একতার কণ্ঠঃ আওয়ামী লীগের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে টাঙ্গাইলে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) সকালে জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে দলীয় কার্যালয়ের সামনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা জোয়াহেরুল ইসলাম (ভিপি জোয়াহের) এমপির নেতৃত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন তানভীর হাসান ছোট মনির এমপি, সহ-সভাপতি আলমগীর খান মেনু, শামসুল হক ও আনিছুর রহমান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নাহার আহমেদ, দপ্তর সম্পাদক রফিকুল ইসলাম খান, শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর, সাধারণ সম্পাদক এম এ রৌফ।
এতে জেলা ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল শহরের দয়াল ক্লিনিক ও হসপিটাল থেকে এসআর লাভলু নামে এক ভুয়া চিকিৎসককে আটকের পর তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বুধবার (২২ জুন) দুপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারি কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেজা মো. গোলাম মাসুম প্রধান এ রায় ঘোষণা করেন।
এর আগে র্যাবের একটি দল ওই ক্লিনিকে অভিযান চালায়। ওই হাসপাতালে ভুয়া চিকিৎসক দিয়ে স্বাস্থ্য সেবা দেওয়া হচ্ছে এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে সেখানে অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী এ বাহিনীটি।
ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম মাসুম বলেন, ‘আটকের পর লাভলু আমাদের কাছে স্বীকার করেন তিনি চিকিৎসক না। তিনি টাঙ্গাইলের নাগরপুর যধুনাথ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেছেন । এছাড়া তার আর কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই ক্লিনিকে পাইলস ও নাক কান গলার চিকিৎসা করেতেন।
তিনি আরো জানান, লাভলুকে তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে স্বনামধন্য বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি স্কুলের আবাসিকে পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র শিহাব (১২) এর হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করা হয়েছে।
বুধবার (২২ জুন) সকালে এই বাংলাদেশ ছাত্রলীগ টাঙ্গাইল জেলা শাখার উদ্যোগে সৃষ্টি স্কুলের শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকা সংলগ্ন বিশ্বাস বেতকা সড়কের মুখে এ মানববন্ধন করেন তারা।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, শিহাব ৫ম শ্রেণির ছাত্র, সে কি কারণে আত্মহত্যা করবে, তার আত্মহত্যা করার মতো মানসিকা তৈরি হয় নাই। তাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
তারা বলেন, শিহারেব মৃত্যুর ঘটনাই প্রথম নয়, এর আগেও আরো ঘটনা ঘটেছে। টাকা দিয়ে ধামাচাপা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা আরো বলেন, আমরা এখানে পড়তে এসেছি, মরতে নয়। আমাদের পরিবার আমাদের পড়তে পাঠিয়েছেন। শিক্ষকরা শাসন করবেন, কিন্তু সেই শাসনের কেন পৈশাচিক হবে। শাসনের কারণে কেন আমাদের মরতে হবে।
এসময় শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের দিকে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, আমাদের শিক্ষকরা বইয়ের ভাষায় মানবতার কথা বলেন; কিন্তু তারা কি মানবিক?
এসময় শিক্ষকদের একটি অংশকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করতে ছবি তুলতেও দেখা যায়। কেন ছবি তুলছেন শিক্ষকরা, জানতে চাইলে তারা কোন সদুত্তর দিতে পারেন নি?
উল্লেখ্য গত ২০ জুন টাঙ্গাইলের সৃষ্টি শিক্ষা পরিবারের ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী শিহাবের রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে শিহাবের ফুপাতো ভাই আল আমিন সিকদার জানান, গত জানুয়াারিতে শিহাবকে সৃষ্টি স্কুলের আবাসিকে ভর্তি করা হয়; তখন থেকেই নিয়মিত ভালোভাবেই পড়াশোনা করতেছিল শিহাব। আজকে হঠাৎ সৃষ্টি স্কুল থেকে ফোন দিয়ে বলা হয় শিহাব অসুস্থ আপনারা তাড়াতাড়ি আসেন।
পরবর্তীতে ওই নাম্বারে ফোন দিয়ে শিহাবের অসুস্থতার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে স্কুল কর্তৃপক্ষ থেকে বলা হয় সিএনজি দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে; তাড়াহুড়ো করে সৃষ্টি স্কুল ভবনের কাছে গেলে সেখানে ঢুকতে না দিয়ে তারা বলে হাসপাতালে যাওয়ার জন্য। পরে হাসপাতালে আসার পর শুনতে পাই শিহাব মারা গেছে, স্কুলের শিক্ষকরা জানান, স্কুলের আবাসিকের বাথরুমে ঝুলন্ত অবস্থায় শিহাবকে দেখার পর সেখান থেকে হাসপাতালে নিয়ে আসে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল শহরের বেড়াডোমা এলাকায় লৌহজং নদীর উপরে ধসে পড়া নির্মাণাধীন সেতুটি ঠিকাদারকে নিজ খরচে পুরোটা ভেঙে নতুন করে নির্মাণ কাজ করতে হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
মঙ্গলবার (২১ জুন) সকালে ধসে পড়া সেতু পরিদর্শন শেষে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক একেএম রশিদ আহম্মদসহ তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ কথা জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আরো জানায়,ধসে পড়া সেতুর ৫৫ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ায় কয়েক ধাপে ৬০ শতাংশ বিল পরিশোধ করা হয়েছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে। তবে সেতুটি পুনরায় সম্পন্ন শেষ হওয়ার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বাকি বিল পরিশোধ করা হবে।
পৌরসভা সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের আওতায় টাঙ্গাইল পৌরসভা অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছিল। ৮ মিটার প্রশস্ত ও ৪০ মিটার দীর্ঘ সেতুর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৬০ লাখ ১৮ হাজার ৮৪১ দশমিক ৩৩ টাকা। ঢাকার ব্রিক্সস এন্ড ব্রিজ লিমিটেড এবং দি নির্মিতি নামের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে কাজটি নির্মাণের দায়িত্ব পায়। ২০২০ সালের ৫ নভেম্বর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সেতু নির্মাণের চুক্তি হয়। কিন্তু টাঙ্গাইল সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আমিরুল ইসলাম খান ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা মো. জামিলুর রহমান খানের নেতৃত্বে স্থানীয় ১০ জন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী কাজটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নিয়ে নেন। পরে তারা এটি বাস্তবায়ন শুরু করেন।
সেতু নির্মাণের তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত টাঙ্গাইল পৌরসভার প্রকৌশলীরা জানান, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তারা যেমন মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কাজটি নিয়ে নেন, ঠিক তেমনিভাবে সেতু নির্মাণ কাজেও ছিল অনেক অবহেলা। তাদের মৌখিক ও লিখিতভাবে একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হলেও তারা তা মানেননি। নির্মাণের বিভিন্ন স্তরে দরপত্রে উল্লেখিত নির্দেশনা মোতাবেক কাজ না করে নিজেদের খেয়ালখুশি মতো কাজ করেন।
ব্রিক্সস এন্ড ব্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপক মোস্তফা মুহাম্মদ মাসুদ জানান, তারা এবার নিজেদের তত্ত্বাবধানে সেতুটি পুনরায় নির্মাণ করবেন। তাদের সঙ্গে টাঙ্গাইলের ঠিকাদাররাও থাকবে। তবে সব কিছু তিনি দেখাশোনা করবেন।
তিনি আরও জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে সেতুটি ভেঙে পুনরায় নির্মাণ শুরু করা হবে। কর্তৃপক্ষ যদি এ বিষয়ে অঙ্গীকারনামা চান তাহলে তাই দেওয়া হবে। আর সেতুটি পুনরায় নির্মাণ কাজ করার সময় দরপত্রে উল্লেখিত সকল শর্ত মেনে কাজ করা হবে।
টাঙ্গাইল পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী শিব্বির আহমেদ আজমী জানান, ধসে পড়া সেতুটি ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করা হবে। তবে সেতুটি ভেঙে ফেলতে সকল ব্যয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বহন করবে। সব নির্দেশনা মেনে সেতুটি যাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে পুনরায় নির্মাণ কাজ শুরু করে, সেজন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে অঙ্গীকারনামা নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি স্কুলের আবাসিকে সোমবার (২০ জুন) বিকালে ৫ম শ্রেণীর ছাত্র শিহাবের (১২) রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে, তার পরিবারের দাবী এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সরোয়ার হোসেন জানান, এটি একটি অস্বাভাবিক মৃত্যু। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
নিহত শিহাব টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলার বেরবাড়ি এলাকার সিঙ্গাপুর প্রবাসী ইলিয়াস হোসেনের ছেলে।
শিহাবের ফুপাতো ভাই আল আমিন সিকদার জানান, গত জানুয়ারিতে শিহাবকে সৃষ্টি স্কুলের আবাসিকে ভর্তি করা হয়। নিয়মিত ভালোভাবেই পড়াশোনা করতেছিল শিহাব। সোমবার বিকালে হঠাৎ সৃষ্টি স্কুল থেকে ফোন দিয়ে বলা হয় শিহাব অসুস্থ আপনারা তাড়াতাড়ি আসেন, পরবর্তীতে ওই নাম্বারে ফোন দিয়ে শিহাবের অসুস্থতার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে স্কুল কর্তৃপক্ষ থেকে বলা হয় সিএনজি দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে, তাড়াহুড়ো করে সৃষ্টি স্কুল ভবনের কাছে গেলে সেখানে ঢুকতে না দিয়ে তারা বলে হাসপাতালে যাওয়ার জন্য।
আল আমিন আরো জানান, হাসপাতালে আসার পর জানতে পারি শিহাব মারা গেছে, সৃষ্টি স্কুলের শিক্ষকরা তাকে জানান, স্কুলের আবাসিকের বাথরুমে ঝুলন্ত অবস্থায় শিহাবকে দেখার পর সেখান থেকে তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
সৃষ্টি একাডেমিক স্কুল এর ভাইস-প্রিন্সিপাল আনোয়ার হোসেন জানান, তিনি বিষয়টি পুরোপুরি জানেন না।। তিনি শুনেছেন, নিহত শিহাব আবাসিকের বাথরুমের ঝর্ণার সাথে ঝুলে আত্মহত্যা করেছেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সরোয়ার হোসেন জানান, অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবর পেয়ে আমরা এসেছি, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রয়েছে, ময়নাতদন্তের পর রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর কারন সনাক্ত করা যাবে, এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি, মামলার প্রস্তুতি চলছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে পর্ণোগ্রাফীসংগ্রহ ও বিক্রির অভিযোগে জয় সরকার(২২) এবং ফেনসিডিল সরবরাহের অভিযোগ মো. আব্দুর রাজ্জাক(৬০) নামে এক বিক্রেতাকে পৃথক অভিযান চালিয়ে আটক করেছে র্যাব।
জেলার কালিহাতী উপজেলার বল্লা বাজার এবং শহরের অশেকপুর বাইপাসে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। র্যাব-১২ প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
র্যাব-১২ জানায়, গোপনে সংবাদ পেয়ে সোমবার(২০ জুন) সকালে সিপিসি-৩ টাঙ্গাইলের কোম্পানী কমান্ডার মেজর মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান ও স্কোয়াড কমান্ডার এএসপি মো. এরশাদুর রহমানের নেতৃত্বে একদল র্যাব কালিহাতী উপজেলার বল্লা বাজারে অভিযান চালায়।
অভিযানে ফ্রেন্ডস মাল্টিমিডিয়া অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স দোকান থেকে বিপুল পরিমাণ পর্ণোগ্রাফী, একটি সিপিইউ, একটি মনিটর ও কী-বোর্ড সহ জয় সরকারকে আটক করে। আটককৃত জয় সরকার বল্লা গ্রামের সুনীল চন্দ্র সরকারের ছেলে।
অপরদিকে, সোমবার(২০ জুন) ভোরে র্যাবের একটি দল বঙ্গবন্ধু-ঢাকা মহাসড়কে টাঙ্গাইল শহরের আশেকপুর বাইপাসে অভিযান চালায়। এ অভিযানে ৯৭ বোতল বিক্রি নিষিদ্ধ ভারতীয় ফেনসিডিল সহ মো. আব্দুর রাজ্জাককে আটক করে।

আটককৃত আব্দুর রাজ্জাক কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর গ্রামের মৃত মোনাছ মালিতার ছেলে।
আটককৃতদের নামে কালিহাতী এবং টাঙ্গাইল সদর থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে অভিন্ন নীতিমালায় ১২ দফা অর্ন্তভুক্ত করার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন।
রোববার (১৯ জুন) সকালে ঘন্টা ব্যাপি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স ফেডারেশনের আহবানে এ মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করা হয়।
কর্মসূচিতে বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের পেশাগত বৈষম্য দূরীকরণ ও কর্মকর্তা নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদোন্নয়ন সংক্রান্ত ১২ দফা অর্ন্তভুক্ত করার দাবি জানান নেতৃবৃন্দ।
মানববন্ধন কর্মসুচিতে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স ফেডারেশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও মাভাবিপ্রবি অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম মজনু, সাধারণ সম্পাদক ড. ইকবাল বাহার বিদ্যুৎ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আজাদ সোবহানী আল ভাসানীসহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।
মানববন্ধনে বক্তাগণ বলেন, কর্মকর্তাদের উপর চাপিয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক প্রণীত অভিন্ন নীতিমালায় বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স ফেডারেশনের দেয়া ১২ দফা অর্ন্তভুক্ত না করা পর্যন্ত বাংলাদেশের সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা তা মেনে নেবে না। কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে অভিন্ন নীতিমালায় এই ১২ দফা অর্ন্তভুক্ত না করলে ভবিষ্যতে কর্মকর্তারা আরও কঠোর কর্মসুচি গ্রহণ করবে বলেও জানান তারা।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাবুল(২৮) ও ছোটন(১৮) নামে দুই ছিনতাইকারীকে আটক করেছে র্যাব। রোববার (১৯ জুন) ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন- নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার চনপাড়া গ্রামের রনির ছেলে বাবুল (২৮), একই গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে ছোটন (১৮)।
রোববার দুপুরে র্যাব-১২, সিপিসি-৩, টাঙ্গাইলের কোম্পানী কমান্ডার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান প্রেসবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানান, আটককৃতদের কাছ থেকে ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত দুইটি অত্যাধুনিক ছুরি, দুইটি মোবাইল ফোন ও একটি সিম কার্ডসহ উদ্ধার করা হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়,তাদের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল সদর মডেল থানায় ১৮৬০ সালের ৩৯৩ও ৩৯৮ (পেনাল কোড) ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ১২ ঘণ্টায় পানি বৃদ্ধি পেয়েছে ১০ সেন্টিমিটার। এ ছাড়াও সমানতালে বৃদ্ধি পাচ্ছে অন্যান্য নদ-নদীর পানিও।
শনিবার (১৮ জুন) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ভূঞাপুর, টাঙ্গাইল সদর ও কালিহাতী উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে তলিয়ে গেছে হাজার হাজার একর জমির পাট, আউশ ধান, তিল, বাদামসহ বিভিন্ন ফসল। তবে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ভূঞাপুর, কালিহাতী ও টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কয়েকটি এলাকায় ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে।
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, শনিবার সন্ধ্যায় যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলায় যমুনাসহ সবকটি নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় জেলার বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতির দিকে যাচ্ছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহি করটিয়া হাটে ভিটি বরাদ্দের মাধ্যমে প্রতিবছর হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। এতে করে চরম ক্ষতির মূখে পড়ছেন প্রকৃত ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতারাও।
সরকারের পক্ষ থেকে স্বচ্ছভাবে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের সরাসরি ভিটি বরাদ্দ দেওয়া হয় না। এ কারণে সরকারি ইজারা মূল্য (ভিটি প্রতি) ৫৮৫ টাকার পরিবর্তে কয়েক হাত ঘুরে একটি ভিটির দাম পড়ে কয়েক লাখ টাকা।
এমনটা হওয়ার কারণে ব্যবসার আনুসাঙ্গিক খরচ বেড়ে গিয়ে সরাসরি প্রভাব পড়ে ক্রেতাদের ওপরে, বেড়ে যায় পণ্যের দাম। সরকারিভাবে ভিটি বরাদ্দ দেওয়া হলে হাটে দূরদূরান্ত থেকে আসা ক্রেতারাও কম মূল্যে তাদের চাহিদামত পণ্য ক্রয় করতে পারতেন।
ফলে হাটের সিন্ডিকেটের সদস্যদের কারণে ব্যবসায়ীসহ সাধারণ ক্রেতারাও ক্ষতির সন্মুখিন হচ্ছেন। এভাবে চলতে থাকলে এ ঐহিত্যবাহী করটিয়া হাট থেকে অনেক সাধারণ মানুষ মুখ ফিরিয়ে নেবেন বলে মনে করছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীরা জানান, হাটে বেশিরভাগ ব্যবসায়ী তাদের ভিটি ভাড়া বা অন্য কারো কাছ থেকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে কিনে ব্যবসা পরিচালনা করেন। কিন্তু যারা প্রকৃত ভিটির মালিক তাদের মধ্যে অনেকেই হাটে কোনো ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন। তারা সবাই রাজনৈতিক নেতা, নইলে জনপ্রতিনিধি অথবা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের স্বজন। তাদের এ সিন্ডিকেটের কারণে ভিটিগুলো বিক্রি হয় দেড়, দুই এমনকি পাঁচ লাখ টাকাতেও। অথচ এসব ভিটির বাৎসরিক সরকারি ইজারা মূল্য (ভিটি প্রতি) ৫৮৫ টাকা।
মঙ্গলবার (১৪ জুন) করটিয়া হাটে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই হাটে সাধারণ ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। দূরদূরান্ত থেকে আসা ক্রেতা ও বিক্রেতারা পণ্য কেনা-বেচায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
বগুড়া থেকে আসা সোলায়মান মিয়া নামের এক কাপড় ব্যবসায়ী জানান, গত বছরের তুলনায় এবার কাপড়ের দাম অনেক বেশি। তারপরেও ব্যবসা ও ক্রেতার চাহিদার কারণে বেশি দাম দিয়েই কাপড় কিনতে হচ্ছে।
করটিয়া এলাকার শাকের আলী জানান, দীর্ঘদিন ধরে হাটের কিছু জায়গা দখল করে ব্যবসা করেন তিনি। কিন্তু এবার বৈধভাবে জায়গা বরাদ্দ পেয়েছেন। তবে নিজের নামে না দেওয়ায় তার মেয়ে ও ভাই এবং ভাতিজার নামে ভিটি বরাদ্দ নিয়ে ব্যবসা করছেন। এগুলোর একটি তিনি নিজেই পরিচালনা করেন এবং বাকি তিনটি ভাড়া দিয়েছেন।
শুধু প্রভাবশালী নয়, এ হাটে ভিটি আছে সরকারি চাকরিজিবীদেরও। তবে এসব জমি তারা নিজের নামে না করে নিয়েছেন পরিবারের সদস্যদের নামে।
এমনই একজন হচ্ছেন করটিয়া এলাকার কালিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. আরিফ। এ হাটে তার তিন বোন, মা, মামা, মামাতো ভাইয়ের নামে নিয়েছেন আটটি ভিটি। পরে ওই ভিটিগুলো আবার একই এলাকার চাচাতো ভাই মো. ইসমাইল হোসেনের কাছে এক বছরের জন্য ভাড়াও দিয়ে দিয়েছেন।
ইসমাইল হোসেন জানান, আরিফের কাছ থেকে আটটি ভিটি লিজ নিয়ে তিনিও সেগুলো ভাড়া দিয়েছেন। সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ায় আরিফ এগুলো তার বোন, মা, মামা ও মামাতো ভাইয়ের নামে বরাদ্দ নিয়েছেন।
জানা গেছে, হাটে ভিটি বরাদ্দের প্রক্রিয়া করে জেলা প্রশাসন। এ কারণে প্রকৃত ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ ভিটি বরাদ্দ পাওয়ার জন্য আবেদন করেন। পরে তাদের জানানো হয় হাটে নতুন করে কোনো ভিটি বরাদ্দ দেওয়া হবে না। যারা ইতোমধ্যেই হাটের জায়গা দখল করে ব্যবসা করছেন, তাদের মধ্যেই ভিটি বরাদ্দ দেওয়া হবে।
খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, প্রভাবশালী এক জনপ্রতিনিধির ছত্রছায়ায় এলাকার প্রল্লাদ দাস, হেলাল উদ্দিন, ছানোয়ার হোসেন ছানু ও আনিসুর রহমান বিরু দীর্ঘদিন ধরেই করটিয়া হাট নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন। আর তাদের মাধ্যমেই পুরো হাটে ভিটি বরাদ্দ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি তাদের প্রত্যেকের নামে একটিসহ বিভিন্ন স্বজনদের নামে একাধিক ভিটি নেওয়া হয়েছে। পরে সেগুলো ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে এক লাখ ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিবছর ৪০-৫০ হাজার টাকায় ভাড়া দেওয়া হচ্ছে ভিটিগুলো।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যবসায়ী জানান, তিনি গত ১০-১২ বছর ধরে এ হাটে ব্যবসা করছেন। ৪-৫ বার তিনি ভিটি বরাদ্দ পাওয়ার জন্য আবেদন করেও পাননি। তাই বাধ্য হয়ে ভিটি ভাড়া নিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ কারণে ক্রেতাদের কাছে কিছুটা বেশি দামে পণ্য বিক্রি করতে হচ্ছে। আর যদি প্রকৃতভাবে সরকারি মূল্য অনুযায়ী ভিটি বরাদ্দ পেতেন তাহলে সাধারণ ক্রেতাদের কাছ থেকে বেশি মূল্য নিতেন না।
শুধু তিনি নন, এরকম প্রায় সব ব্যবসায়ীরাই প্রতিবছরে মোটা অংকের ভাড়ার টাকা আদায়ের জন্য ক্রেতাদের কাছ থেকে বেশি মূল্য রেখে থাকেন।
করটিয়া হাটের হোটেল ব্যবসায়ী প্রল্লাদ দাস জানান, তিনি ভিটি বরাদ্দের বিষয়ে কিছু জানেন না। তবে তিনি গত ৩-৪ বছর আগে আনিসুর রহমান বিরুর কাছ থেকে একটি ভিটি কিনে হোটেল ব্যবসা করছেন।
আনিসুর রহমান বিরু জানান, বর্তমানে তার কাছে কোনো ভিটি খালি নেই। তবে যেগুলো ছিল, সেগুলো সব ভাড়া দিয়েছেন। ভিটি বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়টি উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী ও প্রল্লাদ দাস দেখেন। তারাই ঠিক করেন, কার ভাগে কয়টি ভিটি পড়বে বলেও জানান তিনি।
ছানোয়ার হোসেন ছানু জানান, এবার যাদের ভিটি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তারা আগে থেকেই সেখানে দখলে ছিলেন। আর একজন ব্যবসায়ী একটি মাত্র ভিটি পাবেন। তবে তার পরিবার বড় হওয়ায় তিনি ও তার স্বজনরা মিলে ১০-১২টি ভিটি বরাদ্দ পেয়েছেন।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী জানান, করটিয়া হাটে আগে থেকেই যারা ভিটি দখল করে ছিলেন তাদের মাঝেই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। নতুন ভাবে কাউকে বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। এর বেশি কিছু তিনি জানেন না।
একতার কণ্ঠঃ কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের আমলে কৃষি, যোগাযোগ ব্যবস্থা, বাণিজ্য, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আইসিটিসহ প্রতিটি খাতে অভাবনীয় উন্নতি সাধিত হয়েছে। যা সারা পৃথিবীতে প্রশংসিত ও নন্দিত হচ্ছে। তবে সকল উন্নয়নের মধ্যে স্বাধীনতার পরে যে অর্জনটি সবচেয়ে বড় ও লক্ষণীয়- তাহলো পদ্মা সেতু। সকল দিক বিবেচনায় উন্নয়নের ক্ষেত্রে স্বাধীনতার পর জাতির শ্রেষ্ঠ অর্জন এটি। পদ্মা সেতু জাতির ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে থাকবে। একইসাথে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
শুক্রবার (১৭ জুন) বিকালে টাঙ্গাইল শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে এক স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। টাঙ্গাইলের কৃতি সন্তান, ভাষা সৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বঙ্গবন্ধুর সহচর মির্জা তোফাজ্জল হোসেন মুকুল এর একুশে পদক (মরণোত্তর) প্রাপ্তিতে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ এ স্মরণসভার আয়োজন করে।
মন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু জাতির স্বপ্নের সেতু, গর্বের সেতু, অহংকারের সেতু। ২৫ তারিখে এটির উদ্বোধন হবে, সেদিন সারা জাতি আনন্দে মেতে উঠবে। এ মহোৎসবকে কেউ যদি ষড়যন্ত্র করে বানচাল করতে চায়, তাদেরকে কঠোরভাবে মোকাবেলা করা হবে। কোন অপশক্তিই পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের আনন্দকে ব্যাহত করতে পারবে না।
পদ্মা সেতু দক্ষিণাঞ্চলের কৃষিতেও বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, যশোরের ফুল, সাতক্ষীরার আমসহ দক্ষিণাঞ্চলে উৎপাদিত শাকসবজি, ফলমূল সহজেই ঢাকা আসতে পারবে। ঐসব অঞ্চলে কৃষি প্রক্রিয়াজাত প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে। এর ফলে স্থানীয় পর্যায়ে বাজার তৈরির পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানিও হবে।
কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন সুন্দর ও সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনায় খুবই সক্ষম। কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সুন্দর ও সুষ্ঠু হয়েছে। শুধু হার-জিত দেখলে হবে না। দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে, অল্প ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জিতেছে-এদিকগুলোও বিবেচনা করতে হবে। সব মিলিয়ে নির্বাচন সুন্দর হয়েছে।
স্মরণসভায় টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুকের সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম এমপি, মো. ছানোয়ার হোসেন এমপি, পৌর মেয়র সিরাজুল হক আলমগীর প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে লৌহজং নদীর উপর নির্মিত সেতু দেবে গেছে।বৃহস্পতিবার (১৭ জুন) রাতে টাঙ্গাইল-বেড়াডোমা-ওমরপুর সড়কের বেড়াডোমা এলাকার লৌহজং নদীর উপর নির্মিত সেতুটি দেবে যায়। এদিকে সেতু নির্মাণ কাজে গাফিলতি আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছে টাঙ্গাইল পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী শিব্বির আহমেদ আজমী।
স্থানীয়রা দ্রুত সময়ের মধ্যে সেতু নির্মাণ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় টাঙ্গাইল পৌরসভা সেতুটির নির্মাণ বাস্তবায়ন করছে। আট মিটার প্রস্থ ও ৩০ মিটার দীর্ঘ সেতুটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৬০ লাখ ১৮ হাজার টাকা। ২০২০ সালের ১২ নভেম্বর থেকে সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু করে ব্রিক্সস অ্যান্ড ব্রিজ লিমিটেড ও দি নির্মিতি নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে কাজটি শুরু করে। গত ১১ মে কাজটি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ৫৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। গত সপ্তাহে সেতুটির উপরে অংশে ঢালাই করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে সেতুটির সেন্টারিং সাটারিং সরে গিয়ে মাঝখানে সাড়ে তিন ফুট দেবে যায়।
শুক্রবার (১৮জুন) সকালে সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, লৌহজং নদীর মাঝখান থেকে গাছ ও বাঁশের পাইল সরে গিয়েছে। সেতুটি মাঝ খানে দেবে যাওয়ায় স্থানীয় লোকজন ভিড় করেছে। কয়েকজন শ্রমিক সেতু নির্মাণে কাজ করে যাচ্ছে। দেবে যাওয়া স্থান টাঙ্গাইল পৌরসভা প্রকৌশলী ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা পরিদর্শন করেছেন।
বেড়াডোমা এলাকার বাসিন্দা হাফিজুর রহমান জানান, ইতোপূর্বে এখানে যে বেইলি সেতু ছিলো সেটিও দুবার ভেঙে আমাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে কয়েক বছর। এ সেতু নির্মাণের কারণেও দুর্ভোগ অব্যাহত আছে।
স্থানীয় বাসিন্দা খোরশেদ হোসেন বলেন, প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে সেতুটি দেবে গেছো। এতে আমাদের আরও কয়েক বছর দুর্ভোগ পোহাতে হবে।
পথচারী আজাদ মিয়া জানান, পার্ক বাজার থেকে বাজার করে নিজেই বহন করে আনতে হয়। কোন রিকশা আসে না। দুই বছরের অধিক সময় ধরে আমাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সোলায়মান হাসান জানান, এই সেতুটির নির্মাণ কাজ অন্যজন পেয়েছিলেন। স্থানীয় এমপি তার কাছ থেকে প্রভাব খাটিয়ে কাজটি হাতিয়ে নেয়। পরে তার কর্মী আমিরুলসহ তার অনুসারীদের কাজটি দিয়েছে।
৪ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবুল কালাম আজাদ জানান, দুর্ভোগ লাঘবে কাজটি শেষ করার জন্য বার বার তাগিদ দেয়া হয়েছে। কিন্তু পৌরসভার প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন কোন কথাই শুনেন না। সেতুটি দেবে যাওয়ায় লাখ লাখ মানুষের কয়েক বছরের জন্য দুর্ভোগ বেড়ে গেলো।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের আমিরুল ইসলাম জানান, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি ঢাকার। তবে স্থানীয় জামিল সহ কয়েকজন মিলে সেতু নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করছে। তিনি এই কাজের সাথে যুক্ত নয়।
টাঙ্গাইল পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী শিব্বির আহমেদ আজমী জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রকল্প পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে অবগত করা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি করে মূল রহস্য উদঘাটন করা হবে।