একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে জুয়ার আসরে অভিযান চালিয়ে ১০ জুয়াড়িকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৩ মার্চ) রাতে উপজেলার বল্লা ইউনিয়নের রামপুর সাতবিলের মাঝখানে হিজলতলা থেকে তাদের আটক করা হয়। রবিবার (২৪ মার্চ) দুপুরে আটককৃত জুয়াড়িদের আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
আটককৃতরা হলেন, উপজেলার কালোহা পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত রবি মিয়ার ছেলে ইউনুস আলী (৪৮),কোকডোহরা পশ্চিম পাড়া গ্রামের জয়নাল মিয়ার ছেলে বাবু মিয়া (৩৫), হাসড়া মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে মো: আনোয়ার হোসেন (৩৯), উতরাইল দক্ষিণ পাড়া গ্রামের মৃত আঃ মান্নানের ছেলে মোঃ রমজান মিয়া (৪৫), রামপুর মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত জামাল উদ্দিনের ছেলে মো: আজিবর রহমান (৪২),কাজিবাড়ি মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত আনোয়ার হোসেনের ছেলে আরফান মিয়া (৪৫), কুকরাইল গ্রামের শামছুল আলমের ছেলে শাহ আলম (২৮), রামপুর মালিপাড়া গ্রামের মৃত কিতাব আলীর ছেলে মোঃ হাসেম (৫০), বানকিনা পশ্চিম পাড়া গ্রামের জামাল মিয়ার ছেলে লোকমান মিয়া (৩০) ও রামপুর গ্রামের মৃত নজির হোসেনের ছেলে কবির হোসেন (৪২)।
এলাকাবাসী জানায়, এরা প্রতিদিন বল্লা ইউনিয়নের রামপুর সাতবিলের মাঝখানে হিজলতলা এলাকায় হাজার হাজার টাকার জুয়ার আসর বসায়। এলাকার কতিপয় অর্থলোভী প্রভাবশালী লোকদের ম্যানেজ করে জুয়াড়ুরা সারা বছর লাখ লাখ টাকার জুয়া খেলে থাকে।
কালিহাতী থানার এসআই আলামিন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি, উপজেলার বল্লা ইউনিয়নের রামপুর সাতবিলের মাঝখানে হিজলতলায় বসে প্রকাশ্যে তাসের মাধ্যমে টাকা দিয়ে জুয়া খেলা চলছিল। পরে কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান স্যারের নির্দেশে সেখানে অভিযান চালিয়ে ১০ জুয়াড়ুকে আটক করা হয়।
তিনি আরও জানান, এসময় তাঁদের কাছ থেকে তাস ও নগদ ১৭ হাজার ১৫০ টাকা উদ্ধারপূর্বক জব্দ করা হয়েছে। রবিবার আটককৃত জুয়াড়িদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ইসলামিক রিসার্স ইনস্টিটিউট ও এসডিএসের ৭শত ১২ শতাংশ ভূমি নকল দলিল সৃষ্টি করে মাটি কেটে নেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক হাজী মুহাম্মদ মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের যুগ্ম-জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলা করেছেন প্রতিষ্ঠান দুটির চেয়ারম্যান মো. ইসমাইল হোসেন সিরাজী।
জানা গেছে, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার পোড়াবাড়ী ও গদুরগাতি মৌজার ৫১৪ ও ১৯৮ শতাংশ মোট ৭১২ শতাংশ ভূমি ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ইসলামিক রিসার্স ইনস্টিটিউট(আইআরআই) ও সোস্যাল ডেভেলপমেণ্ট সংসদ(এসডিএস) এর মালিকানাধীন। জমিগুলো ব্যাংকে মর্টগেজ রেখে ঋণ নেওয়া হয়। নানাবিধ কারণে মামলার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠান দুটির সভাপতি ও চেয়ারম্যান মো. ইসমাইল হোসেন সিরাজী ২০০২ সালে গ্রেপ্তার হন। ওই সময় দু’টি প্রতিষ্ঠানের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি বা হস্তান্তরের উপর টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
চেয়ারম্যান হাজতে থাকার সুযোগে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলামের যোগসাজসে সত্য গোপন করে টাঙ্গাইল জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক হাজী মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক নিজ নামে উল্লেখিত ৭১২ শতাংশ ভূমির দলিল রেজিস্ট্রি করে নেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, সম্প্রতি ইসলামিক রিসার্স ইনস্টিটিউট ও এসডিএসের ৭১২ শতাংশ ভূমির মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। ভেকু মেশিন(খননযন্ত্র) দিয়ে দিনরাত মাটি কাটা হচ্ছে এবং ড্রামট্রাক ও মাহেন্দ্র ট্রাক দিয়ে সেই মাটি সরবরাহ করা হচ্ছে। দিনরাত ট্রাক দিয়ে মাটি আনা-নেওয়া করায় স্থানীয়রা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠছে।
আইআরআই ও এসডিএসের চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন সিরাজী অভিযোগ করে জানান, আইআরআই ও এসডিএসের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ বিক্রি বা হস্তান্তরে জেলা প্রশাসকের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তারপরও তার প্রতিষ্ঠানের অসাধু কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলাম নিজে দাতা সেজে জেলা জাপার সাধারণ সম্পাদক হাজী মুহাম্মদ মোজাম্মেল হককে জমি রেজিস্ট্রি করে দেন। ওই জমি নিজের দাবি করে হাজী মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক মাটি কেটে বিক্রি করে জমির শ্রেণি পরিবর্তনের পাশাপাশি অবৈধভাবে দখল করছেন।
এ বিষয়ে জেলা জাপার সাধারণ সম্পাদক হাজী মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, এসডিএসের চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন সিরাজীর নামে সারাদেশে ১৩৫টি মামলা দায়ের হলে ২০০২ সালে তিনি গ্রেপ্তার হন। ওইসব মামলার মধ্যে তিনটিতে তার সাজা হয়। ফলে এসডিএসের ৪২জন কর্মকর্তা রেজুলেশন করে মো. নুরুল ইসলামকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেন। নুরুল ইসলাম ২০১৫ ও ২০১৭ সালে তাকে জমি রেজিস্ট্রি করে দেন। এ সময় ইসমাইল হোসেন সিরাজী প্রতিষ্ঠানের কেউ না হয়েও তার কাছ থেকে জমি বিক্রি বাবদ টাকা গ্রহণ করেন। পরে তিনি টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করেন। এ বিষয়ে তিনি ইসমাইল হোসেন সিরাজীকে অভিযুক্ত করে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটি সিআইডি তদন্ত করছে।
একতার কণ্ঠঃ আগামী ৩ দিনের মধ্যে ট্রেনে ভারতীয় পেঁয়াজ বাংলাদেশে আসবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু।
শনিবার (২৩ মার্চ) বিকেলে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের উদ্যোগে প্রতিমন্ত্রী ও এমপিদের সংবর্ধনা এবং প্রেসক্লাবের কার্যকরী সদস্যদের পরিচিতি সভায় যোগ দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভারত থেকে পেঁয়াজ আজ কিংবা আগামীকাল ট্রেনে উঠবে। আগামী ৩ দিনের মধ্যে বাংলাদেশে প্রবেশ করবে ভারতীয় পেঁয়াজ। ভারত থেকে পেঁয়াজ আসা নিয়ে কোনো রকম সমস্যা আছে বলে আমার জানা নেই।
তিনি বলেন, বাজার তার আপন গতিতেই চলবে। ৫-১০ টাকা বাড়লে সেটা নিয়ে কিছু না করা হলেও কেউ যদি মজুতদারি করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাজারে স্বাভাবিক বেচাকেনায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কোনো রকম পুলিশি তৎপরতা বা ম্যাজিস্ট্রেটি তৎপরতার প্রয়োজন নেই। বাজারে যথেষ্ট পরিমাণ পণ্যের সরবরাহ আছে এবং দামও যৌক্তিক পর্যায়ে আছে।
আহসানুল ইসলাম টিটু বলেন, চাল খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বিষয়। এ কারণে আরেক মন্ত্রণালয়ের বিষয়ে কোনো কিছু বলা ঠিক হবে না।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক কায়ছারুল ইসলাম, পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট জাফর আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু এমপি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারণে দেশের কোন মানুষ খাদ্য সংকটে নেই। সরকার টিসিবি’র মাধ্যমে সারাদেশে এক কোটি নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে সল্প মূল্যে খাদ্য পণ্য বিক্রি করছে। এছাড়াও সরকারের খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির আওতায় খাদ্য পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া বাজারেও কোন পণ্যের সরবরাহে ঘাটতি নেই।
বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) দুপুরে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে প্রাথমিক বিদ্যালয় সমূহে কাব স্কাউটিং সম্প্রসারণ (৪র্থ) প্রকল্পের অর্থায়নে ৭০টি বিদ্যালয়ের মাঝে ড্রামসেট বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা চেষ্টা করছি বর্তমান বাজার ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর। একদিকে যেমন আমরা পণ্যের সরবরাহ বাড়াবো এতে দেশীয় উৎপাদন বাড়াবে। তেমনি যে শস্য আমদানি করতে হয় সেগুলোরো উৎপাদন বাড়াবো।যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ না হতে পারতেছি ডাল ও তেল আমরা আমদানি করি এটারও টিসিবি’র মাধ্যমে আমদানি করায় ন্যায্য মূল্যে দিতে পারছি। সাধারণ মানুষ ও যারা শিক্ষক আছে তারাও যেন ভর্তুকি মূল্যে না, ন্যায্য মূল্যে কিনতে পারে। সেজন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা ব্যবস্থা করবো। আমাদের সেই কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কৃষি পণ্য যেন কৃষক সমবায়ের মাধ্যমে সরাসরি ঢাকায় বাজারজাত করতে পারে সেই ব্যাপারে একটা কর্পোরেট তৈরি করে নিতে আমরা পরিবহনের ব্যবস্থা করে নিবো। যাতে তারা মধ্যস্বত্বার মধ্যে না পরে সরাসরি অধিক দামে বিক্রি করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী আমাদের সু-স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন আমরা যে প্রকল্পগুলো হাতে নেবো তা যেন জনকল্যাণে হয়। আমাদের লক্ষ্য একটাই, আমরা যে কাজ গুলো করবো তা যেন জনস্বার্থে হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাকিলা পারভীন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান, ভাইস চেয়ারম্যান এস.এম এহসানুল হক সুমন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুল হক, সাধারণ সম্পাদক এম. শিবলী সাদিক প্রমুখ।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অফিসে মুদি দোকান দেওয়া হয়েছে। উপজেলার করটিয়াপাড়া বাজারে অবস্থিত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে মুদি দোকান দিয়েছেন তোফাজ্জল হোসেন নামে এক ব্যক্তি।
তোফাজ্জল ইউনিয়নের চতলবাইদ ভাতকুড়া এলাকার আফসার উদ্দিনের ছেলে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এসএম ইব্রাহিমের নির্দেশেই তিনি আওয়ামী লীগের অফিসে মুদি দোকান দিয়েছেন বলে জানান। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে জানা যায়, ২০২২ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বহুরিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অফিস উদ্বোধন করেন। অফিসের দক্ষিণ পাশেই ব্যবসায়ী তোফাজ্জল হোসেনের মুদির দোকান ছিল। সেখান থেকে সরিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা এসএম ইব্রাহিম রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দলীয় কার্যালয়টি দখল করে মুদি দোকান বসিয়েছেন। সম্প্রতি এ ঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
ব্যবসায়ী তোফাজ্জল হোসেন বলেন, এক মাস যাবত আওয়ামী লীগের এই কার্যালয়ে আমি দোকান করছি। আমার আগের দোকান ঘর মেরামতের কাজ চলছে। তাছাড়া আমাকে ইব্রাহিম নেতা এই ঘরে আসতে বলেছে বলেই এখানে এসে দোকান বসিয়েছি।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এসএম ইব্রাহিম বলেন, দলীয় কার্যালয়টি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। পরে ওই ঘর সংস্কার কয়া হয়। সংস্কারের টাকা এবং ভাড়া বাকি ছিল। বাকি টাকাগুলো আমি একা পরিশোধ করেছি।
তিনি আরও বলেন, এক মাসের জন্য পার্টি অফিসের ঘরটি তোফাজ্জল হোসেনকে মুদির দোকান করতে দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম জানান, বিষয়টি আমি শুনেছি। সরেজমিনে গিয়ে খোঁজ নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে প্রতিবেশী নারীকে মারধরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সরকার নূরে আলম মুক্তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) দুপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নওরীন করিম দুই পক্ষের শুনানি শেষে এ রায় দেন।
টাঙ্গাইলের কোর্ট ইন্সপেক্টর তানভীর আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, নূরে আলম মুক্তা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। পরে দুপক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মারধরের শিকার জেসমিন আক্তার জানান, ওই চেয়ারম্যান বৃহস্পতিবার আগাম জামিনের জন্য আদালতে গিয়েছিলেন। এ কথা শুনে আমি শুনানি শেষ হওয়ার এক মিনিট আগেই আদালতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে আমাকে মারধরের ভিডিওটি দেখালে আদালত অভিযুক্ত চেয়ারম্যানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, ২ মার্চ বিকেলে পারিবারিক কলহের জেরে তুচ্ছ ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান সরকার নূরে আলম মুক্তা তাঁর প্রতিবেশী জেসমিন আক্তারকে (৩৫) মারধর করেন। অপর প্রতিবেশী রুবেলকে (৩৭) সঙ্গে নিয়ে চেয়ারম্যানের ওই মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার দিন মারধরের শিকার জেসমিন সখীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
এ নিয়ে ৩ মার্চ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়। এ ঘটনায় বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীও (বীর উত্তম) নারীকে মারধরে জড়িত চেয়ারম্যানের বিচার দাবিতে স্মারকলিপি দেন। একপর্যায়ে সখীপুর থানা-পুলিশ মারধরের শিকার জেসমিনের অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে।
একতার কণ্ঠঃ আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরে উপলক্ষে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে যানজট নিরসন কল্পে গৃহিত ট্রাফিক পুলিশিং ব্যবস্থা সংক্রান্ত সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২০ মার্চ) দুপুরে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের উদ্যোগে পুলিশ লাইনস্ মাল্টিপারপাস শেডে এ সভার আয়োজন করা হয়।
পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সারের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো. শরফুদ্দীন, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সিনথিয়া খান, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট জাফর আহমেদ, ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক মো. রফিকুল ইসলাম সরকার ও মো. দেলোয়ার হোসেন, জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি মো. ইকবাল হোসেন, মহাসচিব গোলাম কিবরিয়া বড় মনি প্রমুখ।
সভায় ঈদের আগে ও পরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে গণপরিবহন এবং যাত্রীদের ভোগান্তি ছাড়া নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
এ সময় জেলা পুলিশের কর্মকর্তা, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠন, ফায়ার সার্ভিস, বিবিএ কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে দুই যুবককে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) দুপুরে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক মাহবুবুর রহমান এ রায় দেন।
দন্ডিতরা হচ্ছেন, জেলার সখীপুর উপজলার মহানন্দপুর গ্রামের আসলামের ছেলে সাগর আহমেদ (২১) এবং একই উপজেলার জিতাশ্বরি মরিচপুরিচালা গ্রামের মৃত আবু সাইদের ছেলে নাইছ আহমেদ (২১)। দন্ডিত দুইজনকেই ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানাও করেছেন আদালত।
মামলার অপর আসামী ফরহাদ হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় খালাস দিয়েছেন আদালত।
টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের সহকারি কৌশুলী (এপিপি) মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুস বলেন, দন্ডিত সাগর ১৩ বছর বয়সী এক স্কুল ছাত্রীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। ২০২২ সালের ২৯ জুন রাত নয়টার দিকে নাইছকে নিয়ে ওই ছাত্রীর সাথে দেখা করতে আসেন। পরে ওই ছাত্রীকে বাসারচালা পশ্চিমপাড়া একটি জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরদিন তারা আবার একই স্থানে ডেকে নিয়ে পুনরায় ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করে। পরে ওই ছাত্রীর বাবা বাদি হয়ে সখীপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।
রায় ঘোষণার সময় দন্ডিত দুইজনকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
একতার কণ্ঠঃ বানিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু এমপি বলেছেন, উৎপাদক থেকে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের জন্য অ্যাপস দেওয়া হচ্ছে। কোন মধ্যস্বত্ব ভোগী রাখা হবেনা। যাতে করে সাধারণ ক্রেতারা হয়রানি না হয়। কে মাল হোলসেল করলো আর কে কিনলো, শিগগিরই এ জন্য অ্যাপস দেওয়া হবে ।
মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) দুপুরে মন্ত্রী টাঙ্গাইল শহরের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার ‘পার্ক বাজারে’ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মনিটরিং শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, আমরা সারাদেশে যে মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছি, সে অনুযায়ী বাজারের ব্যবসায়ীরা বিক্রি করছে। কয়েকটা জায়গায় কম মূল্যও বিক্রি করা হচ্ছে। চিনি ১৪০ টাকার জায়গায় ১৩৮ টাকাও বিক্রি করছে। তৈলও আমরা ১৬৩ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছি। কিন্তু খুচরা তারা ১৫৮ টাকা বিক্রি করছে। রমজান মাস উপলক্ষে সব কিছুর ঘাটতি থাকার কথা থাকলেও এখন কিন্তু বাজারে কোন নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের ঘাটতি নাই। রমজানে বাজারে পর্যাপ্ত পরিমানে পণ্যের সরবরাহ রয়েছে। লেবুসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস সব কিছুই বাজারে পর্যাপ্ত পরিমানে রয়েছে ৷ টাঙ্গাইলে লোকাল প্রশাসন যথাযথভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে ৷
তিনি বলেন, আমাদের কাজ হলো সাশ্রয়ী মূল্যে সাধারণ মানুষকে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের সরবরাহ নিশ্চিত করা ৷
এসময় উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক কায়ছারুল ইসলাম, পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, টাঙ্গাইল পৌর মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর, দেলদুয়ার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান মারুফসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃদন্দ।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হাসান খান ওরফে ঝলককে (২৬) কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
সোমবার (১৮ মার্চ) রাত সাড়ে নয়টার দিকে উপজেলার সলিমাবাদ ইউনিয়নের সলিমাবাদ মধ্যপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে নাগরপুর থানা পুলিশ। এ ঘটনার পর নিহতের পিতা সোমবার রাতেই বাদী হয়ে নাগরপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, নাগরপুর উপজেলার সলিমাবাদ গ্রামের মো. রফিকুল ইসলামের ছেলে রানা মিয়া (২২), তার ভাই জিয়াদ (১৯) ও একই গ্রামের জয়ের উদ্দিনের ছেলে ইমন (১৯)।
নিহত জাহিদ সলিমাবাদ গ্রামের ছামিনুর রহমান খানের ছেলে। তিনি টাঙ্গাইল শহরের কাগমারীতে অবস্থিত সরকারি এম এম আলী কলেজের স্নাতকের শিক্ষার্থী ছিলেন।
এ প্রসঙ্গে নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এইচ এম জসিম উদ্দিন জানান, সোমবার রাতে জাহিদ তারাবিহর নামাজ পড়ে মসজিদ থেকে বের হয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় মাঠের কাছে ফাঁকা একটি জায়গায় এলে পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ফেলে রেখে যায়। পরে আশপাশের লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নাগরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হাসান জাহিদ জানান, রাতেই নিহত জাহিদের বাবা বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ রাতেই মামলার আসামি জিয়াদ, ইমন ও রানাকে গ্রেপ্তার করেছে। নিহত জাহিদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) সকালে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নাগরপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আজিম হোসেন বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।’
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল শহরে ইদানিং বেড়েছে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা। একই সাথে তারা যুক্ত হচ্ছে মাদক সেবনের সাথেও। ফলে দিন দিন ভয়ংকর হয়ে উঠছে এইসব কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা।
বিশেষ করে শহরের ক্যাপসুল মার্কেট, সবুর খান টাওয়ারের সামনের রাস্তা, ছয়আনি পুকুর পার, মাঝি পাড়া, আদালত পাড়া পুকুর পার, টাঙ্গাইল সরকারি বিন্দুবাসিনী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পেছনের বড় পুকুর পার, শহিদ স্মৃতি পৌর উদ্যান, শহিদ স্মৃতি পৌর উদ্যানের পেছনের নজরুল সেনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তাসহ পুরো গলি, টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় ঈদগাহ্ ময়দানের বাঁশ বাজার, পরিত্যক্ত ভাসানী হল চত্বর সহ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশে এরা দলবেঁধে মিলিত হয়। পরে শহর জুড়ে বিকট শব্দে হর্ন বাজিয়ে চালায় মোটরসাইকেল মহড়া।
এইসব কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন নামে গ্রুপ খুলে নিজেদের মধ্যে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখে । কোন ঘটনা ঘটলেই এইসব গ্রুপের মধ্যেমে মুহূর্তেই সদস্যদের কাছে পৌঁছে যায় সেই খবর। এইসব ফেসবুক গ্রুপের মধ্যেমে কোথায় মিলিত হতে হবে, অপারেশন করতে হবে- এমন নির্দেশনাও পেয়ে থাকে সংশ্লিষ্ট গ্রুপের সদস্যরা।
সম্প্রতি পৌর শহরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বেড়েছে কিশোর গ্যাংয়ের এক গ্রুপের সাথে অন্য গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা। ফলে প্রায় প্রতিদিনই কিশোর গ্যাংয়ের বিভিন্ন গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। যে কোন সময় বেঁধে যেতে পারে বড় ধরনের সংঘর্ষ। ঘটতে পারে প্রাণহানির মতো ঘটনাও।
এছাড়া এইসব কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা মাদক সেবনের সাথেও যুক্ত রয়েছে। কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা জেলা সদরের সৌখিন মৎস্য শিকারি সমিতির আশপাশ এলাকা, পৌর এলাকার শামসুল হক মার্কেটের ২য় তলার খালি অংশ, টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় ঈদগাহ্ ময়দানের বাঁশ বাজার, মালঞ্চ সিনেমা হলের আশপাশের এলাকা, শহরের শামসুল হক তোরণ, সরকারি গ্রন্থাগার, কোদালিয়া, নতুন বাস টার্মিনালের পিছনের লেকপার, বেড়াডোমা, মাঝি পাড়া, কাগমারা এলাকাসহ শহরের বিভিন্ন চিহ্নিত স্পট থেকে বিভিন্ন ধরনের মাদক সংগ্রহ করে প্রকাশ্যেই সেবন করছে কিশোর গ্যাংয়ের এইসব বেপরোয়া সদস্যরা।
এছাড়া শহরে মাদকের সংকট হলেই তারা মাদক সংগ্রহের জন্য মোটরসাইকেল যোগে চলে যাচ্ছে, শহরতলীর গালা ইউনিয়নের মনতলা, মগড়া ইউনিয়নের ছোট বাসালিয়া, দাইন্যা ইউনিয়নের ছোট বিন্যাফৈর, বড় বিন্যাফৈর , চর ফতেপুর, শ্যামার ঘাট এলাকা, ঘারিন্দা রেল স্টেশন, সন্তোষ, অলোয়া জমিদার বাড়ির আশপাশের এলাকাসহ রাবনা বাইপাস ও নগরজলফৈ বাইপাস এলাকায়।
শুক্রবার (১৫ মার্চ) পৌর শহরের কলেজ গেট এলাকার হাতেম আলীর ছেলে মামুনকে বিশ্বাস বেতকা এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য পিয়াসের নেতৃত্বে গ্যাংয়ের সদস্যরা তুলে নিয়ে গিয়ে বেদম প্রহার করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠায়। পরে সেখান থেকে চিকিৎসা শেষে বর্তমানে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি। এবিষয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় আহতের মা মালেকা বেগম বাদী হয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন।
মঙ্গলবার (১২ মার্চ) রাতে টাঙ্গাইল আউটার স্টেডিয়ামে অবস্থিত টাঙ্গাইল ফুটবল একাডেমির ছাত্র তরুণ ফুটবলার মো. সজিব হোসেন (১৮) পৌর শহরের সাবালিয়া এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য নুরু ও তার গ্যাংয়ের সদস্যদের হাতে বেদম প্রহারের শিকার হন। তার বাম হাত, মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। গুরুত্বর আহত অবস্থায় বর্তমানে সে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে, টাঙ্গাইল ফুটবল একাডেমির কোষাধাক্ষ ও ইনচার্জ, রণজিৎ রায় জানান, ইতিমধ্যে বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। বর্তমানে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবী জানাচ্ছি।
সম্প্রতি ডিসি লেকে বেড়াতে আসা বাসাইলের এক কলেজ ছাত্র কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের দ্বারা শারীরিকভাবে লাঞ্চিত হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কলেজ ছাত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) সকালে সে ও তার এক বান্ধবী ডিসি লেকে বেড়াতে আসে। ডিসি লেকের শিশু পার্ক চত্বর থেকে একদল কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য তাদের আটক করে পাশের একটি ফাস্টফুডের দোকানে নিয়ে যায়। সে ও তার বান্ধবীকে তারা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। পরে তাদের সাথে থাকা টাকা-পয়সা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।
সে আরও বলেন, ডিসি লেকের পাশে অবস্থিত বেশ কয়েকটি ফাস্টফুডের দোকানদারদের সাথে এইসব কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের যোগসাজশ রয়েছে। ফলে প্রায় প্রতিদিনই ডিসি লেকে বেড়াতে আসা নিরীহ ছাত্র-ছাত্রীরা এই ধরনের ঘটনার শিকার হচ্ছে।
টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় ঈদগাহ্ এর কয়েকজন দোকানদার জানান, প্রায় প্রতিদিনই ঈদগাহ্য়ের পশ্চিম পাশের বকুল গাছের নিচে শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে স্কুল-কলেজের ছাত্রদের ধরে এনে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা অত্যাচার চালায়। এসময় রেখে দেওয়া হয় তাদের টাকা-পয়সাসহ মোবাইল ফোন। প্রায় ক্ষেত্রেই এইসব ঘটনার পেছনে প্রেম সংক্রান্ত বিষয় জড়িত থাকে বলেও তারা জানায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কিশোর গ্যাঙের দুই সদস্য জানান, টাঙ্গাইলের এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক বড় ভাইয়ের আশীর্বাদে তাদের গ্যাংয়ে প্রায় ২৫ জন সদস্য রয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তাঁরা সেই ভাইয়ের পক্ষ হয়ে নিয়মিত মিছিল মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করে। তার পরিবর্তে তাদের সেই বড় ভাই বিভিন্ন ঘটনায় তাদের শেল্টার দিয়ে থাকে।
সরকারি সৈয়দ মহব্বত আলী ডিগ্রী কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, কিশোর গ্যাং তৈরি হয় সাধারণত সামাজিক অবক্ষয় ও রাজনৈতিক বড় ভাইদের আশ্রয় প্রশ্রয়ে। বর্তমানে আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় সামাজিক অবক্ষয় বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে। এছাড়া বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থাও এই অক্ষয়ের অন্যতম কারণ। ফলে পরিবারে বাবা-মায়ের সাথে সন্তানদের এক ধরনের দূরত্ব তৈরি হচ্ছে। বর্তমানে বাবা-মায়ের আদর-স্নেহ ও শাসন থেকে বঞ্চিত হয়ে মাদক সেবনসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে তাদের সন্তানেরা। এরই ধারাবাহিকতায় তৈরি হচ্ছে কিশোর গ্যাং।
টাঙ্গাইল অ্যাডভোকেট বার সমিতির সাবেক সভাপতি মইদুল ইসলাম শিশির বলেন, টাঙ্গাইল শহরে ইদানিং কিশোর গ্যাংয়ের বিচরণ লক্ষ করা যাচ্ছে। সাধারণত নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান ও উচ্চবৃত্ত পরিবারের সন্তানরা কিশোর গ্যাংয়ের সাথে যুক্ত হচ্ছে। নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তানেরা রুজি-রোজগারের আশায় কিশোর গ্যাংয়ের সাথে যুক্ত হয়। আর উচ্চবৃত্ত পরিবারের বখে যাওয়া সন্তানেরা থ্রিলারের আশায় কিশোর গ্যাংয়ের সাথে যুক্ত হয়।
তিনি আরও বলেন, এই কিশোর গ্যাংয়ের সাথে যুক্ত সদস্যদের পারিবারিক ও সামাজিক ভাবে বুঝিয়ে শুনিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে হবে। আর যারা ইতিমধ্যেই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত হয়ে গেছে তাদের দ্রুত শাস্তির আওতায় এনে দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করতে হবে। যেন ভবিষ্যতে কেও আর কিশোর গ্যাংয়ের সাথে যুক্ত হতে সাহস না পায়।
এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার-ইনচার্জ (ওসি) মো. লোকমান হোসেন বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের অস্তিত্ব সারা বাংলাদেশেই আছে, একই অবস্থা টাঙ্গাইল শহরেও। বিষয়টি আমাদের জানা আছে। যখনই তারা কোন অপরাধমূলক ঘটনা ঘটাচ্ছে সাথে সাথেই সেই ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। আর কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা মাদকের সাথে যুক্ত হচ্ছে এটাও সত্য। এ কারণে তাদের দ্বারা অপরাধও বেশি সংঘটিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি কিশোর গ্যাং সৃষ্টির পিছনে রাজনৈতিক বড় ভাইদের হাত থাকে। এই কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা কমাতে শুধুমাত্র প্রশাসনই নয়, পারিবারিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এ বিষয়ে এগিয়ে এলে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা কমিয়ে আনা যাবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।
প্রতিবেদক: মো. আরমান কবীর
সার্বিক সহযোগিতায়: সাহান হাসান
একতার কণ্ঠঃ ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের কালিহাতী উপজেলায় ট্রাকের ধাক্কায় মো. সেলিম হোসেন নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
রবিবার (১৭ মার্চ) বিকেলে উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভার এলেঙ্গা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মোটরসাইকেল আরোহী সেলিম হোসেন জেলার গোপালপুর উপজেলা সদরের মাদারজানি এলাকার জব্বার খলিফার ছেলে। সে গাজীপুর জেলার শফিপুর আনসার একাডেমিতে কর্মরত ছিলেন।
বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) পলাশ জানান, বিকেলে গোপালপুর থেকে মোটরসাইকেল যোগে সেলিম হোসেন টাঙ্গাইল যাচ্ছিলেন। পথে উপজেলার এলেঙ্গা এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে একটি ট্রাক মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়।
তিনি আরও জানান, ঘটনার পরপরই ট্রাকটি স্থানীয় লোকজন আটক করলেও চালক পালিয়ে যায়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।