একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার ও সংরক্ষণ অধিদপ্তরের আওতায় ভেজালরোধে তদারকিমূলক অভিযান চালিয়ে মুড়ির মোড়কে মেয়াদ ও মূল্য উল্লেখ না করা, আয়োডিন বিহীন ইন্ডাসট্রিয়াল লবণ ও মাত্রাতিরিক্ত ফিটকিরি ব্যবহার করা এবং নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মুড়ি তৈরি করায় সুশীল শংকর মদক নামে এক মুড়ি ব্যবসায়ীকে ২৫ হাজার জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার (৪ মার্চ) দুপুরে উপজেলার নারান্দিয়া এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করেন- জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের সহাকারী পরিচালক শিকদার শাহীনুর আলম। অভিযানে সহায়তা করেন- টাঙ্গাইল সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রতিনিধি জেলা স্যানিটারী পরিদর্শক মো. আনোয়ারুর ইসলাম।
শিকদার শাহীনুর আলম বলেন, প্রস্তুতকৃত মুড়ির প্যাকেটের মোড়কে মেয়াদ ও মূল্য উল্লেখ না করা, আয়োডিন বিহীন ইন্ডাসট্রিয়াল লবণ ও মাত্রাতিরিক্ত ফিটকারী ব্যবহার করা, নোংরা এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে যত্রতত্রভাবে মুড়ি তৈরি করায় নারান্দিয়া এলাকায় ভেজালরোধে অভিযান চালিয়ে শিব শংকর মুড়ি মিলের এক মুড়ি ব্যবসায়ীকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারের চকতৈল আলহাজ্ব কাজী আব্দুস ছালাম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবুল হোসেনের অপসারণ ও ম্যানেজিং কমিটি গঠনের দাবিতে ফুঁসে উঠেছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
সোমবার (৪ মার্চ) দুপুরে বিদ্যালয় মাঠে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন শেষে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। মানববন্ধনে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।
একাধিক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক আব্দুস ছালাম যোগদানের পর থেকে অনিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন। তিনি কোন শ্রেণীর ক্লাশ নেননা। এছাড়াও তিনি যোগদানের পর বিদ্যালয়ে কোন প্রকার ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করেননি। এছাড়াও বিদ্যালয়ের বেতন ও অন্যান্য ফি নেওয়া হলেও তার নির্দেশে কোন রশিদ দেওয়া হয় না। বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠানেও তিনি উপস্থিত থাকেন না। তাই তার অপসারণের দাবি করেন শিক্ষার্থীরা।
সংবাদ সম্মেলনে বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী শফিকুল হক জুয়েল বলেন, এই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে আমাদের পরিবার ও এলাকাবাসীর ভূমিকা আছে। প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকে তার বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, আর্থিক অনিয়ম, অসৈৗজন্যমূলক আচরণসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও তার কারনে বিদ্যালয়ে কোন ম্যানেজিং কমিটি গঠন করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে বিদ্যালয়ে তেমন উন্নয়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন, জেলা শিক্ষা অফিসারসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তাই প্রধান শিক্ষককে অপসারণসহ ম্যানেজিং কমিটির দাবি জানাচ্ছি।
প্রধান শিক্ষক আব্দুস ছালাম বলেন, একটি পক্ষ আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য ছড়াচ্ছে। আমার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ মিথ্যা।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা না থাকায় চার রেস্তোরাঁ মালিকদের দেড় লক্ষ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
রবিবার (৩ মার্চ) সন্ধ্যায় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাসান বিন মুহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ম্যাজিস্ট্রেট হাসান বিন মুহাম্মদ আলী জানান, অগ্নিকান্ড প্রতিরোধ ও নির্বাপকের ব্যবস্থা পর্যাপ্ত পরিমান না থাকায় এবং ফায়ার লাইসেন্স না থাকায় পুরাতন বাসস্ট্যান্ডের সুরুচি রেস্টুরেন্টকে এক লাখ টাকা, সুগন্ধা ও ঝাউবন রেস্টুরেন্টকে ২০ হাজার টাকা করে এবং সেফাত রেস্টুরেন্টকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অনেক রেস্তোরায় এলপিজি গ্যাস ঝুঁকিপূর্নভাবে ব্যবহার করতে দেখা গেছে। তাদের সতর্ক করা হযেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বেইলি রোডে গ্রিন কোজি (কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্ট) ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় এ পর্যন্ত ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। ১১জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তারা কেউ শঙ্কামুক্ত নন। আর জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ৭৫ জনকে। ফলে এধরনের অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছে টাঙ্গাইল শহরবাসী।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে অটোরিক্সার ভাড়া বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। রবিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে দিনব্যাপী জেলা অটোরিক্সা , টেক্সি ও অটোটেম্পু শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে শ্রমিকরা অটোরিক্সা বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করে। এতে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন এসএসসি পরীক্ষার্থীসহ সাধারণ যাত্রীরা।
সরেজমিনে রবিবার সকালে শহরের নতুন বাসস্ট্যান্ড, নিরালা মোড়, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ডিস্ট্রিক আদালত চত্বর, বটতলা মোড় ও শান্তিকুঞ্জ মোড়ে কোন অটোরিক্সা চলতে দেখা যায়নি। এতে বিকল্প হিসেবে সিএনজিচালিত অটোরিক্সায় যাত্রীরা চলাচল করেন। এ সুযোগে যাত্রীদের নিকট থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হয়েছে। অনেকে আবার হেঁটেই গন্তব্যে গিয়েছেন।
সাব্বির মিয়া নামের এক এসএসসি পরীক্ষার্থী বলেন, অটো শ্রমিকদের এ আন্দোলন ও দাবি অযৌক্তিক। তারা অটো বন্ধ করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে। আমরা অটো না পায়ে, হেঁটে পরীক্ষার কেন্দ্রে যাচ্ছি।
আল মুতাকাব্বির সামি বলেন, বর্তমানে যে ভাড়া আছে সেটি স্বাভাবিক। কিন্তু এর চেয়ে বেশি ভাড়া হলে সেটা সাধারণ মানুষের উপর বোঝা হয়ে যাবে। তাদের এ দাবি এক প্রাকার জিম্মি করার মতো। আমরা এ দাবি মানবো না।
জেলা অটোরিক্সা, টেক্সি ও অটোটেম্পু শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদিন উল্লাস বলেন, শ্রমিকরা সারাদিনে যে ভাড়া পায়, তা দিয়ে তাদের সংসার চলে না। সব কিছুর দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই আমরা আন্দোলন করছি। জেলায় চার হাজারের বেশি অটোরিক্সার শ্রমিক রয়েছেন।
সংগঠনটির সভাপতি আব্দুল লতিফ বলেন, ভাড়া বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকরা রাস্তায় নেমেছে। ইতোপূর্বে ভাড়া বৃদ্ধির দাবি নিয়ে আমরা জেলা প্রশাসক ও টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়রকে জানিয়েছি। এর সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।
টাঙ্গাইল পৌর মেয়র এস.এম সিরাজুল হক আলমগীর বলেন, শ্রমিকরা ভাড়া বৃদ্ধির দাবি নিয়ে পৌরসভায় এসেছিলেন। আমি সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কথা শুনে দ্রুত আন্দোলন প্রত্যাহার করে অটোরিকশা চালু করতে বলেছি। ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি প্রশাসন সাংবাদিকসহ সকল পেশার মানুষের মতামত নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে রাবার বাগান থেকে আগুনে পোড়া অজ্ঞাত এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রবিবার (৩ মার্চ) সকালে উপজেলার কুড়াগাছা ইউনিয়নের পীরগাছা রাবার বাগান এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। তার বয়স আনুমানিক ২৪ বছর।
পুলিশের ধারণা, শনিবার রাতে দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যা করে রাবার বাগানে ফেলে গেছে।
পুলিশ জানায়, রবিবার সকালে স্থানীয় লোকজন রাবার বাগানে শরীরের বিভিন্ন অংশ পোড়া অবস্থায় একটি লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে।
মধুপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান জানান, ‘খবর পেয়ে রাবার বাগান থেকে আগুনে পোড়া অজ্ঞাত এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়। পরবর্তীতে লাশের কোনো পরিচয় না পাওয়ায় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।
তিনি আরও জানান,আমরা ধারণা করছি লাশটি মধুপুর এলাকার নয়। রাতে দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যা করে এখানে ফেলে গেছে। ওই যুবককে কেউ যেন শনাক্ত করতে না পারে সেজন্য আগুন দিয়ে মুখ ও শরীরের বিভিন্ন অংশ পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের রাজনীতিতে খান পরিবার ও সিদ্দিক পরিবার নিয়ে রয়েছে নানা আলোচনা সমালোচনা। সব আলোচনা উপেক্ষা করে ৯০ দশকের পর এই প্রথম এক মঞ্চে বসলেন দুই পরিবার।
শনিবার (২ মার্চ) দুপুরে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সিদ্দিখালী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে শামসুর রহমান খান শাহজাহান স্মৃতি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বৃত্তি পরীক্ষার পুরস্কার বিতরণীর আলোচনা সভায় তারা এক মঞ্চে বসেন।
টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতি) আসনের সংসদ সদস্য, সাবেক মন্ত্রী ও সাবেক আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী বলেন, এই পরিবারের সাথে আমার অনেক আগে থেকে সু-সম্পর্ক ছিল। কিন্তু মাঝখানে কিছু বিষয় নিয়ে সমস্যা দেখা দিলেও এখন আর নেই। রানা ও তার ভাইয়েরা যদি মনে করে যে আমাকে তারা মেনে চলবে তাহলে তাদের সাথে চলতে কোন বাঁধা নেই।
টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা বলেন, লতিফ চাচা আমাদের অভিভাবক তাই তার সাথে চলতে কোন বাঁধা নেই। আমরা চাই এক সাথে এক সঙ্গে রাজনীতি করতে।
এসময় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইরতেজা হাসান, ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুস ছালাম মিয়া প্রমূখ।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালীহাতী উপজেলার এলেঙ্গা পোস্টমাস্টারের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকজন গ্রাহকের মুনাফার প্রায় লাখ টাকা কম দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। মুনাফার টাকা কম দেওয়ার বিষয়ে গোবিন্দ সুত্রধর ও লিপি সাহা নামের ওই পোস্ট অফিসের দুই গ্রাহক ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
এরআগে বর্তমান পোস্টমাস্টার শাহাজাহান আলী পোস্টম্যান পদে থাকা অবস্থায় স্থানীয় মহাদেব কর্মকারের শ্যালক ও পোস্ট অফিসের এক গ্রাহকের সাথে এমন প্রতারণায় লিপ্ত হন। পরবর্তীতে তৎকালীন পোস্টমাস্টার ও স্থানীয়দের সহায়তায় বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এমন প্রতারণায় জড়িত পোস্টমাস্টার শাহজাহান আলীর কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা।
অভিযোগের বিভাগীয় তদন্ত শুরু হলেও এলেঙ্গার পোস্টমাস্টার শাহজাহান আলী মুনাফার টাকা আত্মসাতের কথা অস্বীকার করছেন।
পোস্টমাস্টারের প্রতারণার শিকার গ্রাহকরা হলেন-গোবিন্দ সুত্রধর, এসবি হিসাব নম্বর- ৪১৪৫৩৮, মুনাফা কম দেওয়ার পরিমাণ ১০ হাজার টাকা। লিপি সাহা, এসবি হিসাব নম্বর-৫০৪১৩৯, মুনাফা কম দেওয়ার পরিমাণ ৪ হাজার ৫৮০ টাকা, নরেশ, এসবি হিসাব নম্বর-৪০৫৮৮৫, মুনাফা কম দেওয়ার পরিমাণ ১০ হাজার টাকা, অর্চনা রাণী, মুনাফা কম দেওয়ার পরিমাণ ১৫ হাজার টাকা হলেও তার এসবি হিসাব নম্বরটি পাওয়া যায়নি।
এছাড়াও সুবল চন্দ্র রায়, এফডি হিসাব নম্বর-৩৩১৫৭৭, মুনাফা কম দেওয়ার পরিমাণ ১৫ হাজার টাকা, জোসনা, এফডি হিসাব নম্বর-৪১৯৮১০. মুনাফা কম দেওয়ার পরিমাণ ১৫ হাজার টাকা, শিল্পী, এফডি হিসাব নম্বর-৪২২৭০০, মুনাফা কম দেওয়ার পরিমাণ ১০ হাজার টাকা, নরেশ, এফডি হিসাব নম্বর-৩৬৯৬২৮, মুনাফা কম দেওয়ার পরিমাণ ১০ হাজার টাকা।
সরেজমিন পোস্ট অফিসের মুনাফা বিতরণ বইয়ের পাতায় একেক একেক গ্রাহকের স্বাক্ষর ভিন্ন রকম থাকলেও বিতরণকৃত টাকা নেওয়ার লেখা এক হাতে লেখা হয়েছে।
জানা যায়, চলতি বছরের ১৪ জুন এলেঙ্গা পোস্ট অফিসে পোস্টমাস্টার পদে যোগদান করেন শাহজাহান আলী। এরআগেও তিনি এলেঙ্গা পোস্ট অফিসের পোস্টম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কালিহাতী উপজেলার মাইজবাড়ী গ্রামে বাড়ি হওয়ায় এলেঙ্গা পোস্ট অফিসের পোস্টমাস্টার শাহজাহান কারো তোয়াক্কা করেন না। অফিসে যোগদান করার পর থেকেই যা খুশি তাই করছেন তিনি। গ্রাহক ও অফিস স্টাফদের সাথে করছেন রীতিমত অসৌজন্য মূলক আচরণ। জেলা ও বিভাগীয় অফিসের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে উনার সখ্যতা থাকায় রীতিমত তিনি এই অফিসে অনিয়মকে নিয়ম বানিয়ে ফেলেছেন। হরহামেশায় তার বিরুদ্ধে শোনা যাচ্ছে গ্রাহককে মুনাফার টাকা কম দেওয়ার অভিযোগ। এর ফলে গ্রাহকের আস্থা হারিয়ে ফেলেছে এলেঙ্গা পোস্ট অফিস। সরকারি অফিসটি রক্ষায় পোস্টমাস্টার শাহজাহান আলীর কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
ভুক্তভোগী গোবিন্দ সুত্রধরের অভিযোগ , প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর আগে এলেঙ্গা পোস্ট অফিসে আমি সঞ্চয়ী বইটি খুলি। এরপর থেকেই বইটিতে লেনদেন চালিয়ে আসছি। এখন প্রয়োজন পরায় মুনাফার টাকা উত্তোলন করতে যাই। পোস্টমাস্টার শাহাজাহান আলী আমার মুনাফা ৭ হাজার ১৫৩ টাকা হয়েছে বলে জানায়। আমি সেই টাকাই নিজ হাতে লিখে উত্তোলন করি। হঠাৎ সন্দেহ হওয়ায় আমার বই নিয়ে টাঙ্গাইল অফিসে যাই এবং জানতে পারি আমি মুনাফা বাবদ পাবো ১৭ হাজার ১৫৩ টাকা। টাকা কম দেওয়ার কারণে আমি পোস্টমাস্টারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছি।
তিনি আরও জানায়, টাঙ্গাইল অফিস থেকে তদন্তে এসেছিল। আমি আমার বাকি টাকা ফেরত পাওয়াসহ প্রতারক পোস্টমাস্টারের কঠোর বিচার দাবি করেছি।
ভুক্তভোগী লিপি সাহা জানায়, আমি ১৪ হাজার টাকা মুনাফা পাবো, সেখানে আমাকে দেওয়া হয়েছে ৯ হাজার ৪২০টাকা। এ সময় মুনাফার টাকা কম দেওয়ার বিষয়টি বুঝতে না পারলেও বিভিন্ন জনের সাথে এমন প্রতারণা করা হয়েছে খবর জানতে পেরে আমি টাঙ্গাইল অফিসে যোগাযোগ করি। ওই অফিসের মাধ্যমেই টাকা কম পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে লিখিত অভিযোগ করেছি।
তিনি আরও বলেন, আমি আমার অবশিষ্ট টাকা ফেরত পাওয়াসহ প্রতারক পোস্টমাস্টারের শাস্তি দাবি করেছি।
এলেঙ্গা পোস্ট অফিসের পোস্টমাস্টার শাহজাহান আলী মুনাফার টাকা কম দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তা ও টাঙ্গাইল পোস্ট অফিস পরিদর্শক গোলাম মোস্তফা বলেন, অভিযোগের তদন্ত চলছে।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল মো. মোরশেদ আলম জানান, এলেঙ্গা পোস্ট অফিসের পোস্টমাস্টার শাহজাহান আলীর বিরুদ্ধে গ্রাহকে মুনাফার টাকা কম দেওয়ার অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের তদন্ত চলছে।
তিনি আরও জানান, তদন্তে প্রায় ২০ থেকে ২২ কর্মদিবস সময় লাগে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া লৌহজং নদীর ময়লা আবর্জনা পরিষ্কারের উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসক কায়ছারুল ইসলাম। জেলা প্রশাসকের ডাকে সাড়া দিয়ে সারাদেশ থেকে টাঙ্গাইলে এসেছে ‘বিডি ক্লিন বাংলাদেশে’র প্রায় দুই হাজার সেচ্ছাসেবক।
তারাই এ নদীর ময়লা, আবর্জনা আর বর্জ্যের ভাগাড় নিমিষে পরিষ্কার করেন।
শুক্রবার (১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯ টায় পৌর শহরের হাউজিং মাঠ এলাকায় লৌহজং নদীর ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. ছানোয়ার হোসেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসক কায়ছারুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ওলিউজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) শরফুদ্দিন, টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র এস.এম সিরাজুল হক আলমগীর, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ, বিডি ক্লিনের প্রধান সমন্বয়ক জহিরুল ইসলাম রবি, টাঙ্গাইল জেলার সমন্বয়ক এমরান রহমান অনিম প্রমুখ।
শুক্রবার সকালে বিডি ক্লিনের দুই হাজার সদস্যরা প্রথমে টাঙ্গাইল পৌর শহরের হাউজিং মাঠে জড়ো হন। এরপরে শপথ বাক্য পাঠ করে নেমে পড়ে নদীর ময়লা আবর্জনা পরিষ্কারের কাজে।
জানা যায়, টাঙ্গাইল পৌর এলাকার প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী লৌহজং নদী। এই নদীকে ঘিরে এক সময় মানুষের জীবন জীবিকা নির্বাহ হতো। তবে বর্তমানে নদীটি ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। পৌর এলাকার বিভিন্ন ময়লা আর আবর্জনা এসে আবর্জনার স্তূপে পরিণত হয়েছিল এই নদীটি।
২০১৬ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসক নদীটি পুনঃখনন ও দূষণমুক্ত করতে কাজ শুরু করে। আংশিক অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করলেও পর্যাপ্ত বাজেট না থাকায় কাজটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অতিদ্রুত নদীটি পুনঃখনন এবং অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ না করা হলে মানচিত্র থেকে এই নদী হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ছিলেন স্থানীয় জনসাধারণ। বর্তমান জেলা প্রশাসক কায়ছারুল ইসলাম তিন কিলোমিটার নদী উদ্ধারের উদ্যোগ নেন। এখন নদীটি প্রাণ ফিরে পাবে।
স্থানীয়রা জানান, লৌহজং নদীটি সদর উপজেলার যুগনী থেকে বুড়িগঙ্গা পর্যন্ত ৭৬ কিলোমিটার। এক সময় শহরের নিরালাড়া মোড় এলাকায় নৌবন্দর ছিল। দেশ-বিদেশ থেকে লঞ্চ, স্টিমার, জাহাজ ও বড় বড় নৌকা আসতো এ নৌবন্দরে। মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক পরিবেশ ছিল এখানে। বর্তমানে সব কিছুই যেন রূপকথার গল্প।
স্থানীয় তারেক মিয়া বলেন, ময়লার ভাগাড়ে ও অবৈধ দখলদারদের কারণে নদীটি মরা খালে পরিনত হয়েছিল। জেলা প্রশাসক নদী উদ্ধারের যে কাজ হাতে নিয়েছে এখন নদীটি প্রাণ ফিরে পাবে।
বিডি ক্লিনের সদস্য সেলিম মিয়া বলেন, জেলা প্রশাসক কায়ছারুল ইসলামের আহ্বানে আমরা দুই হাজার সদস্য কয়েকটি বাসে করে ঢাকা থেকে শুক্রবার টাঙ্গাইলে এসে পৌঁছাই। স্বেচ্ছাশ্রমে এ কাজ করে আমাদের অনেক ভালো লাগে। এ সামাজিক কর্মকাণ্ডে আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসা উচিত।
জেলা প্রশাসক কায়ছারুল ইসলাম বলেন, লৌহজং নদী দীর্ঘ মেয়াদি পূর্ন উদ্ধারের অংশ হিসেবে শুক্রবার আমরা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন অভিয়ান শুরু করেছি। বিডি ক্লিনসহ সবার সহযোগিতায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করেছি। নদীর দু’পাড় দখল উচ্ছেদ কার্যক্রম এগুলো ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। নিয়মিত ভাবে আমরা কার্যক্রম পরিচালনা করে লৌহজং নদী দীর্ঘদিনের পুরোনো যে নদীর পানি প্রবাহ ছিল সেটি ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা সকল কার্যক্রম গ্রহণ করবো।
উল্লেখ্য, পৌর শহরের হাউজিং ব্রিজ পাড় এলাকা থেকে শুরু করে বেড়াডোমা ব্রিজ পাড় পর্যন্ত তিন কিলোমিটার নদীর বর্জ্য পরিষ্কার করল বিডি ক্লিনের ঢাকাসহ টাঙ্গাইলের দুই হাজার সদস্যরা। আর এই কাজে সার্বিক সহযোগিতা করেছে জেলা প্রশাসন ও টাঙ্গাইল পৌরসভা।
একতার কণ্ঠঃ রাজধানীর বেইলি রোডে বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মেহেদী হাসান নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তার বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায়।
সে উপজেলার বানাইল ইউনিয়নের দেওড়া গ্রামের আয়নাল মিয়ার ছেলে।
মেহেদী বেইলি রোডের বহুতল ভবনের ২য় তলায় একটি ফাস্টফুডের দোকানে চাকরি করতেন। বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) এই ভবনে আগুনে নিহত ৪৬ জনের মধ্যে তিনিও একজন।
নিহতের ছোট ভাই ইসরাফিল একই জায়গায় কাজ করলেও অগ্নিকাণ্ডের সময় তিনি একটি কাজে ভবনের অন্য একটি তলায় গিয়েছিলেন। যে কারণে তিনি প্রাণে বেঁচে আছেন।
শুক্রবার (১ মার্চ) নিহতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। মা ও বোন বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। মেহেদীর অকালমৃত্যু এলাকাবাসী মেনে নিতে পারছে না। ছেলেকে হারিয়ে এখন পাগলপ্রায় বাবা আয়নাল মিয়া।
নিহত মেহেদীর ভাই ইসরাফিল বলেন, তারা দুই ভাই একই জায়গায় কাজ করতেন। অগ্নিকাণ্ডের আগেই তিনি একটি কাজে ভবনের অন্য আরেকটি ফ্লোরে ছিলেন। পরে তিনি ভবন থেকে লাফিয়ে প্রাণে বাঁচেন। সকালে ভাইয়ের মরদেহ গ্রামের বাড়ি নিয়ে এসে দাফন করেছেন। সরকারের কাছে সাহায্যের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বোন সুমাইয়া আক্তার বলেন, আমার ভাই বৃহস্পতিবার ফোন দিয়ে বলেছে- তুমি বাবার বাড়ি যাও, আমি আসব। আমার সেই ভাই আর এলো না। আমার ভাই রেস্টুরেন্টে চাকরি করত। আমার ভাইয়ের আয় দিয়ে সংসার চলত। মাসে ২০ হাজার টাকা বেতন পেত। শুক্রবার আসার কথা ছিল। আর এলো না আমার ভাই।
বাবা আয়নাল হক জানান, অভাব অনটনের সংসার চালাতেই দুই ভাই কাজ করতেন বেইলি রোডের ওই ভবনে। তার দুই ছেলে, এক মেয়ে। বড় ছেলে মেহেদীর বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন ছিল। পাসপোর্ট করার জন্য কাগজপত্র রেডি করতেছিল। মেহেদী স্বপ্ন দেখতো, বিদেশে গিয়ে স্বাবলম্বী হয়ে পরিবারের অভাব অনটন দূর করবে। কিন্তু ভাগ্য সহায় হলো না। তার স্বপ্ন পূরণ হলো না। সরকারের কাছে তিনিও সহযোগিতা কামনা করছেন।
মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাকিলা বিনতে মতিন জানান, মেহেদীর পরিবারের পাশে উপজেলা প্রশাসন সব সময় থাকবে। এই পরিবারকে সহযোগিতা করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ শপথ গ্রহণ করলেন টাঙ্গাইলের সংরক্ষিত নারী আসনের ৩ এমপি। বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টায় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী তাদের শপথ বাক্য পাঠ করান।
তারা হলেন, সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট তারানা হালিম, বর্তমান সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি অপরাজিতা হক ও শামসুন্নাহার চাঁপা।
প্রসঙ্গত, সংরক্ষিত নারী আসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং কর্মকর্তা (যুগ্ম সচিব) মুনিরুজ্জামান তালুকদার গত ২৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনী আইনের ১২ ধারা অনুযায়ী, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৫০ জন প্রার্থীকে নির্বাচিত ঘোষণা করেন।
নির্বাচনের বিধি অনুযায়ী, সরাসরি ভোটে জয়ী দলগুলোর আসন সংখ্যার অনুপাতে নারী আসন বণ্টন করা হয়।
জোট শরিক ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সমর্থনে ৪৮টি সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী মনোনয়ন দেয় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। বিরোধী দল জাতীয় পার্টি মনোনয়ন দিয়েছিল ২টি আসনে।
একতার কণ্ঠঃ জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি শান্তিপূর্ন থাকা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের জন্য বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল (বিপিএম) সেবা পদক পেলেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার।
মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজ হাতে বাংলাদেশ পুলিশের সর্বোচ্চ পদক বিপিএম পদক তাকে পরিয়ে দেন। সরকার মোহাম্মদ কায়সার অ্যাডিশনাল ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত।
এ সময় ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজি), চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বিপিএম (বার), পিপিএম, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি জনাব সৈয়দ নুরুল ইসলাম, বিপিএম (বার) পিপিএম , পুলিশ সদর দপ্তরের সকল ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দসহ অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, সরকার মোহাম্মদ কায়সার ২০২১ সালের ২৯ অক্টোবর টাঙ্গাইলে যোগদান করেন। তার পর থেকে তিনি টাঙ্গাইলে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল শহরের প্রাণকেন্দ্র-ভিক্টোরিয়া রোডে অবস্থিত ক্যাপসুল মার্কেটের পশ্চিম পাশের পার্কিংয়ের জায়গায় অবৈধ ভাবে বসানো ছোট-বড় ১০টি ফুচকা-চটপটি ও ফাস্টফুডের দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে।
একই সাথে টাউন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তা, ভিক্টোরিয়া রোডে বসানো ৫টি ভ্রাম্যমান ফাস্টফুডের ফুড-কার্ট দোকানও উচ্ছেদ করা হয়।
বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঘন্টাব্যাপী এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
টাঙ্গাইল পৌরসভার সহযোগিতায় এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোহাইমিনুল ইসলাম।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল পৌর মেয়র এস.এম সিরাজুল হক আলমগীর, প্যানেল মেয়র মো. হাফিজুর রহমান স্বপন, কাউন্সিলর মো. জহুরুল ইসলাম আজাদ, মো. সাইফুল ইসলাম, মুন্না চৌধুরীসহ টাঙ্গাইল জেলা প্রসাশন ও পৌরসভার বিভিন্ন কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।
এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোহাইমিনুল ইসলাম জানান, রাস্তায় যানবাহন ও ফুটপাতে পথচারীদের চলাচলের সুবিধার্থে টাঙ্গাইল পৌরসভার অধীন ক্যাপসুল মার্কেট ও তৎসংলগ্ন এলাকা, শহীদ জগলু রোড, খালপার রোডসহ সুপার মার্কেটের সামনে ছোট-বড় অবৈধভাবে বসানো দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অভিযান প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল পৌর মেয়র এস.এম সিরাজুল হক আলমগীর বলেন, রাস্তার পাশে ও ফুটপাতের উপর দোকান বসানোর কারনে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে অসুবিধার জন্য এইসব দোকান মালিকদের পূর্বেই নোটিশ দেওয়া হয়েছিলো। একই সাথে মাইকিংও করা হয়েছিলো। কিন্তু তারা সেটি তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলো। তাই সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদসহ সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, টাঙ্গাইল শহরের প্রাণকেন্দ্র-ভিক্টোরিয়া রোডে অবস্থিত পৌরসভার ক্যাপসুল মার্কেটের পশ্চিম পাশের পার্কিংয়ের জায়গায় পৌরসভার একশ্রেণীর কর্মচারীদের যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ফুচকা-চটপটি ও ফাস্টফুডের দোকানসহ বিভিন্ন ধরনের অবৈধ দোকান পরিচালনা করে আসছিল একটি চক্র। ফলে প্রচন্ড রকমের ব্যস্ত ভিক্টোরিয়া রোডের এই অংশে সব সময় যানজট লেগেই থাকতো।
এছাড়া ক্যাপসুল মার্কেটের সামনে অবস্থিত টাউন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতে প্রচন্ড অসুবিধার সম্মুখীন হয়ে আসছিল। ফলে বেশ কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ বিষয়ে সংবাদ প্রচারিত হওয়ার ফলে জনমত তৈরি হয়। বুধবার জেলা প্রসাশন, পৌর কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন। এই উচ্ছেদ অভিযানের ফলে পৌরবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।