একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম বদলি হওয়ায় থানায় লাগানো এসি, টেলিভিশন, আইপিএস ও সোফা খুলে নিয়েছেন। এভাবে থানার জিনিসগুলো খুলে নেওয়ার ঘটনায় আলোচনা- সমালোচনার ঝড় বইছে।
শুক্রবার (২৫ আগষ্ট) রাত ৯টার দিকে থানার পুলিশ সদস্য উদয় ও বহিরাগত আরিফ এবং ভ্যান চালকের সহায়তায় থানার কক্ষ থেকে জিনিসপত্রগুলো খোলা হয়। এরপর সেগুলো থানা থেকে ভ্যানযোগে ওসির কোয়ার্টারে নেওয়া হয়।
এ দিকে থানার সৌন্দর্য্য বর্ধনের জন্য যারা জিনিসগুলো উপহার দিয়েছেন তারা বিরূপ মন্তব্য করেছেন। এছাড়াও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, একজন ওসি ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তা। সর্বসাকুল্যে তিনি ২২ হাজার টাকা মূল বেতন ও আনুষাঙ্গিক মিলিয়ে ৫০ হাজার টাকার মত বেতন পান। (হিসেবটি আনুমানিক ধরা হয়েছে, চাকরির মেয়াদ, ইনক্রিমেন্ট অনুযায়ী কমবেশি হতে পারে)
এ টাকার বেতনভুক্ত একজন সরকারি কর্মচারী একটি ১ টনের এসি, ৫৬” এলইডি স্মার্ট টেলিভিশন, সোফা সেট কেনার মতো আর্থিক সামর্থ্য রাখেন না। যদি না তিনি এসবকারও কাছ থেকে উপহার হিসেবে পান। সেই উপহারের জিনিস ওসি বদলি হওয়ায় খুলে নেওয়া এলাকাজুড়ে চলছে সমালোচনা, কানাঘুষা।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৪ আগষ্ট) পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার স্বাক্ষরিত স্মারক নং ৫১৭০/১ (৪৯) (আরওআই) আদেশে ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলামকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। তার এই বদলির আদেশের পরের দিন শুক্রবার রাতে থানার এসি, টেলিভিশন, সোফা ও আইপিএস খুলে নেওয়া হয়।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক ব্যবসায়ীরা জানান, থানায় জিনিসপত্র ব্যক্তিগত কাউকে দেওয়া হয় না। থানায় যে ওসি আসবে সেই ব্যবহার করবে। এজন্যই জিনিসপত্রগুলো কেনার জন্য টাকা দেওয়া হয়েছে। এতো নিচু মন মানসিকতার ওসির সেটা জানা ছিল না।
থানার পুলিশ সদস্য উদয় বলেন, ওসি স্যারের নির্দেশে জিনিসপত্রগুলো খুলে নেওয়া হয়েছে। এরপর সেগুলো ভ্যানযোগে ওসির কোয়ার্টারে রাখা হয়েছে।
নিকরাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জুরান মন্ডল বলেন, থানার সৌন্দর্য্য বর্ধন ও থানার যেই ওসি আসুক তারা যেন সুবিধা ভোগ করতে পারে সেজন্য বালু মহলের টাকা দিয়ে জিনিসপত্রগুলো দেওয়া হয়েছে। থানার স্বার্থে, কারও ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য নয়। শুনেছি তিনি সেগুলো খুলে নিয়ে যাচ্ছেন, এটা ঠিক না। তাকে ব্যক্তিগতভাবে দেওয়া হয়নি। তার চেয়ারটাকে সম্মান করে দেওয়া হয়েছে।
ভূঞাপুর থানার ওসি (তদন্ত) মো. লুৎফর রহমান জানান, ওসির টাকায় কেনা জিনিসপত্র হলেতো সে নিতেই পারে। এই বিষয়ে আমার কোন মন্তব্য নেই।
বদলি হওয়া ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, যেগুলো থানা হতে খোলা হয়েছে সেগুলো ব্যক্তিগত টাকা দিয়ে কেনা। সুতরাং সেগুলো আমি নিতেই পারি।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার বলেন, কারও অনুদানের টাকায় কিনে থাকলে সেগুলো ওসি নিতে পারেন না। যদি ব্যক্তিগত টাকায় কেনা হয় তাহলে নিতে পারবেন। যদিও এই বিষয়ে কিছুই জানি না।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে বাড়ির পাশের পুকুরে গোসল করতে গিয়ে আরমান (৮) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (২৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নের সারপলশিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আরমান উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নের সারপলশিয়া গ্রামের মো.বাদশা মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্বজনরা জানায়, শুক্রবার সকালে শিশু আরমান বাড়ির পাশে একটি পুকুরে গোসল করতে যায়। গোসল শেষে বাড়ি না ফেরায় বাবা-মাসহ প্রতিবেশীরা খুঁজতে থাকে। অনেক খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে পুকুরে নেমে তল্লাশি চালায়। ঘন্ট্যাবাপী পুকুরে তল্লাশি চালিয়ে পুকুর থেকে আরমানের মৃতদেহ উদ্ধার করে।
ভূঞাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আরফান আলী জানান, পুকুরে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে শিশুটির মৃতদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে আলোচিত ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলামকে জেলা পুলিশ লাইনে বদলি করা হয়েছে। জনস্বার্থে তাকে ভূঞাপুর থানা হতে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করার আদেশ দেয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ আগষ্ট) পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার স্বাক্ষরিত স্মারক নং ৫১৭০/১ (৪৯) (আরওআই) আদেশে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলামকে পুলিশ লাইন (লাইনওআর) এ সংযুক্ত করা হল। একই আদেশে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত থাকা মো. আহসান উল্লাহকে ভূঞাপুর থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে বদলি করা হয়।
এরআগে ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলাম বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কারণে গণমাধ্যমে খবরের শিরোনাম হয়েছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে দীর্ঘদিন ধরে পণ্যে পাটজাত মোড়ক ব্যবহার না করা ও প্লাস্টিকের বস্তায় চাল বিক্রির অভিযোগে দুই ব্যবসায়ীকে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বুধবার (২৩ আগস্ট) বিকালে উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের গোবিন্দাসী বাজারে এ ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অর্থদণ্ড প্রাপ্ত দুই ব্যবসায়ী হলেন- গোবিন্দাসী বাজারের মো: বেলাল হোসেন ও মো. আলমগীর। এদের মধ্যে বেলালকে ৩ হাজার ও আলমগীরকে ২ হাজার টাকা, মোট ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।
এসময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেন- উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাহিমা বিনতে আখতার। এতে উপস্থিত ছিলেন- উপ-সহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা কামরুজ্জামান খান।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাহিমা বিনতে আখতার জানান, পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন ২০১০-এর মাধ্যমে গোবিন্দাসী বাজারের দুই ব্যবসায়ীকে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। এ ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এছাড়া সচেতনতায় লিফলেট বিতরণ করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে স্বাধীনতার মহান স্থপতি বাঙালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৪৮ তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে দোয়া মাহফিল ও গণভোজের আয়োজন করা হয়েছে।
রবিবার (২০ আগষ্ট) বিকেলে গোপালপুর পৌরসভার সূতী পলাশ গ্রামবাসীর আয়োজনে অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-২ (ভুঞাপুর-গোপালপুর) আসনের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুস ইসলাম তালুকদার ঠান্ডু।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-২ (ভুঞাপুর-গোপালপুর) আসনের আওয়ামী লীগের আরেকজন মনোনয়ন প্রত্যাশী ভূঞাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌরসভার মেয়র বীরমুক্তিযোদ্ধা মাসুদুল হক মাসুদ। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোপালপুর পৌরসভার মেয়র মো. রকিবুল হক ছানা।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, ভূঞাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর ইসলাম তরফদার বাদল, গোপালপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান, মীর রেজাউল হক, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মরিয়ম আক্তার মুক্তা, ভূঞাপুর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জনাব আলিফ নূর মিনি, গোপালপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন মনির, ভূঞাপুর পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ আব্দুল বাছেদ মন্ডল, ভূঞাপুর পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য খায়রুল ইসলাম তালুকদার বাবলু, গোপালপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রহমান বিমান, গোপালপুর সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস ওয়াহিদুজ্জামান রিপন, ঝাওয়াইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মিজানুর রহমান তালুকদার, অর্জুনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ আইয়ুব আলী মোল্লা, অলোয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম বাদল, গোবিন্দাসী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম আমিন, গাবসারা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল বাছেদ আকন্দ বাদশাহ, ভূঞাপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইউসুফ চকদারসহ গোপালপুর ও ভূঞাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, সেচ্ছাসেবক লীগ এবং অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
একতার কণ্ঠঃ নজরুল ইসলাম ওরফে নজরুল পাগলা। বয়স প্রায় ৫৫। যমুনা নদীর ভয়াল থাবায় এক নিমিষেই তার ৬ শতাংশ বসতভিটা নদী গর্ভে বিলীন। এখন বসতভিটার অল্প কিছু অবশিষ্ট জায়গা রয়েছে। সেখানে কবর দেওয়া হয়েছিল তার মেয়ে নয়ন মণিকে। অবশেষে মেয়ের কবরটাও যমুনা নদী গ্রাস করছে। মেয়েটির কবর রক্ষায় শেষ চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে কবরের পাশে কান্না করছে অসহায় মা-বাবা।
নজরুলের বাড়ি টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নের মাটিকাটা উত্তরপাড়া গ্রামে। নজরুলের বাড়িটি ছিল নদীরপাড় ঘেষা। সে প্রতিবন্ধী। তার দুই মেয়ে ও দুই ছেলে ছিল। প্রায় ৫-৬ মাস আগে ছোট মেয়েটি গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করে। পরে মেয়েটির লাশ নিজ বাড়িতে দাফন করা হয়। গত কয়েক দিনের যমুনার তীব্র ভাঙনে কবরটা ভেঙে নদী গর্ভে চলে যাচ্ছে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে নজরুল ইসলাম বলেন, আমার মেয়ে নয়ন মণি কোনাবাড়ি দাখিল মাদরাসায় ৭ম শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী ছিল। মণি বলেছিল, বাবা আমি কোরআন শরীফ হাতে নেব, তুমি কিনা দিও। তার কিছুদিন পরেই সকলের নজর এড়িয়ে মেয়েটি ওর ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে। পরে মেয়েটিকে নিজ বাড়িতে কবর দেই। কিন্তু যমুনার ভাঙনে মেয়ের কবর রক্ষা করতে পারলাম না, চোখের সামনে নদী গর্ভে চলে যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা কলি আক্তার ও কলেজছাত্র রাজীব বলেন, প্রভাবশালী ব্যক্তিরা তাদের বাড়ির সামনে জিওব্যাগ ফেলছে। অথচ অসহায়দের বাড়ির সামনে জিওব্যাগ ফেলা হচ্ছে না। যার কারণে ৬ থেকে ৭০০ মিটার অংশে ব্যাপকহারে ভাঙছে। যদি জিওব্যাগ ফেলা হতো তাহলে তার বাড়ি ও মেয়ের কবরসহ অন্যদের বসতভিটা রক্ষা পেত। প্রশাসনের কাছে দাবি, ভাঙনরোধে যেন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
নিকরাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুল হক মাসুদ জানান, চলতি বন্যায় কমপক্ষে ২ শতাধিক ঘরবাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। যা এখনও চলমান রয়েছে। অনেকাংশে জিওব্যাগ ফেলা হয়েছে। ভাঙন কবলিত অন্যান্য এলাকায় জিওব্যাগ ফেলার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে, আশা করছি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। এছাড়া ভাঙন কবলিত পরিবারের মাঝে ত্রাণ সহায়তা প্রদান করা হবে।

যমুনা নদীর ভাঙনের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বেলাল হোসেন জানান, উপজেলার চিতুলিয়াপাড়া, কষ্টাপাড়া, ভালকুটিয়া, মাটিকাটা ও পাটিতাপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ভাঙনরোধে ইতোমধ্যে জিওব্যাগ ফেলা হয়েছে। নতুন করে যেসব এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে সেসব এলাকা পরির্দশন করে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে রেললাইনের পাশ দিয়ে হেঁটে বাড়ি ফেরার পথে ট্রেনের ধাক্কায় মতি মিয়া (৬৫) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব-তারাকান্দি রেললাইনের ভূঞাপুর উপজেলার ফলদা ইউনিয়নের ঝনঝনিয়া রেলক্রসিংয়ের পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ভূঞাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফরিদ আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহত মতি উপজেলার ধুবলিয়া গ্রামের মৃত মধু শেখের ছেলে।
জানা যায়, বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে ময়মনসিংহ থেকে ছেড়ে আসা একটি লোকাল ট্রেন ভূঞাপুর যচ্ছিল। সে সময় নিহত মতি রেললাইনের পাশ দিয়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন। এতে ট্রেনের ধাক্কায় রেললাইনের পাশেই ছিটকে পড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলে মারা যায়। পরে পুলিশ খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে ভূঞাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফরিদ আহমেদ জানান, ময়মনসিংহ থেকে ছেড়ে আসা ভূঞাপুরগামী একটি লোকাল ট্রেনের ধাক্কায় ঘটনাস্থলে মারা যান মতি নামে ওই বৃদ্ধ লোকটি। দূর্ঘটনার খবর রেলওয়ে পুলিশকে জানানো হয়েছে এবং আইনগত বিষয় প্রক্রিয়াধীন।
একতার কণ্ঠঃ দিনটি ছিল শনিবার (১২ আগস্ট)। দিনগত রাত সাড়ে ১২টায় জয়পুরহাট রেলস্টেশন থেকে একতা এক্সপ্রেস ট্রেনে টাঙ্গাইলের বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব রেলস্টেশনের উদ্দেশ্যে তাড়াহুড়ো করে ওঠেন আলামিন (২৬)। পরে স্টেশনে নেমে দ্রুত কর্মস্থলে ফেরায় ভাড়া ২৮৫ টাকা পরিশোধ করতে পারেননি। পরে সেই টাকা পরিশোধ করেছেন তিনি।
বুধবার (১৬ আগস্ট) সকালে টাঙ্গাইলের বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব রেলস্টেশনে হাজির হয়ে বিনা টিকিটে ট্রেন ভ্রমণের বকেয়া ২৮৫ টাকা পরিশোধ করেন আলামিন।
বকেয়া টাকা গ্রহণ করার কথা বিষয়টি স্বীকার করেছেন বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব রেলস্টশনের বুকিং কর্মকর্তা রেজাউল করিম।
আলামিন নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার ভগবানপুর গ্রামের এরশাদ আলীর ছেলে। তিনি টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন।
বিনা টিকিটে ট্রেন ভ্রমণের টাকা পরিশোধের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে প্রশংসায় ভাসছেন আলামিন।
এ বিষয়ে আলামিন বলেন, তাড়াহুড়ো করে ট্রেনে উঠে পড়েছিলাম কিন্তু ভ্রমণের সেই টাকা পরিশোধ করতে পারিনি। এ নিয়ে চরম অনুশোচনায় ভুগতে থাকি আমি। দেনামুক্ত হতে বুধবার সেই টাকা পরিশোধ করেছি।
বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব রেলস্টেশনের বুকিং কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। সততার জন্য তাকে পুরস্কৃত করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে জাতীয় শোক দিবসে চরাঞ্চলের অসহায় ও দুস্থ্য পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন আওয়ামী লীগের এমপি মনোনয়ন প্রত্যাশী খন্দকার মশিউজ্জামান রোমেল।
মঙ্গলবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার গাবসারা ও অর্জুনা ইউনিয়নের ৭শ পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
এসময় ৫ কেজি চাল, ১ কেজি ডাল, ১ লিটার তেল এবং ১ কেজি লবণসহ একটি প্যাকেট প্রত্যেকের হাতে তুলে দেয়া হয়। ।
খাদ্য সামগ্রী পেয়ে দিনমজুর আহসান আলী বলেন, শোক দিবসে এরআগে কখনো আমরা চরাঞ্চলের মানুষ এভাবে খাদ্য সামগ্রী উপহার পাইনি। উপহার পেয়ে খুশি হয়েছি।
গৃহবধূ খাদিজা বেগম বলেন, এখন বর্ষা মৌসুম চারদিকে নদীর থৈথৈ পানি। কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। এই সময়ে এসব পেয়ে অনেক উপকার হল।
খাদ্য সামগ্রী বিতরণের আগে জাতীয় শোক দিবস নিয়ে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
গাবসারা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার খন্দকার বাছেদের সভাপতিত্বে ও গাবাসারা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি খোরশেদ আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনের আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ও কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের শিল্প ও বানিজ্য বিষয়ক উপকমিটির সদস্য খন্দকার মশিউজ্জামান রোমেল।
প্রধান আলোচক ছিলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মো. আব্দুর রাজ্জাক।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল জেলা রেলওয়ে শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম, ইবরাহীম খাঁ সরকারি কলেজের সাবেক জি.এস সুরুজ্জামান সরুজ, হেমনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহমুদ উন-নবী, আওয়ামী লীগ নেতা লিটন মিয়া, ওয়াহেদুজ্জামান পলাশ, ছাত্রলীগ নেতা ফরিদুজ্জামান রাসেল, মুক্তার হোসেন প্রমুখ।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে এক মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীকে বেধরক মারপিট করেছে দুর্বত্তরা।
বৃহস্পতিবার (৩ আগস্ট) সকালে উপজেলার রায়ের বাশালিয়া গ্রামে নিজ বাড়ির পাশে মারধরের শিকার হন শেফালী বেগম নামের ওই বৃদ্ধা।
তিনি মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস ছাত্তার তালুকদারের স্ত্রী।
আহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, বাড়ির পাশে তাদের পৈতৃক একটি সম্পত্তিতে মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস ছাত্তার তালুকদারের নাম সম্বলিত একটি সাইনবোর্ড টাঙানো ছিল। পূর্ব শত্রুতার জেরে একই গ্রামের হিটলার তালুকদার হিটু পাঁচ থেকে ছয়জন লোক নিয়ে ওই সাইনবোর্ড তুলে এবং ছিঁড়ে ফেলে।
শেফালী ও তার পরিবারের অভিযোগ, ওই লোকেরা মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধার বিষয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করলে তার স্ত্রী শেফালী বেগম বাঁধা দেন। তখন শেফালী বেগমকে বেধরক মারধর করা হয়। পরে আহত শেফালীকে উদ্ধার করে ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে গলায় গামছা পেঁছানো অবস্থায় কাঁঠাল গাছ থেকে বাবুল (৪৫) নামে এক কাঠমিস্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে ভূঞাপুর থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার (১ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার অলোয়া ইউনিয়নের অলোয়া গ্রাম থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বাবুল একই গ্রামের হাতেম আলীর ছেলে। এ ঘটনায় বাবুলের স্ত্রী মরিয়ম ও মেয়ে তাবাসুমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
বাবুলের স্ত্রী মরিয়ম বলেন, মঙ্গলবার ভোরে ঘুম থেকে উঠে দেখি ঘরের সাথে কাঁঠাল গাছে গলায় গামছা পেঁছানো অবস্থায় বাবুলের মরদেহ ঝুলে আছে। এসময় ডাক-চিৎকারে আশ-পাশের লোকজন এগিয়ে আসে। পরে পুলিশকে খবর দিলে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
প্রতিবেশিরা জানায়, প্রায়ই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া লেগে থাকতো। এনিয়ে একাধিবার গ্রাম্য সালিশ হয়েছে। প্রতিবেশিদের ধারণা, হয়তো পরকীয়ার জেরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে।
এ বিষয়ে ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি সন্দেহজনক হওয়ায় বাবুলের স্ত্রী ও তার মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে পুলিশ পরিচয়ে এক কাপড় ব্যবসায়ীকে মারধর করে টাকা ছিনতাইকালে তিনজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। এসময় তাদের সাথে থাকা আরো সাত-আটজন পালিয়ে যায়।
এই ঘটনায় আহত ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেন উপজেলার পুংলিপাড়া গ্রামের আব্দুল হালিমের ছেলে।
সোমবার (৩১ জুলাই) রাত ১০টার দিকে উপজেলার চরাঞ্চল গাবসারা ইউনিয়নের পুংলিপাড়া ঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- ছিনতাইয়ের মূলহোতা উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের খুপিপাড়া গ্রামের কায়সার মিয়া (২২), ভূঞাপুর পৌরসভার ছাব্বিশা এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে রাকিব মিয়া (২৫) ও একই পৌরসভার ফসলান্দি এলাকার সিফাত মিয়া (১৯)।
স্থানীয়রা জানান, কায়সার গোবিন্দাসী বাজারে স্বর্ণের দোকানের পাশাপাশি মাদকের ব্যবসা পরিচালনা করতো। ১০-১১ জন মাদকসেবীদের নিয়ে পুংলি এলাকায় মাদক সেবন শেষে রাতে পুলিশ পরিচয় দিয়ে একজন কাপড় ব্যবসায়ীর পথরোধ করে।
তারা ওই ব্যবসায়ীকে মারধর করার পর মুক্তিপণের জন্য ১০ লাখ টাকা দাবি করে। পরে নগদ টাকা ও বিকাশের মাধ্যমে লক্ষাধিক টাকা লেনদেন হওয়ার পর ব্যবসায়ীকে ছেড়ে দেয় তারা। এরপর নৌকাযোগে গোবিন্দাসী ঘাটে আসে ছিনতাইকারীরা।
খবর পেয়ে স্থানীয়রা তাদের ধরতে ধাওয়া করলে সাত-আটজন পালিয়ে গেলেও ঘটনার মূলহোতাসহ তিনজনকে আটক করে জনতা।পরে থানা পুলিশের হাতে তাদের সোপর্দ করা হয়।
কাপড় ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, চট্টগ্রামে কাপড়ের ব্যবসা ভালো না হওয়ায় বাড়িতে চলে আসি। পুংলিপাড়া ঘাট থেকে বাড়ির দিকে যাওয়ার সময় তারা আমাকে ধরে ফেলে এবং পুলিশ পরিচয় দেয়। এসময় আমাকে তারা এলোপাতাড়ি মারধর করতে থাকে। মুক্তিপণ হিসেবে পরিবারের কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
পরে নগদ ও বিকাশের মাধ্যমে তিন লাখ টাকা দেওয়ার পর তারা একটি পাটক্ষেতে আমাকে ফেলে রেখে যায় চলে যায়। বিষয়টি পরিবারকে জানালে তারা গোবিন্দাসী ঘাট এলাকার মানুষজনকে জানায়।
ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম বলেন, ওই ব্যবসায়ীকে মারধরের ঘটনায় তিনজনকে জনতা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। আহত ব্যবসায়ী বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তিনি আরও বলেন,এখনও কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।