একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ঘুমন্ত স্বামীর গোপনাঙ্গ কেটে শিশু সন্তান রেখেই পালিয়েছেন স্ত্রী জাকিয়া (২৬)।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পর সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।
বুধবার (১৭ এপ্রিল) ভোরে উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের রাউৎবাড়ী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগীর নাম ফিরোজ (২৯) সে স্থানীয় শাহজাহানের ছেলে এবং জাকিয়া পাশ্ববর্তী জিগাতলা গ্রামের জামিলের মেয়ে।
প্রতিবেশি ও স্বজনরা জানান, পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে ৬-৭ বছরের একটি শিশু ছেলে সন্তান রয়েছে তাদের। সংসার জীবনের মধ্যেই প্রায়ই এক অপরকে দোষারোপ করে বিভিন্ন সময় ঝগড়া করতো।
এনিয়ে সম্প্রতি একাধিকবার গ্রাম্য সালিশি হয়। মঙ্গলবার রাতেও তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। পরে বুধবার ভোরে ফিরোজের গোপনাঙ্গ কেটে সন্তান রেখেই জাকিয়া পালিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী ফিরোজ জানায়, ভোরে ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ করে লিঙ্গ কেটে ফেলে। পরে ডাক-চিৎকার শুনে পরিবার ও প্রতিবেশিরা এসে উদ্ধার করে এরআগে শিশু সন্তান রেখেই স্ত্রী জাকিয়া পালিয়ে যায়।
ফিরোজের মামা আরজু জানান, বিয়ের পর থেকে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। ভোরে ঘুমানো অবস্থায় ভাগিনার লিঙ্গ কেটে ফেলে তার স্ত্রী। পরে পাশের লোকজন খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে। তার স্ত্রী বাড়ি থেকে পালিয়েছে।
গোবিন্দাসী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. দুলাল হোসেন চকদার বলেন- বিষয়টি জেনেছি। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি ফিরোজকে হাসপাতালে পাঠিয়েছে স্থানীয়রা।
তিনি আরও বলেন, স্বামী-স্ত্রীর মাঝে সাংসারিক ঝামেলা চলছিল। এনিয়ে সম্প্রতি একাধিকবার দরবার-সালিশ করা হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার কাজল তালুকদার বলেন, লিঙ্গের পুরো অংশ কেটে ফেলায় প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আহসান উল্লাহ জানান, ঘটনাটি জেনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদের প্রথম ধাপে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী, মধুপুর ও গোপালপুর উপজেলায় সোমবার (১৫ এপ্রিল) মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে অনলাইনে চেয়ারম্যান পদসহ ৩৬ প্রার্থী মনোননয়পত্র দাখিল করেছেন।
জেলা নির্বাচন কমিশন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ধনবাড়ী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ছয় জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
তারা হচ্ছেন, উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হারুনার রশিদ হীরা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র খন্দকার মঞ্জুরুল ইসলাম তপন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াদুদ তালুকদার, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মেহেদী হাসান রনি, সাবেক ছাত্রনেতা মো. আজিজুল ইসলাম ও খন্দকার মঞ্জুরুল ইসলাম তপনের স্ত্রী মোর্শেদা ইসলাম।
এছাড়া এ উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে পাঁচ জন ও সংরক্ষিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে তিন জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
মধুপুর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে তিন জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
তারা হচ্ছেন, মধুপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান চেয়ারম্যান মো. ছরোয়ার আলম খান আবু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ইয়াকুব আলী ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মীর ফরহাদুল আলম মনি। এছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদে ছয় জন ও সংরক্ষিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে চার জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
গোপালপুর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে পাঁচজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
তারা হচ্ছেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল মোমেন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. খায়রুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি কেএম গিয়াস উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শামসুল আলম ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মো. আইয়ুব খান। এছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদে দুই জন ও সংরক্ষিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে দুই জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
টাঙ্গাইলের সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ মতিয়ূর রহমান জানান, দেশের ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদের প্রথম ধাপের এ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ১৭ এপ্রিল, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২২ এপ্রিল, প্রতীক বরাদ্দ ২৩ এপ্রিল এবং ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ৮ মে।
তিনি জানান, প্রথম ধাপের নির্বাচনে ১৫২টি উপজেলার মধ্যে ৯টি জেলার ২২টি উপজেলায় ইভিএমে ভোটগ্রহণ করা হবে। দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ হবে ২৩ মে, তৃতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ ২৯ মে এবং চতুর্থ ধাপের ভোট হবে ৫ জুন। এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কোনো দলীয় প্রতীক থাকছে না।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভুঞাপুরে যমুনা নদীতে মহাষ্টমীতে হাজার হাজার পুণ্যার্থীদের পদচারণায় মুখরিত স্নান ঘাট। মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) ভোর থেকে উপজেলার খানুরবাড়ি সরাতলা কালীমন্দির সংলগ্ন যমুনা নদীতে স্নান শুরু হয়। স্নান ঘাটের পাশেই মেলা শুরু হয়েছে। মেলায় বিভিন্ন ধরনের পণ্য সামগ্রীর পসরা নিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা।
পাঁপমোচন আশায় এবং দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় আগত পুণ্যার্থীরা যমুনা নদীতে স্নান করতে আসেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পুণ্যার্থীরা স্নান করতে যমুনা ঘাটে আসে। এসময় গঙ্গা পূজা অর্চনা করে ভক্তরা চৈত্রমাসের শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথিতে পুণ্যস্নান অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় অসংখ্য পুণ্যার্থী এখানে পুণ্যস্নানের জন্য আসেন।
স্নান করতে আসা পলাশ চন্দ্র সরকার বলেন, যমুনায় স্নান তীর্থস্থানে পরিণত হয়েছে। এখানে পুণ্যার্থীরা স্নান করছে তাদের মনোবাসনা পূরণের জন্য।
গঙ্গা স্নান করতে আসা গোবিন্দ সরকার বলেন, নদীর পাড়ে নতুন জলে গঙ্গা স্নান করেছি ও পূজা দিয়েছি। মহা অষ্টমীতে এখানে স্থানীয় লোকজনসহ দূর-দূরান্ত থেকে অনেক মানুষ মেলা দেখতে আসেন।
ঘাটে পূজা করা পুরোহিত পিন্টু গোস্বামী জানান, পাঁপমোচনের আশায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা যমুনা নদীতে স্নান করতে এসেছেন। বিভিন্ন জায়গা থেকে পুণ্যার্থীরা আসছে স্নান করতে। হাজার হাজার পুণ্যার্থীর ঢল নেমেছে নদীতে।
অষ্টমী স্নান উৎসব আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক অভিজিৎ ঘোষ জানান, ভোর থেকে পুণ্যার্থীরা স্নান ঘাটে এসেছেন পূজা অচর্না করতে। আগত পুণ্যার্থীদের জন্য সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। কয়েক হাজার ভক্তদের জন্য প্রসাদের ব্যবস্থা করা হয়। স্নানোৎসবে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেছেন ভক্তদের নিরাপত্তার জন্য।
ভুঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আহসান উল্ল্যাহ বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্নান ঘাটে পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। জেলা পুলিশের রিজার্ভ ফোর্স, থানা পুলিশ ও নৌ পুলিশের সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা কাজে নিয়োজিত রয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বড় মনিরকে দলীয় পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তাকে চুড়ান্ত অব্যাহতির জন্য দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের কাছে সুপারিশ করেছে শহর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।
এছাড়াও গোলাম কিবরিয়া বড় মনির জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব ও টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনিরের বড় ভাই।
ওই আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে ঢাকার তুরাগ থানায় গত ২৯ মার্চ ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা করেন এক নারী। এজন্য দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হওয়ায় তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতারা।
এরআগেও টাঙ্গাইলে এশা মির্জা নামের আরেক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের মামলা রয়েছে বড় মনিরের বিরুদ্ধে। ওই মামলায় তিনি উচ্চ আদালতে জামিনে রয়েছেন।
টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র এসএম সিরাজুল হক এবং সাধারণ সম্পাদক এম এ রৌফ স্বাক্ষরিত অব্যাহতি পত্র পাঠানো হয়েছে। দলের ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আযমের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের কাছে পাঠানো হয়েছে।
দলীয় সাধারণ সম্পাদককে দেওয়া ওই চিঠিতে বলা হয়েছে “ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের হওয়ার পর ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তার এই অনৈতিক কর্মকান্ডে দলীয় ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুন্ন হয়েছে এবং এ কারনে টাঙ্গাইলের সাধারণ জনগন দলের প্রতি বিরূপ ধারনা পোষন করছে। এমতবস্থায় টাঙ্গাইল জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের পরামর্শ ও নির্দেশক্রমে দলের বৃহত্তর স্বার্থে এবং সুনাম ও ভাবমূর্তি বজায় রাখার নিমিত্তে গোলাম কিবরিয়া বড় মনিরকে টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি প্রদান করা হলো এবং চুড়ান্ত অব্যাহতি প্রদানের জন্য আপনার নিকট সুপারিশ করা হলো।
এদিকে ঢাকায় ধর্ষণ মামলা দায়ের পর দিন থেকেই আত্মগোপনে রয়েছেন বড় মনির। জেলার কোন অনুষ্ঠানে বা দলীয় কোন কর্মকান্ডে তাকে পাওয়া যায় না।
টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ রৌফ বলেন, ঈদের আগে দলের সাধারণ সম্পাদকের কাছে গোলাম কিবরিয়াকে চুড়ান্ত অব্যাহতি প্রদানের জন্য সুপারিশ করে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে সাধারণ সম্পাদকের কোন সিদ্ধান্ত এখনো পাওয়া যায়নি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে এশিয়ান টেলিভিশনের স্থানীয় প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম শাফলুর উপর হামলা চালিয়ে মাথা ফাটিয়েছেন প্রভাবশালী এক আওয়ামী লীগ নেতা।
সোমবার (১৫ এপ্রিল) সকালে উপজেলার পৌর এলাকার উপজেলা রোডের মনির উদ্দিন কমপ্লেক্সে এই হামলার ঘটনাটি ঘটে।
এ ঘটনায় ওই আহত সাংবাদিক বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গুরুতর আহত ওই সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম শাফলু অনলাইন নিউজ পোর্টাল নিউজ টাঙ্গাইলের সম্পাদক ও দৈনিক মজলুমের কন্ঠ পত্রিকার সখীপুর প্রতিনিধি।
জানা যায়,সখীপুর পৌর এলাকার উপজেলা রোডের মনির উদ্দিন কমপ্লেক্সের একটি রুম ভাড়ার চুক্তিপত্র নিয়ে কথা কাটাকাটি এক পর্যায়ে সাংবাদিক শাফলুর মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করে ঐ কমপ্লেক্সের মালিক ও আওয়ামী লীগনেতা মনির উদ্দিন মন্টু।ঘটনাস্থলে ওই সাংবাদিক জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করান।মাথায় আঘাত পাওয়ায় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় রেফার্ড করবেন বলে জানিয়েছেন তার চিকিৎসক।
মনির উদ্দিন কমপ্লেক্সের ভাড়াটিয়া বলেন, এ ভবনের মালিক বদ মেজাজি তার আচরণ অত্যন্ত বাজে। তার বিচার হওয়া প্রয়োজন।
এই ঘটনায় অভিযুক্ত মনির উদ্দিন মন্টু ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, রুমের চুক্তিপত্র নিয়ে দ্বন্দের এক মুহূর্তে মাথায় আঘাত করে ফেলেছি।
সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)শেখ শাহিনুর রহমান বলেন, আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে পিকআপভ্যান ও সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে মা নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন ছেলে। মঙ্গলবার (০৯ এপ্রিল) বিকেলে মধুপুর উপজেলার গোলাবাড়ি নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শি ও স্থানীয়রা জানান, কাইতকাই গ্রামের মুদি ব্যবসায়ী শাহজাহানের স্ত্রী ছাহেরা (৩৫) ও তার ছেলে সোয়াইব (৬) সিএনজিচালিত অটোরিকশা যোগে ধনবাড়ী থেকে স্বামীর বাড়ি যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে কাইতকাই সামাজিক বনায়ন নার্সারির কাছে পৌঁছালে একটি পিকআপভ্যানের সঙ্গে অটোরিকশাটির মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে।
এতে তারা দুজনই গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাদের মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।
ময়মনসিংহ নেওয়ার পথে আহত ছাহেরা মারা যান। এ ঘটনায় পুলিশ পিকআপভ্যানটি আটক করলেও চালক পালিয়ে যান।
এ ব্যাপ্যারে মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে পিকআপটিভ্যানটি জব্দ করে থানায় নিয়ে আসা হয়। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল মিউজিক্যাল ব্যান্ড’স অ্যাসোসিয়েশন টামবা’র প্রয়াত সভাপতি শামিম খানের আত্মার মাগফিরাত কামনায় ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল পৌর শহরের স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টে টাঙ্গাইল মিউজিক্যাল ব্যান্ড’স অ্যাসোসিয়েশন টামবা’র উদ্যোগে এ ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক এলেন মল্লিক, টাঙ্গাইল ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফারুক হোসেন মানিক, শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ রৌফ, টাঙ্গাইল মিউজিক্যাল ব্যান্ড’স অ্যাসোসিয়েশন টামবা’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রহিন আলী, সাধারণ সম্পাদক লিমন খান, সাংস্কৃতিক কর্মী ফিরোজ বাচ্চু প্রমুখ।
একতার কণ্ঠঃ ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে প্রায় ৯ ঘণ্টা পর যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। ফলে যাত্রী ও চালকদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। পরিবহনগুলো সড়কে নির্বিঘ্নে মহাসড়কে যাতায়াত করছে।
মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) ভোর ৫টা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব টোলপ্লাজা থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত প্রায় ১৩ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে থেমে থেমে যানজট সৃষ্টি হয়। পরে তা বেড়ে ১৭ কিলোমিটারে দাঁড়ায়।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার ভোরে মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে কয়েকটি যানবাহন বিকল এবং একটি বাস দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এরপর থেকে মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে দুপুর ২টার পর থেকে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে। এরআগে যানজটের কারণে ভোগান্তিতে পড়েন ঘরমুখো মানুষ। যানজটের ফলে উত্তরবঙ্গ থেকে ছেড়ে আসা পরিবহনগুলো বঙ্গবন্ধু সেতু
পূর্ব-ভূঞাপুর-এলেঙ্গা আঞ্চলিক মহাসড়ক ব্যবহার করে।
টাঙ্গাইল ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (টিআই) রফিকুল ইসলাম সরকার জানান, মহাসড়কে গাড়ি বিকল ও একটি সড়ক দুর্ঘটনার কারণে থেমে থেমে যানজট সৃষ্টি হয়। যানজট নিরসনে বঙ্গবন্ধু সেতু উত্তরবঙ্গমুখী ওয়ানওয়ে করে দেওয়া হয়। পরে দুপুরের পর যান চলাচল স্বাভাবিক হতে থাকে। বতর্মানে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ৪৩০ বস্তা অবৈধ ভারতীয় চিনি ভর্তি দুটি ট্রাকসহ ৭ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (৬ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বাংড়া ইউনিয়নের শোলাকুড়া এলাকা থেকে তাদের আটক করে কালিহাতী থানা পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত ৭ জনের তাৎক্ষণিকভাবে নাম-ঠিকানা পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কালিহাতী থানার এসআই মিন্টু ঘোষ জানান, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট থেকে ৪৩০ বস্তা ভারতীয় চিনিসহ দুটি ট্রাক কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বাংড়া ইউনিয়নের শোলাকুড়া এলাকা থেকে ট্রাকসহ ৭ জনকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ সোমালিয়ান জলদস্যুদের হাতে জিম্মি নাবিক টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের ডাঙা গ্রামের সাব্বিরের বাড়িতে নেই ঈদের প্রস্তুতি। অপহৃত হওয়ার পর থেকেই ছেলের মুক্তির সংবাদের অপেক্ষায় সময় পার করছেন সাব্বিরের বৃদ্ধ মা-বাবা।
বাড়িতে বসে নামাজ আদায় করে তাদের সন্তানকে ফিরে পেতে আল্লাহর নিকট দোয়া করে সময় পার করছেন তারা। আর মাঝে মধ্যেই ছেলের ছবি এবং মোবাইলে কোনো সংবাদ এলো কিনা তা দেখছেন। অপেক্ষার প্রহর যেন তাদের শেষ হচ্ছেই না। তারা চান ঈদের আগেই যেন তাদের সন্তানের মুক্তি মেলে।
গতবছরও পরিবারের সাথে ঈদ পালন করেছেন সাব্বির। কিন্তু এ বছর জাহাজ ছিনতাই হওয়ার পর সাব্বিরের ভাগ্যে কী ঘটছে সেই শঙ্কায় ঈদের আনন্দ নেই তার পরিবারের মাঝে। সোমালিয়ান জলদস্যুদের হাতে ভারত মহাসাগর থেকে জিম্মি হন বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহর ২৩ জন নাবিক। এদের মধ্যে অন্যতম টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের ডাঙা ধলাপাড়া গ্রামের হারুন অর রশিদের ছেলে সাব্বির। জাহাজটি অপহরণের পর থেকে বাড়িতে বৃদ্ধ বাবা-মা ছেলের অপেক্ষায় পথের দিকে তাকিয়ে আছেন। ঈদের আগেই সরকার বা জাহাজ মালিকদের পক্ষ থেকে সু-সংবাদের অপেক্ষায় বন্দি নাবিক সাব্বিরের বাবা-মা।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, সাব্বির জেলার নাগরপুরের সহবতপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৪ সালে এসএসসি পাস করে। পরে টাঙ্গাইল শহরের কাগমারির সরকারি এম এম আলী কলেজ থেকে ২০১৬ সালে এইচএসএসসি পাস করে ভর্তি হন চট্রগ্রাম মেরিন একাডেমিতে। সেখান থেকে কৃতিত্বের সাথে পাস করে সর্বশেষ গত বছরের ২০২২ সালের জুন মাসে এমভি আব্দুল্লাহ নামক পণ্য বহনকারী একটি জাহাজে মার্চেন্ট কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন তিনি।
সাব্বিরের পরিবারের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতিবছর ছেলেই ঈদের কেনাকাটা করলেও এবার কিছুই হয়নি তাদের। ছেলের সুস্থতা আর নিরাপদে ফিরে আসার অপেক্ষা করছে তার বাবা-মা। জলদস্যুরা কথায় কথায় মাথায় বন্দুক ধরে, জাহাজে খাবার সংকট, পানি সংকটসহ এমন নানা দুশ্চিন্তায় আরও ভেঙে পড়েছেন তারা। সন্তানের ভালো সংবাদের অপেক্ষা আর শেষ হচ্ছে না তাদের।
সাব্বিরের বাবা হারুন অর রশিদ বলেন, জলদস্যুদের হাতে জিম্মি হওয়ার পর একদিন ছেলের সাথে কথা বলেছিল। তারপর আর কথা হয়নি। আমি ও আমার স্ত্রী ফোন হাতে নিয়ে বসে থাকি কখন সাব্বির কল দিয়ে বলবে ভালো আছি চিন্তা করো না তোমরা। আমার ছেলের সাথে গতবছর এক সাথে ঈদ করেছি। এবারও আশায় আছি, জানি না করতে পারবো কি না। সরকারের কাছে দাবি অতি দ্রুত আমার ছেলেসহ সবাই বাবা-মায়ের কোলে ফিরে আসুক।
সাব্বিরের মা সালেহা বেগম বলেন, গতবার আমার ছেলে আমাদের সাথে ঈদ করেছিল। এবার আমার ছেলে ঈদ করতে পারবে কি না আমাদের সাথে জানি না। এ বলেই কান্না করতে করতে বলেন, আমরা কোন কিছু চাই না আমার ছেলেকে চাই। আমরা ছেলের সাথে ঈদ করতে চাই। ছেলে বাড়ি না আসলে আমাদের আর ঈদ করা হবে না। সরকারের কাছে আবেদন ঈদের আগেই যেন আমার ছেলেসহ সবাইকে ছাড়িয়ে আনে।
সাব্বিরের বোন মিতু আক্তার বলেন, যখন তারা দস্যুদের কবলে আটক হয় তখন বলেছিল ২০ থেকে ২২ দিনের খাবার আছে। তারপর আর কথা হয়নি আমার ভাইয়ের সাথে। কেমন আছে তাও বলতে পারবো না। সারাক্ষণ চিন্তায় থাকি আমরা। সরকারের কাছে দাবি আমার ভাইকে ঈদের আগে ফিরিয়ে আনার হোক।
নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজা মো. গোলাম মাসুম প্রধান বলেন, সাব্বিরের পরিবারের সাথে খোঁজ খবর রাখছি। ঈদ উপলক্ষে তাদের বাড়িতে ঈদ উপহার পাঠানো হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে বিদ্যুতের ঘন ঘন আসা-যাওয়া ও মাত্রাতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের ফলে জনজীবনে নাভিম্বাস ওঠেছে। গ্রাম কিংবা শহরে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুতের সরবরাহ অর্ধেকে নেমে আসায় প্রচন্ড দাবদাহে সাধারণ মানুষ হাসফাঁস করছেন।
শিল্প-কারখানায় ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন। চাষের জমিতে পানি দিতে না পারায় চিন্তিত কৃষক। ব্যবসায়ীরা বেশি বিপাকে পড়েছেন। ঈদ ও বৈশাখের আগে প্রচন্ড গরম ও দিনের বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বিকিকিনিতে ধস নেমে এসেছে।
বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইল জেলায় আবাসিক ও শিল্পকারখানাসহ প্রায় ১১ লাখ গ্রাহক রয়েছে। এসব গ্রাহকের বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ২২০ থেকে ২৫০ মেগাওয়াট। চাহিদার বিপরীতে মাত্র ১৩০ থেকে ১৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলার মধ্যে টাঙ্গাইল জোনে ৭টি উপজেলা ও ময়মনসিংহ জোনে ৫টি উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে থাকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।
টাঙ্গাইল জোনের জোনাল অফিসের আওতাধীন ৬ লাখের বেশি বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছে। এবং ময়মনসিংহ জোনাল অফিসের আওতায় ৪ লাখ ২০ হাজার গ্রাহক রয়েছে। জেলার ছোট বড় ৮ শতাধিক শিল্পকারখানায়ও বিদ্যুৎ সরবরাহ করে থাকে পল্লী বিদ্যুত সমিতি। এসব শিল্পকারখায় পাঁচ লাখের বেশি শ্রমিক কাজ করে থাকেন।
এদিকে আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, টাঙ্গাইল জেলায় গত কয়েকদিন যাবত ৩৭ থেকে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। জেলায় ব্যাপক দাবদাহ বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগীরা জানায়, প্রচন্ড গরমের মধ্যে বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে মানুষের ভোগান্তি চরমে। তীব্র দাবদাহে প্রাণিকূলের অবস্থাও ওষ্ঠাগত। জমিন শীতল হওয়ার আশায় প্রকৃতির দিকে অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকছে প্রাণিকূল। ঈদকে সামনে রেখে রোজার শেষ সময়ে সেহরি ও ইফতারের সময়ও লোডশেডিং হচ্ছে যথেচ্ছ। ইফতারের সময় এরমাত্রা কিছুটা কম হলেও সেহরির সময় প্রায় নিয়মিত লোডশেডিং হচ্ছে।
তারা জানায়, প্রতিদিন সকাল ৭টার পর থেকে সূর্যের তাপমাত্রা বাড়তে থাকে। দুপুরে তীব্রতা আরও বেশি। রোজাদারের জন্য কষ্ট বেড়েছে কয়েকগুণ। এরমধ্যে শহর এলাকায় দিনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পালা করে এলাকা ভিত্তিক দফায় দফায় বিদ্যুতের লোডশেডিং দেওয়া হয়। গ্রামের অবস্থা আরও ভয়াবহ। গ্রাম এলাকায় কখন বিদ্যুৎ আসে সেই হিসাব রাখেন ভুক্তভোগীরা। সেখানে প্রায় সময়ই বিদ্যুৎ থাকেনা- যদিওবা আসে কয়েক মিনিট পরেই চলে যায়। চলতি বোরো মৌসুমে চাষের জমিতে পানি সেচ দিতে না পারায় ফলন নিয়ে চিন্তিত হয়ে পরেছেন কৃষকরা। দাবদাহে খেটে খাওয়া মানুষগুলো সবচেয়ে বিপদে রয়েছেন।
অনেকেই জানায়, রোদে তাকালেই চোখ ঝাপসা হয়ে আসে। টানা গরম আর অনাবৃষ্টিতে মানুষের প্রাণ প্রায় ওষ্ঠাগত। গরম বাতাস আগুনের হলকা হয়ে শরীরে লাগছে। ঘরে-বাইরে কোথাও স্বস্তি নেই। প্রকৃতির এমন বৈরী আচরণের মধ্যে ‘মরার ওপর খাড়ার ঘা’ হিসেবে আবির্ভাব হয়েছে বিদ্যুতের লোডশেডিং।
জেলা শহরের রেজিস্ট্রি পাড়ার ইমাম হোসেন, আকুর টাকুর পাড়ার শহিদুল ইসলাম রুমি, বটতলার আনিছুর রহমান, তালতলার মঞ্জুরুল ইসলাম, আদি টাঙ্গাইলের গৃহবধূ রহিমা রহমান, থানাপাড়ার জোবায়ের হোসেন, আদালত পাড়ার শিবলী সহ অনেকেই জানান, প্রচন্ড দাবদাহে বাসায় থাকা যায় না। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ। শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। সর্দি-কাশি, জ্বর ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে।
শহরের হিরা মার্কেটের কাপড় ব্যবসায়ী মোসলেম উদ্দিন, শাহালম মিয়া, সিদ্দিকুর রহমান, জয়নাল আবেদীন সহ অনেকেই জানান, ক্রেতার চাপ থাকলেও প্রচন্ড গরমে দোকানে বসে থাকা যাচ্ছে না। এরই মধ্যে লোডশেডিং চলছে। লোডশেডিং হলে এক থেকে দেড় ঘণ্টার আগে বিদ্যুৎ আসেনা। ফলে আইপিএস লাগিয়েও সমাধান পাওয়া যায়না। বিদ্যুৎ না থাকায় আইপিএসও চার্জ হয়না।
টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র জামিলুর রহমান মিরন জানান, টাঙ্গাইল শহর এলাকায়ও প্রতিদিন ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে। প্রতিবার এক থেকে দেড় ঘণ্টা করে বিদ্যুৎ থাকছে না।
টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, সম্প্রতি তিনি টাঙ্গাইল জোনে যোগদান করেছেন। টাঙ্গাইল জোনে পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক সংখ্যা ৬ লাখের বেশি। এ এলাকায় ছোট বড় মিলে ৪৫০টি শিল্পকারখানাসহ ও আবাসিক গ্রাহকের জন্য বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ১৬০ থেকে ১৬৫ মেগাওয়াট। কিন্তু সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ১০০ থেকে ১০৫ মেগাওয়াট। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে লোডশেডিং বেড়েছে।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ময়মনসিংহ জোনের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. শহীদ উদ্দিন জানান, প্রচন্ড দাবদাহে সারাদেশে লোড বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন সর্বোচ্চ লোডশেডিং চলছে। এ জোনের আওতায় ৪ লাখ ২০ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। বিদ্যুতের চাহিদা ৫৫ মেগাওয়াট। কিন্তু পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২০ থেকে ২৫ মেগাওয়াট।
বিউবো টাঙ্গাইলের নির্বাহী প্রকৌশলী (বিক্রয় ও বিতরণ) খন্দকার কামরুজ্জামান জানান, টাঙ্গাইল পৌরসভায় ৪৭ হাজারের বেশি গ্রাহক রয়েছে। বিদ্যুতের চাহিদা ২০ মেগাওয়াট। গত সপ্তাহ পর্যন্ত গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিক ছিল। ৪-৫ দিন ধরে তারা ১২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ পাচ্ছেন। ৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি থাকছে। এই ৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন কম পাওয়া যাচ্ছে তা তিনি জানেন না। ফলে এলাকা ভিত্তিক লোডশেডিং দিয়ে বিদ্যুৎ সঞ্চালন অব্যাহত রাখা হচ্ছে।
একতার কণ্ঠঃ জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা টাঙ্গাইল জেলা ইউনিটের আয়োজনে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল জেলা সদরে অবস্থিত শিশু একাডেমী মিলনায়তনে এই ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা টাঙ্গাইল জেলা ইউনিট আয়োজিত এই ইফতার ও দোয়া মাহফিল পূর্ব আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. ছানোয়ার হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি এডভোকেট জাফর আহমেদ।
জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা টাঙ্গাইল জেলা ইউনিটের সভাপতি মাসুদুর রহমান মিলনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক তাইজুল ইসলাম টুটুলের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা খন্দকার নিপুণ হোসাইন, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের কার্যকরী কমিটির সদস্য মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল, সদস্য আশিকুর রহমান পলাশ, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা টাঙ্গাইল জেলা ইউনিটের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. আরমান কবীর সৈকত, কালিহাতী প্রেসক্লাবের সভাপতি রঞ্জন কৃষ্ণ পণ্ডিত, সাবেক সভাপতি শাহ্ আলম, সাধারণ সম্পাদক মোল্লা মুশফিকুর রহমান মিল্টন, ক্লিন টাঙ্গাইলের সভাপতি শাহীন চাকলাদার, সেন্টার ফর রুরাল ডিজেবল ডেভলপমেন্ট (সিআরডিডি) টাঙ্গাইলের সভাপতি এইচ.কে ইউসুফ জাই প্রমূখ।
আলোচনা সভা শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণে বিশেষ মোনাজাত করেন হাফেজ মাওলানা মো. ফজলুল হক।
এই ইফতার ও দোয়া মাহফিলে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা টাঙ্গাইল জেলা ইউনিটের সকল সদস্য ও ১২টি উপজেলার সভাপতি-সম্পাদকসহ বিপুল সংখ্যক জেলায় কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।