একতার কণ্ঠঃ: টাঙ্গাইলে পরকীয়া প্রেমিকাকে সন্তুষ্ট করতে না পারায় ওড়না দিয়ে মুখ চেপে ধরে খুন করা হয় প্রেমিক শফিকুল ইসলামকে। পরে তার মরদেহ বস্তায় ভরে পাশের ব্রিজের নিচে ফেলে দেওয়া হয়। পরকীয়া প্রেমিকা মোরশেদা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এসব তথ্য জানান।
মোরশেদা আক্তার (৩৩) নাগরপুর উপজেলার পাকুটিয়া ইউনিয়নের মানড়া নয়াপাড়া গ্রামের সিঙ্গাপুর প্রবাসী বাবুল হোসেনের স্ত্রী।
বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) দুপুরে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মোরশেদার দেবর বারেক ও ভাসুর ফুলচানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
স্বীকারোক্তিতে মোরশেদা জানান, প্রতিবেশি মৃত সমেশ আলীর ছেলে শফিকুল ইসলাম (৪৫) নানা রোগে জর্জরিত। তার স্বামী বাবুল হোসেন ১ বছর ধরে সিঙ্গাপুরে চাকুরি করছেন।
সম্প্রতি শফিকুল সুসম্পর্কের (পরকীয়ার) জের ধরে তার সাথে জোর করে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। পরকীয়ার সম্পর্ক থাকাকালে অসুস্থতার কারণে শফিকুল কখনোই মোরশেদাকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি।
সোমবার (১৮ জুলাই) বিকালে শফিকুল আবারও মোরশেদা আক্তারের বাড়িতে যান। ওই সময় বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে শফিকুল ইসলাম তার পরকীয়া প্রেমিকা মোরশেদা আক্তারের সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতে চায়।
এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে বাগবিতন্ডার এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। বাড়ির টিউবওয়েলের কাছে ধস্তাধস্তির সময় মোরশেদা তার পড়নের ওড়না দিয়ে শফিকুলের মুখ চেপে ধরেন।
এ সময় শফিকুল টিউবওয়েলের পাকা মেঝেতে পড়ে গুরুতর আহত হন। ওড়না দিয়ে মুখ চেপে ধরে রাখায় শফিকুলের মৃত্যু হয়। পরে তার মরদেহ পাশের টয়লেটে লুকিয়ে রাখে। পরে মোরশেদা বিষয়টি তার দেবর বারেক ও ভাসুর ফুলচানকে জানায়।
এরপর তারা মরদেহ লুকানোর সিদ্ধান্ত নেয়। ওইদিনই রাত প্রায় ১২ টার দিকে মরদেহটি চটের বস্তায় ভরে বারেকের অটোরিকশায় উঠিয়ে গ্রামের ব্রিজের নিচে ফেলে দিয়ে চলে যায়।
বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) দুপুরে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন।
প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) সকালে নাগরপুর উপজেলার মানড়া নয়াপাড়া গ্রামের ব্রিজের নিচ থেকে পুলিশ অজ্ঞাত পরিচয় এক ব্যক্তির বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহটি শফিকুল ইসলামের বলে তার স্ত্রী মোছা. রাহেলা বেগম সনাক্ত করেন এবং নিজে বাদী হয়ে নাগরপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এ ব্যাপারে নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুনের নির্দেশনায় এসআই মনোয়ার হোসেন ওই ঘটনার তদন্ত করেন। উন্নত তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ও সনাতন পদ্ধতির পুলিশি কৌশল ব্যবহার করে এসআই মনোয়ার হোসেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে ওই ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেন। একই সাথে বাকি অভিযুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তার করেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে অবৈধভাবে অ্যাসিড বিক্রির দায়ে তিন জনকে তিন বছর করে সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) দুপুরে টাঙ্গাইলের অ্যাসিড অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক জেলা ও দায়রা জজ ফাহমিদা কাদের ওই রায় দেন।
রায়ে দণ্ডিত প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাস করে কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। টাঙ্গাইলের সরকারি কৌশুলি (পিপি) এস আকবর খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দণ্ডিতরা হচ্ছেন- টাঙ্গাইল সদর উপজেলার গালা ইউনিয়নের পাছ বেথৈর গ্রামের আনন্দ দত্তের ছেলে অনন্ত দত্ত, একই গ্রামের হেলাল উদ্দিনের ছেলে আব্দুল লতিফ এবং করটিয়া ইউনিয়নের নগরজালফৈ গ্রামের কাদের মিয়ার ছেলে চান মিয়া।
পিপি এস আকবর খান জানান, ২০১৮ সালের ১৯ জুলাই র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন(র্যাব) এর একটি টহল দল শহরের ছয়আনী বাজারের অনামিকা জুয়েলার্সের সামনে থেকে ৩৫ কেজি নাইট্রিক অ্যাসিডসহ দণ্ডিত তিনজনকে আটক করে।
তারা সেখানে অবৈধভাবে অ্যাসিড বিক্রি করছিলেন। আটকের পর তারা অ্যাসিড বিক্রির বৈধ লাইসেন্স দেখাতে ব্যর্থ হন। পরে র্যাবের উপ-সহকারী পরিচালক মো. নাজিম উদ্দিন বাদি হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত শেষে টাঙ্গাইল সদর থানার উপ-পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন ২০১৮ সালের ২০ অক্টোবর ওই তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। মামলায় ১১ জনকে সাক্ষী করা হয়। রায় ঘোষণার পর আদালতে উপস্থিত দণ্ডিত তিন জনকে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে চার বোতল বিয়ারসহ এক যুবকের আটক করেছে র্যাব। রবিবার (১৭ জুলাই) বিকেলে টাঙ্গাইল পৌর এলাকার আকুর টাকুর পাড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
আটককৃত যুবক সদর উপজেলার আকুর টাকুর পাড়ার মো. আজাদের ছেলে মো. পিয়াস (২২)।
র্যাব-১২, সিপিসি-৩, টাঙ্গাইলের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানী কমান্ডার এএসপি মো. এরশাদুর রহমান এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিকেল পৌনে ছয়টার দিকে পৌর এলাকার আকুর টাকুর পাড়ায় অভিযান পরিচালনা করলে বিন্দুবাসিনী গার্লস স্কুলের পাশ থেকে চার বোতল বিয়ার ও ২ হাজার টাকাসহ পিয়াসকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
তিনি আরো জানান, আটককৃত পিয়াস দীর্ঘদিন যাবৎ মাদক দ্রব্য বিয়ার অবৈধভাবে সংগ্রহ পূর্বক বিভিন্ন মাদক সেবীদের নিকট বিক্রয় করে আসছিল।। তার বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল সদর থানায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার সল্লা গ্রামে অভিযান চালিয়ে পাঁচ হাজার ২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সহ মো. শাহীন আলম নামে এক বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের(ডিবি-দক্ষিণ)অফিসার ইনচার্জ মো. দেলোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃত মো. শাহীন আলম(৪০) কালিহাতী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের কদিম হামজানী গ্রামের মৃত জামাল উদ্দিনের ছেলে।
গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, গোপনে সংবাদ পেয়ে ডিবি দক্ষিণের এসআই মো. নুরুজ্জামানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কালিহাতী উপজেলার সল্লা গ্রামের একটি টেইলার্সের দোকানের ভেতর অভিযান চালায়।
অভিযানে পাঁচ হাজার ২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সহ মো. শাহীন আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়। জব্দকৃত ইয়াবা ট্যাবলেটের মূল্য প্রায় ১৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
তিনি আরও জানান, সল্লা গ্রামের জনৈক বিল্লাল হোসেনের বাড়ি ভাড়া নিয়ে মো. শাহীন আলম টেইলার্স চালানোর আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা বিক্রি করছিল। তার বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে কালিহাতী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে থানা দেলদুয়ার থান পুলিশ। বুধবার(১৩ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১২ টার দিকে উপজেলার ডুবাইল ইউনিয়নের নাটিয়াপাড়া নাসির গ্লাস ইন্ডাস্ট্রিজের পাশে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ঢাল থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আরমান আলী জানান, এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে ঢাকা- টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশ থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশটি পানিতে অর্ধডুবন্ত অবস্থায় ছিল। ধারনা করা হচ্ছে, মঙ্গলবার ভোড় ৪টার পরে পানিতে ডুবে যুবকটি মারা গেছেন। সে সনাতন ধর্মাবলম্বী বলে মনে হয়েছে। লাশের পড়নে ব্লু রঙের একটি ট্রাউজার ছিল। ময়না তদন্তের জন্য লাশ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আসল ঘটনা জানা যাবে। থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে সিরাজগঞ্জের এসআই পরিবহণ বাসের ধাক্কায় অটোরিক্সার দুইযাত্রী খালা ও ভাগ্নি মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত সেই ঘাতক বাস চালককে আটক করেছে র্যাব-১২।
আটক চালক নাজমুল হাসান (২৫) সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার জানপুর গ্রামের মো. হাসমত আলীর ছেলে। মঙ্গলবার বিকেলে দূর্ঘটনা কবলিত বাসসহ চালককে মির্জাপুর উপজেলার পাকুল্লা থেকে আটক করা হয়।
বুধবার (১৩ জুলাই)দুপুরে র্যাব-১২ এর সিপিসি ৩ এর কোম্পানী কমান্ডার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মঙ্গলবার দুপুরে সিএনজি চালিত অটোরিক্সায় এলেঙ্গা থেকে গাজিপুরের দিকে যাচ্ছিলেন চারজন। এ সময় টাঙ্গাইল সদর উপজেলার রাবনা বাইপাস এলাকায় বেপরোয়া গতির এস আই পরিবহণের একটি বাসের ধাক্কায় সিএনজির দুই যাত্রী খালা-ভাগ্নি নিহত ও ২ জন গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় নিহতরা হলেন নাটোর জেলার নলডাঙ্গা উপজেলা কাঠুয়াজারি গ্রামের কুদ্দুসের মেয়ে মৌসুমি ও তার ভাগ্নি জামালপুর জেলার চেকি মারি গ্রামের রেজাউল এর মেয়ে রিয়া মনি।
তিনি আরও জানান, যাত্রীবাহী সিএনজিকে ধাক্কা দেওয়ার পর ঘাতক চালক বেপরোয়া গতিতে বাসটি নিয়ে পালিয়ে যায়। সংবাদ পেয়ে র্যাবের একটি আভিযানিক দল ঘাতক চালক ও বাসটিকে আটক করার জন্য বাসটির পিছু ধাওয়া করে। একপর্যায় মির্জাপুর উপজেলা পাকুল্লা এলাকা থেকে ঘাতক চালক নাজমুল হাসান (২৫) আটক করতে সক্ষম হয় র্যাব। আটক চালক নাজমুল হাসান সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার জানপুর
গ্রামের মো. হাসমত আলীর ছেলে।
রাতেই ঘাতক বাস চালকের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল সদর মডেল থানায় ধারা-সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ এর ১০৫/৯৮ ধারায় দায়ের করে র্যাব। বুধবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট ঘাতক চালক নাজমুল হাসান (২৫) কে সুস্থ্য অবস্থায় পরবর্তীতে প্রয়োজনীয়
আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য হস্তান্তর করা হয়েছে
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার গালা ইউনিয়নের বেলটিয়াবাড়ী নামক স্থানে বুধবার(১৩ জুলাই) দুপুরে অভিযান চালিয়ে ৫০ বোতল ফেনসিডিল সহ মো. রাজিব আলী নামে এক যুবককে আটক করেছে র্যাব। র্যাব-১২ প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
আটককৃত মো. রাজিব আলী(২৫) নাটোর জেলার বাগাতিপাড়া উপজেলার চকমাহাপুর গ্রামের মো. নুরনবী মন্ডলের ছেলে।
র্যাব-১২ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিপিসি-৩ টাঙ্গাইলের কোম্পানী কমান্ডার মেজর মোহাম্মদ আনিসুজ্জামানের নেতৃত্বে একদল র্যাব সদস্য বেলটিয়াবাড়ীস্থ টাঙ্গাইল পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের সামনে অভিযান চালায়। অভিযানে ৫০ বোতল ফেনসিডিল(মূল্য প্রায় ৫০ হাজার টাকা), একটি মোটরসাইকেল ও নগদ একহাজার ৪৭০টাকা সহ মো. রাজিব আলীকে আটক করা হয়।
র্যাব-১২ আরও জানায়, আটককৃত মো. রাজিব আলীর নামে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের পূর্বক টাঙ্গাইল সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ এবার শিহাবের পরিবারের সদস্যদের ঈদ আনন্দ নেই। শিহাব এর এই পৃথিবী থেকে বিদায় নেওয়ার সাথে সাথে শিহাবের পরিবারের ঈদ আনন্দ বিদায় নিয়েছে।
রোববার(১০ জুলাই) ঈদের দিন শিহাবের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সন্তান ও নাতির কথা মনে করে বারান্দায় বিলাপ করে কাঁদছেন শিহাবের মা ও দাদি।

কাঁদতে কাঁদতেই শিহাবের মা আসমা বেগম বলেন, ‘৩ বছর আগে একবার দেশে আসছিল শিহাবের বাপে। সেবারেই শিহাবের সঙ্গে ওর বাপের শেষ দেখা। গত কোরবানির ঈদে শিহাব ফোনে বাপেরে কইছিল যে সে একটা বড় গরু কোরবানি দিতে চায়। সেজন্য এইবার ওর বাপে আগেই ট্যাকা পাঠায়া দিছিলো। এইবার আমার শিহাব নাই, আমাগো ঈদও নাই।’
এই ঘটনায় গত ২৭ জুন আসমা বেগম সৃষ্টি স্কুলের ৬ আবাসিক শিক্ষককে আসামি করে টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

শিহাবের মৃত্যুর পরের দিনই সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফিরে আসেন শিহাবের প্রবাসী বাবা ইলিয়াস হোসেন। তার অভিযোগ, শুরু থেকেই সৃষ্টি স্কুলের প্রভাবশালী মালিকপক্ষ তদন্তকাজে প্রভাব খাটাচ্ছে।
এদিকে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করে তাদের শাস্তির দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে শিহাবের সহপাঠী, সৃষ্টি স্কুলের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং টাঙ্গাইলের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। দাবি আদায়ে আমরা এবার কঠোর আন্দোলনে নামব।’
মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে তদন্তকারী কর্মকর্তা টাঙ্গাইল সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) দেলোয়ার হোসেন জানান, মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘তদন্ত চলছে। প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।’
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে দেড় লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার দায়ে স্বামীকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক খালেদা ইয়াসমিন। মঙ্গলবার(৫জুলাই) দুপুরে আসামীর উপস্থিতিতে তিনি ওই রায় ঘোষনা করেন তিনি।
দন্ডিত ব্যক্তি টাঙ্গাইল পৌর শহরের আদি টাঙ্গাইল এলাকার মৃত আ: সালামের ছেলে মো: সুজন মিয়া (৩৫)।
টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের এপিপি মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুস জানান, প্রায় ১৪ বছর পূর্বে মো: সুজন মিয়ার সাথে আদি টাঙ্গাইল দাসপাড়া (মাঝিপাড়া) শিউলী আক্তারের (২৭) বিয়ে হয়। বিয়ের পর দেড় লক্ষ টাকা যৌতুকের দাবিতে তার স্বামী বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতো। ২০১৪ সালের ১৭ জুন সকাল ১১ টার দিকে তার স্বামী ঘরের দরজা বন্ধ করে যৌতুকের টাকার জন্য মারপিট করে। পরে পরিকল্পিতভাবে সেভেনআপের বোতল ভর্তি কেরোসিন তেল ঢেলে তার স্ত্রীর শরীলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এসময় তার ডাক চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। ঘটনার পরের দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিউলী আক্তারের মৃত্যু ঘটে। পরে তার ভাই মো: শিবলু মিয়া বাদী হয়ে ২০১৪ সালের ১৮ জুন টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার দেওভোগ দক্ষিণপাড়া এলাকার ক্লু-লেস হযরত আলী হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) টাঙ্গাইল।
হত্যাকান্ডে জড়িত নিহত হযরত আলীর নাতি আসিফকে গ্রেফতার করেছে পিআইবি। সোমবার (৪ জুলাই) দুপুরে এক প্রেসবিফিং এর মাধ্যমে এ তথ্য জানান পিবিআই।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০২১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় হযরত আলী ও তার বড় ছেলে জাহাঙ্গীর এবং নাতি আসিফ কুমুল্লির বিলে নিজেদের জায়গায় পানি সেচে মাছ ধরতে যায়। সেখান থেকেই নিখোঁজ হয় হযরত আলী। পরে ২০২১ সালের ৩ মার্চ সকালে বাদীর চাচাতো ভাই মোস্তফা ঘটনাস্থলের পাশে ইরি ক্ষেতে সার দিতে গিয়ে দূর্গন্ধ পায়। পরে সে তার ক্ষেতের পাশে পুকুরে কচুরী পানার মধ্যে একটি লাশ দেখতে পায়। এ সময় তার ডাক- চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসে। পরে বাদী সুজন মোল্লা তার পিতার লাশ সনাক্ত করে। এ বিষয়ে মির্জাপুর থানায় অজ্ঞাতনামা একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। পরে মামলাটি পিবিআই তদন্তভার গ্রহণ করে। পিবিআই এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সিরাজ আমীনের দিক নির্দেশনায় তথ্য প্রযুক্তি এবং বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ পরিদর্শক খন্দকার আশরাফুল কবির ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিরস্ত্র) ফরহাদ হোসেনের নেতৃত্বে একটি চৌকশ দল অভিযান পরিচালনা করে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার লাউহাটি এলাকা থেকে আসিফ (১৮) কে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার হওয়া আসিফ জানায়, হযরত আলী, সে ও তার মামা জাহাঙ্গীর মোল্লা ঘটনার রাতে মাছ ধরতে যায়। পরে জাহাঙ্গীর পিছন থেকে হযরত আলীকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে। এ সময় আসিফকে তার মামা জাহাঙ্গীর হত্যার বিষয়ে কাউকে কিছু বলতে নিষেধ করে এবং লাশ গুম করার জন্য সহযোগিতা করতে বলে। লাশ গুম করতে যদি সহযোগীতা না করে তাহলে তাকেও হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেয় জাহাঙ্গীর। পরে আসিফ ও তার মামা হযরত আলীর লাশ পুকুরের এক পাশে কচুরি পানা দিয়ে ঢেকে রাখে এবং রক্ত পানি ও কাঁদা দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করে রাখে। পরে তারা বাড়ি চলে যায়।
টাঙ্গাইল পিবিআই পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সিরাজ আমীন জানান, জায়গা জমির ভাগ বাটোয়ার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বাপ-ছেলের মধ্যে বিরোধ চলছিল। আর এ কারণেই এই হত্যাকান্ড। রোববার(৩জুলাই) হত্যাকান্ডে জড়িত হযরত আলীর নাতি আসিফকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নিহত হযরত আলীর বড় ছেলে জাহাঙ্গীর মোল্লা আগে থেকেই কারাগারে রয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে স্কুল ছাত্রাবাসে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী শিহাবের মৃত্যুর দুই সপ্তাহ পার হলেও তদন্তের অগ্রগতি ও তদন্তকারীদের আচরণ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ জানিয়েছে নিহত শিহাবের পরিবার।
রোববার (৩ জুলাই) এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় একমাত্র গ্রেপ্তারকৃত আসামি স্কুলের আবাসিক শিক্ষক আবু বক্করকে ৫ দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠিয়েছেন বিজ্ঞ-আদালত।
রোববার সকালে সদর থানা পুলিশ ৫ দিনের রিমান্ড শেষে আবু বক্করকে টাঙ্গাইলের সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রট শামছুল আলমের আদালতে উপস্থাপন করলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন আদালত পরিদর্শক তানভীর আহম্মেদ।
শিহাবের বাবা ইলিয়াস হোসেন জানান, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মামলার এজহারভুক্ত বাকি ৫ আসামির কাউকে এখনো গ্রেপ্তার করেনি।
তিনি আরো জানান, স্কুলের মালিকপক্ষ ধনাঢ্য ও প্রভাবশালী হওয়ায় একইসঙ্গে তদন্তকারীদের আচরণে আমি এখন সন্তান হত্যার ঘটনায় ন্যায়বিচার না পাওয়ার আশঙ্কা করছি।
উল্লেখ্য, গত ২০ জুন সখীপুর উপজেলার বেরবাড়ি গ্রামের প্রবাসী ইলিয়াস হোসেনের ছেলে শিহাবকে (১১) টাঙ্গাইল সৃষ্টি একাডেমী স্কুলের হোস্টেলে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে স্কুল কর্তৃপক্ষ দাবি করেন, শিহাব হোস্টেলের সপ্তম তলার একটি বাথরুমে ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
পরে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে শিহাবের মৃত্যু শ্বাসরোধ বা গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
ঘটনার ৬ দিন পর গত ২৬ জুন শিহাবের মা আসমা আক্তার আবু বক্করসহ ওই স্কুলের ৬ আবাসিক শিক্ষককে আসামি করে টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এ প্রসঙ্গে, টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন জানান, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষকের দেওয়া তথ্যগুলো যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। শনিবার (২ জুলাই) বিকেলে মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে সখীপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ধর্ষণের সহযোগী দুই যুবককে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।
শুক্রবার ( ১ জুলাই) রাতে উপজেলার কালিয়া ইউনিয়নের বাসারচালা গ্রামে ওই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তার হওয়া নাইস আহমেদ (২১) স্থানীয় একটি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও ফরহাদ হোসেন (২২) গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া দুই যুবক মামলার প্রধান আসামি সাগর আহমেদের বন্ধু। শুক্রবার রাতে মেয়েটির চিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে এসে দুই যুবককে আটক করলেও ধর্ষণের প্রধান আসামি সাগর আহমেদ (২১) ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
মেয়েটির বাবা জানায়, শুক্রবার রাতে তার মেয়ে প্রকৃতির ডাকে সারা দিতে ঘর থেকে বের হলে তিনজন যুবক তার মেয়ের মুখ চেপে ধরে পাশের বনে নিয়ে রায়। এরপর প্রথমে সাগর তাকে ধর্ষণ করে। সাগরের বন্ধুরাও ধর্ষণের চেষ্টা করলে ওই সময় মেয়েটির চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে সাগর দৌড়ে পালিয়ে যায়। ওই সময় স্থানীয়রা ওই দুই যুবকে আটক করে। পরে শনিবার সকালে গ্রামবাসী পুলিশকে খবর দিলে ওই দুই যুবককে সখিপুর থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়।
সখীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম গ্রামবাসীর হাতে আটক হওয়া দুই যুবককে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেন। ধর্ষণের প্রধান আসামি সাগর আহমেদকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম জানান, মামলাটি রেকর্ড হওয়ার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।