একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের অলোয়া তারিনী এলাকায় নিখোঁজের একদিন পর বিল থেকে গলায় রশি পেঁচানো অবস্থায় রাসেল মিয়া (১২) নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে স্থানীয় অলোয়া বিলের ধান ক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে টাঙ্গাইল থানা পুলিশ।
রাসেল মিয়া (১২) পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের অলোয়া তারিনী এলাকার অটোরিক্সা চালক সোনা মিয়ার ছেলে।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লোকমান হোসেন জানান, মঙ্গলবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাসেল বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর থেকে তাকে আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও জানান, বুধবার সকালে স্থানীয় লোকজন অলোয়া বিলের একটি ধান ক্ষেতে গলায় রশি পেঁচানো অবস্থায় রাসেলের মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
তিনি জানান, এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। ময়না তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে। এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। আসামি গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে চক খিলদা ক্রিকেট টূর্ণামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। চক খিলদা নবজাগরণ ক্রীড়াঙ্গন ক্লাবের আয়োজনে বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে স্থানীয় বিলবরনী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়।
খেলায় ফুলতলা ক্রিকেট একাদশকে ৫ উইকেটে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছে পালিমার নাবিল ক্রিকেট একাদশ । খেলাটি উদ্বোধন করেন বাংড়া ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম শফি।
খিলদা নবজাগরণ ক্লাবের সভাপতি আরশেদ মন্ডলের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন মোল্লা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মোতালেব হোসেন, সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান মিজান, দপ্তর সম্পাদক সাকের আহমেদ প্রমূখ।
খেলাটি পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন হাফেজ মো. আসাদুজ্জামান আসাদ।
ফাইনাল খেলায় বিপুল সংখ্যক দর্শক উপস্থিতি ছিলো।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে সাপের কামড়ে ৮ মাস বয়সের এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। মঙ্গলবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার নাগবাড়ী ইউনিয়নের ধল্লাই গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশুর নাম সাজিদ (৮ মাস)। সে ওই গ্রামের প্রবাসী নুর আলমের একমাত্র ছেলে। শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. সাহেদুর রহমান।
সাজিদের পরিবার জানায়, মঙ্গলবার সকাল ১১টায় শিশুটি ঘরে ঘুমিয়ে ছিলো। শিশুটির চিৎকার শুনে তার কাছে গিয়ে তার হাতে সাপের কামড়ের দাগ দেখতে পান তার মা। পরে পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় কবিরাজের মাধ্যমে চিকিৎসা করান। শিশুটির শারীরিক পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎস তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. সাহেদুর রহমান বলেন, শিশুটিকে মৃত অবস্থায় নিয়ে এসেছিলো তার পরিবার। পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা করে ময়নাতদন্ত ছাড়াই শিশুটির মরদেহ পরবিবারের কাছে দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, শিশুটিকে সাপে কামড়ালে প্রথমে স্থানীয়ভাবে ওঝার মাধ্যমে ঝাড়ফুঁক করে বিষ নামানোর চেষ্টা করা হয়। এভাবে সময়ক্ষেপণ না করে তাকে দ্রুত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হলে হয়তো তাকে বাঁচানো যেতো।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল শাড়ির জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন (জিআই) স্বত্ব পেতে আবেদন করেছেন জেলা প্রশাসক।
মঙ্গলবার (৬ ফেব্রুয়ারি) শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেড মার্কস অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর এ আবেদন করা হয়।
মঙ্গলবার বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ কথা জানান জেলা প্রশাসক। দ্রুতই আবেদনটি কার্যকর করা হবে বলেও জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক কায়ছারুল ইসলাম বলেন, টাঙ্গাইল শাড়ি প্রকৃতপক্ষে যেকোনো বিচারে বাংলাদেশের জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার দাবিদার। আমরা বিগত তিন মাস ধরে টাঙ্গাইল শাড়ির জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি লাভের জন্য ডকুমেন্টেশন কার্যক্রম চালিয়ে আসছি। মঙ্গলবার আমরা আবেদন করেছি। মূলত শাড়িটির ইতিহাস, এর সাথে সংশ্লিষ্ট মানুনের জীবন জীবিকার তথ্যটি, আড়াইশ’ বছরের ইতিহাসের তথ্যাদি সংগ্রহ করে ডকুমেন্টেশন তৈরি করে আবেদন করা হয়েছে। আবেদনটি ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। আশা করছি দ্রুতই টাঙ্গাইল শাড়ি নামে জিআই স্বীকৃতি পাব।
তিনি আরও বলেন, টাঙ্গাইল শাড়ির জিআই স্বীকৃতি পাওয়ার পরে ‘ওয়ার্ল্ড ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অর্গানাইজেশন’-এর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আপিল করব। ভারত ‘টাঙ্গাইল শাড়ি অব বেঙ্গল’ নামে যে জিআই স্বীকৃতি পেয়েছে, এটি বাংলাদেশের স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আমরা পুরোপুরি আশাবাদী টাঙ্গাইল শাড়ি চূড়ান্ত বিচারে বাংলাদেশের জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি নিয়ে আসতে পারব।
প্রকাশ, বাংলাদেশের বিখ্যাত টাঙ্গাইল শাড়ির উৎস পশ্চিমবঙ্গ- সম্প্রতি এমনটা দাবি করে ভারতীয় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। বিতর্কিত দাবিটি মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল পেজে একটি ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে করা হয়েছিল, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা ও হাস্যরসের জন্ম দেয়।
পোস্টে দাবি করা হয়, “টাঙ্গাইল শাড়ি, পশ্চিমবঙ্গ থেকে উদ্ভূত একটি ঐতিহ্যবাহী হাতে বোনা মাস্টারপিস। সূক্ষ্ম উপস্থাপন, প্রাণবন্ত রং এবং জটিল বুননের জন্য শাড়িটি বিখ্যাত, এটি এই অঞ্চলের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক। প্রতিটি টাঙ্গাইল শাড়ি দক্ষ কারুকার্যের প্রমাণ; এটি ঐতিহ্য এবং কমনীয়তাকে একত্রিত করে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সারাদেশের মানুষ।
একতার কণ্ঠঃ কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম বলেছেন, আমি বিশ্বাস করেছিলাম, একটি অবাধ সুষ্ঠ, নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে। কিন্তু অত্যান্ত দুঃখের সাথে বলতে হয় ২০১৮ সালের নির্বাচন গুণমান সম্পন্ন ছিলো না। ২০২৪ সালের নির্বাচন তার চেয়েও খারাপ হয়েছে। সে বার তাও কিছু মানুষ ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়েছে। এইবার সেই পরিমান মানুষ ভোট কেন্দ্রে যায় নাই, ভোট দেয় নাই, ভোট দিতে পারে নাই।
মঙ্গলবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে সমসাময়িক রাজনীতি নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা‘মিট দ্য প্রেস’ এ মন্তব্য করেন।
কাদের সিদ্দিকী বলেন, এবার কোন কোন কেন্দ্রে জোড় করে ভোট নেয়া হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানুষ উৎসাহ পায়নি। আমার জীবনে রাজনৈতিক চরম ব্যর্থতা। আমরা যতটা চেষ্টা করেছিলাম, আমাদের নিজেদের সমর্থকও সেই পরিমান ভোট কেন্দ্রে যায় নাই। নির্বাচনের দিন সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশন বলেছেন, ভোট হয়েছে ২৬ শতাংশ। কেউ বলে দেওয়ার পর বলেছেন ভোট হয়েছে ৪০শতাংশ। প্রিজাইডিং অফিসারের স্বাক্ষর করা ভোটের চেয়ে ঘোষণার ভোট অনেক বেশি হয়েছে।
তিনি সরকারকে উল্লেখ করে বলেন, নির্বাচনের পরের দিন থেকেই সরকার স্বস্তিতে নেই। নির্বাচনের মানুষের অংশ গ্রহণ থাকলে ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ ভোট হতো। তাতে সরকার অনেক স্বস্তি পেতেন। সরকারকে স্বস্তিতে থাকতে হলে মানুষকে উৎসাহিত করতে হবে। মানুষের মালিকানা মানুষকে দিতে হবে। চোরের বিচার চোরের কাছে দিলে সেটা কতটা যুক্তি সঙ্গত হয়। আমার কারনে রাষ্ট্রে উত্তেজনা সৃষ্টি হোক, অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হোক এটা আমি চাই না। এটা চাইনি বলে সখীপুরের নির্বাচন আমি প্রত্যাখান করি নাই। এছাড়াও আমরা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেবো।
এ সময় জেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবু সালেক হিপলু, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিনসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে সাতটি অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) পরিবেশ অধিদপ্তরের সদর দপ্তরের নির্বাহী পরিবেশ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট সুলতানা সালেহা সুমী এ অভিযান পরিচালনা করেন।
পরিবেশ অধিদপ্তর টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক বিপ্লব কুমার সূত্রধর জানান, পরিবেশ ছাড়পত্রবিহীন অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত-২০১৯) অনুযায়ী এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ঘাটাইল উপজেলার পাঁচটি পার্শ্ববর্তী কালিহাতী ও ভূঞাপুর উপজেলার দুটি ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।
লাইসেন্সবিহীন সম্পূর্ণ অবৈধভাবে পরিচালিত এসব ইটভাটা মলিকদের কাছ থেকে ৩৯ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এর মধ্যে ছয়টি ইটভাটার মালিকের প্রত্যেককে ছয় লাখ টাকা করে এবং একজন ভাটা মালিককে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় ইটভাটার কিলন ভেঙে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সহায়তায় পানি দিয়ে আগুন নিভিয়ে ভাটার কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
অভিযান পরিচালনা করে বন্ধ করে দেওয়া ইটভাটাগুলো হলো ঘাটাইল উপজেলার সিংগুরিয়া গ্রামের সুজন ব্রিকস, সিয়াম ব্রিকস, স্বর্ণা ব্রিকস-২, মিশাল ব্রিকস ও লোকেরপাড়া গ্রামের এমএসটি ব্রিকস। কালিহাতী উপজেলার তালতলা গ্রামের একুশে ব্রিকস ও ভূঞাপুর উপজেলার ভারই গ্রামের কবির ব্রিকস।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তর টাঙ্গাইলের উপপরিচালক জমির উদ্দিন, সহকারী পরিচালক তুহিন আলম ও সহকারী পরিচালক জনাব সজীব কুমার ঘোষ প্রমুখ।
অভিযানে টাঙ্গাইল জেলার পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা উপস্থিত থেকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন।
জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচলক পরিচালক জমির উদ্দিন জানান, সোমবার সাতটি অবৈধ ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে ভাটার কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরিবেশ সুরক্ষায় টাঙ্গাইল জেলায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।
এদিকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না থাকায় তিনটি ইটভাটার মালিককে ১৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া হোসেন ও জান্নাতুল নাঈম বিনতে আজিজের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয় ভাটাগুলোতে। এ সময় জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক জমির উদ্দিনসহ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জমির উদ্দিন জানান, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না থাকায় মির্জাপুরের গোড়াই সৈয়দপুর এলাকার মেসার্স আশা ব্রিকস এন্ড কোং ও মেসার্স নূরজাহান ব্রিকসকে ছয় লাখ টাকা করে এবং রানাশাল এলাকার মেসার্স হাকিম এন্টার প্রাইজকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত)-২০১৯ অনুযায়ী ইটভাটা পরিচালনার জন্য মালিকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুরে গলায় ফাঁস দিয়ে এক প্রবাসীর স্ত্রীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার বেকড়া ইউনিয়নের বারাপুষা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
নিহতের নাম নাহার বেগম (২০)। সে ওই গ্রামের প্রবাসী মো: আলম মিয়ার স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে নাহার বেগম গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে পেরে লাশটি উদ্ধার করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সাফিয়া আক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নাগরপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মতিউর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মেয়েটির স্বামী প্রবাসী এবং তাদের বিয়ে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে হয়েছিল। তবে প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি ‘আত্মহত্যা’ বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে মই থেকে পড়ে উজ্জ্বল সূত্রধর (৪০) নামে এক কাঠ মিস্ত্রির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২ টার দিকে উপজেলার জামুরিয়া ইউনিয়নের গুনগ্রাম এলাকায় একটি ভবনে কাজ করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. বদিরুজ্জামান স্বাধীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত উজ্জ্বল উপজেলার দিঘলকান্দি ইউনিয়নের বিয়ারা গ্রামের জোয়ান সূত্রধরের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় ইউপি সদস্য জানান, কাঠ মিস্ত্রির কাজ করতেন উজ্জ্বল। গুনগ্রাম এলাকায় একটি ভবনে মই দিয়ে কাজ করছিলেন তিনি। এ সময় হঠাৎ তার হাই প্রেসার উঠে মই থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আবু সালাম মিয়া জানান, এ বিষয়ে থানায় কেউ কোন অভিযোগ করেনি।
একতার কণ্ঠঃ ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বাসাইল উপজেলার গুল্লা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছে। রবিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিক এই দুর্ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩ জন। হতাহতরা সবাই প্রাইভেটকারের যাত্রী ছিল।
নিহতদের মধ্য প্রাথমিকভাবে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তিনি হলেন সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার সাঈদ। নিহত অপরজনের নাম পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি।
টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, রবিবার রাতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গুল্লা এলাকায় ঢাকাগামী লেনে কলা ভর্তি একটি ট্রাক উল্টে যায়। এ সময় ট্রাকের পেছনে থাকা একটি কাভার্ডভ্যান সজোরে ব্রেক করে। তখন কাভার্ডভ্যানের পেছনে থাকা একটি প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কাভার্ডভ্যানের পেছনে সজোরে ধাক্কা দিলে প্রাইভেটকারের সামনের অংশ দুমরে মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাইভেটকারের দুই যাত্রী নিহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে আহত অবস্থায় প্রাইভেটকারের চালকসহ ৩ জনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।
এ বিষয়ে গোড়াই হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোল্লা টুটুল জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দুটি পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ রাস্তার পাশে জঙ্গলে পড়ে ছিল এক অজ্ঞাত ব্যক্তি। তাকে মৃত ভেবে তার কাছে যায়নি কেউ। একপর্যায়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ অজ্ঞাত ব্যক্তিকে উদ্ধার করতে গিয়ে দেখতে পায় সে মৃত নয় অচেতন অবস্থায় রয়েছে। এরপর তাকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।
রবিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার অলোয়া ইউনিয়নের নিকলা গোপালপাড়া এলাকা থেকে অচেতন অবস্থায় অজ্ঞাত ব্যক্তিটিকে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত যুবকের নাম মো. বকুল হোসেন (৩৪)। তিনি জেলার কালিহাতী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের ভৈরব বাড়ি গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নানের ছেলে।
থানা সূত্র জানায়, রবিবার সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে পুলিশের কাছে খবর আসে নিকলা গোপালপাড়া এলাকায় এক অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ রাস্তার পাশের জঙ্গলে পড়ে আছে। এমন খবর পেয়ে ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আহসান উল্লাহ্ মরদেহ উদ্ধার করতে গিয়ে ঘটনাস্থলে দেখতে পায় সে অসচেতন অবস্থায় রয়েছে।
এরপর তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে জীবীত ঘোষণা করেন। পরে চিকিৎসায় তিনি সুস্থ হন। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তার পরিচয় মিলে। তারপর তার দেওয়া তথ্যমতে, তার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে স্বজনদের কাছে তাকে দুপুরে হস্তান্তর করেন ভূঞাপুর থানা পুলিশ।
উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের ডা. খাদেমুল ইসলাম বলেন, প্রায় মৃত অবস্থায় হাসপাতালে তাকে আনা হয়। দ্রুত হাসপাতালে আনা না হলে জীবনহানি ঘটতে পারতো।
বকুলের বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান বলেন, ৮ম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় বকুলের মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। শুরুতে নানা চিকিৎসা করালেও পরে অর্থ সংকটে তা আর সম্ভব হয়নি। মাঝেমধ্যে বকুল নিরুদ্দেশ হয়ে যেতো। এবারই আমার ছেলেকে মৃত প্রায় অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। জীবীত অবস্থায় ছেলেকে ফিরে পেয়ে পুলিশের প্রতি ধন্যবাদ জানান তিনি।
এ ঘটনায় ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আহসান উল্লাহ্ জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে থানায় খবর আসে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ নিকলা গোপালপাড়া এলাকায় রাস্তার পাশে জঙ্গলে পড়ে আছে। পরে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখি লোকটি অসচেতন। তারপর তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা জানায় সে জীবীত।
তিনি আরও জানান, এরপর সুস্থ হলে জিজ্ঞাসাবাদে তার পরিচয় জানতে পারি এবং পরিবারকে জানানো হয়। খবর পেয়ে তার পরিবারের লোকজন আসলে আইনি প্রক্রিয়া শেষে বকুলকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এছাড়াও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বকুলের চিকিৎসায় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের যমুনা নদীর চরাঞ্চলে জেগে উঠা ফসলি জমি কেটে বিক্রির অপরাধে এক বালু ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
রবিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ভূঞাপুর উপজেলার অর্জুনা ইউনিয়নের জগৎপুরা এলাকায় যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযান পরিচালনা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
জরিমানাপ্রাপ্ত বালু ব্যবসায়ী উপজেলা অর্জুনা ইউনিয়নের জগৎপুরা গ্রামের আকবর আলী খানের শহীদুজ্জামান।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাহেরুল ইসলাম তোতা ও অর্জুনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দিদারুল আলম খান মাহবুবের ঘাটে তিনি অবৈধ এ বালু উত্তোলনের ব্যবসা করে আসছিলেন।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাহিমা বিনতে আখতার জানান, জগৎপুরা এলাকায দীর্ঘদিন যমুনা চরাঞ্চলের ফসলি জমি কেটে অবৈধভাবে বিক্রি করে আসছিল অসাধু বালু ব্যবসায়ীরা।
তিনি আরও জানান,সেখানে অভিযান চালিয়ে একজনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে আমাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
একতার কণ্ঠঃ ঐতিহ্যবাহী টাঙ্গাইল শাড়িকে ভারতের দাবি করে ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) স্বীকৃতি নেওয়ার প্রতিবাদে ক্ষোভে ফুসে ওঠছে জেলাবাসী। দ্রুত ভারতের জিআই বাতিল করে বাংলাদেশের পণ্য হিসেবে ‘টাঙ্গাইল শাড়ি’কে জিআই স্বীকৃতির দাবি করেছে জেলার ব্যবসায়ী ও সুধীজনরা।
ভারতের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) করা একটি পোস্টে বলা হয়- ‘টাঙ্গাইল শাড়ি, পশ্চিমবঙ্গ থেকে উদ্ভূত, একটি ঐতিহ্যবাহী হাতে বোনা মাস্টারপিস। এর মিহি গঠন, বৈচিত্র্যময় রং এবং সূক্ষ্ম জামদানি মোটিফের জন্য বিখ্যাত এটি এই অঞ্চলের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক। টাঙ্গাইলের প্রতিটি শাড়ি ঐতিহ্য ও সমৃদ্ধ সৌন্দর্যের মেলবন্ধনে দক্ষ কারুকার্যের নিদর্শন।’
এরপর থেকে টাঙ্গাইলসহ সারাদেশে ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সোচ্চার হয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছে। জেলা সদর সহ বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
টাঙ্গাইলের সচেতন মহল ইতোমধ্যে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে। এ বিষয়ে জরুরি সভা করে মন্ত্রণালয়ে কথা বলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক।
টাঙ্গাইল শাড়ি বাংলাদেশি পণ্য হিসেবে জিআই স্বীকৃতির দাবিতে শনিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকালে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’- এর ব্যানারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনকারীরা ‘টাঙ্গাইলের তাঁত শাড়ি, টাঙ্গাইলের ঐতিহ্য’, ‘নদী-চর খাল-বিল গজারির বন, টাঙ্গাইলের শাড়ি তার গরবের ধন’, ‘আমার ঐতিহ্য, আমার অহঙ্কার’, ‘টাঙ্গাইলের তাঁত শাড়ির জিআই স্বীকৃতি চাই’- ইত্যাদি লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে দাঁড়ান।

ওই কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন, শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুঈদ হাসান তড়িৎ, আরিফুজ্জামান সোহেল, সমাজকর্মী নাজিউর রহমান আকাশ, মির্জা রিয়ান, আহসান খান মিলন, স্মরণ ইসলাম প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, টাঙ্গাইল শাড়ি বাংলাদেশের বিখ্যাত শাড়ি। ভারতীয় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল পেজে এই টাঙ্গাইল শাড়ি, পশ্চিমবঙ্গ থেকে উদ্ভূত একটি ঐতিহ্যবাহী হাতে বোনা মাস্টারপিস বলা হয়েছে। এর তীব্র নিন্দা জানাই। একই সঙ্গে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বর্তমান সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করি।
সরেজমিনে টাঙ্গাইল শাড়ির সঙ্গে জড়িতরা জানায়, প্রায় ২০০ বছর ধরে ইতিহাস ঐতিহ্যের ধারক-বাহক টাঙ্গাইলের তাঁত শাড়ি। যা নিজস্ব ঐতিহ্য বহন করে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সুনাম কুড়িয়েছে। এছাড়া ‘নদী-চর খাল-বিল গজারির বন, টাঙ্গাইল শাড়ি তার গরবের ধন’ এ স্লোগানের আলোকেই টাঙ্গাইলের মানুষের জীবনাচরণ চলমান। টাঙ্গাইল শাড়ি সদর উপজেলার বাজিতপুর, কৃষ্ণপুর, দেলদুয়ারের পাথরাইল, চন্ডী, কালিহাতীর বল্লা, রামপুর সহ বিভিন্ন এলাকায় তৈরি হয়। তবে দেলদুয়ারের পাথরাইল টাঙ্গাইল শাড়ির রাজধানী হিসেবে খ্যাত।

বল্লা এলাকার সুতা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোস্তফা আশরাফী ও সাধারণ সম্পাদক সোলায়মান হাসান ভারতের কড়া সমালোচনা করে জানান, প্রায় আড়াইশ’ বছরের ঐতিহ্য টাঙ্গাইল শাড়ি। এ শাড়ি টাঙ্গাইলেই অসাধারণ কারুকার্য ও সুক্ষ্ম নিপুনতায় অত্যন্ত দরদ দিয়ে তৈরি করা হয়। টাঙ্গাইল শাড়ির স্বত্ব শুধুমাত্র টাঙ্গাইলের তাঁতিদের। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার টাঙ্গাইল শাড়ির ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) স্বীকৃতি দিয়ে ঐতিহ্যবাহী টাঙ্গাইল শাড়ির স্বত্ব ছিনতাই করার দুঃসাহস দেখিয়েছে।
টাঙ্গাইল শাড়ির রাজধানী খ্যাত পাথরাইলের শাড়ি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রঘুনাথ বসাক জানান, টাঙ্গাইল শাড়ি বলতে টাঙ্গাইলকেই বোঝায়। টাঙ্গাইলের নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া টাঙ্গাইল শাড়ির জন্য অত্যন্ত উপযোগী। ভিন্ন মান ও ভিন্ন দক্ষতায় টাঙ্গাইল শাড়ি তৈরি হয়। এই দক্ষতায় অন্য জায়গায় শাড়ি তৈরি হলেও সেটা টাঙ্গাইল শাড়ি না। অন্যরা টাঙ্গাইল শাড়িকে নিজের দাবি করে জিআই ট্যাগ নেওয়া- এটা আমাদের জন্য দুঃখজনক। তিনি এর প্রতিবাদ জানিয়ে এর বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
টাঙ্গাইল সাধারণ গ্রন্থাগারের সাধারণ সম্পাদক কবি মাহমুদ কামাল জানান, স্বাধীন বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী জেলা টাঙ্গাইল। কয়েকশ’ বছর আগে থেকে টাঙ্গাইল শাড়ি পৃথিবী বিখ্যাত। এ শাড়ির অন্য দেশের জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার বিষয়টি সত্য নয়। ওই দেশের জিআই স্বীকৃতি বাতিল করে বাংলাদেশের পণ্য হিসেবে টাঙ্গাইল শাড়িকে জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতির দাবি জানান তিনি।
টাঙ্গাইল সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ আর্টিজেন্স ওয়েল ফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন লিমিটেড এবং বল্লা এলাকা তন্তুবায় সমবায় সমিতির সভাপতি মোফাখখারুল ইসলাম জানান, প্রাচীণকাল থেকে টাঙ্গাইল শাড়ি জেলার বিভিন্ন এলাকায় তাঁতিদের সুক্ষ্ম দক্ষতায় সুনিপুনভাবে তৈরি হচ্ছে। ১৯৪৭ ও ১৯৭১ সালে দেশভাগের পর টাঙ্গাইলের তাঁতিদের কেউ কেউ ভারতে গিয়ে বসতি স্থাপন করেছে। সেখানেই তারা আদি পেশা ‘তাঁত শিল্পের’ কাজ করছে। তাই বলে টাঙ্গাইল শাড়ি কখনোই সেদেশের হতে পারেনা। দীর্ঘ সময়ের প্রচেষ্টা ও অধ্যবসায়ের জোরে টাঙ্গাইল শাড়ি দেশ-বিদেশে সুনাম অর্জন করেছে। যারা ওই দেশে রয়েছে- তারাও শাড়ি তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করছে- এটা যেমন সত্য, তেমনি টাঙ্গাইল শাড়ি টাঙ্গাইলেরই সম্পত্তি- এটাও ধ্রুব সত্য। তিনি ওই দেশের জিআই স্বীকৃতি বাতিল করে বাংলাদেশের পণ্য হিসেবে টাঙ্গাইল শাড়িকে জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতির দাবি জানান।

টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মো. কায়ছারুল ইসলাম জানান, টাঙ্গাইল শাড়ি, মধুপুরের আনারস ও জামুর্কির সন্দেশ জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেতে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। এটা যে এখানকার অর্জন, সেটার ৫০ বছরের সুদীর্ঘ ধারাবাহিকতা দিতে হয়। অথচ টাঙ্গাইলের তাঁত শাড়ি আড়াইশ’ বছরের পুরাতন। টাঙ্গাইল শাড়ি জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পাওয়ার অধিকার রাখে বলে তিনি মনে করেন। এছাড়া ২০১৭ সালে টাঙ্গাইল শাড়ি সরকার কর্তৃক ব্র্যান্ডিং হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ভারত যে ঘটনাটা ঘটিয়েছে, তারা ডকুমেন্টেশনে উল্লেখ করেছে- পাথরাইলের বসাক পরিবারের আদি পুরুষরা সেখানে গিয়ে তাঁত শাড়ির পাড়ের ডিজাইন চেঞ্জ করে একটা ভিন্ন প্রকার উদ্ভাবন করেছে। এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে স্টাডি করা শুরু হয়েছে। তিনি জেলা প্রষশাসকের সম্মেলন কক্ষে জরুরি সভা করেছেন। মন্ত্রণালয় টু মন্ত্রণালয় কথা বলে এ বিষয়ে কীভাবে আবেদন করা যায় তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়াও আপিল করার সুযোগ থাকলে সে বিষয়েও কথা বলা হবে।