একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যাপক শহীদ আমিনুল ইসলাম তালুকদার নিক্সন হত্যার বিচার চাইবো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে। টাঙ্গাইল-২ আসনের নেতাকর্মীদের নিয়ে ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে হত্যায় জড়িতের বিচার চাইবো।
সোমবার (৩১ জুলাই) বিকেলে গোপালপুর উপজেলা স্বাধীনতা কমপ্লেক্স মিলনায়তনে শহীদ নিক্সন স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে এ স্মরণ সভার আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী ও গোপালপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুছ ইসলাম তালুকদার ওরফে ঠান্ডু।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী ও ভূঞাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌরসভার মেয়র মাসুদুল হক মাসুদ।
শহীদ নিক্সন স্মৃতি সংসদের সভাপতি সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, গোপালপুর পৌরসভার মেয়র রকিবুল হক ছানা, গোপালপুর পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মীর রেজাউল হক, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মরিয়ম আক্তার মুক্তা, ভূঞাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহিনুল ইসলাম তরফদার, শহীদ নিক্সনের সহধর্মিণী ও হাদিরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিলকিস জাহান, শহীদ নিক্সন স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক শেখ ফেরদৌস ওয়াহিদ রিপন প্রমুখ। এসময় বিভিন্ন স্তরের ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা মাসুদুল হক মাসুদ বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা নিক্সন হত্যার বিচারের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে যাবো আমরা গোপালপুর ও ভুঞাপুরের নেতাকর্মীরা। তার কাছে বিচার চাইবো যারা এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে যাদের নাম বিভিন্ন পত্রিকায় আসছে তাদের বিচার করার জন্য।
এ সময় বক্তারা বলেন, আমিনুল ইসলাম নিক্সন একজন শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক ও আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা ছিলেন। বক্তারা নিক্সনের হত্যাকান্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারসহ ফাঁসি দাবী করেন।
এদিকে সোমবার সকালে আওয়ামী লীগ নেতা শহীদ আমিনুল ইসলাম তালুকদার নিক্সনের খুনিদের ফাঁসির দাবিতে উপজেলার হাদিরা ইউনিয়নের আজগড়াতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে এলাকাবাসী।
স্থানীয় আজগড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বন্ধ আজগড়া মোড়ে মানববন্ধনে অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, শহীদ আমিনুল ইসলাম তালুকদার নিক্সনের সহধর্মিণী ও হাদিরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিলকিস জাহান, নিক্সনের ছোট ভাই আব্দুল্লাহ আল মামুন তালুকদার, ওই ইউপির ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মামুনুর রশিদ, হোসাইন মোহাম্মদ রাসেল প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা নিক্সনকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে। নিক্সনকে হত্যা করে হাদিরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগকে দূর্বল করার নীলনকশা যারাই করে থাকেন না কেনো তাদের এ উদ্দেশ্য পূরণ হবে না। এই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ঘাটি। তাই দ্রুত নিক্সন হত্যাকারীদের আইনের আওতায় এনে খুনিদের ফাঁসি দাবি জানান এলাকাবাসী।
উল্লেখ্য, গোপালপুর উপজেলার হাদিরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, লায়ন নজরুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক, আজগড়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, আজগড়া অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও আজগড়া শেখ রাসেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা আমিনুল ইসলাম তালুকদার নিক্সনকে (৪৮) কে ২০২০ সালের ৩১ জুলাই ঈদের আগের দিবাগত রাতে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। শহীদ নিক্সনের বাড়ি হাদিরা ইউনিয়নের আজগড়া গ্রামে।
একতার কণ্ঠঃ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়াধীন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের আওতায় ভেজালরোধে তদারকিমূলক অভিযান চালিয়ে টাঙ্গাইলের ভুঞাপুরে মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ, সেবার মূল্য না থাকা ও মূল্যবিহীন ঔষধ বিক্রি করার অপরাধে দুই ওষুধ ব্যবসায়ীকে মোট ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার (২৪ জুলাই) দুপুরে উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নের বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব পাড়ের পাথাইলকান্দি (যমুনা সেতু) বাজারে বিভিন্ন দোকানে তদারকিমূলক এই অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শিকদার শাহীনুর আলম।
সহকারী পরিচালক শিকদার শাহীনুর আলম জানান, মূল্য বিহীন ঔষধ, মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ সংরক্ষণ ও বিক্রি বিক্রি করার দায়ে ফেরদৌসি মেডিকেল হল এন্ড ডেন্টাল কেয়ারকে ২০ হাজার ও ইউসুফ ফার্মেসীকে ৫ হাজার, মোট ২৫ হাজার টাকা প্রশাসনিক ব্যবস্থায় জরিমানা করা হয়। এ ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে মিথ্যা অভিযোগে সাদেক (১৮) নামে এক শিক্ষার্থীকে রাতে আটক করে পরদিন টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগে এসআই লিটন মিয়াকে বদলি করা হয়েছে।
অপরদিকে, ঘুষ নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ সুপার বরাবর অভিযোগ দিয়েছেন ওই শিক্ষার্থীর বাবা আব্দুল আলীম।
রবিবার (২৩ জুলাই) ভূঞাপুর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. লিটন মিয়াকে ভূঞাপুর থানা থেকে পার্শ্ববর্তী বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব থানায় বদলি করা হয়েছে।
বদলির আদেশে বলা হয়, আদেশ পাওয়ার সাথে সাথে বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান করে অত্র অফিসকে অবহিত করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো।
এর আগে সোমবার (১৭ জুলাই) রাত প্রায় দেড়টার দিকে পূর্ব ভূঞাপুর এলাকার আব্দুল আলীমের ছেলে সাদেককে ভূঞাপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে চোর সন্দেহের অভিযোগে আটক করেন এসআই লিটন মিয়া। পরে তাকে থানায় অন্যান্য আসামিদের সঙ্গে বন্দি করে রাখা হয়। এরপর মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) বিকেলে সাদেকের বাবা আলীমের কাছ থেকে এক লাখ ১৫ হাজার টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
জানা গেছে, উপ-পরিদর্শক (এসআই) লিটন মিয়া পার্শ্ববর্তী গোপালপুর থানার হেমনগর ফাঁড়ি থেকে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভূঞাপুর থানায় যোগদান করেন। এরপর ২০২১ সালে বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব থানায় বদলি করা হলেও তদরির করে আবার গত ২০২২ সালে জুন মাসে তিনি ভূঞাপুর থানায় আসেন। তার বিরুদ্ধে পূর্বে অনেক অভিযোগ রয়েছে।
সাদেকের বাবা আব্দুল আলীম বলেন, অভিযোগের পরে যেহেতু ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিয়েছেন তাই এ বিষয়ে আর লেখালেখি না হওয়াই ভালো।
এ বিষয়ে ভূঞাপুর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) লিটন মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন হয়ে গেছে তাই অন্য থানায় বদলি করা হয়েছে। এছাড়া সাদেক নামের ওই ছেলেকে সন্দেহমূলকভাবে আটক করা হয়েছে। পরে প্রমাণিত না হওয়ায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে কোনো টাকার লেনদেন হয়নি।
ভূঞাপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফরিদুল ইসলামের মোবাইল ফোনে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। সেটির তদন্ত হচ্ছে। তদন্তকালীন এসআই লিটন মিয়াকে বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব থানায় বদলি করা হয়েছে। আগামী তিনদিনের মধ্যে তাকে যোগদান করতে বলা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে স্কুল ছাত্রীকে অপহরণের পর জরুরী সেবা নম্বর ৯৯৯ ফোন করার পরও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। উল্টো থানায় মিমাংসার জন্য সালিশি বৈঠকের আয়োজন করলেও অপহৃত স্কুল ছাত্রীকে নিয়ে হাজির হয়নি আসামীরা।
এঘটনায় স্কুলছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে প্রধান আসামী সাদ্দাম হোসেনসহ (২৪), চারজনের নামে ভূঞাপর থানায় মামলা দায়ের করেন। এরআগে অপহরণের পর জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ ফোন করা হয়।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, উপজেলার অলোয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের এক হিন্দু ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীকে কু-প্রস্তাব দেয় প্রতিবেশি বখাটে সাদ্দাম হোসেন। কিন্তু বখাটের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় গত বুধবার ভোরে মেয়েটি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাইরে বের হলে অপহরণকারী সাদ্দামসহ কয়েকজনে মিলে অপহরণ করে। এই ঘটনায় মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে সাদ্দামসহ অপহরণের সাথে জড়িত চারজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন। কিন্তু পুলিশ মেয়েটিকে উদ্ধার না করে মেয়েটির বাবাকে থানায় মিমাংসার জন্য প্রস্তাব দেয়। পরে পুলিশের কথামত গত শুক্রবার বিকেলে ওই মেয়েটির বাবাসহ পরিবারের লোকজন থানায় হাজির হলেও আসামীরা হাজির হয়নি।
এদিকে মেয়েটিকে না পেয়ে বিভিন্নজনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন অসহায় বাবা।
মেয়ের বাবা জানান, মেয়েকে প্রতিনিয়ত স্কুলের যাতায়াতের পথে উত্ত্যেক্ত করতে সাদ্দাম। বিষয়টি তার পরিবারকে জানালেও কোন প্রতিকার পায়নি। উল্টো তারা হুমকি দেয় বিয়ে দেয়ার জন্য। পরে গত বুধবার রাতে মেয়েকে অপহরণ করা হয়। এই ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিলেও মেয়েকে উদ্ধারে কোন উদ্যোগ নেই। প্রতিকার পেতে ৯৯৯ নম্বরেও ফোন করা হয়েছে। পরে পুলিশ মেয়েকে ফিরিয়ে আনা এবং মিমাংসার জন্য থানায় বসার আয়োজন করলেও আসামীরা হাজির হয়নি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ভূঞাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জুম্মন খান বলেন, থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়ার পর তদন্ত করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আসামীপক্ষ অলোয়া ইউনিয়ন পরিষদে বসার কথা জানালে মেয়ের পরিবার অস্বীকার করে। শুক্রবার বিকেলে থানায় বসার আয়োজন করা হলেও আসামীরা উপস্থিত হয়নি। পরে মেয়ের পরিবারকে থানায় অভিযোগ দেয়ার কথা বলা হয়েছে।
অলোয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, এসআই জুম্মন দুইপক্ষকে নিয়ে বসার কথা জানালে আমি তাতে মত দেই। কিন্তু অন্য একটি ইউনিয়নে সম্মেলন থাকার কারণে শনিবার বসার কথা জানানো হয়। কিন্তু পরবর্তিতে আর কিছু জানিনা। অন্যদিকে ছেলে পক্ষ থেকে মেয়েটি হিন্দু ধর্মত্যাগ করে ইসলাম ধর্মগ্রহণের নোটারী পাবলিক এবং বিয়ে হওয়ার কাবিন নামার ফটোকপি দিয়ে গেছে।
এবিষয়ে ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলামের মোবাইলে বারবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেনি।
অতিরিক্ত সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (কালিহাতী সার্কেল) শরিফুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটির তদন্ত চলছে। তবে এই ঘটনা মিমাংসা যোগ্য না। মেয়েকে উদ্ধারে চেষ্টা অব্যাহত আছে।
একতার কণ্ঠঃ যমুনা নদীর বঙ্গবন্ধু সেতু এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে চার ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে নৌ পুলিশ। শুক্রবার(২১ জুলাই) যমুনা নদীর বেলুরচর এলাকা থেকে বালু উত্তোলনকালে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. মনিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- ভূঞাপুর উপজেলার গাবসারা ইউনিয়নের নিকলাপাড়া গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে মো. বুজরত আলী(৪৫), একই গ্রামের নুর মোহাম্মদের ছেলে মো. সুজাব আলী(২৭), মো. আব্দুল মালেকের ছেলে মো. ওমর আলী(৩৮) এবং সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি উপজেলার সুবর্ণ সারা গ্রামের আকবর আলী শেখের ছেলে মো. সালাম শেখ(২৮)।
এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. মনিরুল ইসলাম জানান, যমুনা নদীর বেলুরচর এলাকা থেকে অবৈধভাবে বাংলা ড্রেজারযুক্ত একটি নৌকায় বালু তোলা হচ্ছিল। নৌপুলিশের একটি টহল দল অভিযান চালিয়ে চোরাই বালু বোঝাই বাংলা ড্রেজারযুক্ত একটি কাঠের নৌকা জব্দ করা হয়। এ সময় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে উল্লেখিত চার ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়।
তিনি আরও জানান, গ্রেফতারকৃতদের নামে ২০১০ সালের বালুমহাল ও বালু ব্যবস্থাপনা আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু সেতু এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে নৌপুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে পথসভা করেছে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী বীরমুক্তিযোদ্ধা মাসুদুল হক মাসুদ।
বৃহস্পতিবার (২০জুলাই) রাতে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের বরর্শিলা বাজারে এই পথসভার আয়োজন করে ৫নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ।
গোপালপুর উপজেলা শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ফখরুদ্দিন শাহীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ও ভুঞাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং পৌর মেয়র মাসুদুল হক মাসুদ।
পথসভায় উপস্থিত ছিলেন, ভুঞাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সরন দত্ত, গোপালপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ–সভাপতি হারুন অর রশিদ তালুকদার গোপালপুর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মীর রেজাউল হক, ভুঞাপুর উপজেলা যুগ্ম সম্পাদক সাহিনুল ইসলাম তরফদার বাদল, জেলা পরিষদের সদস্য খায়রুল ইসলাম তালুকদার বাবলু, পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল বাছেদ মন্ডল, অজুর্না ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী মোল্লা, আলমনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল হালিম উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বাক আশরাফুজ্জামান আজাদ, নজরুল ইসলামসহ গোপালপুর ও মির্জাপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীবৃন্দ।
পথসভায় বক্তারা বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ ও আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত করতে বীরমুক্তিযোদ্ধা মাসুদুল হক মাসুদকে মনোনয়ন দেয়ার আহ্বান জানানো হয়।
পরে সরকার উন্নয়ন কর্মকান্ড তুলে ধরে তৈরি লিফলেট বিতরণ করা হয় স্থানীয়দের মাঝে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে বন্ধুর ৭ বছরের শিশুকন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ইসমাইল মন্ডল (৪২) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ইসমাইলকে আটক করে পুলিশের কাছে সোর্পদ করেছে স্থানীয়রা।
বৃহস্পতিবার (১৩ জুলাই) সকালে উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নের সারপলশিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ইসমাইল একই গ্রামের হযরত মন্ডলের ছেলে। সম্পর্কে ইসমাইল শিশুটির চাচা।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে ইসমাইল তার বন্ধুর মেয়েকে পা টিপে দেওয়ার কথা বলে ঘরে ডেকে নেন। পরে শিশুটির মুখ চেপে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করলে শিশুটি চিৎকার করে ঘর থেকে বের হয়ে তার মাকে ঘটনাটি বলে।
এদিকে শিশুটির চিৎকারে আশপাশের লোকজন বাড়িতে এসে ইসমাইলকে আটক করে পুলিশের কাছে সোর্পদ করে।
ওই শিশুটি স্থানীয় একটি প্রাইমারি স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী।
শিশুর বাবা বলেন, ইসমাইল আমার অবুঝ শিশু মেয়েটিকে পা টিপে দেওয়ার কথা বলে ঘরে ডেকে নেন। পরে মুখ চেপে অনৈতিক কাজ করার চেষ্টা করে। বিষয়টি মেম্বারসহ প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টায় মিমাংসার কথা বলছেন।
নিকরাইল ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুল হক মাসুদ জানান, শিশুর বিষয়ে অন্যের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। সত্যতা কতটুকু জানি না।
ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধর্ষণচেষ্টার প্রমাণ মিলেছে। অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। মেয়েটির মেডিকেল পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের প্রস্তুতি চলছে। বিষয়টি আমরা আরো খতিয়ে দেখছি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে নিজ জন্মভূমিতে জনপ্রিয় অভিনেতা আফরান নিশোকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। নিশো অভিনীত প্রথম “সুড়ঙ্গ” ছবিটি ভূঞাপুর স্বাধীনতা কমপ্লেক্সে অস্থায়ী হল তৈরি করে সেখানে ভক্তদের দেখার আয়োজন করে স্থানীয় কয়েকজন যুবক।
আয়োজকদের আমন্ত্রণে নিশো তার ছবির পুরো টিম নিয়ে মঙ্গলবার(১১ জুলাই )রাতে আসেন ভূঞাপুরে। এসময় “সুড়ঙ্গ” ছবির নায়িকা তমা মির্জা, পরিচালক রায়হান রাফীসহ টিমের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌরসভার মেয়র মাসুদুল হক মাসুদ। এছাড়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক সাহিনুল ইসলাম তরফদার বাদল, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম বাবু, জেলা পরিষদের সদস্য খায়রুজ্জামান তালুকদার বাবলু প্রমুখ।

এরআগে ভূঞাপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সংবর্ধনা ও “সুড়ঙ্গ” ছবি দেখানোর আয়োজন করা হয়। এসময় মাঠ কানায় কানায় পূর্ন হয়ে যায় নিশোর আগমনের খবরে। গেল ঈদের দিন থেকে শুরু হয় আফরান নিশো অভিনীত সিনেমা “সুড়ঙ্গ” অস্থায়ী হলে চালানো হয়।
এসময় অভিনেতা আফরান নিশো বলেন, জন্মভূমির শেকড়টা ভুলতে চাই না কখনো। টাঙ্গাইলে আসলেই আমার ভাষা টাঙ্গাইলের মত হয়ে যায়। এছাড়া আমার কাজের মধ্যেও এই ভাষাটা দেয়ার চেষ্টা করি। “সুড়ঙ্গ” সিনেমাটিতে মাসুদের যে চরিত্রের গেটআপ সেটা অনেকটা আমার বাবার মত। এটা কাউকে বলা হয়নি। আমার বাবাকে মাথায় রেখে তিনি দেখতেও অনেকটা ওইরকম ছিলেন। আমার মা বলেছেন যে তোমাকে দেখতে একদম তোমার বাবার মত লাগতেছে। ভূঞাপুর আমার জন্মস্থান। সব সময় এখানে আসতাম। তবে মাঝে মাঝে গভীররাতে বাবার কথা মনে হলেই গাড়ি চালিয়ে গ্রামে গিয়ে বাবার কবর জিয়ারত করে চলে যাই। তবে কাউকে বলি না।
নিশো আরও বলেন, ভূঞাপুরে দুইটা সিনেমা হল ছিল এক সময়। কিন্তু বর্তমানে একটাও নেই। তারপরও আমার জন্মস্থানে আমার ভক্তরা অস্থায়ী সিনেমা হল বানিয়ে সিনেমা দেখার সুযোগ করে দিয়েছে তার জন্য আমি সারা জীবন কৃতজ্ঞ থাকবো। কোথাও আগে শুনিনি যে এইভাবে অস্থায়ী সিনেমা হল তৈরি করেছে। আমার এলাকাবাসী আমার জন্য করেছে। আজকে বড় পর্দায় কাজ করছি কিন্তু আজকে আমার বাবা জীবিত থাকলে অন্যরকম হতো। সে যে কত খুশি হত।
আফরান নিশো বলেন, আমি ছোট থেকেই আস্তে আস্তে কাজ করতে করতে নিজের যোগ্যতায় একটা জায়গায় এসেছি, এখন অনেকেই চিনে আমার নাম। আমি বিভিন্ন চরিত্রে কাজ করতে পছন্দ করি। ভূঞাপুরে সিনেমা হল নির্মাণে সব্বোর্চ চেষ্টা করা হবে। যেখানে যেখানে যাওয়া দরকার যাবো। সিনেমা হল আমরা বানাইয়া ছাড়বো।
“সুড়ঙ্গ” সিনেমার পরিচালক রায়হান রাফী বলেন, যখন শুনলাম ভূঞাপুরে নিশোর গ্রামের বাড়ি সেখানে কয়েকজন যুবক মিলে হল বানাচ্ছে। এতে আমরা অবাক হয়েছিলাম। সাধারণত এটা হয় না কোথাও। আয়োজকদের ধন্যবাদ জানাই।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌরসভার মেয়র মাসুদুল হক মাসুদ বলেন, আমি ও ভোলা ভাই যে অভিনেতা আফরান নিশোর বাবা একসাথে রাজনীতি ও মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম। আজকে ভোলা ভাই থাকলে আরো শান্তি পেতেন তার ছেলের সাফল্য দেখে। নিশো তার কর্ম দিয়ে সারা বাংলাদেশের মানুষের হৃদয় জয় করুক।
একতার কণ্ঠঃ উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে যমুনা নদীতে গত কয়েক সপ্তাহে আশঙ্কাজনকহারে পানি বৃষ্টির কারণে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার অংশে ব্যাপক আকারে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ফলে বসত-ভিটা, ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, মসজিদ, মন্দির ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ নানা স্থাপনা বিলীন হচ্ছে নদী গর্ভে। এতে করে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নদীপাড়ের ভাঙন কবলিত মানুষ। এসব ভাঙন কবলিত পরিবারের লোকজন বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
এমন অবস্থায় ভয়াবহ ভাঙনের শিকার শতশত পরিবার দিশেহারা হয়ে ভাঙনরোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে সোমবার (১০ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯ টায় বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব-ভূঞাপুর-এলেঙ্গা আঞ্চলিক মহাসড়কের উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নের মাটিকাটা বাসস্ট্যান্ড মোড়ে এই আঞ্চলিক মহাসড়কে প্রায় ৩ ঘণ্টা অবরোধ বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এ অবরোধ কর্মসূচি বেলা প্রায় ১২ টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। পরে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অবরোধটি তুলে নেয় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
এরআগে খবর পেয়ে সকাল ১১টার দিকে নিকরাইল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর হোসেন মন্ডল ও স্থানীয় কয়েকটি এলাকার ইউপি সদস্যরা মানববন্ধনে আসে। পরে বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে ঘটনাস্থলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. বেলাল হোসেন উপস্থিত হন। তিনি তাৎক্ষণিক ভাঙন কবলিত এলাকায় আরও দ্রুত সময়ের মধ্যে জিও ব্যাগ ফেলার আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেয় তারা। অবরোধের ফলে প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়।
বসতভিটা ও ফসলি জমি হারিয়ে নিঃস্ব সোনা মন্ডল ও শফিকুল বলেন, গত প্রায় একমাস থেকে এই এলাকায় ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ভাঙনে আমাদের বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। আমরা এ এলাকার অসংখ্য পরিবার নিয়ে এখন মানবেতর জীবনযাপন করছি। প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নিজ নিজ বাড়ি রক্ষায় তবদির করে জিওব্যাগ ফেলছে। এনিয়ে কিছু বলাও যায় না। তাই আপাতত জিওব্যাগ ফেলাসহ এলাকার ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।
নিকরাইল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেন মন্ডল বলেন, প্রতি বছর পাটিতাপাড়া, মাটিকাটা, কোনাবাড়ি, পলশিয়া, দোভায়াসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় তীব্র ভাঙন দেখা যায়। এবারও ব্যাপকহারে নদীর তীর ভাঙছে। যার ফলে বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে। ইতোমধ্যে এবার অসংখ্য ঘরবাড়ি নদী গর্ভে চলে গেছে। ভাঙনরোধে দ্রুত সময়ে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা না হলে অচিরেই নদীপারের ওই গ্রামগুলো গিলে ফেলবে যমুনা।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. বেলাল হোসেন বলেন, ভাঙনরোধে স্থায়ী বাঁধের দাবিতে সড়ক অবরোধ করছিল উত্তর পাটিতাপাড়া এলাকার ভাঙন কবলিত লোকজন। এ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে তাৎক্ষণিক ভাঙনরোধে আরও দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া ও ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দিলে তারা অবরোধ তুলে নেন। যারা বসতভিটা ও ঘর-বাড়ী হারিয়েছে তাদের তালিকা করে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া বিষয়টি জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, যমুনা নদী থেকে সারা বছরই প্রভাবশালী ব্যক্তিরা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার ৬ টি ইউনিয়নের মধ্যে গোবিন্দাসী, নিকরাইল, গাবসারা ও অর্জুনা ইউনিয়নে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়। এতে প্রতি বছরই শতশত বসত-ভিটা, ফসলি জমি, মসজিদ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ নানা স্থাপনা বিলীন হয়ে যায়। এতে দিশেহারা ও নিঃস্ব হন নদীপাড়ের শতশত মানুষ। কিন্তু জনপ্রতিনিধিরা ভাঙনরোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের বার বার আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
একতার কণ্ঠঃ প্রমত্তা যমুনা নদীতে নির্মিত বঙ্গবন্ধু সেতু উদ্বোধনের পর থেকে গত ২৬ বছরে ৭ হাজার ৮৭৯ কোটি ২৯ লাখ ৭১ হাজার ৫০০ টাকা টোল আদায় হয়েছে।
১৯৯৮ সালের জুন মাস থেকে চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত যানবাহন পারাপার থেকে এ টোল আদায় করা হয়- যা সেতু নির্মাণে বিনিয়োগের প্রায় দ্বিগুণ। বঙ্গবন্ধু সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবীর পাভেল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, প্রথমে এ সেতুর নাম ছিল ‘যমুনা বহুমুখী সেতু’। পরে এর নামকরণ করা হয় ‘বঙ্গবন্ধু সেতু’। এ সেতু ১৯৯৮ সালের ২৩ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করেন। এর নির্মাণ ব্যয় হয়েছিল ৩ হাজার ৭৪৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা।
সেতু নির্মাণকালে ২৫ বছরে বিনিয়োগের টাকা তুলে আনার লক্ষ্যমাত্রা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের ৭ বছর আগেই এর নির্মাণ ব্যয় উঠে আসে। রাজধানী ঢাকার সঙ্গে উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের সড়কপথে যোগাযোগের জন্য ১৯৯৪ সালে যমুনা নদীর ওপর এ সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়।
সেতুটি যমুনা নদীর পূর্ব তীরে টাঙ্গাইলের কালিহাতী(যদিও কাগজে-কলমে ভূঞাপুর) এবং পশ্চিম তীরে সিরাজগঞ্জকে সংযুক্ত করে। ১৯৯৮ সালের ২৩ জুন উদ্বোধনের পর যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণের পর এবারের ঈদুল আজহায় ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ যানবাহন পারাপার হয়েছে। ২৭ জুন রাত ১২টা থেকে ২৮ জুন রাত ১২টা পর্যন্ত ৫৫ হাজার ৪৮৮টি গাড়ি সেতু পারাপারের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৩ কোটি ৫৮ লাখ ৪০ হাজার ২০০ টাকা টোল আদায় হয়। এর আগে ২০২১ সালের ১৩ মে ২৪ ঘণ্টায় ৫২ হাজার ৭৫৩টি যানবাহন পারাপারের বিপরীতে টোল আদায় হয় ২ কোটি ৯৯ লাখ ১৮ হাজার ২৪০ টাকা।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের(বাসেক) বঙ্গবন্ধু সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবীর পাভেল জানান, ১৯৯৮ সালের জুন মাসে ৯৮ লাখ টাকা টোল আদায় হয়। ১৯৯৮-৯৯ অর্থবছরে ৬১ কোটি ২৭ লাখ, ১৯৯৯-২০০০ অর্থবছরে ৬৬ কোটি ৯৪ লাখ, ২০০০-০১ অর্থবছরে ৮২ কোটি ৮৪ লাখ, ২০০১-০২ অর্থবছরে ৯৩ কোটি ৫৮ লাখ, ২০০২-০৩ অর্থবছরে ১০৮ কোটি ৭২ লাখ, ২০০৩-০৪ অর্থবছরে ১৩১ কোটি ৮ লাখ, ২০০৪-০৫ অর্থবছরে ১৫২ কোটি, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে ১৯৭ কোটি ৯৭ লাখ, ২০০৬-০৭ অর্থবছরে ১৭৩ কোটি ৭৬ লাখ, ২০০৭-০৮ অর্থবছরে ২০১ কোটি ৯৬ লাখ, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ২১৪ কোটি ৪২ লাখ, ২০০৯-১০ অর্থবছরে ২৪২ কোটি ৯৯ লাখ, ২০১০-১১ অর্থবছরে ২৬৭ কোটি ১০ লাখ, ২০১১-১২ অর্থবছরে ৩০৬ কোটি ২৩ লাখ, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ৩২৭ কোটি ৯৮ লাখ, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৩২৫ কোটি ৩৮ লাখ, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৩৫১ কোটি ১৪ লাখ, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৪০৪ কোটি ৮৮ লাখ, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৪৮৬ কোটি ৫২ লাখ, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৫৪৩ কোটি ৮০ লাখ, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৫৭৫ কোটি ৩৪ লাখ, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৫৬০ কোটি ২৮ লাখ, ২০-২১ অর্থবছরে ৬৫৪ কোটি ৮২ লাখ, ২১-২২ অর্থবছরে ৭০৪ কোটি ৫৫ লাখ এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৬৮০ কোটি ৭৫ লাখ ৭১ হাজার ৫০০ টাকা টোল আদায় করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বঙ্গবন্ধু সেতু-ঢাকা মহাসড়ক দিয়ে উত্তরবঙ্গের ২৩টি জেলার যানবাহন চলাচল করে। স্বাভাবিকভাবে প্রতিদিন ১৮-২০ হাজার যানবাহন সেতু দিয়ে পারাপার হয়। ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবের ছুটিতে পরিবহনের সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
একতার কণ্ঠঃ: টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে বন্ধুর নতুন মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরতে বের হয়ে বাস চাপায় আব্দুল্লাহ তালুকদার (১৯) নামে এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় রবিন মন্ডল (১৯) নামে তার সাথে থাকা আরও এক মোটরসাইকেল আরোহী আহত হয়েছে। সে বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সফিকুল ইসলাম ও ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বুধবার (২৮ জুন) সন্ধ্যা ৬ টায় উপজেলার বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব-ভূঞাপুর-এলেঙ্গা আঞ্চলিক মহাসড়কের চিতুলিয়াপাড়া নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার প্রায় দুই ঘণ্টাপর নিহত আব্দুল্লাহ তালুকদারের মরদেহ উদ্ধার করে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানা পুলিশ।
আব্দুল্লাহ তালুকদার ঘাটাইল উপজেলার আনোহলা ইউনিয়নের যোগিহাটী গ্রামের আব্দুর রহিম তালুকদারের ছেলে
আহত রবিন মন্ডল একই গ্রামের আব্দুল আজিজ মন্ডলের ছেলে। তারা দুজনেই টাঙ্গাইল সৃষ্টি কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, বিকালে একটি নতুন মোটরসাইকেল নিয়ে আব্দুল্লাহ ও রবিন বাড়ি থেকে বের হয়ে বঙ্গবন্ধু সেতুতে ঘুরতে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে চিতুলিয়াপাড়া নামক স্থানে পৌঁছলে ঢাকাগামী শ্যামলী পরিবহনের ধাক্কায় মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে ছিটকে পড়ে তারা।
এতে ঘটনাস্থলে আব্দুল্লাহ রক্তক্ষরণে মারা যায় এবং আহত হয় মোটরসাইকেল চালক তার বন্ধু রবিন মন্ডল। পরে আহত রবিনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে পাঠায়।
অপরদিকে, ঘাতক বাস চালক ও শ্যামলী পরিবহন বাসটি ভূঞাপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ।
বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল বলেন, ঢাকাগামী শ্যামলী পরিবহন নামে বেপরোয়া গতির একটি বাসের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী আব্দুল্লাহ নামে এক কলেজছাত্রের মৃত্যু হয় এবং ও আহত হয় নিহতের বন্ধু রবিন। এ খবর পেয়ে সন্ধ্যার পর ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আহত রবিনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স হাসপাতালে পাঠায়। দুর্ঘটনা কবলিত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ঘাতক চালক ও বাসটি আটক হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করেনি। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক হাইওয়ে পুলিশের প্রধান মো. শাহাবুদ্দিন খান বলেছেন, এবারের ঈদে একটু ভিন্নমাত্রা আছে। এ ঈদে পশুবাহী গাড়ির বেশি চলাচল করে। মহাসড়কের সংলগ্ন ও অদূরেই হাট থাকে। এই চ্যালেঞ্জগুলো আমরা চিহ্নিত করেছি, এর সমাধানের পথ জানি, সেগুলো সমাধানের পথও আমরা চিহ্নিত করেছি। ইজারাদারসহ স্থানীয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসন সকলে মিলে এবারও স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রা নিশ্চিত করা হবে। আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ও অঙ্গীকারবদ্ধ। সেভাবে আমরা মাঠে আছি ও কাজ করছি।
বৃহস্পতিবার (২২ জুন) দুপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়ক পরিদর্শনকালে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব টোলপ্লাজা চত্বরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
শাহাবুদ্দিন খান বলেন, ফিটনেসবিহীন ও মেয়াদউত্তীর্ণ যানবাহন নিয়ে যে আমরা শুধু ঈদের আগে কাজ করি তা না। প্রতিনিয়ত এসব যানবাহন নিয়ে আমরা কাজ করে থাকি। প্রতিনিয়ত ফিটনেসবিহীন ও মেয়াদউত্তীর্ন যানবাহন ডাম্পিং করা হচ্ছে। গত মে মাসে এ রকম যানবাহনের বিরুদ্ধে ২৫ হাজার মামলা দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, এছাড়াও অনেক গাড়ি আটক করা হয়েছে। এসব ব্যবস্থার কারনে কিন্তু গত ঈদ এ যাবতকালের স্বস্তি দায়ক ঈদ যাত্রা হয়েছে। যানজট ও নিরাপদ ঈদ আমরা উপহার দিতে পেরেছি। ফিটনেসবিহীন, রেজিষ্ট্রেশনবিহীন ও লাইসেন্সসহ নানা অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করা হচ্ছে। এ ধারাবাহিকতা বর্তমানেও অব্যাহত আছে, আশা করছি এর সুফল এবারও পাবো।
অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক হাইওয়ে পুলিশের প্রধান মো. শাহাবুদ্দিন খান বলেন, তারপরও ভাল গাড়ি যদি তাৎক্ষনিক বিকল হয় সে গুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সব মহাসড়কের যানবাহন মেরামতের ওয়ার্কশপের মালিকদের নম্বর আমরা রেখেছি। বিকল হওয়া গাড়ি যাতে তাৎক্ষনিক চালু করা যায় সে বিষয় জোরদার করা হয়েছে। যে সব যানবাহন চালু করা যাবে না সেগুলো রেকার দিয়ে অপসারণ করবো।
তিনি আরও বলেন, ঈদ উপলক্ষে সরকার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশের হেড কোয়ার্টার ,আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, হাইওয়ে পুলিশ আমরা সমন্বিতভাবে উদ্যোগ নিয়ে থাকি। আমাদের গুরু দায়িত্ব মনে করি ঈদের সময়ে জন নিরাপত্তার ক্ষেত্রে, মহাসড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদে স্বাধচ্ছন্দে স্বজনদের কাছে যাওয়ার ব্যবস্থা করে থাকি। যখন এলেঙ্গা থেকে উত্তরবঙ্গমুখী গাড়ির চাপ বেশি থাকবে তখন বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্বপাড়ের গোলচত্বর হয়ে ভূঞাপুর দিয়ে এলেঙ্গা দিয়ে ঢাকায় যাবে। গাড়ির চাপ কম বেশির উপর ভিত্তি করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন হাইওয়ে পুলিশ গাজীপুর রিজিওনের পুলিশ সুপার মো. মোস্তাফিজুর রহমান, টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো. শরফুদ্দীন, বঙ্গবন্ধু সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবীর পাভেল, কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান, বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম, এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (ওসি) জাহিদ হাসান প্রমুখ।