একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কচুয়া গ্রামের গজারি বনে স্বামীকে বেঁধে স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় গ্রেপ্তারকৃত পাঁচ আসামির তিনদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। টাঙ্গাইলের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বাদল কুমার চন্দ রবিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে এ আদেশ দেন।
জানা যায়, আসামিদের সবার বাড়ি উপজেলার কচুয়া গ্রামের দক্ষিণপাড়া এলাকায়। রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া আসামিরা হচ্ছে- বুলবুল আহমেদ (২৪), লাবু মিয়া (২৬), মোহাম্মদ বাবুল (৩০), আসিফ হোসেন (২৩) ও শফিক আহমেদ (২৫)। এছাড়া, গ্রেপ্তারকৃত অপর আসামী মোজাম্মেল হক (৩০) গত শুক্রবার ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) বিকেলে সখীপুর উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের কচুয়া দক্ষিণপাড়া এলাকায় চাঁদেরহাট নামক বিনোদনকেন্দ্রে বেড়াতে গিয়ে ফেরার পথে আসামিরা এক দম্পতিকে আটক করে গজারি বনে নিয়ে যান। এ সময় তারা স্বামীকে প্রহার ও বেঁধে রেখে দলবদ্ধভাবে তার স্ত্রীকে ধর্ষণ করে। ওই দিন রাত ১টার দিকে স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে ওই গৃহবধূ সখীপুর থানায় মামলা করেন। পুলিশ ওই রাতেই ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে। দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ বর্তমানে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সখীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সালাউদ্দিন জানান, শুক্রবার পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করলে রবিবার রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করেন। আদালত শুনানি শেষে পাঁচ আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
উল্লেখ্য, চাঁদের হাটের এলাকার বাইরে কচুয়ার বনে সংগঠিত এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত ৬ আসামী স্থানীয় কিছু বখাটে যুবক। এরা বেড়াতে আসা লোকজনকে, বিশেষ করে অপরিচিত যুগলকে টার্গেট করে আটক করে পাশের জঙ্গলে নিয়ে নির্যাতন করে। টাকা-পয়সা, মুঠোফোন ছিনতাইসহ নানা অপকর্ম ঘটায়। ইতিপূর্বে যারা ধরা পড়েছেন, তারা সবাই সরকারি দলের ছত্রচ্ছায়ায় ছিঁচকে সন্ত্রাসী। তাদের কেউ কেউ মাদক ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত, নেশাগ্রস্ত সন্ত্রাসী চক্র বলে জানা গেছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে গলায় ফাঁস দিয়ে মহিউদ্দিন (৩৫) নামে এক যুবককে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (৬ আগস্ট ) দুপুরে উপজেলার পারখী ইউনিয়নের আউলিয়াবাদ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মহিউদ্দিন ওই গ্রামের মৃত ছোহরাব আলীর ছেলে।
স্থানীয়রা জানায়, রবিবার দুপুরে মহিউদ্দিন পরিবারের সবার অগোচরে ঘরের দরজা বন্ধ করে ঘরের ধন্নার সঙ্গে গলায় ফাঁস দেয়। পরে পরিবারের লোকজন তাকে খোঁজ করে এক পর্যায়ে নিজ কক্ষে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পেয়ে ডাক চিকিৎকার করে।
পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। তবে কি কারনে সে আত্মহত্যা করেছে তা পরিবারের সদস্যরা কেউ বলতে পারেনি।
এ বিষয়ে কালিহাতী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইমাম জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
একতার কণ্ঠঃ: টাঙ্গাইলে সখীপুরের বাসিন্দা মোস্তফা স্থানীয় একটি সমিতি থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নেন। ঋণের টাকা পরিশোধে মনোহারি ও মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবসায়ী শাহজালালের কাছ থেকে অর্থ লুটের পরিকল্পনা করেন তিনি।
সে অনুযায়ী দোকান থেকে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফেরার পথে শাহজালালের পথরোধ করে হামলা চালান মোস্তফা ও তার সহযোগী আলামিন। শাহজালালকে রড দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে হত্যা করা হয়।
এ সময় শাহজালালের চাচা মজনু মিয়া সঙ্গে থাকায় তাকেও একইভাবে হত্যা করা হয়।
১৯ জুলাই ক্লুলেস ও বহুল আলোচিত টাঙ্গাইলের সখীপুরে নৃশংসভাবে ব্যবসায়ী শাহজালাল ও তার চাচা মজনু খুনের ঘটনায় মোস্তফা মিয়া (২০) ও আলামিনকে (২৭) গ্রেপ্তারের পর এসব তথ্য জানিয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
র্যাব জানায়, জোড়া খুনের ঘটনায় নিহত শাহজালালের বাবা বাদী হয়ে টাঙ্গাইলের সখীপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে র্যাব জড়িতদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায়।
এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (৩ আগস্ট) রাতে র্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র্যাব-১৪ এর অভিযানে ঢাকার মোহাম্মদপুর ও টাঙ্গাইলের সখীপুর এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী মোস্তফা মিয়াসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শুক্রবার (৪ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।
তিনি জানান, ভিকটিম শাহজালাল টাঙ্গাইলের সখীপুরের হামিদপুর বাজারে দীর্ঘদিন ধরে মনোহারি ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ব্যবসা করে আসছিলেন। তিনি হামিদপুর বাজারের একজন জনপ্রিয় ও অতিপরিচিত ব্যবসায়ী। শাহজালালের চাচা ভিকটিম মজনু মিয়া এলাকায় কৃষি কাজ করতেন। মজনু মিয়া কৃষি কাজের পাশাপাশি মাঝে মধ্যে শাহজালালকে ব্যবসায়িক কাজে দোকানে সহযোগিতা করতেন।
শাহজালাল ব্যবসায়িক কার্যক্রম শেষে প্রায় রাতের খাবার খেতে বাড়িতে যেতেন। তিনি মাঝে মধ্যে রাতে বাড়িতে থাকতেন আবার দোকানেও থাকতেন। যেদিন তিনি বাড়িতে থাকতেন সেদিন ব্যবসায়িক লেনদেনের টাকা বাড়িতেই রাখতেন।
ঘটনার দিন শাহজালাল দোকান বন্ধ করে বাড়িতে যাচ্ছিলেন। চাচা মজনু মিয়াকে রাস্তায় দেখতে পেয়ে মোটরসাইকেলে উঠিয়ে নেন। পথিমধ্যে নৃশংসভাবে হত্যাকাণ্ডের স্বীকার হন তারা।
গ্রেপ্তারদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে র্যাবের এ কর্মকর্তা জানান, মোস্তফার পরিকল্পনা ও নেতৃত্বে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। মোস্তফা ও আলামিন দুজনেই স্থানীয় একটি সমিতির সদস্য ছিলেন। মোস্তফা সমিতি থেকে উচ্চ সুদে বেশ কিছু টাকা ঋণ নেন। ঋণের টাকা পরিশোধ ও পারিবারিক খরচ বহনের জন্য তার বেশ কিছু অর্থের প্রয়োজন ছিল। ভিকটিম শাহজালাল যেদিন বাড়িতে রাত্রি যাপন করতেন সেদিন ব্যবসায়িক লেনদেনের টাকা বাড়িতেই রাখতেন। এ বিষয়টি মোস্তফা ও আলামিন জানতেন।
শাহজালালের বাড়ি ফেরার পথে আক্রমণ করে টাকা ছিনিয়ে নিতে পরিকল্পনা করেন মোস্তফা। বিষয়টি আলামিনকে জানালে তিনি সম্মতি দেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ১৯ জুলাই রাত ১০ টার দিকে মোস্তফা ও আলামিন সখীপুরের বাঘের বাড়ি এলাকায় জামালের চালায় নির্জন জঙ্গলে ওৎ পেতে থাকেন। শাহজালাল মোটরসাইকেলে করে তার চাচা মজনু মিয়াকে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে মোস্তফা মোটরসাইকেলের গতিরোধ করেন। মোস্তফা ভিকটিম শাহজালালকে লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করেন।
ভিকটিম শাহজালাল মাটিতে লুটিয়ে পড়লে শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি আঘাত করতে থাকেন। মজনু মিয়া চিৎকার করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে আলামিন লোহার রড দিয়ে তার মাথা ও শরীরে আঘাত করেন।
পরে মোস্তফা ও আলামিন তাদের এলোপাতাড়ি আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। আলামিন ভিকটিমদের সঙ্গে থাকা মোটরসাইকেলটি পাশের একটি জমিতে ফেলে দেন এবং শাহজালালের দুটি মোবাইল ফোন নিয়ে নেন।
পরে তারা টাঙ্গাইল, গাজীপুর ও ঢাকায় আত্মগোপন করেন। মোস্তফা টাঙ্গাইল ও আলামিন ঢাকার মোহাম্মদপুরে আত্মগোপনে থাকাকালীন তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার ( ৩ আগস্ট) রাতে উপজেলার নয়াকচুয়া গ্রামের চাঁদেরহাট নামক এক বিনোদন কেন্দ্রের কাছে একটি গজারি বনে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ওই এলাকার ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে সখীপুর থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-চাঁদেরহাট এলাকার হযরত আলীর ছেলে বুলবুল আহমেদ (২৪), ফরহাদ মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ বাবুল (৩০), হযরত মিয়ার ছেলে লাবু মিয়া (২৬), গনি মিয়ার ছেলে আসিফ (২৩), আশরাফ আলীর ছেলে শফিক আহমেদ (২৫), এবং সমেশ আলীর ছেলে মোজাম্মেল হক (৩০)।
এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার ওই নারীর স্বামী বাদী হয়ে সখীপুর থানায় মামলা করেছেন।
মামলায় বিবরণে জানা যায়,,বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই স্বামী তার স্ত্রীকে নিয়ে কচুয়া চাঁদের হাটে ঘুরতে যান। ঘোরাঘুরি শেষে সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পথে কচুয়া হাজী চৌরাস্তার এলাকা পৌছালে ৭/৮ জন লোক তাকে আটক করে মারধর করে বেঁধে রেখে তার স্ত্রীকে স্থানীয় একটি গজারি বনে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম জানান, ধর্ষণের ঘটনায় নির্যাতিতার স্বামী বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতেই অভিযান চালিয়ে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও জানান,অন্যদিকে নির্যাতনের শিকার ওই নারীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের শুক্রবার (৪ আগষ্ঠ) সকালে টাঙ্গাইলের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে এক মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীকে বেধরক মারপিট করেছে দুর্বত্তরা।
বৃহস্পতিবার (৩ আগস্ট) সকালে উপজেলার রায়ের বাশালিয়া গ্রামে নিজ বাড়ির পাশে মারধরের শিকার হন শেফালী বেগম নামের ওই বৃদ্ধা।
তিনি মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস ছাত্তার তালুকদারের স্ত্রী।
আহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, বাড়ির পাশে তাদের পৈতৃক একটি সম্পত্তিতে মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস ছাত্তার তালুকদারের নাম সম্বলিত একটি সাইনবোর্ড টাঙানো ছিল। পূর্ব শত্রুতার জেরে একই গ্রামের হিটলার তালুকদার হিটু পাঁচ থেকে ছয়জন লোক নিয়ে ওই সাইনবোর্ড তুলে এবং ছিঁড়ে ফেলে।
শেফালী ও তার পরিবারের অভিযোগ, ওই লোকেরা মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধার বিষয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করলে তার স্ত্রী শেফালী বেগম বাঁধা দেন। তখন শেফালী বেগমকে বেধরক মারধর করা হয়। পরে আহত শেফালীকে উদ্ধার করে ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইল বাজারের দুই ফার্মেসীকে প্রশাসনিক ব্যবস্থায় জরিমানা করেছে জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
বৃহস্পতিবার(৩ আগস্ট) দুপুরে জেলা ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শিকদার শাহীনুর ইসলামের নেতৃত্বে ওই অভিযান চালানো হয়।
সহকারী পরিচালক শিকদার শাহীনুর ইসলাম জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বৃহস্পতিবার পাথরাইল ও পুটিয়াজানী বাজারে তদারকিমূলক অভিযান চালায়।
তিনি আরও জানান,অভিযানে মূল্য বিহীন ওষুধ ও সেবার মূল্য তালিকা না থাকায় চৌধুরী ডেণ্টাল কেয়ারকে তিন হাজার এবং পুটিজানি বাজারের প্রচুর পরিমাণ মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ ও মূল্য বিহীন ওষুধ রাখার দায়ে সুলতানা মেডিকেল হলকে ১৫ হাজার টাকা প্রশাসনিক ব্যবস্থায় জরিমানা করা হয়।
তিনি জানান, অভিযান পরিচালনাকালে সকলকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ অনুসারে ভোক্তা অধিকার বিরোধী কার্যাবলী হতে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়। ব্যবসায়ীদের কেনা-বেঁচার রশিদ সংরক্ষণ, মূল্য তালিকা প্রদর্শণ করতে হ্যান্ড মাইকের মাধ্যমে অনুরোধ জানানো হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুর বনাঞ্চলের বেরীবাইদ ইউনিয়নের পঁচারচনা এলাকায় সরকারি গজারী বন থেকে অজ্ঞাতনামা ৩০ থেকে ৪০ বছরের এক যুবকের হাত-পা বিহীন মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৩ আগস্ট) দুপুরে স্থানীয় এক রাখাল বনে গরু চড়াতে গিয়ে ওই মৃতদেহ দেখতে পায়।
বেরীবাইদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. জুলহাস উদ্দিন জানান, বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ক্ষুদৃ নৃগোষ্ঠি সম্প্রদায়ের এক কিশোর রাখাল পঁচারচনা গজারী বনে গরু চড়াচ্ছিলেন। হঠাৎ করে বনের গভীরে হাজার হাজার মাছি ভন ভন করতে দেখেন কিশোরটি। সেখানে এগিয়ে যেতেই মৃত দেহের অংশ বিশেষ দেখতে পেয়ে গরু ফেলে ছুটে এসে এলাকাবাসীকে ঘটনার বর্ণনা করেন।
মধুপুর থানা পুলিশ জানায়, পঁচারদানা বন থেকে উদ্ধার হওয়া মৃত দেহে পচন ধরেছে। দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন মাংসহীন মাথার খুলি কয়েক হাত দূরে পরে ছিলো। হাত-পায়ের সন্ধান বেলা সাড়ে তিনটা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। পুলিশের ধারণা বেশ কিছুদিন আগে এই মরদেহটি এখানে ফেলে রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা। হাত-পাসহ শরীরে বিভিন্ন অংশ শিয়াল কুকুরে খেয়ে ফেলেছে। অজ্ঞাতনামা পুরুষ (৩০-৪০) মৃতদেহের পরণে জিন্সের কালো প্যান্ট ও কালো গেঞ্জি রয়েছে এবং মৃতদেহের পাশে একটি সেন্ডেল পাওয়া গেছে।
মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাজহারুল আমিন জানান, মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সেখানে ময়নাতদন্ত শেষে ডিএনএ টেস্টের ব্যবস্থা করে আঞ্জুমান মফিদুলের মাধ্যমে লাশ দাফন করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে ৪৪ লিটার চোলাই মদসহ (স্থানীয়ভাবে তৈরি মদ) দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১ আগস্ট) দিবাগত রাতে উপজেলার বহেড়াতৈল ইউনিয়নের ধোপারচালা গ্রাম থেকে পলিথিনে ভর্তি মদসহ তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, ওই গ্রামের মাধব চন্দ্র কোচের ছেলে নিমাই চন্দ্র কোচ (৩৩) ও মনিন্দ্র কোচের ছেলে মিন্টু কোচ (২৩)। বুধবার (২ আগস্ট) সকালে তাঁদের টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক মাস ধরে উপজেলার ধোপারচালা গ্রামের কয়েকটি বাড়িতে স্থানীয় প্রক্রিয়ায় প্রস্তুতকৃত চোলাই মদ তৈরি ও তা অবাধে বিক্রি চলছিল। মাদকাসক্তদের আনাগোনায় স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ হলে ওই এলাকায় পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়। মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে ওই গ্রামের নিমাই চন্দ্র কোচের বাড়ি থেকে ৪৪ লিটার মদসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া দুজনই মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত বলে স্বীকার করেছেন।
সখীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান জানান, গ্রেপ্তারকৃত দুজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে। বুধবার সকালে তাঁদের টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে গলায় গামছা পেঁছানো অবস্থায় কাঁঠাল গাছ থেকে বাবুল (৪৫) নামে এক কাঠমিস্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে ভূঞাপুর থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার (১ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার অলোয়া ইউনিয়নের অলোয়া গ্রাম থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বাবুল একই গ্রামের হাতেম আলীর ছেলে। এ ঘটনায় বাবুলের স্ত্রী মরিয়ম ও মেয়ে তাবাসুমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
বাবুলের স্ত্রী মরিয়ম বলেন, মঙ্গলবার ভোরে ঘুম থেকে উঠে দেখি ঘরের সাথে কাঁঠাল গাছে গলায় গামছা পেঁছানো অবস্থায় বাবুলের মরদেহ ঝুলে আছে। এসময় ডাক-চিৎকারে আশ-পাশের লোকজন এগিয়ে আসে। পরে পুলিশকে খবর দিলে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
প্রতিবেশিরা জানায়, প্রায়ই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া লেগে থাকতো। এনিয়ে একাধিবার গ্রাম্য সালিশ হয়েছে। প্রতিবেশিদের ধারণা, হয়তো পরকীয়ার জেরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে।
এ বিষয়ে ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি সন্দেহজনক হওয়ায় বাবুলের স্ত্রী ও তার মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে পুলিশ পরিচয়ে এক কাপড় ব্যবসায়ীকে মারধর করে টাকা ছিনতাইকালে তিনজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। এসময় তাদের সাথে থাকা আরো সাত-আটজন পালিয়ে যায়।
এই ঘটনায় আহত ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেন উপজেলার পুংলিপাড়া গ্রামের আব্দুল হালিমের ছেলে।
সোমবার (৩১ জুলাই) রাত ১০টার দিকে উপজেলার চরাঞ্চল গাবসারা ইউনিয়নের পুংলিপাড়া ঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- ছিনতাইয়ের মূলহোতা উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের খুপিপাড়া গ্রামের কায়সার মিয়া (২২), ভূঞাপুর পৌরসভার ছাব্বিশা এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে রাকিব মিয়া (২৫) ও একই পৌরসভার ফসলান্দি এলাকার সিফাত মিয়া (১৯)।
স্থানীয়রা জানান, কায়সার গোবিন্দাসী বাজারে স্বর্ণের দোকানের পাশাপাশি মাদকের ব্যবসা পরিচালনা করতো। ১০-১১ জন মাদকসেবীদের নিয়ে পুংলি এলাকায় মাদক সেবন শেষে রাতে পুলিশ পরিচয় দিয়ে একজন কাপড় ব্যবসায়ীর পথরোধ করে।
তারা ওই ব্যবসায়ীকে মারধর করার পর মুক্তিপণের জন্য ১০ লাখ টাকা দাবি করে। পরে নগদ টাকা ও বিকাশের মাধ্যমে লক্ষাধিক টাকা লেনদেন হওয়ার পর ব্যবসায়ীকে ছেড়ে দেয় তারা। এরপর নৌকাযোগে গোবিন্দাসী ঘাটে আসে ছিনতাইকারীরা।
খবর পেয়ে স্থানীয়রা তাদের ধরতে ধাওয়া করলে সাত-আটজন পালিয়ে গেলেও ঘটনার মূলহোতাসহ তিনজনকে আটক করে জনতা।পরে থানা পুলিশের হাতে তাদের সোপর্দ করা হয়।
কাপড় ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, চট্টগ্রামে কাপড়ের ব্যবসা ভালো না হওয়ায় বাড়িতে চলে আসি। পুংলিপাড়া ঘাট থেকে বাড়ির দিকে যাওয়ার সময় তারা আমাকে ধরে ফেলে এবং পুলিশ পরিচয় দেয়। এসময় আমাকে তারা এলোপাতাড়ি মারধর করতে থাকে। মুক্তিপণ হিসেবে পরিবারের কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
পরে নগদ ও বিকাশের মাধ্যমে তিন লাখ টাকা দেওয়ার পর তারা একটি পাটক্ষেতে আমাকে ফেলে রেখে যায় চলে যায়। বিষয়টি পরিবারকে জানালে তারা গোবিন্দাসী ঘাট এলাকার মানুষজনকে জানায়।
ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম বলেন, ওই ব্যবসায়ীকে মারধরের ঘটনায় তিনজনকে জনতা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। আহত ব্যবসায়ী বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তিনি আরও বলেন,এখনও কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যাপক শহীদ আমিনুল ইসলাম তালুকদার নিক্সন হত্যার বিচার চাইবো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে। টাঙ্গাইল-২ আসনের নেতাকর্মীদের নিয়ে ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে হত্যায় জড়িতের বিচার চাইবো।
সোমবার (৩১ জুলাই) বিকেলে গোপালপুর উপজেলা স্বাধীনতা কমপ্লেক্স মিলনায়তনে শহীদ নিক্সন স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে এ স্মরণ সভার আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী ও গোপালপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুছ ইসলাম তালুকদার ওরফে ঠান্ডু।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী ও ভূঞাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌরসভার মেয়র মাসুদুল হক মাসুদ।
শহীদ নিক্সন স্মৃতি সংসদের সভাপতি সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, গোপালপুর পৌরসভার মেয়র রকিবুল হক ছানা, গোপালপুর পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মীর রেজাউল হক, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মরিয়ম আক্তার মুক্তা, ভূঞাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহিনুল ইসলাম তরফদার, শহীদ নিক্সনের সহধর্মিণী ও হাদিরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিলকিস জাহান, শহীদ নিক্সন স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক শেখ ফেরদৌস ওয়াহিদ রিপন প্রমুখ। এসময় বিভিন্ন স্তরের ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা মাসুদুল হক মাসুদ বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা নিক্সন হত্যার বিচারের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে যাবো আমরা গোপালপুর ও ভুঞাপুরের নেতাকর্মীরা। তার কাছে বিচার চাইবো যারা এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে যাদের নাম বিভিন্ন পত্রিকায় আসছে তাদের বিচার করার জন্য।
এ সময় বক্তারা বলেন, আমিনুল ইসলাম নিক্সন একজন শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক ও আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা ছিলেন। বক্তারা নিক্সনের হত্যাকান্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারসহ ফাঁসি দাবী করেন।
এদিকে সোমবার সকালে আওয়ামী লীগ নেতা শহীদ আমিনুল ইসলাম তালুকদার নিক্সনের খুনিদের ফাঁসির দাবিতে উপজেলার হাদিরা ইউনিয়নের আজগড়াতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে এলাকাবাসী।
স্থানীয় আজগড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বন্ধ আজগড়া মোড়ে মানববন্ধনে অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, শহীদ আমিনুল ইসলাম তালুকদার নিক্সনের সহধর্মিণী ও হাদিরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিলকিস জাহান, নিক্সনের ছোট ভাই আব্দুল্লাহ আল মামুন তালুকদার, ওই ইউপির ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মামুনুর রশিদ, হোসাইন মোহাম্মদ রাসেল প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা নিক্সনকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে। নিক্সনকে হত্যা করে হাদিরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগকে দূর্বল করার নীলনকশা যারাই করে থাকেন না কেনো তাদের এ উদ্দেশ্য পূরণ হবে না। এই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ঘাটি। তাই দ্রুত নিক্সন হত্যাকারীদের আইনের আওতায় এনে খুনিদের ফাঁসি দাবি জানান এলাকাবাসী।
উল্লেখ্য, গোপালপুর উপজেলার হাদিরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, লায়ন নজরুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক, আজগড়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, আজগড়া অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও আজগড়া শেখ রাসেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা আমিনুল ইসলাম তালুকদার নিক্সনকে (৪৮) কে ২০২০ সালের ৩১ জুলাই ঈদের আগের দিবাগত রাতে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। শহীদ নিক্সনের বাড়ি হাদিরা ইউনিয়নের আজগড়া গ্রামে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীর পৌলী গ্রামে নির্মাণাধীন একটি পাকা সড়ক নির্মাণ শেষ না হতেই স্থানীয় বালু ব্যবসায়ীরা সড়কটি ব্যবহার করে বালু বিক্রি করায় ভেস্তে যাচ্ছে সরকারের কোটি টাকার উন্নয়নের এ প্রকল্প।
বালু ব্যবসায়ীরা অতান্ত প্রভাবশালী হওয়ায় ও স্থানীয় কাউন্সিলর এই ব্যবসার সাথে জড়িত থাকায় কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেনা।
সরেজমিনে দেখা যায়, বঙ্গবন্ধু সেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভার পৌলি হতে পৌলি দক্ষিন পাড়া পর্যন্ত পৌরসভার অর্থায়নে সড়কটি পাকা করণ করা হচ্ছে। এই সড়কের (সাবেক মেম্বার আব্দুল বারেকের বাড়ির সামনে) দুই পাশের পতিত জমিতে বলগেট দিয়ে বালু ফেলা হচ্ছে। এই বালু আনলোড করে ওই জমিতে ফেলার জন্য লোহার মোটা পাইপ ব্যবহার করা হচ্ছে।
ওই লোহার পাইপগুলো সড়কের উপর দিয়েই নেওয়া হয়েছে। এছাড়া জমাকৃত বালু একস্থান থেকে অন্যস্থানে নেওয়ার জন্য রাস্তার উপর দুটি স্যালো মেশিন বসানো হয়েছে। স্তুপকৃত বালু বিক্রি হওয়ার পর পরিবহনের জন্য ড্রামট্রাক লাইন দিয়ে দাড়িয়ে আছে। ভেকু মেশিন দিয়ে অপেক্ষামান ট্রাকগুলোতে বালু তুলে দিচ্ছে। এই বালু ভর্তি ট্রাক চলাচলের ফলে কোটি টাকার নির্মাণাধীন সড়কটি বিভিন্ন জায়গায় ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এছাড়া দিনরাত ট্রাক চলাচলের ফলে সড়কের বালু উড়ে গিয়ে পার্শবর্তী বাড়িতে গিয়ে পড়ছে।
স্থানীয়রা জানায়, এই এলাকার কাউন্সিলর সুকুমার ঘোষের যোগসাজসে প্রভাবশালী কিছু লোক বলগেট দিয়ে বালু এনে বিক্রি করছে। এলাকায় বলগেটের বালু আনলোড করায় নদীর পাড়ে দুইটি বাড়ির কিছু অংশ নদীতে ধসে পড়েছে। এছাড়াও দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে হওয়া কোটি টাকায় নবনির্মিত এই সড়কটি ব্যবহার করে দিনে-রাতে বালুবাহী ট্রাক চলাচল করায় ছাত্র-ছাত্রীসহ এলাকাবাসীর চলাচলে চরম বিঘ্ন ঘটছে। এছাড়াও বালুবাহী ট্রাক চলাচলের কারণে ধুলোবালি গিয়ে বসত-বাড়িতে পড়ায় বসবাস করা অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ট্রাকের হাইড্রলিক হর্ণের বিকট শব্দে ঘুম থেকে শিশুরা আচমকা চমকে উঠছে। তারা ওই সড়কটি রক্ষার্থে বালু ব্যবসা বন্ধের জোর দাবি জানায়।
বালু ব্যবসায়ী মো. সাইফুল ইসলাম জানান, এলাকার কিছু যুবকরা মিলে সিরাজগঞ্জ থেকে বালু কিনে এনে বিক্রি করছি। নদী থেকে বালু তুলেতো বিক্রি করছি না। তবে নির্মাণাধীন সড়ক ব্যবহার করায় সড়কের যে ক্ষতি হচ্ছে সে বিষয়ে তিনি কোন মন্তব্য করেন নি।
এলেঙ্গা পৌরসভার কাউন্সিলর সুকুমার ঘোষ অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, তিনি কাউন্সিলর হওয়ার পর পৌলি নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করেছেন। ফলে বিকল্প হিসেবে স্থানীয় ড্রাম ট্রাক ব্যবসায়ীরা সিরাজগঞ্জ থেকে বলগেট দিয়ে বালু এনে বিক্রি করছে। সড়কটি ব্যবহার করার জন্য বালু ব্যবসায়ীরা পৌরসভায় একটি দরখাস্ত দিয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, বালু আনলোড করার সময় দু-একটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে সেটা আমি জানি। ওই ক্ষতিগ্রস্থ বাড়িগুলো মেরামত করার জন্য ব্যবসায়ীদের বলা হয়েছে। তবে তিনি বালু ব্যবসায় জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন।
এ প্রসঙ্গে এলেঙ্গা পৌরসভার মেয়র নুর-এ আলম সিদ্দিকী জানান, নবনির্মিত সড়কটি ব্যবহারের জন্য বালু ব্যবসায়ীরা কোন দরখাস্ত পৌরসভায় দেয়নি। দক্ষিন পৌলিবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে সড়কটি পাকাকরণ করা হচ্ছে। সড়কের কোন প্রকার ক্ষয়-ক্ষতি পৌর কর্তৃপক্ষ বরদাস্ত করবেনা।
কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইএনও) মো.নাজমুল হুসেইন জানান, বলগেট দিয়ে বালু আনায় আইনগত কোন বাধা নেই। তবে সড়ক ব্যবহারে কোন প্রকার বেরিক্যাড দেওয়া যাবেনা। বেরিক্যাড দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।