/ হোম / বাসাইল
টাঙ্গাইলে “জিনের বাদশা” গ্রেপ্তার - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে “জিনের বাদশা” গ্রেপ্তার

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে কথিত “জিনের বাদশা” জাহাঙ্গীর হোসেন (২২) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছেন বাসাইল থানা পুলিশ।

মঙ্গলবার(২০ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার কাশিল ইউনিয়নের দাপনাজোর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত জাহাঙ্গীর হোসেন কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া এলাকার আমীর হোসেনের ছেলে।

পুলিশ জানায়,কথিত জিনের বাদশা জাহাঙ্গীর বাসাইলের এক মেয়ের কাছে থেকে প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নেয়।মেয়েটির বিয়ের পর সংসার ভেঙ্গে যায়।পরে মেয়েটি অন্য একটি ছেলের সাথে সম্পর্কে জড়ায়।সেই সম্পর্কটাও ভেঙ্গে যাওয়ার পথে।এমন অবস্থায় মেয়েটির ফেইসবুক আইডিতে কবিরাজ বাড়ি নামে একটি আইডি আসে।সেখানে যোগাযোগ করে মেয়েটি।কথিত জিনের বাদশা ছেলের সাথে সম্পর্ক ঠিক করে দিবে বলে মেয়েটির কাছে থেকে প্রথমে পাঁচ হাজার টাকা নেয়।বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে টাকা নিতে থাকে। প্রতারণা করে মেয়েটির কাছে থেকে ত্রিশ হাজার টাকা নেয়।

পুলিশ আরো জানায়, কথিত জিনের বাদশা জাহাঙ্গীর মেয়েটিকে বলে প্রেমিকের সাথে সম্পর্ক ঠিক করতে হলে নগ্ন ছবি লাগবে।মেয়েটি বিশ্বাস করে কথিত জিনের বাদশা জাহাঙ্গীরকে ছবি দেয়।পুনরায় টাকার দাবি করে, মেয়েটি টাকা দিতে না চাইলে জাহাঙ্গীর বলে তোমার প্রেমিককে জিনে বান দিয়ে মেরে ফেলবে।তোমার বিয়ে হলেও কোন সন্তান হবে না বলে জিনের বাদশা।মেয়েটিকে বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি দেখাতে থাকে।মেয়েটি বুঝতে পেরে বাসাইল থানা পুলিশকে জানায়।পরে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে বাসাইল থানা পুলিশ দাপনাজোর এলাকা থেকে কথিত জিনের বাদশা জাহাঙ্গীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করে।

এ বিষয়ে বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, মঙ্গলবার রাতে কথিত জিনের বাদশা জাহাঙ্গীরকে বাসাইলের দাপনাজোর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।জিনের বাদশা জাহাঙ্গীর বিভিন্ন ভাবে কম বয়সী মেয়েদের প্রলোভন দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নিতো।জাহাঙ্গীর তিন বছর প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রতারণার কাজ শুরু করে।জিনের বাদশার মূল টার্গেট ছিল মেয়ে মানুষ।শুধু একজন মেয়ে না আরও তিন-চারজন মেয়ের কাছে থেকে বিভিন্ন কাজের নাম করে বিকাশের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেয় কথিত জিনের বাদশা।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২১. সেপ্টেম্বর ২০২২ ০৭:২৩:পিএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার নথখোলায় ঝিনাই নদী ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় অবৈধ বালু ব্যবসায়ীদের নতুন করে ড্রেজার মেশিন বসানোর পাঁয়তারা বন্ধ এবং নদী পাড়ের নিরীহ মানুষের ঘর-বাড়ি,ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসুচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার টাঙ্গাইল-বাসাইল সড়কের নথখোলা সেতুর উপরে দাপনাজোর, নথখোলা ও কাশিল গ্রামের পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষ এ মানববন্ধনে অংশ নেয়।

মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন, বাসাইল উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী অলিদ ইসলাম, কাশিল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রমজান আলী সহ স্থানীয় বাসিন্দারা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বাসাইল উপজেলার দাপনাজোর,নথখোলা ও কাশিল গ্রামের প্রায় ৮০ভাগ মানুষ কৃষিনির্ভর। ঝিনাই নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে বিদ্যালয়,মসজিদ-মাদ্রাসা, হাট-বাজার ও ৭১’র মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ। কিন্তু বর্তমানে প্রভাবশালী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে প্রভাবশালী বালুখেকোরা অবৈধ ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করায় দাপনাজোর সেতু,কাশিল সেতুসহ নদী পাড়ের অসংখ্য বাড়ি-ঘর,ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

বক্তারা আরও বলেন, এছাড়াও অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে নথখোলা সেতু এবং সেতু সংলগ্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়,শহীদ মিনার, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে।

তাই এই তিনটি গ্রামের বসত-ভিটা, জীবন ও সম্পত্তি রক্ষার দাবিতে এই মানববন্ধন। ভবিষ্যতে যেন এ নদী থেকে অবৈধ ভাবে কেউ যেন বালু উত্তোলন করতে না পারে। সেজন্য প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন বক্তারা।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৭. সেপ্টেম্বর ২০২২ ০২:৫৬:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে সিএনজি-মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ২ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে সিএনজি-মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ২

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে সিএনজি-মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে রাকিবুল ইসলাম (১৬) নামের এক এসএসএসসি পরীক্ষার্থী নিহত হয়েছেন।এই দুর্ঘটনায় আরো ২ জন আহত হয়েছেন।

শনিবার (২৩ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার কলেজ পাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।বাসাইল থানার এএসআই হাবিব দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত রাকিবুল ইসলাম টাঙ্গাইল সদর উপজেলার গালা ইউনিয়নের ব্রাক্ষনকুশিয়া গ্রামের ইদরিস আলীর ছেলে ও ২০২২ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন।

আহতরা হলেন- একই গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে মো. ইয়াছিন (১৭) ও কোরবান আলীর ছেলে সাইদুল ইসলাম মিন্টু (১৭)।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, টাঙ্গাইল থেকে সিএনজি বাসাইল কলেজ পাড়া আসলে মোটরসাইকেলের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে।দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী তিনজনকে আহত অবস্থায় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাস্তায় একজনের মৃত্যু হয়।

বাসাইল থানার এএসআই হাবিব জানান, বিকেল ৫টার দিকে বাসাইল কলেজ পাড়া এ দুর্ঘটনা ঘটে।মোটরসাইকেল আরোহী তিনজনকে আহত অবস্থায় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাস্তায় একজনের মৃত্যু হয়।মরদেহ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৪. জুলাই ২০২২ ০৫:২৯:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলের বাসুলিয়ায় ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলের বাসুলিয়ায় ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ

একতার কণ্ঠঃ থৈ থৈ জলে, ঢাক-ঢোলের তালে তালে গ্রাম বাংলার গান আর মাঝি-মাল্লার বইঠার ছন্দ মাতিয়ে তোলে বাসুলিয়ার চাপড়া বিলের শান্ত জলের ঢেউকে। আর সেই তালে তাল মেলাতে নৌকা বাইচ দেখতে বিশাল বিস্তৃত টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার বাসুলিয়া খ্যাত চাপড়া বিলের বুকে হাজারো মানুষের ঢল নামে।

আবহমান বাঙালি জাতির ঐতিহ্য ও শতবর্ষের প্রাচীন সংস্কৃতির অন্যতম অনুষঙ্গ নৌকা বাইচ। নদীমাতৃক এ দেশের গ্রামীণ লোক সংস্কৃতির সেই ঐতিহ্যকে বুকে ধারণ করে দেশের বিভিন্ন নদ-নদী ও বিল-বাঁওড়ে আয়োজন করা হয় নৌকা বাইচ।

এরই ধারাবাহিকতায় বাসাইলের দিগন্ত বিস্তৃত জলভরা দৃষ্টিনন্দন বাসুলিয়ায় উৎসবমুখর পরিবেশে শুক্রবার (২২ জুলাই) বিকেলে অনুষ্ঠিত হয়েছে নৌকা বাইচ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শুক্রবার বিকেলে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার দৃষ্টিনন্দন ও নৈসর্গিক সৌন্দর্য্যের লীলাভূমি চাপড়া বিলে অনুষ্ঠিত হয় নৌকাবাইচ। জেলার অন্যতম বিনোদনমূলক এ প্রতিযোগিতা দেখতে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে হাজারো মানুষের সমাগম হয়। পুরুষের পাশাপাশি নারীদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।

প্রতি বছরের মতো এবারও বর্ণিল এ নৌকা বাইচের আয়োজন করেন প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক মিয়া স্মৃতি সংসদ।

প্রতিযোগিতায় নারায়ণগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, পাবনা ও টাঙ্গাইলের কয়েকটি উপজেলা থেকে আল্লাহ ভরসা, মায়ের দোয়া, সোনার তরী, ফুলের তরী, হীরার তরী, আদর্শ তরী, ময়ূর পঙ্খী, পঙ্খীরাজ ও জলপরীসহ বাহারী নাম ও রঙের ডিঙি, কুশা, সিপাই, খেলনা, অলংগাসহ কয়েক ক্যাটাগরির প্রায় অর্ধশতাধিক নৌকা অংশগ্রহণ করে।

ছোট, বড় ও মাঝারি নৌকা নিয়ে পৃথক পৃথক কয়েকটি রাউন্ডে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত রাউন্ডে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের ‘নিউ হীরার তরী’ নৌকাটি চ্যাম্পিয়ন হয়। রানার্সআপ হয় নাগরপুর উপজেলার ‘হারানো মানিক নৌকা।’ পরে অতিথিরা বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। এ সময় চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপসহ অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকটি নৌকাকেই আকর্ষনীয় পুরষ্কার দেওয়া হয়।

টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক আতাউল গণির সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম। প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মেজবাহ উদ্দিন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৩. জুলাই ২০২২ ০৫:২৩:পিএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলের বাসাইলে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলের বাসাইলে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের কাঞ্চনপুর দক্ষিণপাড়ায় নানার বাড়িতে বেড়াতে এসে গোছল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে মার্জিয়া (৭) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪জুলাই) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

শিশু মার্জিয়া উপজেলার ফুলকি ইউনিয়নের জশিহাটি গ্রামের প্রবাসী বাবুল মিয়ার মেয়ে। মার্জিয়া জশিহাটি সরকারি প্রোথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। সে ঈদের পর (১২ জুলাই) মায়ের সাথে নানার বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল।

জানা যায়, মার্জিয়া ঈদের পর মঙ্গলবার (১২ জুলাই) মা ফরিদা বেগমের সাথে কাঞ্চনপুর নানার বাড়িতে বেড়াতে আসে। বৃহস্পতিবার মার্জিয়া লোকজনের অগোচরে বাড়ির পূর্বপাশে রাস্তার কালভার্টের কাছে বাড়ির অন্যান্য সাথীদের সাথে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে যায়।

মার্জিয়ার ডুবে যাওয়া দেখে তার খালাত ভাই ও মামাত ভাই দৌড়ে এসে বাড়িতে খবর দিলে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. সালেহ খান বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৫. জুলাই ২০২২ ০৮:৩৯:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে মেয়াদোত্তীর্ণ ভ্যাকসিনে ১৪শ’ হাঁসের মৃত্যুর অভিযোগ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে মেয়াদোত্তীর্ণ ভ্যাকসিনে ১৪শ’ হাঁসের মৃত্যুর অভিযোগ

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের ডাকপ্লেগ রোগের মেয়াদোত্তীর্ণ ভ্যাকসিন প্রয়োগের পর রিপন সিকদার নামের এক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার প্রায় ১৪০০ হাঁসের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা রিপন সিকদার দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত রিপন জেলার বাসাইল উপজেলার ফুলকী ইউনিয়নের ময়থা উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের  প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে বেকার অবস্থায় থাকা যুবক রিপন সিকদার ৪২ শতাংশ জমি লিজ নিয়ে ঘর তৈরি করে হাঁসের খামার করেন। প্রথম অবস্থায় তিনি এক হাজার হাঁস নিয়ে খামার শুরু করেন। প্রথমে তার বেশ কিছু টাকা লাভ হয়। এরপর দ্বিতীয়বারে তিনি নাগেশ্বরী জাতের ডিমের জন্য ১৭৩০টি হাঁসের বাচ্চা ও মাংসের জন্য বেলজিয়াম জাতের ৭০টিসহ মোট ১৮০০টি হাঁসের বাচ্চা খামারে তুলেন। বাচ্চাগুলোর এক মাস বয়সে গত ৫ জুন রিপন সিকদার বাসাইল উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে ভ্যাকসিনের দায়িত্বে থাকা উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (সম্প্রসারণ) জাহিরুল ইসলামের কাছে ডাকপ্লেগ রোগের ভ্যাকসিনের জন্য যান। ওই সময় জাহিরুল ইসলাম তাকে ১৯টি ভ্যাকসিনের বোতল দেন। এরপর ৭ জুন রিপন হাঁসগুলোকে ওই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করেন। ভ্যাকসিন প্রয়োগের একদিন পর থেকে হাঁসগুলো মারা যেতে শুরু করে। ক্রমেই মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকে। কয়েকদিনের ভেতরে প্রায় ১৪০০ হাঁসের মৃত্যু হয়। ওই সময় ভ্যাকসিনের বোতল চেক করলে দেখা যায় চলতি বছরের ২০ মে ভ্যাকসিনটির মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে।

রিপনের স্ত্রী তানিয়া আক্তার জানান, ‘উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় থেকে ভ্যাসকিন আনার পর প্রায় ১৭০০ হাঁসকে প্রয়োগ করা হয়। আর বাকিহাঁসগুলোকে একটি কোম্পানির ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের ভ্যাকসিন প্রয়োগের পরেরদিন থেকে হাঁস মারা যাওয়া শুরু হয়। একদিনেই প্রায় ৫০০ হাঁসের মৃত্যু হয়। এভাবেই প্রায় ১৪০০ হাঁস মারা গেছে। এরপর বাকি প্রায় ৪০০ হাঁসকে বিলে ছেড়ে দেওয়া হয়। সেখানেও হাঁস মারা যাচ্ছে। ঋণ নিয়ে এই খামারটি করেছিলাম। আমরা এখন নিঃস্ব হয়ে গেলাম।’

ক্ষতিগ্রস্ত রিপন সিকদার জানান, ‘গত ৫ জুন আমি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে ভ্যাকসিনের দায়িত্বে থাকা জাহিরুল ইসলামের কাছে হাঁসের ডাকপ্লেগ রোগের ভ্যাকসিন আনতে যাই। তিনি আমাকে ১৯টি ভ্যাকসিনের বোতল দেন। এরপর আমি ৭ জুন প্রায় ১৭০০ হাঁসকে ওই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করি। ভ্যাকসিন প্রয়োগের পরেরদিন থেকে হাসগুলো মারা যেতে শুরু করে। একদিনে ৫০০ হাঁসের ওপরেও মারা গেছে। এভাবে কয়েকদিনের মধ্যে আমার খামারের প্রায় ১৪০০ হাঁস মারা গেছে। মৃত হাঁসগুলো মাটিতে পুতে রাখা হয়েছে। এরপর বাকি জীবিত হাঁসগুলো বিলে ছেড়ে দেওয়া হয়। সেগুলোও মারা যাচ্ছে।’

তিনি আরও জানান, ‘হাঁসগুলো মারা যেতে থাকলে ভ্যাকসিনের বোতল চেক করে দেখি প্রায় এক মাস আগে ভ্যাকসিনের মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে। জাহিরুল ইসলামের ভুলের কারনে আমার প্রায় ৭ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনার পর আমি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে গেলে জাহিরুল ইসলাম, তার ভুল হয়েছে বলে জানায়। তবে আমি ঋণ নিয়ে এই হাঁসের খামারটি করেছি। এই ক্ষতি আমার জীবন শেষ করে দিয়েছে। এই ক্ষতি পোষানোর মতো আমার ক্ষমতা নেই। এ কারণে আমি ক্ষতিপূরণ দাবি করছি। এ ঘটনায় আইনের আশ্রয় নেওয়া হবে।’

স্থানীয় বাসিন্দা শামছুল হক জানান, ‘রিপন ঋণ করে এই খামারটি করেছিল। প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের কর্মকর্তার ভুলের কারণে রিপনের অনেক ক্ষতি হয়ে গেলো। অভিযুক্ত কর্মকর্তার শাস্তি ও পাশাপাশি রিপনকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবী জানান তিনি।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য সুমন সরকার জামাল জানান, ‘একজন কর্মকর্র্তার ভুলের কারনে রিপনের ১৪০০ থেকে ১৫০০ হাঁসের মৃত্যু হয়েছে। রিপনের অনেক টাকা ক্ষতি হয়ে গেলো। এলাকাবাসী হিসেবে রিপনের ক্ষতিপূরণের দাবি জানাচ্ছি।’

এ বিষয়ে উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (সম্প্রসারণ) অভিযুক্ত জাহিরুল ইসলাম জানান, ‘রিপন নামের ওই ছেলেটা আমার কাছে গত ৬ জুন এসেছিল। পরে তাকে ২০টি ডাকপ্লেগ রোগের ভ্যাকসিন দেয়া হয়। কয়েকটি হাঁস মারা যাওয়ার পর রিপন আমার কাছে এসে ১০টি ভ্যাকসিন ফেরত দিয়ে গেছে। পরে চেক করে দেখি ২০ মে ভ্যাকসিনের মেয়াদ শেষ হয়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ ওই ভ্যাকসিন গুলো দেখে আমাদের অফিসে থাকা বাকিগুলো ফেলে দিয়েছি। হঠাৎ করে আবার এসে সে বলছেন তার সর্বমোট ১৪০০ হাঁস মারা গেছে। ভ্যাকসিন গুলো তাকে দেওয়ার সময় আমি মেয়াদটি খেয়াল করিনি,এটাই আমার ভুল হয়েছে। তবে ভ্যাকসিনের মেয়াদ না থাকলে উপকার না হলেও ক্ষতি হবার কোন কারণ নেই বলে দাবি করেন তিনি।’

বাসাইল উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্র্তা ডা. ফারুক আহাম্মদ জানান, ‘আমি এখানে নতুন এসেছি। এখানে এসেই হাঁসগুলোর মৃত্যুর ঘটনাটি জেনেছি। মেয়াদোত্তীর্ণ ভ্যাকসিন বিতরণ করে থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়াও ভুক্তভোগীকে প্রণোদনার মাধ্যমে সহায়তা করা হবে।’

এ বিষয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রানা মিয়া জানান, ‘এ ঘটনায় ওই কর্মকর্তার কোনও গাফিলতি থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৭. জুলাই ২০২২ ০২:৫১:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে শিহাবের হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে রাজপথে সাধারণ শিক্ষার্থীরা - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে শিহাবের হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে রাজপথে সাধারণ শিক্ষার্থীরা

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে সৃষ্টি স্কুলের আবাসিকের পঞ্চম শ্রেণীর শিশু শিক্ষার্থী শিহাবের হত্যার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৭ জুন) দুপুরে টাঙ্গাইল শহরের নিরালা মোড় সংলগ্ন টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে  বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় সহস্রাধিক ছাত্র-ছাত্রী ওই কর্মসূচি পালন করে। মানববন্ধন শেষে তারা একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- জান্নাতুল মাওয়া শ্যামন্তী, ফারহান নিঝুম, মেহেদী হাসান, আসলাম প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা- পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র শিহাব মিয়ার হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এদিকে, সৃষ্টি একাডেমিক স্কুলের আবাসিকে শিহাবের লাশ উদ্ধারের পর থেকেই সাধারণ শিক্ষার্থী, সচেতন মহল, ছাত্রলীগ ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে টাঙ্গাইল ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন জায়গায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে আসছে। তার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় রবিবার (২৬ জুন) ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় রবিবার বিকেলে র‍্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে সৃষ্টি একাডেমিক স্কুলের অধ্যক্ষসহ ৯ শিক্ষককে আটক করা হয়।

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার জানান, রোববার(২৬ জুন) বিকেল ৪টার দিকে সৃষ্টি স্কুলের আবাসিকের দুই শিক্ষক আবু বকর ও মো. নাসিরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।

আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে র‍্যাব কমান্ডার এএসপি এরশাদুর রহমান জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র‍্যাব ৭ শিক্ষককে ও সদর থানার পুলিশ দুই শিক্ষককে নিয়ে গেছেন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

প্রসঙ্গত, গত ২০ জুন সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল শহরের বিশ্বাস বেতকা সুপারি বাগান এলাকায় সৃষ্টি স্কুলের আবাসিক ভবন থেকে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র শিহাব মিয়ার লাশ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান ভবনে দায়িত্বরত শিক্ষকরা।
মৃত শিহাব মিয়া (১১) জেলার সখিপুর উপজেলার বেরবাড়ি গ্রামের প্রবাসী ইলিয়াস হোসেনের ছেলে।

ওইদিন শিশুটিকে হত্যার অভিযোগ আনে তার পরিবার। পরে লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পারিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ।

এঘটনায় প্রাথমিক পর্যায়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৮. জুন ২০২২ ০৪:১৭:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে পানিতে ডুবে ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীর মৃত্যু - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে পানিতে ডুবে ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীর মৃত্যু

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে বাড়ির পাশে পুকুরের পানিতে ডুবে সামিয়া (১৩) নামের এক স্কুল ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।সামিয়া বাসাইল রফিক রাজু ক্যাডেট স্কুলের ৬ষ্ঠ শ্রেনির ছাত্রী।

সামিয়া বাসাইল এস আর পাড়ার ছানোয়ার হোসেনের বড় মেয়ে।

স্থানীয়সূত্রে জানা যায়, ২৪ জুন (শুক্রবার) সকালের নাস্তা শেষ করে সামিয়া পাশের বাড়িতে খেলতে যায়। অনেকক্ষণ বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজন খোজাখুজির একপর্যায়ে প্বার্শবর্তী মন্দির সংলগ্ন পুকুরে সামিয়াকে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পায়। পুকুর থেকে উদ্ধার করে তাকে বেলা ১১ টায় বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাহিদ খান তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

ডা. নাহিদ খান বলেন, হাসপাতালে আনার পূর্বেই সামিয়ার মৃত্যু হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৪. জুন ২০২২ ০৮:৪৭:পিএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে ২ উপজেলায় বাঁধ ও সড়ক ভেঙে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ২ উপজেলায় বাঁধ ও সড়ক ভেঙে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী ও বাসাইল উপজেলায় বাঁধ ও সড়ক ভেঙে কমপক্ষে ২০টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এই দুই উপজেলার সঙ্গে সড়ক পথে যাতায়াত বন্ধ রয়েছে। ফলে দুর্ভোগে পড়েছে সেখানকার বাসিন্দারা।

রোববার (১৯ জুন) কালিহাতী উপজেলার আনালিয়াবাড়ী এলাকায় বাঁধ ও বাসাইল উপজেলার আন্ধিরাপাড়া-বালিনা সড়কের কিছু অংশ ভেঙে যায়।

স্থানীয়রা জানান, দুই দিন ধরে বাসাইল উপজেলার আন্ধিরাপাড়া-বালিনা সড়কের বালিনা উত্তরপাড়ার অংশেঊ ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। পরে অতিরিক্ত স্রোতের কারণে সড়কটি ভেঙে যায়। রোববার সকালে আন্ধিরাপাড়ায় তিনটি স্থানে সড়ক ভেঙে যায়। দুই দিনে প্রবল বেগে পানি প্রবেশ করে উপজেলার বালিনা, আন্ধিরাপাড়া, আদাজান, কাঞ্চনপুর ও কোদালিয়াপাড়াসহ কয়েকটি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত বন্ধ রয়েছে। ফলে কয়েকটি গ্রামের মানুষ বিকল্প হিসেবে নৌকা দিয়ে যাতায়াত করছে।

উপজেলার বালিনা দাখিল মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মো. সোলাইমান জানান, এ সড়কের চার জায়গায় ভেঙে গেছে। এ কারণে যাতায়াত বন্ধ রয়েছে। শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে রয়েছে।

পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাইফুল ইসলাম জানান সড়কের চার জায়গায় ভেঙে গেছে। সড়ক দিয়ে পানি প্রবেশ করে বালিনা, আদাজান, ভোরপাড়া, আন্ধিরাপাড়া, কাঞ্চনপুরসহ ৮টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল ডুবে গেছে। এখন নৌকা নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

কালিহাতী উপজেলার আনালিয়াবাড়ী এলাকার বাঁধ ভেঙে গেছে। ফলে এ বাঁধ দিয়ে যাতায়াত বন্ধ রয়েছে।

সল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল আলিম জানান, পানির অতিরিক্ত চাপের কারণে বাঁধ ভেঙে গেছে। এ কারণে উপজেলার আনালিয়াবাড়ী, ভাওয়াল, নরদৈ, গড়িয়া, হাবলা, দেওলাবাড়ীসহ ১০ থেকে ১২টি গ্রামের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এখানে গত বছরও ভেঙে গিয়েছিল।

উল্লেখ্য, জেলার যমুনা, ধলেশ্বরী, ঝিনাই, বংশাই, লৌহজংসহ বিভিন্ন নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফলে জেলার ১২টি উপজেলার নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করে প্লাবিত হচ্ছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২০. জুন ২০২২ ০১:১১:এএম ৪ বছর আগে
ব্যবসায়ী হত্যায় একজনের আমৃত্যু কারাদণ্ড, ৪ জনের যাবজ্জীবন - Ekotar Kantho

ব্যবসায়ী হত্যায় একজনের আমৃত্যু কারাদণ্ড, ৪ জনের যাবজ্জীবন

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ব্যবসায়ী মনিরুজ্জামান ভূইয়াকে হত্যার দায়ে একজনকে আমৃত্যু ও চার জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বুধবার (৮ জুন) দুপুরে টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. মাসুদ পারভেজ এ রায় ঘোষণা করেন। আমৃত্যু দণ্ডপ্রাপ্ত রেজাউল ইসলাম রেজা ব্যবসায়ী মনিরুজ্জামানের ভায়রা। তিনি দেলদুয়ার উপজেলার ডুবাইল গ্রামের শামছু মিয়ার ছেলে।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলো—রেজাউলের স্ত্রী আলো বেগম, বাসাইল উপজেলার খাটোরা গ্রামের মৃত নাসিম উদ্দিনের ছেলে লাল মিয়া, যশিহাটি গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে রেজভী ও দেলদুয়ার উপজেলার ডুবাইল গ্রামের ফজল মিয়ার ছেলে আলমগীর হোসেন।

টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত সরকারি পিপি মনিরুল ইসলাম খান জানান, বাসাইল উপজেলার কাউলজানী গ্রামের আবু বক্কর ভূইয়ার ছেলে মনিরুজ্জামান ২০১০ সালের ১২ সেপ্টেম্বর নিখোঁজ হন। তিন দিন পর পার্শ্ববর্তী মহেশখালী গ্রামের জমির আইল থেকে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর নিহতের বাবা আবু বক্কর ভূইয়া অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে বাসাইল থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্তে হত্যাকাণ্ডে মনিরুজ্জামানের ভায়রা রেজাউল ও শ্যালিকা আলো বেগমসহ দণ্ডিতদের জড়িত থাকার বিষয়টি বের হয়ে আসে।

তিনি আরও জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাসাইল থানার তৎকালীন উপ-রিদর্শক (এসআই) শ্যামল দত্ত ২০১১ সালের ৩০ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। আসামিদের মধ্যে আলমগীর, আলো বেগম ও লাল মিয়া আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর তাদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। রেজাউল ও রেজভী জামিনে মুক্ত হওয়ার পর থেকে পলাতক।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৯. জুন ২০২২ ০২:১৫:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে শিশু গণধর্ষণ ও হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পিবিআই - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে শিশু গণধর্ষণ ও হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পিবিআই

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে সূত্রহীন  (ক্লু-লেস) ২য় শ্রেনির ছাত্রী তিশা (৯) কে গনধর্ষণসহ হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করার দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) টাঙ্গাইল। গনধর্ষণ ও হত্যাকান্ডে জড়িত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার(৬ জুন) সকালে এ তথ্য প্রকাশ করে পিবিআই।

পিবিআই জানিয়েছে, শিশু তিশার প্রতি বিকৃত যৌন লালসা গ্রেফতারকৃত আসামিরা মনে পোষণ করে। সেই জেরে তিশাকে গনর্ধষণ ও হত্যা করার জন্য ওড়না দিয়ে সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে পালিয়ে যায় আসামীরা।

গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা হলো- টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার ভাটপাড়া এলাকার স্বপন মন্ডলের ছেলে গোবিন্দ মন্ডল (১৯), একই এলাকার আনন্দ মন্ডলের ছেলে চঞ্চল চন্দ্র মন্ডল (১৭) ও লালিত সরকারের ছেলে বিজয় সরকার (১৬)। আসামীরা শিশু তিশাকে গনর্ধষণ ও হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা পিবিআই এর কাছে স্বীকার করেছে।

টাঙ্গাইল পিবিআই এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সিরাজ আমীন সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানায়, গত ২৬ মে সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার বন্দে ভাটপাড়া গ্রামের মো: আবু ভূইয়ার কন্যা শহীদ ক্যাডেট একাডেমির ২য় শেনির ছাত্রী তিশা আক্তার (৯) কে বসত ঘরের উত্তর পাশের রুমে ফ্যানের সাথে গলায় ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগানো অবস্থায় পাওয়া যায়।

ওই সংবাদের ভিত্তিতে পিবিআই এর একটি চৌকস ক্রাইমসিন টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সংগ্রহ করে। পরে পিবিআই টিম জানতে পারে ঘটনার দিন সকালে মো: আবু ভূইয়ার স্ত্রী সম্পা বেগম তার ছেলে ৫ম শ্রেনির ছাত্র মো: শুভ ভূইয়া (১২) ও ২য় শ্রেনির ছাত্রী মেয়ে তিশা আক্তারকে (৯) স্থানীয় শহীধ ক্যাডেট একাডেমিতে নিয়ে যায়।

দুপুরে স্কুল ও কোচিং শেষ হলে তিশা বাড়িতে চলে আসে। ছেলে শুভ সময় মত বাড়িতে না আসায় তার মা তাকে খুঁজতে বের হয়। এসময় তিশা বাড়িতে একাই ছিলো। পরে শুভকে এলাকার ফজলুর দোকানে বসে থাকতে দেখে। এসময় শুভকে জুস কিনে দেয় এবং পাশের অমত মেম্বারের দোকান হতে বিস্কুট কিনেন ও দোকানদারের সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন।

এতে প্রায় ঘন্টাখানিক সময় দেরি হয় তাদের বাড়িতে ফিরতে। বাড়িতে ফিরে মা ও ভাই দেখতে পায় বসত ঘরের উত্তর পাশের রুমে তিশা খাটের উপর ফ্যানের সাথে গলায় ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলে আছে। এসময় মা ও ভাই তিশাকে বাঁচানোর জন্য ফাঁসের ওড়না খুলে দেয়ে। পরে তাদের ডাক চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসে এবং তিশাকে অচেতন অবস্থায় প্রথমে বাসাইল উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়।

এসময় দায়িত্বরত চিকিৎসকরা তিশাকে টাঙ্গাইল ২৫০ শয্যা হাসপাতালে রেফার্ড করে। কিন্তু তিশার অবস্থা ভালো না থাকায় টাঙ্গাইল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন চিকিৎসকরা। মেয়ের মা সম্পা বেগম মেয়েকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হলে পথিমধ্যে এ্যাম্বুলেন্সটি নষ্ট হয়। এতে শিশু তিশার অবস্থা আরো থারাপ হতে থাকে। ফলে মেয়েকে সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৮ মে বিকেলে শিশু তিশা মারা যায়। বাসাইল থানা পুলিশ তিশার লাশের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত ও ময়না তদন্ত শেষে ২৯ মে তার পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেয়। এ ঘটনায় পিবিআই টাঙ্গাইল তাদের ছায়া তদন্ত অব্যাহত রাখে। এ ঘটনায় ২৯ মে বাসাইল থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়।

পরবর্তীতে ৪ জুন তিশার ময়না তদন্ত রির্পোটে গনধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়। ওইদিনই তিশার বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে বাসাইল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা নেওয়া হয়। পরে পিবিআই টাঙ্গাইল গনধর্ষণ ও হত্যা মামলাটি নিজ উদ্যোগে তথ্য প্রযুক্তি, ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা ও বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (নি:) খন্দকার আশরাফুল কবিরের নেতৃত্বে একটি চৌখস দল অভিযান পরিচালনা করে ঘটনার সাথে জড়িত তিন আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়। আসামী গোবিন্দ মন্ডল পেশায় একজন পিকআট ড্রাইভার, বিজয় সরকার তার সহযোগী ও চঞ্চল একজন অটো মেকানিক। এদের মধ্যে একজনকে বাসাইল পৌরসভার কাঁচাবাজার এলাকায় ও অপর দুই আসামীকে তাদের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামীরা এ ঘটনার সাথে জড়িত হওয়ার কথা স্বীকার করে এবং তারা জানায়, তিশা বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ও পুজায় চমৎকার নাচ করতো। তার নাচের প্রতিভায় সবাই মুগ্ধ ছিল।

পাশাপাশি বাড়ি হওয়ায় আসামিরা সকল অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতো। তখন থেকে আসামিরা শিশু তিশার প্রতি বিকৃত লালসা তাদের মনে মনে পোষণ করে এবং বিভিন্ন ভাবে তিশাকে উতক্ত্য করতো। পরে তারা তিশার মায়ের গতিবিধি অনুসরণ করতে থাকে। একদিন আসামিরা জানতে পারে তিশার মা তিশাকে বাড়িতে একা রেখে ছেলেকে আনতে যায়। এই সুযোগে ঘটনার দিন বাড়িতে কেউ না থাকায় তিশার রুমে প্রবেশ করে তার হাত, মুখ, পা চেপে ধরে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ধর্ষনের ফলে তিশা জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। তখন আসামিরা ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য তিশার গলায় তার মায়ের ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে ঘরের সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। পুলিশ সুপার আরো জানায়, এ বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

নিহত শিশু তিশার বড় ভাই শিশু শুভ কান্না জড়িত কন্ঠে ছোট্ট বোনটির হত্যাকারীদের বিচার দাবী করে বলে, আমি সব সময় বাড়িতে আমার ছোট বোনকে খুঁজে বেড়াই। কিন্তু ওকে কোথাও পাই না। তখন আমার অনেক কষ্ঠ লাগে। আমার বোনকে যারা হত্যা করেছে তাদের ফাঁসি চাই।

শিশু তিশার মা সম্পা বেগম বলেন, আমার ওই ছোট্ট মেযেটিকে কখনো ফুলের টোকাও দেয়নি। ওরা আমার অবুঝ মেয়েকে যে অমানবিক নির্যাতন করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করেছে তাদের একই রকমভাবে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হোক। আমি এর বিচার চাই।

শিশু তিশার বাবা মো: আবু ভূইয়া বলেন, যারা আমার মেয়ের সাথে এ ধরনে কাজ করেছে তাদের কঠিন শাস্তি চাই। বিচার বিভাগের মাধ্যমে এমন একটি শাস্তি চাই যা দেখে আর কেউ যেন এমন করার সাহস না পায়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৭. জুন ২০২২ ০৪:০৯:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ গেল নারীর - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ গেল নারীর

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলায় ট্রাকের ধাক্কায় শাপলা বেগম (৫৬) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। এঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুইজন।

বৃহস্পতিবার( ০২ জুন) সকাল ৯ টার দিকে সদর উপজেলার ভাতকুড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।করটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য উমর ফারুক খান মানিক দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত শাপলা বেগম সদর উপজেলার ভাতকুড়া গ্রামের শাহিন মিয়ার স্ত্রী।

আহতরা হলেন- নিহত শাপলা বেগমের মেয়ে সাথী আক্তার(২৬) ও সদর উপজেলার ভাতকুড়া গ্রামের মোহুরি মিয়ার স্ত্রী তারাবানু বেগম(৪৫)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইল থেকে একটি ট্রাক বাসাইলের দিকে যাচ্ছিল। ট্রাকটি অপর একটি গাড়িকে ওভারটেক করতে গেলে তাদের তিনজনকে ধাক্কা দেয়। ধাক্কা খেয়ে শাপলা বেগম বিদ্যুৎতের খুঁটির সঙ্গে মাথায় আঘাত পান। এবং ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় অপর দুই জনকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মোশাররফ হোসেন জানান, দুর্ঘটনার বিষয়টি জানতে পেরেছি। ট্রাকের ধাক্কায় একজনের মৃত্যু হয়েছে।এঘটনায় দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। লাশ পরিবার কাছে রয়েছে। নিহতের পরিবার অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০২. জুন ২০২২ ১০:৪০:পিএম ৪ বছর আগে
কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।