/ হোম / ভূঞাপুর
টাঙ্গাইলে বক্স খাটের ভেতর থেকে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে বক্স খাটের ভেতর থেকে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে মুনিয়া ইসলাম (৩২) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে ভূঞাপুর থানা পুলিশ।

শুক্রবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে ভূঞাপুর পৌর শহরের ঘাটান্দি গ্রামের গণেশ মোড় নামক এলাকায় জহুরুল ইসলামের পাঁচ তলার বাসার তিন তলায় একটি ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মুনিয়া পাশ্ববর্তী গোপালপুর উপজেলার নলিন বাজারের নুরল ইসলামের মেয়ে এবং তার স্বামী মোস্তাক আহমেদ একই উপজেলার বাগুয়াটা গ্রামের আজমত আলীর ছেলে। তাদের দাম্পত্য জীবনে আল মাসুদ (১০) এবং নবীন (৪) বছরের দুইটি ছেলে সন্তান রয়েছে। তারা গণেশ মোড় এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতো। এ ঘটনায় আল মাসুদ ও নবীনের প্রবাস ফেরত বাবা মোস্তাক আহমেদ পলাতক রয়েছেন।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোস্তাক আহমেদ ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে ব্রুনাই থেকে দেশে ফিরেন। তারপর থেকেই বিভিন্ন সময়ে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ হতো। দুই ছে‌লের একজন তার খালার বাসায় ছিল।

বৃহস্প‌তিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রা‌তে এক রু‌মে ছে‌লে‌কে ঘু‌মি‌য়ে রে‌খে অন‌্য রু‌মে স্ত্রী‌কে শ্বাস‌রোধ ক‌রে হত‌্যা করার পর মর‌দেহ বক্স খা‌টের নি‌চে রে‌খে শুক্রবার ভো‌রে বাসার মুল দরজায় তালা ঝু‌লি‌য়ে দি‌য়ে পা‌লি‌য়ে‌ছে মোস্তাক। সকালে ছে‌লেটা ঘুম থে‌কে উঠে ডাক‌চিৎকার কর‌লেও আশপা‌শের কেউ কোন ভাড়া‌টিয়া এগি‌য়ে যায়‌নি। প‌রে বাসার কেয়ার‌টেকার বাসার দরজা খু‌লে দেয়।

এদি‌কে, মু‌নিয়া ইসলা‌মের খোঁজ না পে‌য়ে বাসার বি‌ভিন্ন রু‌মে খোঁজাখু‌ঁজি কর‌তে থাকে স্বজনরা। একপর্যা‌য়ে ছোট ছে‌লের বক্স খা‌টের নিচে দেখ‌তে ব‌লে। প‌রে বক্সখাটের পাতাটন খু‌লে মু‌নিয়ার মর‌দেহ দেখ‌তে পায়। স্বজনদের ধারণা, মোস্তাক তার স্ত্রী মুনিয়া ইসলামকে গলা টিপে বা শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে।

মু‌নিয়া ইসলা‌মের ভাই আমিনুল ইসলাম জানান, বি‌ভিন্ন বিষয় নি‌য়ে পা‌রিবা‌রিক ঝা‌মেলা চল‌ছিল স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে। প‌রে বড় বোন নাস‌রিন আক্তার ক‌য়েক‌দিন আগে দুইজন‌কে বু‌ঝি‌য়ে মিমাংসা ক‌রে দি‌য়ে‌ছিল। এরপর আর কিছু জা‌নি না। সন্ধ‌্যায় খবর পেলাম বো‌নের মর‌দেহ বাসার বক্স খা‌টের নি‌চে রেখে দেওয়া হ‌য়ে‌ছে। ওর স্বামী মোস্তাক পা‌লি‌য়ে‌ছে। বোন‌কে শ্বাস‌রোধ ক‌রে হত‌্যা ক‌রে মর‌দেহ বক্স খা‌টের নি‌চে রে‌খে পা‌লি‌য়ে‌ছে ঘাতক মোস্তাক। তার শা‌স্তি চাই।

এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আহসান উল্লাহ্ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, মরদেহের সুরতহাল শেষে মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। মুনিয়া ইসলামের স্বামী মোস্তাক আহমেদ ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে। এনিয়ে তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৬. সেপ্টেম্বর ২০২৩ ০৪:০১:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে বীর মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী’র গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে বীর মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী’র গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ঘর থে‌কে সুলতানা সুরাইয়া (৬৫) নামের এক বৃদ্ধার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শুকবার (১৫ সে‌প্টেম্বর) উদ্ধার হওয়া মর‌দেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করে‌ছে পু‌লিশ।

সুলতানা সুরাইয়া ইং‌রে‌জি দৈ‌নিক দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকার নিউজ এডিটর আবু সায়েম আকন্দের মা ও প‌শ্চিম ভুঞাপুর এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহিম আকন্দের স্ত্রী।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত মধ্যরাতে পৌরসভার পশ্চিশ ভূঞাপুর এলাকার নিজ বাড়ি থে‌কে ওই বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয়রা জানায়, পশ্চিম ভূঞাপুর এলাকায় একাই বসবাস করতেন হত্যাকাণ্ডের শিকার নারী সুলতানা সুরাইয়া। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রতিবেশি ও পরিবারের সদস্যরা ব্যবহৃত ফোন বন্ধ পেয়ে বাড়িতে গি‌য়ে ঘরের লাইট জ্বালানো ও ফ্যানের শব্দে সন্দেহ হওয়ায় গেট টপকে ঘরে উঁকি দেয়। এ সময় ঘ‌রের মেঝেতে পড়ে থাকা তার গলাকাটা নিথর মরদেহ দেখ‌তে পায়।

নিহ‌তের ছে‌লে ও দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের নিউজ এডিটর আবু সা‌য়েম আকন্দ ব‌লেন, মা একাই থাক‌তেন বা‌ড়ি‌তে। কা‌রোর সা‌থে কোন শত্রুতা নেই। মাদকাসক্তরা চুরি করতে এসে এমন ঘটনা ঘটাতে পারে। ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত ক‌রে জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি কর‌ছি।

ভুঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ও‌সি) আহসান উল্লাহ জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে একদিন আগে তাকে হত্যা ক‌রে ফে‌লে রে‌খে গে‌ছে দৃষ্কৃ‌তিকারীরা। মর‌দেহ ময়নাতদ‌ন্তের জন‌্য হাসপাতা‌লে প্রেরণ করা হ‌য়ে‌ছে। তদন্ত চল‌ছে দোষী‌দের আইনের আওতায় আনা হ‌বে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৫. সেপ্টেম্বর ২০২৩ ০৮:২৭:পিএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে ভাইয়ের মৃত্যুর খবর শুনে মারা গেলেন বড় ভাইও - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ভাইয়ের মৃত্যুর খবর শুনে মারা গেলেন বড় ভাইও

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর শহীদ জিয়া মহিলা কলেজের শিক্ষক নূরুল আমিন (৫৮) রবিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুর খবর শুনে বড় ভাই আবুল হোসেন (৭০) সন্ধ্যায় হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তিনি সরিষাবাড়ীর তারাকান্দি যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানির কর্মকর্তা ছিলেন।

শহীদ জিয়া মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল মো. আবু সাদত বিপলু বলেন, জীববিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নূরুল আমিন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের উচ্চ মাধ্যমিকের জীববিজ্ঞান পরীক্ষার প্রধান পরীক্ষক নিযুক্ত হন। এ বিষয়ে প্রশিক্ষণের জন্য শুক্রবার (৮ সেপ্টেম্বর) সপরিবারে তিনি ঢাকা যান। রাতে বড় ভাই আবুল হোসেনের বাসায় ছিলেন। শনিবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে শিক্ষা বোর্ডে যাওয়ার পথে গুলশান-২ এলাকায় স্ট্রোক করেন। পরে পথচারীরা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে তাঁর বড় ভাই আবুল হোসেন অসুস্থ থাকায় মৃত্যুর সংবাদ জানানো হয়নি। পরে সন্ধ্যায় ছোট ভাইয়ের মৃত্যুর সংবাদ শুনে তিনিও স্ট্রোক করেন। পরে গুলশানের একটি হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকেও মৃত ঘোষণা করেন।

দুই ভাইয়ের মৃত্যুতে পরিবার, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। রবিবার এশার নামাজের পর নূরুল আমিনকে এবং সোমবার (১১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় তাঁর বড় ভাই আবুল হোসেনকে ভূঞাপুরের চর নিকলা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে নিজ গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১২. সেপ্টেম্বর ২০২৩ ০২:০৫:এএম ৩ বছর আগে
প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ উপহার পেলেন এক হাজার ভাঙন কবলিত পরিবার - Ekotar Kantho

প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ উপহার পেলেন এক হাজার ভাঙন কবলিত পরিবার

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে যমুনা নদীর ভাঙন কবলিত মানুষের পাশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার ত্রাণ নিয়ে দাঁড়িয়েছেন টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির।

রবিবার (১০ সেপ্টেম্বর) উপজেলার গোবিন্দাসী ও নিকরাইল ইউনিয়নের নদী ভাঙন এলাকার মানুষের হাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার তুলে দেন এমপি। এসময় এক হাজার দুস্থ ও ভাঙন কবিলতদের মাঝে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়।

এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেল্লাল হোসেন, ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমান উল্লাহ্, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাহেরুল ইসলাম তোতা, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম বাবু, গোবিন্দাসী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান দুলাল চকদারসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন ।

খাদ্য সামগ্রী চাল পেয়ে খুশি পাটিতাপাড়া গ্রামের কুলসুম বেগম বলেন, বাড়িতে কিছুদিন আগে বন্যার পানি উঠেছে। কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। পানিবন্দি অবস্থায় ঘরে খাদ্য সংকটও দেখা দিয়েছিল। আমাদের মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। হাতে খুব একটা টাকা-পয়সাও নাই। রবিবার এমপি আমাদের চাল উপহার দিলেন। চাল উপহার পেয়ে তাও কিছুদিন চলে যাবে। বন্যার সময় চাল পেয়ে অনেক খুশি হয়েছি।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল-২ গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির জানান, উপজেলার গোবিন্দাসী ও নিকরাইল ইউনিয়নের চরাঞ্চলের অসংখ্য পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। অনেকে কর্মহীন হয়ে পড়েছে। তাই তাদের খোঁজ নেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলার আরও যেসব ইউনিয়নে নদী ভাঙন এলাকা আছে তাদের পাশে দাঁড়ানো হবে। এ সময় সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের চিত্র তুলে ধরে চরাঞ্চলবাসীর কাছে নৌকায় ভোট প্রার্থনা করেন তিনি।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১১. সেপ্টেম্বর ২০২৩ ০৩:৩৪:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে নারী খামারিদের টাকা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার পকেটে! - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে নারী খামারিদের টাকা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার পকেটে!

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের (এলডিডিপি) অধীনে দেশি মুরগির ঘর নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া টাকা উপকারভোগীদের নানা ধরণের ভয়-ভীতি দেখিয়ে নিজে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সুকুমার চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে। প্রকল্পের মুরগির ঘর নির্মাণের কাজ চলতি বছরের জুন মাসে শেষ করার কথা থাকলেও এখনো পুরোপুরিভাবে কাজ শুরু করা হয়নি।

রবিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে এলডিডিপি প্রকল্পের আওতায় উপজেলায় বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে কোনো ঘর পাওয়া যায়নি। তবে, প্রকল্পের উপজেলার ফলদা ইউনিয়নের মাদারিয়া এলাকায় তারাকান্দি-ভূঞাপুর আঞ্চলিক সড়কের ওপর মাদারিয়া দেশি মুরগির দল নামে একটি সাইনবোর্ড দেখা যায়। এছাড়া দু’একজন নারী খামারির বাড়িতে সিমেন্টের খুঁটি রাখলেও তা নিম্নমানের। সেগুলো স্থাপন করার আগেই কিছু খুঁটি ভেঙে গেছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের (এলডিডিপি) দেশি মুরগির ঘর নির্মাণের জন্য উপজেলার ৬৭ জন নারী খামারিকে জনপ্রতি ২০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়। এছাড়াও একই প্রকল্পে ভেড়া পালনের জন্য ঘর নির্মাণে ২৮ জনকে টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

এদিকে, সেই বরাদ্দের টাকা গত জুন মাসের আগেই খামারিদের নিজ ব্যাংক হিসাব নম্বরে জমা করা হয়। প্রকল্পের শর্তে বলা হয়, নির্ধারিত নিয়মে খামারিদের মুরগির ঘর করে নিতে হবে। এজন্য বরাদ্দকৃত অর্থের অতিরিক্ত ব্যয় হলে সংশ্লিষ্ট পিজি সদস্য (খামারি) উক্ত খরচ নিজে বহন করতে সম্মত থাকবেন। পরে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে খামারিদের কাছ থেকে শর্তযুক্ত করে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে লিখিত রাখা হয়।

উপজেলার মাদারিয়া গ্রামের পিজি সদস্যরা বলেন, মুরগির ঘর করার জন্য ২০ হাজার টাকা দিয়েছিল অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে। পরে সেই টাকার জন্য কৃষি ব্যাংকে ১ হাজার ১০০ টাকা খরচ করে অ্যাকাউন্ট করেছি। টাকা তুলে আনা হয়েছিল ঘর করার জন্য। কিন্তু উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নিজেই ঘর করে দেবেন বলে টাকা ফেরত দিতে চাপ দেন। পরে প্রকল্পের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ভয় দেখান। চাপ সৃষ্টি করলে টাকা দিয়ে দেওয়া হয়। তিন মাস অতিবাহিত হলেও এখনো তারা ঘরতো দূরের কথা একটা খুঁটিও পাননি মুরগির খামার করার জন্য।

ফলদা মদনবাড়ী এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নারী পিজি সদস্যরা বলেন, পিজি সদস্যদের অফিসে ডেকে নিয়ে অশ্লীল ভাষায় কথাবার্তা বলেন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সুকুমার দাস। এছাড়া মামলার ভয় ও তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার কথা বলে টাকা দিতে চাপ দেন। তিন মাস অতিবাহিত হয়েছে। অথচ এই তিন মাসে মুরগিগুলো অনেক বড় হতো। এখন ঘর পাব কিনা জানি না।

মাদারিয়া দেশি মুরগির দল সমিতির সভাপতি জাহানারা বেগম বলেন, টাকা তোলার জন্য প্রাণিসম্পদ থেকে চেক দেওয়া হয়। পরে টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করি ঘর করার জন্য। কিন্তু আমাদের ঘর করতে দেওয়া হয়নি। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নিজেই ঘর করার জন্য টাকা ফেরত নিয়েছেন। সমিতির একজনও ঘর পাননি।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের ফলদা ইউনিয়নের মাঠকর্মী আব্দুল কাদের বলেন, ফলদা ইউনিয়নে ৩৮ জন সদস্য রয়েছেন। ঘর নির্মাণের জন্য তাদের চেক দেওয়া হয়। কিন্তু পরবর্তীতে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নিজে ঘর করে দেওয়ার কথা বলে টাকা ফেরত চেয়েছেন। সদস্যরাও টাকা ফেরত দিয়েছেন। তবে ঘর নির্মাণ প্রকল্পের কমিটির একজন সদস্য হলেও এই বিষয়ে আমাকে কিছুই বলা হয়নি। ঘর করে দেবে কিনা, কবে করবে সেটা জানি না।

এলডিডিপির অধীনে দেশি মুরগির ঘর নির্মাণের জন্য বরাদ্দকৃত নিজে নেওয়া ও কাজে অনিয়মের বিষয়টি অস্বীকার করে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সুকুমার চন্দ্র দাস বলেন, কোনো সদস্যের টাকা আমি নেইনি। ঘর করার আসবাবপত্র প্রকল্প এলাকায় চলে গেছে।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রানা মিয়া বলেন, প্রকল্পের মাধ্যমে ঘর নির্মাণের টাকা কর্মকর্তার কাছে রাখার নিয়ম নেই। ঘর করার নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। ঘর নির্মাণে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়ে থাকলে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১১. সেপ্টেম্বর ২০২৩ ০২:১২:এএম ৩ বছর আগে
যমুনার দুর্গমচরে দেড় শতাধিক পরিবার পেল খাদ্য সহায়তা - Ekotar Kantho

যমুনার দুর্গমচরে দেড় শতাধিক পরিবার পেল খাদ্য সহায়তা

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে যমুনা নদীতে দফায় দফায় পানি বৃদ্ধিতে দিশেহরা চরাঞ্চলের নিম্ন আয়ের মানুষ। ফলে খেটে-খাওয়া অসংখ্য পরিবারের লোকজন খাদ্য সংকটে পড়ে থাকে। পানি বৃদ্ধির ফলে উপজেলার হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়। এসব পানিবন্দি দুঃস্থ ও নদী ভাঙন কবলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোছা: নার্গিস বেগম। এরআগে তিনি বন্যা ও ভাঙন কবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন।

শুক্রবার (৮ সেপ্টেম্বর) উপজেলা চেয়ারম্যান মোছা: নার্গিস বেগমের নিজস্ব অর্থায়নে দিনব্যাপি উপজেলার গোবিন্দাসী, গাবসারা ইউনিয়নের পুংলিপাড়া, মেঘারপটল, রেহাইগাবসারা এবং অর্জুনা ইউনিয়নের বাসুদেবকোল, রামাইল ও গোবিন্দপুর বন্যা কবলিত বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ঘুরে প্রায় দেড় শতাধিক দুঃস্থ ও ভাঙন কবিলতদের মাঝে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়।

খাদ্য সামগ্রী চাল পেয়ে বাসুদেবকোল গ্রামের রহিম মোল্লা ও হাজেরা বেগম বলেন, কয়েকদিন ধরে বন্যার পানি বাড়িতে উঠেছে। কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। পানিবন্দি অবস্থায় ঘরে খাদ্য সংকটও দেখা দিয়েছিল।
কামকর্ম নেই। মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়েছে। হাতে তেমন টাকা-পয়সাও নেই। চাল উপহার পেয়ে সপ্তাহ চলে যাবে। বন্যার সময় চাল পেয়ে অনেক খুশি হয়েছে।

চাল খাদ্য সামগ্রী বিতরণকালে গোবিন্দাসী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান মো. দুলাল হোসেন চকদার, অর্জুনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান দিদারুল আলম খান মাহবুব, ভূঞাপুর প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক ফরমান শেখ ও সদস্য আব্দুল লতিফ তালুকদারসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোছা: নার্গিস বেগম বলেন, বন্যা মৌসুমে উপজেলার গোবিন্দাসী, গাবসারা, অর্জুনা ও নিকরাইল চরাঞ্চলের অসংখ্য পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করে থাকে। অনেকে কর্মহীন হয়ে পড়ে। তাই তাদের খোঁজ নেয়ার জন্য চরাঞ্চলে এসে কিছু চাল সহায়তা উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে চরাঞ্চলবাসীর কাছে নৌকায় ভোট প্রার্থনা করেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৯. সেপ্টেম্বর ২০২৩ ০২:১৭:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে ১৫ ঘণ্টা অন্ধকারে ৫০ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ১৫ ঘণ্টা অন্ধকারে ৫০ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক

একতার কণ্ঠঃ বিদ্যুৎ লাইনের তার ছিঁড়ে পড়ায় টাঙ্গাইলের তিন উপজেলা প্রায় ১৫ ঘণ্টা অন্ধকারে হয়ে পড়ে। ফলে চরম ভোগান্তিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে মানুষের জীবন। এতে বিপাকে পড়ে খামারি ও হাসপাতালে থাকা রোগীরা।

রাতভর মেরামতের কাজ শেষে বৃহস্পতিবার (৭ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪টার দিকে বিদ্যুৎ লাইনের সংযোগ সঞ্চালন হলে মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসে।এরআগে বুধবার (৬ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

জানা গেছে, বুধবার দুপুর ২টার দিকে ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের কালিহাতীর এলেঙ্গা পুংলি নদীর ওপর তার ছিঁড়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। ফলে ভূঞাপুর বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের আওতায় ভূঞাপুরসহ পাশ্ববর্তী ঘাটাইল, গোপালপুর ও কালিহাতী এলাকার ৫০ হাজারেরও বেশি গ্রাহক ১৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে ভূঞাপুর বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম জানান, বুধবার দুপুর ২টার দিকে কালিহাতীর এলেঙ্গা পুংলি নদীর ওপর ৩৩ কেভি লাইনের তার ছিঁড়ে পড়লে ভূঞাপুরসহ পার্শ্ববর্তী তিন উপজেলার কিছু অংশে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়।

তিনি আরও জানান, নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় মেরামত কাজে বিঘ্ন ঘটে। পরে রাতভর মেরামতের কাজ শেষে বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে সংযোগ লাইন সঞ্চালন করা হয়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৮. সেপ্টেম্বর ২০২৩ ০২:৫৮:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে বীমা করার কথা বলে অপহরণ, কিশোরসহ গ্রেপ্তার ১ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে বীমা করার কথা বলে অপহরণ, কিশোরসহ গ্রেপ্তার ১

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে বীমা করার কথা বলে আলমগীর হোসেন তালুকদার (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে এক কিশোরসহ ১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ভূঞাপুর থানা পুলিশ।

সোমবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসান উল্লাহ্ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অপহৃত আলমগীর হোসেনকে উদ্ধার করা হয়েছে। সে মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীর ভূঞাপুর জোনাল অফিসের হিসাবরক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- জেলার কালিহাতী উপজেলার সিলিমপুর গ্রামের মজনু মিয়ার ছেলে রাজু আহমেদ (২৫) এবং একই গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে কিশোর রাকিব মিয়া (১৫)।

এ ঘটনায় রাজু আহমেদ ও রাকিবকে আসামি করে ভূঞাপুর থানায় মামলা দায়ের করেছে আলমগীর হোসেন তালুকদারের ছোট ভাই মাহমুদুল হাসান তালুকদার।

এরআগে অভিযোগের প্রেক্ষিতে রবিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে অভিযান চালিয়ে জেলার কালিহাতী উপজেলার সাতুটিয়া এলাকা থেকে রাকিব ও ঢাকা থেকে রাজু আহমেদকে আটক করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রবিবার বিকালে অভিযুক্ত রাজু ও রাকিব মোবাইল ফোনে একটি বীমা করার কথা জানায়। আলমগীর তাদের সাথে কথা বলে ওই বীমা কোম্পানীর ম্যানেজার তারিকুল ইসলাম তুহিনের সঙ্গে শিয়ালকোল ফিলিং স্টেশন পর্যন্ত যান। পরে রাজু সেখানে আসে এবং আলমগীর হোসেনকে বলে আপনার বাড়িতে গিয়ে কথা বলি।

এরপর অভিযুক্তরা মোটরসাইকেলে উঠিয়ে তার বাড়ি ছয়আনি বকশিয়া না গিয়ে কালিহাতীর নিশ্চিন্তপুর এলাকার পরিত্যক্ত চাতালে নিয়ে ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি ও অন্যথায় প্রাণনাশের হুমকি দেন। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে আলমগীর তালুকদার তার স্ত্রীকে ফোন করে নগদের পিন নম্বর নিয়ে মুক্তিপণের প্রায় ৪১ হাজার টাকা প্রদান করে।

অপহৃত আলমগীর হোসেনের স্ত্রী হাসিনা বেগম জানান, অফিসের কাজকর্ম শেষে প্রতিদিনের মতো যথাসময়ে বাড়ি না ফেরায় আামরা স্বজনদের বাড়িতে খোঁজাখুজি শেষে রাত প্রায় সাড়ে ৭ টার দিকে ফোনে আমার স্বামী আলমগীর জানায় তার ১০ হাজার টাকা প্রয়োজন বলে তার ব্যবহৃত ফোনের নগদের পিনকোড নেন।

তিনি আরও জানান, কয়েক দফায় টাকা চাওয়ায় আমার কাছে সন্দেহ হলে বুঝতে পারি তাকে কেউ অপহৃরণ করেছে। বিষয়টি দেবর মাহমুদুল হাসানকে জানানো হলে সে ভূঞাপুর থানা পুলিশকে জানায়। পরে থানা পুলিশ সদস্যরা রবিবার রাতে অভিযান চালিয়ে কালিহাতী ও ঢাকা থেকে অভিযুক্তদের আটক করে।

এ ব্যাপারে ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসান উল্লাহ্ জানান, অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাজু আহমেদ ও তার সহযোগী রাকিব নামে ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেইসাথে ৩৩ হাজার ৫’শ টাকা, ২টি মোবাইল ও রাজুর ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও জানান, তাদের বিরুদ্ধে ভূঞাপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৫. সেপ্টেম্বর ২০২৩ ০২:২৮:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে লোকালয়ে পানি প্রবেশ, যমুনাসহ তিন নদীতে পানি বৃদ্ধি - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে লোকালয়ে পানি প্রবেশ, যমুনাসহ তিন নদীতে পানি বৃদ্ধি

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করায় বিপাকে পড়েছেন স্থানীয়রা। এছাড়া তিনটি নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে পানি বৃদ্ধির কারণে জেলার ভূঞাপুর, নাগরপুর ও কালিহাতীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের কষ্টাপাড়া, ভালকুটিয়া ও নিকরাইল ইউনিয়নের পাটিতাপাড়া, কোনাবাড়ি ও চিতুলিয়াপাড়া এলাকায়। সম্প্রতি ভাঙনরোধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয়রা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাকুয়া ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম ইতোমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের কষ্টাপাড়া, খানুরবাড়ি এলাকাতেও পানি প্রবেশ করেছে। ফলে এলাকার মানুষজন পানিবন্দি হওয়ায় বিপাকে পড়েছে। তবে পানি আরও বৃদ্ধি পেলে সেইসব এলাকাগুলোতে যাতায়াত ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ঝিনাই নদীর পানি জোকারচর পয়েন্টে আট সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৫৯ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি পোড়াবাড়ি পয়েন্টে ১৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১৯ সেন্টিমিটার এবং ধলেশ্বরী নদীর পানি এলাসিন পয়েন্টে ১০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ছয় সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ভূঞাপুর উপজেলা কষ্টাপাড়া ঘোষপাড়া গ্রামের বন্ধনা রানী ঘোষ বলেন, সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি ঘরের সামনে যমুনা নদীর পানি। হঠাৎ পানি আসাতে বিপাকে পড়েছি। যেভাবে পানি বাড়ছে তাতে বিকেলের পর আরও বিপাকে পড়তে হবে। লোকালয়ে পানি আসায় গীতাস্কুল ও কেন্দ্রীয় নাটমন্দিরে ধর্মীয় শিক্ষার ক্লাস কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।

কষ্টাপাড়ার গীতাস্কুল পরিচালনা কমিটির সদস্য শিশির দাস বলেন, যমুনা নদীর পানি উপচে গ্রামে প্রবেশ করেছে। এতে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, আগামী ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টাঙ্গাইলের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাবে। তারপর থেকে পানি কমতে শুরু করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভূঞাপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বেলাল হোসেন বলেন, সরেজমিনে যমুনা নদীতে গিয়ে পানি বৃদ্ধি ও ভাঙনের চিত্র দেখেছি। ভাঙনরোধে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। ইতোমধ্যে একটি এলাকায় পানি প্রবেশ করেছে। উপজেলা প্রশাসন থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৩. সেপ্টেম্বর ২০২৩ ০২:৪১:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে পুকুরে ডুবে প্রাণ হারালো খালা-ভাগ্নি - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে পুকুরে ডুবে প্রাণ হারালো খালা-ভাগ্নি

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে পুকুরের পানিতে গোসল করতে নেমে খালা-ভাগ্নির মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে কালিহাতী উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের দেউপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন-ওই গ্রামের মানিক মিয়ার মেয়ে জান্নাতী (১১) এবং একই ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের সাইদুল ইসলামের মেয়ে সাদিয়া ইসলাম আক্তার জীম (৮)। জান্নাতী ও জীম সম্পর্কে খালা-ভাগ্নি।

জীমের মামা জাকা‌রিয়া ব‌লেন, জান্নাতি ও জীম সকা‌লে বা‌ড়ির পা‌শে খেলাধুলা শে‌ষে গোসল করার জন‌্য পুকু‌রে নেমেছিল। পুকুরে নেমে তারা ডু‌বে যায়। এসময় তা‌দের পা‌নি‌তে পড়ার খবর দেয় আরেক শিশু। পরে স্থানীয়দের সহযোগীতায় পুকু‌রের পা‌নি‌তে নে‌মে উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করে।

ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসান উল্লাহ্ জানান, দুই শিশুকে পুুকুর থেকে উদ্ধার করে ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স হাসপাতালে নিয়ে আসে স্বজনরা। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করে। মরদেহের সুরতাহাল শেষে কালিহাতী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ বিষয়ে কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ফারুক জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৩. সেপ্টেম্বর ২০২৩ ০২:১২:এএম ৩ বছর আগে
যমুনার ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা ও ফসলি জমি - Ekotar Kantho

যমুনার ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা ও ফসলি জমি

একতার কণ্ঠঃ প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের যমুনা নদীর পূর্বপাড়ের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র ভাঙন দেখা দেয়। এই ভাঙনে ঘরবাড়ি, বসতভিটা ও ফসলী জমি হারিয়ে শত শত পরিবার নিঃস্ব হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পেতে সরকারিভাবে জিওব্যাগ ফেলাসহ নদীপাড়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে একটি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি করে আসছে।

জানাগেছে, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে গত কয়েকদিন ধরে টাঙ্গাইলের যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং জিওব্যাগ ডাম্পিং না করায় উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নের পাটিতাপাড়া এলাকায় ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে অর্ধ শতাধিক ঘরবাড়ি, ঈদগাহ মাঠ ও কবরস্থানের অর্ধেক জায়গা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে জিওব্যাগ না ফেললে শত শত বসতভিটাসহ ঈদগাহ মাঠ, কবরস্থান,স্কুল-মাদ্রাসা নদীতে বিলীন হয়ে যাবে এমন আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

এদিকে ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় গত ২৪ আগষ্ট ভূঞাপুর-বঙ্গবন্ধু সেতু আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করে এলাকাবাসী । পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আশ্বাসে অবরোধ তুলে নিলেও এখন পর্যন্ত ভাঙনরোধে কোন প্রকার পদক্ষেপ না নেওয়ায় পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করে তারা।

পাটিতাপাড়া ভাঙন কবলিত এলাকার নজরুল পাগলা, জরিনা বেগম, সেকাম শেখ, সিরাজুল ইসলাম, সজলসহ অনেকেই বলেন, যমুনার পানি বেড়ে যাওয়ায় গত কয়েকদিন ধরে তাদের এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। গত কয়েকদিনে বেশ কয়েকটি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে। ওই এলাকার প্রায় ৫০ বছর আগের কবরস্থান ও ঈদগাহ মাঠ নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ার পথে। দু-একদিনের মধ্যে বিলিন হতে পারে, এমন আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় মজিবর রহমান নামের এক ব্যক্তি জানান, উপজেলার দুই ইউনিয়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে জিওব্যাগ ফেলা হলেও মাঝখানে কিছু অংশ ফাঁকা রয়েছে। সেই ফাঁকা স্থানে পানির চাপ বেশি পড়ায় তীব্র ভাঙন দেখা দেয়। পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙন ঠেকাতে কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করি।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) মো.বেলাল হোসেন জানান, ভাঙনরোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হবে বিধায় পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বার বার বলা সত্বেও তারা ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না।

তিনি আরও বলেন, ভাঙনরোধে জিওব্যাগ ফেলার জন্য কেউ যদি টাকা চায় বা নেয় তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, সম্প্রতি যমুনা নদীর পূর্বপাড়ে নিকরাইল ও মাটিকাটা ইউনিয়নে ভাঙনরোধে কয়েক দফায় ৮.৫ মিটার এলাকায় জিওব্যাগ ফেলা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এছাড়াও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন পাঠানো হয়েছে। অনুমতি পেলে দ্রুত স্থায়ী বাঁধের নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০২. সেপ্টেম্বর ২০২৩ ০১:৩৯:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর থানার ওসি কান্ডে তদন্ত শুরু - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর থানার ওসি কান্ডে তদন্ত শুরু

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে বদলির আদেশ পাওয়ার পর থানার এসিসহ আসবাবপত্র খুলে নেয়ার কান্ডে বদলিকৃত ওসি, পুলিশ সদস্য, পুলিশের সোর্স ও ভ্যান চালককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সার্কেল (কালিহাতী) কার্যালয়ে ডাকা হয়েছে।

বুধবার (৩০ আগষ্ট) বিকেলে আলোচিত ভূঞাপুর থানার বদলিকৃত ওসি ফরিদুল ইসলাম, পুলিশ সদস্য উদয় চন্দ্র রায়, পুলিশ সোর্স আরিফ খান ও ভ্যান চালক টুটুলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সার্কেল (কালিহাতী) কার্যালয়ে ডাকেন সহকারি পুলিশ সুপার শরিফুল হক।

ভ্যান চালক টুটুল জানান, আমি ভ্যান চালক। আমাকে মালামাল নেয়ার জন্য ডাকা হয়েছিল। পুলিশ সদস্য উদয় ও আরিফ মালামাল ভ্যানে তুলে দিয়েছে। আমি তাদের নির্ধারিত জায়গাতে পৌছে দিয়েছি। আপনারা সংবাদ করায় এসপি স্যার ডেকেছেন।

আরিফ খান বলেন, সার্কেল স্যার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমাদের ডেকেছিলেন। তিনি আমাদের সবার কথা শুনেছেন। সেখানে ওসি ফরিদুল স্যার, উদয় ও ভ্যান চালক ছিল।

কালিহাতী সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার শরিফুল হক বলেন, ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে। সেই আলোকে বদলিকৃত ওসিসহ যাদের নাম সংবাদ মাধ্যমে এসেছে তাদের কথা জানার জন্য ডাকা হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৩১. অগাস্ট ২০২৩ ০৩:৫৪:এএম ৩ বছর আগে
কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।