/ হোম / অপরাধ
টাঙ্গাইলে স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার, স্বামী পলাতক - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার, স্বামী পলাতক

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল পৌর শহরের আকুর টাকুর পাড়ার বটতলা পুরাতন বাজারের পাশে একটি বহুতল ভবন থেকে রবিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় খাদিজা বেগম (২৫) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহত খাদিজার বাড়ি কালিহাতী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের দুর্গাপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামে। সে ওই গ্রামের মৃত নুরুল হকের মেয়ে।

স্থানীয়রা জানায়, নিহত খাদিজা বেগম ও তার স্বামী রাশেদুল ইসলাম বটতলা পুরাতন বাজারের পাশে একটি ছয়তলা ভবনের তিনতলার ফ্লাটে ভাড়া থাকতেন। পরে রাশেদুলের পরিচিত রিনা নামে এক নারীকে সাবলেট হিসেবে ভাড়ায় উঠায় সে।

রিনার সঙ্গে রাশেদুলের পরকীয়ার কারণে কয়েক দিন যাবত স্বামী-স্ত্রীর মাঝে পারিবারিক কলহ চলছিল। রবিবার তাদের ফ্ল্যাটে তালাবদ্ধ দেখে বাসার মালিক ও পাশের বাসার ভাড়াটিয়ারা তালা ভাঙলে খাদিজার মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়।

তাৎক্ষণিকভাবে স্বামী রাশেদুল ইসলাম ও পরকীয়া প্রেমিকা রিনার পরিচয় পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে পরকীয়ার জের ধরে গৃহবধূ খাদিজাকে হত্যার পর থেকে তার স্বামী রাশেদুল ও রিনা পলাতক রয়েছে।

নিহত খাদিজা বেগমের ভাই ইমাম আলী জানান, আমার বোনকে তার আগের স্বামীর কাছ থেকে প্রায় পাঁচ বছর আগে বিচ্ছেদ করানো হয়েছে। সে কিছু দিন যাবত টাঙ্গাইল আদালত প্রাঙ্গনে আইনজীবীর সহকারি হিসেবে কাজ করতো। কোন ছেলের সাথে বিয়ে বা সম্পর্ক হয়েছিলো কিনা, সেটি আমার জানা নেই।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু ছালাম মিয়া জানান, খবর পাওয়ার পর খাদিজার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। তার পায়ের দুই রগ কাটা ছিল।

তিনি আরও জানান, এছাড়াও তার মুখে কাপড় পেঁচানো এবং বালিশের চাপ দেয়া ছিলো। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তার মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৪. সেপ্টেম্বর ২০২৩ ০৪:৩৩:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে বিদ্যালয়ে উত্ত্যক্তের বিচার, বাসায় ফিরে ছাত্রীর আত্মহত্যা - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে বিদ্যালয়ে উত্ত্যক্তের বিচার, বাসায় ফিরে ছাত্রীর আত্মহত্যা

একতার কণ্ঠঃ স্কুলে যাওয়া-আসার পথে প্রায়ই উত্ত্যক্তের শিকার হতো এক শিক্ষার্থী। উল্টো তার ঘাড়েই দোষ চাপাতেন শিক্ষকরা। করতেন বকাঝকা। এসব সইতে না পেরে চিরকুট লিখে আত্মহত্যা করেছে ভুক্তভোগী ছাত্রী। বুধবার (৩০ আগস্ট) বিকেলে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার হাবলা ইউনিয়নের মটরা সাহাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী আলিফা খানম জুঁই বাসাইল উপজেলার লৌহজং উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

অভিযুক্ত বাঁধন ওরফে পিচ্চি বাঁধন টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া ইউনিয়নের বীরপুশিয়া নয়াপাড়া গ্রামের প্রবাসী কামরুল ইসলামের ছেলে।

এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) রাতে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা কারেছেন নিহত ছাত্রীর দাদা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাইয়ুম।

আসামিরা হলেন, বাঁধন ওরফে পিচ্চি বাঁধন, লৌহজং উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরজু জমাদার, সহকারী শিক্ষক আব্দুল লতিফ ও সহকারী শিক্ষক তাছলিমা খাতুন ছবি।

জানা গেছে, মেয়েটির মা-বাবা ঢাকায় থাকেন। গ্রামের বাড়িতে দাদা-দাদির কাছে থেকে লেখাপাড়া করতো সে। বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার পথে দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করে বাঁধন ওরফে পিচ্চি বাঁধন। সম্প্রতি উত্ত্যক্তের মাত্রা বেড়ে যায়। এসিড দিয়ে ছাত্রীর মুখ ঝলসে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে গত বুধবার বিকেলে বাঁধনসহ তার পরিবার এবং ছাত্রীসহ তার পরিবারকে ডেকে নেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। সেখানে বাঁধনকে শাসিয়ে দেওয়া হয়। ছাত্রীর ওপর দোষ চাপিয়ে বকাঝকা করা হয়। বিদ্যালয় থেকে বাড়িতে ফিরে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস দেয় সে। পাশেই একটি চিরকুট পাওয়া যায়। তাতে লেখা ছিল ‘আমি দোষী নই।’ খবর পেয়ে লাশটি উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায় বাসাইল থানা পুলিশ।

শিক্ষার্থীর মা রূপা বেগম বলেন, বখাটে বাঁধনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরজু জমাদার বলেন, আমরা দুই পরিবারের লোকজন নিয়ে বসেছিলাম। সেখানে বাঁধনকে শাসিয়ে দেওয়া হয়। তারপরও মেয়েটি কেন আত্মহত্যা করল আমরা বুঝতে পারছি না।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মতিউর রহমান খানের ভাষ্য, খবর পেয়ে মেয়েটির বাড়ি ও বিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন। বখাটে বাঁধনের উত্ত্যক্তের বিষয়টি সত্য। তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।

বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেস্তাফিজুর রহমান জানান, বিদ্যালয়ে পড়াশোনার জায়গা, বিচারের জন্য নয়। প্রধান শিক্ষক বিষয়টি প্রশাসন অথবা পুলিশকে জানাতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। উল্টো ওই ছাত্রীকেই বিচারের নামে বহু মানুষের সামনে দোষারোপ করেছেন। অপমান সইতে না পেরে সে চিরকুট লিখে আত্মহত্যা করেছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পাপিয়া আক্তার জানান, উত্ত্যক্তের বিষয়টি আমাদের আগে জানানো হয়নি। জানলে হয়তো ব্যবস্থা নিতে পারতাম। যেহেতু মামলা হয়েছে, তাই পুলিশ ঘটনার তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বলে আমি আশা করি।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৩. সেপ্টেম্বর ২০২৩ ০৩:০৭:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইল জেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন অফিসে হামলা-ভাঙচুর - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইল জেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন অফিসে হামলা-ভাঙচুর

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন অফিসে হামলা, ভাঙচুর ও কর্মকর্তাদের নাজেহালের ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে শহরের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের নগর জালফৈ বাইপাস এলাকায় অবস্থিত জেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন অফিসের সামনে একটি মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে এসব ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

জানা গেছে, চলতি বছরের ৯ মার্চ টাঙ্গাইল জেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত নির্বাচনে অন্য কোন প্যানেল না থাকায় বালা-মাহতাব পরিষদকে একতরফা ভাবে বিজয়ী ঘোষনা করা হয়। কিন্তু টাঙ্গাইল জেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. সোবাহান মিয়াসহ তার অনুসারীরা নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেয়নি।

ইতোমধ্যে তারা একাধিকবার মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছে। এরই ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার দুপুরে ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সামনে এক মানববন্ধন কর্মসুচির আয়োজন করে সোবহান অনুসারীরা। কর্মসুচির এক পর্যায়ে বর্তমান কমিটির সভাপতি মো. বালা মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক মাহতাব সহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা উপস্থিত হলে মানববন্ধনে উত্তেজনা তৈরি হয়। এক পর্যায়ে বাকবিতন্ডা ও ধস্তাধস্তি হয়। ধস্তাধস্তির সময় বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মাহতাবের উপর সোবাহানের নেতৃত্বে মানববন্ধনে আসা শ্রমিকরা চড়াও হয়। তাকে উদ্ধার করতে গেলে সভাপতি বালা মিয়া ও দপ্তর সম্পাদক মো. শাহিন আলীর পরনের পাঞ্জাবি ছিড়ে ফেলা হয়। এছাড়া উত্তেজিত শ্রমিকেরা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের অফিস রুমে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে খুবই উত্তেজনাপুর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যে কোন সময়ে রক্তক্ষয়ী সংর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।

টাঙ্গাইল জেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. আবু বক্কর সিদ্দিক মাহতাব জানান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সোবাহানের বিরুদ্ধে ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের ৬১ লাখ টাকা আত্মসাতের বিষয়ে মামলা হয়েছে। পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্তে সেটা সত্যতা প্রমানিত হয়েছে। উক্ত তদন্ত রির্পোট ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য আজকের এ মানববন্ধন ও হামলা। আমরা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

টাঙ্গাইল জেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. বালা মিয়া জানান, গত ৩৫ বছর ধরে শ্রমিক রাজনীতির সাথে জড়িত। সাধারণ শ্রমিকের ভোটেই আমি বার-বার সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি নির্বাচিত হয়েছি। এবং সুনামের সাথে সংগঠন পরিচালনা করে আসছি। গত কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সোবাহানের অভিযোগ সম্পুর্ন মিথ্যা ও বানোয়াট। আমরা নিয়মতান্ত্রিকভাইে নির্বাচিত হয়েছি। সামান্য কিছু বাহামভুক্ত শ্রমিক ও বহিরাগত লোক নিয়ে আজকের এই হামলা কাপুরুষোচিত ও বর্বরোচিত। আমরা এ হামলা ও ভাঙচুরের বিরুদ্ধে সংগঠনের কার্যকরী পরিষদের সিদ্ধান্ত ও উপদেষ্টাদের পরামর্শক্রমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

অভিযুক্ত ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. সোবাহান মিয়া জানান, গঠনতন্ত্রের কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই বর্তমান কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা এই কমিটি মানি না। এছাড়া আমার বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের ঘটনাটি সত্য নয়। আমি যদি টাকা আত্মসাৎ করে থাকি তাহলে বর্তমান কমিটির অনেকেই ওই টাকা আত্মসাতের সাথে জড়িত রয়েছে।

তিনি আরও জানান, অবিলম্বে এই কমিটি বাতিল করে পুনরায় নির্বাচন দিতে হবে। অন্যথায় সাধারণ শ্রমিকদের সাথে নিয়ে এই কমিটিকে প্রতিহত করা হবে।

টাঙ্গাইল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মোহাম্মদ আবু ছালাম মিয়া(পিপিএম) জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এখনো পর্যন্ত হামলা ও ভাঙচুরের বিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত ৯ মার্চ কোন প্রতিদ্বন্দী না থাকায় বালা-মাহতাব পুরো পরিষদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। নব-নির্বাচিত সভাপতি হন মো. বালা মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন আবু বক্কর সিদ্দিক মাহতাব।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০১. সেপ্টেম্বর ২০২৩ ০২:৪০:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে যৌতুক মামলায় ৩ বছরের কারাদণ্ড - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে যৌতুক মামলায় ৩ বছরের কারাদণ্ড

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে যৌতুকের মামলায় মো: গোলাম মোস্তফা (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

বুধবার (৩০ আগস্ট ) দুপুরে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাহবুবুর রহমান এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে গোলাম মোস্তফাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

গোলাম মোস্তফার বাড়ি টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার হবিবপুর গ্রামে। সে ওই এলাকার মো: হাবিবুর রহমানের ছেলে।

টাঙ্গাইলের স্পেশাল সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মো: আব্দুর রহিম জানায়, গোলাম মোস্তফা ময়মনসিংগ জেলার মুক্তাগাছা থানার ঘোষবাড়ী এলাকার আব্দুল খালেকের মেয়ে মোছাঃ রায়হানুল জান্নাত পুন্নি (২৭) কে বিয়ে করেন। তাদের দাম্পত্য জীবনে একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকে পুন্নির বাবা গোলাম মোস্তফাকে মোটর সাইকেল, স্বর্নালংকার ও জায়গা কেনার জন্য অনেক টাকা দিয়েছেন। এরপর পুন্নিকে বাবার বাড়ি থেকে যৌতুক বাবদ পাঁচ লাখ টাকা আনতে বলে।

তিনি আরও জানান, এতে পুন্নি অপারগতা প্রকাশ করলে যৌতুকের জন্য গোলাম মোস্তফা অমানবিক নির্যাতন শুরু করে। পরে পুন্নির বাবা খবর পেয়ে মেয়েকে উদ্ধার করে মধুপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরবর্তীতে মধুপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে মধুপুর থানার এস আই জুবাইদুল হক তদন্ত শেষে আসামীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র প্রেরণ করেন। পরে আদালত মামলার সকল স্বাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধন ২০০৩ এর ১১ (গ) ধারায় বুধবার (৩০ আগস্ট) এ রায় দেন।

বাদী পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন টাঙ্গাইলের স্পেশাল সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মো: আব্দুর রহিম। আসামী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন জিয়ারত আলী।

পরে আসামীকে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৩১. অগাস্ট ২০২৩ ০৪:১৫:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর থানার ওসি কান্ডে তদন্ত শুরু - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর থানার ওসি কান্ডে তদন্ত শুরু

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে বদলির আদেশ পাওয়ার পর থানার এসিসহ আসবাবপত্র খুলে নেয়ার কান্ডে বদলিকৃত ওসি, পুলিশ সদস্য, পুলিশের সোর্স ও ভ্যান চালককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সার্কেল (কালিহাতী) কার্যালয়ে ডাকা হয়েছে।

বুধবার (৩০ আগষ্ট) বিকেলে আলোচিত ভূঞাপুর থানার বদলিকৃত ওসি ফরিদুল ইসলাম, পুলিশ সদস্য উদয় চন্দ্র রায়, পুলিশ সোর্স আরিফ খান ও ভ্যান চালক টুটুলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সার্কেল (কালিহাতী) কার্যালয়ে ডাকেন সহকারি পুলিশ সুপার শরিফুল হক।

ভ্যান চালক টুটুল জানান, আমি ভ্যান চালক। আমাকে মালামাল নেয়ার জন্য ডাকা হয়েছিল। পুলিশ সদস্য উদয় ও আরিফ মালামাল ভ্যানে তুলে দিয়েছে। আমি তাদের নির্ধারিত জায়গাতে পৌছে দিয়েছি। আপনারা সংবাদ করায় এসপি স্যার ডেকেছেন।

আরিফ খান বলেন, সার্কেল স্যার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমাদের ডেকেছিলেন। তিনি আমাদের সবার কথা শুনেছেন। সেখানে ওসি ফরিদুল স্যার, উদয় ও ভ্যান চালক ছিল।

কালিহাতী সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার শরিফুল হক বলেন, ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে। সেই আলোকে বদলিকৃত ওসিসহ যাদের নাম সংবাদ মাধ্যমে এসেছে তাদের কথা জানার জন্য ডাকা হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৩১. অগাস্ট ২০২৩ ০৩:৫৪:এএম ৩ বছর আগে
ঘাটাইল উপজেলা জামায়াতের আমীর গ্রেফতার - Ekotar Kantho

ঘাটাইল উপজেলা জামায়াতের আমীর গ্রেফতার

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা জামায়াতের আমীর খন্দকার আব্দুর রহিমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে ঘাটাইলের আনেহলা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ লোকমান হোসেন জানান, মঙ্গলবার (২৯ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে উপজেলার আনেহলা থেকে আব্দুর রহিমকে গ্রেফতার করা হয়। ৭ থেকে ৮ মাস আগের একটি নাশকতার মামলায় তদন্তে প্রাপ্ত আসামি তিনি।

তিনি আরও জানান, বুধবার (৩০ আগস্ট) তাকে কোর্টে চালান করে দেয়া হবে। আব্দুর রহিমের সাথে আরো কয়েকজন ছিলেন। অভিযানের সময় টের পেয়ে তারা পালিয়ে যান।

জামায়াতে ইসালামী টাঙ্গাইল জেলা শাখার আমীর আহসান হাবীব মাসুদ জানান, আব্দুর রহিম একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক। তিনি স্কুলে তার অফিসে কাজ করছিলেন। শুধুমাত্র হয়রানী করার উদ্দেশে বিনা ওয়ারেন্টে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তাকে দ্রুত মুক্তির দাবি জানান তিনি।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৩০. অগাস্ট ২০২৩ ০৩:৩৪:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে ডাবের দোকানে অভিযান, জরিমানা - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ডাবের দোকানে অভিযান, জরিমানা

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে অস্বাভাবিক মূল্যে ডাব বিক্রি করায় শহরের চারটি ডাবের দোকানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর অভিযান চালিয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থায় ৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর টাঙ্গাইলের সহকারী পরিচালক শিকদার শাহীনুর আলমের নেতৃত্বে এই অভিযান চালানো হয়।

শাহীনুর আলম জানান, শহরের বটতলা, পাঁচআনি ও জেনারেল হাসপাতালের সামনে ডাবের দোকানে অভিযান চালানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এর মধ্যে বটতলা বাজারে ডাব বিক্রির মূল্যতালিকা না থাকা ও বেচাকেনার রশিদ সংরক্ষণ না করায় অনিক ফল ভাণ্ডারকে দুই হাজার টাকা, পাঁচআনি বাজারে সোহরাবের ডাবের দোকানকে তিন হাজার টাকা, জেনারেল হাসপাতালের সামনের রাসেল ফল ভাণ্ডারকে ৫০০ টাকা ও ফরিদ ডাব ঘরকে ৫০০ টাকা মোট ছয় হাজার টাকা প্রশাসনিক ব্যবস্থায় জরিমানা করা হয়।

তিনি জানান, বাজার তদারকিমূলক ওই অভিযানে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ সহায়তা করে। জনস্বার্থে এ ধরনের তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৩০. অগাস্ট ২০২৩ ০২:২০:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে র‌্যাব পরিচয়ে ছিনতাই মামলায় গ্রেপ্তার ২ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে র‌্যাব পরিচয়ে ছিনতাই মামলায় গ্রেপ্তার ২

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার শুভল্যা এলাকা থেকে গত ২২ আগষ্ট ছিনতাই চক্রের চার জন সদস্য র‌্যাব পরিচয় দিয়ে ১৯ লক্ষ ১৯ হাজার ২০০ টাকা ছিনতাই হওয়ার ঘটনায় দুই জনকে গ্রেপ্তার করেছে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৯ আগষ্ট) দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই তথ্য জানান।

গ্রেপ্তারকৃত আসামীরা হলেন, ময়মনসিংহ জেলার কোতোয়ালি থানার নারায়নপুর গ্রামের মৃত আইয়ুব আলীর ছেলে সফর উদ্দিন মুন্না (২২) ও কুমিল্লা জেলার হোমনা থানার দরিগাও গ্রামের মৃত মোশারফ হোসেনের ছেলে শামীম আহমেদ সবুজ (৩৩)।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার জানান, গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামীসহ ৪ ডাকাত দল গত ২২ আগস্ট ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের শুভুল্যা নামক এলাকা থেকে র‌্যাব পরিচয়ে বিনিময় বাসে উঠে। বাসে থাকা ভিক্টিম হেলাল মোল্লাকে বাস থেকে নামিয়ে প্রাইভেটকারে উঠিয়ে গামছা দিয়ে চোখ বেঁধে হাতে হ্যান্ডকাফ পড়ায়। পরে তার সাথে থাকা ১৯ লাখ ১৯ হাজার ২০০ টাকা ছিনিয়ে নেয়। কিছু দুরে গিয়ে হেলাল মোল্লাকে মহাসড়কের একটি স্থানে নামিয়ে দিয়ে চলে যায়। পরদিন ২৩ আগষ্ট হেলাল মোল্লা মির্জাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করে। মামলার প্রেক্ষিতে ডিবি ও মির্জাপুর থানা পুলিশের একটি টিম একজনকে ময়মনসিংহ ও অপরজনকে সাতক্ষীরা থেকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেফতারকৃতদের সাথে থাকা একটি প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো-গ ৩৭৫০৭০), ক্যাপ, চশমা, বাঁশের লাঠি, গামছা, মোবাইল, ছিনতাইকৃত টাকায় কেনা একটি মোটরসাইকেল ও ১ লক্ষ টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে আসামীদের ১০ দিন রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৩০. অগাস্ট ২০২৩ ০১:১৯:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে ছাত্রলীগ নেতার স্ত্রী ও সন্তানের স্বীকৃতি চান অন্তঃসত্ত্বা নারী - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ছাত্রলীগ নেতার স্ত্রী ও সন্তানের স্বীকৃতি চান অন্তঃসত্ত্বা নারী

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে জনপ্রতিনিধি ও পুলিশের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন এক নারী। তিনি বর্তমানে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

ওই নারীর দাবি, জেলার ছাত্রলীগ নেতা সোহেল খান ফাহাদ তার স্বামী। তিন বছর আগে তাকে বিয়ে করেছেন। সম্প্রতি স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে তিনি ফাহাদের বাসায় গেলে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। পরে তিনি সখীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

সোহেল খান ফাহাদ সখীপুর শহর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও পৌর শহরের হুমায়ুন খানের ছেলে। তিনি বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য নানা টালবাহানা করেছেন বলে অভিযোগ ওই নারীর।

ভুক্তভোগী নারীর ভাষ্যমতে, চার বছর আগে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে তিনি নার্সের চাকরি করতেন। ফাহাদ ওই সময় তার এক আত্মীয়কে সিজার করাতে ওই ক্লিনিকে নিয়ে যান। সেখান থেকে ফাহাদের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০২১ সালের ১১ জানুয়ারি তারা আদালতের মাধ্যমে বিয়ে করেন। ফাহাদ সরকারি চাকরি করবেন, তাই বিষয়টি কাউকে না জানাতে ওই নারীকে অনুরোধ করেন।

বিয়ের পর তারা মির্জাপুরের গোড়াই ও হাঁটুভাঙ্গা এলাকায় খবির উদ্দিন ও আলম সিকদারের বাসায় ভাড়া থাকতেন। ফাহাদ পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে অস্থায়ীভাবে চাকরি করতেন। দুই মাস আগে তারা খবির উদ্দিনের বাসা থেকে চলে যান। পরে ওই নারী তার বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন। বিষয়টি ফাহাদের মাকে জানালে তিনি ওই নারীর গর্ভের সন্তান নষ্ট করতে বলেন। সন্তান নষ্ট না করায় ফাহাদের মা বিষয়টি মেনে নেননি।

পরবর্তী সময়ে ফাহাদও যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। শনিবার (২৬ আগস্ট) ফাহাদের বাড়িতে গেলে ওই নারীকে বেধড়ক মারধর করেন ফাহাদের মা ও তার পরিবারের সদস্যরা। পরে তিনি সখীপুর থানায় অভিযোগ করেন। বিষয়টি কয়েকজন জনপ্রতিনিধিকেও জানানো হয়েছে।

ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, আদালতে বিয়ের সময় ফাহাদ তার নাম পুরোপুরি লেখেননি। এছাড়া তার বাবার নাম ভুল দিয়েছেন। পরবর্তী সময়ে কাগজটি ঠিক করলেও তিনি তার কাছে জমা দেননি।

হাঁটুভাঙা এলাকার বাসার মালিক খবির উদ্দিন বলেন, তারা প্রায় পাঁচ মাস আমার বাসায় ভাড়া থাকতেন। দুই মাস আগে তারা চলে যান। এরপর থেকে আমার সঙ্গে তাদের আর কোনো যোগাযোগ নেই।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সোহেল খান ফাহাদ বলেন, আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। আমাকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করতে বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।

সখীপুর উপজেলার বড়চওনা ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার শেখ মোহাম্মদ লিটন বলেন, ঘটনা সত্য। মেয়েটি খুবই অসহায়। মেয়ে ও তার সন্তানের অধিকার আদায়ের দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে সখীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা যাবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৯. অগাস্ট ২০২৩ ০২:৪৭:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে জুয়েলারী দোকানে দুর্ধর্ষ চুরি - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে জুয়েলারী দোকানে দুর্ধর্ষ চুরি

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুর বাজারের কালিবাড়ী সড়কে মহামায়া মার্কেটের শায়মা জুয়েলার্সে দুর্ধর্ষ চুরি সংঘটিত হয়েছে।

শনিবার (২৬ আগস্ট) দিনগত রাতে চোরের দল দোকানের শার্টারের লক ও কলাপসিবল গেইটের এঙ্গেলবার কেটে প্রায় ৪৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে গেছে।

রবিবার (২৭ আগস্ট) সকালে ওই চুরির ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পরলে মার্কেটের স্বর্ণের ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে রবিবার দুপুরে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) শরফুদ্দিন, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (মির্জাপুর সার্কেল) এসএম মনসুর মোসা, টাঙ্গাইলের গোয়েন্দা (ডিবি) ও থানা পুলিশ, বণিক সমিতির সভাপতি গোলাম ফারুক সিদ্দিকীসহ ব্যবসায়ী নেতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

দোকান মালিক দুলাল মিয়া জানান, প্রতিদিনের ন্যায় শুক্রবার (২৫ আগস্ট) রাতে দোকান বন্ধ করে তিনি বাড়ি চলে যান। শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন থাকলেও প্রয়োজন থাকায় বিকালে দোকানে এসে সামান্য কিছু কাজ সেরে বাড়ি চলে যান। রবিবার সকালে একই মার্কেটের ব্যবসায়ী কৃষ্ণ কর্মকার মার্কেটের দোকান খুলতে গিয়ে ওই দোকানের কলাপসিবল গেইটের এঙ্গেলবার কাটা দেখতে পেয়ে তাকে ফোনে বিষয়টি জানান।

পরে মার্কেটে এসে দোকানে চুরির বিষয়টি নিশ্চিত হন। চোরের দল দোকানে ঢুকে শোকেসে সাজানো প্রায় ৪৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে গেছে। দোকানের ভেতরের তিনটি সিসিটিভি ক্যামেরা গামছা, টিস্যু ও কাপড় দিয়ে ঢাকা ছিল। তবে সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখা যায় লাল রংয়ের মাস্ক পড়া একজন লোক দোকানের ভেতরে প্রবেশ করে এবং লুঙ্গি পড়া অপরজন বাইরে দাড়িয়ে আছে। এ ঘটনায় শায়মা জুয়েলারীর মালিক দুলাল মিয়া রবিবার মির্জাপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম জানান, দোকান মালিক লিখিত অভিযোগ করেছেন। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ শুরু করেছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৮. অগাস্ট ২০২৩ ০৪:২০:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে শিশু ধর্ষণচেষ্টা মামলা; জামিনের পর ব্যান্ডপার্টি নিয়ে ভুক্তভোগীর বাড়িতে নাচগান - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে শিশু ধর্ষণচেষ্টা মামলা; জামিনের পর ব্যান্ডপার্টি নিয়ে ভুক্তভোগীর বাড়িতে নাচগান

একতার কণ্ঠঃ শ্যামা রংয়ের গোলগাল সুন্দর চেহারার শিশুটি চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। বয়সের তুলনায় একটু বেশিই বেড়ে উঠেছে। স্কুলপর্যায়ে ক্রিকেট আর ফুটবল খেলে কুড়িয়েছে সবার ভালোবাসা। এবার বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের স্ট্রাইকার হিসেবে ইউনিয়ন পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ পুরস্কারও পায়। সেই শিশুটি ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়ে একবারে চুপসে গেছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ আগস্ট) সেই ধর্ষণচেষ্টার একমাত্র আসামি আদালত থেকে জামিন পেয়ে গলায় ফুলের মালা ও ব্যান্ডপার্টি নিয়ে গ্রামে নাচগান করার অভিযোগ উঠেছে। ওই শিশুর মা এবং মামলার বাদীর বাড়ির আঙ্গিনায় গিয়ে আসামি ও তার সঙ্গীরা নেচে গেয়ে হই-হুল্লোড় করে। এমন ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযুক্ত আলেফ শেখ গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের উড়িয়াবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা ও মুদি দোকানদার।

মামলা সূত্রে জানা যায়, চতুর্থ শ্রেণির ওই শিশু ছাত্রীকে গত ২৪ জুলাই দুপুরে কাঁঠাল খাওয়ার লোভ দেখিয়ে নির্জন বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টা চালায় গ্রামের মুদি দোকানী আলেফ শেখ। কান্নাকাটির শব্দে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে আলেফ শেখ পালিয়ে যায়। ওই দিন বিকালে মামলা হলে পুলিশ আলেফ শেখকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়।

মামলার বাদী এবং ভুক্তভোগীর মা শনিবার (২৬ আগস্ট) গোপালপুর থানায় দায়ের করা এক অভিযোগে জানান, গত বৃহস্পতিবার আদালত থেকে জামিন নিয়ে রাত নয়টায় আলেফ শেখ গলায় মালা পরিহিত অবস্থায় ব্যান্ডপার্টি নিয়ে গ্রামে প্রবেশ করে। ব্যান্ডপার্টির সঙ্গে তার সাথে থাকা শিপন মিয়া, করিম মিয়া, আয়নাল হকসহ শতাধিক উৎসুক জনতা যোগ দেন। তারা নেচে গেয়ে পুরো গ্রাম প্রদক্ষিণ করে। এক পর্যায়ে আলেফ শেখ দলবল নিয়ে বাদীর বাড়ির আঙ্গিনায় নাচ শুরু করে। পাশাপাশি গালিগালাজ ও মারধরের হুমকি দেয়। এ অবস্থায় দিনমজুর বাবা-মা অসহায় ভুক্তভোগী শিশুটিকে নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। পুলিশের সহযোগিতা চাচ্ছেন।

হেমনগর ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার এবং উড়িয়াবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা আলীম হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, সকাল সকাল ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। রাত দশটায় ব্যান্ডপার্টি এবং কিছু মানুষের হইচইয়ে ঘুম ভেঙে যায়। বাইরে বেরুলে আলেফ শেখের কয়েক জন অনুসারী জানান, মিথ্যা মামলায় একমাস জেল খাটার পর শেখ সাহেব জামিন পেয়েছেন। তাই মনের সুখে তারা সবাই ব্যান্ডপার্টির সুরে আনন্দ প্রকাশ করছেন।

ধর্ষণচেষ্টার পর শিশুটি এমনিতেই মুষড়ে পড়েছে। গত বৃহস্পতিবারের ঘটনার পর ওই শিশুসহ পুরো পরিবার আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

উড়িয়াবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা সাহার আলী, ইব্রাহীম খলিল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, শিশু নির্যাতনের মামলায় আদালত থেকে জামিন পেয়ে গলায় মালা জড়িয়ে ব্যান্ড পার্টির তালে তালে নেচে গেয়ে এমনভাবে আনন্দ করাটা কোনো সভ্যতার পর্যায়ে পড়ে না। শেখ সাহেব প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ তার অপকর্মের প্রতিবাদ করার সাহস পায় না।

একই গ্রামের মকবুল হোসেন বলেন, যখন তখন যাকে তাকে ধরে মারধর করে আলেফ। মুখের ওপর গালিগালাজ করে। মুখ খারাপের কারণে এলাকার লোকজন তাকে ভয় পায় ও এড়িয়ে চলে। আগে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে কোনো পার্টির সঙ্গে যুক্ত নেই।

উড়িয়াবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শামসুন্নাহার ও আসিয়া বেগম জানান, শিশুটি খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে বেশ ভালো। এমন ঘটনায় শিশুটি এমনিতেই নিষ্প্রভ হয়ে গেছে। কয়েকদিন সে স্কুলে আসেনি। ব্যান্ডপার্টির ঘটনায় ওই শিশু ও তার অসহায় পরিবার নিরপত্তাহীনতায় ভুগছে। এসবের প্রতিকার হওয়া দরকার।

ব্যান্ডপার্টির প্রধান কালিহাতী উপজেলার পশ্চিম নারান্দিয়া গ্রামের বাসিন্দা অনিক লাগাচি জানান, উড়িয়াবাড়ী গ্রামের আলেফ শেখ বৃহস্পতিবার ধর্ষণচেষ্টা মামলায় আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান। শেখ সাবের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রবিউল হাসান রতন আমাদের ব্যান্ডপার্টিকে তিন হাজার চারশ টাকায় ভাড়া করেন। রাত নয়টায় আমরা ওই গ্রামে যাই। রাত ১২টা পর্যন্ত সারা গ্রাম ঘুরে বাদ্যবাজনা বাজিয়ে সকলকে আনন্দ দেই।

হেমনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান তালুকদার জানান, ধর্ষণচেষ্টার মামলায় জামিন পেয়ে কোনো আসামি এভাবে বাদ্যবাজনা বাজিয়ে আনন্দ করেন বলে আমার জানা নেই। এতে ভুক্তভোগী শিশুটি আরও নিরাপত্তাহীনতা এবং সম্মানহানির অবস্থায় পড়ে যাবে।

মুক্তিযোদ্ধা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আঞ্জুয়ারা ময়না জানান, তালিকাভূক্ত শিশু ফুটবলার এ শিশুটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ায় আমরা তাকে হয়তো হারাতে বসেছি। তিনি এ ঘটনার তদন্ত এবং শাস্তি দাবি করেন।

অভিযুক্ত আলেফ শেখের বক্তব্য নিতে ফোন করা হলে আপত্তিকর ভাষায় কথা বলাসহ খারাপ আচরণ করে সে।

মামলার তদন্তকারী অফিসার হেমনগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সাব-ইন্সপেক্টর বশির আহমেদ জানান, জামিন পাওয়ার পর বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে গ্রামে আনন্দ উৎসব করার অভিযোগ সত্য। এমনটি কখনো প্রত্যাশিত নয়। ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার সত্যতা মিলেছে। দুই একদিনের মধ্যে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হবে।

গোপালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোশারফ হোসেন জানান, বাদ্যযন্ত্র বাজানোর সময় আসামি দলবল নিয়ে বাদী ও ভুক্তভোগীর বাড়িতে চড়াও হয়ে গালিগালাজ ও মারধরের হুমকির অভিযোগ এনে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। পুলিশ এর তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৭. অগাস্ট ২০২৩ ০৩:১২:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে ২ নারীসহ ৬ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ২ নারীসহ ৬ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে ২ নারী সহ ৬ মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে দেলদুয়ার থানা পুলিশ।

শনিবার (২৬ আগস্ট) বিকালে দেলদুয়ার-পাকুল্লা আঞ্চলিক সড়কের উপজেলার ডুবাইল ইউনিয়নের সুবর্ণতলী এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ গাঁজাসহ তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাছির উদ্দিন মৃধা।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, উপজেলার আটিয়া ইউনিয়নের নান্দুরিয়া গ্রামের মৃত সমেজ উদ্দিনের ছেলে মো. ফরহাদ হোসেন (৬০), মো. মনজু মিয়ার ছেলে মো. পায়েল আহমেদ (২৩), মো. শুকুর মিয়ার ছেলে মো. মিজান মিয়া (৩৫), নরসিংদি জেলার রায়পুরা উপজেলার মৃত আব্দুল হাইয়ের ছেলে মো. বিল্লাল হোসেন (২৫), মৃত আব্দুস সাত্তারের স্ত্রী আছিয়া বেগম (৫০) ও সুমন মিয়ার স্ত্রী বৃষ্টি বেগম (২২)।

দেলদুয়ার থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নাছির উদ্দিন মৃধা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দেলদুয়ার-পাকুল্লা আঞ্চলিক সড়কের সুবর্ণতলী এলাকা থেকে ২ কেজি গাজা, ৩টি মোবাইল ফোন, নগদ ৩২ হাজার ২৫০ টাকাসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে দেলদুয়ার থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৭. অগাস্ট ২০২৩ ০২:০১:এএম ৩ বছর আগে
কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।