একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে অপহরণ ও চাঁদাবাজি মামলায় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৪ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে সদর থানা পুলিশ।
রবিবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে শনিবার (২৭ এপ্রিল) রাতে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের হাতিলা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
রবিবার দুপুরে অপহরণ, ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করাসহ নগদ ৫’শ টাকা আদায়ের অভিযোগে ৮ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী যুবক মো. রুবেল রানা।
গ্রেপ্তারকৃতরা সবাই সরকার দলীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
আটককৃতরা হলেন- সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা ও হাতিলা গ্রামের ধীনেশ সরকারের ছেলে প্রশান্ত সরকার (৩৫), ইউনিয়ন ছাত্রীগের সাধারণ সম্পাদক ও হাতিলা গ্রামের জহুর উদ্দিনের ছেলে রিপন মিয়া (৩০), ধীরেন চন্দ্র মন্ডলের ছেলে প্রতিক কুমার সরকার (২৩), অজিবর রহমানের ছেলে রিমন মিয়া (২১)।
মামলার অন্যান্য আসামীরা হলেন- আইনুদ্দিনের ছেলে সবুজ (২১), চাঁদ মাহমুদের ছেলে রনি (২৩), জুলহাস মিয়ার ছেলে রাব্বি (২১) ও আজগর আলীর ছেলে সুজন (২১)।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ লোকমান হোসেন।
তিনি জানান, পাশের কালিহাতী উপজেলার বিনোদ লুহুরিয়া গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে মো. রুবেল রানা হাতিলা গ্রামের শশুর কান্দু মিয়ার বাড়িতে যাওয়ার পথে শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাকে অপহরণ করেন আটককৃতরা। মুক্তিপণের জন্য রাত প্রায় দেড়টা পর্যন্ত অপহৃতের উপর অমানুষিক নির্যাতন চালায় তারা। এ সময় অপহৃত রুবেলের কাছে থাকা ৫’শ টাকা ছিনিয়ে নেয় অপহরণকারীরা। ঘটনাটি রাতেই অপহৃতের ভাই বাবু পুলিশকে জানায়। পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে অপহৃত রুবেলকে উদ্ধার করাসহ অভিযুক্তদের আটক করে। রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অপহৃত রুবেল নিজে বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা অপরহণ ও চাঁদা দাবির বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলেও জানান ওসি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মরিয়ম আখতার মুক্তা হিট স্ট্রোকে মৃত্যুবরণ করেছেন। প্রার্থীর স্বামী আরিফুর রহমানের দাবি, প্রচণ্ড গরমে তার স্ত্রী হিট স্ট্রোকে মারা গেছেন।
রবিবার (২৮ এপ্রিল) সকালে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের উপসচিব মো. আতিয়ার রহমানের এক ঘোষণায় উপজেলা পরিষদের সব পদের নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করেছে।
ঘোষণায় বলা হয়, যষ্ঠ উপজেলা পরিষদের প্রথম ধাপে ৮ মে ২০২৪ তারিখে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলা পরিষদের নির্বাচন হওয়ার কথা। কিন্তু ভোটগ্রহণের পূর্বে মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে একজন বৈধ প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় সব পদের নির্বাচন স্থগিত করা হলো। পুনঃতফসিল ঘোষণার মাধ্যমে চতুর্থ ধাপে ৫ জুন ২০২৪ তারিখে এ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ইতিপূর্বে যারা মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন তাদের নতুন করে মনোনয়ন দাখিলের প্রয়োজন হবে না। তবে পূর্বে মনোনয়নপত্র দাখিলকারীদের প্রত্যাহারের সুযোগ দেওয়া যাবে। চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে পূর্বের মনোনয়ন বহাল থাকবে এবং উক্তপদের বিদ্যমান প্রার্থীদের মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। শুধু মাত্র মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নতুনভাবে মনোনয়নপত্র দাখিল করা যাবে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার(২৬ এপ্রিল) হিট স্ট্রোকে মারা যান দুই দুইবার নির্বাচিত মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান মরিয়ম আখতার মুক্তা। আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর এবং সাবেক এমপি হাতেম আলী তালুকদারের নাতনি মরিয়ম আখতার মুক্তা এবারও একই পদে নির্বাচনী মাঠে ছিলেন।
গোপালপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচর্নে চেয়ারম্যান পদে ৫ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১ জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন জেলা রিটার্নিং অফিসার। এর মধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন ভাইস চেয়ারম্যান পদে একমাত্র প্রার্থী মারুফ হাসান জামী।
একতার কণ্ঠঃ নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আলমগীর সাফ বলে দিয়েছেন, একজন সংসদ সদস্য তার নির্বাচনী এলাকায় অবশ্যই যেতে পারবেন। তবে কোনো প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না।
তিনি বলেন, ভোটের দিন স্থানীয় সংসদ সদস্যরা কেন্দ্রে গিয়ে অবশ্যই তার ভোট দিতে পারবেন। কিন্তু কোনো প্রার্থীকে সঙ্গে নিয়ে কেন্দ্রে যেতে পারবেন না।
বুধবার (২৪ এপ্রিল) বিকালে ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রথম ধাপে টাঙ্গাইল জেলার তিনটি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ইসি বলেন, যে কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে- সেখানে যদি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে অথবা সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ না থাকে, তাহলে সেখানে যে প্রিজাইডিং অফিসার আছেন, তিনিই নির্বাচন বন্ধ করতে পারবেন। তিনি যদি কোনো কারণে বন্ধ করতে না পারেন অথবা কারো সঙ্গে তার আঁতাত হয়ে যায় যে বন্ধ করবেন না- সেক্ষেত্রে আমাদের যারা রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার থাকবেন, তারাই নির্বাচন বন্ধ করতে পারবেন। আর এমন যদি হয়, উপজেলা নির্বাচনের কোনো কেন্দ্রেই নির্বাচন সুষ্ঠু করা যাচ্ছে না- তাহলে পুরো নির্বাচনটাই বন্ধ করে দিতে পারবে নির্বাচন কমিশন।
তিনি বলেন, যদি কোনো প্রার্থী বা তার সমর্থক অন্য কোনো প্রার্থী বা সমর্থককে আক্রমণ করেন, আগুন জ্বালিয়ে দেন বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেন। যেগুলোকে ফৌজদারি অপরাধ বলে- সে বিষয়ে শাস্তি আরও কঠিন হবে। এক্ষেত্রে নির্বাচনী আচরণবিধি যথেষ্ট না, আরও নির্বাচনী আইন আছে। সেই আইনের অধীনে ফৌজদারি অপরাধগুলোর ক্ষেত্রে আমাদের অফিসার এবং পুলিশও মামলা করতে পারবেন। আমাদের অনুমতির প্রয়োজন হবে না।
ইসি আলমগীর বলেন, এ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সবাই থাকবে- শুধু সেনাবাহিনী থাকবে না। সেনাবাহিনী শুধু জাতীয় নির্বাচনে রাখা হয়। জাতীয় নির্বাচন সারা দেশে একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়। সেক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কম থাকে- সেজন্য সেনা মোতায়েন করা হয়। উপজেলা নির্বাচন কয়েকটি ধাপে হবে। তাই জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চেয়ে এ নির্বাচনে প্রতিটি কেন্দ্রে বেশি সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরি সদস্য আমরা অনুমোদন দিয়েছি।
টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. কায়ছারুল ইসলাম। এসময় টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মতিয়ুর রহমানসহ টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী, মধুপুর ও গোপালপুর উপজেলার চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের একই স্থানে একই সময়ে সমাবেশকে কেন্দ্র করে শহরে উত্তেজনার প্রেক্ষিতে কোন পক্ষকেই সমাবেশ করতে দেয়নি জেলা প্রশাসন।
জেলা আওয়ামী লীগের দুই পক্ষ, সচেতন নাগরিক সমাজ ও জেলা শ্রমিক ফেডারেশনের ব্যানারে বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে একই সময় সমাবেশের আহ্বান করায় বর্তমানে শহরে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় সমাবেশ হওয়ার কথা থাকলেও বিবাদমান দুই গ্রুপের কাউকেই শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে সমাবেশ স্থলে ঢুকতে দেয়নি পুলিশ। ফলে টাঙ্গাইলে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষ যথাক্রমে পৌরসভার সামনে ও থানা পাড়া ‘রবি’ অফিস মোড়ে এবং পূর্ব আদালত পাড়া মোড়ে তাদের কর্মী-সমর্থকদের জমায়েত করে সংক্ষিপ্ত পথ সমাবেশ করে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই সমাবেশ স্থলে ও শহরের মোড়ে মোড়ে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। এছাড়া এ সমাবেশকে কেন্দ্র করে কোন প্রকার বিশৃঙ্খলা এড়াতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড় গুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এছাড়া পুলিশ, ডিবি ও র্যাবের ভ্রাম্যমান টহল দল শহরময় প্রদক্ষিণ করে। সকালে আওয়ামী লীগের একটি গ্রুপ টাঙ্গাইল পৌর ভবনের সামনে জমায়েত হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশি বাধায় তা পন্ড হয়ে যায়।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. লোকমান হোসেন জানান, টাঙ্গাইল শহরের পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার জানান, দুই পক্ষ একই স্থানে সমাবেশ ডাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা থাকায় কোন পক্ষকেই সমাবেশ না করতে দেয়ার বিষয়ে আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি। জনজীবন স্বাভাবিক রাখতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, একটি অংশ ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত দলের শহর শাখা থেকে সদ্য অব্যাহতিপ্রাপ্ত গোলাম কিবরিয়া বড় মনিরের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে ‘টাঙ্গাইলের সচেতন নাগরিক সমাজ’ এর ব্যানারের এই সমাবেশের আহ্বান করে। এর নেতৃত্বে রয়েছেন টাঙ্গাইল পৌর মেয়র ও শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি এস.এম সিরাজুল হক আলমগীর, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শাহজাহান আনছারী, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুজ্জামান সোহেল প্রমুখ।
অপর পক্ষ “জেলা শ্রমিক ফেডারেশন” এর ব্যানারে বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদের হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে একই দিন একই সময় শ্রমিক সমাবেশের আহ্বান করে। এর নেতৃত্বে রয়েছেন, জেলা শ্রমিক ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বালা মিয়া, ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান ওরফে ছোট মনির এমপি ও ফেডারেশনের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান ওরফে আমিন প্রমুখ।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল শহরের বিভিন্ন স্থানে বুধবার (১৭ এপ্রিল) রাতে অন্তত ৬টি বিষ্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
রাত ৯টা ২৭ মিনিটে শহরের পৌর ভবনের সামনে দুটি, শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানের পূর্ব পাশের কোনায় একটি, শিবনাথ উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে একটি ও টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় ঈদগাহ্ ময়দানে দুটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
বিকট শব্দে দফায় দফায় বিষ্ফোরণের পর সাধারণ মানুষ দিদ্বিদিক ছোটাছুটি শুরু করে। এসময় নিরালা মোড়সহ শহর ফাঁকা হয়ে যায়। মানুষের মধ্যে তৈরি
হয় আতঙ্ক।
পরে পুলিশের একটি দল পৌর ভবনের সামনে থেকে অবিষ্ফোরিত তিনটি তাজা বিষ্ফোরক উদ্ধার করে।
বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে আওয়ামী লীগের দুইপক্ষের একই সময়ে দুটি সমাবেশ আহবান করা হয়। সেই ঘটনার প্রেক্ষিতে আতঙ্ক তৈরি করার লক্ষ্যে একটি পক্ষ এমন ঘটনা ঘটাতে পারে বলে অনেকে ধারণা করছেন।
এই ঘটনার পর বৃহস্পতিবার সকালে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের ডাকা রাজনৈতিক মিছিল ও সমাবেশ বাতিল করা হয়েছে বলেন জানান টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার।
বিষ্ফোরণের ঘটনার পর শহরে পুলিশ ও বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া শহরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত
পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত সাড়ে নয়টার দিকে দুটি মোটরসাইকেলে চারজন হেলমেট পরিহিত আরোহী পৌর ভবনের সামনে এসে হঠাৎ দুটি বিষ্ফোরণ ঘটায়। এসময় তারা আরো তিনটি বিষ্ফোরক ছুড়লেও তা বিষ্ফোরিত হয়নি। পরে একটি মোটরসাইকেল বিন্দুবাসিনী বালক বিদ্যালয়ের পেছনের সড়ক দিয়ে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় ঈদগাহ’র দিকে চলে যায়। অপর মোটরসাইকেলটি ক্লাব রোড হয়ে পুরাতন বাসস্ট্যান্ডের দিকে চলে যায়।
তারা আরও জানায়, পরে পুলিশ এসে টাঙ্গাইল পৌর ভবনের সামনে থেকে তিনটি অবিষ্ফোরিত বিষ্ফোরক উদ্ধার করে এবং বিষ্ফোরণের আলামত সংগ্রহ করে।
এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল সদর থানার পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাকিব বলেন, কে বা কাহারা মোটরসাইকেল যোগে এসে পৌর ভবনের সামনে দুটি বিষ্ফোরণ ঘটিয়েছে। এছাড়া এখান থেকে তিনটি অবিষ্ফোরিত বিষ্ফোরক উদ্ধার করে নিষ্ক্রিয় করার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এগুলো ককটেল নাকি অন্য বিষ্ফোরক তা খতিয়ে দেখা হবে।
এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়ছার বলেন, আওয়ামী লীগের দুটি গ্রুপের বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে আমার কাছে মিছিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন করে। রাতে শহরের বিভিন্ন স্থানে বিষ্ফোরণ ঘটনার পর তাদের মিছিলের অনুমোদি বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। শহরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। এছাড়াও শহরের বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, যারা এই বিষ্ফোরণ ঘটনার সাথে জড়িত তাদের সনাক্ত করে গ্রেপ্তারের অভিযান শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, টাঙ্গাইলে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষ ‘পৃথক দুটি ব্যানারে’ বৃহস্পতিবার একই স্থানে একই সময়ে সমাবেশের আহ্বান করেছে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে চলছে উত্তেজনা। এক পক্ষ টাঙ্গাইলের সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে একটি সমাবেশ আহ্বান করেছেন। তাঁরা ধর্ষণ মামলার আসামি শহর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পদ থেকে সদ্য অব্যাহতি প্রাপ্ত গোলাম কিবরিয়া ওরফে বড় মনিকে গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি করছে।
অপর পক্ষ জেলা শ্রমিক ফেডারেশনের ব্যানারে একই দিন একই সময় শ্রমিক সমাবেশের আয়োজন করে। এর নেতৃত্বে রয়েছেন জেলা শ্রমিক ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বালা মিয়া, ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান ওরফে ছোট মনির ও ফেডারেশনের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান ওরফে আমিন।
তানভীর হাসান টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসন থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগ থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত সহ-সভাপতি গোলাম কিবরিয়া তাঁর ভাই।
টাঙ্গাইলের সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারের নেতৃত্বে রয়েছেন টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র ও শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম সিরাজুল হক, সদর উপজেলা
পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শাহজাহান আনছারী, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুজ্জামান সোহেল।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বড় মনিরকে দলীয় পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তাকে চুড়ান্ত অব্যাহতির জন্য দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের কাছে সুপারিশ করেছে শহর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।
এছাড়াও গোলাম কিবরিয়া বড় মনির জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব ও টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনিরের বড় ভাই।
ওই আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে ঢাকার তুরাগ থানায় গত ২৯ মার্চ ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা করেন এক নারী। এজন্য দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হওয়ায় তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতারা।
এরআগেও টাঙ্গাইলে এশা মির্জা নামের আরেক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের মামলা রয়েছে বড় মনিরের বিরুদ্ধে। ওই মামলায় তিনি উচ্চ আদালতে জামিনে রয়েছেন।
টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র এসএম সিরাজুল হক এবং সাধারণ সম্পাদক এম এ রৌফ স্বাক্ষরিত অব্যাহতি পত্র পাঠানো হয়েছে। দলের ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আযমের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের কাছে পাঠানো হয়েছে।
দলীয় সাধারণ সম্পাদককে দেওয়া ওই চিঠিতে বলা হয়েছে “ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের হওয়ার পর ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তার এই অনৈতিক কর্মকান্ডে দলীয় ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুন্ন হয়েছে এবং এ কারনে টাঙ্গাইলের সাধারণ জনগন দলের প্রতি বিরূপ ধারনা পোষন করছে। এমতবস্থায় টাঙ্গাইল জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের পরামর্শ ও নির্দেশক্রমে দলের বৃহত্তর স্বার্থে এবং সুনাম ও ভাবমূর্তি বজায় রাখার নিমিত্তে গোলাম কিবরিয়া বড় মনিরকে টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি প্রদান করা হলো এবং চুড়ান্ত অব্যাহতি প্রদানের জন্য আপনার নিকট সুপারিশ করা হলো।
এদিকে ঢাকায় ধর্ষণ মামলা দায়ের পর দিন থেকেই আত্মগোপনে রয়েছেন বড় মনির। জেলার কোন অনুষ্ঠানে বা দলীয় কোন কর্মকান্ডে তাকে পাওয়া যায় না।
টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ রৌফ বলেন, ঈদের আগে দলের সাধারণ সম্পাদকের কাছে গোলাম কিবরিয়াকে চুড়ান্ত অব্যাহতি প্রদানের জন্য সুপারিশ করে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে সাধারণ সম্পাদকের কোন সিদ্ধান্ত এখনো পাওয়া যায়নি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে এশিয়ান টেলিভিশনের স্থানীয় প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম শাফলুর উপর হামলা চালিয়ে মাথা ফাটিয়েছেন প্রভাবশালী এক আওয়ামী লীগ নেতা।
সোমবার (১৫ এপ্রিল) সকালে উপজেলার পৌর এলাকার উপজেলা রোডের মনির উদ্দিন কমপ্লেক্সে এই হামলার ঘটনাটি ঘটে।
এ ঘটনায় ওই আহত সাংবাদিক বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গুরুতর আহত ওই সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম শাফলু অনলাইন নিউজ পোর্টাল নিউজ টাঙ্গাইলের সম্পাদক ও দৈনিক মজলুমের কন্ঠ পত্রিকার সখীপুর প্রতিনিধি।
জানা যায়,সখীপুর পৌর এলাকার উপজেলা রোডের মনির উদ্দিন কমপ্লেক্সের একটি রুম ভাড়ার চুক্তিপত্র নিয়ে কথা কাটাকাটি এক পর্যায়ে সাংবাদিক শাফলুর মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করে ঐ কমপ্লেক্সের মালিক ও আওয়ামী লীগনেতা মনির উদ্দিন মন্টু।ঘটনাস্থলে ওই সাংবাদিক জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করান।মাথায় আঘাত পাওয়ায় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় রেফার্ড করবেন বলে জানিয়েছেন তার চিকিৎসক।
মনির উদ্দিন কমপ্লেক্সের ভাড়াটিয়া বলেন, এ ভবনের মালিক বদ মেজাজি তার আচরণ অত্যন্ত বাজে। তার বিচার হওয়া প্রয়োজন।
এই ঘটনায় অভিযুক্ত মনির উদ্দিন মন্টু ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, রুমের চুক্তিপত্র নিয়ে দ্বন্দের এক মুহূর্তে মাথায় আঘাত করে ফেলেছি।
সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)শেখ শাহিনুর রহমান বলেন, আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
একতার কণ্ঠঃ এবার অস্ত্রের মুখে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে টাঙ্গাইলের আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম কিবরিয়া ওরফে বড় মনির বিরুদ্ধে। পরে ভুক্তভোগী ওই তরুণী বাদী হয়ে রাজধানীর তুরাগ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
তুরাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মোস্তফা আনোয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।
এরআগে শুক্রবার (২৯ মার্চ ) রাতে জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ এ কল পেয়ে পুলিশ রাজধানীর তুরাগ থানায় প্রিয়াংকা সিটি আবাসিক এলাকায় বড় মনিরের ফ্ল্যাট থেকে ওই কলেজছাত্রীকে উদ্ধার করে। তাকে জোর করে ওই বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী।
পুলিশের ভাষ্য, বড় মনির ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছেন।
ওই শিক্ষার্থী মামলায় অভিযোগ করেন, ফেসবুকে বড় মনিরের সঙ্গে পরিচয় হয় তার। প্রথম পর্যায়ে হাই-হ্যালো হতো। এক পর্যায়ে বড় মনির ভুক্তভোগীকে ছোট বোন বলে সম্বোধন করে। এরপর তার সঙ্গে ছাত্রীর হোয়াটসঅ্যাপে অডিও-ভিডিওতে কথা হতো।
বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) ইফতারের পর বড় মনির ভুক্তভোগী ছাত্রীকে মেসেজ দিয়ে জমজম টাওয়ারের সঙ্গে এপেক্স শোরুমের সামনে থাকতে বলেন। সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিটের সময় এপেক্স শো-রুমের সামনে অপেক্ষা করি। এর ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর বড় মনির রিকশা নিয়ে আসে এবং রিকশায় উঠতে বলে। ভুক্তভোগী ছাত্রী তার সঙ্গে রিকশায় ওঠেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে তুরাগের প্রিয়াংকাসিটির ৬ নম্বর রোডের ৭ নম্বর বাসার পশ্চিম পাশের ফ্ল্যাটের তৃতীয় তলার উত্তর-পশ্চিম পাশের রুমের ভেতর নিয়ে যান। এরপর রুমের দরজা বন্ধ করে ধর্ষণ করেন।
এরপর ভুক্তভোগী ছাত্রী তার বাবাকে ফোন দেন। তার বাবা ঘটনা শুনে ৯৯৯ এ ফোন দেন। পরে তুরাগ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
উল্লেখ্য, বড় মনির জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব এবং টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ওরফে ছোট মনিরের বড় ভাই। এর আগেও টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বড় মনিরের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা রয়েছে। ওই মামলায় বর্তমানে জামিনে আছেন তিনি।
একতার কণ্ঠঃ ৩১ বার তোপধ্বনি, পুষ্পস্তবক অর্পন, শহিদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংঙ্গীত পরিবেশনসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের আয়োজনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করা হয়েছে।
২৬ মার্চ (মঙ্গলবার) সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে শহিদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভ চত্বরে ৩১ বার তোপধ্বনি ও শহিদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
রাষ্ট্রের পক্ষে প্রথমে শহিদদের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানান জেলা প্রশাসক মো. কায়ছারুল ইসলাম। এরপর জেলা পুলিশের পক্ষে পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, জেলা পরিষদের পক্ষে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার ফরহাদ আহমেদ, পৌরসভার পক্ষে মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর, স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষে সিভিল সার্জন ডা. মো. মিনহাজ উদ্দিন মিয়া, উপজেলা পরিষদের পক্ষে চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের পক্ষে এডভোকেট জাফর আহমেদসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো হয়।
এরপর শহরের শহিদ স্মৃতি পৌরউদ্যানে পুষ্পস্তবক অর্পন ও শহিদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। সকাল সাড়ে ৮ টায় টাঙ্গাইল জেলা স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে সমাবেশ, আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংঙ্গীত পরিবেশিত হয়। এছাড়াও বাংলাদেশ পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং বিএনসিসি সমন্বয়ে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল ১০ টায় শহিদ স্মৃতি পৌরউদ্যানে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ মুক্তিযোদ্ধাদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
আলোচনা সভায় জেলা প্রশাসক মো. কায়ছারুল ইসলামের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. ছানোয়ার হোসেন, পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খন্দকার আশরাফউজ্জামান স্মৃতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার জহিরুল হক ডিপটি, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট জাফর আহমেদ প্রমুখ।
এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান বিন মোহাম্মদ আলী।
দিবসটি উপলক্ষে বাদ যোহর ও সুবিধাজনক সময়ে জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে মসজিদ, মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে মোনাজাত ও প্রার্থনা করা হয়। এছাড়া হাসপাতাল, জেলখানা, সরকারি শিশু পরিবার, ভবঘুরে প্রতিষ্ঠান ও শিশু দিবা যত্ম কেন্দ্র সমূহে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে জেলা বিএনপি’র উদ্যোগে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (২৪মার্চ) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল শহরের পশ্চিম আকুর টাকুর পাড়া ঈদগাহ্ মাঠে প্রায় পাঁচ শতাধিকের বেশি রোজাদারদের উপস্থিতিতে এ ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে ভিডিও কনফারেন্সের মাদ্যমে নেতাকর্মীদের উদ্যেশ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপি’র সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহিন এর সভাপতিত্বে ও সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবালের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বেনজির আহম্মেদ টিটো, বিএনপি’র ঢাকা বিভাগীয় নির্বাহী কমিটির শিশু বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী প্রমূখ।
আলোচনা সভা শেষে দোয়া মাহফিলে বিএনপি’র চেয়ারপারসন সাবেক প্রধান মন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করে এবং তারেক রহমানসহ দলীয় নেতাকর্মীদের দীর্ঘায়ু কামনা করে ও নিহত সকল নেতাকর্মীদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
এসময় বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গসহযোগী সংগঠণের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ বধ্যভূমিতে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে টাঙ্গাইলে যথাযথ মর্যাদায় গণহত্যা দিবস পালিত হয়েছে।
সোমবার (২৫ মার্চ) সকালে পৌর শহরের জেলা সদর পানির ট্যাংকের পাশে অবস্থিত বধ্যভূমিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জেলা প্রশাসক কায়ছারুল ইসলাম।
এরপর জেলা পুলিশের পক্ষে পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, জেলা পরিষদের পক্ষে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার ফরহাদ আহমেদ, সিভিল সার্জন ডা. মিনহাজ উদ্দিন মিয়াসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
পরে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা প্রশাসক কায়ছারুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক শিহাব রায়হান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জিয়াউল রহমান চৌধুরী, সিভিল সার্জন ডা. মিনহাজ উদ্দিন মিয়া, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খন্দকার আশরাফউজ্জামান স্মৃতি, মুক্তি যোদ্ধা সংসদ টাঙ্গাইল জেলা ইউনিটের সাবেক ডেপুটি জেলা কমান্ডার আবুল কালাম আজাদ (বীরবিক্রম), টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ প্রমুখ।
এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা দিনব্যাপী বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি পালন করছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ইসলামিক রিসার্স ইনস্টিটিউট (আইআরআই) ও সোস্যাল ডেভেলপমেণ্ট সংসদের
(এসডিএস) জমিতে মাটি কাটার অভিযোগে একটি ভেকু ও ৫টি মাটি কাটার ট্রাক জব্দ করেছে পুলিশ।
রবিবার (২৪ মার্চ) দুপুরে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চারাবাড়ি ঘাট এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের খবর পেয়ে ভেকু ও ট্রাকের চালক পালিয়ে যায়।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লোকমান হোসেন জানান, জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে প্রভাব খাটিয়ে মাটি কেটে আসছিল। এ বিষয়ে একটি মামলা দায়ের করা হয়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে একটি ভেকু ও ৫টি মাটি কাটার ট্রাক জব্দ করে।
এ বিষয়ে জেলা জাপার সাধারণ সম্পাদক হাজী মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, আমি মাটি কেটে সামনের রাস্তার ভরাট করছিলাম। যাতে করে ওই স্থানে কোন কারখানা গড়ে তুলতে পারি। পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়।
উল্লেখ্য, ইসলামিক রিসার্স ইনস্টিটিউট ও এসডিএসের ৭১২ শতাংশ জমিতে দীর্ঘদিন ধরে জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক অবৈধভাবে মাটি কেটে বিক্রি করে আসছিল। এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের যুগ্ম-জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলা করেছেন প্রতিষ্ঠান দুটির চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন সিরাজী। এছাড়া থানায়ও অভিযোগও দেওয়া হয়।
সদর উপজেলার পোড়াবাড়ী ও গদুরগাতি মৌজার ৭১২ শতাংশ ভূমি ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ইসলামিক রিসার্স ইনস্টিটিউট (আইআরআই) ও সোস্যাল ডেভেলপমেণ্ট সংসদ (এসডিএস) এর মালিকানাধীন। জমিগুলো ব্যাংকে মর্টগেজ রেখে ঋণ নেওয়া হয়। নানাবিধ কারণে মামলার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠান দুটির সভাপতি ও চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন সিরাজী ২০০২ সালে গ্রেপ্তার হন। ওই সময় দুটি প্রতিষ্ঠানের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি বা হস্তান্তরের উপর টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।