একতার কণ্ঠঃ উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢল আর বৃষ্টির পানিতে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে যমুনা নদীতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে, অসাধু কিছু জেলে যমুনা নদীতে অবৈধ চায়না (আপা) জাল ব্যবহার করে জাটকা নিধন শুরু করেছেন।
আরো পড়ুনঃ টাঙ্গাইলে ঝড়ে ঘরের নিচে চাপা পড়ে নিহত ১
এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার (১১ এপ্রিল) সকাল থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এটিএম শামসুজ্জামান জাটকা ধরা বন্ধে নদীতে অভিযান চালায়।
এ সময় অভিযান চালিয়ে ১০ জেলেকে আটকসহ অবৈধ চায়না জাল জব্দ করা হয়। অভিযানে সহযোগিতা করেন গোবিন্দাসী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা।
এরপর গোবিন্দাসী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সামনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ মো. আলাউল ইসলাম।
এ সময় আটককৃত ১০ জেলেকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া জব্দকৃত ৬টি চায়না জাল পুড়িয়ে ফেলা হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ মো. আলাউল ইসলাম জানান, নদীতে অবৈধ চায়না জাল দিয়ে জাটকা নিধন বন্ধে প্রশাসন তৎপর। জাটকা ধরা বন্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া ইউনিয়নের নামদার কুমল্লি খান পাড়া গ্রামে ”মেসার্স জিহাদ মটর’স নামে একটি শো-রুম বৃহস্পতিবার(৭ এপ্রিল) রাতে দুর্বত্তদের দেওয়া আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনের ঘটনাটি পুর্বপরিকল্পিত এবং এতে শো-রুমের দুইটি সিএনজি , কাগজ পত্র ও নগদ টাকাসহ ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি শো-রুমের মালিক মো. ইব্রাহীম খাঁন অনিকের।
আরো পড়ুনঃ টাঙ্গাইল কারাগারে নারী হাজতির মৃত্যু
জানাগেছে, প্রতিদিনের ন্যায় মেসার্স জিহাদ শোরুমের মালিকের শ্বশুর মো. মনির হোসেন খান(৬৫) আছরের আযান দেওয়ার পর শো-রুম বন্ধ করে বাড়িতে চলে যান। রাত সাড়ে দশটার দিকে শোরুমে আগুন দেখেন আশেপাশের লোকজন। এলাকাবাসী আগুন নিয়ন্ত্রণের আনার চেষ্টা করে এবং ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু তার আগেই জিহাদ মটরসে বিক্রয়ের জন্য রাখা দুইটি নতুন সিএনজি (বাজাজ), গুরুত্বপূর্ন কাগজ-পত্রসহ ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি সাধিত হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত অনিকের পিতা, মো. সোরহাব আলী খান বলেন, তিনি পয়ত্রিশ বছর সৌদি আরবে থেকে তার সারাজীবনের অর্জিত টাকা দিয়ে ছেলেকে শোরুম করে দিয়েছিলেন।
তিনি আরো বলেন, পুর্ব শত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে তার ছেলের শোরুমে আগুন দেওয়া হয়েছে। এতে ত্রিশ লাখ টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন জানান, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে পৈত্রিক সম্পত্তি বুঝে চাওয়ায় ভাতিজার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে মিথ্যা মামলা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এর প্রতিবাদে ভাতিজা হিমেল রহমান নামের এক ব্যবসায়ী শনিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু অডিটরিয়ামে এ সংবাদ সম্মেলন করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে হিমেল রহমান জানান, তার বাবার মৃত্যুর পরে তাদের গ্রামের বাড়ি ও জমি ভাগ বন্টন করা হয়। তার চাচা লুৎফর রহমান সবকিছুর সিদ্ধান্ত নেয়। তার সকল সিদ্ধান্তই ছিলো আইন বহির্ভূত ছিল। ওই সময় তারা দুই ভাই থাকায় জমি-জমা সম্পর্কে তেমন ধারণা ছিলো না। বর্তমানেও জমির কাগজপত্র তেমন বুঝে না। চাচা লুৎফর রহমান সরলতার সুযোগ নিয়ে নিম্নমানের জমিগুলো তাদেরকে দিয়ে এবং চাচা ভালো মানের জমিগুলো নিয়েছে। ঠিক তেমনভাবে তাদের শহরের বাসায় রাস্তার সাথের দামি জমি লুৎফর রহমান নিয়েছে এবং তাদেরকে পেছনের জমি দিয়েছে।
তিনি আরো জানান, সেই জমির পরিমানও কম ছিলো। শহরের পূর্ব আদালত পাড়াই তাদের বাসায় তিনিসহ তার তিন চাচার জমি। সাড়ে ১৭ শতাংশ জমিতে ডেভোলাপারের কাছে বহুতল বিশিষ্ট ভবন নির্মাণের জন্য দেয়া হয়। সেখানে তার জমি রয়েছে সারে ৪ শতাংশ। আর বাকি জমি লুৎফর রহমানসহ তার তিন চাচার। ডেভোলাপার কাজ শুরু করলে তার চাচা বিভিন্ন সময় ডেভোলাপারের সাথে খারাপ আচরণ করত। তার এই খারাপ আচরণের কারণে ডেভোলাপার কাজ বন্ধ করে চলে যায়। এই ভবন নির্মাণের কাজ বিভিন্ন কারণে শুরুতেই ৪ বছর বন্ধ থাকে। এদিকে তারা অনেকবার ডেভোলাপারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। বেশ কয়েকজন কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করেন।
তিনি আরও জানান, তার চাচা তাদেরকে জানান কোন ডেভোলাপারকে কাজ দেয়া যাবে না। তিনি নিজেই কাজ করবেন। তখন তিনিসহ তার আরও দুই চাচা লুৎফর রহমানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন। লুৎফর রহমান ছিলেন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের চীপ ইঞ্জিনিয়ার। তিনি এই বিল্ডিংয়ের কাজ শুরু করার পর বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে তালবাহানা করতে থাকেন। চারটি ছাদ করার পর হঠাৎ একদিন তাদের চাচা জানান, তার পক্ষে এই ভবনের আর কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। পরে তিনি ছেলে ও মেয়ের সাথে আমেরিকায় চলে যান। এই ভবনের ঠিকাদার ও ইঞ্জিনিয়ার লুৎফর রহমানের কাছে টাকা পাওনা রয়েছে। পরে তিনি ৮০ লাখ টাকা দেনা পরিশোধ করে। তারপর পুনরায় ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু করে পর্যায়ক্রমে ১০ তলা পর্যন্ত ছাদ ঢালাই শেষ করে। দুই বছর পর ২০২০ সালে চাচা দেশে চলে আসে। দেশে এসে বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র করতে থাকে। তার চাচা মাঝে মধ্যে এসে তার কাছ হতে ফ্লাট বিক্রি করার টাকা ধাপে ধাপে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে এই ভবনের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য নানান কৌশল অবলম্বন করে চাচা। এক পর্যায়ে তিনি ভবন নির্মাণের দায়িত্ব ছেড়ে দেয়। পরবর্তীতে ভবন নির্মাণের যাবতীয় টাকা দাবি করলে টাকা ও ফ্লাটও রেডি কওে হিমেলকে দেয়া হয়নি।
হিমেল জানান, বিষয়টি স্থানীয় কাউন্সিলর কামরুল ইসলাম মামুনকে জানানো হলে ২০২১ সালে টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলরের মাধ্যমে শালিসী বৈঠক করা হয়। সর্বশেষ চলতি বছরের ৪ শালিসী বৈঠকে ৩ মাসের মধ্যে ৬টি ফ্লাট তাকে বুঝিয়ে দিতে বলা হয়। কোনভাবেই তার চাচা মানতে রাজি হয়নি। প্রতিবাদ করলে তার চাচা ও চাচীর নির্দেশে ৬ তলার আমার ফ্লাটটি ভেঙে দেয়া হয়। বিষয়টি তার চাচার কাছে জানতে চাইলে হুমকি দেয় হিমেলকে। গত ১৪ মার্চ তার বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল সদর থানায় দুই কোটির টাকার মামলা দেয়া হয়। তার চাচা প্রভাবশালী ও বিত্তশালী হওয়ার কারণে কোন প্রকার তদন্ত ছাড়া তাকে ধরার জন্য পুলিশ মরিয়া হয়ে উঠে। তিনি আইনজীবীদের পরামর্শে হাইকোর্ট থেকে জামিনে আসেন। সরকার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, র্যাবসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সহযোগিতা কামনা করেন হিমেল।
অভিযোগ প্রসঙ্গে চাচা লুৎফর রহমান বলেন, আমরা আমেরিকায় চলে যাওয়ার পরে হিমেলকে এ ভবনটি দায়িত্ব নিয়েছিলেন। তখন সে বেশ কয়েকটি ফ্লাটও বিক্রি করেছে। আমি হিমেলকে কোন প্রকার ভয়ভীতি দেখায়নি। উল্টো হিমেল আমাকে ভয়ভীতি দেখিয়েছে। পরে আমি টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা দিয়েছি। অপরদিকে হিমেলও আমার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দিয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের এক কলেজছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে বাসাইলের সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনজুর হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই কলেজছাত্রী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গত ৩ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন।
আরো পড়ুনঃ টাঙ্গাইলে বালুরঘাটে ট্রাক কেড় নিল কিশোর হেলপারের প্রাণ
বৃহস্পতিবার (৭ এপ্রিল) টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব ) সোহানা নাসরিনের অফিস কক্ষে ডেকে ওই কলেজছাত্রীর কাছে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য নেওয়া হয়।
অভিযুক্ত মো. মনজুর হোসেন বর্তমানে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন।
লিখিত অভিযোগে জানা যায়, ২০২১ সালে তৎকালীন বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনজুর হোসেনের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পরিচয় হয় ওই কলেজছাত্রীর। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রথমে ইউএনও সরকারি বাসভবনে নিয়ে ওই কলেজছাত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। এরপর ওই কলেজছাত্রীর অন্যত্র বিয়ে ঠিক হলে মনজুর সেই বিয়ে বন্ধ করে তাকে বাড়ি থেকে চলে আসতে বলেন। এরপর ওই ছাত্রীকে নিয়ে ইউএনও টাঙ্গাইল কুমুদিনী সরকারি কলেজ সংলগ্ন পাওয়ার হাউস এলাকায় পরিচয় গোপন করে স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে সেখানে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন।
সেখানে তারা দুই মাস সংসার করেন। পরে ওই ছাত্রী বিয়ে করার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। ইউএনও মনজুর হোসেন ভারতে গিয়ে তাকে বিয়ে করবে বলে জানান। এরপর জোবায়েত নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে ওই ছাত্রীর ভারতে যাওয়ার জন্য মেডিকেল ভিসা করানো হয়। এরপর গত ২৪ সেপ্টেম্বর আনুমানিক রাত ১০টার দিকে বাসাইলের সহকারী কমিশনারের (ভূমি ) সরকারি গাড়িতে জোবায়েত হোসেন ও চালক বুলবুল হোসেনসহ দুইজন আনসার সদস্য মিলে বেনাপোল গিয়ে সেখানকার বর্ডার পার হয়ে কলকাতা এয়ারপোর্ট হয়ে হায়দরাবাদ বিমানবন্দরে নামেন।
আরো পড়ুনঃ টাঙ্গাইলে গৃহবধুকে গণধর্ষণের অভিযোগ
বিমানবন্দরের কাছে একটা বাসা ভাড়া নিয়ে সেখানে দুইজন বসবাস করে চিকিৎসা নিতে থাকেন। একপর্যায়ে ওই ছাত্রী ইউএনওর মোবাইলের মাধ্যমে বিয়ে হওয়া ও তার ঘরে সন্তান থাকার বিষয়টি জানতে পারেন। পরে বাংলাদেশে আসার পর জোবায়েত ওই ছাত্রীর মোবাইল জোরপূর্বক নিয়ে অন্তরঙ্গ ভিডিও ও চ্যাটিং মেসেজ ডিলিট করে দেন। ইউএনও ঘটনাগুলো কাউকে না বলতে ওই ছাত্রীকে অনুরোধ করেন, অন্যথায় তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। এরপরও পরবর্তীতে ওই ছাত্রীর সঙ্গে ঢাকার ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে দেখা করে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে সংসার করার কথা বলেন ইউএনও।
এদিকে প্রতারণা করে ধর্ষণ এবং স্ত্রীর মর্যাদা না দেওয়ায় ইউএনও মনজুর হোসেনের শাস্তি চেয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন ওই কলেজছাত্রী।
ওই কলেজছাত্রী বলেন, ইউএনও মনজুর হোসেনের সঙ্গে ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হয়। পরে তিনি বিয়ের প্রলোভনে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করেন। তিনি শুধু আমাকে ব্যবহারই করেছেন, সামাজিকভাবে স্ত্রীর মর্যাদা দেননি। বিষয়টি নিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।
বাসাইল উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী অলিদ ইসলাম বলেন, সাবেক ইউএনও মনজুর হোসেন মোবাইলে ওই মেয়েটির বিষয়ে জানান। মেয়েটি নাকি তার বিরুদ্ধে জনপ্রশাসনে মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দিয়েছে। পরে মেয়েটির সঙ্গে একজন চেয়ারম্যানের মাধ্যমে কথা বলি। তখন মেয়েটি বিষয়টি আইনগতভাবে লড়ছেন বলে জানায়।
অভিযোগ অস্বীকার করে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনজুর হোসেন বলেন, অভিযোগটি সম্পন্ন ভিত্তিহীন। এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব ) সোহানা নাসরিন জানান, ওই ইউএনওর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ধলাপাড়া ইউনিয়নের শহর গোপীনপুর বটতলী গ্রামের তিন যুবকের বিরুদ্ধে গৃহবধূকে গণধর্ষনের অভিযোগ উঠেছে।
আরো পড়ুনঃ টাঙ্গাইলে বালুরঘাটে ট্রাক কেড় নিল কিশোর হেলপারের প্রাণ
এ ঘটনায় টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইবুনাল আদালতে ২৯ মার্চ তিনজনকে অভিযুক্ত করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অভিযুক্তরা হচ্ছে, ধলাপাড়া ইউনিয়নের শহরগোপীনপুরের বটতলী গ্রামের মো. আব্দুল কাদেরের ছেলে মো. রুবেল মিয়া (২৭), একই এলাকার মো. হুমায়ুন কবীরের ছেলে মো. মনির মিয়া (২২) ও মোন্নাফ আলীর ছেলে মো. সাগর মিয়া (২১)।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ঘাটাইলের ধলাপাড়া ইউনিয়নে এক গৃহবধুকে দীর্ঘদিন যাবৎ উল্লেখিত ব্যক্তিরা কুপ্রস্তাব দিতো। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় গৃহবধূকে অপহরণ করে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে এবং ধর্ষণের ভিডিও মোবাইলে ধারন করেন।
এ ঘটনা গৃহবধূ তার স্বামীকে জানালে সেই আক্রোশে মার্চ মাসের ২১ তারিখে রাতে বসতঘরে ঢুকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।
পরে গৃহবধুকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় গৃহবধূর মামা মো. আাব্দুল হানিফ জানান, ধর্ষণকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় মামলা করেও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। বিভিন্ন সময় দালালদের মাধ্যমে মামলা মিমাংসার প্রস্তাবসহ হুমকি দিয়ে আসছেন।
ধলাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. আবুল কাশেম জানান, ঘটনার বিষয়টি আমি জানি। অভিযুক্তরা ইতিপুর্বেও এধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে।
এসময় তিনি আরো জানান, তারা এতোটাই ভয়ঙ্কর প্রকৃতির যে, তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়না।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুর বনের গাছ চুরির খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে (৭ এপ্রিল) দুপুরে মধুপুরের দুই সাংবাদিক বন এলাকার একাধিক মামলার আসামী চিহ্নিত বনদস্যুদের হামলার শিকারের ঘটনা ঘটেছে। বনদস্যুরা সাংবাদিকদের কাছে থাকা একটি ডিজিটাল ক্যামেরা ও দুটি মোবাইল ছিনতাই করেছে।
আরো পড়ুনঃ টাঙ্গাইলে বালুরঘাটে ট্রাক কেড় নিল কিশোর হেলপারের প্রাণ
জানা যায়, টাঙ্গাইল বন বিভাগের দোখলা রেঞ্জের হরিণধরা এলাকায় দীর্ঘ দিন যাবত চিহ্নিত বনদস্যু একাধিক বন মামলার আসামীর একটি চক্র নির্বিচারে সামাজিক বনায়নের গাছ কেটে সাবাড় করে যাচ্ছে। এ খবর পেয়ে আকবর হোসেন ও মেহেদী হাসান বকুল নামের মধুপুরের দুই গণমাধ্যম কর্মী সংবাদ সংগ্রহের জন্য সরেজমিনে হরিণধরা এলাকায় গিয়ে সামাজিক বনায়নের চুরি হওয়া গাছের ছবি ও তথ্য সংগ্রহ করে। হরিণধরা এলাকার সামাজিক বনায়নের অংশিদার রজব আলী (৭৬) এর প্লট থেকে ২০-৩০টি গাছ স্থানীয় একাধিক বন মামলার আসামী বনদস্যু একই এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে দুলাল, আলেমের ছেলে সেলিম, সোহেল, হাছান, হোসেন গাছ চুরি করে। শুধু রজব আলীই নয় আব্দুর রাজ্জাক, রহমত, মহিরসহ স্থানীয়দের সামাজিক বনায়নের প্লট থেকে ১৫-২০ জনের গাছ চুরের সিন্ডিকেট বনদস্যুরা প্রকাশ্যে দিবালোকে প্রতিনিয়ত গাছ চুরি করে ওই এলাকায় রাজত্ব কায়েম করেছে। চোরের এ সিন্ডিকেট গাছ চুরি করে অরণখোলা ইউনিয়নের ভুটিয়া গ্রামের একাধিক বন মামলার আসামী গাছ চোরের হোতা অবৈধ কাঠ ব্যবসায়ি আব্দুল বাছেদ ওরফে ব্লেড বাছেদের নিকট বিক্রি করে। এ তথ্য ও ছবি সংগ্রহ করে ফেরার পথে গতিরোধ করে দুলাল, সেলিম , সোহেল, ব্লেড বাছেদ, হাছেন হোছেনসহ দশ পনের জনের গাছ চোর ও অবৈধ চোরাই কাঠ ব্যবসায়ীর একটি দল সাংবাদিকদের উপর হামলা ও হেনস্তা করে ক্যামেরা, দুটি মোবাইল ও তথ্য সংগ্রহের নোটবুক ছিনিয়ে নেয়। হামলাকারীরা সাংবাদিকদের শাসিয়ে দেয় ভবিষ্যতে এ এলাকায় কোন সাংবাদিক প্রবেশ করলে বের হয়ে যেতে দেয়া হবে না। এ ব্যাপারে সাংবাদিকদ্বয় মধুপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। এসব তথ্য অভিযোগ ও সাংবাদিকদ্বয়ের সাথে কথা বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে হামলার শিকার আকবর হোসেন ও মেহেদী হাসান বকুল জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সামাজিক বনায়নের গাছ চুরির খবর পেয়ে হরিণধরা এলাকায় গিয়ে ছবি ও তথ্য সংগ্রহ করে ফেরার পথে দুলাল, সেলিম, ব্লেড বাছেদ গং বনদস্যুদের হামলার শিকার হন। এ সময় তাদের কাছ থেকে ক্যামেরা, মোবাইল ও তথ্য সংগহ নোটবুক ছিনতাই করা হয়।
এ ব্যাপারে স্থানীয় শোলাকুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আক্তার হোসেন এ ন্যাক্কার জনক ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবী জানান।
মধুপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল আজিজ ক্যামেরা মোবাইল ও নোটবুক উদ্ধার পূর্বক ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার দাবী করেন।
লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন মধুপুর থানার ডিউটি অফিসার আব্দুস সামাদ।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে নিখোঁজের একদিন পর চায়না বেগম (৩২) নামের এক নারীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
আরো পড়ুনঃ টাঙ্গাইলে নেশার টাকার জন্য স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক
বুধবার (০৬ এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার বাশতৈল ইউনিয়নের বংশিনগর জঙ্গল থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
চায়না বেগম বংশিনগর পশ্চিমপাড়া গ্রামের ইয়াদ আলীর মেয়ে।
বাঁশতৈল পুলিশ ফাঁড়ির ইন-চার্জ (পরিদর্শক) সাখাওয়াত হোসেন জানান, সোমবার ইফতারের পর বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন চায়না বেগম। বুধবার বাড়ির পাশের জঙ্গল থেকে দুর্গন্ধ পেয়ে সেখানে তল্লাশি চালায় স্থানীয় লোকজন। এ সময় তারা সেখানে চায়না বেগমের গলাকাটা লাশ দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে নিয়ে যায়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে নেশার টাকার জন্য স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার (৬ এপ্রিল) সকালে পৌর এলাকার তারা তালুকদারের বাসা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত সুমাইয়া (২১) ভূঞাপুর পৌরসভার ঘাটান্দি এলাকার রুবেল হোসেনের স্ত্রী।
আটককৃত রুবেল ঘাটাইল উপজেলার গৌরিশ্বর গ্রামের শুক্কর আলীর ছেলে। সুমাইয়া গোপালপুর উপজেলার বরশিলা গ্রামের ইউসুফ আলীর মেয়ে।
স্থানীয়রা জানান, এক মাস আগে পৌর এলাকার ঘাটান্দির তারা তালুকদারের বাসা ভাড়া নেয় হোটেল শ্রমিক রুবেল হোসেন। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ লেগেই থাকত। স্ত্রী সুমাইয়া বাসা বাড়িতে কাজ করতেন এবং রুবেল শ্রমিকের কাজ করতেন। তাঁদের দেড় বছরের একটি কন্যা শিশু সন্তান রয়েছে।
নিহত সুমাইয়ার মা শারমীন বেগম জানান, রুবেল বিভিন্ন হোটেলে শ্রমিকের কাজ করতেন। তবে তিনি শ্রমিকের কাজ করে যে টাকা উপার্জন করে সে টাকা দিয়ে নেশা করতেন। এটা নিয়ে প্রতিনিয়ত স্বামীর সঙ্গে স্ত্রীর ঝগড়া হতো। মঙ্গলবার রাতে নেশা করার টাকার জন্য সুমাইয়াকে চাপ দেন রুবেল। পরে সুমাইয়া টাকা দিতে অস্বীকার করলে তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।
বাসার মালিক তারা তালুকদার জানান, প্রতিনিয়ত তাঁদের দুজনের মধ্যে ঝগড়া লাগত। গভীর রাতে রুবেল ঘর থেকে বের হয়ে জানায় তাঁর স্ত্রী মারা গেছে। পরে আশপাশের লোকজনকে খবর দেওয়া হয়। সকালে পুলিশ এসে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেছে।
ভূঞাপুর থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম জানান, সুমাইয়ার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর স্বামী রুবেলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। নিহতের শরীরে বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরের মেহেদী হাসান সজীব (২২) নামের এক যুবক প্রেমিকা ভাবীর সাথে অভিমান করে সিংগাপুরে নিজ বাসায় গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
আরো পড়ুনঃ টাঙ্গাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় কলেজ ছাত্র নিহত
রবিবার (৩ এপ্রিল) বাংলাদেশ সময় রাত ৮ টার দিকে তার নিজ বাসার গোসলখানার গ্রিলের সাথে গলায় রশি বেধে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে সে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে সজীবের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায় সিংগাপুর পুলিশ।
নিহত মেহেদী হাসান সজীব উপজেলার বেড়বাড়ী দাখিল মাদ্রাসা এলাকার মতি মিয়ার ছেলে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, নিহত মেহেদী হাসান সজীবের সঙ্গে প্রতিবেশী এক ভাবীর সাথে দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া ছিল। রবিবার তাদের মধ্যে মুঠোফোনে কথা কাটাকাটি হলে রাত ৮ টার দিকে সিংগাপুরের নিজ বাসার গোসলখানার গ্রীলের সঙ্গে গলায় রশি বেধে আত্মহত্যা করে সজীব ।
যাদবপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেন ধলা সজীবের আত্মহত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তার মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকাবাসীর মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সরকারের কাছে সন্তানের লাশ দেশে আনার সহায়তা চান নিহতের বাবা- মা।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুর বনে প্রভাবশালীদের কালোথাবা পড়েছে।রাজনৈতিক অঙ্গণে বিভিন্ন দলের মধ্যে হানাহানি থাকলেও বন দখলে সবাই একে অপরের ভাই ভাই। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, ব্যবসায়ী, আইনজীবী, দলিল লেখক, এনজিও, সমাজকর্মি গৃহিনীসহ দখলে বাদ যায়নি কেউ। বেশিরভাগ সরকারি দলের লোকজন অবৈধভাবে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে জবরদখল করে কলা, আনারস ড্রাগন ,লেবু চাষ করে করে লাভবান হচ্ছে।
এছাড়াও কোথাও কোথাও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, করাতকল, বাজার ও বাড়িঘর তুলে দিব্য বসবাস করছে। বনবিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবহেলা, উদাসীনতা এবং অনৈতিক সুবিধা নিয়ে জবরদখল কারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ারও অনেক অভিযোগ রয়েছে।এছাড়া বনের গাছ চুরি অব্যাহত থাকায় পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য পড়েছে হুমকির মুখে। বনে শাল-গজারী না থাকায় দেখা দিয়েছে বন্যপ্রাণীদের খাদ্য সঙ্কট, ঐতিহ্য হারাচ্ছে মধুপুর গড়ের শালবন।
আরো পড়ুনঃ টাঙ্গাইলে ইভটিজিংয়ের অভিযোগে যুবকের কারাদণ্ড
টাঙ্গাইল বিভাগীয় বন কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, জেলার পাঁচটি উপজেলা মধুপুর, মির্জাপুর, সখিপুর, ঘাটাইল ও কালিহাতী উপজেলায় মোট বনভুমি রয়েছে প্রায় এক লাখ ২২ হাজার ৮৭৭ একর। এর মধ্যে ৫৮ হাজার ২০৬ দশমিক ২৮ একর জমি অবৈধ দখলদারদের দখলে চলে গেছে। গত কয়েক বছরে ২০ হাজার ১০৮ একর জমি উদ্ধার করলেও ৩৮ হাজার ছয়শ ৬৬ দশমিক ১৯ একর জমি এখনও উদ্ধার করতে পারেনি বনবিভাগ। প্রায় ২২ হাজার একশ জন লোক এই বনভুমি দখল করে আছে। এদিকে শুধু মধুপুরে বনভুমির পরিমান ৪৫ হাজার ৫৬৫ দশমিক ১৮ একর। এর মধ্যে সংরক্ষিত ১১ হাজার ৬৭১ দশমিক ২১ একর ও সংরক্ষিতের বাইরে বন বিভাগের জমির পরিমান ৩৩ হাজার ৮৯৩ দশমিক ৯৭ একর। যার মধ্যে অবৈধ দখলে রয়েছে ১৫ হাজার ৩৭৯ দশমিক ১৪ একর জমি। এর বেশিরভাগ জমি সরকারি দলের প্রভাবশালী নেতা ও নৃতাত্বিক গোষ্টির নেতারা দখল করে রেখেছেন।

বনের জায়গায় গড়ে ওঠা স’মিল
এছাড়াও বনের কর্মকর্তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে জেলার সংঘবদ্ধ গাছ চোররা প্রতিনিয়ত বন থেকে গাছ চুরি করছে। ফলে বঞ্চিত হচ্ছে সামজিক বনায়নের অংশিদাররা। সরকার বঞ্চিত হচ্ছে লাখ লাখ টাকার রাজস্ব আয় থেকে।
অনুসন্ধান এবং বনবিভাগের বনভুমি জবরদখল ও উদ্ধার সংক্রান্ত প্রতিবেদনের তথ্য ঘেটে জানা গেছে, সংরক্ষিত বনের মধুপুরের জামগাছার গ্রামের প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা আইজউদ্দিন মন্ডল দোখলা রেঞ্জের চাদপুর বিটের ফুলবাগচালা মৌজার তিনশ একর জমি জবরদখল করে রেখেছেন। হাগড়াকুড়ি গ্রামের বিএনপি নেতা সাদেক আলী দোখলা রেঞ্জের চাঁদপুর বিটের জোরামগাছা মৌজার ২০ একর, থানারবাইদের স্থানীয় নৃগোষ্ঠির নেতা রাগেন্দ্র নকরেক দোখলা বিটের পীরগাছা মৌজার দুইশ ৫০ একর, বাঘাডোবার আওয়ামী লীগ নেতা নস্কর মেম্বার ফুলবাগচালা মৌজার দুইশ একর, জামাল উদ্দিন একশ একর, চুনিয়ার বাবুল মৃ অরনখোলা মৌজার ৭০ একর, চুনিয়ার টমাস নকরেক অরনখোলা মৌজার ৫৫ একর, বাঘাডোবার আওয়ামী লীগ নেতা ময়নাল মেম্বার ফুলবাগচালা মৌজার ৫৩ একর, সুরেনটালের আওয়ামী লীগ নেতা রেফাজ উদ্দিন ফুলবাগচালা মৌজার ৫২ একর, সুরেনটালের আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল আজিদ ফুলবাগচালা মৌজার ৪০ একর, সুরেনটাল গ্রামের প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মজিদ ফুলবাগচালা মৌজার ৩৫ একর, শোলাকুড়ি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও মধুপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং বন ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ইয়াকুব আলী অরণখোলা মৌজার ৩৫ একর, কাইল্যা কুড়ি গ্রামের নৃ গোষ্টির নেতা প্রীতিনাশ নকরেক অরনখোলা মৌজার ৩০ একর, টাঙ্গাইল জেলা কৃষকদলের সহ-সভাপতি আমলীতলা গ্রামের লস্কর মেম্বার জাউস রেঞ্জের গাছাবাড়ি বিটের ১৬ একর, হাগড়াকুড়ি গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা ওহাব সরকার জোরামগাছা মৌজার ১৫ একর, হাগড়াকুড়ির আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল হামিদ ২০ একর, আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল করিম ২০ একর, অরণখোলার জাউস রেঞ্জের গাছাবাড়ি বিটের প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা হযরত আলী ৮১ একর, গাছাবাড়ির চানমাহমুদ ছানা ৫১ একর, টেলকি শাখার ট্রাক ড্রাইভার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সাধুপাড়ার প্রশান্ত মানকিন লহরিয়া বিটের প্রায় ৫০ একর , মধুপুরের কলাচাষি সংগঠনের সভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা গেছুয়াগ্রামের আব্দুর রহিম বেরিবাদ বিটের ৩৪ দশমিক ৫০ একর, মাগন্তিনগরের বিজিত টিটো ৩০ দশমিক ১০ একর, অরণখোলা ইউনিয়নের মেম্বার ও ৫ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি গাছাবাড়ির মজিবর রহমান ২৯ দশমিক ৫০ একর জমি দখল করে রেখেছেন। তিনি মধুপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সরোয়ার আলম খান আবুর আত্মীয় পরিচয় দিয়ে জমি দখলে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়াও চুনিয়ার মোতালেব হোসেন ৯ দশমিক ৭৫ একর জমি জবরদখল করে রেখেছেন। অরণখোলা সদরবিটের প্রায় ৫ একর জমি দখল করে রেখেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুস ছালাম, নুরু মিয়া, আব্দুল খালেক, কাদের, মুক্তার হোসেন ফকির, আক্তার হোসেন ফকির, আছকের আলী, আজিজুল হক শহিদ ও আব্দুর রহিম মিয়া।
অপরদিকে, সংরক্ষিত বনভুমির বাইরেও অন্যান্য শ্রেনিভুক্ত মধুপুর রেঞ্জের চাড়ালজানি বিটের চুনিয়া মৌজায় বেসরকারি সংস্থা বুরে্যা বাংলাদেশ ৬ দশমিক ৮৫ একর, কাকরাইদের ইয়রুন নেছা ৩০ একর, প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতার ভাগ্নে গাছাবাড়ির সরাফত আলী ২ দশমিক ৩০ একর, সোহরাব আলী ২ দশমিক ৩০ একর, কাঠ ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের মিয়া ৩ একর, দিগলবাইদের ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম ২ দশমিক ৯ একর, জাঙ্গালিয়ার ব্যবসায়ী আজিজ খাঁ প্রায় ৯ একর, দলিল লেখক নুরু মিয়ার প্রায় ১২ একর মাগন্তিনগরের বাদশা মিয়া প্রায় ২০ একর, নয়াপাড়া গ্রামের আফতাবউদ্দিন প্রায় ৫ একর জমি জবর দখল করে রেখেছেন।
সরেজমিন ঘুরে, বনবিভাগ ও স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মোটের বাজারের ছামান আলী নামে এক ব্যক্তি বন বিভাগের জমি কার্টিজ মুলে ক্রয় করে মাটি ভরাট করে জমি দখল করেছেন। শুধু ছামান আলী নয় প্রভাবশালী অনেকেই বন বিভাগের জমি এভাবে দখল করে নিচ্ছে। কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবে স্থানীয় প্রভাবশালীরা বসতি নির্মাণ করে বনের জমিকে নিজের বলে দাবি করে থাকে। দখলদারদের কেউ কেউ বন বিভাগের বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করেন। বন বিভাগের জায়গা দখল করে ভুয়া দলিল ও কাগজপত্র তৈরি করে অন্যের কাছে বিক্রি করে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে । আবার দখলদাররা আইনি ঝামেলা এড়াতে কৌশলে জমি খোলা স্ট্যাম্পে বিক্রি করে দেন। বনবিভাগও জমি উদ্ধার করতে হাজার হাজার মামলা করেছেন। কিন্ত কাজের কোন কাজ কিছুই হয়নি । এছাড়া উচ্ছেদ অভিযানও করতে পারেনি। তবে কয়েকজন দখলদার দাবি করেন, সংরক্ষিত বনের বাইরে ৪ ও ৬ ধারার জমি সিএস পর্চামূলে তারাই মালিক। এসএ ও আরএসে মালিক বনবিভাগ। যখন সরকার রায় পাবে তখন তারা বন বিভাগের জমি ছেড়ে দিবে।
মহিষমারা হামের বাজারের মহর আলী জানান, তার সামাজিক বনায়নের প্লট থেকে সম্প্রতি গাছ চুরি হয়। স্থানীয় সিএফডব্লিউ শামছুল হক এ গাছ কেটে নিয়েছে। শামছুল হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, গাছগুলো সামাজিক বনায়নের নয়। সদ্য বিদায়ী মহিষমারা বিট কর্মকর্তা আওলাদ হোসেন জানান, মোটের বাজার এলাকার গাছ চুরির ঘটনায় ওমর ফারুকের নামে মামলা হয়েছে। এখন সিএফডব্লিউওরা তাদেরকে সহযোগিতা করে। কিভাবে জমি ও বন উদ্ধার হবে এ প্রশ্ন তারও।
শোলাকুড়ি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও মধুপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং স্থানীয় বন ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ইয়াকুব আলী বলেন, ওই জমির মধ্যে কিছু জমি তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি। তবে বেশ কিছু জমি বনবিভাগ সামাজিক বনায়ন করেছে। সব জমি সামাজিক বনায়ন করলে তাদের কোন আপত্তি থাকবে না।
অরণখোলা ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবর রহমান বলেন, বনবিভাগ ওই জমি ১০ বছরের জন্য তাকে প্লট করে দিয়েছেন। তার সেই দলিলও রয়েছে।
এদিকে বনভূমি জবরদখল ও সামাজিক বনায়নের গাছ চুরি অব্যাহত রয়েছে। বন এলাকার ১০ কিলোমিটারের মধ্যে স’মিল স্থাপনের বিধান না থাকলেও বন বিভাগের গুটিকয়েক কর্মকর্তাদের অনৈতিক সুবিধা দিয়ে অনুমোদনহীনভাবে চলছে স’মিল। এসব মিলে দিনরাত চলছে বনের কাঠ চিরাই। চুরি হচ্ছে বনের গাছ। বন বিভাগের নজরদারির অভাবে বিভিন্ন প্লটের গাছ কেটে নেয়া হচ্ছে।
হাজীপাড়া এলাকার খোরশেদ আলম জানান, ওমর ফারুক মহিষমারা বিটের বনায়ন ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক। সামাজিক বনায়ন ব্যবস্থাপনা কমিটির দায়িত্বে থেকেও অবাধে গাছ কেটে সামাজিক বনায়ন উজার করছেন। মহিষমারা বিটের বনায়ন ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, অংশীদারি খোরশেদ আলম আসবাবপত্র বানানোর জন্য তার কাছে গাছ চেয়েছিল বিধায় গাছ কাটা হয়েছে। গাছ চাইলেই আপনি সরকারী গাছ কাটতে পারেন কিনা? এমন প্রশ্নের কোন জবাব দেননি। ফারুক আওয়ামীলীগের নেতা হওয়ায় তার বিরুদ্ধে স্থানীয়রা মুখ খুলতে সাহস পায় না। তার বিরুদ্ধে একাধিক বন মামলাও রয়েছে।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা সাজ্জাদুজ্জামান জানান, জবরদখল মুক্ত করতে কর্মকর্তাদের সদিচ্ছার অভাব নেই ।ইতোমধ্যে বনের জবরদখলকৃত জমির তালিকা মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছে। সরকারে সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
জেলা প্রশাসক ড. মোঃ আতাউল গনি সম্প্রতি মধুপুরে সামাজিক বনায়ন কর্মসুচি উদ্বোধন করতে গিয়ে বনের জবরদখলকৃত এক ব্যক্তির লেবু বাগান দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বনের জমি এভাবে দখল থাকতে পারে না। দখলকারী যতবড় প্রভাবশালী লোকই হোক না কেন তাদের উচ্ছেদ করে বনের জীব বৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষা করা হবে। ইতিমধ্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি থেকে জেলা প্রশাসকদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। সেখানে অবৈধ দখলে থাকা বনভুমি উদ্ধারে একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরী এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ,বাজার ও ব্যক্তি পর্যায়ে জমি উদ্ধারে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তাই জবরদখলকারীদের দ্রুত উচ্ছেদ করা হবে।
প্রতিবেদকঃ মো. আরমান কবীর সৈকত
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় স্কুলপড়ুয়া এক ছাত্রীকে (১২) উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে এক যুবককে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার(৪ এপ্রিল) সকালে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাকিয়া সুলতানা ওই প্রবাসীকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম মো. লুৎফর রহমান (৩০)। সে উপজেলার কালিয়ান পাড়া গ্রামের করিম মিয়ার ছেলে। লুৎফর বিবাহিত হলেও বউ তাঁকে ছেড়ে চলে গেছেন।
উপজেলা প্রশাসন ও ওই ছাত্রীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, লুৎফর রহমান প্রায় বছর খানেক আগে সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফেরেন। বউ চলে যাওয়ায় সে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছেন। ষষ্ঠ শ্রেণিপড়ুয়া এক ছাত্রীকে বেশ কিছুদিন ধরে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করছিলেন লুৎফর। ওই মেয়েকে তাঁর কাছে বিয়ে না দিলে মেরে ফেলবেন বলে মেয়ের বাবাকে হুমকিও দেন। উত্ত্যক্ত করার বিষয়ে মেয়ের বাবা সোমবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে এ বিষয়ে একটি অভিযোগ দেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ লুৎফর রহমানকে সকাল ১১টায় আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করেন। আদালত ঘটনার সত্যতার প্রমাণ পাওয়ায় লুৎফরকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। পুলিশ বিকেলেই লুৎফরকে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠিয়েছে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাকিয়া সুলতানা বলেন, ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় ওই যুবককে এক বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে বন্ধুর হয়ে (প্রক্সি) পরীক্ষা দিতে আসায় রায়হান কবির নামে এক যুবককে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সোমবার (৪ এপ্রিল) টাঙ্গাইল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে তাকে আটক করা হয়। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বাবলী শবনম অভিযুক্ত রায়হানকে এক বছরের কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা জরিমানা করেন। তিনি ওই কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী।
জানা গেছে, সকালে টাঙ্গাইল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট কেন্দ্রে টাঙ্গাইল শহরের অক্সফোর্ড কলেজ অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির চতুর্থ সেমিস্টারের ড্রয়িং-২ (ক্যাড) বিষয়ের পরীক্ষা শুরু হয়। পরীক্ষা চলাকালীন প্রক্সি দিতে আসা রায়হান কবিরের প্রবেশপত্রে মূল পরীক্ষার্থীর ছবির মিল না পাওয়ায় ওই কক্ষে দায়িত্বরত শিক্ষক খাতাটি নিয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেনকে অবগত করেন। পরে রায়হানকে ওই কেন্দ্রের অধ্যক্ষের কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তিনি জানান, টাঙ্গাইল শহরের অক্সফোর্ড কলেজ অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে অষ্টম পর্বে অধ্যয়নরত তার বন্ধু সায়েমের পরিবর্তে পরীক্ষা দিতে এসেছেন।
কেন্দ্র সচিব টাঙ্গাইল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ বিএম আমিনুল ইসলাম বলেন, সায়েমের পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া তাকে পরবর্তী তিন শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি না দিতে সুপারিশ করা হয়েছে।
ম্যাজিস্ট্রেট বাবলী শবনম বলেন, রায়হান কবির তার বন্ধু সায়েমের রেফার্ড পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে টাঙ্গাইল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট কেন্দ্রে যান। পরে শিক্ষকরা তার প্রবেশপত্র ও কাগজপত্র যাচাই করলে রায়হান ভুয়া প্রমাণ হয়। তাকে এক বছরের জেল দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দুইশ’ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।