একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সৃষ্টি একাডেমিক স্কুলের ছাত্রাবাসে শিশু শিক্ষার্থী শিহাব মিয়াকে হত্যা মামলায় ওই স্কুলের এক শিক্ষককে মঙ্গলবার (২৮ জুন) পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
ওই শিক্ষকের নাম আবু বক্কর (৩৫)। তিনি সৃষ্টি একাডেমিক স্কুলের আবাসিক শিক্ষক। রোববার (২৬ জুন) রাতে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। শিহাবের মা আসমা আক্তার বাদী হয়ে সোমবার (২৭ জুন) আবু বক্করকে প্রধান আসামি করে ছয় শিক্ষকের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাত আরও সাত/আট জনকে আসামি করা হয়।
টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন জানান, মামলা দায়েরের পর আবু বক্করকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
টাঙ্গাইলের আদালত পরিদর্শক তানভীর আহমেদ জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হাবিবুর রহমান সাত দিনের রিমান্ড চান। শুনানি শেষে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. শামসুল আলম পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
প্রকাশ, গত ২০ জুন শহরের বিশ্বাস বেতকা সুপারি বাগান এলাকার সৃষ্টি একাডেমিক স্কুলের ছাত্রাবাস থেকে পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র শিহাবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ছাত্রাবাসের আবাসিক শিক্ষকরা তার মরদেহ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।
শিহাব সখীপুর উপজেলার বেরবাড়ী গ্রামের প্রবাসী ইলিয়াস হোসেনের ছেলে। শিহাবকে চার মাস আগে সৃষ্টি একাডেমিক স্কুলে ভর্তি করা হয়। সে সুপারি বাগান এলাকায় ওই স্কুলের ছাত্রাবাসে সপ্তম তলায় থাকতো।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে মর্গে শিহাবের ময়না তদন্ত হয়। শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগে সহকারী অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম মিয়ার নেতৃত্বে তিন সদস্যের চিকিৎসক দল শিহাবের ময়না তদন্ত করেন। গত রোববার (২৬ জুন) টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন আবুল ফজল মো. সাহাবুদ্দিন খান ময়না তদন্তের প্রতিবেদন পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পাঠান। শিহাবকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
শিহাবের মরদেহ উদ্ধারের পর মৃত্যুর কারণ ও হত্যায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে দফায় দফায় মানববন্ধন এবং বিক্ষোভ মিছিল করেছে শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (২৮ জুন) দুপুরে শহরের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে শিহাব হত্যার বিচারের দাবিতে জেলা ছাত্রলীগ সমাবেশ করে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে সৃষ্টি স্কুলের আবাসিকের পঞ্চম শ্রেণীর শিশু শিক্ষার্থী শিহাবের হত্যার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৭ জুন) দুপুরে টাঙ্গাইল শহরের নিরালা মোড় সংলগ্ন টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় সহস্রাধিক ছাত্র-ছাত্রী ওই কর্মসূচি পালন করে। মানববন্ধন শেষে তারা একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- জান্নাতুল মাওয়া শ্যামন্তী, ফারহান নিঝুম, মেহেদী হাসান, আসলাম প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা- পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র শিহাব মিয়ার হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এদিকে, সৃষ্টি একাডেমিক স্কুলের আবাসিকে শিহাবের লাশ উদ্ধারের পর থেকেই সাধারণ শিক্ষার্থী, সচেতন মহল, ছাত্রলীগ ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে টাঙ্গাইল ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন জায়গায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে আসছে। তার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় রবিবার (২৬ জুন) ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় রবিবার বিকেলে র্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে সৃষ্টি একাডেমিক স্কুলের অধ্যক্ষসহ ৯ শিক্ষককে আটক করা হয়।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার জানান, রোববার(২৬ জুন) বিকেল ৪টার দিকে সৃষ্টি স্কুলের আবাসিকের দুই শিক্ষক আবু বকর ও মো. নাসিরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।
আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে র্যাব কমান্ডার এএসপি এরশাদুর রহমান জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র্যাব ৭ শিক্ষককে ও সদর থানার পুলিশ দুই শিক্ষককে নিয়ে গেছেন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

প্রসঙ্গত, গত ২০ জুন সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল শহরের বিশ্বাস বেতকা সুপারি বাগান এলাকায় সৃষ্টি স্কুলের আবাসিক ভবন থেকে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র শিহাব মিয়ার লাশ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান ভবনে দায়িত্বরত শিক্ষকরা।
মৃত শিহাব মিয়া (১১) জেলার সখিপুর উপজেলার বেরবাড়ি গ্রামের প্রবাসী ইলিয়াস হোসেনের ছেলে।
ওইদিন শিশুটিকে হত্যার অভিযোগ আনে তার পরিবার। পরে লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পারিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ।
এঘটনায় প্রাথমিক পর্যায়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে আব্দুর রহিম হত্যা মামলায় চারজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আসামিদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো তিন মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।সোমবার (২৭ জুন) দুপুরে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মোরশেদ আলম এ রায় দেন।
অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ১১জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
২০১৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর অপর আসামি ময়েজ উদ্দিন মৃত্যুবরণ করায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- ধনবাড়ী উপজেলার রামজীবনপুর গ্রামের মৃত ময়েজ উদ্দিনের ছেলে সেজনু মিয়া ও মিজানুর রহমান, একই গ্রামের ফয়জ উদ্দিনের ছেলে মুনসুর আলী এবং গঙ্গাবর গ্রামের মৃত আলী ফকিরের ছেলে জামাল ফকির।
সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে সেজুন মিয়া পলাতাক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আদালতের সরকারি কৌশলী (পিপি) এস আকবর খান জানান, ২০০৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার রামজীবনপুর গ্রামে আসামিরা একটি জমি দখলে নিয়ে চাষাবাদ করতে যান। জমির মালিক আব্দুর রহিম তাদের বাধা দেয়। এ সময় আসামিরা লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আব্দুর রহিমকে গুরুতর আহত করে। আহত অবস্থায় আব্দুর রহিমকে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন ৩১ ডিসেম্বর আব্দুর রহিম মারা যান।
তিনি আরো জানান, ওই ঘটনায় নিহতের ছেলে মো. সুলতান মিয়া ২০০৫ সালের ৩ জানুয়ারি ধনবাড়ী থানায় ১৬ জনকে আসামি করে মামলা করেন। ধনবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহবুবুল আলম ২০০৫ সালের ২৭ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০০৭ সালের ১৬ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ গঠন করা হয়। দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত রায় ঘোষণা করলেন।
একতা কন্ঠ: টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে আটিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কার পরাজিত প্রার্থী কৃষ্ণকান্ত দে সরকারকে পিটিয়ে আহত করেছে দলের জলের ভিতর থাকা প্রতিপক্ষ একটি গ্রুপ। রোববার (২৬ জুন) বিকেলে উপজেলার ছিলিমপুর বেবিস্ট্যান্ডে ওই হামলার ঘটনাটি ঘটে। কৃষ্ণক্রান্ত দে বর্তমানে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। হামলার এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
আহত কৃষ্ণকান্ত আটিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক।
জানা যায়, গত বুধবার (১৫ জুন) সম্পন্ন হওয়া উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে কৃষ্ণকান্ত দে সরকার নির্বাচনে পরাজিত হন। হামলাকারীরা নৌকার বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে ঘোড়া প্রতিকের নির্বাচন করেন। এ নিয়ে কৃষ্ণকান্ত দে দলীয় কোন্দল ও শৃঙ্খলার অভাবকে দায়ী করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন। এ ঘটনার জেরে রোববার বিকেলে কৃষ্ণকান্ত টাঙ্গাইল শহর থেকে ফেরার পথে উপজেলার ছিলিমপুর বেবিস্ট্যান্ডে পৌঁছালে তার উপর হামলা করা হয়।
এ প্রসঙ্গে কৃষ্ণ কান্ত দে বলেন, হামলাকারীরা নৌকার বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে ঘোড়া প্রতিকের নির্বাচন করেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক অর্থ বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান কাঠের লাঠি দিয়ে এলোপাথারী পেটাতে শুরু করে। হাবিবের সঙ্গে তার সহযোগী কামরুজ্জামান কফি, ওহাব ও আটিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোজাহারুল ইসলাম মন্টুর ভাই কাওছারও মারপিট শুরু করে। তার চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এলে তারা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় রাতেই মামলা করা হবে বলে জানিয়েছে কৃষ্ণ কান্ত দে।
এসময় কৃষ্ণকান্তের স্ত্রী স্কুল শিক্ষিকা দূর্গা রানী সরকার কেও অপমান করে হামলাকারীরা।
দেলদুয়ার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শিবলী সাদিক জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। ফেসবুকে নির্বাচন কেন্দ্রীক পোষ্ট দেওয়ায় এ ঘটনা ঘটেছে। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দলীয় এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দেলদুয়ার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাছির উদ্দিন জানান, নির্বাচন সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে সৃষ্টি স্কুলের আবাসিক ছাত্র শিহাবকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে ময়নাতদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে। রোববার (২৬ জুন)দুপুরে টাঙ্গাইল সিভিল সার্জন আবুল ফজল মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
টাঙ্গাইল সিভিল সার্জন আবুল ফজল মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা লুৎফর রহমান আজাদকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট ময়নাতদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন, ডাক্তার তানভীর আহম্মেদ ও আবাসিক ফিজিসিয়ান ডাক্তার মো. কামরুজ্জামান। শরীরে কোনো দাগ বা আঘাতের চিহ্ন নেই। শুধু গলায় দাগের চিহ্ন রয়েছে। সেখানে কোনো কিছু পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে ময়নাতদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিহত শিহাব টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার বেরবাড়ী এলাকার সিঙ্গাপুর প্রবাসী ইলিয়াস হোসেনের ছেলে।
গত সোমবার (২০ জুন)সৃষ্টি স্কুলের আবাসিক হলের বাথরুম থেকে শিহাবের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় শিহাবের বাবা স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে শিহাবকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। ফুঁসে উঠে স্কুলের শিক্ষার্থীরাও। তারাও হত্যায় জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবিতে শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করে।
নিহত শিহাবের চাচা তুষার আহম্মেদ বলেন, আমরা আগেই বলেছিলাম শিহাবকে হত্যা করা হয়েছে। এত ছোট ছেলে আত্মহত্যা করতে পারে না। আমরা স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করব।
সৃষ্টি শিক্ষা পরিবারের চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম রিপন বলেন, এ ঘটনার সাথে যেই জড়িত থাকুক সুষ্ঠু তদন্ত করে তাকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছি প্রশসানের কাছে।
টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন জানান, সৃষ্টি স্কুলের আবাসিক হলের বাথরুম থেকে ওই ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। তখন থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। এখন ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন অনুয়ায়ী হত্যা মামলা হবে।
পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার জানান, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন অনুয়ায়ী অবশ্যই হত্যা মামলা হবে। রোববার বিকেল ৪টার দিকে সৃষ্টি স্কুলের আবাসিকের দুই শিক্ষক আবু বকর ও মো. নাসিরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।
উল্লেখ্য,শিহাবের ফুপাতো ভাই আল আমিন সিকদার জানান, জানুয়ারি মাসে শিহাবকে সৃষ্টি স্কুলের আবাসিকে ভর্তি করা হয়। পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র শিহাব নিয়মিত ভালোভাবেই পড়াশোনা করছিল। হঠাৎ গত সোমবার বিকেলে সৃষ্টি স্কুল থেকে ফোন দিয়ে বলা হয় শিহাব অসুস্থ। আপনারা তাড়াতাড়ি আসেন। পরবর্তীতে ওই নাম্বারে ফোন দিয়ে শিহাবের অসুস্থতার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে স্কুল কর্তৃপক্ষ থেকে বলা হয় সিএনজি দুর্ঘটনায় সে আহত হয়েছে।
পরে তাড়াহুড়ো করে সৃষ্টি স্কুল ভবনের কাছে গেলে সেখানে ঢুকতে না দিয়ে তারা বলে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে যাওয়ার জন্য। হাসপাতালে আসার পর শুনতে পাই শিহাব মারা গেছে। স্কুলের শিক্ষকদের ভাষ্য স্কুলের আবাসিকের বাথরুমে শিহাব আত্মহত্যা করেছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের খবর জানতে পেরে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন খালেদা আক্তার (৩২) নামের এক গৃহবধূ।শনিবার (২৫ জুন) সকালে জয়দেবপুর-যমুনা সেতু রেল সড়কের মির্জাপুর উপজেলার ধেরুয়া রেল সেতু এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে।
খালেদা উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের রশিদ দেওহাটা গ্রামের আনোয়ার হোসেনের প্রথম স্ত্রী।
এলাকাবাসী জানান, রশিদ দেওহাটা গ্রামের হালিম মিয়ার ছেলে আনোয়ার হোসেন মীর দেওহাটা গ্রামের খালেদা আক্তারকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে তিন সন্তান রয়েছে। আনোয়ার দুই বছর আগে রশিদ দেওহাটা গ্রামের মোহাম্মদ আলীর মেয়ে রাশেদা আক্তারকেও গোপনে বিয়ে করেন। বিষয়টি গত এক সপ্তাহ আগে প্রথম স্ত্রী খালেদা জানতে পারেন। এরপর থেকে তাদের সংসারে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়।
শনিবার সকালে এ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ধেরুয়া রেল সেতু এলাকায় ঈশ্বরদী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ঢাকা কমিউটার (৯৯) ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন খালেদা।
গোড়াই ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও রশিদ দেওহাটা গ্রামের বাসিন্দা মো. কামরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এ বিষয়ে মির্জাপুর রেল স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. কামরুল হাসান জানান, খবরটি গাজীপুরের জিআরপি পুলিশকে জানানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল শহরের বেড়াডোমা এলাকায় লৌহজং নদীর উপরে ধসে পড়া নির্মাণাধীন সেতুটি ঠিকাদারকে নিজ খরচে পুরোটা ভেঙে নতুন করে নির্মাণ কাজ করতে হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
মঙ্গলবার (২১ জুন) সকালে ধসে পড়া সেতু পরিদর্শন শেষে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক একেএম রশিদ আহম্মদসহ তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ কথা জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আরো জানায়,ধসে পড়া সেতুর ৫৫ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ায় কয়েক ধাপে ৬০ শতাংশ বিল পরিশোধ করা হয়েছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে। তবে সেতুটি পুনরায় সম্পন্ন শেষ হওয়ার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বাকি বিল পরিশোধ করা হবে।
পৌরসভা সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের আওতায় টাঙ্গাইল পৌরসভা অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছিল। ৮ মিটার প্রশস্ত ও ৪০ মিটার দীর্ঘ সেতুর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৬০ লাখ ১৮ হাজার ৮৪১ দশমিক ৩৩ টাকা। ঢাকার ব্রিক্সস এন্ড ব্রিজ লিমিটেড এবং দি নির্মিতি নামের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে কাজটি নির্মাণের দায়িত্ব পায়। ২০২০ সালের ৫ নভেম্বর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সেতু নির্মাণের চুক্তি হয়। কিন্তু টাঙ্গাইল সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আমিরুল ইসলাম খান ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা মো. জামিলুর রহমান খানের নেতৃত্বে স্থানীয় ১০ জন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী কাজটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নিয়ে নেন। পরে তারা এটি বাস্তবায়ন শুরু করেন।
সেতু নির্মাণের তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত টাঙ্গাইল পৌরসভার প্রকৌশলীরা জানান, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তারা যেমন মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কাজটি নিয়ে নেন, ঠিক তেমনিভাবে সেতু নির্মাণ কাজেও ছিল অনেক অবহেলা। তাদের মৌখিক ও লিখিতভাবে একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হলেও তারা তা মানেননি। নির্মাণের বিভিন্ন স্তরে দরপত্রে উল্লেখিত নির্দেশনা মোতাবেক কাজ না করে নিজেদের খেয়ালখুশি মতো কাজ করেন।
ব্রিক্সস এন্ড ব্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপক মোস্তফা মুহাম্মদ মাসুদ জানান, তারা এবার নিজেদের তত্ত্বাবধানে সেতুটি পুনরায় নির্মাণ করবেন। তাদের সঙ্গে টাঙ্গাইলের ঠিকাদাররাও থাকবে। তবে সব কিছু তিনি দেখাশোনা করবেন।
তিনি আরও জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে সেতুটি ভেঙে পুনরায় নির্মাণ শুরু করা হবে। কর্তৃপক্ষ যদি এ বিষয়ে অঙ্গীকারনামা চান তাহলে তাই দেওয়া হবে। আর সেতুটি পুনরায় নির্মাণ কাজ করার সময় দরপত্রে উল্লেখিত সকল শর্ত মেনে কাজ করা হবে।
টাঙ্গাইল পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী শিব্বির আহমেদ আজমী জানান, ধসে পড়া সেতুটি ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করা হবে। তবে সেতুটি ভেঙে ফেলতে সকল ব্যয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বহন করবে। সব নির্দেশনা মেনে সেতুটি যাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে পুনরায় নির্মাণ কাজ শুরু করে, সেজন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে অঙ্গীকারনামা নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাবুল(২৮) ও ছোটন(১৮) নামে দুই ছিনতাইকারীকে আটক করেছে র্যাব। রোববার (১৯ জুন) ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন- নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার চনপাড়া গ্রামের রনির ছেলে বাবুল (২৮), একই গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে ছোটন (১৮)।
রোববার দুপুরে র্যাব-১২, সিপিসি-৩, টাঙ্গাইলের কোম্পানী কমান্ডার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান প্রেসবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানান, আটককৃতদের কাছ থেকে ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত দুইটি অত্যাধুনিক ছুরি, দুইটি মোবাইল ফোন ও একটি সিম কার্ডসহ উদ্ধার করা হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়,তাদের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল সদর মডেল থানায় ১৮৬০ সালের ৩৯৩ও ৩৯৮ (পেনাল কোড) ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার তক্তারচালা গ্রামে অভিযান চালিয়ে ৪০ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক ব্যবসায়িকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শুক্রবার (১৭ জুন) রাতে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার বড় কাঞ্চনপুর গ্রামের মো. জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে মো. রাইসুল ইসলাম(২৮), টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার হাটুভাঙ্গা চিতেশ্বরী গ্রামের মো. বাছেদ খানের ছেলে মো. উজ্জল খান (৩৩) ও শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার সন্যাসী ভিটা গ্রামের মৃত হাফিজুর রহমানের ছেলে মো. নয়ন হোসেন(২০)।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি দক্ষিণ) অফিসার ইনচার্জ (ওসি)মো. দেলোয়ার হোসেন শনিবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ডিবি দক্ষিণের একটি দল এস আই রাইজ উদ্দিন এর নেতৃত্বে সখীপুর উপজেলার তক্তারচালা গ্রামে অভিযান চালায়। অভিযানে ৪০ কেজি গাঁজা ও একটি মাইক্রোবাসসহ ওই তিন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়। জব্দকৃত গাঁজার বাজার মূল্য প্রায় ৮ লাখ টাকা।
তিনি আরো জানান,গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে শনিবার(১৮ জুন) সখীপুর থানায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে আদালতের আদেশ অমান্য করায় পশুখাদ্য ব্যবসায়ী নজরুল ইসলামকে ৬ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
শুক্রবার (১৭ জুন) বিকেলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা আলম এ আদেশ দেন।
ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের মৃত আবদুল গণির ছেলে।
এর আগে গত ৬ জুন ওই ব্যবসায়ীকে বিষাক্ত পশুখাদ্য তুলা বিক্রির দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় একই সঙ্গে প্রায় দুই টন বিষাক্ত তুলা পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এছাড়াও ওই ব্যবসায়ীর চারটি স্টকে রাখা তুলার গুদাম সিলগালা করে দেয় আদালত।
আদালত সূত্রে জানা যায়, পৌরসভার জামতলা এলাকায় রোজা এন্টারপ্রাইজের মালিক নজরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে পোশাক কারখানার পরিত্যক্ত ঝুট বা কাপড়ের অংশ দিয়ে তৈরি করা তুলা বিকল্প গোখাদ্য বিক্রি করে আসছিল। তিনি উপজেলাজুড়ে খুচরা ও পাইকারী বিক্রি করতো।
এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা আলম জানান, গত ৬ জুন বিষাক্ত পশুখাদ্য তুলা বিক্রির অপরাধে ওই ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও প্রায় দুই টন তুলা পুড়ানো হয়। তার স্টকে রাখা বিষাক্ত তুলার চারটি গুদাম সিলগালা করে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে তুলা নষ্ট বা পুড়িয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু ওই ব্যবসায়ী গোপনে গুদামের তালা ভেঙ্গে তুলা অন্যত্র সরিয়ে ফেলে। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে শুক্রবার বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে এর সত্যতা পায় আদালত। ফলে ওই ব্যবসায়ীকে সরকারি আদেশ অমান্য করায় ৬ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
একতার কণ্ঠঃ শেষ মুহূর্তে এসে টাঙ্গাইলের আরও দুটি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। এ ইউনিয়ন দুটি হচ্ছে গোপালপুর উপজেলার হেমনগর এবং মধুপুর উপজেলার ফুলবাগচালা।
নবম ধাপে এই দুটি ইউনিয়নসহ বুধবার(১৫ জুন) জেলার ২২টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণের কথা ছিল। এর আগে রোববার(১২ জুন) মধুপুরের অরণখোলা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন স্থগিত করা হয়।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এ এইচ এম কামরুল হাসান জানান, গোপালপুরের হেমনগর ইউনিয়নের সীমানাসংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে এক ব্যক্তি উচ্চ আদালতে রিট করেন। ওই রিটের শুনানিতে ইউনিয়ন দুটির নির্বাচন স্থগিতের আদেশ দেন আদালত। আদালতের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন হেমনগর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন স্থগিত করে। সেই সঙ্গে ভোটার তালিকা নিয়ে কিছু জটিলতা থাকায় স্থগিত করা হয়েছে ফুলবাগচালা ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন।
বিষয়ে নির্বাচন কমিশন থেকে চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে জেলা নির্বাচন অফিস।
এর আগে আওয়ামী লীগের এক নেতা নৌকায় যাঁরা ভোট দেবেন না, তাঁদের ভোটকেন্দ্রে আসতে নিষেধ করে বক্তৃতা দেওয়ায় এবং নানা হুমকি দেওয়ায় মধুপুরের অরণখোলা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তিকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত থাকবে বলে আদেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে তার জামিন বিষয়ে রুল তিন সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হাইকোর্ট বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে সাবেক মেয়র মুক্তিকে কারাগারেই থাকতে হচ্ছে।
সোমবার (১৩ জুন) সকালে প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন।
আদালতে মুক্তির পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিত দেবনাথ।
এর আগে গত ২৮ এপ্রিল ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তিকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। একইসঙ্গে মামলাটি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
গত ২৭ এপ্রিল এই মামলায় সহিদুর রহমান খান মুক্তিকে জামিন দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। পরে হাইকোর্টের জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।
গত ১০ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা দায়রা জজ মাসুদ পারভেজ মুক্তিকে জামিন দেন। পরে ২৮ ফেব্রুয়ারি তার অন্তর্বর্তী জামিন বাতিল হয়। এরপর হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন মুক্তি।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি নিহত হন টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফারুক আহমেদ। তার গুলিবিদ্ধ লাশ কলেজপাড়ার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার হয়। এ ঘটনার তিন দিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ২০১৪ সালের আগস্ট মাসে গোয়েন্দা পুলিশ আনিসুল ইসলাম রাজা ও মোহাম্মদ আলী নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করে। আদালতে এ দুই আসামির দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যার সঙ্গে জড়িত সাবেক সাংসদ আমানুর রহমান খান রানা। তার তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন এবং ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পার জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে আসে।
পরে অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যান। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তৎকালীন সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান ও তার অপর তিন ভাইসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেয় গোয়েন্দা পুলিশ। আমানুর রহমান খান রানা ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে আত্মসমর্পণ করেন। প্রায় তিন বছর হাজতবাসের পর তিনি জামিন পেয়ে মুক্ত আছেন। তাদের অপর দুই ভাই আত্মগোপনে রয়েছে।