/ হোম / টাঙ্গাইল
টাঙ্গাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় দাখিল পরীক্ষার্থী নিহত - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় দাখিল পরীক্ষার্থী নিহত

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় হাফেজ আবু রায়হান (১৭) নামে এক দাখিল পরীক্ষার্থীর নিহতের ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের (পুরাতন সড়ক) পুষ্টকামুরী এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত হাফেজ আবু রায়হানের বাড়ি উপজেলার ভাওড়া ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামে। সে এ বছর মির্জাপুর আফাজ উদ্দিন দারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করছে।

এ ঘটনায় আহত হয়েছেন তার বাবা স্কুলশিক্ষক হাবিবুর রহমান। তাকে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, আবু রায়হান এ বছর দাখিল পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করছে। বাবা হাবিবুর রহমান উপজেলার ছিট মামুদপুর উচ্চবিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক। বাবার সঙ্গে মোটরসাইকেল যোগে মির্জাপুর সদরের আফাজ উদ্দিন দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে যাচ্ছিল রায়হান। ছেলেকে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দিয়ে উপজেলার বাঁশতৈল পরীক্ষা কেন্দ্রে ডিউটিতে যাওয়ার কথা ছিল তার বাবার। পথিমধ্যে পুষ্টকামুরী এলাকায় পৌঁছালে সিএনজি চালিত অটোরিকশার সঙ্গে তাদের মোটর সাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেল আরোহী বাবা-ছেলে আহত হন। এ সময় গরুভর্তি একটি পিকআপ পরীক্ষার্থী আবু রায়হানকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

মির্জাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফজলু মিয়া জানান, মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ঘাতক পিকআপ নিয়ে চালক পালিয়ে গেছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২২. ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ১০:২৫:পিএম ২ বছর আগে
টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পুষ্পস্তবকের ফুল ময়লার ট্রাকে অপসারণ, জনমনে ক্ষোভ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পুষ্পস্তবকের ফুল ময়লার ট্রাকে অপসারণ, জনমনে ক্ষোভ

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জেলা প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণের শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের পুষ্পস্তবক শহীদ বেদী থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যেই ময়লার ট্রাকে অপসারণ করেছে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের দায়িত্ব থাকা টাঙ্গাইল পৌর প্রশাসন।

এ ঘটনায় জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

তবে পৌর মেয়র এস.এম সিরাজুল হক আলমগীর বিষয়টি একটু ভুল হয়েছে স্বীকার করে জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটবে না। এ বিষয়ে আমরা সচেতন থাকবো।

সংশ্লিষ্ট্য সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) প্রথম প্রহর রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনসহ স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রথমে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে প্রথম প্রহরে ও সকালে বিভিন্ন সরকারি-বেসকারি সংস্থা, রাজনৈতিক দল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এবং বিভিন্ন সংগঠন টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের শহীদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা শুরু করে। পর্যায়ক্রমে বুধবার বেলা ১১টা পর্যন্ত চলে শহীদ বেদীতে শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর কার্যক্রম।

কিন্তু দুপুর ১২টার দিকে টাঙ্গাইল পৌরসভার ময়লার গাড়ি এসে শহীদ মিনারের পাশে দাঁড়ায়। এ সময় পৌরসভার কয়েকজন কর্মচারীরা গণমানুষের দেওয়া শ্রদ্ধাঞ্জলির ফুলের তোড়া শহীদ বেদী থেকে পৌরসভার ময়লার গাড়িতে তুলতে থাকে। ফুলের তোড়াগুলো তারা পৌরসভার ময়লার গাড়িতে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। এতে এক ঘণ্টার মধ্যেই শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানানো ফুলগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ নাগরিক-সমাজের লোকজন। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন বলেন, যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয়েছে। মহান ভাষা আন্দোলনে আমরা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছি। কিন্তু টাঙ্গাইল পৌরসভা এমন অবিবেচক হলো কিভাবে, যে তারা কয়েক ঘন্টার মধ্যেই শহীদ বেদীর ফুল তুলে ময়লার গাড়িতে তুলে নিয়ে গেল। সকাল ১১ টা পর্যন্ত তো নানা শ্রেণির মানুষ শ্রদ্ধা জানিয়েছে। তাহলে ১২ টার মধ্যেই নিতে হবে? এতে করে শহীদদের প্রতি চরম অবমাননা করা হয়েছে। রাজনৈতিক দলের একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে মেয়র কিভাবে এমন অন্যায় কাজ করতে পারেন।

বিষয়টি একটু ভুল হয়েছে স্বীকার করে টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর বলেন, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটবে না। এ বিষয়ে আমরা সচেতন থাকবো। বরাবরের মতো এ বছরও দুপুরের আগেই ফুলগুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তবে বিকালের পর অপসারণ করা হলে ভালো হতো বলে তিনি জানান।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২২. ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ০২:৫৬:এএম ২ বছর আগে
টাঙ্গাইলে এসএসসি পরীক্ষায় নকল সরবরাহের চেষ্টা, দুইজনকে কারাদণ্ড - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে এসএসসি পরীক্ষায় নকল সরবরাহের চেষ্টা, দুইজনকে কারাদণ্ড

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে এসএসসি পরীক্ষায় নকল সরাবরাহের সময় হাতে নাতে ধরা পড়ায় দুইজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) এলেঙ্গা পৌরসভা এলাকায় পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রের বাইরে থেকে নকল সরবরাহের চেষ্টাকালে আল আমিনকে ২১ দিন ও মহির উদ্দিনকে ৭ দিনের কারাদণ্ড প্রদান করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক।

এ প্রসঙ্গে মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক জানান, এলেঙ্গা পৌরসভা এলাকায় পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রের বাইরে থেকে নকল সরবরাহের চেষ্টাকালে ওই দুইজন ব্যক্তিকে নকল সহ হাতেনাতে ধরা হয়। পরে তাদের নিকট নকল সরবরাহের উপকরণ পাওয়া যায় এবং তারা অপরাধ স্বীকার করেন। এসময় একজনকে ২১ দিন এবং অপরজনকে ৭ দিনের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, পরীক্ষায় যে কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা এবং অসদোপায় প্রতিরোধ ও কেন্দ্রের ভেতর এবং বাইরের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসন সচেষ্ট আছে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২১. ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ০৩:৫০:এএম ২ বছর আগে
টাঙ্গাইলে চাঁদাবাজি মামলায় বেকসুর খালাস পেলেন সাংবাদিক বাবু - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে চাঁদাবাজি মামলায় বেকসুর খালাস পেলেন সাংবাদিক বাবু

একতার কণ্ঠঃ দৈনিক আমার সংবাদ পত্রিকার নাগরপুর উপজেলা প্রতিনিধি ও জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার উপজেলা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক মো. আজিজুল হক বাবু একজন শিক্ষকের দায়ের করা মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন চাঁদাবাজি মামলায় আদালত থেকে বেকসুর খালাস পেয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত মামলাটি থেকে খালাস সংক্রান্ত একটি রি-কল পত্র নাগরপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সাংবাদিক মো. আজিজুল হক বাবু বলেন, আমাকে হেনস্তা ও আমার পরিবারের সুনাম ক্ষুণ্ন করতেই চাঁদাবাজির মিথ্যা অভিযোগে মামলা করা হয়েছিলো যা আদালতের সিদ্ধান্তে বেকসুর খালাসের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে। সব প্রতিকূলতাকে পিছনে ফেলে সুষ্ঠু ধারায় সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে সাংবাদিকতায় সামনে এগিয়ে যেতে চাই।

উল্লেখ্য, গত ২০২২ সালের ২১ এপ্রিল একটি বানোয়াট অভিযোগে দায়ের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে, নাগরপুর থানা পুলিশ সাংবাদিক আজিজুল হক বাবুকে আটক করে এবং থানা হাজতে রেখে পরের দিন ২২ এপ্রিল আদালতে প্রেরণ করে।

প্রায় একমাস কারাগারে থাকার পর পরবর্তীতে তিনি ওই বছরের ২৩ মে জামিনে মুক্তি পান।

এছাড়াও ভিত্তিহীন চাঁদাবাজি মামলায় আটকের প্রতিবাদে সে সময় নাগরপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধারা ও বিভিন্ন সাংবাদিক মহল মানববন্ধনসহ প্রতিবাদ সমাবেশ করেছিল।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২১. ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ০২:৩০:এএম ২ বছর আগে
টাঙ্গাইলে পাগলা কুকুরের আক্রমণে নারী ও শিশুসহ ১৬ জন আহত - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে পাগলা কুকুরের আক্রমণে নারী ও শিশুসহ ১৬ জন আহত

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে এক পাগলা কুকুরের কামড়ে নারী ও শিশুসহ ১৬ জন আহত হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে ভূঞাপুর ইব্রাহীম খাঁ সরকারি কলেজ ও বীরহাটি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন, ভূঞাপুর পৌর শহরের বীরহাটি গ্রামের আব্দুল হালিম (৩৮), বামনা হাটা গ্রামের জহুরুল ইসলাম (২৩), ফসলান্দি গ্রামের আতিকুর রহমান (৩৮), পশ্চিম ভূঞাপুর গ্রামের লিলি বেগম (৩০), ফলদা ইউনিয়নের ঝনঝনিয়া গ্রামের কেরামত আলী (৬৫), স্কুলছাত্রী জুই খাতুন (৯), পৌরসভার বেতুয়া এলাকার জহুরা (৫০) এবং নিকরাইল এলাকার নাসিমা বেগম (৪৫)। অপর আহত আরও ৮ জনের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি।

আহত জহুরুল ইসলাম জানান, ইব্রাহীম খাঁ মাজারের কাছে একটি পাগলা কুকুর লাফ দিয়ে আমার উপর এসে পড়ে এবং পায়ে কামড়ে দেয়। এরপরই সেখানে থাকা আরও কয়েকজনকে কামড়ে দিয়েছে।

অপর আহত উপজেলার কষ্টাপাড়া ফাজিল মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক আতিকুর রহমান জানান, বাসা থেকে বের হয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে খোঁজ নিতে যাওয়ার সময়ই দৌড়ে এসে কুকুর কামড়ে দিয়েছে। পরে হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিতে এসে দেখি ভ্যাকসিন নেই। বাইরে থেকে ভ্যাকসিন কিনে এনে দিতে হয়েছে।

এদিকে, পাগলা কুকুরটিকে নিয়ন্ত্রণ না করায় বিভিন্ন জায়গাতে গিয়ে পথচারীদের উপর আক্রমণ ও কামড়াচ্ছেন। এতে আহতদের সংখ্যা বাড়ছে। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভ্যাকসিনসহ প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এরমধ্যে গুরুত্বর আহত রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. ইফাত ফারজানা জানান, কুকুরের আক্রমণে শিকার হয়ে ১৬ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে গুরুত্বর ৪ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ভ্যাকসিন সরবরাহ না থাকায় বাইরে থেকে রোগীদের কিনে আনতে হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদুর রহমান জানান, ‘বিষয়টি জানা নেই। জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২১. ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ০১:১৭:এএম ২ বছর আগে
টাঙ্গাইলে শিক্ষক হত্যাকান্ড: আসামিদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে শিক্ষক হত্যাকান্ড: আসামিদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে বাড়িতে ডেকে নিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষক আব্দুল হক মাস্টারকে পরিকল্পিভাবে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীন ভূঞাপুর উপজেলা শাখার উদ্যোগে উপজেলা পরিষদের সামনে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

মানববন্ধন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও’র) মাধ্যমে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এর আগে পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিক্ষোভ ও মিছিল করে শিক্ষকরা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন – ‘পরিকল্পিতভাবে শিক্ষক আব্দুল হক মাস্টারকে হত্যা করা হয়েছে। নৃশংস এই হত্যার ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্য একটি মহল পাঁয়তারা করছে। আমরা আমাদের সহকর্মী শিক্ষক আব্দুল হক মাস্টার হত্যার কঠোর শাস্তিসহ আসামিদের ফাঁসির দাবি জানাচ্ছি।’

উপজেলা মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির সভাপতি আফসার আলীর সভাপতিত্বে সেখানে বক্তব্য রাখেন – উপজেলা চেয়ারম্যান নার্গিস বেগম, শিক্ষক আব্দুস ছোবহান, আব্দুর রউফ তালুকদার, নূরুল হুদা, আতিকুর রহমান, শরিফুল ইসলাম, নূরুন্নবী, মাহবুব আলম ও মাজহারুল ইসলাম তালুকদার প্রমুখ।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার নিকড়াইল ইউনিয়নের সারপলশিয়া গ্রামের শিক্ষক আব্দুল হক মাস্টার নিখোঁজ হন। মূলত, ওই সময় আসামি জাহানারা ওরফে জয়নব বেগম ও তার স্বামীসহ কয়েকজন মিলে শিক্ষক আব্দুল হককে হত্যা করে ঘরের সামনে বালুচাপা দিয়ে রাখে।

এরপর শুক্রবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাহানারার বাড়ি থেকে ওই শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই রাতে শিক্ষককের স্ত্রী আয়েশা খাতুন বাদী হয়ে ভূঞাপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এ হত্যাকাণ্ডের আসামিরা হলেন – জাহানারা ওরফে জয়নব বেগম, তার স্বামী আব্দুল বারেক, প্রতিবেশী ছবুর ও জাকির।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২০. ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ০৩:১৯:এএম ২ বছর আগে
টাঙ্গাইলে ট্রাক চালক হত্যার ঘটনায় ৬ জন গ্রেপ্তার ২ জনের স্বীকারোক্তি - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ট্রাক চালক হত্যার ঘটনায় ৬ জন গ্রেপ্তার ২ জনের স্বীকারোক্তি

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ট্রাক চালক নাজমুল ইসলাম ওরফে আজিজুল ইসলাম (৩৫) খুনের ঘটনায় ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে সাদ্দাম হোসেন (৩৪) ও নাদিম খান (৩১) নামে দুজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মির্জাপুর থানায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে এই তথ্য জানান অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রেজাউল করিম।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, উপজেলা সদরের বাইমহাটি মাস্টারপাড়ার আবু সাঈদ খানের ছেলে নাদিম (৩১), লতিফপুর ইউনিয়নের ত্রিমোহন বান্দরমারা গ্রামের পাষান খানের ছেলে সাদ্দাম (৩৪), বাইমহাটী গ্রামের মৃত সামাদ আলীর ছেলে মো. ইয়াসিন (২৩), বাগজান গ্রামের মৃত নুরুল হকের ছেলে লাভলু মিয়া (৩১), বাইমহাটী গ্রামের বাদশা মিয়ার ছেলে ফজল মিয়া (৩৯) সিংজুরী গ্রামের বোরহান মিয়ার ছেলে মো. সোহেল (৩২)।

প্রেস বিফংয়ে জানানো হয়, শুক্রবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ট্রাকচালক আজিজুল ও তার শ্যালক ট্রাকের হেলপার আবু তালেব নারায়ণগঞ্জ থেকে ট্রাকে ভুট্টা ভর্তি করে বগুড়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে রাত ১টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর বাইপাস এলাকার মা সিএনজি স্টেশনের কাছে পৌঁছালে মহাসড়কে একটি বস্তা পড়ে থাকতে দেখেন। এসময় ট্রাক থামিয়ে চালকের সহকারী পড়ে থাকা বস্তা সরাতে গেলে ১০-১২ জন দেশীয় অস্ত্রধারী এসে তাকে ঘিরে ফেলেন। অস্ত্রধারীরা তার সঙ্গে থাকা ১৮ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় এবং মারপিট করেন। এসময় দৌড়ে সহায়তা পেতে চিৎকার করতে থাকেন। এদিকে অস্ত্রধারীরা ট্রাকে উঠে চালকের বুকে ছুরিকাঘাত করে। হেলপারের আত্মচিৎকারে আশপাশের লোকজন ও পুলিশের টহল দল এগিয়ে গেলে অস্ত্রধারী ডাকাতদল পালিয়ে যায়। পরে আহত চালককে উদ্ধার করে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

এই ঘটনায় মির্জাপুর থানায় শনিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে ট্রাকের হেলপার আবু তালেব মামলা করে। মামলা নথিভূক্ত হওয়ার তিন ঘন্টার মধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেয়া তথ্যে রবিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ও সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) পোষ্টকামুরী, বাইমহাটী, দেওহাটা ও মির্জাপুর বাজার এলাকা থেকে বাকি চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এদিকে গ্রেপ্তারকৃত সাদ্দাম ও নাদিম রবিার (১৮ ফেব্রয়ারী) আদালতে ট্রাকচালককে খুনের কথা স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। গ্রেপ্তার অন্য চারজনকে সোমবার সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করে টাঙ্গাইল কোর্টে প্রেরন করা হয়।
এই খুনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত সাতজনের মধ্যে ছয়জনকে গ্রেপ্তর করা হয়েছে এবং অন্য একজনকেও গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২০. ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ০২:৪৫:এএম ২ বছর আগে
টাঙ্গাইলে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে রং মিস্ত্রির মৃত্যু - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে রং মিস্ত্রির মৃত্যু

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সিফাত মিয়া (২৮) নামে এক রং মিস্ত্রির মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারী) সকালে উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রং মিস্ত্রি সিফাত উপজেলার নরদহি চরপাড়া গ্রামের মো. সিদ্দিক হোসেনের ছেলে।

এ বিষয়ে কালিহাতী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোবারক হোসেন জানান, সকালে এলেঙ্গা বাজার এলাকায় চান মাহমুদের পাঁচতালা ভবনের রং এর কাজ করছিলেন সিফাত। এসময় ভবনের পাশে থাকা ১১ হাজার ভোল্টের তারে জড়িয়ে নিচে পড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

তিনি আরও জানান, এসময় সিফাতের শরীর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২০. ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ০২:২০:এএম ২ বছর আগে
টাঙ্গাইলে পিকআপ-সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে  নারীসহ ৪ জন নিহত - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে পিকআপ-সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে নারীসহ ৪ জন নিহত

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে পিকআপ-সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে নারীসহ ৪ জন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ২ জন আহত হয়েছেন।

রবিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৪ টার দিকে উপজেলার গোড়াই-সখিপুর আঞ্চলিক সড়কের বাঁশতৈল ইউনিয়নের তেলিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- উপজেলার ভাতগ্রাম গ্রামের বিদ্যুৎ মিয়ার ছেলে আকাশ (৩০), নয়াপাড়া গ্রামের সমেজ উদ্দিনের ছেলে নাজমুল (২৫), গাইড়া বেতিল গ্রামের মঈনউদ্দিনের ছেলে লুৎফর রহমার (৪০) এবং তেলিপাড়া গ্রামের তারা মিয়ার স্ত্রী রহিমা বেগম (৩৫)। তারা সিএনজির যাত্রী ছিল।

মির্জাপুর বাঁশতৈল ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) হুমায়ুন কবীর এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

হুমায়ূন কবীর জানান, পিকআপের সঙ্গে সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই সিএনজির তিন যাত্রী নিহত হয়। তাদের মধ্যে দুইজন পুরুষ ও একজন নারী। এতে আরও ৩ জন আহত হয়।

তিনি আরও জানান, পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর আহতদের মধ্যে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে দুর্ঘটনায় মোট ৪ জন নিহত হয়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৯. ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ০২:৫৫:এএম ২ বছর আগে
টাঙ্গাইল শাড়ির উৎস ও বিবর্তন - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইল শাড়ির উৎস ও বিবর্তন

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল শাড়ির প্রাথমিক খ্যাতি এর সূক্ষ্ম বুনট ও মিহি বস্ত্রের কারণে । এজন্য সবচেয়ে বেশি কৃতিত্ব দাবি করতে পারে বসাক তাঁতিরা। টাঙ্গাইলের বসাক তাঁতিরা আসলে ঢাকা থেকে দেশান্তরী হওয়া তাঁতি। তাদের মধ্যে প্রচলিত কিংবদন্তি অনুসারে তারা ঢাকা—মূলত ধামরাই ও চৌহাট নামক স্থান থেকে টাঙ্গাইলে এসে নিবাস গড়ে তুলেছিল। এ কথার সমর্থন মেলে বিশ শতকের প্রথমার্ধে ঢাকার বিশিষ্ট নাগরিক হাকিম হাবিবুর রহমানের প্রদত্ত বিবরণ থেকেও। তিনি সূক্ষ্ম কাপড় উৎপাদনের সঙ্গে এর পৃষ্ঠপোষকের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে লিখেছেন,

…কাগমারি পরগণা, যা পশ্চিম ময়মনসিংহের টাংগাইল মহাকুমার প্রসিদ্ধ জায়গা, সূক্ষ্ম কাপড় তৈরির ব্যাপারে প্রসিদ্ধি লাভ করে। এখানে এটা বলা অপ্রাসঙ্গিক হবে না যে ঢাকা শহর থেকে ছয় মাইল পশ্চিমে তুরাগ নামে এক নদী প্রবাহিত রয়েছে, যা ময়মনসিংহ জেলার আলপসিং পরগণার যমুনা নদী থেকে উৎপন্ন হয়েছে এবং ঢাকার আটীর সামনে বুড়িগঙ্গায় এসে মিলিত হয়েছে। এই নদীর বিশেষ বৈশিষ্ট্য এই যে এর তীর বরাবর বাংলার বড় বড় জমিদার, মুসলিম নেতাদের এবং কিছু হিন্দু ধনী পরিবারের অধিবাস রয়েছে। কাশিমপুরের রায়সাহেবরা, তালেবাবাদের সিদ্দিকী সাহেবগণ, সফরতলীর খান সাহেবরা (সম্ভবত শ্রীফলতলী), পাক আল্লাহ (পাকুল্লা) এবং দেলদুয়ারের সৈয়দ ও গযনবী বংশীয়রা, করটীয়ার পন্নীরা, যারা ইউসুফযায়ী পাঠানদের একটা শাখা, সন্তোষের রাজা সাহেবরা, সকলেরই এই নদীর তীরে বসবাস। এঁরা ছাড়াও কিছু সম্ভ্রান্তজন ছিলেন যাঁরা নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছেন। এঁদের পৃষ্ঠপোষকতায় এই শিল্প ঢাকা থেকে স্থানান্তরিত হয়ে ওখানে পৌঁছেছে। ১

বিশিষ্ট গবেষক জোলেখা হক লিখেছেন, “As mentioned before the homespun muslin thread was the domain of Hindu weavers of tantis, who, after the fall in the trade of fine muslin, gradually migrated from Dhaka to present-day Tangail and neighbouring Bajitpur, which also became famous as a center of fine cotton saris.” ২

এ দুই বিবরণের ভিত্তিতে বলা যায়, টাঙ্গাইলের তাঁতিদের উৎস হলো ঢাকার তাঁতি সম্প্রদায়। সে হিসেবে বলা যেতে পারে টাঙ্গাইলের তাঁতিরা মসলিন বয়নের কৌশল অনুসরণ করেই বস্ত্র বয়ন করত। তবে কালের প্রবাহে নানা পরিবর্তনও এসেছে তাতে। যেমন অতীতে সনাতনী গর্ত তাঁত ব্যবহার করে বস্ত্র বয়ন করা হতো, যেখানে মাকু ছোড়া হতো হাতে। কালক্রমে সনাতনী গর্ত তাঁতের সংখ্যা কমে গেছে (এখন নেই বললেই চলে) এবং এর বিকল্প হিসেবে বর্তমানে খটখটি বা ঠকঠকি তাঁত, ফ্রেম তাঁত এমনকি চিত্তরঞ্জন তাঁত পর্যন্ত ব্যবহার হচ্ছে। আগে শুধু ঝাঁপের সাহায্যে হাতে নকশা বুটি তোলা হতো। এখন জ্যাকার্ড ও ডবি ব্যবহার করে নানা ধরনের ডিজাইন করা হচ্ছে। বোধগম্য কারণে টাঙ্গাইলের বসাক তাঁতিদের বয়ন পদ্ধতি ও কৃৎকৌশলে নানা পরিবর্তন এসেছে।

টাঙ্গাইলের শাড়ির খ্যাতি নকশার কারণেই বিস্তার লাভ করেছিল। এবং এ খ্যাতি লাভের পেছনে মূলত দুটি কারণ সক্রিয় ছিল। প্রথমত, মসলিনের তাঁতি হওয়ায় তারা সূক্ষ্ম ও মিহি সুতা ব্যবহার করে উন্নতমানের বস্ত্র তৈরির কৌশল জানত। ফলে জোলা বা যোগীদের চেয়ে তাদের বস্ত্রের মান ভালো হতো। বঙ্গীয় শিল্প বিভাগের প্রতিবেদনে (১৯২৯) স্পষ্টই বলা হচ্ছে, The popularity of these cloths is due to the fact that they are fine and look well. The Bajitpur weavers use 120 to 250 counts of yarn for fine cloths. ৩

দ্বিতীয়ত, বিশ শতকের প্রথম দশকের মধ্যে নানা কারণে মসলিন বয়ন বন্ধ হয়ে গেলে টাঙ্গাইলের এ বসাক তাঁতিরা অতি দ্রুত পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়ার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছিল। এর একটা হলো তৎকালীন আধুনিক প্রযুক্তি অর্থাৎ ঠকঠকি তাঁত ব্যবহার এবং ডবি ও জ্যাকার্ড মেশিনের ব্যবহার। বিভিন্ন সূত্র থেকে যা জানা যায়, তাতে মনে হয় যে ১৯২০-১৯৩০ কালপর্বেই টাঙ্গাইলে ডবি ও জ্যাকার্ড মেশিনসহ ফ্লাইসেটেল বা ঠকঠকি তাঁতের প্রচলন হয়েছিল। সাবুদ হিসেবে বলা যায়, টাঙ্গাইলে সরকারি বয়ন বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দে। ফলে ১৯২০-৩০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে সেখানে ডবি ও জ্যাকার্ড চালু হয়ে যাওয়া খুবই সম্ভব। বঙ্গীয় শিল্প বিভাগের কুটির শিল্পবিষয়ক জরিপ প্রতিবেদন (১৯২৯) এবং রঘুনাথ বসাক (১৯১৩-২০০৯) এর সাক্ষ্য এ বক্তব্য সমর্থন করে। ৪

তার মানে অবশ্য এই নয় যে জ্যাকার্ড বা ডবি আসার আগে কাপড়ে কোনো নকশা ছিল না। তখনো নকশা হতো টাঙ্গাইলের শাড়িতে। তবে এখন যেসব রকমারি নকশা দেখা যায় টাঙ্গাইল শাড়িতে, সে রকম নয়। ডবি বা জ্যাকার্ড মেশিন আসার আগে টাঙ্গাইলে কী ধরনের নকশা হতো, কীভাবে বোনা হতো সেসব নকশা, তার চমকপ্রদ বর্ণনা দিয়েছেন রঘুনাথ বসাক (১৯১৩-২০০৯) তার অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপিতে।

তার ভাষায় : “এরপর ১৩২৫ সনের পর হইতে ১৩৩৫ সন পৰ্য্যন্ত টাঙ্গাইল তাঁত বস্ত্র শিল্পের ক্রমে বৎসর পর বৎসর আরও উন্নতি লাভ করিতে লাগিল। এই সময়সীমার মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য এই যে সাদা জমিনে তিন পাইড় অর্থাৎ পাছা পাইড় বলা হইত এগুলি প্রচুর তৈরি হইয়া বাজারে আদরের সহিত বিক্ৰী হইত। এই সময়ের কিছু কাল পূৰ্ব্ব হইতে কিছু কিছু নক্সীর কাজ আরম্ভ হইল যথা:- বেকী পাইড়, চোকবেকী, চাটাই পাইড়। তৎপর বৎসর গুলিতে জরির, আর্ট সিল্ক রঙ্গীন সুতা ইত্যাদি ক্রমে আমদানী হইতে লাগিল উহা দ্বারা ১৩৩০ হইতে ক্রমে চেন পাইড়, বিস্কুট পাইড়, জরির বা শিল্কের চোচা পাইড় পটাপটি পটাপটি (সিতি সিন্দুর) পাইড়, তাজ পাইড়, আনারকলি পাইড়, চুরি পাইড়, স্কার্ট (?) পাইড়, ফিতাচুরি ফিতা বালেট পাইড়; এতদ্‌ব্যতীত আরো বিভিন্ন পাইরের নমুনার বস্ত্র তৈরি হইত। কিন্তু এসব কাপড়ই সাদা জমিনে ছিল। ওপরোক্ত সাদা জমিনে লাল সাদা জমিনে পাছা পাইড় শাড়ী গুলি ১৩৩৫ সন হইতে সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়। তৎপর ১৩৩০ সনের পর হইতে ১৩৩৫ সন পর্যন্ত বয়ন শিল্পের আরও উন্নতি হয়। এ সময়ের মধ্যেও কোনো মেশিনের সাহায্য ছিল না। সবই হাত পা বাঁশ লোহার মাকুর সাহায্যে বস্ত্র তৈরী করিত।” ৫

অবশ্য উল্লেখ করা যেতে পারে, বিশ শতকের বিশ কিংবা ত্রিশের দশকে ঠকঠকি তাঁত এবং ডবি ও জ্যাকার্ড মেশিন টাঙ্গাইল ছাড়াও আরো অনেক স্থানেই প্রচলিত হয়েছিল, তার পরও টাঙ্গাইলের শাড়ি বিশেষ খ্যাতি লাভের কারণ কী? কারণ বসাক তাঁতিরা শুধু এটা ব্যবহার করেই থেমে থাকেনি। শাড়ির নকশায় নানা রকমের নতুনত্ব, পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংযোজন ইত্যাদির ব্যাপারে সচেষ্ট হয়েছিল। ফলে টাঙ্গাইলের শাড়ির নকশায় নানা রকম উন্নতি ঘটেছে। তবে এ উন্নতি একদিনে ঘটেনি। রঘুনাথ বসাকের বিবরণ থেকে জানা যায়—

“তৎপর ১৩৩৫ সন হইতে জ্যাকার্ড মেশিন ও ফ্লাইসেটেলের সাহায্যে বসাক তাঁত শিল্পীদের উৎকৃষ্ট নমুনার বয়ন শিল্পের এক নবযুগ আরম্ভ হইল। টাঙ্গাইল নিবাসী মহাভারত বসাকের পুত্র রমেশ বসাক সৰ্ব্ব প্রথমে টাঙ্গাইলে ব্রিটিশ আমলের গভর্নমেন্ট উইভিং স্কুল হইতে জ্যাকার্ড মেশিনের ও ফ্লাইসেটেলের সাহায্যে বস্ত্র বয়ন করা শিক্ষা লাভ করে তথা হইতে উইভিং পাশ করে আসিয়া সে নিজ বাড়ীতে সৰ্ব্ব প্রথমে জ্যাকার্ড মেশিনে ও ফ্লাইসেটেলের একটি তাঁত বসাইয়া বিভিন্ন রকমের লতাপাতা নক্সী শাড়ী তৈরী আরম্ভ করে। ইহা দেখিয়া বিভিন্ন বসাকদের গ্রামের বসাকগণ ২/১টা করে জ্যাকার্ড মেশিনের তাঁত বসাইয়া লতাপাতার নক্সী শাড়ী তৈরী আরম্ভ করিতে লাগিল এবং এইরূপে ক্রমে ক্রমে প্রতি বসাকদের গ্রামে গ্রামে অল্প কয়েক বৎসরের মধ্যে প্রায় বসাকদের ঘরে ঘরে জ্যাকার্ড ও ফ্লাইসেটেলের সাহায্যে উৎকৃষ্ট বয়ন শিল্পের কাজ চালু হইয়া গিয়াছিল। এই প্রকারের ২/১ বৎসরের মধ্যে ১০০/১৫০ ডাঙ্গি জ্যাকার্ড মেশিনে বিভিন্ন নমুনার নক্সী লতাপাতা, জরি বা আর্ট শিল্পের শঙ্খ পাইড়, পাহাড় পাইড় বিশেষ উল্লেখযোগ্য।” ৬

পরবর্তীকালে এ নকশার নানা পরিবর্তন ঘটেছিল। এর বিবরণও রঘুনাথ দিয়েছেন—

“তৎপর ১৩৪০ সন হইতে ৫০/১০০/১৫০/২০০/২৫০/৩০০ ডাঙ্গি জ্যাকার্ড মেশিনের সাহায্যে সাদা ও রঙ্গিন জমিনের মধ্যে শুধু মিহি সুতায়, হাফ সিল্ক, (হাওয়া শাড়ী) ফুল সিদ্ধ শাড়ীগুলির মধ্যে লাল জরি কম, সাদা জরির ও লাল জরি সংমিশ্রণে ১০০/১৫০/২০০/২৫০ ও ৩০০ ডাঙ্গি ইত্যাদি নানা প্রকার লতাপাতা ডিজাইনের মিনা পাইড় শাড়ী তৈরী হইতে লাগিল।…এর ২/৩ বৎসর হইতে ঢাকা, কলিকাতা, বোম্বে ইত্যাদি বড় বড় সহর হইতে নূতন নমুনার ডিজাইন আনিয়া সুদক্ষ সুপার ফাইন্ বসাক তাঁত শিল্পীদের দ্বারা আরও অধিক উন্নত ধরনের শাড়ী তৈরী হইতে লাগিল। এই নমুনার শাড়ীগুলির আবার পৃথক পৃথক নাম রাখা হইয়াছিল যথা:- জরি ও সিল্কযুক্ত ‘মানে না মানা’, ‘মেট্রো’, ‘জয়হিন্দ’, ‘জর্জেট’, ইত্যাদি।…” ৭

ফলে দেখা যাচ্ছে, বিশ শতকের প্রথমার্ধেই টাঙ্গাইল শাড়ির নকশায় বাইরের প্রভাব পড়েছিল। এ ধারাবাহিকতা ১৯৪৭-এর দেশভাগের পরেও প্রবাহিত ছিল। তবে টাঙ্গাইল শাড়ির নকশার আরেকটা পর্ব আছে, সেটার সূত্রপাত বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর, বিশ শতকের আশির দশকে। এর সঙ্গে টাঙ্গাইল শাড়ি কুটিরের কর্ণধার মুনিরা ইমদাদের বিশেষ ভূমিকা আছে। এছাড়া পরবর্তীকালের ঢাকার বুটিক হাউজগুলোর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।

ওপরের এ বিবরণ যদি আমরা গ্রহণ করি, তাহলে এখানে আমাদের যা বলার আছে তা হলো জামদানির মতো টাঙ্গাইলের সুতি শাড়ির নকশা প্রাচীন কোনো ঐতিহ্য বহন করে, এমনটা বলা ঠিক হবে না। বরং ডবি ও জ্যাকার্ড মেশিন আসার পর টাঙ্গাইল শাড়ির নকশার গল্পটা মূলত আত্তীকরণের ও আত্মস্থকরণের গল্প। এবং এটা জামদানির মতো অতটা প্রাচীনও নয়। কিন্তু অপেক্ষাকৃত অর্বাচীন হলেও টাঙ্গাইল শাড়ির নকশার বৈচিত্র্য কিন্তু কম আকর্ষণীয় নয়।

মজার তথ্য হলো, এ দুই ধারার শাড়ির নকশা কিন্তু একটা আরেকটাকে কখনো কখনো প্রভাবিত করেছে। জামদানি শাড়ির একটা নকশার নাম টাঙ্গাইল্যা পাইড়। আবার জামদানির ডিজাইন অনুসরণ করে জ্যাকার্ড মেশিনের সাহায্যে শাড়ি তৈরি হতে দেখা যায় টাঙ্গাইলে। টাঙ্গাইলের সে নকশার নাম জামদানি পাইড়।

ঠকঠকি তাঁত ও ডবি বা জ্যাকার্ড মেশিন আসার আগে টাঙ্গাইলের শাড়িতে যে ধরনের নকশা হতো, তা ছিল সাধারণ মানের। সে সময়ের তাঁতের কাজের বিবরণ দিয়েছেন রঘুনাথ বসাক এ ভাষায়—

“তৎকালে বস্ত্র তৈরীর জন্য কোনো মেশিন ছিল না। শুধু হাত ও পা দ্বারা বাঁশ কাঠের সাহায্যে যন্ত্র তৈরী করিতে হইত। ফ্লাইসেটেল ছিল না। এক জোড়া ভালকাঠের দপ্তী দ্বারা, সুরু লোহার মাকুর দ্বারা, সুতার বওয়ের দ্বারা, ৮০০/৯০০/১,০০০/১১০০/১২০০/১৩০০ শানা দ্বারা, মাটী গর্ত করিয়া (পরীগাথ) তথায় বাঁশের রড় দ্বারা, পারাপারি দ্বারা সাদাসিদা ভাবে সব সাদা কাপড় তৈরী করিত। তখন এক ফর্দ রঙ্গিন শাড়ী ছিল না। পরীগাথার গর্ভের মধ্যে পা দিয়া ঝাপ ধরিত আর দুই হাত দ্বারা লোহার চিকন মাকু ডাইন হাতের আঙ্গুল দ্বারা ধাক্কা দিয়া বাম হাতে লইত এবং আবার বাম হাতের আঙ্গুল দ্বারা ধাক্কা দিয়া ডাইন হাতে লইত। এইভাবে সমস্ত রকমের বস্ত্র তৈরী করিত।” ৮

এ পদ্ধতিতে যেসব নকশা হতো, তা ছিল মূলত সরল ধরনের বিভিন্ন জ্যামিতিক নকশা। জটিল ও বাস্তবানুগ নকশা করার সুযোগ তাতে ছিল না। কিন্তু ত্রিশের দশক নাগাদ (কিংবা তার কিছু আগেই) জ্যাকার্ড ও ডবি মেশিন এবং ফ্লাইসেটেল লুম চালু হওয়ার পরে বিভিন্ন ধরনের জটিল ও কঠিন ডিজাইন শাড়িতে ফুটিয়ে তোলায় আর অসুবিধা রইল না। ফলে যেসব বিষয়বস্তু বা মোটিফ নকশায় চলে এল, তা মূলত বিভিন্ন প্রাকৃতিক অনুষঙ্গ। বিভিন্ন ধরনের ফুল, লতাপাতাসহ নানা ধরনের পাখি, প্রজাপতি, ময়ূর ইত্যাদি।

এখানে একটা কথা বলা প্রয়োজন, টাঙ্গাইল শাড়িতে ডিজাইন হয় এখনো দুভাবে। আদি পদ্ধতি অনুযায়ী এখনো কিছু শাড়িতে হাতে বুটি তোলা হয় জমিনে। এগুলোয় পাইড়ে জ্যামিতিক ধরনের সাধারণ নকশা থাকে কিংবা কোনো নকশাই থাকে না। আর কোনো কোনোটায় শাড়ির পাইড়, আঁচল ও জমিনে জ্যাকার্ড মেশিনের সাহায্যে বুটি তোলা হয়। হাতে নিয়ে কাছ থেকে খেয়াল করলে বোঝা সম্ভব, বুটি হাতে তোলা নাকি জ্যাকার্ডে তোলা। হাতে তোলা বুটিগুলোর দুই পাশ অসম হয় কিন্তু জ্যাকার্ডের বুটিগুলো দুই পাশ সমান।

আবার কখনো কখনো রাজনৈতিক মোটিফ যেমন ‘নৌকা’ ব্যবহার করে শাড়ির পাইড় নকশা করার কথাও শোনা যায়। সত্তরের দশকে ও মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে এ শাড়ির পাইড়ে নৌকার নকশা খুব জনপ্রিয় ছিল।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর দেশী তাঁতের প্রতি বাঙালি জাতির যে আগ্রহ ও মমত্ববোধ তৈরি হয়, তাতে টাঙ্গাইলের তাঁতিরা উপকৃত হয় এং শাড়ির নকশায়ও এর প্রভাব পড়ে। এ সময় থেকে টাঙ্গাইলের শাড়ির নকশা আরো জটিল ও সমৃদ্ধ হতে থাকে।

তবে সাম্প্রতিককালের টাঙ্গাইল শাড়ির নকশার কৃৎকৌশলগত নতুন সংযোজন হিসেবে বলতে হয় কম্পিউটার ব্যবহারের কথা। আগে জ্যাকার্ড মেশিনের জন্য গ্রাফ কাগজে নকশা আঁকা হতো, এখন এর বিকল্প হিসেবে নকশা করতে কম্পিউটারের সাহায্য নেয়া হয়। জ্যাকার্ড মেশিনে নকশা করার একটা সুবিধা এই যে যেকোনো ধরনের নকশা শাড়িতে ফুটিয়ে তোলা যায়। এর মূল বিষয়টি নির্ভর করে জ্যাকার্ড মেশিন বয়নের জন্য প্রস্তুত করার ওপর। বয়নকারী তাঁতি বা কারিগরের ওপর নকশা নির্ভর করে না, যেমনটা করে জামদানির ক্ষেত্রে। এ বিপুল স্বাধীনতা নানা রকম চিত্তাকর্ষক নতুনত্বের পাশাপাশি বিচিত্র (!) অভিজ্ঞতার জন্ম দিয়েছে নকশার ক্ষেত্রে।

যেমন সরেজমিন অনুসন্ধান করার সময় আমরা মোবাইল ফোনের টাওয়ার, সেলফোন, এমনকি হেলিকপ্টার পর্যন্ত টাঙ্গাইল শাড়ির নকশায় মোটিফ হিসেবে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত হতে দেখেছি। এ ধরনের নতুনত্ব বা নবতর সংযোজন ভালো না খারাপ, সে বিতর্কে না জড়িয়েও আমরা বলতে পারি এটাই টাঙ্গাইল শাড়ির নকশার বৈশিষ্ট্য। এ বৈশিষ্ট্য যতটা না ঐতিহ্যমুখী, তার চেয়ে অনেক বেশি বাস্তবমুখী ও সাম্প্রতিক ধারাপ্রবণ। এর ফল হয়েছে এই যে টাঙ্গাইল শাড়ির নকশা সবসময়ই পরিবর্তনের ভেতর দিয়ে গেছে ও যাচ্ছে। কোনো একটা বিশেষ ঘরানার দ্বারা টাঙ্গাইল শাড়ির নকশা প্রভাবিত হয়নি। বরং বিভিন্ন ধরনের নকশার ধারা এসে টাঙ্গাইল শাড়ির নকশায় মিশে গেছে। আর বসাক তাঁতিদের হাতেও কোনো নতুন নকশা তৈরি হয়নি, তাইবা আমরা জোর গলায় কীভাবে বলি? কিন্তু নকশার নিদর্শন ও নির্ভরযোগ্য সূত্রের অভাবে এ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো মন্তব্য করা দুরূহ।

উল্লেখ্য, পুরনো দিনের টাঙ্গাইল শাড়ির হদিস পাওয়া এখন খুবই মুশকিল। বাংলাদেশের কোনো জাদুঘরে পুরনো টাঙ্গাইলের শাড়ি সংগৃহীত আছে বলে আমার জানা নেই। আর ব্যক্তিগত সংগ্রহের শাড়িগুলোও নানা কারণে নষ্ট হয়ে বা হারিয়ে গেছে কিংবা সেগুলো খুঁজে বের করা কঠিন। ফলে পুরনো দিনের টাঙ্গাইল শাড়ির নকশা সম্পর্কে বিভিন্ন সূত্র (মৌখিক ও লিখিত) থেকে যতটুকু জানা গেছে, নিদর্শনের অভাবে তার সত্য-মিথ্যা যাচাই করা মুশকিল। আর তাছাড়া আজও টাঙ্গাইলের তাঁত ও তাঁতি নিয়ে নানা রকমের নৃতাত্ত্বিক বা উন্নয়নমূলক গবেষণা হলেও টাঙ্গাইল শাড়ির নকশা নিয়ে বিশেষ কোনো গবেষণা হয়েছে বলে শোনা যায় না। কিংবা এর কোনো যথাযথ ডকুমেন্টেশন করা হয়েছে বলে আমার জানা নেই।

টীকা

১. হাকিম হাবিবুর রহমান, ঢাকা: পঞ্চাশ বছর আগে, অনুবাদ: ড. মোহাম্মদ রেজাউল করিম, প্যাপিরাস, ঢাকা, ২০০৫ (প্র. প্র. ১৯৪৯), পৃ. ২৮

২. Zulekha Haque, ‘Sari: Cotton and Silk’, Textile Traditions of Bangladesh, National Crafts Council of Bangladesh, Dhaka, 2006, p. 68

৩. Government of Bengal, Department of Industries, Report on the survey of Cottage Industries in Bengal, Bengal Secretariat Book Depot, Calcutta, Second Edition: 1929, p. 79

৪. ঐ, পৃ. ৭৯-৮০। রঘুনাথ বসাকের অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপি।

৫. রঘুনাথ বসাকের অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপি।

৬. রঘুনাথ বসাকের অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপি। ১৯২৮ সাল থেকে টাঙ্গাইলে ফ্লাইসেটেল লুমের প্রচলনের এ বিবরণের সমর্থনে কুটিরশিল্প বিভাগের জরিপের তথ্য উল্লেখ করা যায়। সেখানে বলা হচ্ছে, ‘In many places in the interior of Tangail subdivision fly-shuttle looms have been introduced by the peripatetic weaving instructor. (Report on the survey of Cottage Industries in Bengal, p. 80)

৭. রঘুনাথ বসাকের অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপি

৮. রঘুনাথ বসাকের অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপি

[রচনাটি দেশাল প্রকাশিত লেখকের ’বাংলাদেশের তাঁতশিল্প’ গ্রন্থ (২০১৮) থেকে ঈষৎ সম্পাদিত রূপে এখানে সংকলিত]

লেখক: শাওন আকন্দ (চিত্রশিল্পী ও গবেষক)

সম্পাদনায়: মো. আরমান কবীর ও সাহান হাসান

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৪. ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ০৩:০৮:এএম ২ বছর আগে
অনুমোদন ছাড়াই টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল চত্বরে বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ - Ekotar Kantho

অনুমোদন ছাড়াই টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল চত্বরে বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল চত্বরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সম্মতি ছাড়াই দোকান নির্মাণে জায়গা বরাদ্দ দিয়েছে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটি। ইতিমধ্যে একতলা ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। শেষ মুহূর্তে পলেস্তারার কাজ চলছে।

হাসপাতাল চত্বরে দোকান নির্মাণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকেও অনুমোদন মেলেনি। এরপরও ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ছানোয়ার হোসেনসহ কমিটির প্রভাবশালী সদস্যরা জায়গা বরাদ্দ দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, হাসপাতাল চত্বরে দোকান নির্মাণে জায়গা বরাদ্দ দিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অনুমতি দেননি। এরপরও ব্যবস্থাপনা কমিটি অনুমতি দিয়েছে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক সভার কার্যবিবরণীতে স্বাক্ষরও করেননি।

তবে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন বলেন, ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় রেজল্যুশন করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ দিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের অনুমোদন লাগে না। এটা ব্যবস্থাপনা কমিটির এখতিয়ার।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, সাড়ে ২৬ একর জমির ওপর নির্মিত টাঙ্গাইল ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল চত্বরেই শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৫ তলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া হাসপাতাল চত্বরে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল, নার্সিং ইনস্টিটিউটসহ স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন স্থাপনা আছে।

ব্যবস্থাপনা কমিটির একাধিক সদস্য জানান, শিলা আনসারী নামের এক ব্যবসায়ী হাসপাতাল চত্বরে জায়গা বরাদ্দ চেয়ে ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছে একটি আবেদন করেন। তিনি সেখানে এজেন্ট ব্যাংকের একটি শাখা, এটিএম বুথ ও স্বাস্থ্য–সম্পর্কিত পণ্যের দোকান করবেন বলে আবেদনে উল্লেখ করেন। হাসপাতালের উপপরিচালক বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে জানান। কিন্তু মহাপরিচালক হাসপাতালের ভেতরে দোকান করতে জায়গা বরাদ্দের অনুমতি দেননি। এরপরও গত ১৩ নভেম্বর এক সভায় শিলা আনসারীর নামে ৭৫০ বর্গফুট জায়গা বরাদ্দ দেন কমিটির সদস্যরা।

বরাদ্দের চুক্তিপত্রে দেখা যায়, বরাদ্দ পাওয়া ব্যক্তিকে ১১ লাখ ২৫ হাজার টাকার মধ্যে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করে নিতে বলা হয়েছে। ১২ বছর মেয়াদের চুক্তিতে মাসিক ভাড়া ধরা হয়েছে ২০ হাজার টাকা। তিন বছর পরপর শতকরা ১০ ভাগ ভাড়া বাড়ানোর কথা উল্লেখ আছে। ভাড়ার শতকরা ১০ ভাগ হাসপাতাল মসজিদের উন্নয়নে, ৩০ ভাগ রোগী কল্যাণ সমিতিতে, ২০ ভাগ হাসপাতাল কর্মচারী সমিতিতে ও ৪০ ভাগ হাসপাতালের উন্নয়নে ব্যয় করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. খন্দকার সাদিকুর রহমান বলেন, ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় দোকানের জায়গা বরাদ্দ দেওয়ার প্রস্তাব এসেছিল। তখন তিনি তাঁদের জানিয়ে দেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের অনুমতি ছাড়া জায়গা বরাদ্দ দেওয়া বিধিসম্মত হবে না। এরপরও তাঁরা বরাদ্দ দিয়েছেন। এ জন্য তিনি সভার কার্যবিবরণীতে স্বাক্ষর করেননি।

ব্যবস্থাপনা কমিটির একাধিক সদস্য ও হাসপাতাল-সংশ্লিষ্ট অন্তত পাঁচজন অভিযোগ করেছেন, ওই জায়গা বরাদ্দ দিতে কমিটির কয়েকজন প্রভাবশালী সদস্যকে বড় অঙ্কের উৎকোচ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না থাকলেও তাঁরা বিধিবহির্ভূতভাবে জায়গা বরাদ্দ দিয়েছেন।

ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনসারী বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।

আরেক সদস্য টাঙ্গাইল পৌরসভার কাউন্সিলর আসাদুজ্জামান বলেন, বরাদ্দের ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। দিয়েছেন এমপি ও মেয়র সাহেব।

বৈধভাবে জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করে মেয়র এস.এস সিরাজুল হক আলমগীর বলেন, সবার উপস্থিতিতে রেজল্যুশন করা হয়েছে। বরাদ্দের জায়গা বুঝিয়ে দেওয়ার সময় হাসপাতালের উপ-পরিচালক, গণপূর্ত বিভাগের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। উৎকোচ গ্রহণের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কেউ নিয়েছেন কি না, আমি জানি না।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৩. ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ০৩:৩৮:এএম ২ বছর আগে
টাঙ্গাইল জেলা সাংবাদিক ফোরাম ঢাকার সভাপতি বাদশা, সম্পাদক মাহমুদ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইল জেলা সাংবাদিক ফোরাম ঢাকার সভাপতি বাদশা, সম্পাদক মাহমুদ

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলা সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকা’র ২২ সদস্যের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। নতুন এই কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন সাখাওয়াত হোসেন বাদশা এবং সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আছাব মাহমুদ।

সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরম খাঁ হলে খান মোহাম্মদ সালেকের সভাপতিত্বে টাঙ্গাইল জেলা সাংবাদিক ফোরামের দ্বিবার্ষিক সাধারণ সভা শেষে এই কমিটি গঠন করা হয়। সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ২০২৪-২৬ মেয়াদের জন্য সাখাওয়াত হোসেন বাদশাকে সভাপতি এবং খন্দকার আছাব মাহমুদকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করেন সংগঠনটির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম রতন।

কমিটির অন্যান্য পদে নির্বাচিতরা হলেন- সিনিয়র সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর ফিরোজ, সহ-সভাপতি শেখ এনামুল হক, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান খান ও শাহনাজ পারভীন এলিস, কোষাধ্যক্ষ ডি এম অমর, সাংগঠনিক সম্পাদক তৌফিক অপু, প্রচার সম্পাদক ওয়ালিদ খান, দপ্তর সম্পাদক- হাফিজুর রহমান, নারী বিষয়ক সম্পাদক নাজনীন আকতার লাকী।

কার্যনির্বাহী সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন ১১ জন। তারা হলেন- আশরাফ সরকার, ফেরদৌস সালাম, ড. হারুনুর রশিদ, একাব্বর আলী, আনিসুর রহমান, রেজাউল করিম, তারেক সালমান, আতিকুর রহমান, নুরুল হুদা, মুশফিক খান ও আবু মো. মাচানী।

এছাড়াও পদাধিকার বলে সদ্য বিদায়ী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে গণ্য হবেন।

সাধারণ সভায় ফোরামের সাবেক সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকদের সমন্বয়ে একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়। উপদেষ্টা পরিষদে রয়েছেন- রফিকুল ইসলাম রতন, গাফফার মাহমুদ, মো. আশরাফ আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা তালুকদার হারুন, জীবন ইসলাম, জামাল উদ্দিন জামাল ও ফিরোজ মান্না।

এই উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা টাঙ্গাইল জেলা সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকা’র নির্বাহী কমিটির সঙ্গে যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করবেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৩. ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ০৩:৩৬:এএম ২ বছর আগে
কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।