/ হোম / আইন-আদালত
ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে মাদ্রাসা সুপার কারাগারে - Ekotar Kantho

ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে মাদ্রাসা সুপার কারাগারে

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুরে শালিয়ারা আহম্মদিয়া বাজলুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার সুপার মোঃ আনোয়ার হোসেনকে চাকুরির প্রলোভন দেখিয়ে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন বিজ্ঞ আদালত।

তিনি নাগরপুর উপজেলার বাটরা গ্রামের সোনা উল্যাহ মিয়ার ছেলে।

রবিবার ( ১৬ অক্টোবর) বিজ্ঞ আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ও তদন্তকারী কর্মকর্তার তদন্ত প্রতিবেদন বিশ্লেষণ পূর্বক এ আদেশ প্রদান করেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, বিগত ২৩ জুলাই ২০২০ সালে স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় নিরাপত্তা কর্মী পদে লোক নিয়োগের ব্যাপারে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে শালিয়ারা আহম্মদিয়া বাজলুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। তখন অভিযোগকারী শাররীক প্রতিবন্ধী মোঃ আরজু সিকদারের(৭০) পুত্র মোঃ ইয়ামিন মিয়া উক্ত পদের প্রার্থী হিসেবে আবেদন করেন। আবেদনের পর অত্র মাদ্রাসার সুপার অভিযোগকারীকে আশ্বস্ত করে বলেন যে, তিনি তার সন্তানকে চাকুরী দিতে পারবেন। তবে তাকে ৩ লক্ষ ২০ হাজার টাকা দিতে হবে। প্রতিবন্ধী কৃষক বাবা গোয়ালের চাষের গরু বিক্রি করিয়া তার সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য সরল মনে তার হাতে প্রথম পর্যায়ে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা তুলিয়া দেয়। এ সময় মামলার ২ নাম্বার আসামি মোঃ হাবিবুর রহমান (অত্র মাদ্রাসার শিক্ষক) সহযোগিতায় মামলার স্বাক্ষীগণের সামনে অভিযুক্ত মাদ্রাসা সুপার অভিযোগকারীর বাড়ি হতে টাকা গুনিয়া ব্যাগে ভরে নিয়ে যায়। অভিযোগকারীকে আশ্বস্ত করে যে, অল্প কিছু দিনের মধ্যেই নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ও বাকী ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা নিয়োগ পরীক্ষা শেষে প্রদান পূর্বক তার চাকুরী নিশ্চিত করা হবে। পরবর্তীতে ২৮ ডিসেম্বর ২০ তারিখে স্বাক্ষাতকারের প্রবেশ পত্র পান ও ৮ জানুয়ারী ২১ তারিখে সাক্ষাতকার বোর্ডে উপস্থিত হইয়া সবগুলো প্রশ্নের সঠিক উত্তর প্রদান করেন।

সাক্ষাতকার পর্ব সন্তোষজনক হওয়ায় অভিযোগকারী অতি কষ্টে বাকি ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে অভিযুক্ত মাদ্রাসা সুপারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি নানা টালবাহানা শুরু করেন। উল্লেখিত পদে চাকুরী বা প্রদেয় ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ফেরৎ দিবে না বলে অস্বীকার করেন। অভিযুক্ত মাদ্রাসা সুপার মোঃ আনোয়ার হোসেন বিশ্বাস ভঙ্গ, টাকা আত্মসাৎ করেছে।

এতদ বিষয়ে মোকাম টাঙ্গাইল বিজ্ঞ সিনিঃ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী (নাগরপুর) আদালতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা চলমান রয়েছে। মামলা নং ১৫৩/২০২২ সি.আর (নাগরপুর)।

অভিযোগকারী মোঃ আরজু মিয়া জানান, আমি ও আমার পরিবার আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমার সন্তানের চাকুরির প্রলোভন দেখিয়ে মাদ্রাসা সুপার ঘুষ নিয়ে চাকুরীও দিচ্ছে না আবার টাকাও ফেরত দিচ্ছে না। বাধ্য হয়েই বিজ্ঞ আদালতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছি।

আমি একজন শাররীক প্রতিবন্ধী কৃষক। পালের গরু ছাগল বিক্রি করে তাকে সন্তানের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে টাকা দিয়েছিলাম।

মামলার ২ নং আসামি মোঃ হাবিবুর রহমান জামিনে মুক্ত হওয়ায় আমি চিন্তিত। তবে বিজ্ঞ আদালতের প্রতি আমার দৃঢ় আস্থা ও বিশ্বাস আছে আমি ন্যায় বিচার পাবো।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৮. অক্টোবর ২০২২ ০৩:৪৩:এএম ৪ বছর আগে
যমুনায় “মা ইলিশ” ধরার অপরাধে ১৪ জেলের অর্থদণ্ড - Ekotar Kantho

যমুনায় “মা ইলিশ” ধরার অপরাধে ১৪ জেলের অর্থদণ্ড

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যমুনা নদীতে মা ইলিশ ধরার অপরাধে ১৪ জেলেকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় জেলেদের কাছ থেকে উদ্ধার করা এক লাখ মিটার জাল পুড়িয়ে দেয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (১৩ অক্টোবর) ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী, নিকরাইল, গাবসারা ও অর্জুনা ইউনিয়নের যমুনা নদীতে অভিযান চালিয়ে ১৪ জেলেকে ইলিশ ধরার জালসহ আটক করা হয়।

পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোছা. ইশরাত জাহান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেন।

অর্থদণ্ডপ্রাপ্ত জেলেরা হলেন – শহীদ, শাহ আলম, আব্দুল হাকিম, আলিমুদ্দিন, সাইফুল, হযরত আলী, সাইফুল, আলমগীর, জসিম, মুঞ্জর আলী, সুরুজ্জামান, মজিদ, আব্দুল্লাহ ও কামরুল। তারা সবাই উপজেলার গাবসারা ইউনিয়নের বাসিন্দা।

এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ ভট্টাচার্য্য জানান, সরকারি নির্দেশ অমান্য করে জেলেরা যমুনা নদীতে মা ইলিশ ধরছিল। খবর পেয়ে যমুনা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশের সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ইলিশ ধরার জালসহ ১৪ জেলেকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাদের অর্থদণ্ড প্রদান করেন। এ সময় এক লাখ মিটার উদ্ধার হওয়া জাল পুড়িয়ে দেয়া হয়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৪. অক্টোবর ২০২২ ০১:৩৩:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে অনশনরত প্রেমিকাকে পেটালো প্রেমিকের পরিবার - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে অনশনরত প্রেমিকাকে পেটালো প্রেমিকের পরিবার

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে বিয়ের দাবিতে প্রেমিক শিমুলের বাড়িতে অনশনরত অবস্থায় শ্লীলতাহানি ও অমানুষিক নিযার্তনের শিকার হয়েছেন প্রেমিকা।

স্থানীয়রা অসুস্থ প্রেমিকাকে উদ্ধার করে গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করেছেন। চাঞ্চল্যকর এমন ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার সূতি নয়াপাড়া গ্রামে।

গত ২৯শে সেপ্টেম্বর থেকে বিয়ের দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করে ওই তরুণী। সে দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলায় কেশবপুর গ্রামের আফজাল হোসেনের মেয়ে ফৌজিয়া আক্তার তানিয়া।

জানা যায়, দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার কেশবপুর গ্রামের আফজাল হোসেনের মেয়ে ফৌজিয়া আক্তার তানিয়ার সাথে গোপালপুর উপজেলার সূতি নয়াপাড়া গ্রামের সুরুজ মিয়ার পুত্র বরাতুল ইসলাম শিমুলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এরা উভয়ে গাজীপুরের একটি গার্মেন্টে চাকরি করতো। পরিনয়কে বিয়েতে রুপান্তরিত করার উদ্দেশ্যে বাবা-মা’র মতামত নেয়ার জন্য শিমুল গত ২৯শে সেপ্টেম্বর তানিয়াকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসে। কিন্তু বাবা-মা রাজি না হওয়ায় তাদের বিয়ে হয়নি। তানিয়া শিমুলের বাড়িতে অবস্থান করতে থাকে। গত ১লা অক্টোবর গ্রামে একটি সালিশি বৈঠকে শিমুলকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে সে বাবা-মাসহ বাড়ি থেকে গাঢাকা দেয়।

কিন্তু তানিয়া বিয়ে না করে কর্মস্থলে ফিরে যেতে অস্বীকার করেন এবং ওই বাড়িতে অনশন শুরু করে।

সূতি নয়াপাড়া গ্রামের হাবেল উদ্দিন জানান, এক সপ্তাহ ধরে খেয়ে না খেয়ে তানিয়া নামের মেয়েটি ওই বাড়িতে অবস্থান করছিল। মঙ্গলবার ( ১১ অক্টোবর) সকাল নয়টায় গোপালপুর থানা পুলিশ তানিয়ার খোঁজখবর নেয়ার জন্য ওই বাড়িতে গেলে শিমুলের মামা এরশাদ আলী, মামাতো ভাই শাকিল, দুই খালা জল্পনা খাতুন ও আল্পনা খাতুন মিলে তানিয়াকে বেদম মারপিট করে এবং চুলের মুঠি ধরে ঘর থেকে বের করে আনে। এতে তার পরনের কাপড়ও ছিঁড়ে যায়।

পৌর কাউন্সিলর মো. শামছুল আলম জানান, তানিয়ার ডাকচিৎকারে এলাকাবাসীরা ছুটে আসে। পরে থানা পুলিশের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করেন। এ মারপিট ও নির্যাতনের ঘটনায় এলাকাবাসী ক্ষোভে ফুঁসে উঠে। পরে সহস্রাধিক গ্রামবাসি এ নির্যাতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু করে। তারা আহত তানিয়াকে একটি রিকশাভ্যানে উঠিয়ে বিক্ষোভ মিছিলসহ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় ঘেরাও করেন।

সূতি নয়াপাড়া গ্রামের রাসেল মিয়া অভিযোগ করেন, গোপালপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মীর রেজাউল হক ছেলের পক্ষ নিয়ে প্রশাসনিক পর্যায়ে নানাভাবে দেনদরবার করায় ছেলেপক্ষ আপোষ রফায় না গিয়ে উগ্র হয়ে উঠে। পরিণতিতে মঙ্গলবার এ নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। তিনি এ নির্যাতনের দায় এড়াতে পারেন না।

তবে অভিযোগের বিষয়ে ভাইস চেয়ারম্যান মীর রেজাউল হক জানান, তিনি বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু ছেলেপক্ষ রাজি না হওয়ায় সমাধান হয়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. পারভেজ মল্লিক জানান, মেয়েটি প্রেমঘটিত কারণে ওই বাড়িতে আসেন। পরে মীমাংসার নামে কালক্ষেপণ করে। একপর্যায়ে মেয়েটির উপর অমানুষিক নির্যাতনের ঘটনার কথা তিনি জানতে পারেন। নির্যাতনে কাবু মেয়েটিকে এলাকাবাসি অফিস প্রাঙ্গণে নিয়ে এলে তাকে হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করা হয়। একজন নারীর উপর এধরনের নির্যাতন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায়না। ভিক্টিমকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক তাপস সাহা জানান, ভিক্টিমের শরীরে নির্যাতনের অনেক চিহ্ন রয়েছে। তার শরীর খুবই দুর্বল। তবে আশঙ্কামুক্ত।

এদিকে এ ঘটনায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নারী নির্যাতন আইনে গোপালপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

এ বিষয়ে গোপালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোশারফ হোসেন জানান, লিখিত অভিযোগের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৩. অক্টোবর ২০২২ ০১:১৮:এএম ৪ বছর আগে
ঘাটাইলে ছাত্রলীগ নেতার মামলায় বিএনপির ৫ নেতা কারাগারে - Ekotar Kantho

ঘাটাইলে ছাত্রলীগ নেতার মামলায় বিএনপির ৫ নেতা কারাগারে

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ছাত্রলীগের নেতার করা মামলায় বিএনপির পাঁচ নেতাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১১ অক্টোবর) বিকেলে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সাউদ হাসান শুনানি শেষে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তারা হলেন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ওয়ায়দুল হক নাসির, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী বিল্লাল হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী আনোয়ারুল আজিম রানা, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হেলাল এবং সদস্য রফিকুল ইসলাম।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ আগস্ট ঘাটাইল উপজেলার ছাত্রলীগ ও যুবলীগ এক বিশেষ সভার আয়োজন করেছিল। সে সভাকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য গত ২৪ আগস্ট রাতে ঘাটাইল পৌরসভার ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সাথে পরামর্শ নেওয়ার জন্য ১৫-২০ জন যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকমীরা পৌরসভার চতিলা গ্রামে রওনায় দেন। এ সময় তারা চতিলা গ্রামে পৌঁছলে বিএনপির কর্মীরা দেশিয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের উপর হামলা চালায়। এতে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়। এ ঘটনায় ঘাটাইল জিবিজি সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি আবু সাইদ রুবেল বিএনপির ৩৩ জনের নাম উল্লেখসহ আরো অজ্ঞাতনামা ৬০-৭০ জন কর্মীকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন।

টাঙ্গাইলের কোর্ট ইন্সপেক্টর তানভীর আহমেদ জানান, মামলা হওয়ার পর তারা হাইকোর্ট থেকে ৬ সপ্তাহের আগাম জামিন নিয়ে আসেন। উচ্চ আদালতের বিচারক তাদেরকে জামিন শেষ হওয়ার পর নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। মঙ্গলবার তারা টাঙ্গাইল আদালতে আত্মসমর্পন করে জামিনের আবেদন করলে বিচারক জামিন না মঞ্জুর করে তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১২. অক্টোবর ২০২২ ০৩:৫৬:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে স্কুল ছাত্রীকে অপহরণের পর ধর্ষণ; দুই ভাই গ্রেপ্তার - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে স্কুল ছাত্রীকে অপহরণের পর ধর্ষণ; দুই ভাই গ্রেপ্তার

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে অপহরণের পর ধর্ষণের ঘটনায় দুই ভাইকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় সোমবার (১০ অক্টোবর) রাতে উপজেলার অলোয়া ইউনিয়নের নলুয়া গ্রাম থেকে স্কুল ছাত্রীকে উদ্ধার ও মিরাজ ও সুমন নামের দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত ধর্ষক ভূঞাপুর পৌরসভার পলিশা গ্রামের হাসমত আলীর ছেলে ও টেপিবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মিরাজ এবং তার বড় ভাই সুমন (২২)।

শনিবার (৮ অক্টোবর) রাতে স্কুলছাত্রীর মা বাদী হয়ে চার জনের নামে ভুঞাপুর থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন।

জানা গেছে, উপজেলার ওই স্কুলছাত্রীকে বিভিন্ন সময় উত্যক্ত করতো তারই সহপাঠী মিরাজ। এক পর্যায়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বড় ভাই সুমন, ভাবি লাবণ্য ও চাচা মনিরুজ্জামানের সহায়তায় তাকে রাস্তা থেকে শুক্রবার (৭ অক্টোবর) অপহরণ করা হয়।

এই ঘটনায় স্কুলছাত্রীর মা বাদী হয়ে চার জনের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা দায়ের করে। পুলিশ স্কুলছাত্রীসহ মিরাজ ও তার ভাই সুমনকে গ্রেপ্তার করে।

স্কুল শিক্ষার্থী জানায়, একই বিদ্যালয়ে পড়ার সুবাদে মিরাজ আমাকে বিভিন্ন সময় প্রেমের প্রস্তাব দিতো। শুক্রবার মিরাজ ও তার ভাইসহ সকলের সহায়তায় আমাকে প্রথমে গাজীপুরের টঙ্গী এবং পরে সাভার তাদের আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে যায়। টঙ্গীতেই মিরাজের সাথে আমার বিয়ে দেওয়া হয়। এরপর থেকে এক সাথেই আমরা সাভার ও গাজীপুরে থেকেছি। পরে নলুয়াতে আসলে পুলিশ আমাদেরকে ধরে থানায় নিয়ে আসে।

স্কুল শিক্ষার্থীর মা জানান, নাবালিকা মেয়েটিকে ফুঁসলিয়ে অপহরণ করা হয়েছে। আমরা দরিদ্র পরিবার। পরে থানায় মামলা করলে পুলিশ অপহরণকারী মিরাজ ও তার ভাইকে গ্রেপ্তার করে এবং আমার মেয়েকে উদ্ধার করে। আসামিদের কঠোর শাস্তি দাবি করি।

ভূঞাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফরিদ আহমেদ জানান, থানায় মামলা দায়ের পর পুলিশ বিভিন্নস্থানে অভিযান পরিচালনা করে। অপহরণকারীরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মেয়েটিকে উদ্ধারসহ দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম জানান, মেয়েটিকে উদ্ধারসহ জড়িত দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই স্কুল ছাত্রীকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে ২২ ধারা জবানবন্দির জন্য টাঙ্গাইল কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, এদিকে গ্রেপ্তারকৃত দুই ভাইকে কোর্ট হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১২. অক্টোবর ২০২২ ০১:৫০:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে যৌতুকের দাবিতে প্রিয়াঙ্কা কর্মকার (২৮) নামে এক গৃহবধূকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী বুদ্ধু কর্মকারের (৩৬) বিরুদ্ধে।

শুক্রবার (৭ অক্টোবর) রাতে পৌর এলাকার সরিষাদাইর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

প্রিয়াঙ্কা কর্মকারের বাবা জয়কৃষ্ণ সরকার শনিবার (৮ অক্টোবর) মির্জাপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি মির্জাপুর উপজেলার লতিফপুর ইউনিয়নের সেওড়াতৈল গ্রামের বাসিন্দা।

লিখিত অভিযোগ থেকে জানা গেছে, নয় বছর আগে তার মেয়ে প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে পৌর এলাকার সরিষাদাইর গ্রামের সুধীর কর্মকারের ছেলে বুদ্ধু কর্মকারের সামাজিকভাবে বিয়ে হয়। বর্তমানে তাদের ঘরে দুটি সন্তান রয়েছে। বিয়ের কিছুদিন পার হতেই তার স্বামী যৌতুকের দাবিতে মেয়েকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিল। এ নিয়ে মাঝেমধ্যেই স্থানীয়ভাবে সালিশ হয়েছে।

সবশেষ বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর) বিদেশে যাওয়ার জন্য তার মেয়ের কাছে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করে। মেয়ে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে নির্যাতন করা হয়। খবর পেয়ে পরদিন সকালে জয়কৃষ্ণ সরকারের স্ত্রী (নিহতের মা) পুষ্পরানী মেয়ের বাড়িতে যান।

এ সময় জামাইয়ের কাছে তার মেয়েকে নির্যাতনের কারণ জানতে চাইলে জামাই বুদ্ধু কর্মকার ক্ষিপ্ত হয়ে শাশুড়ি পুষ্পরানীকেও মারতে তেড়ে আসে। একপর্যায়ে পুষ্পরানীকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়।

পরে সন্ধ্যায় মেয়ের জামাইবাড়ির প্রতিবেশীদের মাধ্যমে খবর পাওয়া যায়, তার মেয়ে ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। প্রিয়াঙ্কার বাড়ির লোকজন গিয়ে তাকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তার মেয়েকে শারীরিক নির্যাতনের পর হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলে জয়কৃষ্ণ সরকার শনিবার থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

জয়কৃষ্ণ সরকার জানান, প্রিয়াংকার স্বামী বুদ্ধু কর্মকার যৌতুকের দাবিতে মাঝেমধ্যেই প্রিয়াঙ্কাকে শারীরিক নির্যাতন করত। প্রিয়াঙ্কা চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি তার স্বামীর বিরুদ্ধে মির্জাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছিলেন।

এ বিষয়ে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আবু সালে মাসুদ করিম জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এখন অপমৃত্যু মামলা হবে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৯. অক্টোবর ২০২২ ০২:৩২:এএম ৪ বছর আগে
বিন্দুবাসিনী’র সীমানা প্রাচীর অপসারণ বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ - Ekotar Kantho

বিন্দুবাসিনী’র সীমানা প্রাচীর অপসারণ বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের পূর্বপাশের সীমানা প্রাচীর পৌরসভা কর্তৃক অপসারণ নোটিশ প্রদানের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা।

রবিবার ( ২ অক্টোবর) সকালে বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের ঘন্টা ব্যাপী এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বিদ্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষণ শেষে পুনরায় বিদ্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন , বিন্দুবাসিনী সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয় একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এই বিদ্যালয় কোন প্রতিষ্ঠানের জায়গা দখল করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করেনি। তাই এই সীমানা প্রাচীর ভাঙ্গার নোটিশ অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।না হলে সাবেক ও বর্তমান ছাত্রদের নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে হুশিয়ারী দেন শিক্ষার্থীরা।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০২. অক্টোবর ২০২২ ১০:৪৯:পিএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে প্রাইভেটকার চাপায় মহিলা নিহত - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে প্রাইভেটকার চাপায় মহিলা নিহত

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে প্রাইভেটকার (ঢাকামেট্টো-ভ-০২-০৯৩৭) চাপায় একজন পথচারী নারী নিহত ও ৪ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ধনবাড়ী উপজেলার জাগিরাচালা-মধুপুর সড়কে এই দূর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জাগিরাচালা এলাকার আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী কল্পনা বেগম বিকেলে পাশের গ্রামে মেয়ের জামাই বাড়ী বেড়াতে যাচ্ছিলো। হঠাৎ করেই পিছন থেকে একটি প্রাইভেটকার তাকে চাপ দেয়। এতে ঘটনা স্থলেই কল্পনা বেগমের মৃত্যু হয়।

এ সময় প্রাইভেটকারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি কাঁঠাল গাছের সাথে ধাক্কা লেগে ধুমড়ে মুচড়ে যায়। প্রইভেটকারে থাকা ৪ জনই গুরুত্বর আহত হন।  প্রাইভেটকার আরোহী ৪ জনই মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন বলেও তারা জানান।

ধনবাড়ী থানার ওসি তদন্ত (দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা) ইদ্রিস আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনা স্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার ও গাড়ী জব্দ করে থানায় আনা হয়েছে। আহত ৪ জন কে উদ্ধার করে ধনবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে। তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা যায়নি।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০২. অক্টোবর ২০২২ ১২:০৩:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিবকে জেল হাজতে প্রেরণ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিবকে জেল হাজতে প্রেরণ

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো. আব্দুল বাতেনকে বুধবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। বুধবার দপুরে টাঙ্গাইলে অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুনিরা সুলতানা এই আদেশ প্রদান করেন।আদালত পরিদর্শক তানবীর আহম্মদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালত পরিদর্শক তানবীর আহম্মদ জানানা, বুধবার  আটককৃত আব্দুল বাতেনকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ এনে পুলিশ আদালতে পাঠায়। তাকে অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুনিরা সুলতানার আদালতে হাজির করা হলে তিনি কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে, বুধবার দুপুরে আব্দুল বাতেনকে শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকার হাবিবুর রহমান প্লাজার সামনে থেকে  গ্রেপ্তার করে টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ।

জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক দুর্জয় হোড় জানান, মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল নেতৃবৃন্দের উপর ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল জেলায় জেলায় বুধবার বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা করে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রদল শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় হবিবুর রহমান প্লাজার সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু করে। আব্দুল বাতেন বক্তৃতা করার সময় পুলিশ লাঠি চার্জ করে নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।এ সময় পুলিশ বাতেনকে আটক করে নিয়ে যায়।

তিনি আরো জানান, এই হামলায় সদর উপজেলা ছাত্রদলের কর্মী সাজ্জাদ হোসেনসহ ৫/৬ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে ।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৯. সেপ্টেম্বর ২০২২ ০১:২৬:এএম ৪ বছর আগে
মির্জাপুরে হাজতখানায় আটক ব্যক্তির আত্মহত্যা; পরিবারের দাবি হত্যা - Ekotar Kantho

মির্জাপুরে হাজতখানায় আটক ব্যক্তির আত্মহত্যা; পরিবারের দাবি হত্যা

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল পুলিশ ফাঁড়িতে মো. লেবু মিয়া(৫৫) নামে এক আসামির মৃত্যু হয়েছে। তিনি হাজতখানার টয়লেটের ভেন্টিলেটরে থাকা রডের সাথে শক্ত সুতার ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. শাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন।

নিহত লেবু মিয়া বাঁশতৈল গ্রামের বাহার উদ্দিনের ছেলে।

তবে তার বড় ভাই নাগরপুর উপজেলার ভাররা ইউপির সচিব মো. বজলুর রশিদের অভিযোগ, লেবু মিয়া পুলিশের নির্যাতনে মারা গেছেন।

মঙ্গলবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আমিনুল ইসলাম বুলবুলের উপস্থিতিতে তার সুরতহাল করা হয়।

জানা গেছে, সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের বাঁশতৈল পশ্চিমপাড়া এলাকা থেকে সখিনা বেগম নামের তিন সন্তানের জননীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় বাঁশতৈল ফাঁড়ি পুলিশ সখিনার সাবেক স্বামী বাঁশতৈল গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে মফিজুর রহমান এবং একই গ্রামের বাহার উদ্দিনের ছেলে লেবু মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে।

পুলিশ জানায়, পাঁচ বছর আগে ওই নারীর সঙ্গে স্বামীর বিয়ে বিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকে তিনি একই গ্রামে আলাদা বাড়ি তৈরি করে দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে বসবাস করতেন। এরপর মেয়েদের বিয়ে হওয়ায় প্রবাসী ছেলের স্ত্রী তার সঙ্গেই থাকতেন। ছেলের স্ত্রী বাড়িতে না থাকায় রবিবার রাতে সখিনা বেগম বাড়িতে একা ছিলেন। সোমবার অনেক বেলা হলেও সখিনাকে না দেখতে পেয়ে পাশের বাড়ির লোকজন খোঁজ করতে তার বাড়িতে আসেন। পরে ঘরের ভেতরে তার মরদেহ দেখতে পেয়ে বাঁশতৈল পুলিশ ফাঁড়িতে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। সখিনার গলায় রশির দাগ এবং গলার ডান পাশে কালো দাগ ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।

সখিনার মা আকিরন বেগম অভিযোগ করে বলেন, আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেনি। ওরে মারা হইছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

স্থানীয়রা জানান, ছেলের স্ত্রী বাবার বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ায় রবিবার রাতে সখিনা বাড়িতে একা ছিলেন। এই সুযোগে কেউ তাকে হত্যা করতে পারে।

বাঁশতৈল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। নিহতের গলায় রশির ও গলার ডান পাশে কালো দাগ ছিল। তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, এ ঘটনায় ওই নারীর সাবেক স্বামীসহ দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। রাতে তাদের পৃথক হাজতখানায় রাখা হয়েছিল। রাত ৪টা ১০ মিনিট থেকে ৪টা ৪০ মিনিটের মধ্যে লেবু মিয়া টয়লেটের ভেন্টিলেটরে থাকা রডের সাথে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন। সুরতহাল শেষে মরদেহ থানায় পাঠানো হয়েছে।

বাঁশতৈল ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মনিরুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালে পুলিশ ফাঁড়িতে যাই। সেখানে লেবু মিয়ার গলায় রশি প্যাঁচানো অবস্থায় তাকে দেখতে পাই।

মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম বলেন, লেবু মিয়ার মরদেহ থানায় আনা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

মির্জাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আমিনুল ইসলাম বুলবুল জানান, লেবু মিয়াকে টয়লেটের ভেন্টিলেটরে থাকা রডের সাথে শক্ত সুতা দিয়ে ফাঁস লাগানো অবস্থায় পেয়েছেন। যা আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে। তার উপস্থিতিতে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৭. সেপ্টেম্বর ২০২২ ০৯:৪১:পিএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে জুয়ার উপকরণসহ ৪ জুয়াড়ি আটক - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে জুয়ার উপকরণসহ ৪ জুয়াড়ি আটক

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে জুয়ার আসর থেকে ৪ জুয়াড়িকে আটক করেছে পুলিশ। রবিবার(২৫ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে উপজেলার ধোপাকান্দি ইউনিয়নের রামজীবনপুর গ্রামে জুয়া খেলার সময় তাদের আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেন- ওই গ্রামের আবু হানিফের ছেলে আরিফুল ইসলাম (২৫), মৃত মাহমুদ আলীর ছেলে মমিনুল ইসলাম, (২৮), আবু বকর সিদ্দিকের ছেলে সুমন (৩২), মৃত আ. হাইয়ের ছেলে আইয়ুব আলী (৪৫)।

গোপালপুর থানার এসআই শফিকুল ইসলাম জানায়, রাত্রিকালীন জরুরী ডিউটি করার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে রামজীবনপুর গ্রামের আ. হালিমের দোকানের পিছনে ধান ভাঙ্গার মিলের ভিতর জুয়ার আসর থেকে প্রথমে তাদের আটক করা হয়। পরে নগদ টাকাসহ জুয়া খেলার উপকরণ জব্দ করা হয়।

গোপালপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোশারফ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ১৮৬৭ সালের জুয়া আইনে জুয়াড়িদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। জুয়াসহ সকল প্রকার সামাজিক অপরাধ দমনে গোপালপুর থানা পুলিশ তৎপর রয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৬. সেপ্টেম্বর ২০২২ ০৯:৫৪:পিএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলায় নিহত ১; গ্রেপ্তার ১ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলায় নিহত ১; গ্রেপ্তার ১

একতার কণ্ঠঃ  টাঙ্গাইলের গোপালপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় গোলাম মোস্তফা (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে।

শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের বালোবাড়ী গ্রামে হামলার ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় মারাত্বকভাবে আহত হয়েছে নিহতের বড় ভাই তোফাজ্জল হোসেন বাদল।

নিহত মোস্তফা হেমনগর ইউনিয়নের বালোবাড়ী গ্রামের দেলোয়ার হোসেন বাদশার ছেলে।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে শনিবার রাতেই গোপালপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ ইতিমধ্যে রানা রাজা নামে এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে।

জানা যায়, নিহত গোলাম মোস্তফা ও প্রতিবেশি তানভীর ইসলাম রাজের মধ্যকার দুই পরিবারের সাথে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। শনিবার সকাল দশটার দিকে বিষয়টি মিমাংসার উদ্দেশে উভয় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দেলোয়ার হোসেন বাদশার বাড়ীতে গ্রাম্য সালিশি বৈঠক বসে। সালিশে উপস্থিত গণ্যমান্য ব্যক্তিরা আলোচনার মাধ্যমে তাদের বিরোধ সমাধান করে দেন।

সদ্য মিমাংসার পর বিকালে তোফাজ্জল হোসেন বাদল গ্রামের রাস্তায় গেলে প্রতিপক্ষের লোকেরা তার উপর অতর্কিত হামলা চালায়। খবর পেয়ে তার ভাই গোলাম মোস্তফা প্রতিবাদ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়ে মারাত্বক ভাবে আহত হন।

পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা এসে প্রথমে বাদলকে আহতাবস্থায় উদ্ধার করে গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করান। গোলাম মোস্তফাকে মুমূর্ষু অবস্থায় ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক গোলাম মোস্তফাকে মৃত ঘোষণা করেন।

গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারফ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ইতিমধ্যে মামলার এক আসামী নিহতের ভাতিজা রানা রাজাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। নিহতের লাশ রবিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৬. সেপ্টেম্বর ২০২২ ০১:০৪:এএম ৪ বছর আগে
কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।