/ হোম / বাসাইল
টাঙ্গাইলে ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে নবনির্মিত সড়কে ধ্বস - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে নবনির্মিত সড়কে ধ্বস

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের হালুয়াপাড়া থেকে কর্মকারপাড়া পর্যন্ত ৯৫০ মিটার নবনির্মিত পাকা সড়কে ভাঙন দেখা দিয়েছে। নি¤œমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় ইতোমধ্যে সড়কের দু’পাশে ধ্বস নেমেছে।

জানা যায়, বাসাইল উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের হালুয়াপাড়া থেকে কর্মকারপাড়া পর্যন্ত ৯৫০মিটার সড়ক জনগুরুত্ব বিবেচনায় পাকা করণের জন্য দরপত্র আহ্বান করে। ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৯৫০ মিটার সড়ক পাকাকরণের কাজ পায় মেসার্স নাইস এণ্টারপ্রাইজ নামক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সড়ক নির্মাণে নি¤œমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় সড়কের দু’পাশ ধ্বসে পড়েছে। জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহন না করলে পুরো সড়কটিতেই ধ্বস নামার আশঙ্কা রয়েছে।

হালুয়াপাড়া গ্রামের জয়নাল মিয়া, আব্দুর রৌফ, জাহাঙ্গীর আলম সহ অনেকেই জানান, সড়কের দুই পাশে তিন ফুট প্রস্থের মাটি ভরাট করার কথা থাকলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তা করেনি। এছাড়া প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অল্প পরিমানে নি¤œমানের বিটুমিন ব্যবহার করায় ইটের খোয়া দেখা যায়। কাজ করার সময় তারা অভিযোগ করায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেয়। সড়কটি জনগুরুত্বপূর্ণ বিধায় তারা এলজিইডি কর্তৃপক্ষকে বার বার জানানোর পরেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে নবনির্মিত সড়কটি এক মাসের মধ্যে ভেঙে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ছে।

মেসার্স নাইস এণ্টারপ্রাইজের স্বত্ত্বাধিকারী মো. নাইস জানান, নতুন মাটি ও বালুর ওপরে পিচ ঢালাই করা হয়েছে। অতিবৃষ্টিতে তাই সড়কটির কিছু অংশ ধ্বসে গেছে। এ কারণে হয়তো স্থানীয়রা নি¤œমানের সামগ্রী ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ভাঙা অংশ বর্ষার পরে ঠিক করে দেওয়া হবে এবং সড়কের দুইপাশে মাটিও দেওয়া হবে।

বাসাইল এলজিইডি’র উপ-সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান জানান, সড়কটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে অবহিত করা হয়েছে। বর্ষা মৌসুম চলে গেলে তারা সড়কটি পুণুনির্মাণ করে দিবে। মাটির সমস্যার কারণেই সড়কটির এমন অবস্থা হয়েছে।

বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী(এলজিইডি) আব্দুল জলিল জানান, তিনি বাসাইল উপজেলায় দায়িত্ব নেওয়ার আগেই সড়কটির কাজ করা হয়েছে। তারপরও তিনি সরেজমিনে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৯. অগাস্ট ২০২১ ০২:৩৬:এএম ৫ বছর আগে
টাঙ্গাইলে যমুনা ও ঝিনাই নদীর ভাঙনে ৯২ পরিবার নিঃস্ব, আতঙ্কে পাঁচ শতাধিক পরিবার - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে যমুনা ও ঝিনাই নদীর ভাঙনে ৯২ পরিবার নিঃস্ব, আতঙ্কে পাঁচ শতাধিক পরিবার

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে যমুনার উন্মত্ততায় দুই দিনের ভাঙনের শিকার হয়ে কালিহাতী উপজেলার ৯২টি পরিবার নিঃস্ব হয়েছে। একই সময়ে জেলার ঝিনাই নদীর ২০ কিলোমিটার এলাকার বাঁকে বাঁকে ভাঙন দেখা দেওয়ায় বাসাইল উপজেলার পাঁচ শতাধিক পরিবার আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। জেলা প্রশাসক ডক্টর মো. আতাউল গনি যমুনায় ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত ১৪টি পরিবারকে নগদ অর্থ ও অন্যদের খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, যমুনায় পানি কমতে থাকায় শুক্রবার (২৩ জুলাই) রাতে কালিহাতী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের ভৈরববাড়ী গ্রামে ভাঙন দেখা দেয়। শুক্রবার রাতের ভাঙনে ১৪টি পরিবারের বাড়ি পুরোপুরি যমুনার পেটে চলে যায়। পরে দফায় দফায় শনিবার (২৪ জুলাই) সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই গ্রামের ৭৮টি পরিবারের বাড়িঘরে ভাঙন শুরু হওয়ায় তড়িঘড়ি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ভাঙন কবলিত শতাধিক পরিবার আত্মীয়দের বাড়ি আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়া স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ ও শতাধিক ঘর বাড়ি ভাঙনের হুমকির মুখের রয়েছে। এদিকে শনিবার দুপুরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুক্রবার রাতে ভাঙনের শিকার পরিবারের মাঝে আর্থিক সহায়তা ও চাল বিতরণ করা হয়েছে।

অপরদিকে, গত এক সপ্তাহে বাসাইল উপজেলা দিয়ে বয়ে যাওয়া যমুনার শাখা ঝিনাই নদীর ২০ কিলোমিটার এলাকার বাঁকে বাঁকে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে ১০-১২টি পরিবারের ভিটাবাড়ি ও বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের কারণে তীরবর্তী অনেকেই বাড়িঘর নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে। পাঁচ শতাধিক পরিবার ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। বিলপাড়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদের প্রধানমন্ত্রীর উপহার দেওয়া বীর নিবাসটিও ভাঙনের আশঙ্কায় রয়েছে।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, যমুনার ভাঙনের শিকার ভৈরববাড়ী গ্রামে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধে কাজ শুরু করা হয়েছে। অপরদিকে, বাসাইল উপজেলায় ঝিনাই নদীর ভাঙন রোধে বিভিন্ন পয়েণ্টে কাজ অব্যাহত রয়েছে। নতুন করে ভাঙন কবলিত পয়েণ্টগুলোতে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, প্রতি বছর নদী ভাঙন রোধে অস্থায়ী ব্যবস্থায় শুধু টাকার অপচয় হচ্ছে। নদী ভাঙনরোধে স্থায়ী পরিকল্পনা নেওয়া জরুরি। অহেতুক টাকার অপচয় ঠেকাতে ও নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী প্রকল্প পাঠানো হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৬. জুলাই ২০২১ ০২:১৩:এএম ৫ বছর আগে
টাঙ্গাইলের সেই ছাত্রলীগ নেতা বহিস্কার - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলের সেই ছাত্রলীগ নেতা বহিস্কার

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে গ্রাহকের কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় উপজেলার ফুলকী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সারোয়ার হোসেন সবুজকে বহিস্কার করা হয়েছে। টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রলীগের সাথে পরামর্শ ক্রমে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাসাইল উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কামরান খান বিপুল।

জানা যায়, উপজেলার ফুলকী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সবুজের বিরুদ্ধে ডাচ্-বাংলা এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠে। এ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) বিভিন্ন অনলাইন ও পত্রিকায় সংবাদ প্রচার হয়। সংবাদ প্রচারের পরপরই টনক নড়ে কর্তৃপক্ষের। শুক্রবার রাতে এক জরুরী সভায় ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতির পদ থেকে সবুজকে বহিস্কার করা হয়। উপজেলা আহ্বায়ক ও যুগ্ম আহ্বায়ক স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সবুজ ডাচ্-বাংলা এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের গ্রাহকদের টাকা আত্মসাৎ, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি নষ্ট করার কারণে তাকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে।

বাসাইল উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কামরান খান বিপুল জানান, জেলা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দদের সাথে পরামর্শক্রমে আমরা উক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। সবুজকে স্থায়ী বহিস্কারের বিষয়ে আমরা জেলা কমিটিকে জানিয়েছি বলেও তিনি জানান।

সবুজের চাচাতো ভাই আরিফ সরকার বলেন, গত ১৫ দিন যাবৎ সবুজ পলাতক রয়েছে। তার কোন প্রকার খোঁজ আমরা পাচ্ছি না। যে সকল গ্রাহকদের টাকা নিয়ে সে পালিয়েছে, পারিবারিকভাবে তাদের টাকা পরিশোধ করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

উল্লেখ্য, তিন বছর আগে ডাচ্-বাংলা কেন্দ্রীয় ব্যাংক উপজেলার আইসড়া বাজারে এজেন্ট ব্যাংকিং বুথ চালু করে। বাসাইলের ফুলকী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সবুজ ব্যাংকটির এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন। ব্যাংকিং কার্যক্রমের আড়ালে তিনি গ্রাহকদের কোটি টাকা আত্মসাৎ করে গাঁ ঢাকা দেয়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৭. জুন ২০২১ ০৩:৩১:এএম ৫ বছর আগে
পরীমনির মামলা প্রত্যাহার ও অমির মুক্তির দাবিতে টাঙ্গাইলে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত - Ekotar Kantho

পরীমনির মামলা প্রত্যাহার ও অমির মুক্তির দাবিতে টাঙ্গাইলে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

একতার কণ্ঠঃ পরীমনির দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও তুহিন সিদ্দিকী অমির মুক্তির দাবিতে টাঙ্গাইলের বাসাইলে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। শনিবার (২৬ জুন) সকালে বঙ্গবন্ধুসেতু-ঢাকা মহাসড়কের বাসাইল উপজেলার হাবলা ইউনিয়নের গুল্যাহ এলাকায় ঘন্টা ব্যাপি এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।

বাসাইল উপজেলা ও হাবলা ইউনিয়নবাসির ব্যানারে আয়োজনে মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন বাসাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী অলিদ ইসলাম, হাবলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম, স্থানীয় ইউপি সদস্য আকবর আলী, এলাকাবাসী হায়েত আলী, হাজেরা বেগম প্রমুখ। মানববন্ধনে বিভিন্ন এলাকার প্রায় সহস্রাধিক নারী-পুরুষ অংশ গ্রহন করে।

বক্তারা বলেন,  বাসাইলের গুল্যাহ গ্রামের অমি একজন ভাল মানুষ। সে ও তার বাবা সমাজ সেবক। অনেক মসজিদ, মাদ্রাসার উন্নয়ন করেছেন। এছাড়াও করোনাকালীন সময়ে হাজার হাজার মানুষকে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন। অমি মানব পাচারের সাথে জড়িত নয়। তাকে এই মামলা থেকে প্রত্যাহার করে মুক্তি দিতে হবে। অন্যথায় টাঙ্গাইল থেকে কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।

জানা যায়, গত (৯ জুন) মধ্যরাতে সাভারে অবস্থিত ঢাকা বোট ক্লাবে চিত্রনায়িকা পরীমনিকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টা করা হয় বলে পরীমনি থানায় অভিযোগ করেন। ঘটনার চার দিন পর রোববার (১৩ জুন) রাত ৮টার দিকে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে এবং রাত ১১টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘটনা প্রকাশ করেন নায়িকা পরীমনি। পরদিন গত (১৪ জুন) সকালে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও অমিসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে সাভার থানায় মামলা করেন তিনি। ওই দিন বিকেলে উত্তরা থেকে নাসির ও অমিসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়। এরপর ডিবির গুলশান জোনাল টিমের এসআই মানিক কুমার সিকদার বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন। ওই মামলায় গত (১৫ জুন) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নিভানা খায়ের জেসি নাসির ও অমির সাতদিনের রিমান্ড  মঞ্জুর করেন ।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৭. জুন ২০২১ ০৩:০৫:এএম ৫ বছর আগে
টাঙ্গাইলে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের কোটি টাকা নিয়ে ছাত্রলীগ নেতা উধাও - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের কোটি টাকা নিয়ে ছাত্রলীগ নেতা উধাও

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে বাসাইল উপজেলার ফুলকী ইউনিয়নে আইসড়া বাজারে ডাচ্-বাংলা এজেন্ট ব্যাংকিং এর এজেন্ট গ্রাহকের কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এজেন্টের নাম সারোয়ার হোসেন সবুজ। সে বাসাইল উপজেলার ফুলকী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি।অভিযুক্ত সবুজ ফুলকী ইউনিয়নের আইসড়া গ্রামের মারিফত মিয়ার ছেলে।

এ  ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) সকালে গ্রাহকরা তাদের টাকা ফেরতের দাবীতে আইসড়া বাজারে অবস্থিত আইসড়া ডাচ্-বাংলা এজেন্ট ব্যাংকিং বুথ ঘেরাও করে মিছিল সমাবেশ করেছে।

জানা যায়, তিন বছর আগে ডাচ্-বাংলা কেন্দ্রীয় ব্যাংক আইসড়া বাজারে এজেন্ট ব্যাংকিং বুথ চালু করে। বাসাইলের ফুলকী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সবুজ এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন। বাজারে একটি দালান ভাড়া নিয়ে এজেন্ট ব্যাংকিং শুরু করেন। আইসড়া গ্রাম তাঁত সমৃদ্ধ এবং অনেক মানুষ প্রবাসী হওয়ায় তাদের স্ত্রী এবং তাদের পরিবারকে টার্গেট করেন সবুজ। ব্যাংকিং নীতিমালা উপেক্ষা করে সাধারণ রেটের চেয়ে উচ্চ হারের রেটের প্রলোভন দেখিয়ে ব্যাংকে টাকা জমা রাখতে প্রলুব্ধ করেন। অতি মুনাফার আশায় গ্রামের অনেক মানুষ বিদেশ থেকে পাঠানো টাকা  এবং আইসড়া বাজারের ব্যবসায়ীরা এজেন্ট ব্যাংকে টাকা জমা রাখেন।

অতি সম্প্রতি জমাকৃত টাকা উত্তোলন করতে গিয়েস গ্রাহকরা দেখেন তাদের জমানো টাকা ব্যাংক হিসেবে নেই। এজেন্ট সবুজের কাছে টাকা বিষয়ে জানতে চাইলে সে বিভিন্ন গ্রাহকে টাকার দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে টালবাহানা  শুরু করেন  এবং গ্রাহকেদের  ঘুরাতে থাকেন। টাকা না পেয়ে গ্রাহকরা বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেন। তাদের জমানো টাকা পাওয়ার আশায় বাজারে সালিশী বৈঠক বসান। সেখানে সবুজ টাকা ফেরত দেয়ার প্রতিশ্রতি দেন। হঠাৎ করে গত সাতদিন ধরে সবুজ এজেন্ট  ব্যাংকিং বন্ধ করে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় গ্রাহকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে মিছিল সমাবেশ করেন।

সরেজমিন তথ্য নিয়ে জানা গেছে, গ্রাহক রুম্পা বেগমের ১৪ লাখ টাকা, আফজাল হোসেনের ৯ লাখ টাকা, রাজু আহমেদের ৭ লাখ টাকা, জলি বেগমের পৌঁনে ৪ লাখ টাকা, বাজারের চা বিক্রেতা আবুল হোসেনের ১ লাখ টাকা, ইতি খানের ৪০ হাজার টাকাসহ অসংখ্য গ্রাহকের প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে গেছে এজেন্ট সবুজ।

ক্ষুব্ধ দোকানদার রাজু বলেন, তিনি পাঁচ লাখ জমা দিয়ে প্রতারিত হয়েছেন। ডাচ্-বাংলা  এজেন্ট ব্যাংকিং এর  টাঙ্গাইল অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা এর পেছনে জড়িত রয়েছে। তা নাহলে সবুজ জমাকৃত কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সাহস পেত না। আত্মসাতের সাথে জড়িতদের বিচার ও টাকা ফেরতের দাবি জানান তিনি।

গ্রাহক ইতি খান অভিযোগ করে বলেন, তিনি বিশ্বাস করে ব্যাংকে টাকা রেখেছেন। সবুজ এমন প্রতারণা করবে বুঝতে পারেননি তিনি। প্রথম যখন তিনি টাকা  জমা রাখতেন  তখন মোবাইলে এসএমএস আসতো। পরবর্তীতে ব্যাংকে টাকা জমা দিলে এসএমএস আসতো না। এ বিষয়ে ব্যাংকে জানালে তারা বলতো সার্ভার বিকল হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্থ আফজাল হোসেন বলেন, বিদেশে থেকে পাঠানো ৯ লাখ টাকা তার মা ও স্ত্রী জমা রেখেছে। উচ্চ হারের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের টাকা জমা রাখতে বাধ্য করেছে। তারাও গ্রামের ছেলে হিসেবে সবুজকে বিশ্বাস করেছে। দেশে এসে টাকা উঠাতে গেলে জানতে পারেন টাকা নিয়ে পালিয়েছে সবুজ।

এ প্রসঙ্গে  ফুলকী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, গ্রাহকের টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে গত তিন দিন আগে আইসড়া বাজারের সকল গ্রাহক, ব্যাংকের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বাজার কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং পলাতক সবুজের বাবাকে নিয়ে সালিশী বৈঠকে বসা হয়। সবুজের বাবা তার সম্পতি বিক্রি করে গ্রাহকের টাকা পরিশোধের রাজি হন। সকলের উপস্থিতিতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের হিসাবের ভিত্তিতে সবুজের বাবা  টাকা পরিশোধ করবেন বলে  সালিশি বৈঠকে জানান।

বাসাইল উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কামরান খান বিপুল বলেন, সবুজ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি। সে একটি ব্যাংকের এজেন্ট ছিল। বহু গ্রাহকের টাকা নিয়ে পালিয়েছে বলে শুনেছি। এ ঘটনায় তাকে পদ থেকে অব্যহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত  নিয়েছে উপজেলা ছাত্রলীগ। উপযুক্ত প্রমাণ পেলে, তাকে সংগঠন থেকে বহিস্কার ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

টাঙ্গাইল ডাচ্-বাংলা এজেন্ট ব্যাংকিং অফিসের ব্যবস্থাপক আব্দুর রউফ  বলেন, বিষয়টি নিয়ে ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ একটি বৈঠক করেছে। স্থানীয় লোকজনকে সাথে নিয়ে গ্রাহকদের টাকা পরিশোধের চেষ্টা করা হচ্ছে।

 

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৫. জুন ২০২১ ০২:০০:এএম ৫ বছর আগে
টাঙ্গাইলে বংশাই নদীতে ডুবে শিশুর মৃত্যু - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে বংশাই নদীতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

একতার কণ্ঠঃ  টাঙ্গাইলের বংশাই নদীর বাসাইল উপজেলার কাউলজানী ইউনিয়নের সুন্যা পূর্বপাড়া অংশে পানিতে ডুবে আব্দুল্লাহ(৩) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ জুন) সকালে বংশাই নদী থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।নিহত আব্দুল্লাহ ওই গ্রামের প্রবাসী আব্দুস সামাদের ছেলে।

স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শিশু আব্দুল্লাহকে খুঁঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে বাড়ির পাশে বংশাই নদীতে শিশুটিকে ভেসে থাকতে দেখা যায়। পরে শিশুটির পরিবার স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে।

বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. আরিফ জানান, শিশুটিকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়। পরে নিহতের পরিবার তার লাশ বাড়িতে নিয়ে গেছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৪. জুন ২০২১ ০৩:০১:এএম ৫ বছর আগে
বাসাইলে কৃষকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার - Ekotar Kantho

বাসাইলে কৃষকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

একতার কণ্ঠঃ  টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার কলিয়া পূর্বপাড়া গ্রামে হুরমুজ আলী(৬০) নামে এক কৃষকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (০৩ জুন) সকালে ঘরের ধর্ণার(আড়ার) সাথে ঝুলন্ত মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে হুরমুজ আলীকে দুই ভাই আমজাদ ও জবেদ আলী এবং ভাতিজা আমিনুর রহমান আমীন ও ফায়েজ তাকে হত্যা করে লাশ ঘরের ধর্ণার সাথে ঝুলিয়ে রাখে। নিহত হুরমুজ আলী ওই গ্রামের মৃত চাঁন মাহমুদের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, পৈত্রিক ১০ শতাংশ ভূমি নিয়ে তিন ভাই আমজাদ, জবেদ আলী ও হুরমুজ আলীর মধ্যে বিরোধ চলছিল। প্রায় দেড় বছর আগে বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা হলে হুরমুজের সাথে তার ভাই আমজাদ আলী ও জবেদ আলীর বিরোধ আরও বেড়ে যায়। গত রোববার৩০ মে) বিষয়টি নিয়ে গ্রাম্য সালিশের আয়োজন করা হয়। সালিশে হুরমুজ আলীকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমজাদ আলী আগামি সোমবার(৭ জুন) হুরমুজ আলীকে টাকা পরিশোধ করার কথা ছিল। এর আগেই বৃহস্পতিবার (৩ জুন) নিজ ঘরের ধর্ণার সাথে গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় হুরমুজের ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ নিহতের লাশটি উদ্ধার করে।

নিহতের স্ত্রী সুরিয়া বেগম জানান, জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাদের সাথে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সময় তার স্বামী হুরমুজ আলীকে আমজাদসহ তার ছেলেরা হত্যার হুমকি দিচ্ছিল। তার স্বামী নতুন বাড়িতে তিনি একাই থাকতেন। তারা পুরাতন বাড়িতে ছিলাম। এ সুযোগে তার স্বামীকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

অভিযুক্ত আমজাদ আলী বলেন, পৈত্রিক ১০ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে মামলা হলে গত রোববার গ্রাম্য সালিশে মিমাংসা করা হয়। হুরমুজ আলী অভিমানে আত্মহত্যা করেছে।

বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) হারুনুর রশিদ জানান, নিহতের লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৪. জুন ২০২১ ০২:১৯:এএম ৫ বছর আগে
টাঙ্গাইলে বাসচাপায় চাচা-ভাতিজা নিহত - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে বাসচাপায় চাচা-ভাতিজা নিহত

একতার কণ্ঠঃ বঙ্গবন্ধুসেতু-ঢাকা মহাসড়কে বাসাইল উপজেলার করাতিপাড়ায় বুধবার (১৯ মে) সন্ধ্যায় বাসচাপায় সেলিম রেজা(২৯) ও তার ভাতিজা মো. কামরুজ্জামান(২৭) নামে দুই মোটরসাইকেলআরোহী নিহত হয়েছেন। নিহত সেলিম রেজা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্য ও পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলার মোজাহের মোল্লার ছেলে এবং মো. কামরুজ্জামান তার ভাতিজা ও একই এলাকার আবু সাইদের ছেলে।

এ দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন মহাসড়ক অবরোধ করে ওইস্থানে ফুটওভারব্রিজের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে এলাকাবাসী অবরোধ তুলে নেয়।

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের পুলিশ বক্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নবীন জানান, ঈদের ছুটি শেষে বুধবার বিকালে ভাতিজা মো. কামরুজ্জামানকে সঙ্গে নিয়ে সেলিম রেজা পাবনা থেকে মোটরসাইকেলযোগে ঢাকাস্থ পিলখানায় কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন। পথে মহাসড়কের করাতিপাড়ায় পেছন থেকে একটি বাস তাদের চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে সেলিম রেজা ও মো. কামরুজ্জামান গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সেলিম রেজাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত মো. কামরুজ্জামান জেনারেল হাসপপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে মারা যান।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২০. মে ২০২১ ০৬:৫০:পিএম ৫ বছর আগে
টাঙ্গাইলে ৮টি চোরাই গরু সহ ট্রাক জব্দ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ৮টি চোরাই গরু সহ ট্রাক জব্দ

একাতর কণ্ঠ ডেস্কঃ  বঙ্গবন্ধুসেতু-ঢাকা মহাসড়কে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার করাতিপাড়া বাইপাসে মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) ভোরে অভিযান চালিয়ে ৮টি চোরাই গরু সহ একটি ট্রাক জব্দ করেছে পুলিশ।বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হারুনুর রশিদ এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হারুনুর রশিদ  জানান, বঙ্গবন্ধুসেতু-ঢাকা মহাসড়কে মোবাইল ডিউটি করার সময় ঢাকাগামী একটি ট্রাক দেখে ট্রাকটিতে তল্লাসী চালালে তিনটি বাছুরসহ মোট আটটি গরু পা বাধা অবস্থায় রেখে চালক ও জড়িতরা পালিয়ে যায়। গরুগুলো ত্রিপল দিয়ে ঢাকা ছিল।তবে এ ঘটনায় জড়িত কাউকে আটক করা যায়নি।

ধারণা করা হচ্ছে- পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে গরুসহ ট্রাক(ঢাকা মেট্রো-ড-১২-২৮৯৯) পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। পরে গরুসহ ট্রাকটি উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়।

উদ্ধারকৃত গরুগুলো থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। ট্রাক ও গরুর মালিকের এখনও খোঁজ পাওয়া যায়নি বলেও তিনি জানান।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৯. এপ্রিল ২০২১ ০২:৪৭:এএম ৫ বছর আগে
টাঙ্গাইলে গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ   টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার কাশিল ইউনিয়নের কাশিল পশ্চিমপাড়া থেকে কনা আক্তার (২৪) নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) সকালে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন বাসাইল থানার অফিসার-ইন -চার্জ(ওসি) হারুনুর রশিদ।

নিহত গৃহবধূর পরিবার জানায়, প্রায় পাঁচ বছর আগে কাশিল পশ্চিমপাড়া এলাকার বাবু মিয়ার দুবাই প্রবাসী ছেলে কবির মিয়ার সঙ্গে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের দরুন গ্রামের জয়নাল মিয়ার মেয়ে কনা আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাকে যৌতুকের জন্য শাশুড়ি ও দুই ননাশের নানা নির্যাতন সহ্য করতে  হয়। এরপর তার শাশুড়ি কহিনূর বেগম ও স্বামী কবির মিয়া পুনরায় প্রবাসে পাড়ি জমান।

ফলে ওই গৃহবধূ তার শিশু সন্তানকে নিয়ে বাকপ্রতিবন্ধী শ্বশুরের সঙ্গে বসবাস করছিলেন। এরমধ্যে এক ননাশের স্বামী অন্যত্র বিবাহ করায় ও আরেক ননাশের স্বামী প্রবাসে থাকায় তারা শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়িতেই অবস্থান নেয়। সেই থেকে দুই ননাশই গৃহবধূর উপর নানা ধরনের নির্যাতন চালাতে থাকে।

সর্বশেষ সোমবার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায়ও ওই গৃহবধূ কনাকে তার দুুই ননাশ মিলে মারধর করে। পরে (মঙ্গলবার) সকালে তার বসত ঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত গৃহবধূর মা বলেন, ‘রাতের কোনও এক সময় তারা আমার মেয়েকে হত্যা করে লাশ ঘরের ধন্নার সাথে ঝুঁলিয়ে রেখে আমাদের খবর দেয়। খবর পেয়ে ওই বাড়িতে গিয়ে দেখি ঘরের বাইরে থেকে তালা লাগানো অবস্থায় রয়েছে। আমি আমার মেয়ের হত্যার বিচার চাই।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য আক্কাছ মিয়া বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে জানানো হয়। পরে পুলিশ এসে নিহতের লাশটি ঝুঁলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এটা হত্যা নাকি আত্মহত্যা কিছু বলা যাচ্ছে না।’

বাসাইল থানার অফিসার-ইন -চার্জ ( ওসি )হারুনুর রশিদ বলেন, ‘খবর পেয়ে নিহতের লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। পরে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেয়ে মৃত্যুর রহস্য জানা যাবে। এ ঘটনায় ইউডি মামলার প্রস্তুতি চলছে।’

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৭. এপ্রিল ২০২১ ১১:০৪:পিএম ৫ বছর আগে
টাঙ্গাইলে পরকীয়ার জেরে যুবক আটক, সামাজিক ভাবে মীমাংসা! - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে পরকীয়ার জেরে যুবক আটক, সামাজিক ভাবে মীমাংসা!

একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলায় পরকীয়ার জের ধরে শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) রাতে এক যুবকে আটক আটক করেছে এরাকাবাসী। আটককৃত যুবক কালিহাতী উপজেলার পাইকরা গ্রামের জগন্নাথ সুত্রধরের ছেলে অমিত সুত্রধর(২৩)।পরে শনিবার (১৭ এপ্রিল) শনিবার সকালে স্থানীয় কমিশনার ও ইউপি সদস্যর মাধ্যমে সমঝোতার মাধ্যমে অমিত সুত্রধরকে ছেড়ে দেওয়া হয় । এ ব্যাপারে এলাকায় আলেড়ন সৃস্টি হয়েছে।

জানাগেছে,বাসাইল উপজেলার কাশিল ইউনিয়নের ভাংরা গ্রামের নিমাই চন্দ্রের ছেলে কৃষ্ণ চন্দ্র(৩৫) সিংগাপুর থাকার সুবাধে নিমাই চন্দ্রের পুত্রবধু মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে।এক পর্যায় সম্পর্ক গভীরে পৌছালে প্রেমিক অমিত সুত্রধরকে তার স্বামীর বাড়ি ভাংরা গ্রামে আসতে বলে।পরে বেরসিক জনতা তাদেরকে আটক করে। খবর পেয়ে উৎসুক জনতা এলাকায় ভীড় করে। ঘটনাটি কাশিল ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো.লিটন মেম্বার সামাজিকভাবে মীমাংসা করে প্রেমিক অমিত সুত্রধরকে ছেড়ে দেয়। এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে।। এলাকাবাসী জানান, রাতের আঁধারে জনগন দুইজনকেই আপত্তিকর অবস্থায় আটক করে। সেই ঘটনায় কোন প্রকার শাস্তিমুলক বিচার না করেই স্থানীয় ইউপি সদস্য ছেলের পক্ষের সাথে আঁতাত করে তাকে ছেড়ে দিয়েছে।

এ ব্যপারে ইউপি সদস্য মো.লিটন মেম্বার বলেন, আমি ঘটনার বিষয়ে বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অবহিত করি এবং ঘটনাস্থলে একজন অফিসার এসে বিস্তারিত জানার পর সামাজিক ভাবে আপোষ-মীমাংসা করি।

এ বিষয়ে, বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) হারুনুর রশীদ বলেন, ঘটনার বিষয়ে লোকমুখে শুনেছি, তবে কেউ কোন অভিয়োগ না করায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা যায়নি।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৮. এপ্রিল ২০২১ ০৩:২২:এএম ৫ বছর আগে
বুড়িগঙ্গা নদী পুনরুদ্ধার প্রকল্পের টাঙ্গাইল অংশে কাজ দীর্ঘ দিনেও শেষ না হওয়ায় ভোগান্তি কমেনি - Ekotar Kantho

বুড়িগঙ্গা নদী পুনরুদ্ধার প্রকল্পের টাঙ্গাইল অংশে কাজ দীর্ঘ দিনেও শেষ না হওয়ায় ভোগান্তি কমেনি

একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ বুড়িগঙ্গা নদী পুনরুদ্ধার(নিউ ধলেশ্বরী-পুংলী-বংশাই-তুরাগ-বুড়িগঙ্গা রিভার সিস্টেম) প্রকল্পের কাজ দীর্ঘ এগার বছরেও শেষ না হওয়ায় প্রতি বছর স্থানীয়দের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। যমুনায় প্রতিদিন ১ থেকে ২ সেণ্টিমিটার করে পানি বাড়ায় প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়া নিয়ে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জানাগেছে, বিগত ২০১০ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে সম্পন্ন করার নিমিত্তে ৯৪৪ কোটি ৯ লাখ ৭ হাজার টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়(মূল ডিপিপি অনুযায়ী) ধরে বুড়িগঙ্গা নদী পুনরুদ্ধার প্রকল্পটি গ্রহন করা হয়। পরে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়। দ্বিতীয় বার সময় বর্ধিত করা হলেও প্রকল্পটি অসমাপ্ত থেকে যায়। বাজারমূল্য বেড়ে যাওয়ায় ডিপিপিতে সংশোধনী আনা হয়। সংশোধনীর কারণে প্রকল্পের ব্যয় ১৮১ কোটি ৫০ লাখ ২৬ হাজার টাকা অতিরিক্ত বাড়িয়ে এক হাজার ১২৫ কোটি ৫৯ লাখ ৩০ হাজার টাকা করা হয় এবং প্রকল্পের মেয়াদ ২০২০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

২০২০ সাল পর্যন্ত প্রকল্পের টাঙ্গাইল অংশের(২০.৫ কি.মি.) নদী খননের কাজ ধলেশ্বরী ও পুংলি নদী এলাকার ১৪.৫ কিলোমিটারে ড্রেজারের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়। এতে টাঙ্গাইল অংশের ৬৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ইতোপূর্বে ড্রেজারের মাধ্যমে নদী খনন করা হলেও পরের বর্ষায় পলি জমে নদী ভরাট হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে আবার নদী খনন করে পলি সরাতে হয়। এ পর্যন্ত প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ায় আবারও প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। বার বার সময় ও ব্যয় বাড়ানো হলেও প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে জনভোগান্তির অবসান ঘটছেনা।

সরকারের অগ্রাধিকার ভিত্তিক অন্যতম বৃহৎ এ প্রকল্প এলাকা পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক এমপি, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবীর বিন আনোয়ার, পাউবো’র প্রধান প্রকৌশলী(ডিজাইন) মো. হারুন অর রশিদ, ময়মনসিংহ অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকেীশলী মো. শাজাহান সিরাজ এবং পওর কেন্দ্রীয় অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক আব্দুল মতিন সরকার সহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা একাধিকবার পরিদর্শন করেছেন, সংশ্লিষ্টদের দ্রুত কাজ শেষ করার পরামর্শ ও নির্দেশনা দিয়েছেন।

সরেজমিনে যমুনা, ধলেশ^রী ও পুংলি নদী তীরবর্তী বিয়ারামারুয়া, বেলটিয়া, হাট আলিপুর, ভৈরববাড়ি, আলিপুর, কুর্শাবেনু, বেনুকুর্শা, গোবিন্দপুর, জোকার চর, সল্লা, মীরহামজানী, আনালিয়াবাড়ী, হাতিয়া, ধলাডেঙ্গর ও এলেঙ্গা এলাকার লোকজন জানায়, পাউবো খননের নামে প্রতি বছর বাংলা ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন ও বিক্রির মহোৎসব চালাচ্ছে। পাউবো নিযুক্ত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন দিনরাত অবৈধ বাংলা ড্রেজার বসিয়ে নদী থেকে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে। চলতি বছর পাউবো নদী খনন না করলেও বালু খেকোরা অবৈধ বাংলা ড্রেজার দিয়ে নদীতীরে খনন করছে। এতে নদী তীরবর্তী এলাকায় বর্ষা মৌসুমে ভাঙনের আশঙ্কা প্রবলতর হচ্ছে।

তারা জানায়, বর্তমানে যমুনায় ১-২ সেন্টিমিটার করে প্রতিদিন পানি বাড়তে শুরু করেছে। তবে যমুনার এ পানি বৃদ্ধি স্থায়ী নয়, চৈত্র-বৈশাখে আবার পানি কমবে। দ্রুত কাজ না করলে প্রকল্পের ভবিষ্যত নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয়রা আরও জানায়, পাউবো’র উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে এসে যমুনায় স্পীডবোট নিয়ে ঘোরাফেরা করেন আর পানির গভীরতা পরিমাপ করেন। এলাকার মানুষের সাথে কোন কথা বলেন না। নদীতীরের মানুষই তাদের সুখ-দুঃখের কথা ভালো বুঝেন। এলাকার মানুষের সাথে কথা বললে তারা স্থানীয় মানুষের অভিব্যক্তি অনুভব করতে পারতেন।

টাঙ্গাইল পাউবো’র উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মাহবুবুর রহমান জানান, তারা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে সমন্বয় করে দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা করছেন। যমুনায় পানি একটু একটু বাড়লেও এটা স্থায়ী নয়, পানি আবার কমে যাবে।

পাউবো কেন্দ্রীয় অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী ও বুড়িগঙ্গা নদী পুনরুদ্ধার প্রকল্পের পরিচালক(পিডি) আব্দুল মতিন সরকার বলেন, পাউবো’র কর্মকর্তাদের তদারকিতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলো যে গতিতে কাজ করছে তাতে চলতি বছরই বুড়িগঙ্গা নদী পুনরুদ্ধার প্রকল্পের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে। আগামি বর্ষা মৌসুম থেকে এর সুফল স্থানীয়রা পেতে শুরু করবে।

প্রকাশ, খনন কাজে টাঙ্গাইলের ২০.৫ কিলোমিটারের মধ্যে ধলেশ্বরী ও পুংলি নদীর কুর্শাবেনু, বেনুকুশা, গোবিন্দপুর, জোকার চর, মীরহামজানী, আনালিয়াবাড়ী, ধলাডেঙ্গর ও এলেঙ্গা এলাকার ১৪.৫ কিলোমিটারে ড্রেজারের মাধ্যমে উত্তোলিত ১৬ লাখ ৬ হাজার ২০০ঘনমিটার ড্রেজড বালু টেন্ডারের মাধ্যমে ২০ লাখ ৮৮ হাজার ৬০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৬. মার্চ ২০২১ ০২:২২:এএম ৫ বছর আগে
কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।