একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলায় মহিলা চোর চক্রের চার সদস্যকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) বিকালে তাদের বাসাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন, আনজু বেগম (২৯), অনিতা (২০), আকলিমা (১৮), মনিকা (১৮)।আটককৃত সকলেই জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার হারগীললা গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ সূত্রে জানাযায়, বাসাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কয়েকজন মহিলার স্বর্ণালংকার, টাকা-পয়সা ও মোবাইল ফোন খোয়া যায়। অপরিচিত চার-পাঁচ জন মহিলার চলাফেরা স্থানীয়দের কাছে সন্দেহজনক মনে হলে তাদেরকে আটক করে তারা। এ সময় ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে চুরির সাথে সম্পৃত্তের কথা স্বীকার করে আটককৃত মহিলারা। পরে থানায় খবর দিলে পুলিশ গিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে ।
এ প্রসঙ্গে বাসাইল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুনুর রশিদ জানান, গ্রেপ্তারকৃত প্রত্যেকেই পেশাদার চোর। তারা একটি চোর চক্রের সাথে জড়িত। এই চক্রটি হাসপাতাল, বাজার, বাসস্ট্যান্ড এবং জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে চুরি করে থাকে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্ততি চলছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় বনের ভেতর গড়ে উঠেছে পুরোনো ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা তৈরির কারখানা। উপজেলার লক্ষ্মণেরবাধা বা ভূঁইয়া বাড়ির মোড় এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে এ কারখানা। কারখানার বিষাক্ত ধোঁয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে এলাকার পরিবেশ ও বনভূমি।
কারখানার চারপাশে বন বিভাগের সামাজিক বনায়নের গাছসহ বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক গাছপালায় ঘেরা ঘন জঙ্গল। আশপাশে রয়েছে মানুষের বসতি। স্থানটি নিরাপদ ভেবে পুরোনো ব্যাটারি পুড়িয়ে তৈরি করা হচ্ছে সিসা।
কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মালিকপক্ষ ব্যাটারি সংগ্রহ করে এখানে নিয়ে আসে। অন্য কোথাও গলানোর জায়গা না পেয়ে বনের ভেতর কাজ শুরু করেন তারা। এ কাজ চলছে বছরখানেক ধরে। প্রতিদিন ব্যাটারি পোড়ানো হয় প্রায় ৬ টন। প্রতিটি পুরোনো ব্যাটারি ক্রয় করা হয় প্রায় পাঁচ হাজার টাকায়। কারখানার মালিক প্রভাবশালী হওয়ায় ভয়ে মুখ খুলতে পারে না এলাকাবাসী।
ব্যাটারি পোড়ানোর সময় তাদের শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। শ্বাসকষ্টসহ এলাকার মানুষের দেখা দিচ্ছে নানা ধরনের রোগ। ক্ষতি হচ্ছে বনের। ভারসাম্য হারাচ্ছে পরিবেশ।
আশপাশের তিন ইউপি সদস্য লিয়াকত হোসেন, ওয়াজেদ আলী ও সফিউল ইসলাম স্বীকার করেননি যে কারখানা স্থাপনের ওই এলাকা তাদের নির্বাচনী এলাকার মধ্যে। তবে তিনজনই এ বিষয়ে পাশ কাটিয়ে যান।
বনের ভেতর কারখানা স্থাপনের কথা স্বীকার করে কারখানা মালিক তানভীর বলেন, শুধু যে এই কারখানার কারণে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে, তা তো নয়, দেশে তো পরিবেশের এর চেয়েও বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে।
বন বিভাগের ঘাটাইল ধলাপাড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, বন বিভাগের জায়গায় কোনো অবৈধ কারখানা গড়ে উঠেনি। তবে বনের ক্ষতি হয় এমন কারখানা কোথাও গড়ে উঠলে পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকদের সঙ্গে নিয়ে তা উচ্ছেদ করা হবে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) বিভাগীয় সমন্বয়কারী গৌতম চন্দ্র চন্দ বলেন, এ ধরনের কারখানার কারণে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে এবং ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। কারখানাটি পরিদর্শন করে পরিবেশ অধিদপ্তরকে অবগত করা হবে। তারা ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে বেলা এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
টাঙ্গাইল পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, উন্মুক্ত স্থানে সিসা তৈরি মানবদেহসহ প্রাণীকুলের জন্য মারাত্মক ক্ষতি করবে। এটি বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সোহাগ হোসেন বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত এ বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ দুইটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনে গোলযোগ সৃষ্টির অভিযোগ টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমান গাউসকে তাঁর পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।সেই সঙ্গে দলের প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদককে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের যৌথ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) মতিয়ার রহমানকে অব্যাহতির কথা জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার স্বাক্ষরিত এই চিঠি মতিয়ার রহমানের কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে মতিয়ার রহমান বুধবার দুপুরে জানিয়েছেন তিনি এখনো চিঠি হাতে পাননি। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চিঠির কপি দেখেছেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান এবং সাধারণ সম্পাদক সাংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, ২১ সেপ্টেম্বর মতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে বাসাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শামছুল আলম জেলা নেতাদের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। সেখানে মতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে দুইটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনে গোলযোগ সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়। এ বিষয়ে গত রোববার (২৬ সেপ্টেম্বর) টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় বিষয়টি উত্থাপন করা হয়। এ নিয়ে আলোচনা পর্যালোচনার পর ‘নেতাদের নীতিগত সিদ্ধান্তে’ মতিয়ার রহমান গাউসকে সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করার সিদ্ধান্ত হয়।
মতিয়ার রহমান জানান, তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া সম্পূর্ণ অগঠনতান্ত্রিক। তিনি কেন্দ্রীয় নেতাদের বিষয়টি লিখিতভাবে জানাবেন বলেও জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মতিয়ার রহমান গাউস চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন। কিন্তু উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি কাজী অলিদ ইসলাম বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। কাজী অলিদকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে শামছুল আলকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে পুলিশের একজন উপ-পরিদর্শককে(এসআই) থাপ্পর দেওয়ার ঘটনায় সাদেকুল ইসলাম নামে এক প্রধান শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকালে উপজেলার বহেড়াতৈল গণ উচ্চ বিদ্যালয়ের গণটিকা কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিনে বহেড়াতৈল গণ উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে গণটিকা কার্যক্রম চলছিল। বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাদেকুল ইসলাম তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে নিয়ে টিকা দিতে কেন্দ্রে যান। তিনি নিয়ম না মেনে তাদের নিয়ে কেন্দ্রের ভেতরে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
তবে আগে টিকা নিতে আসা লোকজন এর প্রতিবাদ করে এবং পুলিশকে বিষয়টি জানায়। পরে কেন্দ্রের দায়িত্ব পালনকারী সখীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সানিউল আলম প্রধান শিক্ষক সাদেকুল ইসলামকে কেন্দ্রে ঢুকতে বাঁধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে এসআই সানিউল আলমকে থাপ্পর দেন প্রধান শিক্ষক।
সখীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সানিউল আলম জানান, শৃঙ্খলা না মেনে ওই প্রধান শিক্ষক জোর করে কেন্দ্রে যাওয়ার চেষ্টা করায় টিকা নিতে আসা লাইনে দাঁড়ানো উত্তেজিত লোকজন অভিযোগ করায় তিনি কেন্দ্রে ঢুকতে বাঁধা দেন। এ কারণে প্রধান শিক্ষক তাকে থাপ্পর মারেন।
এ বিষয়ে সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) একে সাইদুল হক ভূঁইয়া জানান, পুলিশের গায়ে হাত তোলায় ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের করটিয়ার ঐতিহ্যবাহী কাপড়ের হাট সংলগ্ন সুন্দরী খালটি দখলের প্রতিযোগিতা চলছে। স্থানীয়া একজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর নেতৃত্বে ১৬-১৭ ব্যক্তি শত বছরের ঐতিহ্য ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ সুন্দরী খালের হাটের অংশ জবরদখল করে স্থাপনা নির্মাণ করে ব্যবসায়ীদের কাছে ভাড়া দিয়েছেন।
জানাগেছে, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়ার সুন্দরী খালটি কৃত্রিম ভাবে খনন করা হয় ।লৌহজং নদী হতে শুরু হয়ে ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ খালটি করটিয়া হাটখোলার পাশ দিয়ে জমিদার বাড়ীর সামনে দিয়ে প্রবাহিত হয়ে হাবলা বিলে গিয়ে মিশেছে । স্থানীয় জমিদার তার চলাচলের জন্য খালটি খনন করেন। এক সময় জমিদার ও পরিবারবর্গের নৌপথে যাতায়াতের একমাত্র পথ ছিল এই খালটি। সে সময় এ খাল দিয়ে পানসি নৌকাসহ বড় জাহাজও চলাচল করত। নানা দিক দিয়ে অপার সৌন্দর্যের কারণে জমিদাররা খালটি ‘সুন্দরী খাল’ নামে অভিহিত করেন।
কালের বিবর্তনে খালটির স্রোতধারা হারিয়ে গেছে। অবৈধ দখলদারদের থাবায় খালটি প্রায় বিলুপ্ত। যেটুকু রয়েছে- তাও ময়লার ভাগাড়। স্থানীয় প্রভাবশালী মো. ইউসুব আলীর নেতৃত্বে ১৬-১৭ ব্যক্তি সরকারি মালিকানাধীন সুন্দরী খালটি দখল করে নিয়েছেন।
খালের দুইতীরে গড়ে ওঠেছে স্থাপনা। তবে খালের হাটের অংশে স্থাপনা নির্মাণ করে রীতিমত ভাড়া দিয়ে ফায়দা লুটছে প্রভাবশালীরা। কেউ কেউ বাড়ি-ঘরও নির্মাণ করেছেন। অবশিষ্ট অংশে ময়লা-আবর্জনা ও দূষিত বর্জ্য ফেলায় এলাকার পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, এক সময় দেশ-বিদেশের লাখো ক্রেতার সমাগম ঘটত করটিয়া শাড়ির হাটে। সরকারি সা’দত কলেজের ২৭ হাজারসহ স্থানীয় পাঁচটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থী প্রতিদিন ওই খালের পাশ দিয়ে চলাচল করে থাকে। বর্জ্যরে দুর্গন্ধে পথচারীদের বিড়ম্বনা পোহাতে হচ্ছে। বর্জ্য ফেলার পাশাপাশি দখলের প্রতিযোগিতায় নেমেছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা।
২০১৬ সালে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে সুন্দরী খালের কিছু অংশ দখলমুক্ত করা হলে আবারও দখলে নেমেছে ওই চক্র। স্থানীয় শ্রমিক সমিতির নামে সুন্দরী খালের উপর নির্মিত লাল ব্রিজের কাছে বাণিজ্যিকভাবে খোলা টয়লেট স্থাপন করা হয়েছে। টয়লেটের মলমূত্র সরাসরি যাচ্ছে খালের পানির সাথে মিশে যাচ্ছে।
সরকারি সা’দত কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, গুটি কয়েক লোকের কারণে করটিয়ারশত বছরের ঐতিহ্য বিলীনের পথে। যে যেভাবে পারছে সুন্দরী খাল দখল করে নিচ্ছে। তাছাড়া এলাকার সব ধরণের বর্জ্য ও মলমূত্র খালে ফেলা হচ্ছে। দুর্গন্ধে খালের পাশ দিয়ে কেউ স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারেনা।
করটিয়ার কাপড়ের হাটের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, এক সময় তারা সুন্দরী খালে নৌকা বেঁধে করটিয়া হাট করতেন। বর্তমানে দখল-দূষণে সুন্দরী খাল মরে গেছে। তারা সুন্দরী খাল রক্ষায় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
মো.ইউসুব আলী জানান, তিনি এককভাবে সুন্দরী খাল দখল করেন নাই, আরও ১৫-১৬ জন ব্যক্তিও দখল করেছেন। তিনি সা’দত বাজার বণিক সমিতির নির্বাচনে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই মুহূর্তে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান তিনি।
করটিয়া ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি সৈয়দ মাজেদুল আলম নাঈম জানান, সুন্দরী খালটি করটিয়ার অপার সৌন্দর্যের একটি নিদর্শন। এ খালের জায়গা কেউ কেউ জবরদখল করে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন- যা এখনই অপসারণ করা প্রয়োজন।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) মো. খায়রুল ইসলাম জানান, ইতোপূর্বে যারা সুন্দরী খাল দখল করেছে তাদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছিল। এছাড়া কিছুদিন আগে খালের একাংশ জুড়ে এইচএম ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে ঘর উত্তোলন করার চেষ্টা করায় তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যদি পূনরায় খালের জায়গা দখল করে কেউ অবৈধ স্থাপনা নির্মান করে থাকে তাহলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী জানান, সুন্দরী খালটি জেলার বাণিজ্যিক রাজধানী করটিয়ার ফুসফুস। জবরদখলমুক্ত করে খালটি প্রবাহমান করা হলে এলাকার মানুষ স্বস্তি পাবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে চেক ডিজঅনার মামলায় আবু সাঈদ তালুকদারের (৪২) পাঁচ বছরের সাজা হয়। কিন্তু তিনি আদালতে হাজির না হয়ে পালিয়ে থাকেন ১৪ বছর। অবশেষে সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) পাবনার ভাঙ্গুড়া থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একে সাইদুল হক ভুঁইয়া গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সাঈদ উপজেলার গড়গোবিন্দপুর গ্রামের মৃত কদ্দুস তালুকদারের ছেলে। গ্রেফতারের ভয়ে তিনি ১৪ বছর পলাতক অবস্থায় ভাঙ্গুড়ার বিভিন্ন সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালাতেন বলে জানিয়েছে সখীপুর থানা পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পৌরশহরের কচুয়া সড়কে গাউজ ভাণ্ডারি কাগজ বিতান নামে একটি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে প্রবাসীদের ব্যাংক ড্রাফটের ব্যবসা করতেন আবু সাঈদ। ওই সময় তিনি সখীপুর বাজার বণিক সমিতির বিভিন্ন সদস্যদের কাছ থেকে মাসিক হারে লভ্যাংশ দেওয়ার কথা বলে অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নেন। পরে এলাকা থেকে পালিয়ে যান। ২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ওই বাজারের বণিক সমিতির সদস্য মামুন মিয়া টাঙ্গাইল আদালতে তার বিরুদ্ধে সাড়ে ১৩ লাখ টাকার চেক ডিজঅনারের মামলা করেন। সে বছর আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। আদালতে হাজিরা না দেওয়ায় ২০০৮ সালে সাঈদ তালুকদারের পাঁচ বছরের সাজা হয়।
সখীপুর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. সানিউল আলম জানান, গ্রেফতারের ভয়ে ২০০৭ সালে পালিয়ে পাবনার ভাঙ্গুড়া চলে যান সাঈদ। সেখানে বিয়ে করে শ্বশুরবাড়িতে ঘরজামাই থাকতেন। ১৪ বছর ধরে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। পরে খবর পেয়ে তাকে পাবনার ভাঙ্গুড়া থেকে গ্রেফতার করা হয়।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একে সাইদুল হক ভুঁইয়া জানান, সাজাপ্রাপ্ত আবু সাঈদের বিরুদ্ধে থানায় দুটি মামলা রয়েছে। ওই মামলায় তার সাজা হয়েছে। তিনি থানার তালিকায় পুরাতন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। তাকে গ্রেফতার করতে তার মায়ের ফোন নম্বর সংগ্রহ করা হয়। এরপর তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে আবু সাঈদের ঠিকানা শনাক্ত করা হয়। আবু সাঈদকে ধরতে থানার পুলিশ সদস্যরা ছদ্মবেশে ভাঙ্গুড়ার শরৎনগর এলাকায় একটি বাড়ি ভাড়া করেন। পরে সোমবার ভোরে সেখান থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
তিনি আরো বলেন, গ্রেপ্তার অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া এএসআই সানিউল আলম ও এএসআই এনামুলকে পুরস্কার দেওয়ার জন্য পুলিশ সদর দফতরে আবেদন করা হবে বলেও জানান ওসি।
একতার কণ্ঠঃ বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে মৃত্যু ঘটানোর দায়ে টাঙ্গাইলে এক বাসচালকের চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার ( ২৮ সেপ্টেম্বর) বিকালে টাঙ্গাইলের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাউদ হাসান এই রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত ওই ব্যক্তির নাম রাশেদুল ইসলাম। সে জামালপুর সদর উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামের মৃত জয়নাল আবেদিনের ছেলে। একই অপরাধে তাঁকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ৯ মাস কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সরকারি কৌসুঁলি (পিপি) এস আকবর খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালের ১ আগস্ট বিকেলে রাশেদুল তাঁর বাস চালিয়ে জামালপুরের তারাকান্দি থেকে ঢাকা যাচ্ছিলেন। এ সময় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বাসাইল উপজেলার গুল্লা এলাকায় একটি যাত্রীবাহি মাইক্রোবাসের সঙ্গে বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে একজন ও হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও তিনজনের মৃত্যু হয়।
পরে বাসাইল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুস সাত্তার বাদী হয়ে রাশেদুলের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। তদন্ত শেষে আবদুস সাত্তার ২০০৯ সালের ১৬ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এতে চালকের বিরুদ্ধে বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে মৃত্যু ঘটানো এবং গুরুতর জখম ও গাড়ির ক্ষতিসাধনের অভিযোগ আনা হয়।
পিপি এস আকবর খান জানান, মৃত্যু ঘটানোর দায়ে আদালত বাসচালককে ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন। এ ছাড়া গাড়ির ক্ষতিসাধনের অভিযোগে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। এই রায়ের সাজা পর্যায়ক্রমে কার্যকর করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, রায় ঘোষণার সময় বাসচালক রাশেদুল আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর তাঁকে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
একতার কণ্ঠঃ ইভ্যালিসহ প্রতারিত ১২ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের টাকা ফেরত পাওয়া অনিশ্চিত। এসব প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের কাছ থেকে ৩ হাজার ৪৪৪ কোটি টাকা তুলে নিয়েছে। প্রচলিত আইনে তাদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপও নিতে পারছে না বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনও পাওনা আদায়ে কাজ করতে পারছে না। এ প্রতিষ্ঠান পরিচালনা হচ্ছে দেওয়ানি আইনে। নিবন্ধন দেওয়ার পরও রেজিস্ট্রার অব জয়েনস্টক কোম্পানি কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না। এদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৪২০ ধারায় মামলা হয়েছে। ধারাটি জামিনযোগ্য। ফলে যে কোনো সময়ে গ্রেফতারকৃতরা বৈধভাবেই জামিনে বেরিয়ে আসতে পারেন। সংশ্লিষ্টদের থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বহুল আলোচিত ইভ্যালি নিবন্ধন নিয়েছে রেজিস্ট্রার অব জয়েনস্টক কোম্পানি (আরজেসি) থেকে। কিন্তু ই-অরেঞ্জ, ধামাকা কোনো নিবন্ধন নেয়নি। এতদিন ব্যবসা পরিচালনা করছে শুধু একটি ট্রেড লাইসেন্স দিয়ে। বাকি প্রতারক প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা একই।
এ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, টাকা আদায়ের ক্ষেত্রে আমরা চাপ সৃষ্টি করতে পারি ইভ্যালির ওপর। প্রকৃত অর্থে আমাদের আইনের কিছু দুর্বলতা আছে। এই আইনে আটকে আছি। তবে নতুনভাবে যাতে ই-কমার্স খাতে এ ধরনের প্রতারণা না হয় এজন্য এ বিষয়ে কাজ হচ্ছে। আইনমন্ত্রীকে বলা হয়েছে। তিনি কাজ করছেন। একটি আইন করে তার বিধিমালা করা হবে। পাশাপাশি অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংকেরও সহায়তা লাগবে। মন্ত্রী আরও বলেন, ইভ্যালি চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ৪২০ ধারায়। এটি জামিনযোগ্য ধারা। তারা জামিনে বের হতে পারে।
প্রসঙ্গত নীতিমালা এবং আইনের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ই-অরেঞ্জের গ্রাহক ও সরবরাহকারীদের ১১০০ কোটি টাকা পকেটে ভরেছে। ইভ্যালিও নিয়েছে ১০০০ কোটি টাকা। এছাড়া ধামাকা নিয়েছে ৮০৩ কোটি টাকা, এসপিসি ওয়ার্ল্ড ১৫০ কোটি টাকা, এহসান গ্রুপ ১১০ কোটি টাকা, নিরাপদডটকম ৮ কোটি টাকা, চলন্তিকা ৩১ কোটি টাকা, সুপম প্রডাক্টের ৫০ কোটি টাকা, নিউ নাভানার ৩০ কোটি টাকা এবং কিউ ওয়ার্ল্ড মার্কেটিং ১৫ কোটি টাকা, সিরাজগঞ্জশপ ৪৭ কোটি, আলাদিনের প্রদীপ ১০০ কোটি টাকা নিয়েছে।
দেশে প্রায় আড়াই থেকে তিন লাখ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বাজারে যাতে কেউ অসুস্থ প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য কাজ করছে বাংলাদেশ প্রতিযোগী কমিশন। ইতোমধ্যে স্বপ্রণোদিত হয়ে ইভ্যালির বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানটি মামলা করছে। তবে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যাপারে নিশ্চয়তা দিতে পারেনি প্রতিযোগী কমিশনের চেয়ারম্যান মো. মফিজুল ইসলাম। তিনি বলেন, এ প্রতিষ্ঠান চলছে দেওয়ানি আইনের ওপর। এর অধীনে বাজারে প্রতিযোগিতার পরিবেশ নষ্ট করার প্রমাণ সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে তার বার্ষিক টার্ন ওভারের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান আছে। প্রতিযোগিতা কমিশন কোনো ক্রিমিনাল আইনে পরিচালিত হয় না। তিনি আরও বলেন, ইভ্যালির বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ পর্যায়ে। শিগগিরই রায় দেওয়া হবে।
টাকা ফেরত পাওয়া প্রসঙ্গে সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, গ্রাহকরা টাকা না পেয়ে নিঃস্ব হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে ইভ্যালির বিরুদ্ধে ৪২০ ধারায় মামলা হয়েছে। এখন গ্রাহকদের টাকা ফেরত চেয়ে একটি আবেদন করে আদালতের নজরে আনতে হবে। আবেদনের পর হয়তো আদালত বিবেচনায় নেবে।
জানা গেছে, সিআইডি মোট ১৪টি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগ তদন্ত করছে। বেশিরভাগ গ্রাহককে পণ্য বা টাকা ফেরত না দেওয়া সংক্রান্ত। বিদ্যমান মানি লন্ডারিং আইনের আওতায় এনে এর বিচার কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব নয়। কারণ এ আইনে ই-কমার্স খাতকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে মানি লন্ডারিং আইনটি সংশোধন করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। যদি এটি শেষ পর্যন্ত আইন মন্ত্রণালয় বাস্তবায়ন করবে।
জানা গেছে, বর্তমান অনেক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান শুধু ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে পরিচালনা করা হচ্ছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তালিকায় নাম পাওয়া গেছে এক হাজার প্রতিষ্ঠানের।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, চলিত আইন সংশোধনের মাধ্যমে যথাযথ প্রয়োগ করে প্রতারণামূলক ই-কমার্স ব্যবসাগুলোর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি আইন প্রয়োগের ক্ষমতা বাড়াতে হবে। এছাড়া দক্ষ জনবল বৃদ্ধিও নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। এছাড়া ভোক্তাদের সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে যেন তারা আরও সতর্কভাবে ই-কমার্স খাতে ব্যবসা করতে পারে এবং প্রতারণামূলক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান থেকে সাবধান থাকতে পারে।
সংবাদ সূত্র-যুগান্তর আনলাইন
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে যমুনা নদীতে প্রতিযোগিতা চলাকালে আল্লাহ ভরসা ও যমুনার তরী নামক নৌকার সঙ্গে সংঘর্ষে যমুনার তরী নৌকাটি ডুবে যায়। এতে নৌকার প্রতিযোগীদের মাঝে সংঘাতের সৃষ্টি হয়। সংঘর্ষের একপর্যায়ে ৫ জন আহত হন।এ ঘটনায় গাবসারা ও নিকরাইল ইউনিয়নবাসীর মাঝে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকালে এ ঘটনায় আহতরা হলেন- বিল্লাল, রাজ্জাক, শামীম, হৃদয়, হাবিল। এদের মধ্যে বিল্লাল, রাজ্জাক ও হৃদয়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
অপরদিকে, একই সময়ে আরও দুটি নৌকার সঙ্গে সংঘর্ষ হলে তাদের মধ্যেও মারামারি হয়। ডুবে যাওয়া নৌকার প্রতিযোগীরা সাঁতরিয়ে পাড়ে উঠলে দেখা দেয় উত্তেজনা ও মারামারি। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলে নৌকাবাইচ কমিটি বাইচ স্থগিত ঘোষণা করেন।
গাবসারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান জানান, শনিবার নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে যে সংঘর্ষ হয়েছিল তার জের ধরে ইউনিয়নের কালিপুর গ্রামের দারাজ আলী (৪৬) ও তার ছেলে সোহেল (২৫) রোববার সকালে বঙ্গবন্ধু সেতু এলাকায় যমুনা নদীতে মাছ ধরতে গেলে ওই এলাকার যমুনার তরী নৌকার লোকজন তাদের মারধর করে আটক করে রাখে। পরবর্তীতে আটক এবং মারধরের বিষয়টি নিকরাইল ইউপি চেয়ারম্যান মতিন সরকারকে জানালে তিনি আটককৃতদের নিয়ে আসার জন্য বলেন। আমি এ ব্যাপারে তাদের সুস্থভাবে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করি। এছাড়া ভূঞাপুর থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।
নৌকাবাইচ পরিচালনা কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইকরাম উদ্দিন তারা মৃধা জানান, স্থানীয় এমপি ছোট মনিরের উদ্যোগে প্রতি বছরের মতো এবারো দুই দিনব্যাপী নৌকাবাইচের আয়োজন করা হয়। প্রথম দিনে সুষ্ঠুভাবে সম্পূর্ণ হলেও দ্বিতীয় দিনে একাধিক নৌকার সঙ্গে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে বাইচ চলাকালে একটি নৌকা ডুবে যায়, এতে নৌকাবাইচ স্থগিত ঘোষণা করা হয়।
এ বিষয়ে ভূঞাপুর থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) আব্দুল ওহাব জানান, এ ব্যাপারে তিনি কোনো অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশের তদারকি অব্যাহত আছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় পরকীয়ার সন্দেহ স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার পর তার স্বামী আবদুল লতিফ বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার(২৫ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঘাটাইলের রসুলপুর ইউনিয়নের রসুলপুর তেঁতুলতলা গর্জনাপাড় গ্রামে ওই ঘটনা ঘটে। স্ত্রী পরকীয়ার সন্দেহের বহির্প্রকাশে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে ।
নিহতের নাম সবুরা বেগম (৪৫) বেগম। তিনি রসুলপুর তেঁতুলতলা গর্জনা গ্রামের মৃত ইব্রাহিম মিয়ার মেয়ে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই কায়ছার হামিদ বাদী হয়ে রবিবার( ২৬ সেপ্টেম্বর) ঘাটাইল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন,
মামলার বাদী কায়ছার হামিদ বলেন, তার বোনজামাই কাতার প্রবাসী। তিন মাস আগে দেশে ফেরেন। ফেরার পর থেকে মিথ্যা অপবাদে তার বোনের সঙ্গে ঝগড়া করত। তাকে ভয় দেখিয়ে বলত— ‘আমি যদি আজকে তোকে মেরে ফেলি তবে আজকেই বিদেশ চলে যাব’-এ রকম ভাবে বকাবকি ও নির্যাতন করত।
তিনি আরো বলেন, শনিবার সকাল ১০টার দিকে তার ভাগ্নে সাব্বির স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় যায়। সেখান থেকে দুপুর ১২টার বাড়ি ফিরে ঘরের ভেতরে দেখতে পায় তার বোনের মুখে টেপ পেঁচানো অবস্থায় একখাটে আর বোনজামাই বিষপান করে অন্য খাটে পড়ে রয়েছে।পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তার বোনের মুখে টেপ পেঁচানো লাশ দেখতে পাই। আর তার বোনস জামাইকে প্রথমে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এটি একটি হত্যাকাণ্ড বলে তিনি দাবি করেন।
ঘাটাইল থানা অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মো. আজহারুল ইসলাম সরকার জানান, প্রাথমিকভাবে এটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে স্বামী বিষপানে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, ঘটনার পর লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত কাজ চলছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুৃপুর উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুল ইসলাম (১৬) নামে দশম শ্রেনীর এক ছাত্র নিহত হয়েছে। শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার ফুলবাগচালা ইউনিয়নে কালিয়াকুড়ি নামক স্থানে ওই দুর্ঘটনা ঘটে।রফিকুৃল ইসলাম কালিয়াকুড়ি গ্রামের ময়েন উদ্দিনের ছেলে এবং কালিয়াকুড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেনীর ছাত্র।
স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার ফুলবাগচালা ইউনিয়নের কালিয়াকুড়ি জামালের মোড় নামক স্থানে রাস্তার পাশে বসে দশম শ্রেনীর ছাত্র রফিকুল ইসলাম মোবাইল ফোনে গেমস খেলছিল। হঠাৎ বেপোরয়া গতিতে একটি মাইক্রো (হায়েচ) রফিকুলের উপর দিয়ে তুলে দেয়। স্থানীয়রা গুরতর আহত অবস্থায় রফিকুলকে উদ্ধার করে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। গাড়ী চালক সুভকচনা গ্রামের সালেম মারাকের ছেলে ফারুক নকরেককে স্থানীয়রা আটক করে।
ঘটনার ধামাচাপা দিতে তরিঘড়ি করে স্থানীয় ফুলবাগচালা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম বেনু, সদস্য ময়নাল হক ও মোস্তফা মিয়া পরিষদে বসে নিহতের পিতা ময়েন উদ্দিন, অভিযুক্ত গাড়ী চালক ফারুক নকরেক, তার পিতা সালেম মারাকসহ স্থানীয় আধিবাসী নেতা তুষার নকরেক মধ্যস্থতায় মাঝরাত পর্যন্ত সালিশী বৈঠক করে। বৈঠকে নিহত রফিকুলের পিতাকে ক্ষতিপুরণ বাবদ ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা দেওয়ার সাব্যস্ত হয়। শনিবার কোন রকম ময়না তদন্ত ছাড়াই দুর্ঘটনায় নিহত রফিকুল ইসলামের মরদেহ স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ময়নাল হক বলেন, সালিশের মীমাংসার বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না। বিষয়টি ইউপি চেয়ারম্যান জানেন।
ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম বেনু সালিশে মীমাংসার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, সালিশের সময় আমি অন্য রুমে ছিলাম, সিদ্ধান্তটি ইউপি সদস্য ময়নাল হক, মোস্তফা মিয়া, আদিবাসী নেতা তুষার নকরেক, গাড়ী চালক ফারুক নকরেক ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকায় মীমাংসা করেন।
মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) তারিক কামাল জানান, দুর্ঘটনার বিষয়টি তিনি জানেন, নিহতের পিতা মামলা না করায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া যায়নি। তবে ঘটনার বিষয়ে সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকে ও অস্ত্র দেখিয়ে গৃহবধূকে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে ধর্ষণের অভিযোগ কবির সরকার (২৬) নামের এক ধর্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সে উপজেলার রুলীপাড়া গ্রামের শহিদ জামান সরকারের ছেলে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গাবসারা ইউনিয়নের চরাঞ্চল রুলীপাড়া এলাকায় গত ২১ সেপ্টেম্বর রাতে স্বামী বাড়িতে না থাকায় গৃহবধূর সিঁধ কেটে ঘরে ঢোকে একই গ্রামের কবির সরকার ও শাহদত। পরে ঘরে ঢুকে ছুড়ি দিয়ে মেয়ে ও ধর্ষিতা গৃহবধূকে গলা কেটে মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হয়। পরে ওই গৃহবধূ ডাকচিৎকার করতে থাকলে ধর্ষকরা তাকে মারধর করায় সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে অজ্ঞান অবস্থায় তাকে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায় ধর্ষকরা। এঘটনায় ২৩ সেপ্টেম্বর ভূঞাপুর থানায় ধর্ষণের শিকার ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে দুইজনের নামে মামলা দায়ের করেন।
এ বিষয়ে ভূঞাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহমুদুল হাসান বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় কবির নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ওই গৃহবধূর মেডিকেল পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপর আসামীকে ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে।