটার) ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সে লক্ষে মেসার্স আব্দুল মোনেম লিমিটেড নামক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পাউবো’র চুক্তি সম্পাদিত হয়।
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড ও মেসার্স আব্দুল মোনেম লিমিটেডের প্রতিনিধি সমন্বয়ে চুক্তি মোতাবেক উত্তোলিত বালু কুর্শাবেনু এলাকায় পরিমাপ করতে যায়। পরিমাপ করতে গেলে স্থানীয় বালু ব্যবসায়ীরা পাউবোর ৪-৫ জন কর্মচারী ও মেসার্স আব্দুল মোনেম লিমিটেডের ডিজিএম মোস্তাফিজুর রহমানকে বাধা দেয়। এ নিয়ে স্থানীয় বালু ব্যবসায়ী ও পরিমাপকারীদের মধ্যে বাগ-বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে বালু ব্যবসায়ীরা উত্তোলিত বালু পাউবো নিয়ে যাচ্ছে বলে স্থানীয় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে এলাকার জনসাধারণকে যার কাছে যা আছে তাই নিয়ে একত্রিত হতে বলে। পরে এলাকার লোকজন একত্রিত হয়ে পরিমাপকারীদের ওপর হামলা করে এবং মেসার্স আব্দুল মোনেম লিমিটেডের ডিজিএম মোস্তাফিজুর রহমানের গাড়ি ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে কালিহাতী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুল হাসান পুলিশ সঙ্গে নিয়ে কুর্শাবেনু যান। পথে তিনি মাইকের ওই ঘোষণা শুনতে পেয়ে টাঙ্গাইলে কর্মরত র্যাবকে ঘটনাস্থলে আসতে বলেন। ইতোমধ্যে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুল হাসানকে বহনকারী গাড়ি ও পুলিশের গাড়ি কিছুটা দূরে রেখে মাইকের ওখানে পৌঁছান। এই ফাঁকে স্থানীয় উত্তেজিত জনতা কামরুল হাসানকে (এসিল্যান্ড) বহনকারী গাড়ি ও পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর চালায়। পরে র্যাব ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ঘটনাস্থল থেকে ৮ জনকে আটক করে।
আটকরা হচ্ছেন- আমিনুর, আজিম, মিণ্টু মিয়া, রাজ্জাক খান, মান্নান, সাইফুল, শরীফ ও মারুফ।
কালিহাতী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুল হাসান জানান, তিনি পরিমাপকারীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান। যাওয়ার পথেই তিনি স্থানীয় মসজিদের মাইকে ঘোষণা শুনতে পান। তারা কিছুটা দূরে গাড়ি রেখে মসজিদের কাছে গেলে উত্তেজিত জনতা তার ও পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর চালায়।
তিনি আরও জানান, স্থানীয় উত্তেজিত জনতা মেসার্স আব্দুল মোনেম লিমিটেডের ডিজিএম মোস্তাফিজুর রহমানের গাড়িতে হামলা চালিয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। পরে র্যাব ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। র্যাব এ ঘটনায় নেতৃত্বদানকারী ৮ ব্যক্তিকে আটক করে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
তিনি জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও পরিতাপের। ভাঙচুরকৃত গাড়িগুলো থানায় আনা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।