একতার কণ্ঠ ডেস্ক: টাঙ্গাইল সদর উপজেলার হুগড়া ইউনিয়নের কাজীর বাজার এলাকায় যমুনা নদীতে অবৈধ ড্রেজার এর মাধ্যমে বালু উত্তোলনের দায়ে, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ এর ৪(খ) ধারা লংঘন করায়, হুগড়া গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে তোফাজ্জল হোসেনকে ৫০০০০/ ( পঞ্চাশ হাজার) টাকা ও পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে একই এলাকার মোঃ চান মোল্লার ছেলে মাজেদুর রহমানকে ১০০০০/-(দশ হাজার) টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
সোমবার(২৬ এপ্রিল) দুপুরে, টাঙ্গাইল সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি )ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ খায়রুল ইসলামের নেতৃত্বে এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা হয়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ খায়রুল ইসলাম জানান, অবৈধ ড্রেজার এর বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে একটি প্রাইভেটকারসহ ডাকাত দলের ৪ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার( ২২ এপ্রিল) রাতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উপজেলার কোদালিয়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার(২৩ এপ্রিল) তাদের ৪ দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো পটুয়াখালী জেলার মির্জাগজ্ঞ থানার নতুন শ্রীনগর গ্রামের ইলিয়াস হাওলাদারের ছেলে জুয়েল হাওলাদার (২৭), একই জেলা সদরের কালিচন্না গ্রামের চান মিয়ার ছেলে নুর আমিন (২৪) শরীয়পুর জেলার জাকিরা উপজেলার পালেরচর গ্রামের সিরাজ মিয়ার ছেলে মুরাদ (২৫), বড়গুনা জেলার আমতলী উপজেলার বনইবুনিয়া গ্রামের মাজেদ মৃধার ছেলে নজরুল মৃধা (৩২)।
পুলিশ জানায়, মহাসড়কে প্রাইভেটকার অথবা মাইক্রোবাস নিয়ে নিজেরাই যাত্রী ও চালক সেজে যানবাহনের জন্য অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের কম টাকা ভাড়ায় গন্তব্যে পৌছে দেয়ার কথা বলে গাড়ীতে উঠাতেন। পরে সুবিধামতো জায়গায় পৌঁছে তাদের অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে গলায় গামছা পেঁচিয়ে সর্বস্ব লুটে নিতো। অনেক সময় চলন্ত গাড়ী থেকে লাথি মেরে ফেলে দিয়ে পালিয়ে দিতো। কোন কোন ক্ষেত্রে অনেক যাত্রীকে মেরেও ফেলে।
গ্রেপ্তারকৃতরা মহাসড়কের বাইপাইল-চন্দ্রা-টাঙ্গাইল এবং গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস থেকে মিরের বাজারসহ আশপাশের এলাকায় অপরাধ সংগঠিত করতো বলে মির্জাপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ রিজাউল হক জানিয়েছেন।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুরে বালু মহালে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) তারিন মসরুরের নেতৃত্বে পরিচালিত মোবাইল কোর্টে হামলা চালিয়েছে অবৈধ বালু ব্যবসায়ীরা। হামলাকারীরা এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও নাগরপুর উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা তারিন মসরুরকে শারীরিক ভাবেও লাঞ্ছিত করে। বৃহস্পতিবার(২২ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার দপ্তিয়র ইউয়িনের বাগ কাটারী বালু মহালে এ ঘটনা ঘটে।
পরে এই ঘটনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)ও র্যাব-১২ কে অবহিত করা হয়। টাঙ্গাইল র্যাব-১২ এর ডিএডি মো.আক্তারুজ্জামানের নেতৃত্বে র্যাবের একটি দল ও নাগরপুর থানা পুলিশ ঘটনা স্থলে পৌছে ভূমি কর্মকর্তাকে উদ্ধার ও হামলাকরী সেনা সদস্য শরিফ উদ্দিন সহ ২ জন কে আটক করে।
উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) তারিন মসরুর জানান, উপজেলার বাগ কাটারী যমুনার শাখা নদীতে দীর্ঘদিন যাবৎ প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এক শ্রেণীর অবৈধ বালু ব্যবসায়ী ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছিল। এমন সংবাদে বৃহস্পতিবার বিকেলে সরেজমিন ঘটনাস্থলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এ সময় অবৈধ বালু উত্তোলনের দায়ে জাহাঙ্গীর ও উজ্জ্বল নামে দুই অবৈধ বালু ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। এ খবরে ক্ষিপ্ত হয়ে সেনা সদস্য শরীফ উদ্দিন দল বল নিয়ে মোবাইল কোর্টে হামলা করে তাকে শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত ও আটককৃতদের ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।
সেনাসদস্য শরিফ উদ্দিন (আইডি নং-১৩০৫৭২)কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে কর্মরত। তার গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলায়। সে বর্তমানে দুই মাসের ছুটিতে রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত-ই-জাহান সন্ধ্যায় তাঁর কার্যালয়ে সাংবাদিকদের জানান, হামলাকারী সেনা সদস্য শরিফউদ্দিনকে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। শুক্রবার(২৩ এপ্রিল) তাকে ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্টে হস্তান্তর করা হবে। পরে সেনা আইনে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলেও জানান ইউএনও সিফাত-ই-জাহান।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে করোনার মধ্যে সরকারি বিধি নিষেধ উপক্ষো করে বিএন কোচিং সেন্টার খোলা রাখায় মালিককে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমান আদালত। বৃহস্পতিবার(২২ এপ্রিল) সকালে ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) জুবায়ের হোসেন এ জরিমানা করেন।
জানা যায়, সদরের কলেজ রোডস্থ ফারুক ভিলার নীচতলায় অবস্থিত বিএন কোচিং সেন্টারে নিয়মিত ছাত্র-ছাত্রীদের কোচিং করানো হয়। সকালে সেখানে অভিযান চালিয়ে ঘটনার সত্যতা পায় ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক। সেন্টারের মালিক উপজেলার আজগানা ইউনিয়নের লতিফপুর গ্রামের নাজির আহমেদকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
একই দিন উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে জনসচেতনা বৃদ্ধির লক্ষে সদরে মাইকিংও করা হয়। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে জানিয়েছেন এসিল্যান্ড জুবায়ের হোসেন।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে চাঁদাবাজি মামলায় পিতা শামসুল আলম (৬৫) পুত্র সরোয়ার আলমকে (৩৫) গ্রেফতার করেছে সখীপুর থানা পুলিশ। পরে সোমবার(১৯ এপ্রিল) সকালে তাদের টাঙ্গাইল আদালতে উপস্থিত করা হলে বিজ্ঞ আদালত তাদের জেল হাজতে প্রেরণ । তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবজি, জমি লুট,অগ্রণী ব্যাংক নলুয়া বাজার শাখায় ৬লাখ টাকার ঋণ খেলাপি সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
প্রকাশ, রবিবার (১৮ এপ্রিল) শামসুল আলমের ভাই স্কুল শিক্ষক শামীম আল মামুনের দায়ের করা চাঁদাবাজি মামলায় তাদেরকে উপজেলার বহুবিয়া চতলবাইদ গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়।
এ ব্যাপারে সখীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওমর ফারুক বলেন, চাঁদাবাজি মামলায় বাপ- বেটাকে গ্রেফতার করে সোমবার সকালে টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হয়। পরে বিজ্ঞ আদালত তাদের জেল হাজতে প্রেরণ করেন।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলে কঠোরভাবে পালন করা হয়েছে প্রথম দিনের লকডাউন। জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশের চেকপোস্টে কঠোর নজরদারি ছিল। ফলে প্রয়োজন ছাড়া সাধারন মানুষকে খুব বেশী ঘর থেকে বের হতে দেখা যায়নি।
জরুরি প্রয়োজনে কিছু মানুষ ঘর থেকে বের হলেও গণপরিবহন, মার্কেট ও বিপনি বিতান বন্ধ ছিল। পুলিশের পাশাপাশি র্যাবসহ জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে মোবাইল টিম মাঠে কাজ করছে। টাঙ্গাইল থেকে ঢাকাসহ বিভিন্ন রুটে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
সকাল থেকেই জেলায় লকডাউন বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃংখলা বাহিনী মাঠে তৎপরতা ছিল চোখে পরার মতো। টাঙ্গাইল শহরসহ মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহন চলাচলে লকডাউনের নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে দেখা গেছে। অকারণে কেউ যানবাহন নিয়ে বের হলে তাদের বুঝিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছে পুলিশ। কেউ লকডাউনের নির্দেশ অমান্য করলে বাধ্য হয়ে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
এদিকে শহরের বটতলা বাজার, পার্ক বাজার সহ বিভিন্ন বাজারে নিত্যপ্রয়োজনী দ্রব্য সামগ্রী ও কাঁচা বাজারের দোকানপাট খোলা থাকলেও বাজারে ক্রেতা কম। বাজারে আসা বেশির ভাগ লোকদের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে দেখা যায়নি।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে মহাসড়কের পাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং ফুটপাত দখল মুক্ত করতে অভিযান পরিচালনা করেছেন ভ্রাম্যমান আদালত।
মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার অঞ্জন কুমার সরকার এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন।
টাঙ্গাইল ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে অবস্থিত উপজেলা সদরের কলেজ মোড়, বাজার রোড,পুড়াতন বাসস্ট্যান্ড থেকে থানা পর্যন্ত সড়কের পাশে স্থাপিত বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।এসময় ফুটপাতে থাকা সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড,চায়ের দোকান, ফলের দোকান গুড়িয়ে দেন গ্রাম্য পুলিশের সদস্যরা।
অভিযানের সহযোগীতা করেন ঘাটাইল থানা পুলিশের এস এসই মতিউর রহমান ও প্রায় ৪০ জন গ্রাম্য পুলিশের সদস্যরা। এ সময় ফুটপাতে বালু রেখে পথচারী চলাচলে বিঘ্ন ঘটানোর দায়ে এক নির্মাণাধীন ভবন মালিককে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রট ও ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার অঞ্জন কুমার সরকার জানায়, দির্ঘদিন যাবৎ বিভিন্ন ব্যবসায়ী পৌরসভার সরকারী জায়গা দখল করে দোকান পাট পরিচালনা করে আসছে। তাদেরকে মাইকে ঘোষনা দিয়ে জায়গা খালি করে দিতে বলা হলে কোন কর্ণপাত করেনি বলে এ অভিযান পরিচালনা করা হলো। তিনি আরো বলেন,এ অভিযান আরো জোরদার হবে এবং অব্যাহত থাকবে।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকার ঘোষিত লকডাউনে স্বাস্থ্য বিধি মান হচ্ছে না কোন ধরনের খুচরা ও পাইকারী বাজার গুলোতে। প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পরিদর্শন ও তৎপরতা চলাকালে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার চেষ্টা করা হয়। তারা চলে গেলেই মানা হচ্ছে না কোন স্বাস্থ্য বিধি। স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার বিষয়ে বাজার কমিটির দৃশ্যমান কোন ধরনের তৎপরতা চোখে পড়েনি। তবে ব্যতিক্রম দৃশ্য দেখা যায় টাঙ্গাইল নতুন বাস টার্মিনালে। টাঙ্গাইল বাসটার্মিনাল থেকে দূরপাল্লার কোন গাড়ি ছেড়ে যায়নি ও কোন গাড়ি শহরে প্রবেশও করেনি। মহাসড়কেও দূরপাল্লার কোন যানবাহন চলতে দেখা যায়নি।
সোমবার(৫ এপ্রিল) সরেজমিনে টাঙ্গাইল শহরের পাইকারী বাজার পার্ক বাজার, বটতলা, সাবালিয়া, আমিন বাজার, ছয়আনি বাজার,সদর উপজেলার করটিয়া সহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা প্রতিদিনের ন্যায় দোকান খুলে মালামাল কেনাবেঁচা করছে। কাঁচা বাজার ছাড়াও অন্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। এই বাজার গুলোতে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার জন্য কোন ধরনের তৎপরতা কিম্বা বিধি নিষেধ মানছেনা ব্যবসায়ী ও ক্রেতাগণ।
ব্যবসায়ীরা জানায়, সামনে বৈশাখের পর পরই পবিত্র রমজান- এ সময়ে দোকানপাট বন্ধ রাখলে ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবনে তার ভয়াবহ প্রভাব পড়বে। এছাড়া অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে ব্যবসা-বাণিজ্যের বিকল্প নেই। প্রশাসনের পক্ষ থেকে লকডাউন স্বাস্থ্য বিধি বাস্তবায়নে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করায় তারা ওই সময় দোকানপাট বন্ধ রাখলেও পর মুহূর্তেই খুলছেন।সবজির বাজার খোলা জায়গায় নেওয়ার নিদের্শনা থাকলেও বাজার কমিটি তা বাস্তাবয়ন করিনি। ব্যবসায়ীদের দাবী, নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিয়ে দোকানপাট বন্ধ রাখার ঘোষণা দিতে হবে।
ক্রেতারা জানায়, নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতেই তারা বাজারে এসেছেন। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে তারা মাস্ক ব্যবহার ও দূরত্ব বজায় রেখে কেনাকাটা করার চেষ্টা করছেন। তবে অধিক সংখ্যাক ক্রেতার কারনে স্বাস্থ্য বিধি মেনে কেনা-কাটা করা যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনি জানান, সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সরকার লকডাউন ঘোষণা করেছে। সাধারণ মানুষের সাময়িক অসুবিধা হলেও তা জীবনের চেয়ে বড় নয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলায় লকডাউন বাস্তবায়নে নানা উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে। এছাড়া সর্বসাধারণকে তিনি সরকারি নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে চলার আহ্বান জানান।
এদিকে টাঙ্গাইলের পার্ক বাজারে লকডাউনের প্রথম দিনে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা রেখে বেঁচাকেনা করার দায়ে চার ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ডেপুটি নেজারত কালেক্টর(এনডিসি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে সোমবার সকাল ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার হোসেন জানান, সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে শহরের পার্ক বাজারে হোটেলে বসে খাবার খাওয়ার অভিযোগে তিন ব্যবসায়ীকে আড়াই হাজার টাকা ও পেঁয়াজের দাম বেশি রাখায় এক ব্যবসায়ীকে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া সকলকে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতসহ সরকারি নির্দেশনা মানার জন্য তাগিদ ও মাইকিং করা হয়।
লকডাউন বাস্তবায়নে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান। এ সময় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে আব্দুল হাই নামে এক ইউপি সদস্যকে চুরি মামলায় জেলহাজতে পাঠিয়েছে আদালত। সোমবার(১ মার্চ) চুরি মামলায় হাজিরা দিতে গেলে আদালতের বিচারক সুমন কুমার কর্মকার তাকে জেলহাজতে পাঠান। বাদী পক্ষের আইনজীবী গোলাম মোস্তফা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অভিযুক্ত আব্দুল হাই উপজেলার তরফপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এবং ওই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, আব্দুল হাই প্রায় ৬ মাস পূর্বে তরফপুর গ্রামের প্রবাসী জলিল দেওয়ানের বাড়িতে শিদ কেটে স্বর্ণালঙ্কার চুরি করে পালানোর সময় গৃহকর্তৃ নুরজাহান দেখে ফেলেন। গ্রাম্য শালিসে চুরির বিষয়টি প্রমানিত হলেও স্বর্ণালঙ্কার ফেরত দেয়নি তিনি। পরে নুরজাহান বাদী হয়ে টাঙ্গাইল আদালতে মামলা করেন।
আদালত এই চুরির মামলাটি মির্জাপুর থানা পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দেন। মির্জাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) একরামুল তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেয়ে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।
সোমবার ইউপি সদস্য আব্দুল হাই টাঙ্গাইল জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুমন কুমার কর্মকারের আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠান।
একতার কন্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় ছয় বছরের শিশুকে খেলনা দেওয়ার প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগে মো. রিপন মন্ডল নামে এক কিশোরকে বুধবার(২৪ ফেব্রুয়ারি) জেলা কারাগারের মাধ্যমে গাজিপুরের টঙ্গীস্থ কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত মো. রিপন মন্ডল(১৭) ওই উপজেলার চরদুর্গাপুর গ্রামের আনিছ মন্ডলের ছেলে।
আদালতের পরিদর্শক তানভীর আহমেদ জানান, বুধবার দুপুরে টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী(কালিহাতী) আদালতে অভিযুক্ত কিশোরকে উপস্থাপন করা হলে বিচারক শামসুল আলম তাকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করেন। বিকালে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক খালেদা ইয়াসমিন অভিযুক্ত রিপন মন্ডলকে জেলা কারাগারের মাধ্যমে গাজিপুরের টঙ্গীস্থ কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
জানা গেছে, কালিহাতী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের চরদুর্গাপুর গ্রামে মঙ্গলবার(২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকালে মো. রিপন মন্ডল প্রতিবেশি ছয় বছরের এক শিশুকে খেলনা দেওয়ার কথা বলে তার চাচার ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে। শিশুটির চিৎকারে আশপাশের লোকজনকে এগিয়ে আসতে দেখে মো. রিপন মন্ডল পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাকে ধরে ফেলে। পরে তাকে স্থানীয় মগড়া পুলিশ ফাঁড়িতে সোপর্দ করে।
কালিহাতী থানার পরিদর্শক(তদন্ত) রাহেদুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার রাতেই অভিযুক্ত রিপন মন্ডলকে মগড়া পুলিশ ফাঁড়ি থেকে থানায় আনা হয়। রাতেই শিশুটির মা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। বুধবার অভিযুক্ত রিপন মন্ডলকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।