টাঙ্গাইলে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের কোটি টাকা নিয়ে ছাত্রলীগ নেতা উধাও


০৮:০০ পিএম, ২৪ জুন ২০২১
টাঙ্গাইলে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের কোটি টাকা নিয়ে ছাত্রলীগ নেতা উধাও - Ekotar Kantho

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে বাসাইল উপজেলার ফুলকী ইউনিয়নে আইসড়া বাজারে ডাচ্-বাংলা এজেন্ট ব্যাংকিং এর এজেন্ট গ্রাহকের কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এজেন্টের নাম সারোয়ার হোসেন সবুজ। সে বাসাইল উপজেলার ফুলকী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি।অভিযুক্ত সবুজ ফুলকী ইউনিয়নের আইসড়া গ্রামের মারিফত মিয়ার ছেলে।

এ  ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) সকালে গ্রাহকরা তাদের টাকা ফেরতের দাবীতে আইসড়া বাজারে অবস্থিত আইসড়া ডাচ্-বাংলা এজেন্ট ব্যাংকিং বুথ ঘেরাও করে মিছিল সমাবেশ করেছে।

জানা যায়, তিন বছর আগে ডাচ্-বাংলা কেন্দ্রীয় ব্যাংক আইসড়া বাজারে এজেন্ট ব্যাংকিং বুথ চালু করে। বাসাইলের ফুলকী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সবুজ এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন। বাজারে একটি দালান ভাড়া নিয়ে এজেন্ট ব্যাংকিং শুরু করেন। আইসড়া গ্রাম তাঁত সমৃদ্ধ এবং অনেক মানুষ প্রবাসী হওয়ায় তাদের স্ত্রী এবং তাদের পরিবারকে টার্গেট করেন সবুজ। ব্যাংকিং নীতিমালা উপেক্ষা করে সাধারণ রেটের চেয়ে উচ্চ হারের রেটের প্রলোভন দেখিয়ে ব্যাংকে টাকা জমা রাখতে প্রলুব্ধ করেন। অতি মুনাফার আশায় গ্রামের অনেক মানুষ বিদেশ থেকে পাঠানো টাকা  এবং আইসড়া বাজারের ব্যবসায়ীরা এজেন্ট ব্যাংকে টাকা জমা রাখেন।

অতি সম্প্রতি জমাকৃত টাকা উত্তোলন করতে গিয়েস গ্রাহকরা দেখেন তাদের জমানো টাকা ব্যাংক হিসেবে নেই। এজেন্ট সবুজের কাছে টাকা বিষয়ে জানতে চাইলে সে বিভিন্ন গ্রাহকে টাকার দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে টালবাহানা  শুরু করেন  এবং গ্রাহকেদের  ঘুরাতে থাকেন। টাকা না পেয়ে গ্রাহকরা বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেন। তাদের জমানো টাকা পাওয়ার আশায় বাজারে সালিশী বৈঠক বসান। সেখানে সবুজ টাকা ফেরত দেয়ার প্রতিশ্রতি দেন। হঠাৎ করে গত সাতদিন ধরে সবুজ এজেন্ট  ব্যাংকিং বন্ধ করে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় গ্রাহকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে মিছিল সমাবেশ করেন।

সরেজমিন তথ্য নিয়ে জানা গেছে, গ্রাহক রুম্পা বেগমের ১৪ লাখ টাকা, আফজাল হোসেনের ৯ লাখ টাকা, রাজু আহমেদের ৭ লাখ টাকা, জলি বেগমের পৌঁনে ৪ লাখ টাকা, বাজারের চা বিক্রেতা আবুল হোসেনের ১ লাখ টাকা, ইতি খানের ৪০ হাজার টাকাসহ অসংখ্য গ্রাহকের প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে গেছে এজেন্ট সবুজ।

ক্ষুব্ধ দোকানদার রাজু বলেন, তিনি পাঁচ লাখ জমা দিয়ে প্রতারিত হয়েছেন। ডাচ্-বাংলা  এজেন্ট ব্যাংকিং এর  টাঙ্গাইল অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা এর পেছনে জড়িত রয়েছে। তা নাহলে সবুজ জমাকৃত কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সাহস পেত না। আত্মসাতের সাথে জড়িতদের বিচার ও টাকা ফেরতের দাবি জানান তিনি।

গ্রাহক ইতি খান অভিযোগ করে বলেন, তিনি বিশ্বাস করে ব্যাংকে টাকা রেখেছেন। সবুজ এমন প্রতারণা করবে বুঝতে পারেননি তিনি। প্রথম যখন তিনি টাকা  জমা রাখতেন  তখন মোবাইলে এসএমএস আসতো। পরবর্তীতে ব্যাংকে টাকা জমা দিলে এসএমএস আসতো না। এ বিষয়ে ব্যাংকে জানালে তারা বলতো সার্ভার বিকল হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্থ আফজাল হোসেন বলেন, বিদেশে থেকে পাঠানো ৯ লাখ টাকা তার মা ও স্ত্রী জমা রেখেছে। উচ্চ হারের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের টাকা জমা রাখতে বাধ্য করেছে। তারাও গ্রামের ছেলে হিসেবে সবুজকে বিশ্বাস করেছে। দেশে এসে টাকা উঠাতে গেলে জানতে পারেন টাকা নিয়ে পালিয়েছে সবুজ।

এ প্রসঙ্গে  ফুলকী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, গ্রাহকের টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে গত তিন দিন আগে আইসড়া বাজারের সকল গ্রাহক, ব্যাংকের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বাজার কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং পলাতক সবুজের বাবাকে নিয়ে সালিশী বৈঠকে বসা হয়। সবুজের বাবা তার সম্পতি বিক্রি করে গ্রাহকের টাকা পরিশোধের রাজি হন। সকলের উপস্থিতিতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের হিসাবের ভিত্তিতে সবুজের বাবা  টাকা পরিশোধ করবেন বলে  সালিশি বৈঠকে জানান।

বাসাইল উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কামরান খান বিপুল বলেন, সবুজ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি। সে একটি ব্যাংকের এজেন্ট ছিল। বহু গ্রাহকের টাকা নিয়ে পালিয়েছে বলে শুনেছি। এ ঘটনায় তাকে পদ থেকে অব্যহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত  নিয়েছে উপজেলা ছাত্রলীগ। উপযুক্ত প্রমাণ পেলে, তাকে সংগঠন থেকে বহিস্কার ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

টাঙ্গাইল ডাচ্-বাংলা এজেন্ট ব্যাংকিং অফিসের ব্যবস্থাপক আব্দুর রউফ  বলেন, বিষয়টি নিয়ে ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ একটি বৈঠক করেছে। স্থানীয় লোকজনকে সাথে নিয়ে গ্রাহকদের টাকা পরিশোধের চেষ্টা করা হচ্ছে।

 


নিউজটি শেয়ার করুন

কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।