একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলায় মহিলা চোর চক্রের চার সদস্যকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) বিকালে তাদের বাসাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন, আনজু বেগম (২৯), অনিতা (২০), আকলিমা (১৮), মনিকা (১৮)।আটককৃত সকলেই জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার হারগীললা গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ সূত্রে জানাযায়, বাসাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কয়েকজন মহিলার স্বর্ণালংকার, টাকা-পয়সা ও মোবাইল ফোন খোয়া যায়। অপরিচিত চার-পাঁচ জন মহিলার চলাফেরা স্থানীয়দের কাছে সন্দেহজনক মনে হলে তাদেরকে আটক করে তারা। এ সময় ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে চুরির সাথে সম্পৃত্তের কথা স্বীকার করে আটককৃত মহিলারা। পরে থানায় খবর দিলে পুলিশ গিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে ।
এ প্রসঙ্গে বাসাইল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুনুর রশিদ জানান, গ্রেপ্তারকৃত প্রত্যেকেই পেশাদার চোর। তারা একটি চোর চক্রের সাথে জড়িত। এই চক্রটি হাসপাতাল, বাজার, বাসস্ট্যান্ড এবং জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে চুরি করে থাকে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্ততি চলছে।
একতার কণ্ঠঃ দুইটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনে গোলযোগ সৃষ্টির অভিযোগ টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমান গাউসকে তাঁর পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।সেই সঙ্গে দলের প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদককে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের যৌথ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) মতিয়ার রহমানকে অব্যাহতির কথা জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার স্বাক্ষরিত এই চিঠি মতিয়ার রহমানের কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে মতিয়ার রহমান বুধবার দুপুরে জানিয়েছেন তিনি এখনো চিঠি হাতে পাননি। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চিঠির কপি দেখেছেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান এবং সাধারণ সম্পাদক সাংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, ২১ সেপ্টেম্বর মতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে বাসাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শামছুল আলম জেলা নেতাদের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। সেখানে মতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে দুইটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনে গোলযোগ সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়। এ বিষয়ে গত রোববার (২৬ সেপ্টেম্বর) টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় বিষয়টি উত্থাপন করা হয়। এ নিয়ে আলোচনা পর্যালোচনার পর ‘নেতাদের নীতিগত সিদ্ধান্তে’ মতিয়ার রহমান গাউসকে সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করার সিদ্ধান্ত হয়।
মতিয়ার রহমান জানান, তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া সম্পূর্ণ অগঠনতান্ত্রিক। তিনি কেন্দ্রীয় নেতাদের বিষয়টি লিখিতভাবে জানাবেন বলেও জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মতিয়ার রহমান গাউস চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন। কিন্তু উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি কাজী অলিদ ইসলাম বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। কাজী অলিদকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে শামছুল আলকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়।
একতার কণ্ঠঃ বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে মৃত্যু ঘটানোর দায়ে টাঙ্গাইলে এক বাসচালকের চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার ( ২৮ সেপ্টেম্বর) বিকালে টাঙ্গাইলের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাউদ হাসান এই রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত ওই ব্যক্তির নাম রাশেদুল ইসলাম। সে জামালপুর সদর উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামের মৃত জয়নাল আবেদিনের ছেলে। একই অপরাধে তাঁকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ৯ মাস কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সরকারি কৌসুঁলি (পিপি) এস আকবর খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালের ১ আগস্ট বিকেলে রাশেদুল তাঁর বাস চালিয়ে জামালপুরের তারাকান্দি থেকে ঢাকা যাচ্ছিলেন। এ সময় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বাসাইল উপজেলার গুল্লা এলাকায় একটি যাত্রীবাহি মাইক্রোবাসের সঙ্গে বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে একজন ও হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও তিনজনের মৃত্যু হয়।
পরে বাসাইল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুস সাত্তার বাদী হয়ে রাশেদুলের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। তদন্ত শেষে আবদুস সাত্তার ২০০৯ সালের ১৬ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এতে চালকের বিরুদ্ধে বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে মৃত্যু ঘটানো এবং গুরুতর জখম ও গাড়ির ক্ষতিসাধনের অভিযোগ আনা হয়।
পিপি এস আকবর খান জানান, মৃত্যু ঘটানোর দায়ে আদালত বাসচালককে ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন। এ ছাড়া গাড়ির ক্ষতিসাধনের অভিযোগে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। এই রায়ের সাজা পর্যায়ক্রমে কার্যকর করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, রায় ঘোষণার সময় বাসচালক রাশেদুল আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর তাঁকে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য অফিসের যৌথ উদ্যোগে সোমবার(২০ সেপ্টেম্বর) দিনভর কাশিল ও ফুলকী ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ চায়না জাল জব্দ করেছে। পরে জব্দকৃত নিষিদ্ধ চায়না জালগুলো পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
বাসাইল উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৌরভ কুমার দে জানান, উপজেলার কাশিল ও ফুলকী ইউনিয়নের বিভিন্ন জলাশয়ে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের চায়না জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
এ সময় উপজেলা মৎস্য অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
একতার কন্ঠঃ টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনের সাবেক সাংসদ ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তিনি বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় দলটির যুগ্ম-সম্পাদক প্রিন্সিপাল ইকবাল সিদ্দিকী এ তথ্য জানান।
ইকবাল সিদ্দিকী বলেন, গত মঙ্গলবার পেটে ব্যথা শুরু হলে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দকী বীরউত্তমকে অধ্যাপক এমএস আরাফাতের তত্ত্বাবধানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করা হয়। তাঁর আল্ট্রাসনোগ্রাম করার পর গল-ব্লাডারে পাথর ধরা পড়ে। বর্তমানে তিনি জেনারেল সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক এএইচএম তৌহিদুল আলমের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন আছেন। তিনি সুস্থতার জন্য সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন।
এ বিষয়ে যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক হাবিবুন্নবী সোহেল মুঠো ফোনে বলেন, বঙ্গবীরের চিকিৎসা নিয়ে আগামীকাল(বৃহস্পতিবার) মেডিকেল বোর্ড বসার কথা রয়েছে। সেখানেই তাঁর অস্ত্রোপচারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বর্তমানে তিনি মোটামুটি সুস্থ রয়েছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে ভিমরুলের আক্রমণে নাজমুল হোসেন নামের (৩৭) এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী যুবকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউপি’র পূর্বপাড়া এলাকায় ভিমরুলের আক্রমণের শিকার হন তিনি। নাজমুল উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়ার মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে।
নাজমুলের ভগ্নিপতি হারুনুর রশিদ জানায়, শুক্রবার বিকেল সারে ৫টার দিকে ভাগ্নির বিয়ের বাবুর্চিদের নৌকাযোগে পারাপার করতে যান নাজমুল। নৌকা নিয়ে ফেরার পথে মাথার উপর থাকা ভিমরুলের বাসায় নাজমুলের হাতে থাকা লগি’র আঘাত লেগে ভিমরুলের বাসা ভেঙ্গে যায়। এসময় ক্ষিপ্ত ভিমরুলের ঝাঁক নাজমুলের শরীরের হুল ফোটাতে শুরু করলে তার চিৎকারে পার্শ্ববর্তী লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
নাজমুলের বোন নাসরিন আক্তার জানায়, সন্ধ্যায় বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে চিকিৎসা দেন । অবস্থার কোন উন্নতি না হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় তাকে। পরে আনুমানিক রাত ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
এ ব্যাপারে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ আব্দুল্লাহ্ আল আরিফ বলেন, ভিমরুলের শতাধিক হুল ফোটানোর কারণে তার অবস্থা অত্যাধিক খারাপ হয়ে যায় এবং এর বিষক্রিয়ায় তার মৃত্যু হয়।।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলার মধ্যে ৭টি উপজেলায় বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। অভ্যন্তরীণ নদীগুলোতে পানি ক্রমাগত বৃদ্ধির ফলে নিম্নাঞ্চলের কাঁচা-পাকা রাস্তা ভেঙে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। বাড়ি-ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় অনেকে পাহাড়িয়া এলাকায় আত্মীয়ের বাড়ি ও উঁচু সড়কের পাশে আশ্রয় নিয়েছে। বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। অধিকাংশ এলাকায় পানীয় জল ও শুকনো খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে। বন্যার্তদের জন্য জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় মাত্র ৪০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দিয়েছে।
সরেজমিনে জানা যায়, জেলার ভূঞাপুর উপজেলার চারটি ইউনিয়ন, কালিহাতী উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের ৭টি, নাগরপুর উপজেলার ৯টি, বাসাইল পৌরসভা সহ সবকটি(৬টি) ইউনিয়ন, মির্জাপুর ৪টি ও দেলদুয়ার উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের দুই শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়ে খাল, বিল, নদী ও বাড়ির আঙিনা পানিতে থই থই করছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।
বন্যার পানি বাড়ার সাথে সাথে ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ টাঙ্গাইল শহর রক্ষা বাঁধের উত্তর-পূর্বাংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। পাছ বেথইর এলাকায় বাঁধের ১০০মিটারে ভাঙনের কবলে পড়ে ঝুঁকিতে রয়েছে। ওই এলাকা দিয়ে পানি প্রবেশ করলে টাঙ্গাইল শহরে পানি ঢুকে পড়বে। এছাড়া যমুনায় ভূঞাপুর, কালিহাতী, টাঙ্গাইল সদর ও নাগরপুর অংশে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে।
বন্যার পানিতে টাঙ্গাইল-পটলবাজার, টাঙ্গাইল-কাকুয়া, এলেঙ্গা-মগড়া, ভূঞাপুরের গোবিন্দাসী বাজার থেকে ভালকুটিয়া পর্যন্ত পাকা সড়ক, বাসাইল পৌরসভার একটি ব্রিজ ও কাঞ্চনপুরের গ্রোথ সেণ্টার-কাজিরাপাড়া সড়কে কালভার্ট প্রবল স্রোতে ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এসব এলাকার কাঁচা-পাকা সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভেঙে গ্রামীণ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ওইসব এলাকায় এখনও লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, জেলায় এবার ৮৯ হাজার হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের চাষ করা হয়। এরমধ্যে ৭৯০ হেক্টর জমির ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।
এদিকে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি স্থিতিশীল থাকলেও ধলেশ্বরী, ঝিনাই সহ অভ্যন্তরীণ সব নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমার ৬৭ সেণ্টিমিটার, ধলেশ্বরী নদীর পানি বিপৎসীমার ৭৮ সেণ্টিমিটার ও ঝিনাই নদীর পানি বিপৎসীমার ৯২ সেণ্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
জেলা ত্রাণ ও পূনর্বাসন কর্মকর্তা দিলীপ কুমার সাহা জানান, জেলার ভূঞাপুর, কালিহাতী, টাঙ্গাইল সদর ও নাগরপুর এ চারটি উপজেলার বন্যা দুর্গতদের জন্য ৪০ মে.টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, বন্যার ক্ষয়ক্ষতি নিরূপনের জন্য প্রতিটি উপজেলায় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তালিকা পেলে যথাস্থানে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।
টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আহসানুল বাশার জানান, চলতি বন্যার পানি এক সপ্তাহের মধ্যে নেমে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত ৭৯০ হেক্টর জমির রোপাআমনের ৫০-৬০ ভাগ ধান রক্ষা পেতে পারে। তিনি জানান, পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে ক্ষতিগ্রস্ত জমিতে নাভি জাতের আমন রোপনের জন্য তারা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন। এছাড়া বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রণোদনার পাশাপাশি আগাম রবিশস্য চাষে সহায়তা দিয়ে তারা ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবেন।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, বন্যায় পানি বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে জেলার ৮০ কিলোমিটার নদী এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। তুলনামূলকভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। পানি কমে গেলে স্থায়ীভাবে নদী তীর সংরক্ষণে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে বর্ষার পানির প্রবল স্রোতে একটি কালভার্ট ভেঙে পড়েছে। এতে প্রায় ১০টি এলাকার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বুধবার(১ে সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার কাঞ্চনপুরের হালুয়াপাড়া গ্রোথ সেন্টার-কাজিরাপাড়া সড়কের কর্মকারপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, উপজেলার কাঞ্চনপুরের হালুয়াপাড়া গ্রোথ সেন্টার- কাজিরাপাড়া সড়কের কর্মকারপাড়া এলাকায় প্রায় ৩০ বছর আগে এলজিইডির অধিনে নির্মিত হয় একটি কালভার্ট। কালভার্টটি প্রায় এক বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। ঝুঁকিতে থাকায় এলজিইডি কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি কালভার্টটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন। পরে বুধবার ভোরে কালভার্টটি পানির প্রবল স্রোতে ভেঙে যায়। ফলে প্রায় ১০টি গ্রামের মানুষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে করে এসব এলাকার মানুষ পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।
স্থানীয় আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমার সামনেই কালভার্টটি ভেঙে পড়ে। কালভার্টটি ভেঙে ১০-১৫টি গ্রামের মানুষের যাতায়াত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এ কারণে মানুষ চরম দুর্ভোগে নৌকাতে করে পারাপার হচ্ছেন।’
কাঞ্চনপুর ইউপি চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ বলেন, কালভার্টটি প্রায় ৩০ বছর আগে নির্মাণ করা হয়। কালভার্টটি ঝুঁকিতে থাকায় কর্তৃপক্ষ পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। পরে বুধবার সকালে কালভার্টটি ভেঙে পড়েছে।’
উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সাজেদুল আলম বলেন, ‘কালভার্টটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছিল। পরে সেটি ভেঙে পড়েছে। সেখানে ২০ মিটারের একটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো আছে।’
একতার কণ্ঠঃ ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬ তম শাহাদৎ বার্ষিকী ও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদে বাসাইল সদর ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের গণভোজ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।সোমবার (৩০ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার নাইকানীবাড়ি ঈশ্বরগঞ্জ বাজারে এ গণভোজ ও আলোচনা সভা করা হয়েছে।
বাসাইল সদর ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি শরিফুল ইসলাম (সোহেল) এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,বাসাইল উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী মতিয়ার রহমান গাউস এবং প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের আহবায়ক মশিউর রহমান খান বিদ্যুৎ।
এ সময় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সিঃ সহ সভাপতি একে আজাদ খানশুর, সহ- সভাপতি সাত্তার জমাদার, রতন মিয়া, কাউলজানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান চৌধুরি হবি, আওয়ামীলীগ নেতা ইয়াসিন খান,বাসাইল এমদাদ হামিদা ডিগ্রি কলেজের সাবেক ভিপি জাজিদুর রহমান খান রোনু, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শিবলু আহমেদ, সদর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের আহবায়ক নুরুল ইসলাম সরকার প্রমুখ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট ও ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের হামলাকারীরা এক ও অভিন্ন শক্তি।
একতার কণ্ঠঃ উজানের ঢল ও ভারী বর্ষণের কারণে টাঙ্গাইলের নদ-নদীর পানি বাড়ছে। বৃহস্পতিবার(২৬ আগস্ট) সকালে যমুনা নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমার ৭ সেণ্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া জেলার ধলেশ্বরীতে ৪ সেণ্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ২৩ সেণ্টিমিটার এবং ঝিনাই নদীর পানি ৯ সেণ্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সূত্রে এ তথ্য জানাগেছে।
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড(পাউবো) জানায়, গত দুই দিন যমুনা নদীর পানি স্থিতিশীল থাকার পর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণের করণে জেলার অভ্যন্তরীণ নদীগুলোতে পানি বাড়ছে। ফলে জেলার চরাঞ্চল, নিম্নাঞ্চল ও অভ্যন্তরীণ নদী তীরবর্তী এলাকার ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি প্লাবিত হচ্ছে। নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় টাঙ্গাইল সদর উপজেলা, কালিহাতী, বাসাইল, ভূঞাপুর, মির্জাপুর, বাসাইল ও নাগরপুর উপজেলার নিচু এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। তলিয়ে গেছে ফসলি জমি। কোথাও কোথাও নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে।
টাঙ্গাইল পাউবো ও কৃষি বিভাগ জানায়, জেলার অভ্যন্তরীণ নদীগুলোতে পানি বাড়লেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে পানি বৃদ্ধির এ ধারা অব্যাহত থাকলে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, যমুনা নদীসহ জেলার সব নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে নদীর পানি নিম্নাঞ্চল প্লাবিত করছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলা গোয়েন্দা পুলিশ(ডিবি-দক্ষিণ) বাসাইল উপজেলার হাবলা ইউনিয়নের টেংগুরিয়াপাড়া গ্রামে বুধবার(২৫ আগস্ট) দুপুরে অভিযান চালিয়ে ৮০০পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সহ দুই বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছেন- ওই এলাকার মো. সাগর মিয়া(২৫) ও মো. জাকির হোসেন রিপন(৩৮)।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের(ডিবি-দক্ষিণ) অফিসার ইনচার্জ মো. দেলওয়ার হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোয়েন্দা পুলিশের এসআই মো. রাইজ উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি চৌকশ দল টেংগুরিয়াপাড়া গ্রামে অভিযান চালায়।
এ সময় ৮০০ পিস ইয়াবা সহ উল্লেখিত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হয়। জব্দকৃত ইয়াবা ট্যাবলেটের বাজার মূল্য দুই লাখ ৪০ হাজার টাকা।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে ছয়মাস বয়সী শিশু সাইমনকে ফেলে নগদ ৮ লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে ব্যাটারিচালিত অটোচালকের সঙ্গে পালিয়েছেন এক প্রবাসীর স্ত্রী।এ ঘটনায় অটোচালক মো. আতিক মিয়াকে প্রধান আসামি করে আরো চারজনের নামে মামলা দায়ের করেছেন শিশু সাইমনের বড় চাচা মো. আনোয়ার হোসেন।
আতিক উপজেলার কাশীল ইউনিয়নের কাশীল উত্তর পাড়ার আজম মিয়ার ছেলে এবং প্রবাসীর স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার একই গ্রামের দক্ষিণপাড়ার মো. শফি মিয়ার মেয়ে। দুধের শিশুকে ফেলে প্রবাসী স্বামীর মোটা অংকের টাকা নিয়ে অটোচালকের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে উপজেলার হাবলা ইউনিয়নের জিবনশ্বর উত্তর পাড়ার ঠান্ডু মিয়ার ছেলে প্রবাসী সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে সুমাইয়া আক্তারের বিয়ে হয়। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে সাদ্দাম ও সুমাইয়া দম্পতি’র ঘরে একটি পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। পূর্ব পরিচিত আতিকের অটোতে চলাচলের সুবাদে সুমাইয়ার সঙ্গে আতিকের ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে। প্রায়ই অটোচালক সুমাইয়ার বাড়িতে যাতায়াত শুরু করেন। সাইমনের জন্মের পর সাদ্দাম তার এলাকায় জমি ক্রয়ের জন্য ব্যাংকে গচ্ছিত টাকাগুলো স্ত্রী সুমাইয়ার কাছে রাখার বিষয়টি জানতে পারেন অতিক। তিনি সুমাইয়াকে বিয়ের প্রলোভন দেখান। ১৮ জুলাই আতিকের হাতধরে শিশু সাইমনকে রেখে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পালিয়ে যায় সুমাইয়া। কয়েকদিন পর সুমাইয়ার পরিবার তাকে উদ্ধার করে এবং গ্রাম্য শালিসের মাধ্যমে টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার ফিরিয়ে দেয়ার শর্তে সাদ্দামের পরিবার সুমাইয়াকে গ্রহণ করে। এরপর টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার ফেরত চাইলে আবারো তিনি আতিকের সঙ্গে পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় সাদ্দামের বড় ভাই আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুবুর রহমানের আমলী আদালতে ১৮ আগস্ট একটি মামলা দায়ের করেন।
আনোয়ার হোসেন বলেন, ৬ মাস বয়সী ভাতিজাকে ফেলে চলে যাওয়ার পর শুধুমাত্র এই দুধের শিশুর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে দ্বিতীয়বার সুমাইয়াকে মেনে নিয়েছিলাম। কিন্তু তারপরও সে চলে গেলো। সে তার গর্ভের সন্তানের কথাও ভাবলো না।
সুমাইয়ার মা হেনা বেগম বলেন, ‘ওকে আমার মেয়ে বলতে চাইনা। দুধের বাচ্চাটার কথা ভেবেওতো সে ফিরে আসতে পারতো।
বাসাইল থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) হারুনুর রশিদ জানান, পালিয়ে যাওযা বিষয়ে একটি মামলা হয়েছে এবং এটি তদন্তাধীন রয়েছে। আসামিরা পলাতক। তাদের আটক করার চেষ্টা অব্যাহত আছে।