/ হোম / টাঙ্গাইল সদর
টাঙ্গাইলে হামলায় আহত ছাত্রদল কর্মীর অবস্থা আশঙ্কাজনক - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে হামলায় আহত ছাত্রদল কর্মীর অবস্থা আশঙ্কাজনক

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে বিএনপির মিছিলে হামলার ঘটনায় আহত ছাত্রদল কর্মী ইসমাইল হোসেন ওরফে পারভেজের(১৬) অবস্থা আশঙ্কাজনক। উন্নত চিকিৎসার জন্য বুধবার (২৪ আগস্ট) রাতে তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহদুল হক সানু জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যা পৌনে ছয়টা পর্যন্ত ইসমাইলের জ্ঞান ফেরেনি।

ইসমাইল সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামের শরিফুল ইসলামের ছেলে। তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। বুধবার জেলা বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলে হামলা হয়। এ সময় মাথায় হাতুড়ির আঘাতে ইসমাইল গুরুতর আহত হন।

জেলা বিএনপির নেতারা জানান, বুধবার জেলা বিএনপির একাংশ শহরের সাবালিয়া এলাকায় বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বিএনপির নেতাদের দাবি, তাঁদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিলটি শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গেটের সামনে পৌঁছালে ১৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের একদল নেতা–কর্মীরা বিএনপির নেতা–কর্মীদের ওপর হামলা করে।

এতে ইসমাইল হোসেনসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের দশ নেতা–কর্মী আহত হন। পরে ইসমাইলসহ দুজনকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে ইসমাইলের অবস্থার অবনতি হলে ওই দিন রাতেই তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। রাতে তাঁর মাথায় অস্ত্রোপচার করা হয়।

জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহদুল হক সানু জানান, ইসমাইলের অবস্থা এখনো শঙ্কামুক্ত নয়। তাঁর জ্ঞান ফেরেনি। তাঁকে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে।

এদিকে বুধবার রাতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও বৃহস্পতিবার জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাসানুজ্জামিল শাহীন এবং ফরহাদ ইকবাল স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলে হামলার ঘটনার বিষয়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৬. অগাস্ট ২০২২ ০৪:৩৭:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে হাটে ভিটি পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রতারণা; আটক ৩ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে হাটে ভিটি পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রতারণা; আটক ৩

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাণিজ্যিক এলাকা করটিয়া হাটে ভিটি( পজিশন দোকান) পাইয়ে দেওয়ার নামে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে তিন প্রতারকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১২ সিপিসি-,৩টাঙ্গাইল।

বুধবার(২৪ আগস্ট) রাতে করটিয়া হাট বাইপাস এলাকায় আনোয়ার ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব টাঙ্গাইলের কোম্পানী কমান্ডার মো. এরশাদুর রহমান।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ঝড়কা(ভামীকাত্রা) গ্রামের মৃত নিতাই পালের ছেলে মনোরঞ্জন পাল(৩৮), টাঙ্গাইল সদর উপজেলার অলোয়া গ্রামের রূপচানের ছেলে মো. হাসেন আলী, টাঙ্গাইল পৌর সভার আকুর-টাকুর পাড়া এলাকার মৃত দারোগ আলীর ছেলে মো. ফজলুর রহমান।

বৃহস্পতিবার(২৫ আগস্ট) সকালে র‌্যাব-১২ এর প্রেস বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যায়, সহকারী কমিশনার (ভূমি) টাঙ্গাইল অফিসের একজন কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন লোকজনকে করটিয়া কাপড়ের হাটের ভিটি (পজিশন দোকান) পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

খবর পেয়ে র‌্যাব-১২ সিপিসি-৩ টাঙ্গাইল’র কোম্পানী কমান্ডার মো. আনিসুজ্জামান ও স্কোয়াড কমান্ডার মো. এরশাদুর রহমান’র নেতৃত্বে র‌্যাবের একটি অভিযানিক দল বুধবার(২৪ আগস্ট) রাতে করটিয়া হাট বাইপাস এলাকা থেকে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ঝড়কা(ভামীকাত্রা) গ্রামের মৃত নিতাই পালের ছেলে মনোরঞ্জন পাল(৩৮), টাঙ্গাইল সদর উপজেলার অলোয়া গ্রামের রূপচানের ছেলে মো. হাসেন আলী, টাঙ্গাইল পৌর সভার আকুর-টাকুর পাড়া এলাকার মৃত দারোগ আলীর ছেলে মো. ফজলুর রহমান নামের তিন প্রতারককে গ্রেপ্তার করে।

এ সময় গ্রেপ্তারকৃত তিন প্রতারকের কাছ থেকে ১টি শপিং ব্যাগের ভিতর হতে ডুপ্লিকেট কার্বন রশিদ বহি, দোকান বরাদ্ধের (ডি. সি, আর) এর ৭২টি জাল কপি, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ টাঙ্গাইলের বিভিন্ন সরকারী কর্মকর্তার নকল/জাল দাপ্তরিক সীল ১১টি এবং ০৩টি মোবাইল উদ্ধার করা হয়।
র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারকরা করটিয়া হাটে সরকারী খাস জমিতে ভিটি (পজিশন দোকান) এর জন্য যে সকল লোকজন আসত তাদের প্রথমে সহকারী কমিশনার (ভূমি), টাঙ্গাইল’র পরিচয় দিয়ে বিশ্বাস অর্জন করে তাদের নিকট হতে লক্ষ লক্ষ টাকার দামের জমির ভিটি(পজিশন দোকান) সূলভ মূল্যে নকল সীল ও স্বাক্ষর করা ভুয়া ডি,সি,আর দিয়ে প্রতারণার কথা স্বীকার করে।

র‌্যাব আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃত প্রতারকদের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি প্রতারণার মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৬. অগাস্ট ২০২২ ০২:১১:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে বিএনপি’র একাংশের বিক্ষোভ মিছিলে হামলা, আহত ১০ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে বিএনপি’র একাংশের বিক্ষোভ মিছিলে হামলা, আহত ১০

একতার কণ্ঠঃ জ্বালানি তেল-গ্যাস সহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য মূল্যের উর্ধ্বগতি, নজিরবিহীন লোডশেডিং, সরকারে লুটপাট-দুর্নীতি এবং হামলা-মামলার প্রতিবাদে টাঙ্গাইলে বিএনপির একাংশের পথসভায় অতর্কিত হামলায় ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তাদেরকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

বুধবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে টাঙ্গাইল পৌর শহরের সাবালিয়া এলাকায় সদর উপজেলা ও পৌর বিএনপির একাংশের বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ওই হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। হামলার কারণে ওই বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভাটি পন্ড হয়ে যায়।

হামলায় আহতরা হলেন- জেলা জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক আশরাফ পাহেলী, জেলা ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সালেহ মোহাম্মদ সাফি ইথেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মমিনুল হক খান নিক্সন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সম্পাদক উজ্জল হোসেন, জেলা যুবদল নেতা কাজী শামসুল আজিজ লিন্টু, মো. রিপন ইসলাম, আরিফ বিল্লাহ্, কামাল হোসেন, দাইন্যা ইউনিয়ন যুবদল নেতা সাইফুল ও মামুন। এদের মধ্যে সাইফুল ও মামুনের অবস্থা গুরুতর।

পথসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন- জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ছাইদুল হক ছাদু। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সাবেক সহ-সভাপতি সাদেকুল আলম খোকা, সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক আনিছুর রহমান আনিছ প্রমুখ।

টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও জেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক আশরাফ পাহেলী অভিযোগ করেন, বিক্ষোভ মিছিল শেষে পথসভায় সাবালিয়ার স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ২৫-৩০ জন নেতাকর্মী লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের অন্তত ১০ নেতাকর্মী আহত হয়।

টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু জানান, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করে আইনগত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এ বিষয়ে ১৮ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মিতুলের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও কল রিসিভ করেননি।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মোশাররফ হোসেন জানান, শহরের সাবালিয়া এলাকায় সদর উপজেলা ও পৌর বিএনপির পথসভায় হামলার একটি ঘটনা ঘটেছে। কে বা কারা হামলা চালিয়েছে তা নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৫. অগাস্ট ২০২২ ০৩:০২:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলের দোকান সংস্কৃতিঃ মামুনুর রশিদ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলের দোকান সংস্কৃতিঃ মামুনুর রশিদ

মামুনুর রশিদঃ আমার বাড়ি টাঙ্গাইল হলেও জন্মেছি টাঙ্গাইল থেকে দশ কিলোমিটার দূরে, বলতে গেলে তখনকার এক অজপাড়া গাঁয়ে। জ্ঞান হওয়ার পর কখন টাঙ্গাইল শহরে এসেছি, তা আজ আর মনে পড়ে না। তবে টাঙ্গাইলই আমার প্রথম দেখা শহর, প্রিয় শহর।

সেই ঘ্যাগের দালান, যার নিচতলায় ছিল একটা ছোট্ট রেস্টুরেন্ট- নাম নিরালা। যে কারণে বলা হতো নিরালার মোড়। শুনেছিলাম শহরের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে এখানে ভাস্কর্য হবে এবং মনোরম কিছু স্থাপনা হবে। এখন শোনা যাচ্ছে, সেই জায়গায় পৌরসভার উদ্যোগে ১৪ তলা শপিং কমপ্লেক্স হবে।

শহরময় সরু পাকা পথ এবং শহরের প্রধান পথটির সমান্তরালে একটি খাল। সারা বছর খালটায় পানি থাকত। গ্রাম থেকে লোকজন নৌকা করে যাওয়া-আসা করত। খালটি দীর্ঘদিন হলো বুজিয়ে দেওয়া হয়েছে। বড় একটা দালান ছিল ঘ্যাগের দালান। সেখানে বড় বড় অক্ষরে লেখা ছিল, ‘আর চিন্তা নাই ঘ্যাগের ওষুধ পাওয়া গেছে’। দালানের দক্ষিণ দিকে কিছু দোকানপাট এবং রাস্তাটি চলে গেছে ছয়আনি বাজারের দিকে। এটাই ছিল তখন একমাত্র বাজার।

সন্ধ্যার পর শহরটি নৈঃশব্দে ভরে যেত। রাস্তার দু’পাশে গন্ধরাজ, কামিনী ফুলের ঘ্রাণ ভেসে আসত। সেই সঙ্গে বাড়িগুলো থেকে হারমোনিয়ামের সঙ্গে গলা সাধার শব্দ পাওয়া যেত। ঘ্যাগের দালান থেকে একটু কাছেই প্রধান সড়কে ছিল করোনেশন ড্রামাটিক ক্লাবের অফিস, অফিসসংলগ্ন মঞ্চ। মঞ্চটি ভাড়া দেওয়া হয়েছিল সিনেমা হলকে। সিনেমা হলের নাম কালি সিনেমা। এই ছিল পঞ্চাশের দশকের টাঙ্গাইল।

১৯৬৭ সালে টাঙ্গাইল জেলা হয়ে গেল। কলেবর বাড়তে থাকল চারদিকে। নতুন জেলা সদর নির্মিত হলো। শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে একটু দূরে, সেইসঙ্গে দোকানপাট বাড়ারও প্রয়োজন দেখা দিল। এর মধ্যেই গড়ে উঠল টাঙ্গাইলের নিউমার্কেট। একটা ছোট্ট জেলা হওয়ার পরও টাঙ্গাইলের একটা স্বকীয় বৈশিষ্ট্য ছিল। রাজনীতি, সংস্কৃতির কেন্দ্রস্থল টাঙ্গাইল অনেক ঘটনার জন্ম দিয়েছে। এই শহরে বসন্ত উৎসব উদযাপন হতো। সেই বসন্ত উৎসবে নাচ-গান ছাড়াও গীতিনাট্য ও নৃত্যনাট্যও স্থান পেত।

করোনেশন ড্রামাটিক ক্লাব ছাড়াও বেশ কয়েকটি নাট্যদলও গড়ে উঠেছিল, তারাও নাটক করত এবং টাঙ্গাইলের নাট্যামোদী জনগণের কাছে খুবই ভালোবাসার পাত্র ছিল। এই শহরে সেতার, বেহালা, তবলাসহ উচ্চাঙ্গ সংগীতের বেশ কিছু গায়ক-গায়িকার সমাবেশ ঘটেছিল। আবার দুর্দান্ত সব অভিনয়শিল্পী নাটককে জীবন্ত করে রাখতেন।

এই শহর ছিল আধুনিক কবিদের পীঠস্থান। যেহেতু ঢাকার সঙ্গে ১৯৬২ সাল থেকেই বাস যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছিল, মাত্র দুই টাকা ভাড়ায় ঢাকায় আসা যেত। কবিরা প্রায়ই টাঙ্গাইলে এসে আনন্দময়ী কেবিনে কবিতার আসর বসিয়ে ঘোষণা করতেন, কবিতাই পারে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধকে ঠেকাতে। সেই রকম একটা আবহের মধ্যে টাঙ্গাইল শহরটি শাড়ি, চমচম এবং মধুপুরের গজারির বন নিয়ে খুব গর্বের সঙ্গে দিন কাটাচ্ছিল।

মুক্তিযুদ্ধে অসম সাহসের সঙ্গে টাঙ্গাইলের লোকজন যুদ্ধ করেছে, কাদের সিদ্দিকী বঙ্গবীর হিসেবে অভিষিক্ত হয়েছেন। বঙ্গবন্ধু নিজ হাতে তাঁর সমর্পিত অস্ত্রকে তুলে নিয়েছেন।

মুক্তিযুদ্ধের পর টাঙ্গাইল কখনও উজ্জ্বল, কখনও বিষণ্ণ হয়েছে। সামরিক শাসনের জাঁতাকল টাঙ্গাইলের ওপর দিয়ে গেছে। তবুও টাঙ্গাইল একটা রাজনীতি ও সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে বহাল থেকেছে।

এর মধ্যে একটা নতুন সংস্কৃতি টাঙ্গাইলকে গ্রাস করল। সেটি হচ্ছে দোকান সংস্কৃতি। রাস্তার দুই পাশে এবং ফাঁকা জায়গাগুলোতে কোথাও এতটুকু জায়গা নেই। শুধু দোকান আর দোকান। কোথাও এই দোকানগুলো মহিমান্বিত হয়েছে সুপারমার্কেট হিসেবে। দোকানগুলোর পেছনে ব্যবসায়ীদের স্বার্থ আছে বটে। কিন্তু প্রধান উদ্যোক্তা পৌরসভা প্রথম আঘাত হানে খালটির ওপর। দৃষ্টিনন্দন ও পয়ঃপ্রণালির কাজ করা খালটির ওপর একের পর এক সুপারমার্কেট গড়ে ওঠে। এটি শহরের প্রাকৃতিক ভারসাম্যের ওপর নির্মম আঘাত।

পৌরসভার মেয়র যিনি থাকেন তিনি দোকান করার একটা পরিকল্পনা নিয়ে নামেন। প্রচুর দোকান হয়, সেগুলো বিলি-বণ্টন প্রক্রিয়ায় প্রচুর টাকা-পয়সার লেনদেন হয় এবং মেয়র হিসেবে কেউ বিদায় নিলে অন্য মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পরপরই আবার নতুন জায়গা খুঁজতে শুরু করেন।

শহরের সৌন্দর্য নষ্ট হয়, পৌরসভার অন্যান্য কার্যক্রম থিতিয়ে পড়ে। কিন্তু দোকান সংস্কৃতি সবকিছুকে ছাপিয়ে শহরকে নিয়ন্ত্রণ করে। এর মধ্যে রিকশা শহরের একমাত্র অভ্যন্তরীণ পরিবহন কিন্তু তার জায়গা দখল করে ফেলে চীন থেকে আমদানীকৃত বিদ্যুৎচালিত ইজিবাইক। শত শত ইজিবাইক শহরটাকে গ্রাস করে ফেলেছে। এই ইজিবাইকের লাইসেন্সদাতা হচ্ছে পৌরসভা।পৌরসভা রাস্তার ক্ষমতা বিবেচনা না করে একের পর এক ইজিবাইকের লাইসেন্স দিয়ে থাকে।

একবার এক মেয়র ইজিবাইক চালানোর জন্য সময় ভাগ করে দিয়েছিলেন। সেই সময় ভাগ এখন আর নেই। দোকান সংস্কৃতি শহরটাকে এমনভাবে গ্রাস করেছে, সেই নিঝুম-নিরালা পাবলিক লাইব্রেরিটি নিচতলা থেকে ওপরের তলায় উঠেছে। নিচে আবারও দোকানপাট।

সেই টিনের ঘরের করোনেশন ড্রামাটিক ক্লাব আর নেই। দালান উঠেছে, সঙ্গে একটি মঞ্চ ও সিনেমা হল ছিল, তা উঠে গিয়ে সেখানেও এসেছে অসংখ্য দোকান।

সেই ঘ্যাগের দালান, যার নিচতলায় ছিল একটা ছোট্ট রেস্টুরেন্ট- নাম নিরালা। যে কারণে বলা হতো নিরালার মোড়। শুনেছিলাম শহরের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে এখানে ভাস্কর্য হবে এবং মনোরম কিছু স্থাপনা হবে। এখন শোনা যাচ্ছে, সেই জায়গায় পৌরসভার উদ্যোগে ১৪ তলা শপিং কমপ্লেক্স হবে।

নিরালার মোড় থেকে জেলা শহরের দিকে যেতে রাস্তার দু’পাশে আবাসিক গৃহগুলো এখন পৃথিবীর বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শোরুমে পরিণত হয়েছে। শহরে নিশ্চিন্তে আনন্দদায়ক কোনো ভ্রমণ এখন কল্পনা করা যায় না। ইজিবাইক, রিকশা, প্রাইভেটকার, ট্রাক এসবের ভিড় এত প্রবল যে, কোনো পথই আর পথিকের নেই। নিরালার মোড় থেকে দক্ষিণ দিকে থানা ও শান্তিকুঞ্জ কাচারিতে যেতেও অসংখ্য দোকান। পশ্চিম দিকে গোরস্তান এবং টাঙ্গাইলের শেষ সীমানা একটা ব্রিজ পর্যন্ত ইজিবাইক, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রিকশার জ্যামে কখনও আটকে থাকতে হয়। পথ সম্প্রসারণেরও কোনো জায়গা নেই বা পৌরসভার পরিকল্পনাও নেই।

প্রধানমন্ত্রী টাঙ্গাইল শহরকে সাংস্কৃতিক নগরী বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেই উদ্দেশ্যে কিছু কাজকর্মও করা হয়েছিল। সাংস্কৃতিক নগরী করতে হলে বর্তমানের এই শহর কাঠামোকে ব্যাপকভাবে পরিবর্তন করতে হবে। সেই পরিবর্তনের লক্ষ্যে পৌরসভার ঔদাসীন্য চরম। একমাত্র জেলা সদরটি এখনও তার লেক, পার্ক ও রাস্তা নিয়ে সুদৃশ্য আছে। কারণ সেখানে পৌরসভার নিয়ন্ত্রণ নেই। শহরের যতটুকু এলাকা পৌরসভার অধীনে, সেখানেই মেয়র দোকান সংস্কৃতি গড়ে তুলছেন। শহরের প্রধান রাস্তার পাশাপাশি বিভিন্ন অলিগলিতে যে শৃঙ্খলা আনা প্রয়োজন, তা সম্পূর্ণভাবে মেয়রের নিয়ন্ত্রণে থাকায় এলাকার কাউন্সিলররা অসহায় বোধ করেন।

যেহেতু টাঙ্গাইল রাজনীতি ও সংস্কৃতির একদা পীঠস্থান ছিল এবং বর্তমানেও টাঙ্গাইল নানাভাবে সারাদেশকে আকর্ষণ করে, তাই টাঙ্গাইলের নগরবাসী পৌরসভার কাছ থেকে কিছু ন্যায্য দাবি করতেই পারেন, যার মধ্যে প্রধান শহরকে দোকান সংস্কৃতির হাত থেকে বাঁচানো এবং শহরের অভ্যন্তরীণ পরিবহনে শৃঙ্খলা নিয়ে আসা।

আমরা যাঁরা টাঙ্গাইলকে সংস্কৃতির নগর হিসেবে স্বপ্ন দেখেছি, তাঁদের কাছে টাঙ্গাইল যেন একটি দুঃস্বপ্নের নগরীতে পরিণত না হয়।

লেখকঃ মামুনুর রশীদ ,বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব ও টাঙ্গাইলের কৃতি সন্তান

লেখাটি “সমকাল” অনলাইন থেকে নেওয়া…

সর্বশেষ আপডেটঃ ২২. অগাস্ট ২০২২ ০৬:৪১:পিএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে চোলাই মদসহ আটক ১ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে চোলাই মদসহ আটক ১

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ৫০ লিটার দেশীয় চোলাই মদ সহ এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে র‌্যাব। শুক্রবার (১৯ আগস্ট)সকালে পৌর শহরের কান্দাপাড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

আটককৃতর নাম সুরুজ রবি দাস (৫০)। সে শহরের কান্দাপাড়া এলাকার মৃত কার্তিক রবিদাসের ছেলে।

শুক্রবার সকালে র‌্যাব-১২, সিপিসি-৩, টাঙ্গাইলের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানী কমান্ডার এএসপি এরশাদুর রহমান প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সুরুজ রবি দাসকে ৫০ লিটার দেশীয় চোলাই মদসহ হাতেনাতে আটক করা হয়।যার বাজার মূল্য ১৫ হাজার টাকা।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়,আটককৃত সুরুজ রবি দাস বহুদিন ধরে মাদক দ্রব্য দেশীয় চোলাই মদ অবৈধভাবে সংগ্রহ করে টাঙ্গাইল জেলার সদর থানাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন মাদক কারবারি ও মাদকসেবীদের নিকট বিক্রি করে আসছিল।তার বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৯. অগাস্ট ২০২২ ০৭:৪২:পিএম ৪ বছর আগে
ক্লিন টাঙ্গাইলের উদ্যোগে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুর শাহাদৎ বার্ষিকী পালন - Ekotar Kantho

ক্লিন টাঙ্গাইলের উদ্যোগে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুর শাহাদৎ বার্ষিকী পালন

একতার কণ্ঠঃ বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্যদিয়ে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের ৪৭ তম শাহাদৎ বার্ষিকী পালন করেছে ক্লিন টাঙ্গাইল।

বহস্পতিবার(১৮ আগস্ট) সকালে টাঙ্গাইল শহরের নিরালা মোড়ে অবস্থিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

কর্মসূচীর মধ্য ছিল, পরিছন্নতা ইভেন্ট, জনসচেতনামূলক লিফলেট বিতরণ, চিত্রাঙ্কন, কবিতা আবৃত্তি প্রতিযাগীতা, পরিষ্কার-পরিছনতা বিষয়ক বাউল গান পরিবেশন, গাছের চারা বিতরন ও রোপন ইত্যাদি।

অনুষ্ঠানে ক্লিন টাঙ্গাইলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন চাকলাদার শাহীনের সভাপতিত্বে ও আনিসুজ্জামান আনিস, রুহুল আমিন খান এবং আবু আহমদ শাহরিয়ারের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ক্লিন টাঙ্গাইলের উপদেষ্টা ও টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র জামিলুর রহমান মিরন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদশ স্কাউটস টাঙ্গাইল জেলা রোভার মোঃ জামাল হাসান, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্টার সৈয়দ সাইফুল্লাহ, পরিবেশ উন্নয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানম্যান আলমগীর হাসান, দৈনিক যুগধারা পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক সরকার হাবিব, ক্লিন টাঙ্গাইলের পৃষ্ঠপোষক মাসুক হাসান খান ও ফাতেমা মানব কল্যান ফাউন্ডেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ নাছির উদ্দিন সহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ীদর মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৯. অগাস্ট ২০২২ ০২:৫৮:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে আ’লীগের বিশাল বিক্ষোভ মিছিল - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে আ’লীগের বিশাল বিক্ষোভ মিছিল

একতার কণ্ঠঃ দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলায় জড়িতদের বিচার ও শাস্তির দাবিতে টাঙ্গাইলে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল করেছে জেলা আওয়ামী লীগ।

বুধবার(১৭ আগস্ট) সকালে শহরের শহীদস্মৃতি পৌর উদ্যানে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে পুনরায় শহীদ স্মৃতি উদ্যানে গিয়ে শেষ হয়।

এই বিক্ষোভ মিছিল পূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে
টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক ফজলুর রহমান খান ফারুকের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন,জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম এমপি, সহ-সভাপতি মো. ছানোয়ার হোসেন এমপি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক তানভীর হাসান এমপি, খান আহমেদ শুভ এমপি, যুবলীগের প্রেসিডেয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ প্রমুখ।

মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশে, আওয়ামী লীগ, আওয়ামী যুবলীগ, ছাত্রলীগ, তাঁতীলীগ,স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিল আওয়ামী লীগসহ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনের সহাস্রাধিক নেতা-কর্মী অংশগ্রহণ করে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৭. অগাস্ট ২০২২ ০৮:৫০:পিএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে হাজতির মৃত্যু - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে হাজতির মৃত্যু

একতার কণ্ঠঃ: টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে ওয়াসিম মল্লিক নামের(৩৫) এক হাজতির মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) ভোরে জেলা কারাগার থেকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেল সুপার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন।

মৃত ওয়াসিম মল্লিক টাঙ্গাইলের নাগপুর উপজেলার খাসপাইকাল গ্রামের মৃত সেকান্দার আলীর ছেলে।

জেলা কারাগার সুত্রে জানা গেছে, মৃত ওয়াসিম মল্লিক ২০২১ সালের ২১ জুলাই তার সৎভাইয়ের দায়ের করা মারপিটের মামলায় অসুস্থ অবস্থায় কারাগারে আসেন। কারাভোগকালীন অবস্থায় লিভার জনিত সমস্যায় কারা হাসাপাতাল , টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল ও উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়। মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) ভোরে হাজতি ওয়াসিম অসুস্থ হয়ে পড়লে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি মারা যান।

টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের পক্ষে জেনারেল হাসপাতালে মৃত্যুর তদন্ত করতে আসা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দীপ ভৌমিক জানান, মৃত হাজতি ওয়সিমের শরীরে কোন ধরনের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে শারীরিক অসুস্থতার কারনে তার মৃত্যু হয়েছে।

জেল সুপার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, হাজতি ওয়াসিম কারাগারে আসার পর থেকেই অসুস্থ ছিলেন। ইতোপুর্বে ১৭ জুলাই সে লিভার জনিত রোগে অসুস্থ হয়ে পড়লে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কেরানীগঞ্জের মাধ্যমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। গত ১০ অক্টোবর চিকিৎসা শেষে টাঙ্গাইল কারাগারে প্রত্যাবর্তন করে হাজতি ওয়াসিম। মঙ্গলবার ভোরে ফজরের নামাজের পর হাজতি ওয়াসিম অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ওয়ার্ড থেকে কারা হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অচেতন হয়ে পড়লে কারা সার্জনের পরামর্শে দ্রুত টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরিক্ষা-নিরীক্ষার পরে তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

তিনি আরও জানান, মৃত হাজতির দেহের সুরতহাল রিপোর্ট প্রনোয়ণসহ ময়না তদন্ত কার্য সম্পাদনের নিমিত্তে ও একটি অপমৃত্যুও মামলা রুজু করার জন্য টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জকে লিখিত অনুরোধ করা হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৭. অগাস্ট ২০২২ ০২:০৭:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে যথাযথ মর্যাদায় জাতীয় শোক দিবস পালিত - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে যথাযথ মর্যাদায় জাতীয় শোক দিবস পালিত

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে যথাযথ মর্যাদায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন করা হয়েছে।

সোমবার(১৫ আগস্ট) সকালে দিনের প্রথম কর্মসূচি হিসেবে জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সামনে জনসেবা চত্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিত্বে ফুলেল শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো হয়।

প্রথমে রাষ্ট্রের পক্ষে জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনি শ্রদ্ধাঞ্জলি জানান। এরপর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক ও সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম (ভিপি জোয়াহের) এমপি, ছানোয়ার হোসেন এমপি, তানভীর হাসান ছোট মনির এমপি, খান আহমেদ শুভ এমপি শ্রদ্ধাঞ্জলি জানান।

এর পর জেলা পুলিশের পক্ষে পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, পৌরসভার পক্ষে পৌর মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর, প্রেসক্লাবের পক্ষে প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট জাফর আহমেদ সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা শ্রদ্ধাঞ্জলি জানান।

পরে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবার এবং ১৫ আগস্ট শহিদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

দূপূরে শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭ তম শাহাদৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এছাড়া দিবসটি উপলক্ষ মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন জেলা ব্যাপী , দোয়া মাহফিল, গণভোজ, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা সহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৫. অগাস্ট ২০২২ ১০:৩২:পিএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে “জাতির পিতার নৃশংস হত্যাকান্ড : একটি ঐতিহাসিক পর্যালোচনা” শীর্ষক সেমিনার - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে “জাতির পিতার নৃশংস হত্যাকান্ড : একটি ঐতিহাসিক পর্যালোচনা” শীর্ষক সেমিনার

একতার কণ্ঠঃ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭ তম শাহাদৎ বার্ষিকী এবং জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে টাঙ্গাইলের সরকারি মাওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজে বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (১৪ আগস্ট) সকালে কলেজ অডিটোরিয়ামে ”জাতির পিতার নৃশংস হত্যাকান্ড : একটি ঐতিহাসিক পর্যালোচনা”শীর্ষক সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।

কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর শহীদুজ্জামান মিয়ার সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মির্জাপুর আসনের এমপি খান আহমেদ শুভ।

মুখ্য আলোচক হিসেবে তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য রাখেন এফবিবিসিআই এর পরিচালক ও আওয়ামী লীগ নেতা আবু নাসের।

মূল প্রবন্ধটি উপস্থাপন করেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রধান প্রফেসর আএ শেখ আছরারুল হক চিশতি।

বিশেষ অতিথি ছিলেন কলেজ শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক প্রফেসর বেল্লাল হোসেন ও হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রধান প্রফেসর মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান। আলোচক ছিলেন প্রফেসর খন্দকার আরিফ মাহমুদ, খন্দকার আনিসুর রহমান ও মুহাম্মদ নূর-এ-আলম।

আরো বক্তব্য রাখেন, সখিপুর উপজেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক ডা: জাকিয়া ইসলাম যুথি, টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল, কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি শফিউল আলম মুকুল ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক তানভীরুল হিমেল প্রমূখ।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কলেজের শিক্ষিকা তাহমিনা জাহান।

সেমিনারে কলেজের শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরাগণ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, টাঙ্গাইলের কাগমারীতে মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন। পরে  ১৯৭৪ সালে কলেজটি বঙ্গবন্ধু জাতীয়করণ করেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৫. অগাস্ট ২০২২ ০২:৩৩:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে প্যারাডাইস পাড়া সার্বজনীন দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে প্যারাডাইস পাড়া সার্বজনীন দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল পৌর শহরের ৬ নং ওয়ার্ডের প্যাড়াডাইস পাড়া সার্বজনীন শারদীয়া দুর্গোৎসব উদযাপনের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১২ আগস্ট) সন্ধায় প্যাড়াডাইস পাড়া খালপাড় রোডস্থ শ্রীশ্রী দুর্গা মন্দিরে এই সাধারণ সভার আয়োজন করা হয়।

প্যাড়াডাইস পাড়া সার্বজনীন পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাবু ভ্রমর চন্দ্র ঘোষ ঝোটনের সভাপতিত্বে সভায় বিগত বছরের পূজার আয়-ব্যায়ের হিসাব উপস্থাপন করেন সাধারণ সম্পাদক অভিজিৎ গৌড়(গৌতম) ও
অভিষেক সাহা( জয়)।

সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, এ বছর প্যারাডাইস পাড়ার দুর্গা পূজার ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশসেরা শিল্পী দিয়ে বড় পরিসরে প্রতিমা নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া একই সাথে আনন্দ শোভাযাত্রা, আলোকসজ্জা,আতোশ বাজীসহ বিভিন্ন জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।

সভায় প্যাড়াডাইস পাড়া শ্রীশ্রী দুর্গা মন্দির কমিটির সভাপতি ড. পিনাকী দে, স্বপন সাহা, সুবোধ পাল, জে সাহা জয়,উত্তম কুমার গৌড়, অনন্ত রায়, কেশব রায়, উৎপল পাল, পিন্টু সাহা, কৌশিক সাহা শঙ্কু বাদল বাগচী, প্রদীপ শংকর পাল সহ এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর সারা দেশে পঞ্চমী পূজার মধ্যদিয়ে শারদীয়া দুর্গোৎসব শুরু হবে। ৫ অক্টোবর দশমী পূজার মধ্যদিয়ে শেষ হবে এ বছরের শারদীয়া দুর্গোৎসব।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৩. অগাস্ট ২০২২ ১১:২১:পিএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে হৃদয়ে বঙ্গবন্ধু শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনী - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে হৃদয়ে বঙ্গবন্ধু শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনী

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে তিন দিন ব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশন এবং বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর আয়োজিত আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে বঙ্গবন্ধুর তিন শতাধিক আলোকচিত্র প্রদর্শিত হচ্ছে।

শুক্রবার (১২ আগস্ট) সকালে আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ মামুন ওই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন।

টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয়  শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আয়োজিত চিত্রপ্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন- জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম(ভিপি জোয়াহের) এমপি।

শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশনের সভাপতি মুঈদ হাসান তড়িৎ এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শামছুল হক, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হাসান প্রমুখ।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা খন্দকার কামরুল হাসান।

আরো পড়ুনঃ টাঙ্গাইলে সেতুর ওপর বাঁশের সাঁকো; জনদূর্ভোগ চরমে

রবিবার  (১৪ আগস্ট) পর্যন্ত সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ‘হৃদয়ে বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনী চলবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৩. অগাস্ট ২০২২ ০২:৫৩:এএম ৪ বছর আগে
কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।