একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে মধ্যরাতে বাসার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে স্বামী-স্ত্রীকে আটকে রেখে নগদ ৬০ হাজার টাকা ও আলমিরাতে থাকা ১৯ ভরি স্বর্ণ অলংকার ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাতদের বাঁধা দিলে গেলে তাদের দু’জনকে মারপিট করে আহত করা হয়।
সোমবার (১৩ মে) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের কয়েড়া পশ্চিমপাড়ার আলীম আল রাজিম আকন্দের বাড়িতে এই ডাকাতির ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার (১৪ মে) দুপুরে কয়েড়া ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. রুবেল সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ভুক্তভোগি আলীম আল রাজিম জানান, বাসার পেছনে লোহার গ্রিল কেটে মধ্যরাতে বাসার ভেতরে প্রবেশ করে ডাকাত দল। তখন আনুমানিক রাত দেড়টা হবে। পরে হঠাৎ কোনো কিছুর শব্দে ঘুম ভাঙলে চিৎকার করার চেষ্টা করলে আমার ও সন্তানদের মাথায় দেশীয় অস্ত্র ঠেকিয়ে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয় তারা।
এর একপর্যায়ে আমার স্ত্রীর ঘুম ভেঙে যায় এবং সে আমাকে বাঁচাতে চেষ্টা করলে তাকেও মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে আলমারি ও লকারের চাবি চায় ডাকাত দল। পরে চাবি দিতে না চাইলে ডাকাতরা আমাদের সাড়ে ৩ ঘণ্টা আটকে রেখে ও মারধর করে নগদ ৬০ হাজার টাকা ও ১৯ ভরি স্বর্ণ লুটপাট করে নিয়ে পালিয়ে যায়।
তিনি আরও জানান, তারা রাত ৪ টার দিকে পালিয়ে গেলে তাৎক্ষণিক আমি বাসা থেকে বেরিয়ে ডাক-চিৎকার করলে লোকজন আমাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে সেখানে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে আসি। এরআগে সকালে বিষয়টি ভূঞাপুর থানা পুলিশকে জানানো হয়।
এ ঘটনায় ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আহসান উল্লাহ্ জানান, মঙ্গলবার (১৪ মে) ভোরে ঘটনাটির ব্যাপারে ভুক্তভোগী জানালে দ্রুত টহলরত পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। পরে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ ঘটনায় ওই ভুক্তভোগী কোনো অভিযোগ না করলেও আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে পরীক্ষা দিতে যাওয়ার পথে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে মো. শিপন ইসলাম (২১) নামে এক কলেজছাত্র নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৪ জন।
মঙ্গলবার (১৪ মে) সকালে বঙ্গবন্ধু সেতু ভূঞাপুর-এলেঙ্গা আঞ্চলিক সড়কের উপজেলার ছাব্বিশা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত কলেজছাত্র শিপন ইসলাম উপজেলার গাবসারা ইউনিয়নের চরবিহারী গ্রামের আজিজুর রহমানের ছেলে। সে ভূঞাপুর ইবরাহীম খাঁ সরকারি কলেজের ডিগ্রি প্রথম বর্ষের পরীক্ষার্থী ছিল।
মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহতরা হলেন- ঈমান আলীর ছেলে মনিরুজ্জমান (৪৮), হামিদের ছেলে হাবিবুর (২২), আইয়ুব আলীর ছেলে দুলাল হোসেন (২০)। আরেকজনের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। এরমধ্যে হাবিবুরসহ অন্যজন ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। অপর আহতদের মধ্যে মনিরুজ্জামান ও দুলাল হোসেন টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয়রা জানান, গোবিন্দাসী থেকে একটি মোটরসাইকেল ভূঞাপুরের দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে ছাব্বিশা এলাকায় পৌঁছলে ভূঞাপুর থেকে আসা অপর একটি মোটরসাকেলের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে শিপনসহ দুই মোটরসাইকেল আরোহী ৫ জন আহত হয়।
এরপর স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিপন নামে একজন পরীক্ষার্থী মারা যায়।
প্রতিবেশি হ্যাপি আকন্দ জানান, শিপন ভূঞাপুর ইবরাহীম খাঁ সরকারি কলেজের ডিগ্রি প্রথম বর্ষের পরীক্ষা দিচ্ছিল। মঙ্গলবার সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে মোটরসাইকেলযোগে পরীক্ষা দিতে ঘাটাইল জিবিজি সরকারি কলেজ কেন্দ্রে যাচ্ছিলেন। পথেই ছাব্বিশা এলাকায় পৌঁছলে দুই মোটরসাইলের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত হয়ে শিপন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. জুলফিকার হায়দার বলেন, আহত অবস্থায় ৫ জনকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন স্থানীয় লোকজন। পরে আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদেরকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এছাড়া আহত অপর দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আহসান উল্লাহ্ বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টি জানা নেই এবং কেউ জানায়নি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে সড়ক দিয়ে হেঁটে বাড়ি যাওয়ার সময় গরুবাহী ট্রাকের ধাক্কায় অবসরপ্রাপ্ত পুলিশের কনস্টেবল নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (১৩ মে) সকালে ভূঞাপুর-তারাকান্দি আঞ্চলিক সড়কের উপজেলার অর্জূনা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত পুলিশ সদস্য আলাউদ্দিন খান উপজেলার অর্জুনা গ্রামের মৃত মাজম আলীর ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, নিহত আলাউদ্দিন স্থানীয় অর্জুনা উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে সড়কের পাশ দিয়ে হেঁটে বাড়ির দিকে যাওয়ার সময় গরুবাহী ট্রাক তাকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে সে ঘটনাস্থলে গুরুত্বর আহত হয়ে সড়কের উপর পরে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করে। পরে টাঙ্গাইল যাওয়ার পথেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. খাদেমুল ইসলাম জানান, সড়ক দূর্ঘটনায় গুরুত্বর আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তার শারিরীক অবস্থা খারাপ হওয়ায় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। যাওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আহসান উল্ল্যাহ জানান, সড়ক দূর্ঘটনায় অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার বিষয়ে কোন তথ্য জানা নেই।
একতার কণ্ঠঃ ৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দ্বিতীয় ধাপে আগামী ২১ মে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ উপলক্ষে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের দুইদিন ব্যাপি প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু হয়েছে।
শুক্রবার (১০ মে) দিনব্যাপি ভূঞাপুর ইবরাহীম খাঁ সরকারি কলেজ হলরুমে এই প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ইটিআই)। প্রশিক্ষণ কর্মশালা ১১ মে সমাপ্তি হবে।
এ সময় প্রশিক্ষণ কর্মশালায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মামুনুর রশীদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা রিটার্নিং অফিসার জিয়াউল ইসলাম চৌধুরী।
এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- টাঙ্গাইল জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মোহম্মদ মতিয়ুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আনোয়ার মাহমুদ, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাহিমা বিনতে আখতার, ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আহসান উল্লাহ্ প্রমুখ।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়- নির্বাচনের দিন ৭০ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ৫১১ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং ১ হাজার ২৩ জন পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন। উপজেলায় ৬৭ টি কেন্দ্রে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে আগামী ২১ মে নির্বাচন ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এদিন পর্যাপ্ত সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী নিয়োজিত থাকবে বলে জানা গেছে।
একতার কণ্ঠঃ প্রচন্ড তাপদাহে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ক্লাস শেষে শিক্ষক মন্ডলী কক্ষে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছেন এক মাদ্রাসা শিক্ষক। রবিবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার রাউৎবাড়ী দাখিল মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।
ওই শিক্ষকের নাম মো. জহিরুল ইসলাম। সে স্থানীয় রাউৎবাড়ী দাখিল মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী শিক্ষক।
ওই মাদ্রাসার সুপার ও বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীন ভূঞাপুর উপজেলা শাখা’র সভাপতি মাওলানা মো. আফছার আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ক্লাস শেষে শিক্ষক মন্ডলী কক্ষে আসেন জহিরুল ইসলাম। পরে তিনি হঠাৎ জ্ঞান হারান এবং কথা বলা বন্ধ হয়ে যায় তাঁর। পরে তাৎক্ষণিক মাথায় পানি ঢাললে ১০ মিনিট পর তার জ্ঞান ফিরে আসে। তিনি বর্তমানে সুস্থ আছেন।
এ বিষয়ে ভূঞাপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, মাদ্রাসা শিক্ষকের জ্ঞান হারানোর বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিচ্ছি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে তীব্র তাপপ্রবাহে হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে এক নারীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) রাতে হিট স্ট্রোক করে সালমা বেগম (৫০) নামের ওই নারীর মৃত্যু হয়।
তিনি ভূঞাপুর পৌর শহরের ফকিরপাড়ার চরপাড়া এলাকার অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট সানাউল্লাহর স্ত্রী।
শনিবার (২৭ এপ্রিল) সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আব্দুস সোবহান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্বজনরা জানান, শুক্রবার রাতে প্রচণ্ড গরমের কারণে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মাটিতে পড়ে যান সালমা।পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে ভুঞাপুর স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আব্দুস সোবহান জানান, শুক্রবার রাতে সালমা নামে এক বয়স্ক নারীকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়েছিল। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনার পূর্বেই তার মৃত্যু হয়। প্রচন্ড গরমে স্টোক জনিত কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ অবশেষে দৃশ্যমান হলো প্রমত্তা যমুনার বুকে দেশের দীর্ঘতম রেলসেতু ‘বঙ্গবন্ধু রেলসেতু’। এই রেলসেতু নির্মাণের সর্বশেষ ৪৯ নম্বর স্প্যানটি শনিবার (২০ এপ্রিল) স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে। এখন যমুনার বুকে সগর্বে দাঁড়িয়ে আছে দেশের সবচেয়ে বড় রেলসেতু ‘বঙ্গবন্ধু রেলসেতু’।
এ ব্যাপারে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু’ প্রকল্প পরিচালক আল ফাত্তাহ মো. মাসউদুর রহমান বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম মেগা প্রকল্প দীর্ঘতম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু নির্মাণের কাজ ৮৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। এখন ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যর এই সেতুর সুপার স্ট্রাকচার (বাহ্যিক দৃশ্যমান) পুরোটাই শেষ হয়েছে। এখন রেলসেতুর কিছু কাজ বাকি রয়েছে। রেলসেতুতে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণও শেষের দিকে। হয়তো আগস্ট মাসে পুরো কাজ শেষ হয়ে যাবে। পরীক্ষামূলক সব কাজ শেষ করে এ বছরের ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উত্তরবঙ্গের দীর্ঘদিনের স্বপ্নের এই রেলসেতু উদ্বোধন করবেন।
রেল মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, বঙ্গবন্ধু রেলসেতুটি চালু হলে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে সারা দেশের রেলযোগাযোগ ও রেলওয়ে পরিবহন ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। অভ্যন্তরীণ রেল যোগাযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি ট্রান্সএশিয়ান রেলপথে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে সক্ষমতা অর্জন করবে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে দেশের উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতি বেগবান হবে।
যমুনা নদীর ওপর নির্মিত বঙ্গবন্ধু সেতুর ৩০০ মিটার উজানে দেশের দীর্ঘতম ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনের সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। ২০২০ সালের ২৯ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সেতু নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। ১৬ হাজার ৭৮১ কোটি টাকা ব্যয়ের মধ্যে ৭২ ভাগ অর্থ ঋণ দিচ্ছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)। জাপানের আইএইচআই, এসএমসিসি, ওবায়শি করপোরেশন, জেএফই ও টিওএ করপোরেশন এই পাঁচটি প্রতিষ্ঠান নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
ইতিমধ্যে টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জ অংশে দুটি প্যাকেজের আওতায় ৫০টি পিলার ও ৪৯টি স্প্যান বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। সেতুর স্প্যানে স্লিপারবিহীন রেললাইন বসানো হচ্ছে। দেশের রেললাইনে জাপানি এ প্রযুক্তির ব্যবহার এটাই প্রথম। এ প্রযুক্তিতে স্টিল স্ট্রাকচারের গার্ডারের সঙ্গে রেললাইনের সংযোগ প্রযুক্তিতে কোনো স্লিপার থাকবে না। রেলসেতুতে ব্রডগেজ ও মিটারগেজ দুই ধরনের রেললাইনের সমন্বয়ে ডুয়েলগেজ ট্র্যাক বসানোর কাজ চলছে। ডাবল লাইনের এই সেতুতে ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলাচল করতে পারবে।
বর্তমানে বঙ্গবন্ধু সেতুর অর্ধাবৃত্তাকৃতির বিপরীত অংশে ভারী লোহার পাত যুক্ত করে সেতু দিয়ে ট্রেন চলাচল করে। ঘণ্টায় ২০ কিলোমিটার বেগে ট্রেন চলাচল করায় একটি ট্রেনকে সেতু পাড়ি দিতে ২২ মিনিট সময় লাগে। এতে করে সেতুর দুই দিকে ট্রেনের জট সৃষ্টি হয়। এ কারণে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে ঢাকার রেলযোগাযোগে প্রতিটি ট্রেনকে গড়ে ৩০ মিনিট করে বেশি লাগে।
‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু’ প্রকল্প পরিচালক আল ফাত্তাহ মো. মাসউদুর রহমান বলেন, বর্তমানে বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে ৩৮টি ট্রেন চলাচল করতে পারে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু চালু হলে প্রতিদিন ৬৮টি ট্রেন চলাচল করতে পারবে। নতুন রেলসেতু চালু হলে একদিকে যেমন ট্রেনে গতি ফিরবে তেমনি যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।
একতার কণ্ঠঃ মাদক, সন্ত্রাস, বাল্য বিয়ে, ইভটিজিং, জুয়ারোধ, চাঞ্চল্যকর হত্যাকন্ডের দ্রুত সময়ে রহস্য উদঘাটন করে আসামিদের গ্রেপ্তার, অপরাধ দমন এবং সর্বাধিক ওয়ারেন্ট তামিল লক্ষ্য পূরণ করাসহ ভালো কাজের বিশেষ ভূমিকা রাখার স্বীকৃতি স্বরূপ টাঙ্গাইল জেলার মধ্যে আবারও শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মো. আহসান উল্লাহ্। তিনি জেলার ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে জেলা পুলিশের উদ্যোগে পুলিশ লাইন্স মাল্টিপারপাস শেডে আয়োজিত মাসের কল্যাণ সভায় তাকে শ্রেষ্ঠ ওসির সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
এ সময় ওসি আহসান উল্লাহ্’র হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট (পুরস্কার) তুলে দেন জেলা পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার (বিপিএম) (অ্যাডিশনাল ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত)। এতে জেলা পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তাসহ জেলার বিভিন্ন থানার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এনিয়ে জেলার মধ্যে চতুর্থবারের মতো শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হলেন তিনি। একইসাথে ভূঞাপুর থানাও শ্রেষ্ঠ হয়েছে এবং থানার এসআই, এএসআই ও কনস্টেবলসহ ৯ জন ক্রেস্ট সম্মাননা পেয়েছেন। তার এই অর্জনে উপজেলার সুধীজন, বিভিন্ন সামাজিক সেবামূলক সংগঠন শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আহসান উল্লাহ্ বলেন, জেলা পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার মহোদয় (অ্যাডিশনাল ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) এর দিক-নির্দেশনায় মাদক, সন্ত্রাস, বাল্য বিয়ে, ইভটিজিংরোধ ও চাঞ্চল্যকর হত্যাকন্ডের দ্রুত সময়ে রহস্য উদঘাটন ও আসামিদের গ্রেপ্তারসহ বিশেষ অবদানের জন্য চতুর্থ বার আমাকে শ্রেষ্ঠ ওসি ও ভূঞাপুর থানাকে শ্রেষ্ঠ নির্বাচিত করা হয়।
তিনি আরও বলেন, ভূঞাপুর থানার কর্মরত সকল পুলিশ সদস্য এবং উপজেলার সকলের সার্বিক সহযোগিতায় ভূঞাপুর থানার এমন এক সাফল্যময় গৌরব অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এই অর্জন সকলের। তাছাড়া জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি ও থানা নির্বাচিত হওয়ায় আমাদের দায়িত্ববোধ আরও বেড়ে গেল। ভূঞাপুর থানা সকলের জন্য উন্মুক্ত। আগামী দিনগুলোতে আরও ভালো কিছু করতে ভূঞাপুর উপজেলাবাসীর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ঘুমন্ত স্বামীর গোপনাঙ্গ কেটে শিশু সন্তান রেখেই পালিয়েছেন স্ত্রী জাকিয়া (২৬)।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পর সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।
বুধবার (১৭ এপ্রিল) ভোরে উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের রাউৎবাড়ী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগীর নাম ফিরোজ (২৯) সে স্থানীয় শাহজাহানের ছেলে এবং জাকিয়া পাশ্ববর্তী জিগাতলা গ্রামের জামিলের মেয়ে।
প্রতিবেশি ও স্বজনরা জানান, পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে ৬-৭ বছরের একটি শিশু ছেলে সন্তান রয়েছে তাদের। সংসার জীবনের মধ্যেই প্রায়ই এক অপরকে দোষারোপ করে বিভিন্ন সময় ঝগড়া করতো।
এনিয়ে সম্প্রতি একাধিকবার গ্রাম্য সালিশি হয়। মঙ্গলবার রাতেও তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। পরে বুধবার ভোরে ফিরোজের গোপনাঙ্গ কেটে সন্তান রেখেই জাকিয়া পালিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী ফিরোজ জানায়, ভোরে ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ করে লিঙ্গ কেটে ফেলে। পরে ডাক-চিৎকার শুনে পরিবার ও প্রতিবেশিরা এসে উদ্ধার করে এরআগে শিশু সন্তান রেখেই স্ত্রী জাকিয়া পালিয়ে যায়।
ফিরোজের মামা আরজু জানান, বিয়ের পর থেকে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। ভোরে ঘুমানো অবস্থায় ভাগিনার লিঙ্গ কেটে ফেলে তার স্ত্রী। পরে পাশের লোকজন খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে। তার স্ত্রী বাড়ি থেকে পালিয়েছে।
গোবিন্দাসী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. দুলাল হোসেন চকদার বলেন- বিষয়টি জেনেছি। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি ফিরোজকে হাসপাতালে পাঠিয়েছে স্থানীয়রা।
তিনি আরও বলেন, স্বামী-স্ত্রীর মাঝে সাংসারিক ঝামেলা চলছিল। এনিয়ে সম্প্রতি একাধিকবার দরবার-সালিশ করা হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার কাজল তালুকদার বলেন, লিঙ্গের পুরো অংশ কেটে ফেলায় প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আহসান উল্লাহ জানান, ঘটনাটি জেনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভুঞাপুরে যমুনা নদীতে মহাষ্টমীতে হাজার হাজার পুণ্যার্থীদের পদচারণায় মুখরিত স্নান ঘাট। মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) ভোর থেকে উপজেলার খানুরবাড়ি সরাতলা কালীমন্দির সংলগ্ন যমুনা নদীতে স্নান শুরু হয়। স্নান ঘাটের পাশেই মেলা শুরু হয়েছে। মেলায় বিভিন্ন ধরনের পণ্য সামগ্রীর পসরা নিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা।
পাঁপমোচন আশায় এবং দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় আগত পুণ্যার্থীরা যমুনা নদীতে স্নান করতে আসেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পুণ্যার্থীরা স্নান করতে যমুনা ঘাটে আসে। এসময় গঙ্গা পূজা অর্চনা করে ভক্তরা চৈত্রমাসের শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথিতে পুণ্যস্নান অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় অসংখ্য পুণ্যার্থী এখানে পুণ্যস্নানের জন্য আসেন।
স্নান করতে আসা পলাশ চন্দ্র সরকার বলেন, যমুনায় স্নান তীর্থস্থানে পরিণত হয়েছে। এখানে পুণ্যার্থীরা স্নান করছে তাদের মনোবাসনা পূরণের জন্য।
গঙ্গা স্নান করতে আসা গোবিন্দ সরকার বলেন, নদীর পাড়ে নতুন জলে গঙ্গা স্নান করেছি ও পূজা দিয়েছি। মহা অষ্টমীতে এখানে স্থানীয় লোকজনসহ দূর-দূরান্ত থেকে অনেক মানুষ মেলা দেখতে আসেন।
ঘাটে পূজা করা পুরোহিত পিন্টু গোস্বামী জানান, পাঁপমোচনের আশায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা যমুনা নদীতে স্নান করতে এসেছেন। বিভিন্ন জায়গা থেকে পুণ্যার্থীরা আসছে স্নান করতে। হাজার হাজার পুণ্যার্থীর ঢল নেমেছে নদীতে।
অষ্টমী স্নান উৎসব আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক অভিজিৎ ঘোষ জানান, ভোর থেকে পুণ্যার্থীরা স্নান ঘাটে এসেছেন পূজা অচর্না করতে। আগত পুণ্যার্থীদের জন্য সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। কয়েক হাজার ভক্তদের জন্য প্রসাদের ব্যবস্থা করা হয়। স্নানোৎসবে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেছেন ভক্তদের নিরাপত্তার জন্য।
ভুঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আহসান উল্ল্যাহ বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্নান ঘাটে পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। জেলা পুলিশের রিজার্ভ ফোর্স, থানা পুলিশ ও নৌ পুলিশের সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা কাজে নিয়োজিত রয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বড় মনিরকে দলীয় পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তাকে চুড়ান্ত অব্যাহতির জন্য দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের কাছে সুপারিশ করেছে শহর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।
এছাড়াও গোলাম কিবরিয়া বড় মনির জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব ও টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনিরের বড় ভাই।
ওই আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে ঢাকার তুরাগ থানায় গত ২৯ মার্চ ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা করেন এক নারী। এজন্য দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হওয়ায় তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতারা।
এরআগেও টাঙ্গাইলে এশা মির্জা নামের আরেক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের মামলা রয়েছে বড় মনিরের বিরুদ্ধে। ওই মামলায় তিনি উচ্চ আদালতে জামিনে রয়েছেন।
টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র এসএম সিরাজুল হক এবং সাধারণ সম্পাদক এম এ রৌফ স্বাক্ষরিত অব্যাহতি পত্র পাঠানো হয়েছে। দলের ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আযমের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের কাছে পাঠানো হয়েছে।
দলীয় সাধারণ সম্পাদককে দেওয়া ওই চিঠিতে বলা হয়েছে “ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের হওয়ার পর ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তার এই অনৈতিক কর্মকান্ডে দলীয় ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুন্ন হয়েছে এবং এ কারনে টাঙ্গাইলের সাধারণ জনগন দলের প্রতি বিরূপ ধারনা পোষন করছে। এমতবস্থায় টাঙ্গাইল জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের পরামর্শ ও নির্দেশক্রমে দলের বৃহত্তর স্বার্থে এবং সুনাম ও ভাবমূর্তি বজায় রাখার নিমিত্তে গোলাম কিবরিয়া বড় মনিরকে টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি প্রদান করা হলো এবং চুড়ান্ত অব্যাহতি প্রদানের জন্য আপনার নিকট সুপারিশ করা হলো।
এদিকে ঢাকায় ধর্ষণ মামলা দায়ের পর দিন থেকেই আত্মগোপনে রয়েছেন বড় মনির। জেলার কোন অনুষ্ঠানে বা দলীয় কোন কর্মকান্ডে তাকে পাওয়া যায় না।
টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ রৌফ বলেন, ঈদের আগে দলের সাধারণ সম্পাদকের কাছে গোলাম কিবরিয়াকে চুড়ান্ত অব্যাহতি প্রদানের জন্য সুপারিশ করে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে সাধারণ সম্পাদকের কোন সিদ্ধান্ত এখনো পাওয়া যায়নি।
একতার কণ্ঠঃ এবার অস্ত্রের মুখে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে টাঙ্গাইলের আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম কিবরিয়া ওরফে বড় মনির বিরুদ্ধে। পরে ভুক্তভোগী ওই তরুণী বাদী হয়ে রাজধানীর তুরাগ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
তুরাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মোস্তফা আনোয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।
এরআগে শুক্রবার (২৯ মার্চ ) রাতে জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ এ কল পেয়ে পুলিশ রাজধানীর তুরাগ থানায় প্রিয়াংকা সিটি আবাসিক এলাকায় বড় মনিরের ফ্ল্যাট থেকে ওই কলেজছাত্রীকে উদ্ধার করে। তাকে জোর করে ওই বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী।
পুলিশের ভাষ্য, বড় মনির ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছেন।
ওই শিক্ষার্থী মামলায় অভিযোগ করেন, ফেসবুকে বড় মনিরের সঙ্গে পরিচয় হয় তার। প্রথম পর্যায়ে হাই-হ্যালো হতো। এক পর্যায়ে বড় মনির ভুক্তভোগীকে ছোট বোন বলে সম্বোধন করে। এরপর তার সঙ্গে ছাত্রীর হোয়াটসঅ্যাপে অডিও-ভিডিওতে কথা হতো।
বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) ইফতারের পর বড় মনির ভুক্তভোগী ছাত্রীকে মেসেজ দিয়ে জমজম টাওয়ারের সঙ্গে এপেক্স শোরুমের সামনে থাকতে বলেন। সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিটের সময় এপেক্স শো-রুমের সামনে অপেক্ষা করি। এর ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর বড় মনির রিকশা নিয়ে আসে এবং রিকশায় উঠতে বলে। ভুক্তভোগী ছাত্রী তার সঙ্গে রিকশায় ওঠেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে তুরাগের প্রিয়াংকাসিটির ৬ নম্বর রোডের ৭ নম্বর বাসার পশ্চিম পাশের ফ্ল্যাটের তৃতীয় তলার উত্তর-পশ্চিম পাশের রুমের ভেতর নিয়ে যান। এরপর রুমের দরজা বন্ধ করে ধর্ষণ করেন।
এরপর ভুক্তভোগী ছাত্রী তার বাবাকে ফোন দেন। তার বাবা ঘটনা শুনে ৯৯৯ এ ফোন দেন। পরে তুরাগ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
উল্লেখ্য, বড় মনির জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব এবং টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ওরফে ছোট মনিরের বড় ভাই। এর আগেও টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বড় মনিরের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা রয়েছে। ওই মামলায় বর্তমানে জামিনে আছেন তিনি।