একতার কন্ঠঃ রবিবার(৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা। টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার আমতৈল পূর্বপাড়া গ্রামে ২নং বহেড়াতৈল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের নৌকা মার্কার পথসভা চলছিল। পথসভায় সভাপতিত্ব করছিলেন ওই এলাকারই বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুল মালেক (মেলেটারী)।সভাপতির নির্ধারিত বক্তব্য দিচ্ছিলেন আবদুল মালেক। বক্তব্যের শেষে জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু বলেই তিনি বসে পড়লেন। ঢলে পড়লেন মৃত্যুর কোলে।
ওই পথসভায় উপস্থিত একাধিক কর্মী সমর্থক জানান, বক্তব্যের শেষে জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু বলেই বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুল মালেক দ্রুত বসে পড়েন।বসে পড়ার পাঁঁচ মিনিটের মধ্যেই তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন। পরে সভায় উপস্থিত নেতাকর্মীরা তাঁকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকও তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুল মালেকের এমন মৃত্যুতে পরিবার, এলাকা ও মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেকের ছেলে কাদের হাসান জানান, বাবা অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। আজন্ম বঙ্গবন্ধুর ভক্ত ছিলেন তিনি।জয় বাংলা এবং বঙ্গবন্ধুর স্লোগান দিতে দিতেই তাঁর মৃত্যু হলো।
আবেগে আপ্লুত কাদের হাসান আরও বলেন, স্বপ্নেও ভাবিনি বাবার মুখে এটাই ছিলো আমাদের শোনানোর মতো শেষ কথা!
ওই পথসভায় উপস্থিত উপজেলা আওয়ামীলীগের উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নজরুল ইসলাম নবু বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন। মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তেও তিনি যে বক্তব্য রেখে গেছেন, তা অবশ্যই আমাদের জন্য অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার ( ১ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুল মালেক মেলেটারীর লাশ দাফন করা হবে।
৬০০
একতার কন্ঠঃ বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ বার্ধক্যজনিত নানা রোগে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে বলে জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের।বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) একথা জানান জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান।
রওশন এরশাদ ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) রয়েছেন।
৭৮ বছর বয়সী রওশন এরশাদ বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছেন। গত বছরের মার্চের পর তাকে কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে দেখা যায়নি। এই সময়ের মধ্যে তিনি দুইবার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার চারটি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হওয়ায় পাঁচজনকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) সকালে ডাকবাংলোতে অনুষ্ঠিত উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কুতুব উদ্দিন সভাপতিত্ব করেন। সভা শেষে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত শিকদার দুপুর ১২টায় সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।
বহিষ্কৃত ব্যক্তিরা হলেনঃ- উপজেলার কাঁকড়াজান ইউপিতে উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য মো. দুলাল হোসেন, বহেড়াতৈল ইউপিতে বর্তমান চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য গোলাম ফেরদৌস, যাদবপুর ইউপিতে সাবেক চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক কোষাধ্যক্ষ খন্দকার বজলুর রহমান, বহুরিয়া ইউপিতে আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ১ নম্বর সদস্য নুরে আলম এবং একই ইউপির প্রার্থী আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য নিরাঞ্জন বিশ্বাস।
উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া বলেন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নির্দেশে উপজেলার সব বিদ্রোহী প্রার্থীকে বহিষ্কারের জন্য উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের বলা হয়েছে। এ কারণেই আজকের সভায় বিদ্রোহীদের দল থেকে বহিষ্কারের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আজই(বৃহস্পতিবার) তাঁদের দল থেকে বহিষ্কারের চিঠি পৌঁছে দেওয়া হবে।
বহুরিয়া ইউপির চেয়ারম্যান প্রার্থী নিরাঞ্জন বিশ্বাস বলেন, ‘আমি একজন চলচ্চিত্র পরিচালক ও অভিনেতা। আমি আওয়ামী লীগ সমর্থন করি। তবে উপজেলায় বা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটিতে কোথাও আমার নাম নেই। আমাকে বহিষ্কার করলেই কী আর না করলেই কী। আমি তো দলেই নেই।’
বহেড়াতৈল ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান গোলাম ফেরদৌস বলেন, ‘আমি দলীয় মনোনয়ন চাইনি। আমি বিদ্রোহী নই। আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী। তাই আমার বহিষ্কার কার্যকর হবে না।’
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার আটিয়া ইউনিয়ন পরিষদে এক প্রার্থীর মৃত্যুতে চেয়ারম্যান পদের নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আতিয়ার রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আগামী ১১ নভেম্বর দ্বিতীয় ধাপে আটিয়া ইউনিয়নে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিলো। কিন্ত চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান বাবুল উজ্জামান মোল্লা (৪১) সোমবার রাতে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
এ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ১১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। এর মধ্যে বাবুল উজ্জামান মোল্লা স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন। হঠাৎ তার মৃত্যু হওয়ায় নির্বাচন বাতিল চেয়ে কমিশনে চিঠি পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত চেয়ারম্যান পদের নির্বাচন স্থগিত থাকবে। এ ইউনিয়নের মোট ভোটার সংখ্যা ২৪ হাজার ৩২২ জন।
এদিকে বাবুল উজ্জামান মোল্লার মৃত্যুতে তার পরিবার ও নেতা-কর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি আটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন।
জেলা নির্বাচন অফিসার এএইচএম কামরুল হাসান বলেন, ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদের নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। তবে সদস্য পদের নির্বাচন হবে কি না সেটা কমিশনের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার আসামি সাবেক পৌর মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তির জামিন আবেদন না মঞ্জুর হয়েছে।সোমবার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে এ বিষয়ে শুনানি শেষে এমন আদেশ দিলেন আদালত।এ নিয়ে মোট ১৬ বার তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হল।
সহিদুর টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানার ভাই এবং ওই আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় বর্তমান এমপি আতাউর রহমান খানের ছেলে। প্রায় ১১ মাস ধরে কারাগারে রয়েছেন।
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত সরকারি কৌসুলি মনিরুল ইসলাম জানান, প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মুক্তির আইনজীবীরা তার জামিন আবেদন করেছিলেন। সোমবার (২৫ অক্টোবর) এই আবেদনের শুনানিতে তারা যে কোনো শর্তে সহিদুর রহমান খান মুক্তির জামিন প্রার্থনা করেন। শুনানি শেষে বিচারক মাসুদ পারভেজ তাদের আবেদন নামঞ্জুর করেন।
ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় অভিযুক্ত হওয়ার পর দীর্ঘ ছয় বছর পলাতক থাকার পর গত ২ ডিসেম্বর সহিদুর রহমান খান মুক্তি টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়ে দেন। তারপর থেকে তিনি টাঙ্গাইল জেলা কারা হেফাজতে আছেন।
গত ১৮ আগস্ট সহিদুর রহমান খান মুক্তি কারাগারে অসুস্থ হওয়ার পর তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে আনা হয়েছিল। সেখানে প্রায় এক মাস চিকিৎসা শেষে তাকে আবার টাঙ্গাইল কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফারুক আহমেদের গুলিবিদ্ধ মরদেহ তার কলেজ পাড়া বাসার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার তিন দিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদি হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ২০১৪ সালের আগস্টে গোয়েন্দা পুলিশ আনিসুল ইসলাম রাজা ও মোহাম্মদ আলী নামের দুই জনকে গ্রেপ্তার করে।
আদালতে এ দু’জনের দেওয়া স্বাীকারোক্তিতে এই হত্যার সঙ্গে তৎকালীন এমপি আমানুর রহমান খান রানা, তার তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার তৎকালীন মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন ও ছাত্রলীগের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পার জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে আসে। এরপর অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যান। আমানুর রহমান খান রানা ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে আত্মসমর্পন করেন। প্রায় তিন বছর হাজতবাসের পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। তাদের অন্য দুই ভাই এখনও পলাতক।
একতার কণ্ঠঃ আওয়ামীলীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী ডক্টর মো. আব্দুর রাজ্জাক এমপি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, আওয়ামী লীগের ভিত্তি ও শক্তি হল এদেশের জনগণ। জনগণের কল্যাণে ও জীবনমান উন্নয়নে আওয়ামী লীগ আন্দোলন, সংগ্রাম ও কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশে দীর্ঘ ২১ বছরের শত জুলুম-নির্যাতনের মধ্যেও আওয়ামী লীগের পালানোর ইতিহাস নেই। আওয়ামী লীগ দেশ স্বাধীন করেছে; এই দল, দলের নেতাকর্মী ও দল প্রধান কোনদিন দেশ এবং জনগণকে ছেড়ে পালাবে না।
মির্জা ফখরুলকে মন্ত্রী বলেন, বিএনপি সবসময়ই পলায়নপর দল। দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে ও দু:সময়ে তারা কখনই এগিয়ে আসে নি, বরং পালিয়ে পালিয়ে থেকেছে। দলটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বন্দুকের নলের মুখে- ক্যাণ্টনমেণ্টে। জনগণের সাথে আপনাদের কোন সম্পর্ক নেই। জনগণের কল্যাণে আপনারা কখনও কোন কাজ করেন নি। ধনী-বণিক ও সুযোগসন্ধানীদের জন্য কাজ করেছেন।
তাই আপনারা সবসময়ই জনবিচ্ছিন্ন ছিলেন- এখনও জনবিচ্ছিন্ন আছেন, ভবিষ্যতেও থাকবেন। মন্ত্রী বলেন, আপনাদের মুখে পালানোর কথা মানায়না, পালাবেন তো আপনারা। আপনাদের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট বিদেশে পালিয়ে থেকে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে দল চালাচ্ছে। আপনারা আর কোনদিন এদেশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাবেন না।
বুধবার(১৩ অক্টোবর) টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে স্থানীয় গরীব, অসহায় ও দু:স্থ ব্যক্তির মাঝে ঢেউটিন ও অর্থ সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ধনবাড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হারুনার রশিদ হীরা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সামিউল হক, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শামছুল হুদা, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার জেব-উন-নাহার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মীর ফারুক আহমাদ প্রমুখ।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভুঞাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় বিজয়ী হতে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোছা. নার্গিস বেগম।টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলার মধ্যে এবারই প্রথম কোনো নারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হচ্ছেন।
সোমবার (১১ অক্টোবর) দুপুরে যাচাই বাছাই শেষে একমাত্র প্রার্থী নার্গিস বেগমের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন উপ-নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এ এইচ এম কামরুল হাসান।
শনিবার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত নার্গিস বেগম ছাড়া আর কেউ মনোনয়নপত্র জমা দেননি।
নার্গিস বেগম ভুঞাপুর উপজেলা পরিষদের প্রয়াত চেয়ারম্যান আব্দুল হালিমের স্ত্রী। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ৩০ জুলাই আব্দুল হালিম মৃত্যুবরণ করেন। পরে নির্বাচন কমিশন চেয়ারম্যান পদ শূন্য ঘোষণা করে উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। আগামী ২ নভেম্বর নির্বাচনে ভোট গ্রহণের কথা।
নার্গিস বেগম ভুঞাপুর উপজেলার মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং লোকমান ফকির ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক।
রিটার্নিং কর্মকর্তা এ এইচ এম কামরুল হাসান জানান, ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১৭ অক্টোবর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। ওই দিন একমাত্র প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার না করলে পরদিন তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় বিজয়ী ঘোষণা করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের নামে মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্রলীগ। সোমবার(১১ অক্টোবর) দুপুরে দাইন্যা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের ব্যানারে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে ঘন্টাব্যাপী ওই মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
এতে বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ মাহমুদ, সহ-সভাপতি আরিফুর রহমান বাচ্চু ও এম এ মতিন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান আতিক, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদি নয়ন, দাইন্যা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি জহিরুল ইসলাম রুবেল ও সাধারণ সম্পাদক খায়রুল ইসলাম প্রমুখ।
উল্লেখ্য, দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লাভলু মিয়া লাবু গত ৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে তিন কোটি টাকার মানহানির মামলা করেন।
একতার কণ্ঠঃ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ঢাকা, সিলেট ও রাজশাহী বিভাগের আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হয়েছে। রবিবার (১০ অক্টোবর) দলটির দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তালিকা ঘোষণা করা হয়।
আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঢাকা বিভাগের ৮টি জেলা এবং সিলেট বিভাগ এবং রাজশাহী বিভাগের একটি ইউপির প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।
টাঙ্গাইলের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মনোনীত প্রার্থীদের নামের তালিকা নিম্নে দেওয়া হলো-
টাঙ্গাইল জেলার ধনবাড়ী উপজেলার বীরতারাতে আহাম্মদ আল ফরিদ, বানিয়াজানে রফিকুল ইসলাম তালুকদার, যদুনাথপুরে মীর ফিরোজ আহমেদ, পাইস্কাতে মুহাম্মদ আব্দুল মান্নান, ধোপাখালীতে আকবর হোসেন, মুশুদ্দিতে আবুল কায়ছার, বলিভদ্রে রফিকুল ইসলাম তালুকদার।
সখীপুর উপজেলার যাদবপুরে এ, কে, এম আতিকুর রহমান, বহরিয়াতে গোলাম কিবরিয়া, বহেরাতৈলতে ওয়াদুদ হোসেন, কাকড়াজানে তারিকুল ইসলাম।
দেলদুয়ার উপজেলার আটিয়াতে মাসুদুল হাসান তালুকদার, দেউলীতে দে. তাহ্ মিনা, পাথরাইলে রামপ্রসাদ সরকার, লাউহাটিতে হাবিবুর রহমান, দেলদুয়ারে মাসুদ-উজ্জামান খান, ডুবাইলে ইলিয়াছ মিয়া, এলাসিনে বেলায়েত হোসেন, ফাজিলহাটিতে শওকত আলী আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে নির্বাচনী প্রচারণার মাঠে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে আওয়ামী লীগ নেতা নূরুল ইসলাম নূরু’র (৫৭) মৃত্যু হয়েছে।বৃহস্পতিবার(৭ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে টাঙ্গাইলের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেন তিনি। নূরুল ইসলাম নূরু উপজেলার বাশকাইলের মৃত ওয়াহেদ আলীর ছেলে। তিনি নগদাশিমলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও আসন্ন ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন।
শুক্রবার (৮ অক্টোবর) সকাল ১০টায় বাইশকাইল পূর্বপাড়া কেন্দ্রীয় ঈদ গাঁ মাঠে নূরুল ইসলাম নূরু’র জানাজা নামাজ শেষে সামাজিক কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়। মরহুমের জানাজা নামাজে হাজারো মানুষের ঢল নামে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে তিনি দীর্ঘদিন ধরে দিন-রাত জনসেবা ও গণসংযোগ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন।বৃহস্পতিবার জোহর নামাজ আদায় করে থানাব্রীজ সংলগ্ম চা স্টলে স্থানীয়দের সাথে নির্বাচনী আলোচনা করেন তিনি। বিকাল ৪টার দিকে হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করলে পাশেই নিজস্ব মালিকানায় পরিচালিত আলিফ ডিজিটাল ক্লিনিকে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা করে তাকে টাঙ্গাইলে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে স্থানান্তর করেন। সন্ধ্যায় উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে রাত ৮টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির সেখানে যান। তিনি বলেন,নুরুল ইসলাম একজন সৎ ও ভালো মনের মানুষ ছিলেন। তার মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত ও তার শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সমবেদনা জানাচ্ছি।
একতার কণ্ঠঃ দুইটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনে গোলযোগ সৃষ্টির অভিযোগ টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমান গাউসকে তাঁর পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।সেই সঙ্গে দলের প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদককে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের যৌথ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) মতিয়ার রহমানকে অব্যাহতির কথা জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার স্বাক্ষরিত এই চিঠি মতিয়ার রহমানের কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে মতিয়ার রহমান বুধবার দুপুরে জানিয়েছেন তিনি এখনো চিঠি হাতে পাননি। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চিঠির কপি দেখেছেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান এবং সাধারণ সম্পাদক সাংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, ২১ সেপ্টেম্বর মতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে বাসাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শামছুল আলম জেলা নেতাদের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। সেখানে মতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে দুইটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনে গোলযোগ সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়। এ বিষয়ে গত রোববার (২৬ সেপ্টেম্বর) টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় বিষয়টি উত্থাপন করা হয়। এ নিয়ে আলোচনা পর্যালোচনার পর ‘নেতাদের নীতিগত সিদ্ধান্তে’ মতিয়ার রহমান গাউসকে সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করার সিদ্ধান্ত হয়।
মতিয়ার রহমান জানান, তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া সম্পূর্ণ অগঠনতান্ত্রিক। তিনি কেন্দ্রীয় নেতাদের বিষয়টি লিখিতভাবে জানাবেন বলেও জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মতিয়ার রহমান গাউস চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন। কিন্তু উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি কাজী অলিদ ইসলাম বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। কাজী অলিদকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে শামছুল আলকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে লাইসেন্স ব্যতিতই চলছে প্রায় দুই শতাধিক বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। নানা প্রক্রিয়ায় বিপুল সংখ্যক ওই ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার চলমান থাকলেও লাইসেন্স নবায়ন না থাকার অজুহাতেই সিলগালা করা হয়েছে আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শামসুল হকের নামকরণের হসপিটালটি।
জাতীয় নেতার নামে গড়ে উঠা শামসুল হক মেমোরিয়াল হসপিটালটি সিলগালা করার ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরাসহ সাধারণ মানুষ। আওয়ামীলীগ কে বিতর্কিত করতেই ও অদৃশ্য কোন মহলের প্ররোচনায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক এর নামের হসপিটালটি সিলগালা করেছে এমন অভিযোগ স্থানীয় নেতাকর্মীদের। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলার সাধারণ মানুষও।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ৩৫০টিরও বেশি রয়েছে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এর মধ্যে বৈধ কাগজ পত্র রয়েছে ৮৯টির আর প্রক্রিয়াধীন রয়েছে ৫৮টির।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শামসুল হকের নামে পরিচালিত হচ্ছে এই হসপিটাল। এখানে বিনা পয়সা গরীব রোগীদের চিকিৎসা দেয়াসহ খুব অল্প টাকায় নানা ধরণের জটিল অপারেশন করে থাকেন হসপিটাল কর্তৃপক্ষ। এতে অন্যান্য ক্লিনিকের ব্যবসা নষ্ট হচ্ছে। এ ক্ষোভেই ওই ক্লিনিক মালিকরা ষড়যন্ত্র করে হসপিটালটি বন্ধ করিয়েছেন। জেলায় অবৈধভাবে অসংখ্য ক্লিনিক পরিচালিত হলেও লাইসেন্স নবায়ন না থাকার মত কারণে আওয়ামীলীগের মহান নেতা শামসুল হকের নামে প্রতিষ্ঠিত এ হসপিটালটি সিলগালা করার ঘটনাটি রহস্যজনক বলে দাবি করেছেন তারা। দ্রুত হসপিটালটি খুলে দেয়ার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনাও করেছেন তারা।
১৩ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুল মালেক তপু’র অভিযোগ , মহান নেতার নামে প্রতিষ্ঠিত হসপিটালটিকে বিতর্কিত করাসহ টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামীলীগের ইতিহাস ঐতিহ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করা চেষ্টা চলছে। যে হসপিটালটি প্রতিষ্ঠান লগ্ন থেকে লাইসেন্সসহ সকল প্রকার বৈধতা নিয়ে গরীব অসহায় মানুষের সেবা চালিয়ে যাচ্ছে, করোনা এই দূর্যোগে সেই প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স নবায়ন করতে না পারার বিষয়টি সিলগালা করার মত অপরাধ ? জেলায় যেখানে অবৈধভাবে চলছে প্রায় দুই শতাধিক ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এই বিপুল সংখ্যক ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার যদি অবৈধভাবে চলতে পারে সেখানে মহান নেতার নামে প্রতিষ্ঠিত শামসুল হক মেমোরিয়াল হসপিটালটির অপরাধ কি ? এটি সিলগালা করার বিষয়টি কি রহস্যজনক নয় ? আমার ধারণা জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের জামায়াত শিবিরের কতিপয় কর্মকর্তা কর্মচারি বর্তমান সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতে হসপিটালটি সিলগালা করার মত ঘটনাটি ঘটিয়েছেন। ঘটনাটি তদন্তে জেলা প্রশাসনের উচ্চতর কমিটি হস্তক্ষেপ ও জড়িতদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।
টাঙ্গাইল শহর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আসাদুজ্জামান খান শাকিব বলেন, মহান নেতার নামে প্রতিষ্ঠিত শামসুল হক মেমোরিয়াল হসপিটালটি ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ অঞ্চলের গরীব অসহায় মানুষকে বিনা পয়সা সেবা দিয়ে আসছে। এছাড়াও মহান নেতার নাম উজ্জল করতে এই হসপিটালে হয়ে আসছে অল্প টাকায় নানা ধরণের অপারেশন। জেলায় অসংখ্য ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার অবৈধভাবে পরিচালিত হলেও প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই লাইসেন্সসহ সকল প্রকার বৈধতা নিয়েই পরিচালিত হয়ে আসছিল এ হসপিটালটি। সম্প্রতি জানতে পারলাম লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও দায়িত্বরত ডাক্তার না থাকায় হসপিটালকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করাসহ সিলগালা করা হয়েছে। এ অপরাধে হসপিটালটির জরিমানা বিষয়টি মেনে নেয়া গেলেও সিলগালা করার বিষয়টি আমি মানতে পারছিনা। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ কারো প্ররোচনায় এটি করছেন কিনা এ নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ আমি। মহান নেতার নামে প্রতিষ্ঠিত হসপিটাল সিলাগালা করাটা কতটা যৌক্তিযুক্ত সে বিষয়টি দেখতে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
সরকারি এম এম আলী কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি ও আওয়ামীলীগ নেতা বিপ্লব আরেফিন খান বলেন, অভিযানের দিন আমি হসপিটালে উপস্থিত ছিলাম। মহান নেতার নামে প্রতিষ্ঠিত এ হসপিটালটিতে বিনা পয়সায় চিকিৎসাসহ অল্প টাকায় নানা ধরণের অপারেশনের সুবিধা পায় সাধারণ মানুষ, এ বিষয়টি আমি ভ্রাম্যামান আদালত কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছিলাম। হসপিটালটি সিলগালা না করে ত্রুটি সংশোধনের জন্য আমি সময় দেয়ার জন্যও অনুরোধ করেছিলাম, কিন্তু কর্তৃপক্ষ আমিসহ স্থানীয় অন্যান্যদের অনুরোধ না রেখে হসপিটালটি সিলগালা করেছেন।
তিনি বলেন, যে অপরাধে মহান নেতা শামসুল হকের নামে প্রতিষ্ঠিত হসপিটালটি সিলগালা করা হয়েছে, তার থেকে অনেক বেশি অপরাধ নিয়ে এই শহরেই চলছে অসংখ্য ক্লিনিক। অবৈধ ওই ক্লিনিক গুলো সচল রেখে শামসুল হক মেমোরিয়াল হসপিটাল সিলগালা করাটি খুবই দুঃখজনক। এছাড়াও ওই দিনের পরিচালিত অভিযানে আরো কয়েকটি ক্লিনিককে সময় দেয়া হলেও সিলগালা করা হয় শামসুল হক মেমোরিয়াল হসপিটারটি। দ্রুত প্রতিটি অবৈধ ক্লিনিককে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
শামসুল হক মেমোরিয়াল হসপিটাল সূত্রে জানা গেছে, ২০০৭ সালে লাইসেন্সসহ সকল প্রকার সরকারি নির্দেশনা মেনে টাঙ্গাইল পৌর শহরের থানাপাড়া শান্তি কুঞ্জের মোড়ে যাত্রা শুরু করে শামসুল হক মেমোরিয়াল হসপিটাল। ১৯১৬; ৪২২২ রেজিস্ট্রেশনকৃত ১০ শষ্যার এই হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করছেন তিনজন চিকিৎসক, একজন মেডিকেল এসিস্ট্যান্ট, চারজন নার্স, একজন ল্যাব টেকনেসিয়ানসহ তিনজন আয়া।
শামসুল হক মেমোরিয়াল হসপিটাল এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ডা. মো. সাইফুল ইসলাম স্বপন বলেন, ২০২০সালের জুন পর্যন্তÍ লাইসেন্স নবায়ন ফি জমা দেয়া আছে। কিন্তু বৈশ্বিক মহামারি করোনার কারণে সংশ্লিষ্ট অফিস কার্যক্রম এখনও আমি নবায়নের কাগজ হাতে পাননি। এর ফলে চলতি বছরের নবায়নও করা যায়নি। দ্রুতই চলতি বছরের নবায়ন করা হবে। আবেদন ও নবায়ন ফি জমা দেয়ার বিষয়টি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ অবগত ছিল। এরপরও নবায়নের জন্য সাতদিনের সময় চেয়েছিলাম। কিন্তু আমাকে সে সময়টুকু না দিয়ে হসপিটালের অপারেশন থিয়েটার, কেবিন, ওয়ার্ড সিলগালা করা হয়েছে। এরপরও হসপিটাল ভবনের ৪র্থ তলায় একজন স্টাফ সন্তান নিয়ে থাকেন তাকেও সেখান থেকে নামিয়ে দেয়া হয়েছে। যদিও ৪র্থ তলাটি হসপিটালের কোন অংশ না।
দেলদুয়ার উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা ক্লিনিক মালিক সমিতির সভাপতি লায়ন এম শিবলী সাদিক বলেন,পরিচালিত অভিযানের বিষয়ে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ আমাদের কিছুই অবগত করেননি। লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও দায়িত্বরত ডাক্তার না থাকার অপরাধে মহান নেতার নামে প্রতিষ্ঠিত শামসুল হক মেমোরিয়াল হসপিটালের জরিমানা করার বিষয়টি ঠিক ছিল। তবে সিলগালা না করে বৈধ কাগজ পত্র করার সময় দেয়াটাই যৌক্তিক ছিল বলে মনে করেন তিনি।
এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মো. সাহাবুদ্দিন খান বলেন , লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও দায়িত্বরত ডাক্তার না থাকায় শামসুল হক মেমোরিয়াল হসপিটালকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করাসহ সিলগালা করার নির্দেশ দিয়েছেন ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক। সেটি শুধুই ভ্রাম্যমান আদালতের বিষয়। ওই নির্দেশের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য বিভাগের কিছুই করার নেই। এরপরও হসপিটাল কর্তৃপক্ষ আমার কাছে এসেছিলেন আমি তাদের কাগজপত্র ঠিক করে আসতে বলেছি। কাগজপত্র ঠিক হলেই হসপিটাল চালু করার অনুমতি দেয়া হবে। এছাড়াও জেলায় অবৈধভাবে যে সকল ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালিত হচ্ছে সেগুলোতেও ধারাবাহিকভাবে অভিযান পরিচালিত হবে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রানুয়ারা খাতুনের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়। লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও দায়িত্বরত ডাক্তার না থাকায় শহরের শামসুল হক মেমোরিয়াল হসপিটালকে ১৫ হাজার টাকা ও সোনার বাংলা ক্লিনিক মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে দুটি ক্লিনিকই সিলগালা করা হয়। এ ছাড়াও ফাতেমা ক্লিনিক ও রোকেয়া আইকেয়ার সেন্টারকে ১৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করে বৈধ কাগজ পত্র করার জন্য সাত দিনের সময় দেয়া হয়েছিল।