একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে বৈশ্বিক মহামারী করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে মাস্ক ব্যবহার না করার দু’টি ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ১৫ জনকে জরিমানা করা হয়েছে। শুক্রবার (১৯ মার্চ) সকালে পৌর এলাকায় বাসস্ট্যান্ডে বাসাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মনজুর হোসেন এবং সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট নাহিয়ান নূরেনের নেতৃত্বে দু’টি পৃথক ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হয়।
এ সময় করোনা প্রতিরোধে মাস্ক ব্যবহার না করায় মনজুর হোসেন পরিচালিত ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয় এবং অর্থদন্ড হিসাবে একুশ শত টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
অপর দিকে, একই সময়ে নাহিয়ান নুরেন পরিচালিত ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয় এবং অর্থদন্ড হিসাবে এক হাজার টাকা আদায় করা হয়।
এ সময় বাসাইল থানা পুুলিশের সহযোগিতায় করোনা প্রতিরোধে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলা এবং মাস্ক ব্যবহারের গুরুত্ব সমন্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে মাইকিং করা হয়। এছাড়া উক্ত ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে প্রায় দুই শত পথচারী মাঝে মাস্ক বিতরন করা হয়।
এ প্রসঙ্গে সহকারি কমিশনার (ভূমি ) নাহিয়ান নুরেন বলেন, “করোনা প্রতিরোধে মাস্কের ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষেই এটা আমাদের একটি চলমান প্রক্রিয়া। পরবর্তিতেও এ ধারা অব্যহত থাকবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকলেই মাস্ক ব্যবহার করলে বাংলাদেশ থেকে করোনার বর্তমান আঘাতকে প্রতিহত করা সম্ভব হবে ।
বাসাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনজুর হোসেন বলেন, “বর্তমানে প্রানঘাতী করোনার প্রকোপ হঠাৎ করেই বেড়ে চলেছে। এ সময়ে সবাইকে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলা এবং মাস্ক ব্যবহারের প্রতি অধিক মনোযোগি হতে হবে। আর তাই আমাদের ভ্রাম্যমান আদালতের এই কার্যক্রম পরবর্তীতেও চলমান থাকবে। মাস্ক ব্যবহার না করার অপরাধে দু’টি আদালতের মাধ্যমে শুক্রবার ‘সংক্রমক রোগ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রন ও নিমূল আইন ২০১৮ এর ২৪ ধারায় ’ ১৫জনের বিরুদ্ধে মামলা ও তিন হাজার একশত টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার বাথুলী সাদি গ্রামে রোববার(১৪ মার্চ) সকালে ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে বড় ভাই খুনের ঘটনা ঘটেছে। নিহত আব্দুল মজিদ(৩৩) উপজেলার ওই গ্রামের সেন্টু মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় পুলিশ ছোট ভাই শফিকুল ইসলামকে(৩১) আহত অবস্থায় আটক করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বাসাইল উপজেলার বাথুলী সাদি গ্রামের সেন্টু মিয়ার পাঁচ ছেলে দীর্ঘদিন ধরে কাপড় তৈরির ব্যবসা করছিলেন। ব্যবসার হিসাব নিয়ে সম্প্রতি তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এক পর্যায়ে তা পারিবারিক কলহে রূপ নেয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রোববার সকালে তাদের দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে ছোট ভাই শফিকুল ইসলাম ছুরি দিয়ে তার বড় ভাই আব্দুল মজিদের বুকে আঘাত করেন। গুরুতর আহতাবস্থায় স্বজনরা আব্দুল মজিদকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মো. হারুনুর রশিদ বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে রয়েছে। হত্যার ঘটনায় তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ মাশরুমের চাষ করে স্বপ্ন দেখছেন টাঙ্গাইলের বাসাইল সদর ইউনিয়নের রাশড়া গ্রামের সন্তান সাইফুল ইসলাম(৩০)। সাইফুল ইসলাম উপজেলার সদর ইউনিয়নের রাশড়া গ্রামের বাচ্চু মিয়ার ছেলে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সাইফুল ইসলাম তার নিজ বাড়িতে শুরু করেছেন মাশরুমের খামার।তিনি তার মাশরুম খামারের নাম দিয়েছেন “সিনথিয়া মাশরুম খামার।এলাকার করিম বাজারে দিয়েছেন সিনথিয়া মাশরুম ফাস্ট ফুডের দোকান।
মাশরুম চাষি সাইফুল ইসলাম বলেন,আমি দেশের বাহিরে ছিলাম। করোনার আগে সৌদি আরব থেকে ছুটিতে নিজ বাড়িতে আসি।সারা বিশ্বে যখন করোনা মহামারি শুরু হয় তখন দেশ-বিদেশে বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আমি লকডাউনে আটকা পড়ে যাই।ইতিমধ্যে আমার বিদেশ যাওয়ার ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়।ফলে আমি বিদেশে যেতে পারি নাই।তখন চিন্তা ভাবনা শুরু করি দেশে নিজের একটা কিছু করতে হবে।
তিনি আরোও জানান, ইউটিউবে মাশরুমের খামারের ভিডিও দেখি।স্বপ্ন দেখতে শুরু করি মাশরুম চাষের প্রশিক্ষণ নিতে হবে।বাসাইল কৃষি অফিসের উপ-সহকারী রাশড়া ব্লকের আব্দুল মোতালবের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করি।তিনিই সাভার জাতীয় মাশরুম উন্নয়ন ইন্সটিটিউটের নাম্বার জোগাড় করে দেন।তারপর সাভার জাতীয় মাশরুম উন্নয়ন ইন্সটিটিউটে মাশরুম চাষের প্রশিক্ষণ নেই। মহামারি করোনার সময় বাড়িতে থেকেই মোবাইলে অনলাইন প্রশিক্ষণে ভার্চুয়াল প্লাটফর্ম জুম সিটিং আইডির মাধ্যমে ১০ দিনের প্রশিক্ষণ শেষ করি।
তিনি জানান,সাভারে গিয়ে ৭ দিনের অভিজ্ঞতা অর্জন করি।সাভার থেকে বীজ নিয়ে এসে বাড়িতে মাশরুম চাষ শুরু করি।তিন মাস পর থেকে মাশরুম আসা শুরু করে।তার পর থেকে প্রতিদিন ৪-৫ কেজি মাশরুম পাচ্ছি।আমার মাশরুম খামারে ৪৫০টি স্পন বীজ প্যাকেট রয়েছে।প্রতিটি প্যাকেট থেকে দুইশ থেকে তিনশ গ্রাম মাশরুম পাচ্ছি।প্রতিটি প্যাকেটে খরচ হয়েছে ১৫-২০ টাকা।এবং খড়ের প্যাকেট ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে ৫৫০ টি। প্রতিটি খড়ের প্যাকেট করতে খরচ হয়েছে ৫০-৬০ টাকা।
আমার লক্ষ্য দুই হাজার বীজের প্যাকেট করবো।এছাড়াও কেউ যদি মাশরুমের প্যাকেট বীজ নিতে চায় তাদেরকে আমি দিবো।
উপজেলা কৃষি উপ-সহকারী রাশড়া ব্লকের মোঃ আব্দুল মোতালেব বলেন,সাইফুল আমার সাথে যোগাযোগ করে আমি সাভার জাতীয় মাশরুম উন্নয়ন ইন্সটিটিউটের কথা বলি।সাভার থেকে মাশরুমের প্রশিক্ষণ নেয়।তার খামারে এখন ৪৫০ টি স্পন বীজ প্যাকেট রয়েছে।মাশরুম খামার করে সে প্রতিদিন ৪-৫ কেজি মাশরুম পাচ্ছে।তাকে বিভিন্ন ভাবে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি যাতে করে অন্যরা তাকে দেখে মাশরুম চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠে।
উপজেলা কৃষি অফিসার নাজনীন আক্তার বলেন, বৃহস্পতিবার( ৪ মার্চ)তার মাশরুম খামার দেখতে গিয়েছিলাম।কৃষি অফিস থেকে তাকে বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছি।যাতে করে মাশরুম চাষ করে সে লাভবান হতে পারে।
তিনি আরো জানান,অল্প খরচে মাশরুম চাষ করে লাভবান হওয়া যায়।কম খরচে মাশরুম চাষ করা যায়।মাশরুম চাষ করতে লাখ লাখ টাকার প্রয়োজন হয় না।তাই বেকার বসে না থেকে এখনই মাশরুম চাষে আগ্রহী হওয়া।মাশরুম চাষের উপর প্রশিক্ষণ নেওয়া।