একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে একটি বাজারে আগুন লেগে সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম (৬০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এসময় চারটি দোকান ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
সোমবার (৬ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে উপজেলার আইসড়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম আইসড়া গ্রামের মৃত সৈয়দ আনোয়ার হোসেনের ছেলে।
তিনি বাজারে টেইলার্সের দোকান করতেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ২টার দিকে আইসড়া বাজারে হঠাৎ করে একটি দোকানে আগুন জ্বলে ওঠে।
এসময় বিষয়টি দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। এরমধ্যেই চারটি দোকানে আগুনে ছড়িয়ে পড়ে। পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়ার প্রায় দুই ঘণ্টা পর তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে। তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এসময় টেইলার্সের দোকানের ভেতরে থাকা মঞ্জুরুল ইসলামের মৃত্যু হয়। আগুনে চারটি দোকানে প্রায় ১৫ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য বাবুল সরকার বলেন, হঠাৎ করে টেইলার্সের দোকান থেকে আগুন জ্বলে ওঠে। এসময় ওই দোকানের ভেতরে মঞ্জুরুল ঘুমিয়ে ছিলেন। সেখান থেকে বের হতে না পারায় আগুনে পুড়ে তার মৃত্যু হয়। আগুনে চারটি দোকানের মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
বাসাইল ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ মাজহারুল ইসলাম বলেন, টেইলার্সের দোকানে শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। ধারণা করছি টেইলার্সের দোকানে থাকা ব্যক্তিটি আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়ে সেখানেই মারা যান। এ ঘটনায় চারটি দোকান ঘর পুড়ে প্রায় সাড়ে সাত লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। পুলিশের উপস্থিতিতে নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ঐতিহ্যবাহী ডুবের মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (৫ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার বাসাইল সদর এবং কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের বংশাই নদীর পূর্ব-উত্তর তীরে রাশড়া-সৈয়দামপুর গ্রামে দিনব্যাপী কয়েক হাজার লোকের সমাগমে এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়।
দেবতার (মাদব ঠাকুর) মূর্তিতে প্রণাম স্মরণ করে ভোরে গঙ্গাস্নানের মাধ্যমে মেলার বা পূজার কার্যক্রম শুরু করা হয়। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা তাদের পাপ মোচনের লক্ষে ভোরে মানত ও গঙ্গাস্নান পর্ব সমাপন করে।
তবে চলাচলের সুবিধা না থাকায় মেলায় আগতরা মেলাস্থলে যাতায়াত এবং ঠিক সময়ে গঙ্গাস্নানের জন্য পৌঁছাতে পারছেন না বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানায়, বৃটিশ শাসনামলে বক্ত সাধু নামে খ্যাত এই সন্যাসীর (মাদব ঠাকুর) মূর্তি প্রতিস্থাপন করে মনোবাসনা পূর্ণ করতে গঙ্গাস্নান, পূজাঅর্চনা করা শুরু হয়। ওই সময়ে অনেকে এসব করে সফল হয়েছে বলে লোকমুখে প্রচলিত। তখন থেকে প্রতিবছর মাঘী পূর্ণিমার রাত থেকে গঙ্গাস্নান, পূজাঅর্চনা চলতে থাকে এবং পরে স্থানীয় সনাতনীরা একে মেলা এবং আনন্দ উৎসব হিসেবে পালন করে আসছে। ওই সময় থেকে এটা ডুবের মেলা নামে পরিচিত।
মেলায় বিভিন্ন মিষ্টি জাতীয় খাবার, বাঁশবেতের তৈজসপত্র, মাটির তৈরি খেলনা, হাঁড়িপাতিল, বড় মাছ এবং চিড়া-দই, খইসহ বিভিন্ন দোকানিরা তাদের পসরা সাজিয়ে বসে। মেলায় আসা দোকানি সাধুকর বলেন, প্রত্যন্ত গ্রামে এত লোকের সমাগম হয় এটা অবিশ্বাস্য। বেচাকেনাও ভালো।
মিষ্টি দোকানি দীপক বলেন, প্রতিবছর প্রায় ১০ মণ মিষ্টি ও মিষ্টিজাতীয় খাবার বিক্রি করি। কোন বাকি নেই । নগদ বিক্রি হয় বলে বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীদের এই মেলায় দোকান দেবার বেশি আগ্রহ দেখা যায়।
ডুবের মেলার আয়োজক জীবন মন্ডল বলেন, প্রায় দেড়’শ বছর ধরে মাঘীপূর্ণিমার সময় আমার পূর্বপূরুষেরা এই মেলার আয়োজন করে আসছে। আমি এই মেলায় ষাট বছর ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছি। এই মেলা উপলক্ষে পার্শ্ববর্তী সখিপুর, মিজার্পুর, ভালুকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বী ছাড়াও বিভিন্ন ধর্মের কয়েক হাজার লোকজনের সমাগম হয়। ভোর স্নানের মাধ্যমে শুরু করে দিনব্যাপী এই মেলা চলে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় জমির আইল ধরে পায়ে হেঁটে এই মেলায় আসতে হয় দর্শনার্থীদের। যাতায়াতের রাস্তা না থাকায় গতবছর অনেক পূর্ণার্থী গঙ্গাস্নানে আসতে পারেনি।
কাঞ্চনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামীম আল মামুন জানান, শুনতে পেরেছি ডুবের মেলা যুগ যুগ ধরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ, জমির আইল ধরে দর্শনার্থীরা যাতায়াত করছে। চেষ্টা করছি এবছর নিজ উদ্যোগে বা প্রকল্পের মাধ্যমে এই রাস্তা করে দেবো।
একতার কণ্ঠঃ দল থেকে অব্যহতি প্রাপ্ত টাঙ্গাইলের তিন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাবেক একজন চেয়ারম্যানকে ক্ষমা ঘোষনা করেছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ।
বুধবার (২৫ জানুয়ারি) রাতে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের স্বাক্ষরিত পৃথক চিঠিতে তাদের ক্ষমার বিষয়টি জানানো হয়। ভবিষ্যতে দলের স্বার্থ পরিপন্থি ও শৃংখলা ভঙ্গ না করার শর্তে তারা এ ক্ষমা পেয়েছেন।
ক্ষমাপ্রাপ্তরা হলেন- জেলা আওয়ামী আওয়ামী লীগের সাবেক উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং দেলদুয়ার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান মারুফ, কালিহাতী উপজেলার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনছার আলী বিকম, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম এবং বাসাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী অলিদ ইসলাম।
জানা যায়, ২০১৯ সালের ৩১ মার্চ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়াম্যান পদে প্রতিদ্বন্দিতা করেন তারা। দুএকজনকে স্থানীয় সংসদ সদস্য সরাসরি মদদ ও সহয়োগিতা করেন। এরমধ্যে অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম ছাড়া অপর তিন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতাপুর্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীকে পরাজিত করে তারা বিজয়ী হন। এঘটনায় দলের মধ্যে তৈরী হয় ব্যাপক গ্রুপিং এবং অন্তদ্বন্দ। বিরোধ ছড়িয়ে পড়ে উপজেলা থেকে ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে। স্থানীয় আওয়ামী লীগের মূলস্রোতে ধাক্কা লাগে। ফলে তাদেরকে দল থেকে বহিস্কারের দাবি উঠে। পরবর্তীতে ২০২১ সালের ফেব্রয়ারীতে জেলা আওয়ামী লীগের সভায় ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এমপি, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কৃষিমন্ত্রী মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দে সিদ্ধান্তক্রমে দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে শৃংখলা ভঙ্গ করায় ওই চারজনকে দলের সকল পদ ও দলীয় কাযক্রম থেকে অব্যহতি দেওয়া হয়।
ক্ষমাপ্রাপ্তির চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে আওয়ামী লীগের স্বার্থ আদর্শ শৃংখলা, তথা গঠনতন্ত্র ও ঘোষনাপত্র পরিপন্থি সমপৃক্ততার জন্য ইতিপুর্বে ওই চারজনকে দল থেকে অব্যহতি দেওয়া হয়েছিল। তারা ক্ষমা চেয়ে আবেদন করেছন। দোষ স্বীকার করে তারা ভবিষ্যতে এ ধরণের কর্মকান্ডে আর যুক্ত না হওয়ার লিখিত অঙ্গিকার করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সিদ্ধান্ত অনুসারে তাদের ক্ষমা করা হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে এ ধরণের সংগঠন রিরোধী কর্মকান্ডে লিপ্ত হলে তা ক্ষমার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে।
দেলদুয়ার উপজেলা পরিসদের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান মারুফ জানান, ছাত্রলীগের মধ্য দিয়ে আমার রাজনৈতিক হাতেখড়ি। প্রাণের সংগঠন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি থেকে জেলা আওয়ামী লীগে স্থান পেয়েছিলাম। সারাজীবন বঙ্গবন্ধুর আদর্শে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে রাজনীতি করে যেতে চাই। দলের আদর্শ নীতি মেনেই ভবিষ্যতে পথ চলবো। আমাকে ক্ষমা করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।
কাজী অলিদ ইসলাম জানান, ক্ষমা চেয়ে দলের কাছে আবেদন করেছিলাম। অব্যাহতি প্রত্যাহার করে ক্ষমা করেছে। আমি কৃতজ্ঞ ও খুশি।
অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম জানান, সারাজীবন দলের জন্য কাজ করেছি। গত উপজেলা নির্বাচনে কর্মীদের অনুরোধ আর আমার আবেগে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আমি অনুতপ্ত। শেখ হাসিনা উন্নয়নের ধারা অব্যাহত ও দলীয় শৃংখলা বজায় রাখতে আর কখনো দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যাবো না।
ক্ষমাপ্রাপ্তদের অনুসারিরা বিষয়টিকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন। তবে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকার অনুরোধ করেছেন। যাতে তারা ভবিষতে আর কোন ধরনের বিশৃংখলা ঘটানোর সাহস না পায়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার গিলাবাড়ি গ্রামের যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি শফিকুল ইসলাম পাকুল ওরফে আগুন পাগলাকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
বাসাইল থানার একটি মামলায় ৩৩ বছর পলাতক থাকার পর শুক্রবার(৬ জানুয়ারি) পূর্বরাতে নারায়নগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলার সিদ্ধিরগঞ্জ পুল এলাকা থেকে তাকে র্যাবের একটি চৌকশ দল গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃত শফিকুল ইসলাম পাকুল ওরফে আগুন পাগলা বাসাইল উপজেলার গিলাবাড়ি গ্রামের মুকছেদ আলীর ছেলে।
শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) দুপুরে র্যাব-১৪ এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ১৯৮৪ সালে বাসাইল থানার একটি চাঞ্চল্যকর ডাকাতি মামলায়(নং-৪, তাং-২৯/০৯/১৯৮৪ইং, ধারা-দ.বি. ৩৯৫/৩৯৭) ১৯৮৯ সালে আদালত কর্তৃক যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হয়ে শফিকুল ইসলাম পাকুল ওরফে আগুন পাগলা ফেরারী হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা নামে বসবাস করতে থাকেন।
এক পর্যায়ে এনআইডি পরিবর্তন করে মিথ্যা নাম-পরিচয়ে ৩২৯৮৭০০১৪১ নং জাতীয় পরিচয়পত্র(গ্রাম-দেলুটিয়া, ডাকঘর-ভাবনদত্ত-১৯৭০, থানা-ঘাটাইল, জেলা-টাঙ্গাইল) বহন করা শুরু করেন। তিনি বিভিন্ন মাজারে নিজেকে ‘আগুন পাগলা’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে ভক্তিমূলক গানে নিয়মিত অংশ গ্রহন করতেন।
র্যাব-১৪ জানায়, সিপিসি-৩ টাঙ্গাইল ক্যাম্পের সিনিয়র সহকারী পরিচালক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিউদ্দীন মোহাম্মদ যোবায়েরের নেতৃত্বে র্যাবের একটি চৌকশ দল তথ্যপ্রযুক্তি ও ব্যাপক গোয়েন্দা তৎপরতা চালিয়ে নারায়নগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জপুল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।
প্রথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শফিকুল ইসলাম পাকুল ওরফে আগুন পাগলা স্বীয় অপরাধ স্বীকার করেছে। পরে তাকে বাসাইল থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে গোসল করার কথা বলে পাঁচ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে রাজ্জাক খান(৪০) নামে এক ধর্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১৫ ডিসেম্বর) রাত ৮ টায় ধর্ষিত শিশুর মা বাসাইল থানায় অভিযোগ করেন।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে ১ ঘন্টার মধ্যে ধর্ষক রাজ্জাক খানকে বাসাইল উপজেলার কাশিল ইউনিয়নের কাশিল পশ্চিম পাড়া নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত রাজ্জাক খান উপজেলার কাশিল ইউনিয়নের কাশিল পশ্চিম পাড়া গ্রামের মৃত হযরত খানের ছেলে। পেশায় সে অটোচালক।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে পাঁচ বছর বয়সী ওই শিশুকে গোসল করার কথা বলে তার মার কাছ থেকে নিয়ে যায় রাজ্জাক। ঘরের দরজা বন্ধ করে শিশুটিকে ধর্ষণ করে। শিশুটি কান্না করলে ধর্ষক শিশুটিকে ঘর থেকে বের করে দেয়।পরে শিশুটি তার মার কাছে এসে সব বলে দেয়। শিশুটির মা জানার পর বাসাইল থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগ করার ১ ঘন্টার মধ্যে অভিযুক্ত ধর্ষককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শিশুটি বর্তমানে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এ ব্যাপারে কাশিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রমজান আলী জানান, ধর্ষণের ঘটনার বিষয়টি শুনেছি।
বাসাইল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবু হানিফ সরকার জানান, অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই অভিযান চালিয়ে ধর্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাজ্জাক খান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।শিশুটির মা বাদী হয়ে বাসাইল থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে উপজেরার বয়ড়া গ্রামের মো. হাসেম মিয়াকে আসামি করে টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুলালে মামলা করেন। আর এর পর থেকেই আসামি পক্ষের লোকজন তাকে প্রতিনিয়ত হুমকি দিতে শুরু করেছে।
এদিকে মামলার পরপরই বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) রাতে অভিযুক্ত হাসেমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী গৃহবধূকে হাসেম মিয়া বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দিতেন। বিষয়টি গৃহবধূ তার স্বামীকে জানান। আর এ ঘটনায় হাসেম আরও উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। গত ১৬ আগস্ট ভুক্তভোগীর স্বামী বাড়ি থেকে বাইরে যাওয়ার পরপরই হাসেম ঘরে প্রবেশ করে ওই গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এসময় চিৎকারে করলে হাসেম গৃহবধূর মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যান। পরে প্রতিবেশিরা আহত অবস্থায় ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। গত ২২ সেপ্টেম্বর গৃহবধূ বাদী হয়ে হাসেম মিয়াকে আসামি করে টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন।
ভুক্তভোগী গৃহবধূ ও তার স্বামী বলেন, মামলা করে চরম বিপাকে পড়েছি। আমরা গরিব ও অসহায় হওয়ায় আসামির স্বজনরা আমাদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য। সাক্ষীদেরকেও নানা ভয় দেখানো হচ্ছে। মামলাটি ভিন্নখাতে নিতে আমাদের এবং সাক্ষীদের নামে আদালতে মিথ্যা অভিযোগও দায়ের করেছেন অভিযুক্তের স্বজনরা।
তারা আরও জানান, আসামি প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয়ভাবে মীমাংসার জন্য চেষ্টা করি। ব্যর্থ হয়ে বাসাইল থানায় মামলা করতে যাই। কিন্তু থানা মামলা নেয়নি। তাই বাধ্য হয়ে আদালতে মামলা করেছি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য রউফ মিয়া বলেন, বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও আসামি পক্ষ পরবর্তীতে আমাদের কাছে আর আসেনি।
থানায় মামলা না নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমার থানায় মামলা করতে কেউ আসেননি। পরে আদালত থেকে একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আসে। এরপর আমরা আসামি হাসেমকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়ে দেই।’
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার ফুলকি ইউনিয়নের আইসড়া গ্রামে সরকারি রাস্তা উদ্ধারের দাবিতে শনিবার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে এলাকাবাসী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে।
ঘণ্টাব্যাপী এই মানববন্ধনে আইসড়া ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামের ভোগান্তির শিকার পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন।
মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন ফুলকি ইউপি সদস্য লোকমান মিয়া, বাবুল সরকার, মর্জিনা বেগম, সাবেক ইউপি সদস্য মির্জা আব্দুল খালেক,
নিজামুদ্দিন, ফুলকি ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি মজনু মিয়া ও সমাজকর্মী কাইয়ুম সরকার প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, অর্ধশত বছরের পুরানো রাস্তাটি ইতোপূর্বে সরকারি বরাদ্দে সংস্কার করা হয়। কিন্তু স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি রাস্তার দুই
পাশে পুকুর খনন ও ঘর বাড়ি বানিয়ে জবরদখল করে রেখেছেন। তারা গ্রামবাসীর অনুরোধ এবং অসুবিধার তোয়াক্কা করেন না। উল্টো ভয়ভীতি হুমকি ধমকি দেয়। অথচ ওই রাস্তা দিয়ে আইসড়া প্রতিবন্ধী স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ ও বাজারসহ বিভিন্নস্থানে প্রতিদিন হাজারো লোক যাতায়াত করে থাকেন। স্থানীয় জবরদখলকারীদের আগ্রাসনে রাস্তাটি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ফলে এলাকার মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। তারা রাস্তাটি জবরদখলমুক্ত করে ব্যবহার উপযোগী করার দাবি করছি। অন্যথায় এলাকাবাসী আরো কঠোর কর্মসূচি গ্রহন করতে বাধ্য হবেন।
এরআগে এলাকার শিশু ও নারী-পুরুষরা বিশাল বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশগ্রহন করে।
ফুলকি ইউপি চেয়ারম্যান সামছুল আলম বিজু জানান, মানুষের চলাচলের জন্য এ রাস্তাটি অতীব প্রয়োজন। কয়েকজন অসৎ লোক জনসাধারণের বহুল ব্যবহৃত পুরাতন রাস্তাটি জবরদখল করে রেখেছেন। ফলে ওই এলাকার হাজারো মানুষ চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে।এলাকাবাসীর দাবির সাথে আমি একাত্মতা প্রকাশ করছি। অনতিবিলম্বে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে জনস্বার্থে রাস্তাটি উদ্ধার করার ব্যবস্থা নিবো।
বাসাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার পাপিয়া আক্তার জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে জনদুর্ভোগ কমানোর জন্য রাস্তাটির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটে পরাজিত হয়ে বিতরণকৃত টাকা ফেরত চেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার ঘটনায় জেলায় ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
ভোট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা নিয়ে ভোট না দেওয়ায় জেলা পরিষদ নির্বাচনে হেরে যান বাসাইল উপজেলার সদস্য প্রার্থী রফিকুল ইসলাম। তবে ভোট সংগ্রহ করতে ভোটারদের টাকা বিতরণের ঘটনা জানেনা জেলা নির্বাচন অফিস। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসার পর তারা বিষয়টি জেনেছেন।
টাঙ্গাইল জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এএইচ কামরুল হাসান জানান, নির্বাচনের দুইদিন পরে একজন পরাজিত প্রার্থী টাকা ফেরত চেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন।
তিনি আরো জানান, বিষয়টি আমরা নির্বাচন কমিশনকে অবগত করি। রবিবার (২৩ অক্টোবর) নির্বাচন কমিশন ঘটনাটি তদন্তের জন্য জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ড. আতাউল গনিকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য বলেছেন। বর্তমানে বাসাইল উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্ত করছেন।
এ দিকে রফিকুল ইসলাম পরাজিত হয়ে ফেসবুকে লিখেছিলেন, জেলা পরিষদ নির্বাচন (বাসাইল) সদস্য-১১। আমরা চারজন প্রার্থী ছিলাম। ভোটার দিল ৯৪ জন। দিন শেষে জানা গেল, প্রত্যেক প্রার্থী ৫০ থেকে ৬০ জন ভোটারকে টাকা দিয়েছে।
তার মধ্যে আমাকে ৬০ জন ভোটার কথা দিলেও এর মধ্যে কম বেশি ৫৫ জন ভোটার আমার কাছ থেকে টাকা গ্রহণ করলো।
ভোট দিল মাত্র ৭ জনে। এই হলো ভোটারদের আসল চরিত্র। পৃথিবীর সব কিছুই একবার দেখলে চেনা যায়, শুরু মানুষ বাদে। আমাকে যারা ভোট দেননি মনে হয় আপনাদের নামের তালিকা হওয়ার আগে আমার টাকা ফেরত দেওয়া উচিত।
আপনারা না জনপ্রতিনিধি? ভোট আপনি যাকে খুশি তাকে দেন, এটা আপনাদের অধিকার, তাই বলে টাকা নিবেন চার জনের কাছ থেকে ভোট দিবেন একজনকে। এটা কেমন চরিত্র আপনাদের? আপনাদের কাছ থেকে আপনার এলাকার জনগণ কি সেবা পেতে পারে।
আল্লাহ তুমি আমাদের সবাইকে হেদায়েত দান করো “মানুষ হওয়ার তৌফিক দান করো”। তার এই স্ট্যাটাস মহুর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়।
যারা টাকা নিয়েছিলন সেই ভোটাররা তাদের নাম প্রকাশ না করার জন্য তাকে অনুরোধ করতে থাকেন। প্রায় বেশির ভাগ ভোটার তাদের গ্রহণহণকৃত টাকা ফেরত দিয়েছে বলে জানা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রফিকুল ইসলাম উপজেলার ফুলকি ইউপির ৮জন, হাবলা ইউপির ৫, পৌরসভার ৫, সদর ইউপির ১১, কাউলজানী ইউপির ৯, কাঞ্চনপুর ইউপির ৫ ও কাশিল ইউপির ৭ জনের প্রত্যেকজনকে ১০ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে সর্বমোট ১০ লাখ টাকা বিতরণ করেছিলেন।
এ বিষয়ে পরাজিত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম জানান, ভোটাররাই একা দেখা করার কথা বলে বিভিন্ন পরিমাণের টাকা দাবি করে আসছিলেন। তাই নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার লোভে পরে ভোটারদের মাঝে টাকা বিতরণ করেছিলাম।
তিনি আরো জানান, ভোটে হেরে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে খুব ঝামেলার মধ্যে রয়েছি। ঘটনা জানতে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সোমবার (২৪ অক্টোবর) তার অফিসে ডেকেছিলেন। যা সত্য আমি তাই বলে দিয়েছি।
এ বিষয়ে বাসাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী অলিদ ইসলাম জানান, নির্বাচন কমিশন অন্ধ। কারণ তাদের কিছুই করার ক্ষমতা নেই।
তিনি আরো জানান, জেলা পরিষদ নির্বাচনে স্থানীয় সংসদ সদস্য একজন প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্য সভা সমাবেশ করেছেন। অভিযোগ দেওয়া হলেও নির্বাচন অফিস কোন ব্যবস্থা নেয়নি। নির্বাচনে টাকার ছড়াছড়ি বহু পুরনো ব্যাপার। সে হয়ত আবেগের বশে স্ট্যাটাস দিয়েছে।
বাসাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী মতিউর রহমান গাউস জানান, রফিকুল ইসলাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক ছিলেন। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় তাকে বহিস্কার করা হয়েছে। সে এখন দলের কেউ না।
এ ব্যাপারে বাসাইল উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মনি শংকর রায় জানান, জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক এ বিষয়টি তদন্ত করার জন্য আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন।
তিনি আরো জানান, ভোটারদের সাথে কথা বলেছি। পরাজিত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম কেউ ডেকেছি। তদন্ত শেষের দিকে। বুধবার (২৬ অক্টোবর) তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কাছে পৌঁছে দিবো।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ড. আতাউল গনি জানান, যে কোন নির্বাচনে অবৈধভাবে টাকার ছড়াছড়ি হলে নির্বাচনী আইনে শাস্তির বিধান রয়েছে। ফেসবুকের মাধ্যমে জানতে পেরেছি ভোট সংগ্রহ করতে গিয়ে এক প্রার্থী ভোটারদের টাকা দিয়েছেন।
তিনি আরো জানান, ফলাফল ঘোষণার দুই দিন পর বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। তবে নির্বাচন নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলেনি বা কেউ কোন অভিযাগও করেনি। নির্বাচন কমিশন বিষয়টি জানতে পেরে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য একটি চিঠি দিয়েছেন। যেহেতু ঘটনাটি বাসাইল উপজেলার। তাই বাসাইল উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পেলেই নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলা পরিষদ নির্বাচনে বাসাইলের পরাজিত সদস্য প্রার্থী মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের বিতরণকৃত টাকা ফেরত দিচ্ছেন ভোটাররা।
বুধবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা পর্যন্ত ভোটাররা নিজ উদ্যোগে ভোটের আগে গ্রহনকৃত টাকা ফেরত দিতে শুরু করেন।
বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) সকাল পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ টাকা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম সংগ্রাম ফেরত পেয়েছেন। তিনি বাসাইল সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক।
মঙ্গলবার (১৮ অক্টোবর) সকালে ভোটের আগে বিতরণকৃত টাকা ফেরত চেয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন। মূহুর্তের মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে তা ভাইরাল হয়। পরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার ও প্রকাশ হয়। এরপর থেকে পরাজিত ওই প্রার্থীকে টাকা গ্রহনকারী ভোটাররা (জনপ্রতিনিধি) নেওয়া টাকা ফেরত দিয়ে তাদের নাম প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ করেন।
জানা যায়, টাঙ্গাইল জেলা পরিষদ নির্বাচনে ১১ নং ওয়ার্ড (বাসাইল) সদস্য পদপ্রার্থী মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম ভোটের আগে তাকে ভোট দেওয়ার জন্য উপজেলার ফুলকি ইউপির ৮ জন, হাবলা ইউপির ৫, পৌরসভার ৫, সদর ইউপির ১১, কাউলজানী ইউপির ৯, কাঞ্চনপুর ইউপির ৫ ও কাশিল ইউপির ৭ জনপ্রতিনিধিকে টাকা প্রদান করেন।
ওই পরাজিত প্রার্থী প্রত্যেক ভোটারকে (জনপ্রতিনিধি) ১০ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে মোট ১০ লাখ টাকা বিতরণ করেন। তাদের মধ্যে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার ও প্রকাশ হওয়ার পর বুধবার(১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় হাবলা, সদর, কাঞ্চনপুর, কাউলজানী ও ফুলকি ইউপির অন্তত ৭ জন ভোটার দুই লাখ টাকা ফেরত দিয়েছেন। আগামী দুই দিনের মধ্যে সকল ভোটাররা টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারা নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন।
পরাজিত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম ভোটের আগে কেন টাকা বিতরণ করেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে জানান, ভোটাররাই একা দেখা করার কথা বলে বিভিন্ন অংকের টাকা দাবি করেছিলেন। নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার জন্য তাই তিনি ভোটারদের মাঝে টাকা বিতরণ করেছিলেন। তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ ও প্রচার হওয়ার পর পর সকলেই নেওয়া টাকা ফেরত দিচ্ছেন।
এ বিষয়ে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ডক্টর উমর ফারুক জানান, নির্বাচনে ভোট কেনা জঘন্য অপরাধ। এটা অন্যের অধিকার টাকা দিয়ে হরণ করা। একজন মানুষের মানবিক সত্ত্বাকে হরণ করার সামিল। এক সময় যারা ভোট কিনতেন বা বিক্রি করতেন তারা এটা নিয়ে লজ্জাবোধ করতেন। এখন ওই মূল্য বোধগুলো অনেকটা নষ্ট হয়ে গেছে। ভোট কেনা-বেচায় আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় নির্বাচন কেন্দ্রীক এমন অপরাধের প্রবণতা বাড়ছে।
প্রসঙ্গত, টাঙ্গাইল জেলা পরিষদ নির্বাচনে ১১ নং ওয়ার্ড (বাসাইল) মোট ভোটার ৯৪ জন। ১৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে ৩ প্রার্থীরই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। ওই সদস্য পদে মো. নাছির খান ৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মোহাম্মদ হোসাইন খান পেয়েছেন ২১ ভোট, মিজানুর রহমান খান পেয়েছেন ১১ ভোট, মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম পেয়েছেন ৭ ভোট ও আতিকুর রহমান কোন ভোটই পাননি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলা পরিষদ নির্বাচনে ১১ নম্বর ওয়ার্ডে সদস্য পদে ভোট কিনেও হেরেছেন রফিকুল ইসলাম সংগ্রাম নামে এক আওয়ামী লীগ নেতা। নির্বাচনে ভোট না দেওয়া জনপ্রতিনিধিদের কাছে টাকা ফেরত চেয়েছেন তিনি। এমনকি, ভবিষ্যতে আর কোনও নির্বাচনে না দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন এই প্রার্থী।
মঙ্গলবার (১৮ অক্টোবর) নিজের ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে টাকা ফেরতের আহ্বান জানান তিনি। পরে নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পোস্টটি সরিয়ে নেন। রফিকুল ইসলাম সংগ্রাম বাসাইল সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক।
রফিকুল ইসলাম সংগ্রাম ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘জেলা পরিষদ নির্বাচনে ১১ নম্বর ওয়ার্ডে আমরা চার জন প্রার্থী ছিলাম। ভোটার ছিলেন ৯৪ জন। দিন শেষে জানা গেলো, প্রত্যেক প্রার্থী ৫০-৬০ জন ভোটারকে টাকা দিয়েছেন। এর মধ্যে আমাকে ৬০ জন ভোটার কথা দিলেও ৫৫ জন আমার কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। ভোট দিলেন মাত্র সাত জন। এই হলো ভোটারদের আসল চরিত্র। পৃথিবীর সবকিছু একবার দেখলে চেনা যায়, শুধু মানুষ বাদে। আমাকে যারা ভোট দেননি মনে হয় আপনাদের নামের তালিকা হওয়ার আগে টাকা ফেরত দেওয়া উচিত। আপনারা না জনপ্রতিনিধি। ভোট আপনি যাকে খুশি তাকে দেন, এটা আপনার অধিকার। তাই বলে টাকা নেবেন চার জনের কাছ থেকে, ভোট দেবেন একজনকে। এটা কেমন চরিত্র আপনাদের? আপনাদের কাছ থেকে জনগণ কি সেবা পেতে পারে?’

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টাঙ্গাইল জেলা পরিষদ নির্বাচনে টাকার ছড়াছড়ি ছিল। অনেক ভোটার একাধিক প্রার্থীর কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। টাকা নেওয়ার বিষয়টি এখন সর্বমহলে শোনা যাচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রফিকুল ইসলাম সংগ্রাম বলেন, ‘প্রত্যেক প্রার্থী ৫০-৬০ জন ভোটারকে টাকা দিয়ে ভোট কিনেছেন। একজন ভোটারকে সর্বনিম্ন ২০ হাজার করে টাকা দিতে হয়েছে। আবার অনেক ভোটারকে ৪০-৫০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। আমাকেও কিনতে হয়েছে টাকা দিয়ে ভোট। হয়তো সম্পর্কের কারণে আমার কম টাকা লেগেছে। তবে সর্বনিম্ন ২০ হাজারের নিচে কেউ টাকা নেননি। একজন ভোটার আমার সামনে খাম খুলে টাকা গুনে নিয়েছেন। টাকা কম থাকায় আরও পাঁচ হাজার টাকা চেয়ে নিয়েছেন। একজন ভোটার চার বার বিক্রি হয়েছেন। এমন হলে নির্বাচন কীভাবে করবো। তবে ভবিষ্যতে আর কোনও নির্বাচনে দাঁড়াবো না।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ভোটার বলেন, ‘প্রত্যেক ভোটার টাকা নিয়েছেন। আমি নিয়েছি একজনের কাছ থেকে। এ ছাড়া আরও দুজন আমাকে জোর করে টাকা দিয়েছেন। নির্বাচনে হেরে এখন টাকা ফেরত চাচ্ছেন তারা।’
বাসাইল সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহানুর রহমান সোহেল বলেন, ‘ভোটারদের টাকা দেওয়ার বিষয়টি এখন প্রার্থীরা বলছেন। এক প্রার্থী টাকা ফেরত চেয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। অবশ্য পরে তিনি সেটি ডিলিট করে দিয়েছেন। তারা কেন ভোট কিনলেন বুঝলাম না।’
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মনি শংকর রায় বলেন, ‘নির্বাচনের আগে কেউ টাকা লেনদেনের বিষয়ে অভিযোগ করেনি। এখন পরাজিত হয়ে গুজব ছড়াচ্ছেন। ভোটারদের টাকা দিয়ে থাকলে তিনি এটা অন্যায় করেছেন।’
এ বিষয়ে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. উমর ফারুক বলেন, ভোট কেনা জঘন্য অপরাধ। এটা অন্যের অধিকার টাকা দিয়ে কিনে নেওয়া। একজন মানুষের মানবিক সত্ত্বাকে হরণ করার অপরাধ। সাময়িক রাজনৈতিক অবস্থা যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, এটি নীতি-নৈতিকতা মানবিক বর্জিত ও মানবিক বিসর্জিত। যার ফলে এখন এই বিষয়গুলো প্রকাশ্যেই ঘটে। এক সময় যারা ভোট কিনতো বা বিক্রি করতো- তারা এটাতে লজ্জাবোধ করতো। এখন ওই মূল্যবোধগুলো অবক্ষয় বা নষ্ট হয়ে গেছে। এটা একটা স্বাভাবিক সহনশীল মাত্রায় এটা মানুষ বিবেচনা করছে। এতে একজন ব্যক্তি তার আত্মমর্যাদা এবং সামাজিক মূল্যবোধ মানুষ এখন আর বুঝতে পারে না। ভোট কেনা-বেচায় আইনের যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে। যারা রাজনৈতিক ব্যক্তি বা ভোটদাতা রয়েছেন- তাদের মানবিক, সামাজিক ও নৈতিকভাবে সচেতন এবং সতর্ক হতে হবে। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শক্তিশালীভাবে আইনের যে প্রয়োগ, সেটা করতে হবে। এটার ব্যাপারে আইন আছে। তবে আইনের প্রয়োগটা সেই অর্থে ব্যবহার হয় না। নিয়মিত নজরদারির পাশাপাশি যদি দৃষ্টান্ত স্থাপন করা যায়, তাহলে মানুষ এটা থেকে বিরত থাকবে।
উল্লেখ্য, টাঙ্গাইল জেলা পরিষদ নির্বাচনে ১১ নম্বর ওয়ার্ডে (বাসাইল) সদস্য পদে সোমবার (১৭ অক্টোবর) বাসাইল উপজেলা হলরুমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নাছির খান টিউবওয়েল প্রতীকে ৫৫ ভোট পেয়ে সদস্য পদে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অটোরিকশা প্রতীকের প্রার্থী হোসাইন খান সবুজ পান ২১ ভোট। এছাড়া উটপাখি প্রতীকের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম সংগ্রাম সাত ভোট, মিজানুর রহমান খান হাতি প্রতীকে ১১ ভোট ও আতিকুর রহমান তালা প্রতীকে কোনও ভোট পাননি। সংরক্ষিত ৪ নম্বর ওয়ার্ডে নারী সদস্য পদে দোয়াত-কলম প্রতীকে খালেদা সিদ্দিকী পান ৪১ ভোট, ফুটবল প্রতীকের প্রার্থী রওশন আরা আক্তার রিতা ২১ ভোট ও হরিণ প্রতীকের প্রার্থী রুমা খান পান ৩১ ভোট।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে মোটরসাইকেল দূর্ঘটনার তিনদিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সখীপুরের আবদুর রাজ্জাক (৪২) নামের এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার ( ৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬ টায় সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
নিহত রাজ্জাক সখীপুর উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের লাঙ্গুলিয়া গ্রামের মৃত আজিজুল হকের ছেলে। সে লাঙ্গুলিয়া বাজারে ফটোকপির ব্যবসা করতেন।
জানা যায়, গত ৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় মোটরসাইকেল যোগে টাঙ্গাইল থেকে বাড়ি ফেরার পথে বাসাইল বাসষ্ট্যান্ড পৌছলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে রাজ্জাক গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা প্রথমে তাকে উদ্ধার করে বাসাইল উপজেলা স্বাস্থকমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ওই রাতেই টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তার অবস্থার আরো অবনতি ঘটলে তাকে সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি কর হয়। তিনদিন পর ৮ অক্টোবর শনিবার সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়।
নিহতের পরিবার জানায়, রাতে লাশ আসলে রবিবার (৯ অক্টোবর) জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
তার অকাল মৃত্যুতে পরিবার,ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে চাচাকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ভাতিজাদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার হাবলা ইউনিয়নের নাহালী দক্ষিণ পাড়া থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত আনোয়ার হোসেন (৭০) উপজেলার হাবলা ইউনিয়নের ওই গ্রামের মৃত মুহাম্মদ মিয়ার ছেলে।
নিহতের মেয়ে আনোয়ারা জানান, চাচাতো ভাইদের সাথে জমি নিয়ে এক বছরের বেশি সময় ধরে বিরোধ চলছে। গ্রামের মাতাব্বর, মেম্বাররা বসে বিষয়টি মীমাংসা করেন। বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) থেকে আব্বাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলনা। তখন সবাই মিলে খোঁজাখুজি শুরু করি। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে নয় টার দিকে গ্রামের কোচিং সেন্টারের পিছনে কলা গাছে সাদা কিছু দেখতে পাই। কাছে গিয়ে আমরা বাবার লাশ শনাক্ত করি। এটি পরিকল্পিত হত্যাকা-, আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে। লাশ ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। অভিযুক্তদের ধরতে পুলিশ চেষ্টা করছে।
তিনি আরো জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, জমি নিয়ে শরিকদের সাথে বিরোধ চলছিল। এর জেরেই এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।