একতার কণ্ঠঃ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়াধীন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের আওতায় ভেজালরোধে তদারকিমূলক অভিযান চালিয়ে টাঙ্গাইলের ভুঞাপুরে মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ, সেবার মূল্য না থাকা ও মূল্যবিহীন ঔষধ বিক্রি করার অপরাধে দুই ওষুধ ব্যবসায়ীকে মোট ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার (২৪ জুলাই) দুপুরে উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নের বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব পাড়ের পাথাইলকান্দি (যমুনা সেতু) বাজারে বিভিন্ন দোকানে তদারকিমূলক এই অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শিকদার শাহীনুর আলম।
সহকারী পরিচালক শিকদার শাহীনুর আলম জানান, মূল্য বিহীন ঔষধ, মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ সংরক্ষণ ও বিক্রি বিক্রি করার দায়ে ফেরদৌসি মেডিকেল হল এন্ড ডেন্টাল কেয়ারকে ২০ হাজার ও ইউসুফ ফার্মেসীকে ৫ হাজার, মোট ২৫ হাজার টাকা প্রশাসনিক ব্যবস্থায় জরিমানা করা হয়। এ ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে মিথ্যা অভিযোগে সাদেক (১৮) নামে এক শিক্ষার্থীকে রাতে আটক করে পরদিন টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগে এসআই লিটন মিয়াকে বদলি করা হয়েছে।
অপরদিকে, ঘুষ নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ সুপার বরাবর অভিযোগ দিয়েছেন ওই শিক্ষার্থীর বাবা আব্দুল আলীম।
রবিবার (২৩ জুলাই) ভূঞাপুর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. লিটন মিয়াকে ভূঞাপুর থানা থেকে পার্শ্ববর্তী বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব থানায় বদলি করা হয়েছে।
বদলির আদেশে বলা হয়, আদেশ পাওয়ার সাথে সাথে বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান করে অত্র অফিসকে অবহিত করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো।
এর আগে সোমবার (১৭ জুলাই) রাত প্রায় দেড়টার দিকে পূর্ব ভূঞাপুর এলাকার আব্দুল আলীমের ছেলে সাদেককে ভূঞাপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে চোর সন্দেহের অভিযোগে আটক করেন এসআই লিটন মিয়া। পরে তাকে থানায় অন্যান্য আসামিদের সঙ্গে বন্দি করে রাখা হয়। এরপর মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) বিকেলে সাদেকের বাবা আলীমের কাছ থেকে এক লাখ ১৫ হাজার টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
জানা গেছে, উপ-পরিদর্শক (এসআই) লিটন মিয়া পার্শ্ববর্তী গোপালপুর থানার হেমনগর ফাঁড়ি থেকে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভূঞাপুর থানায় যোগদান করেন। এরপর ২০২১ সালে বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব থানায় বদলি করা হলেও তদরির করে আবার গত ২০২২ সালে জুন মাসে তিনি ভূঞাপুর থানায় আসেন। তার বিরুদ্ধে পূর্বে অনেক অভিযোগ রয়েছে।
সাদেকের বাবা আব্দুল আলীম বলেন, অভিযোগের পরে যেহেতু ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিয়েছেন তাই এ বিষয়ে আর লেখালেখি না হওয়াই ভালো।
এ বিষয়ে ভূঞাপুর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) লিটন মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন হয়ে গেছে তাই অন্য থানায় বদলি করা হয়েছে। এছাড়া সাদেক নামের ওই ছেলেকে সন্দেহমূলকভাবে আটক করা হয়েছে। পরে প্রমাণিত না হওয়ায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে কোনো টাকার লেনদেন হয়নি।
ভূঞাপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফরিদুল ইসলামের মোবাইল ফোনে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। সেটির তদন্ত হচ্ছে। তদন্তকালীন এসআই লিটন মিয়াকে বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব থানায় বদলি করা হয়েছে। আগামী তিনদিনের মধ্যে তাকে যোগদান করতে বলা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে আলোচিত জোড়া খুনের ঘটনার তিনদিন পেরিয়ে গেলেও কোনো আসামীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
বুধবার (১৯ জুলাই) গভীর রাতে উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের বাঘেরবাড়ি গ্রামের বাংলাবাজার এলাকার নিভৃত পাহাড়ী এলাকায় দুর্বৃত্তদের হাতে নির্মমভাবে খুুন হন চাচা মজনু মিয়া (৫০) ও ভাতিজা শাহজালাল (৪০)। দুষ্কৃতিকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে চাচা-ভাতিজাকে।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২০ জুলাই) রাতে নিহত শাহজালালের বাবা আবুল হোসেন বাদী হয়ে সখীপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছে।
এদিকে ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার (২১ জুলাই) বাদ আসর পারিবারিক কবরস্থানে নিহতদের দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।
শনিবার (২২ জুলাই) ওই এলাকায় সরেজমিন ঘুরে গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, এ ধরণের নৃশংস হত্যাকান্ড তারা জীবনেও দেখেনি! পুলিশ যদি খুনীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে না পারে, পুলিশের ওপর মানুষের আস্থা থাকবেনা।
বাঘেরবাড়ি গ্রামের নূরুল ইসলাম বলেন, জোড়া খুনের ঘটনায় পুরো গ্রামজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। রাতে এলাকায় চলাফেরা করলে গা ছম ছম করে। সন্ধ্যা হলেই দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় এবং মানুষ ঘরে ফিরে যাচ্ছে। গ্রামবাসী স্তব্ধ হয়ে গেছে। অতি প্রয়োজন ছাড়া পারত পক্ষে কেউ রাতে ঘর থেকে বের হচ্ছে না। গ্রামবাসী দ্রুত সময়ের মধ্যে দোষীদের শনাক্ত করে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। নিহতদের স্বজনদের আহাজারি এখনো থামেনি। এমন মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না তারা।
স্থানীয় কাকড়াজান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. দুলাল হোসেন জানান, নিহতদের পরিবারের স্বজনদের আমি বারবার খোঁজ-খবর নিচ্ছি। পুলিশের প্রতি দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও খুনীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তিনি। গ্রামবাসীও এ খুনের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহের পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এবং পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট ঘটনাস্থল পরির্শন করেছেন।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি )রেজাউল করিম জানান, জোড়া খুনের রহস্য উদঘাটনে ও আসামী গ্রেপ্তারে পুলিশ মাঠে রয়েছে। পুলিশের অপরাধ বিভাগ, পিবিআই, ডিবিসহ কয়েকটি ইউনিট কাজ করছে।
উল্লেখ্য, নিহত শাহজালাল সখীপুর উপজেলার হামিদ চৌরাস্তা বাজারে বিকাশ-ফেক্সিলোড ও কসমেটিক্সের ব্যবসা করতেন। ঘটনার রাতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে চাচা-ভাতিজা মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফেরার পথে রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হত্যা কান্ডের শিকার হন। নিহতদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি মরদেহের পাশে পড়েছিল। গত বুধবার রাতে উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের বাঘেরবাড়ি বাংলাবাজার এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটেছে। নিহত মজনু মিয়া বাঘেরবাড়ি গ্রামের নবু মিয়ার ছেলে এবং শাহজালাল একই গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে স্কুল ছাত্রীকে অপহরণের পর জরুরী সেবা নম্বর ৯৯৯ ফোন করার পরও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। উল্টো থানায় মিমাংসার জন্য সালিশি বৈঠকের আয়োজন করলেও অপহৃত স্কুল ছাত্রীকে নিয়ে হাজির হয়নি আসামীরা।
এঘটনায় স্কুলছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে প্রধান আসামী সাদ্দাম হোসেনসহ (২৪), চারজনের নামে ভূঞাপর থানায় মামলা দায়ের করেন। এরআগে অপহরণের পর জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ ফোন করা হয়।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, উপজেলার অলোয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের এক হিন্দু ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীকে কু-প্রস্তাব দেয় প্রতিবেশি বখাটে সাদ্দাম হোসেন। কিন্তু বখাটের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় গত বুধবার ভোরে মেয়েটি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাইরে বের হলে অপহরণকারী সাদ্দামসহ কয়েকজনে মিলে অপহরণ করে। এই ঘটনায় মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে সাদ্দামসহ অপহরণের সাথে জড়িত চারজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন। কিন্তু পুলিশ মেয়েটিকে উদ্ধার না করে মেয়েটির বাবাকে থানায় মিমাংসার জন্য প্রস্তাব দেয়। পরে পুলিশের কথামত গত শুক্রবার বিকেলে ওই মেয়েটির বাবাসহ পরিবারের লোকজন থানায় হাজির হলেও আসামীরা হাজির হয়নি।
এদিকে মেয়েটিকে না পেয়ে বিভিন্নজনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন অসহায় বাবা।
মেয়ের বাবা জানান, মেয়েকে প্রতিনিয়ত স্কুলের যাতায়াতের পথে উত্ত্যেক্ত করতে সাদ্দাম। বিষয়টি তার পরিবারকে জানালেও কোন প্রতিকার পায়নি। উল্টো তারা হুমকি দেয় বিয়ে দেয়ার জন্য। পরে গত বুধবার রাতে মেয়েকে অপহরণ করা হয়। এই ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিলেও মেয়েকে উদ্ধারে কোন উদ্যোগ নেই। প্রতিকার পেতে ৯৯৯ নম্বরেও ফোন করা হয়েছে। পরে পুলিশ মেয়েকে ফিরিয়ে আনা এবং মিমাংসার জন্য থানায় বসার আয়োজন করলেও আসামীরা হাজির হয়নি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ভূঞাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জুম্মন খান বলেন, থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়ার পর তদন্ত করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আসামীপক্ষ অলোয়া ইউনিয়ন পরিষদে বসার কথা জানালে মেয়ের পরিবার অস্বীকার করে। শুক্রবার বিকেলে থানায় বসার আয়োজন করা হলেও আসামীরা উপস্থিত হয়নি। পরে মেয়ের পরিবারকে থানায় অভিযোগ দেয়ার কথা বলা হয়েছে।
অলোয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, এসআই জুম্মন দুইপক্ষকে নিয়ে বসার কথা জানালে আমি তাতে মত দেই। কিন্তু অন্য একটি ইউনিয়নে সম্মেলন থাকার কারণে শনিবার বসার কথা জানানো হয়। কিন্তু পরবর্তিতে আর কিছু জানিনা। অন্যদিকে ছেলে পক্ষ থেকে মেয়েটি হিন্দু ধর্মত্যাগ করে ইসলাম ধর্মগ্রহণের নোটারী পাবলিক এবং বিয়ে হওয়ার কাবিন নামার ফটোকপি দিয়ে গেছে।
এবিষয়ে ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলামের মোবাইলে বারবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেনি।
অতিরিক্ত সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (কালিহাতী সার্কেল) শরিফুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটির তদন্ত চলছে। তবে এই ঘটনা মিমাংসা যোগ্য না। মেয়েকে উদ্ধারে চেষ্টা অব্যাহত আছে।
একতার কণ্ঠঃ যমুনা নদীর বঙ্গবন্ধু সেতু এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে চার ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে নৌ পুলিশ। শুক্রবার(২১ জুলাই) যমুনা নদীর বেলুরচর এলাকা থেকে বালু উত্তোলনকালে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. মনিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- ভূঞাপুর উপজেলার গাবসারা ইউনিয়নের নিকলাপাড়া গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে মো. বুজরত আলী(৪৫), একই গ্রামের নুর মোহাম্মদের ছেলে মো. সুজাব আলী(২৭), মো. আব্দুল মালেকের ছেলে মো. ওমর আলী(৩৮) এবং সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি উপজেলার সুবর্ণ সারা গ্রামের আকবর আলী শেখের ছেলে মো. সালাম শেখ(২৮)।
এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. মনিরুল ইসলাম জানান, যমুনা নদীর বেলুরচর এলাকা থেকে অবৈধভাবে বাংলা ড্রেজারযুক্ত একটি নৌকায় বালু তোলা হচ্ছিল। নৌপুলিশের একটি টহল দল অভিযান চালিয়ে চোরাই বালু বোঝাই বাংলা ড্রেজারযুক্ত একটি কাঠের নৌকা জব্দ করা হয়। এ সময় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে উল্লেখিত চার ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়।
তিনি আরও জানান, গ্রেফতারকৃতদের নামে ২০১০ সালের বালুমহাল ও বালু ব্যবস্থাপনা আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু সেতু এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে নৌপুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরের কাকড়াজান ইউনিয়নের বাঘেরবাড়ি এলাকায় দুই ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দূর্বত্তরা।
বৃহস্পতিবার(২০ জুলাই )ভোরে স্থানীয়রা লাশ দুটি দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। স্থানীয়দের ধারণা, মধ্য রাতে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
নিহতরা হলেন, সখীপুর উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের বাঘেরবাড়ি গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে শাহজালাল (৩৫) ও নবু মিয়ার ছেলে মজনু মিয়া (৪৫)।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায় , শাহজালাল বাঘেরবাড়ি বাংলা বাজারে মুদি দোকান ও বিকাশের ব্যবসা করতো। রাতে দোকান বন্ধ করে ওই দুই ব্যবসায়ী বাড়ির উদ্দেশ্য রওনা হয়। পরে তারা আর বাড়িতে ফিরেনি। মধ্যরাতে তারা একটি নির্জন স্থানে পৌছালে, দূর্বত্তরা তাদের মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে। সকালে স্থানীয়রা লাশ দুটি দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। লাশ দুটির পাশে তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি পড়ে ছিল।
এ ব্যাপারে সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। পরে বিস্তারিত জানানো হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে মো.শামীম নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে আরো এক মাসের কারাদন্ডের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
বুধবার (১৯ জুলাই) দুপুরে যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ (তৃতীয়) আদালতের বিচারক আতিকুল ইসলাম এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি মো.শামীম আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
দন্ডপ্রাপ্ত শামীম পৌর এলাকার ৬নং ওয়ার্ডের কলেজপাড়া এলাকার আলাউদ্দিনের ছেলে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী ও সহকারী সরকারি কৌশলী (এপিপি) শহিদুল ইসলাম তালুকদার।
তিনি জানান, ২০১২ সালের ২৭ আগস্ট টাঙ্গাইল পুরাতন বাসস্ট্যান্ডের মায়ের দোয়া হোটেলের সামনে থেকে ১৫ গ্রাম হেরোইনসহ মো. শামীমকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেন টাঙ্গাইল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিদর্শক সাইফুল আলমসহ সঙ্গীয় ফোর্স।
তিনি আরও জানান, এ ব্যাপারে উপ-পরিদর্শক সাইফুল আলম বাদি হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। বুধবার (১৯ জুলাই ) সেই মামলায় আদালতের রায়ে শামীমকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার সহদেবপুর ইউনিয়নের আকুয়া গ্রামের এক প্রবাসীর স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৭ জুলাই) রাতে এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত গৃহবধু বিথি আক্তার (১৭) উপজেলার লুহুরিয়া গ্রামের মনিরুজ্জামান বাজেলের মেয়ে। সে স্থানীয় একটি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
স্থানীয়রা জানায়, ৭ মাস পুর্বে উপজেলার লুহুরিয়া গ্রামের মনিরুজ্জামান বাজেলের মেয়ে বিথি আক্তারের সাথে একই উপজেলার সহদেবপুর ইউনিয়নের আকুয়া গ্রামের আব্দুল্লাহ আনসারীর বড় ছেলে সিঙ্গাপুর প্রবাসী সুমন আনসারীর সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের ৩ মাস পর সুমন প্রবাসে চলে যান। তারপর থেকেই সৎ শ্বাশুড়ি শাহিনা আক্তার যৌতুকের জন্য নানা অত্যাচার শুরু করে।
তারা আরও জানায় , রবিবার (১৬ জুলাই ) দুপুরে ওই প্রবাসীর স্ত্রী শ্বশুরকে স্থানীয় হাট থেকে শশা কিনে আনতে বলেন। ছেলের বউয়ের কথামত শ্বশুর শশা কিনে আনলে শ্বাশুড়ি ওই শশা বাড়ির বাহিরে ফেলে দেয়। স্বামীকে নানা ধরনের বকাঝকা করতে থাকে। ছেলের বউ শ্বশুরের পক্ষ নিয়ে কথা বললে শ্বাশুড়ির মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সবাই মিলে রাতের খাবার শেষে শ্বাশুড়ি প্রবাসীর স্ত্রীকে একগ্লাস দুধ খেতে দেয়। শ্বাশুড়ির দেওয়া দুধ খেয়ে প্রবাসীর স্ত্রী ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন।
সোমবার (১৭ জুলাই ) সকালে বিথি ঘুম থেকে না উঠলে তার শ্বাশুড়ি তাকে ডাকা-ডাকি করে। তাতেও না উঠলে বিথির বাবার বাড়িতে ফোন দেওয়া হয়। ফোনপেয়ে তার বাবার বাড়ির লোকজন এসে দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে। পরে তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
তারা আরও জানায়, মৃত্যুর পর রাতেই নিহতের বাবার সাথে মীমাংসার জন্য ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সহিদুল ইসলাম, মেম্বার হযরত আলী, আতোয়ার রহমান, মাহমুদুল হক,মিন্টু মিয়া ও ওহাব আলীসহ একাধিক মাতব্বর মিলে দফায়-দফায় বৈঠক করেন। মীমাংসা না হওয়ায় একপর্যায়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতের দাদি হোসনেয়ারা ও ফুপু মর্জিনা আক্তার জানান, বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে সোনার গহনা দেওয়ার কথা ছিল। সেই গহনা দিতে একটু সময় লাগায় তার সৎ শ্বাশুড়ি দুধের সাথে বিষ মিশিয়ে বিথিকে মেরে ফেলেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, ঘটনার পরপরই তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে এ ঘটনা ঘটতো না। তাকে উদ্ধার করতে দরজা ভাঙ্গার প্রয়োজন হলে শ্বাশুড়ি বাঁধা দিয়ে বলে, এটা অনেক দামি দরজা এটা ভাঙা যাবে না। অন্যকোন উপায়ে তাকে বের করার কথা বলে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সহিদুল ইসলাম গভীররাতে দফায়-দফায় বিষয়টি নিয়ে সমঝোতা বৈঠকের কথা স্বীকার করেন।
এ বিষয়ে কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ মোল্লা আজিজুর রহমান জানান, খবর পেয়ে মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) দুপুরে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
তিনি আরও জানান, এ ব্যাপারে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে রেল সেতু থেকে এক কাঠ ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে রেলওয়ে পুলিশ। রবিবার (১৬ জুলাই)দুপুরে সদর উপজেলার গালা ইউনিয়নের শালিনা গ্রাম থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
তবে তার পরিবারের সদস্যদের দাবি, এটি একটি হত্যাকান্ড।
ওই কাঠ ব্যবসায়ীর নাম মো. বাচ্চু মিয়া (৪২)। তিনি সদর উপজেলা মগড়া ইউনিয়নের কুইজবাড়ী গ্রামের মৃত হুরমুজ আলী ছেলে।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শনিবার তিনি ঘাটাইল উপজেলা গাছের বাগান কিনতে যান। রাতে ঘাটাইল বাসস্ট্যান্ডে এসে তার পরিবারের সদস্যদের সাথে সর্বশেষ কথা হয়। রাত ৮ টার পর থেকে তার ফোন বন্ধ হয়ে যায়। রাতে বাড়ি না ফেরায় তাকে আত্মীয় স্বজনদের বাড়ি খোঁজ করা হয়। ভোর রাতে ঘাটাইল থানায় খোঁজ নিলে পুলিশ শালিনা এলাকায় লাশ আছে বলে জানায়। পরে সকালে পরিবারের সদস্যরা বাচ্চুর লাশ শনাক্ত করে।
বাচ্চু মিয়ার বড় ভাই আব্দুল হামিদ বলেন, আমার ভাই কখনও আত্মহত্যা করতে পারে না। এটা একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত দোষিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
ঘারিন্দা রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই ফজলুল হক বলেন, লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়না তদন্তের পর টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়না তদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর সঠিক রহস্য জানা যাবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ১১ বোতল বিদেশি মদসহ এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (১৫ জুলাই) দুপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উপজেলার এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীবাহী একটি বাসে তল্লাশি চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
আটককৃত জাইদুল ইসলাম (২৭) কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার চরবামান এলাকার আব্দুল ছাত্তারের ছেলে। সে মদগুলো নিয়ে টাঙ্গাইলের করটিয়ার উদ্দেশ্য যাচ্ছিলো।
টাঙ্গাইল ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট মুশফিকুর রহমান জানান, বাংলাদেশ ট্রাভেলস নামের একটি যাত্রীবাহী বাস কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকার দিকে যাচ্ছিলো। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে বাসটিতে তল্লাশি চালিয়ে ১১ বোতল বিদেশি মদ জব্দ করা হয়। সেই সাথে জাইদুল ইসলামকে আটক করে কালিহাতী থানায় প্রেরণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে থানায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার বীরবাসিন্দা এবং পারখী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আগামী ১৭ জুলাই সোমবার। এ নির্বাচনে নৌকার গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিদ্রোহী প্রার্থীরা।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একাধিক মারামারির ঘটনা ঘটেছে। বহিষ্কার করা হয়েছে বিদ্রোহী ৩ চেয়ারম্যান প্রার্থীকে।
এদিকে স্থানীয় আওয়ামী লীগে অদৃশ্য বিভক্তি দেখা দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে বদ্ধ পরিকর। প্রার্থীরা শেষ সময়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ভোট পেতে দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে অনেকের শংকাও রয়েছে।
জানা যায়- ২০১১ সালে বীরবসিান্দ ইউনিয়ন ভেঙে পারখী নামের নতুন একটি ইউনিয়ন গঠিত হয়। এবার নির্বাচনে বীরবাসিন্দা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন আব্দুল খালেক (নৌকা)। তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। এ ইউনিয়নে আরো ৩ জন প্রার্থী রয়েছেন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সেলিম শিকদার (আনারস) ও বর্তমান চেয়ারম্যান ছোহরাব আলী (মোটরসাইকেল সাইকেল) এবং মিতু আক্তার (চশমা)।
এদিকে পারখী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান তালুকদার তোতা (নৌকা)। তিনি কালিহাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি। এ ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী তালুকদার (মোটর সাইকেল)। এছাড়া কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রার্থী হয়েছেন আব্দুস সবুর শামীম (গামছা)।
এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বীরবাসিন্দা ইউনিয়নে একাধিক মারামারি ও অফিস ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন এবং লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে। এলাকায় বিরাজ করছে থমথমে অবস্থা।
স্বতন্ত্র প্রার্থী ছোহরাব আলীর বলেন, আমার নির্বাচনের প্রধান সমন্বয়ক আরিফুর রহমান লিটনকে (৫০) কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে নৌকা প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা। কস্তুরীপাড়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লিটন এখন ঢাকায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এছাড়াও নির্বাচনী অফিস ও গাড়ী ভাংচুর করে প্রচারনায় বাঁধা দেওয়া হচ্ছে। বুধবার সন্ধ্যায় ইউনিয়নের কস্তুরীপাড়া জামে মসজিদের সামনে ও বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজাফৈর বাজার এলাকায় এ ঘটনা দুটি ঘটে।
ছোহরাব আলী আরো বলেন, আমি নির্বাচন অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছি। তিনি আমাকে নিরেপেক্ষ নির্বাচনের আশ্বাস দিয়েছেন।
এছাড়া একই ইউনিয়নে বৃহস্পতিবার রাতে সিংনায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-প্রচার সম্পাদক শরীফ আহমেদ রাজুসহ ৫ জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুত্বর আহত করা হয়েছে।
আহতরা বলেন, হামলাকারীরা বর্তমান চেয়ারম্যান ছোহরাব হোসেনের লোকজন।
কালিহাতী থানার এসআই ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আলামিন বলেন, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। রাতেই রকিবুল ইসলাম সুমন বাদী হয়ে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী ছোহরাব হোসেনকে প্রধান আসামী করে ৪৩ জনের নামে মামলা দায়ের করেছেন। হেলাল উদ্দীন নামের এক আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযান অব্যাহত আছে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোজাহারুল ইসলাম তালুকদার বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে নির্বাচন করায় ৩ চেয়ারম্যান প্রার্থীকে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। সেইসাথে চূড়ান্ত বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। তারা হলেন বীরবাসিন্দা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছোহরাব আলী, একই ইউনিয়নের উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি সেলিম সিকদার ও পারখী ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি লিয়াকত আলী তালুকদার। তাদেরকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারক ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুল খালেক ও অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান তালুকদার তোতা বলেন, যতই ষড়যন্ত্র হোক উন্নয়নের স্বার্থে জনগণ নৌকাকেই ভোট দিয়ে বিজয়ী করবে।
কালিহাতী উপজেলা নির্বাচন ও ইউপি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মিসবাহ উদ্দীন আহমেদ বলেন, বীরবাসিন্দা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা একে অপরের বিরুদ্ধে ৪ টি অভিযোগ দিয়েছেন। সেগুলো আমরা তদন্ত করছি। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য আমরা সকল পদক্ষেপ নিয়েছি। ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনার রাশেদা সুলতানা কালিহাতীতে এসে বৃহস্পতিবার মতবিনিময় করেছেন। সেখানে পুলিশ প্রশাসন ও প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে কোন প্রকার শংকা নেই। বীরবাসিন্দা ইউনিয়নে মোট ভোটার ১৬ হাজার ৭০৫ এবং পারখী ইউনিয়নে ১৬ হাজার ৫৮৪ জন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে বন্ধুর ৭ বছরের শিশুকন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ইসমাইল মন্ডল (৪২) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ইসমাইলকে আটক করে পুলিশের কাছে সোর্পদ করেছে স্থানীয়রা।
বৃহস্পতিবার (১৩ জুলাই) সকালে উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নের সারপলশিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ইসমাইল একই গ্রামের হযরত মন্ডলের ছেলে। সম্পর্কে ইসমাইল শিশুটির চাচা।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে ইসমাইল তার বন্ধুর মেয়েকে পা টিপে দেওয়ার কথা বলে ঘরে ডেকে নেন। পরে শিশুটির মুখ চেপে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করলে শিশুটি চিৎকার করে ঘর থেকে বের হয়ে তার মাকে ঘটনাটি বলে।
এদিকে শিশুটির চিৎকারে আশপাশের লোকজন বাড়িতে এসে ইসমাইলকে আটক করে পুলিশের কাছে সোর্পদ করে।
ওই শিশুটি স্থানীয় একটি প্রাইমারি স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী।
শিশুর বাবা বলেন, ইসমাইল আমার অবুঝ শিশু মেয়েটিকে পা টিপে দেওয়ার কথা বলে ঘরে ডেকে নেন। পরে মুখ চেপে অনৈতিক কাজ করার চেষ্টা করে। বিষয়টি মেম্বারসহ প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টায় মিমাংসার কথা বলছেন।
নিকরাইল ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুল হক মাসুদ জানান, শিশুর বিষয়ে অন্যের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। সত্যতা কতটুকু জানি না।
ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধর্ষণচেষ্টার প্রমাণ মিলেছে। অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। মেয়েটির মেডিকেল পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের প্রস্তুতি চলছে। বিষয়টি আমরা আরো খতিয়ে দেখছি।