একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে পথসভা করেছে আওয়ামীলীগের সংসদ সদস্য পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী বীর মুক্তিযোদ্ধা মাদুসুল হক মাসুদ।
শনিবার (১০ জুন) বিকেলে উপজেলার আলমনগর ইউনিয়নের দৌলতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড প্রচার উপলক্ষে এই পথসভার আয়োজন করা হয়।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ভূঞাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-২ (ভূঁঞাপুর-গোপালপুর) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী বীরমুক্তিযোদ্ধা মাসুদুল হক মাসুদ।
স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নাজিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, গোপালপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মীর রেজাউল হক, উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক লুৎফুর রহমান, ভূঞাপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি সরন দত্ত, যুগ্ম সম্পাদক সাহিনুল ইসলাম তরফদার বাদল, ভূঞাপুর পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল বাছেদ মিঞা, অজুর্না ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী মোল্ল্যা, গোবিন্দাসী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ইকরাম উদ্দিন তারা মৃধা, সাবেক চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম আমিন, গোপালপুর উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক আশরাফুজ্জামান আজাদ প্রমূখ।
অনুষ্ঠানে উপজেলার আলমনগর, মির্জাপুর ইউনিয়ন ও গোপালপুর পৌরসভা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।
পরে সাধারণ মানুষজনের মাঝে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড নিয়ে তৈরি করা লিফলেট বিতরণ করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ১২ বছর বয়সী এক শিশুকে হত্যার ভয় দেখিয়ে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযোগের প্রেক্ষিতে আনোয়ার হোসেন (৪৫) নামে এক সাবেক ইউপি সদস্যকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৬ জুন) দুপুরে উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের গোবিন্দাসী এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
ভূঞাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জুম্মান খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি সদস্য ও কুকাদাইর গ্রামের হাছেন আলী তালুকদারের ছোট ছেলে।
জানা গেছে, গত ২০ মে রাত ১ টায় গোবিন্দাসী টি-রোড এলাকার একটি গরুর খামারে ওই শিশুকে ডেকে নেন অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন। পরে তাকে হত্যার ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক হাত-মুখ চেপে ধরে বলাৎকার করে। এসময় শিশুটির ডাক-চিৎকার শুনে খামারের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় এক বাক প্রতিবন্ধী এগিয়ে এসে ডাকাডাকি করলে খামারে থাকা অন্য শ্রমিকরা শিশুটিকে উদ্ধার করে। ঘটনাস্থলে আসার আগেই আনোয়ার পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বলেন, আমি ঘটনাটি জানতাম না। কয়েক দিন পর জানতে পারলাম আমার ছেলের সাথে আনোয়ার মেম্বার অনৈতিক কাজ করেছে। মঙ্গলবার সকালে ভূঞাপুর থানায় এসে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করি। এই নেক্কারজনক ঘটনায় নরপশুর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।
এ ব্যাপারে ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম বলেন, বলাৎকারের শিকার হওয়া শিশুটির বাবা বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তার প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সকালে গোবিন্দাসী এলাকা থেকে সাবেক ওই ইউপি সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে বিকালে টাঙ্গাইল আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় পথচারী ও মোটরসাইকেল চালকসহ ২ জন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন মোটরসাইকেল আরোহী আরও একজন।
শুক্রবার (২ জুন) বিকালে ভূঞাপুর-বঙ্গবন্ধু আঞ্চলিক সড়কের উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের চিতুলিয়াপাড়া কদমতলা নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি ভূঞাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. লিটন মিয়া নিশ্চিত করেছেন।
নিহতরা হলেন-কালিহাতী উপজেলার সল্লা ইউনিয়নের জাবরাজান গ্রামের আফজাল হোসেনের ছেলে মোটরসাইকেল চালক শিশির (৩০), ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের রুহুলী গ্রামের মৃত জসীম উদ্দিনের ছেলে পথচারী আন্তাজ আলী মন্ডল (৬৫)।

গুরুতর আহত যুবকের নাম ইয়ামিন (২২)। ইয়ামিন ভুঞাপুর উপজেলার অলোয়া ইউনিয়নের গোলাবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকালে উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের চিতুলিয়াপাড়া কদমতলী নামক স্থানে আন্তাজ আলী মন্ডল রাস্তা পারাপার হচ্ছিল। পথিমধ্যে মাটিকাটা থেকে ছেড়ে আসা বেপরোয়া গতির একটি মোটরসাইকেল গোবিন্দাসী যাওযার পথে আন্তাজ আলীকে ধাক্কা দেয়।
এসময় মোটরসাইকেলের চালক, আরোহী ও পথচারী সড়কে ছিটকে পড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলে চালক মারা যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় পথচারী ও আরোহীকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে হাসপাতালে নিয়ে গেলে আন্তাজ আলীকে কর্তব্যরত চিকিৎসা মৃত ঘোষণা করেন। অপর আরোহী ইয়ামিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে ভূঞাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. লিটন মিয়া জানান, বিকালে চিতুলিয়া পাড়া নামকস্থানে মাটিকাটা থেকে একটি মোটরসাইকেল চালক আরোহীসহ গোবিন্দাসীর দিকে যাচ্ছিল। সে সময় একজন পথচারী রাস্তা পারাপার হচ্ছিল। সেসময় মোটরসাইকেলটি তাকে ধাক্কা মারে।
তিনি জানান, এতে ঘটনাস্থলে চালক মারা যায়। পরে দুইজন গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে ভূঞাপুর হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা আন্তাজ আলীকে মৃত ঘোষণা করে। অপরদিকে, মোটরসাইকেল আরোহী ইয়ামিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলে মারা যাওয়া মোটরসাইকেল চালক শিশিরের পরিবারের লোকজন খবর পেয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে বাড়ি নিয়ে যায় এবং আন্তাজ আলী মন্ডলের মরদেহ হাসপাতাল থেকে উদ্ধার করে আইনী প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। অপর আরোহীর অবস্থা আশঙ্কাজনক।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের তরুণ প্রতিভাবান ক্রিকেটার তামজিদ আহমেদের (১৯ ) বজ্রপাতে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (৩১ মে) দুপুরে গোপালগঞ্জ শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এক প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ চলাকালীন সময়ে বজ্রপাতের শিকার হয় তামজিদ। পরে তাকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নিহত তামজিদ টাঙ্গাইলের ভুঞাপর উপজেলার অলোয়া ইউনিয়নের কদিম নিকলা গ্রামের মোঃ ইমান আলীর ছেলে।
এ প্রসঙ্গে, টাঙ্গাইল জেলা ক্রিকেট কোচ মো. আরাফাত রহমান জানান, বুধবার দুপুরে স্টেডিয়ামটিতে গোপালগঞ্জ আবাহনী ক্রিকেট একাডেমি ও ঢাকার ফ্রেন্ডস স্পোর্টস একাডেমির মধ্যে ৩ ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ চলছিল। ম্যাচটিতে তামজিদ ঢাকার ফ্রেন্ডস স্পোর্টস একাডেমির হয়ে খেলছিল।
তিনি জানান, দুপুর দেড়টার দিকে আকাশে সামান্য মেঘ ছিল। তামজিদ আহমেদ ডিপ স্কোয়ার লেগে ফিল্ডিং করছিলেন। খেলার ৩৫তম ওভারের সময় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় বজ্রপাত হলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সতীর্থরা দৌড়ে কাছে গিয়ে দেখতে পান, তামজিদের পরিহিত জার্সির অনেকাংশ পুড়ে গেছে। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আনসার আহমেদ তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও জানান, দুই বছর আগে ঢাকা ফ্রেন্ডস স্পোর্টস একাডেমিতে ভর্তি হয়েছিলেন তামজিদ। গোপালগঞ্জ আবহানী ক্রিকেট একাডেমির সঙ্গে সিরিজ খেলতে দলের সঙ্গে গোপালগঞ্জে এসেছিলেন তিনি। তামজিদ টাঙ্গাইল জেলা দলের হয়ে অনূর্ধ্ব-১৪, অনূর্ধ্ব-১৬ ও অনূর্ধ্ব-১৮ জাতীয় ক্রিকেট খেলেছেন। ক্রিকেট প্র্যাকটিসের পাশাপাশি তামজিদ ঢাকায় জীবিকা নির্বাহের জন্য ফুড পান্ডায় ডেলিভারি ম্যানের কাজ করতো।
তামজিদের অকাল মৃত্যুতে টাঙ্গাইল জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন হায়দার ও সাধারণ সম্পাদক মির্জা মঈনুল হোসেন লিন্টু গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে আওয়ামী যুবলীগ নেতা আক্তারুজ্জামান সেলিমকে কুপিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় আরও দুইজনকে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
হামলার শিকার আক্তারুজ্জামান সেলিম উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
আহত দুইজনের মধ্যে একজন হলেন, ভূঞাপুর পৌরসভার ঘাটান্দি এলাকার আলতাফ হোসেনের ছেলে রতন তালুকদার। অপরজনের পরিচয় জানা যায়নি।
মঙ্গলবার (৩০ মে) রাত ৮ টার দিকে ভূঞাপুর-বঙ্গবন্ধু সেতু আঞ্চলিক মহাসড়কের ভূঞাপুর পৌরসভার ফসলান্দি মোড়ের কলেজ গেট নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, মঙ্গলবার (৩০ মে) বিকালে রেললাইন ক্রসিংয়ের পাশে ভূঞাপুর লিংকরোড বাইপাস সড়ক উদ্বোধন অনুষ্ঠান ছিল। সেই অনুষ্ঠান থেকে রাতে উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আক্তারুজ্জামান সেলিম ফেরার পথে হামলার শিকার হন ও কুপিয়ে জখম করা হয় তাকে।
এসময় বাধা দেওয়ায় তার সাথে থাকা রতন সহ আরও একজনকে কুপিয়েছে দুর্বৃত্তরা। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক আক্তারুজ্জামান সেলিমকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করেন।
এ ঘটনায় ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম জানান, দুর্বৃত্তদের হামলায় উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সেলিম আহত হয়েছে জানতে পেরেছি এবং চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কারা এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে তাৎক্ষণিক জানা যায়নি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য ও তার স্ত্রীকে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে জখম করে আলমারিতে থাকা নগদ টাকা, ব্যাংকের চেক বই ও স্বর্ণালংকার লুট করে ডাকাতদল।
রবিবার (২৮ মে) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ভূঞাপুর-টাঙ্গাইল-তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কের উপজেলার বাহাদিপুর এলাকায় ওই সাবেক সেনাসদস্যের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ডাকাতদল ঘরে ঢুকে আলমারিতে থাকা ১১ ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ ১ লাখ টাকা লুট করে নেন বলে জানিয়েছে পরিবারের সদস্যরা।
আহতরা হলেন-উপজেলার বাহাদিপুর এলাকার মৃত ইদ্রিস হোসেন তালুকদারের ছেলে ও সাবেক সেনাসদস্য শামছুল হক তালুকদার হিরা (৬০) ও তার স্ত্রী বাহাদিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা নাজমা খাতুন (৪৫)।
সোমবার (২৯ মে) দুপুরে ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য তার স্ত্রী ও বৃদ্ধ মায়ের সঙ্গে ওই বাড়িতে বসবাস করেন। তাদের দুই ছেলের মধ্যে একজন লন্ডন প্রবাসী এবং একজন ঢাকার একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। রবিবার গভীর রাতে বাড়ির বারান্দার লোহার গ্রিল কেটে ডাকাতদলের সদস্যরা ঘরে প্রবেশ করে। পরে ডাকাতির সময় শব্দ হওয়ায় তাদের ঘুম ভেঙে যায়। এসময় ডাকাতদলকে বাধা দেওয়ায় শামছুল হককে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে জখম করে তারা। তার স্ত্রী বাধা দিতে গেলে তাকেও কুপিয়ে আহত করা হয়।
পরে ডাকাতদলের সদস্যরা ঘরের স্বর্ণালংকার ও টাকা লুট করে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে সেনাসদস্যের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে হলে তাকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম জানান, রবিবার মধ্যরাতে সেনাসদস্যের বাড়িতে চুরি ও তাকেসহ তার স্ত্রীকে কুপিয়ে আহতের খবর পেয়ে ওই বাড়িতে পরিদর্শন করা হয়। ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরে গুরুতর আহত শামছুল হককে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ না পেলেও ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে কুয়েতের একটি সংস্থার নাম করে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মূলহোতাসহ জামাই ও শ্বশুরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৯ মে) দুপুরে তাদের টাঙ্গাইল কোর্ট হাজতে প্রেরণ করেছে ভূঞাপুর থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মামলার মূলহোতা সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার দড়িপাড়া গ্রামের গোলাম মোহাম্মদের ছেলে মাহবুবুল হক (৪৩), তার সহযোগী বগুড়া সদর উপজেলার ফুলবাড়ী মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত মোক্তার হোসেনের ছেলে আ. রউফ (৫৬) ও তার মেয়ের জামাই ভূঞাপুর পৌরসভার ফসলান্দি গ্রামের আক্তারুজ্জামান সিদ্দিকীর ছেলে নাজিম সিদ্দিকী (৩৭)।
এরআগে বৃহস্পতিবার (১৮ মে) মূলহোতা মাহবুবুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে থানা পুলিশ তাকে ৩ দিনের রিমান্ডে নেয়। পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মাহবুবুল হক তার সহযোগী আ. রউফ ও তার মেয়ের জামাই নাজিম সিদ্দিকীর কথা বলেন।
এরআগে গত বুধবার (১৭ মে) উপজেলার ছাব্বিশা গ্রামের মাসউদ আলী খান বাদী হয়ে মাহবুবুল হককে প্রধান আসামী করে অজ্ঞাত কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন।
জানা যায়, বিদেশি সংস্থা কুয়েত জয়েন রিলিফ সোসাইটির (কেজিআরসি) নামে একতলা ভবন নির্মাণের আশ্বাস দিয়ে উপজেলার বেশ কয়েকজনের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একতলা ভবনের জন্য মাহবুবুল হক ও তার সহযোগীরা মানুষজনের কাছ থেকে ৪-৫ লাখ টাকা করে নেয়। এসময় মানুষজনকে বিশ্বাস করানোর জন্য বেশ কয়েকটি ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করে তারা।
কিন্তু হঠাৎ করেই উধাও হয়ে যায় কেজিআরসির মাহবুবুল হক, আ. রউফ ও তার মেয়ের জামাই। পরে তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলেও কোন সুরাহা না পাওয়ায় ভুক্তভোগী মাসউদ আলী খান বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় উল্লেখ করা হয় মাসউদসহ উপজেলার বেশ কয়েকজনের কাছ থেকে গ্রেপ্তারকৃতরা ৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা প্রতারণা করে।
এ ব্যাপারে ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম জানান, মামলার মূল আসামির সাথে এজেন্ট হিসেবে কাজ করতো জামাই ও শ্বশুর। রিমান্ডে মাহবুবুল হক ওই দুই এজেন্টের কথা বলার পরই বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরোও জানান, শুক্রবার দুপুরে তাদের কোর্ট হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। তারা কুয়েতের একটি সংস্থার কথা বলে মানুষজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ভবন করে দেওয়ার আশ্বাস দেয়। এতে অনেক মানুষজন তাদের কথায় বিশ্বাস করে টাকা দিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে কিশোরীকে ভাড়া করে এনে দেহ ব্যবসা করার অভিযোগে স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৯ মে) সকালে গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের নলীন বাজার এলাকা থেকে কিশোরীসহ তাদেরকে গোপালপুর থানা পুলিশ আটক করে ভূঞাপুর থানায় সোপর্দ করে।
এছাড়া সাতক্ষীরা জেলা থেকে আনা ওই কিশোরী ভূঞাপুর থানায় পুুলিশের হেফাজতে রয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের কষ্টাপাড়া গ্রামের হবি মন্ডলের ছেলে মিন্টু এবং তার স্ত্রী তানিয়া (৩২)।
জানা গেছে, মিন্টু ভূঞাপুর পৌরসভার ফসলান্দি এলাকায় নুরুল ইসলামের বাসা ভাড়া নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নারী এনে দেহ ব্যবসা করেন। এই ব্যবসায় তার স্ত্রীও জড়িত ছিল। গত মার্চের ২৩ তারিখে সাতক্ষীরা থেকে একজন কিশোরীকে ভূঞাপুর নিয়ে এসে ব্যবসা শুরু করেন।
এসময় উপজেলার বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে ওই কিশোরীকে দিয়ে পতিতাবৃত্তির কাজ করানো হয়। শুক্রবার মিন্টু ও তার স্ত্রী তানিয়া ওই কিশোরীকে গোপালপুরের নলীন বাজার এলাকায় একটি বাসায় নিয়ে যায় পতিতাবৃত্তির জন্য। পরে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে কিশোরীসহ স্বামী-স্ত্রীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
এ ঘটনায় শুক্রবার দুপুরে সাতক্ষীরার ওই কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে মিন্টু ও তার স্ত্রী তানিয়ার বিরুদ্ধে মানবপাচার ও ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন।
এ ব্যাপারে ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম জানান, ওই কিশোরীকে সাতক্ষীরা থেকে এনে মিন্টু ও তার স্ত্রী ব্যবসা করতো। এছাড়া তার স্ত্রীও পতিতাবৃত্তির কাজ করতো। পরে স্থানীয়রা তাদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। শনিবার (২০ মে) তাদের কোর্টে প্রেরণ করা হবে।
তিনি আরও জানান, এছাড়া সাতক্ষীরা থেকে আনা ওই কিশোরীর মেডিকেল পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে। ওই কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে মিন্টু ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। বর্তমানে তারা থানা হেফাজতে রয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে নিজ ঘরে এখলাছ উদ্দিন (৩৫) নামে এক যুবক ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৮ মে) সকালে উপজেলার চর অলোয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের মাধ্যমে এ খবর পেয়ে দুপুরে নিজ ঘর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ভূঞাপুর থানা পুলিশ।
সে উপজেলার অলোয়া ইউনিয়নের চর অলোয়া গ্রামের সোহরাব আলী মুন্সীর ছেলে। এখলাছ তিন সন্তানের বাবা। সে শ্রমিকের কাজ করতো।
পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, এখলাছ উদ্দিন মানসিক রোগে ভুগছিলেন। এছাড়া ৪-৫ মাস আগে স্ত্রীর সঙ্গে তার ছোট ভাইয়ের ঝগড়ার ঘটনা ঘটে এবং মামলা হয়। পরে এখলাছের তিন সন্তান নিয়ে তার স্ত্রী বাবার বাড়ি চলে যান। স্ত্রী শ্বশুর বাড়ি চলে যাওয়ায় এখলাছ আরও হতাশায় ভুগছিলেন। এ অবস্থাতেই শ্রমিকের কাজ করতো সে।
বৃহস্পতিবার সকালে ঘুম থেকে না ওঠায় তার মা খাবারের জন্য ডাকতে গেলে দেখতে পান ঘরের আড়ার সাথে ঝুলে আছে। পরে তার মা ডাক-চিৎকার করলে আশ-পাশের লোকজন এসে ঘরের আড়ার থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহ নিচে নামায়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান।
এ ব্যাপারে ভূঞাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আরফান আলী জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার এবং মরদেহের সুরতাহল শেষে থানায় নিয়ে আসা হয়।
তিনি আরোও জানান, পরে বিকালে মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তার স্ত্রী বাড়ি না থাকায় হতাশায় হয়তো সে আত্মহত্যা করতে পারে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের কার্যক্রম অত্যন্ত ধীর গতিতে চলছে। তিন বছর অতিবাহিত হলেও বর্তমানে প্রস্তাবিত এই অর্থনৈতিক অঞ্চলের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে। এছাড়াও প্রস্তাবিত ওই এলাকাকে উপজেলার মূল ভূখণ্ডের সাথে যুক্ত করতে যমুনা নদীর উপর বাঁধ তৈরির কাজেরও চলছে সম্ভাব্যতা যাচাই। ফলে ভূঞাপুরের এই চরাঞ্চল বাসীর মধ্যে এক ধরনের হতাশা বিরাজ করছে ।
তবে স্থানীয় সংসদ সদস্যে তানভীর হাসান ছোট মনিরের দাবি , বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের কারণে প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাজের কিছুটা ধীরগতি হলেও বর্তমানে পূর্ণদমে কাজ চলছে।
জানা যায়, উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নের পলসিয়া , নলসিয়া , কোনাবাড়ি, দোভায়া, পাটিতা পাড়া এবং গোবিন্দাসী ইউনিয়নের গোবিন্দাসী , কষ্টা পাড়া, ভালকুটিয়া চরাঞ্চলের ৫০২.০২ একর খাস জমিতে প্রস্তাবিত এই অর্থনৈতিক অঞ্চলের জায়গা ২০১৯ সালের ২৮ জুন (শুক্রবার) দুপুরে পরিদর্শন করেন তৎকালীন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান (সচিব) পবন চৌধুরী।
এসময় উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির, তৎকালীন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের মহাব্যবস্থাপক ও যুগ্ম সচিব (বিনিয়োগ উন্নয়ন) মো. মনিরুজ্জামান, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।এরপর দীর্ঘ তিন বছর অতিবাহিত হলেও এই প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলের কার্যক্রমে তেমন কোন দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি।

ভূঞাপুরের যমুনা নদীতে জেগে উঠা চরের ৫০২.০২ একর জমির এই প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলের সাথে দেশের বিভিন্ন স্থানের সড়ক, নদী ও রেলপথে সরাসরি যোগাযোগ সুবিধা রয়েছে। বাংলাদেশে শুধুমাত্র প্রস্তাবিত ভূঞাপুরের এই অর্থনৈতিক অঞ্চলেই এই সুবিধা বিদ্যমান। ফলে এখানে উৎপাদিত পণ্য সারাদেশ ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কম সময়ে ও কম খরচে পৌঁছানো সম্ভব।
এ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপিত হলে উপজেলার পিছিয়ে পড়া চরাঞ্চলের লোকসহ জেলার হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। প্রসার ঘটবে ব্যবসা বানিজ্যের। এতে যমুনার ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পাবে পূর্বপাড়ের প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকার ফসলিজমি ও বসতভিটা। সুযোগ সৃষ্টি হবে পর্যটন শিল্পেরও।
ভূঞাপুর ইবরাহিম খাঁ সরকারি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মোহাম্মদ ইমন পারামানিক বলেন, আমরা যত দ্রুত সম্ভব এই এলাকায় অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের জোর দাবি জানাচ্ছি । এছাড়া এই অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন হলে সেখানে কর্মসংস্থানের একটি বড় অংশ যেন এই অঞ্চলের জন্য সংরক্ষিত থাকে তারও জোর দাবি জানাচ্ছি।
স্থানীয় নজরুল ইসলাম , মোহাম্মদ সেলিম সিকদার, মোঃ শামসুল হক, মোঃ জুলহাস শেখ, মমতা বেগম, মোছাঃ আমেলা বেগম বলেন, দীর্ঘ তিন বছর চলে গেলেও এই চরাঞ্চলে এখনো ইপিজেড স্থাপনের কোন কার্যক্রম শুরু হয়নি । এছাড়া তৎকালীন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান বেশ কিছু ব্যক্তিগত জমিকে খাস জমি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে। ফলে বেশ কিছু জমির মালিকের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আমরা চাই জমির প্রকৃত মালিককে ক্ষতিপূরণ দিয়ে এই এলাকায় ইপিজেড স্থাপন করা হোক। ইপিজেড স্থাপন হলে এই এলাকার মানুষের ভাগ্য আমূল পরিবর্তন হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই এলাকায় দ্রুত ইপিজেড স্থাপনের জোর দাবি জানাচ্ছি।
উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দুলাল হোসেন চকদার জানান, ভূঞাপুরের অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের জন্য যে ৫০২.০২ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে তার সব খাস জমি নয় । এর মধ্যে কিছু জমি নিয়ে জটিলতা রয়েছে। তারপরও আমরা চাই ভূঞাপুরে দ্রুত অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করা হোক। অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপিত হলে এই এলাকার লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার আমূল পরিবর্তন সাধিত হবে।
ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ বেলাল হোসেন জানান, উপজেলার নিকরাইল ও গোবিন্দাসী ইউনিয়নের চরাঞ্চলে প্রায় ৫০২.০২ একর জমিতে সেনাবাহিনীর একটি দল অর্থনৈতিক অঞ্চলের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে। এছাড়া ওই চরের সাথে মূল ভূখণ্ডকে যুক্ত করতে যমুনা নদীতে একটি বাঁধ তৈরির সম্ভাব্যতা যাচাই কার্যক্রম চালাচ্ছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি টিম।
তিনি আরো জানান , আশা করি খুব দ্রুতই ভূঞাপুরের প্রস্তাবিত অর্থনীতি অঞ্চলের কার্যক্রম শুরু করা যাবে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির জানান, ভূঞাপুরের প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক জোনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের কারণে এই কার্যক্রম কিছুটা পিছিয়ে পড়লেও বর্তমানে এই কার্যক্রম পূর্ণদমে চলছে । বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দল বর্তমানে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই-বাছাই করছে। এছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড যমুনার ওই অংশে বাঁধ তৈরির সম্ভাব্যতা যাচাই করছে।
তিনি আরো জানান, আশা করি খুব দ্রুতই ভূঞাপুর তথা টাঙ্গাইলবাসীর স্বপ্নের অর্থনৈতিক অঞ্চল তার কার্যক্রম শুরু করতে পারবে।
একতার কণ্ঠঃ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিলে ভূঞাপুর ও গোপালপুরে আগুন জ্বলবে বলে প্রতিপক্ষকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর- গোপালপুর) আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির।
তিনি বলেন, ঢাকা ক্লাবে বসে বসে আপনারা আসবেন আর ষড়যন্ত্র করবেন। শেখ হাসিনা আমাকে এ আসনে মনোনয়ন দিয়েছিলেন। এমপি হওয়ার পর এলাকায় অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছি। সুতরাং এ আসনে মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে আমি কোনো চিন্তাই করি না। যারা মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন তাদেরকেও প্রতিযোগী হিসেবে সমকক্ষ মনে করি না।
সোমবার (১৫ মে) রাত ৯টায় টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর ইবরাহীম খাঁ সরকারি কলেজ মাঠে সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। পরে তার ওই বক্তব্য মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে বিভক্ত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এবং ফেসবুক ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন মন্তব্য করছেন।
ছোট মনির বলেন, আজকে তারা নোংরা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। এ ষড়যন্ত্রের জবাব তারা পাবে। আমরাও বসে থাকব না। আমি একটা পরিবর্তনের ডাক নিয়ে এসেছি। সেখানে কোনো মারামারি, কাটাকাটি হবে না। একটা পরিবর্তন করতে এসেছি, কারও মাথায় বাড়ি দিয়ে জমি নেয়ার জন্য নয়। কারও ক্ষতি করার জন্য নয়। তারা ভেবেছে আমরা কানা হয়ে গেছি।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আপনারা সাবধান হয়ে যান। মানুষকে সম্মান করলে মানুষ সম্মান করবে। যারা দল করে না, দলের আদর্শ বিশ্বাস করে না তারাই এসব কার্যকলাপ করে।
এদিকে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনে আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন মনোনয়ন প্রত্যাশী হওয়ায় কোন্দল শুরু হয়েছে। এতে প্রকাশ্যে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে নেতাকর্মীরা। এছাড়া এমপি ছোট মনিরের বড় ভাই টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি গোলাম কিবরিয়া বড় মনিরের বিরুদ্ধে কিশোরীকে ধর্ষণ মামলায় ভূঞাপুরে পক্ষে-বিপক্ষে মিছিল ও সমাবেশ হচ্ছে।
এ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য ছাড়াও ঢাকা ক্লাবের সভাপতি ও সাবেক এমপি খন্দকার আসাদুজ্জামানের ছেলে খন্দকার মশিউজ্জামান রোমেল, ভূঞাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা মাসুদুল হক মাসুদ, গোপালপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইউনুছ ইসলাম তালুকদার ঠান্ডুসহ কয়েকজন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছে।
প্রতিদিনই এসব মনোনয়ন প্রত্যাশীরা গণসংযোগ করছেন নিজেদের সমর্থন আদায়ে।
একতার কণ্ঠঃ অভাব-অনটনের সংসারে পড়াশোনার খরচ ও পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা করতে প্রতিবন্ধী বাবার অটোভ্যান নিয়ে বাড়তি আয়-রোজগারের আশায় বের হওয়া স্কুলছাত্রকে গলাকেটে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল দুর্বৃত্তরা। সেই অসহায় পরিবারের পাঁশে দাঁড়ালেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন হায়দার।
বুধবার (১০ মে) সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. বেলাল হোসেন এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে মঙ্গলবার (৯ মে) দিনব্যাপী উপজেলার বিভিন্ন দপ্তর পরিদর্শন ও উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় উপজেলার অর্জুনা ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামে ওই স্কুলছাত্রের প্রতিবন্ধী বাবা সুজন তালুকদারের হাতে অটোভ্যানের চাবি তুলে দেন তিনি (জেলা প্রশাসক)।
নিহত স্কুল ছাত্রের নাম জাহিদুল ইসলাম (১৪)। সে বলরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন হায়দার বলেন, জাহিদুল নামে স্কুলছাত্রের বাবা প্রতিবন্ধী ও পরিবারটি দরিদ্র । বাড়তি আয়ের আশায় অটোভ্যান নিয়ে বের হলে দুর্বৃত্তরা কাঁচি দিয়ে তার গলা কেটে হত্যার পর অটোভ্যানটি ছিনতাই করে নেয়। এতে করে পরিবারটি আরও ক্ষতিগ্রস্ত ও মানষিকভাবে ভেঙে পড়ে। তাই ওই অসহায় পরিবারকে একটি নতুন অটোভ্যান উপহার দেওয়া হয়েছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান মোছা: নার্গিস বেগম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুদুল হক মাসুদ, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাহিমা বিনতে আখতার, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম বাবু, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আলিফ নূর মিনি, ভুঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম প্রমূখ।
উল্লেখ্য, গত ১ মার্চ রাত সাড়ে ৮টার দিকে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর-গোপালপুর আঞ্চলিক সড়কের ঘাটাইলের পাঁচটিকড়ি দক্ষিণপাড়া এলাকায় একটি প্রাইমারি স্কুলের পাশে জাহিদুল ইসলামকে গলাকেটে হত্যা করে তার অটোভ্যান ছিনতাইয়ের পর পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে তার চাচা শামছুল ইসলাম বাদী হয়ে ঘাটাইল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।