একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে ভাগ্নের ছুরিকাঘাতে মামা আব্দুল জলিল (৪২) খুন হয়েছেন। কেরাম খেলা নিয়ে পুরনো দ্বন্দ্বের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (১৫ এপ্রিল) ইফতারের আগমুহুর্তে মধুপুর উপজেলার শোলাকুড়ি ইউনিয়নের হরিণধরা বাজারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শোলাকুড়ি ইউনিয়নের গিলগাইছা বাজারে কেরাম খেলার সময় শিহাব উদ্দিন ও নোমান মিয়ার সাথে তাদের মামা আব্দুল জলিলের বিরোধ বাধে। এই ঘটনার জের ধরে হাতাহাতি থেকে মারামারিতে পরিণত হয়। এ সময় ভাগ্নে পক্ষের লোক আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীনও ছিলেন। বিষয়টি আপোস মীমাংসার জন্য আলোচনা চলমান।
তারা আরো জানায়,শনিবার ইফতারের পূর্বমুহুর্তে আব্দুল জলিল হরিণধরা বাজারে মোটরসাইকেলে পেট্রল তুলছিলেন। এ সময় তার দুই ভাগ্নে শিহাব ও নোমান অতর্কিতভাবে আব্দুল জলিলের উপর হামলা চালায়। তাদের ছুরিকাঘাতে আব্দুল জলিল তাৎক্ষণাত মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাজহারুল আমিন জানান, আব্দুল জলিল খুন হওয়ার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আসামি গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে দুটি বিদেশি পিস্তল ও বিপুল সংখ্যক দেশীয় অস্ত্রসহ আরজু মিয়া (৫০) নামে সৌদি প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৪ এপ্রিল) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মির্জাপুর থানা পুলিশ উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের স্বল্প মহেড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে বিপুল সংখ্যাক দেশি বিদেশি অস্ত্রসহ তাকে গ্রেপ্তার করে।
আরজু মিয়া স্বল্প মহেড়া গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে। সে সৌদি প্রবাসী।
পুলিশ সূত্র জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার (১৪ এপ্রিল) রাতে মির্জাপুর থানা পুলিশ উপজেলার স্বল্প মহেড়া গ্রামে আরজু মিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায়। আরজু মিয়ার বসত ঘরে তল্লাসী চালিয়ে ইতালির তৈরি দুটি পিস্তল, তিনটি ম্যাগজিন, চার রাউন্ড তাজা গুলি, একটি রাম দা, কয়েকটি চাকু, কয়েকটি ছুরি, দুটি চাপাতি, তিনটি টর্চ লাইট, এন্টি কাটার, দুটি প্লাস, কয়েকটি স্কুড্রাইভার, মোবাইল ফোন, স্টিল টেপসহ বিপুল সংখ্যক অস্ত্র উদ্ধার করে। এসময় আরজু মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
খবর পেয়ে মির্জাপুর সার্কেলের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার এস এম মনসুর মুসা, মির্জাপুর থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
মির্জাপুর থানার মিডিয়া কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) জহিরুল ইসলাম জানান, আরজু মিয়ার বিরুদ্ধে মির্জাপুর থানায় অস্ত্র মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে শনিবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে ।
মির্জাপুর সার্কেলের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার এস এম মনসুর মুসা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ শুক্রবার (১৪ এপ্রিল) রাতে আরজু মিয়ার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে দুটি বিদেশি পিস্তলসহ বিপুল সংখ্যক দেশে তৈরি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে তাকে শনিবার (১৫ এপ্রিল) সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
প্রকাশ, আরজু মিয়া চাকরি নিয়ে গত তিন বছর আগে সৌদি পারি জমান। গত (৭ ফেব্রুয়ারি) ছুটিতে দেশে আসেন। এর আগে তিনি দক্ষিন কোরিয়ায় ১০ বছর চাকরি করেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে রাকিব হোসেন (১৫) নামে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রবিবার (১০ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১ টার দিকে রাকিবের বসত ঘরের আড়া থেকে তাঁর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়।
সে উপজেলার অর্জুনা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য জগৎপুরা গ্রামের তোফাজ্জল হোসেন টোকার ছেলে ।রাকিব স্থানীয় নিকলা দড়িপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল।
পরিবার ও রাকিবের ভগ্নিপতি আসলাম জানান, রবিবার বিকেলে রাকিবের বন্ধুদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলা শেষে বাড়ি এসে ইফতার করে। এরপর বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে বের হয়। রাত ১০টার দিকে বাড়ি ফিরে আসে। পরে রাত ১টার দিকে বন্ধুদের ফোন করে বলে, ‘তোরা আমাকে আর পাবি না।’
বন্ধুরা ‘আত্মহত্যার’ আশঙ্কা টের পেয়ে রাকিবের বাড়ি গিয়ে তার ভাবিকে জানায়। তখন দ্রুত তার বসত ঘরের দরজায় ডাকাডাকি করে কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে বন্ধুরা দরজা ভেঙে ফেলে। ঘরে প্রবেশ করে দেখে রাকিব ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলে আছে। পরে আড়া থেকে রাকিবের ঝুলন্ত মরদেহ নামায় তার পরিবার।
রাকিবের বন্ধু আতিক, জুয়েল, হিরা ও রানা জানায়, রবিবার বিকেলে আমরা নঈম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে মাঠে একসঙ্গে ক্রিকেট খেলি। খেলা শেষে ইফতারের আগে সবাই বাড়ি ফিরে যাই। এরপর কেন এমন হলো আমরা বুঝতে পারছি না।
এ বিষয়ে ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফরিদুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে গোপালপুর থানার পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে নিয়ে আসে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহত স্কুল ছাত্রের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে জেলা অটোরিক্সা-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে অটোরিক্সা চালক জুলহাস মিয়া হত্যার প্রতিবাদে এবং হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
রবিবার (৯ এপ্রিল) সকালে জেলা সদর রোডের টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে ঘন্টাব্যাপী এই মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করা হয়।
মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইল জেলা অটোরিক্সা-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল লতিফ মিয়া, সাধারণ সম্পাদক লুৎফুল কবির, সিনিয়র সহ-সভাপতি জয়নাল আবেদীন উল্লাস, নিহত জুলহাস মিয়ার স্ত্রী শিল্পী বেগম, মেয়ে জুলিয়া আক্তার, বোন রেজিয়া বেগম ও ভাগিনা সবুজ প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গত মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) দিবাগত রাতে টাঙ্গাইল জেলা অটোরিক্সা- ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য অটোরিক্সা চালক জুলহাস মিয়াকে বাসাইল পৌর এলাকার কুমারজানীতে যাত্রীবেশে দুর্বৃত্তরা হত্যা করে অটোরিক্সা ছিনতাই করে নিয়ে যায়।
বক্তারা আরো বলেন, অবিলম্বে অটোরিক্সা চালক জুলহাস মিয়ার হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি করছি। এছাড়াও জনস্বার্থে রাস্তায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি জানান তারা।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে শ্বাশুড়ির সামনেই স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে স্বামী। রবিবার (৯ এপ্রিল) দিবাগত রাত দুইটার দিকে উপজেলার ডুবাইল ইউনিয়নের কুপাখী গ্রামে এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে।
নিহত ওই গৃহবধূর নাম সুমিতা (৩৮)। তিনি জেলার মির্জাপুর উপজেলার পাকুল্যা ইউনিয়নের পাকুল্যা গ্রামের মৃত সমেজ উদ্দিনের মেয়ে।
এ ঘটনায় নিহত সুমিতার স্বামী মিনজু মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে দেলদুয়ার থানা পুলিশ ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২৫ বছর আগে সুমিতা’র সঙ্গে দেলদুয়ার উপজেলার ডুবাইল ইউনিয়নের কুপাখী গ্রামের মৃত আজগর মিয়ার ছেলে মিনজু মিয়ার পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই ছেলে ও ১ মেয়ে রয়েছে।
সম্প্রতি মিনজু মিয়া শ্বশুড় বাড়ির ওয়ারিশ সম্পত্তি এনে দেওয়ার জন্য স্ত্রীকে চাপ দেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিণ্যের সৃষ্টি হয়। এরই জের ধরে কয়েকদিন আগে স্ত্রীকে মারধর করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন স্বামী মিনজু মিয়া।
পরে সুমিতা বোনের বাড়ি পাশের উপজেলা মির্জাপুরের মহেড়া গ্রামে আশ্রয় নেন। শনিবার(৮ এপ্রিল) কৌশলে ভগ্নীপতি আমির হোসেনের মাধ্যমে মোবাইলে স্ত্রীকে বাড়িতে আসতে বলে মিনজু। সরল বিশ্বাসে সুমিতা তার বোন ববিতা ও তার মা হালিমাকে সাথে নিয়ে শনিবার স্বামীর বাড়ি আসে।
রবিবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে স্বামী মিনজু মিয়া গাছ কাটায় ব্যবহৃত রডের তৈরি ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথারি কোপাতে থাকে স্ত্রী সুমিতাকে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এসময় বাঁধা দিলে মা হালিমা ও বোন ববিতা আহত হন।
সুমিতার মা হালিমা বেগম জানান, মেয়েকে তার সামনেই কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তার মেয়ের চিৎকারে স্থানীয় কেউ এগিয়ে আসেনি। ওয়ারিশের সামান্য কিছু টাকার জন্য তাদের তিন জনকেই হত্যা করতে চেয়েছিল মিনজু মিয়া।
দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাছির উদ্দিন মৃধা জানান, এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘাতক স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে অনুমোদনহীনভাবে ‘কাপ দই’সহ বিভিন্ন ধরণের বেকারি পণ্য সামগ্রী তৈরির অপরাধে মেসার্স মনচুরি সুইটস এন্ড বেভারেজকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়।
রবিবার (৯ এপ্রিল) উপজেলার হরিপুর এলাকায় দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত ভেজাল বিরোধী তদারকিমূলক এই অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শিকদার শাহীনুর আলম।
এ বিষয়ে শিকদার শাহীনুর আলম জানান, অনুমোদনহীনভাবে বেকারী সামগ্রী তৈরি, মোড়কে উৎপাদন তারিখ, মেয়াদ ও মূল্য না দেওয়ার অপরাধে মেসার্স মনচুরি সুইটস এন্ড বেভারেজকে ৪০ হাজার টাকা প্রশাসনিক ব্যবস্থায় জরিমানা করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, অভিযানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন- ২০০৯ অনুসারে ভোক্তা অধিকার বিরোধী কার্যাবলী হতে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়। এছাড়াও ব্যবসায়ীদের ক্রয়-বিক্রয় রশিদ সংরক্ষণ, মূল্য তালিকা প্রদর্শণ করতে মাইকিং করে প্রচারণা, লিফলেট ও প্যামপ্লেট বিতরণ করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য ছোট মনিরের বড় ভাই টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব গোলাম কিবরিয়া বড় মনিরকে দ্রুত গ্রেফতার করে ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে ভূঞাপুর সচেতন নারী সমাজ। মিছিলে প্রায় ৪ শতাধিক নারী অংশ নেয়।
শনিবার (৮ এপ্রিল) সকাল ১১ টার দিকে সচেতন নারী সমাজের উদ্যোগে ভূঞাপুর পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বর ঘুরে পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলে আওয়ামী লীগ নেতা বড় মনির নামে নানা ধরণের স্লোগানসহ ফাঁসি দাবি জানান তারা। বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে নেতৃত্ব দেন রেখা খাতুন ও সূচি বেগম।
বিক্ষোভ ও সমাবেশে বক্তারা বলেন, গোলাম কিবরিয়া বড় মনির বিরুদ্ধে এক কিশোরীকে অন্ত:সত্ত্বা করার অভিযোগ উঠেছে। তাকে দ্রুত গ্রেফতার ও তদন্ত করে তার ফাঁসি দাবি করছি। যদি তাদের ফাঁসি না দেওয়া হয় তাহলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে ।
উল্লেখ্য, টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব গোলাম কিবরিয়া বড় মনির বিরুদ্ধে কিশোরীকে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগে গত বুধবার ৫ এপ্রিল রাতে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা দায়ের করেন অন্তঃসত্ত্বা এক কিশোরী। বৃহস্পতিবার ৬ এপ্রিল বিকালে ওই কিশোরী আদালতে দন্ডবিধির ২২ ধারায় জবানবন্দি দেয়। টাঙ্গাইলের প্রভাবশালী এমপি’র বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে কিশোরীকে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগে মামলা হওয়ায় জেলার রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে অটো ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা ঈমান আলী (৩৮) নামে এক অটোচালককে গলা কেটে হত্যা করেছে।
শুক্রবার(৭ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে উপজেলার পোড়াবাড়ি আঞ্চলিক সড়কে খাগড়াটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) আজহারুল ইসলাম সরকার।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, নিহত ঈমান আলী উপজেলার দড়িচৈথট্র গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে। সে পেশায় একজন অটোচালক (ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা)।
সে শুক্রবার রাতে উপজেলার গারোবাজার থেকে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি ফিরছিল। ফেরার পথে রাত অনুমান ১০টার সময় অটোরিকশা নিয়ে পোড়াবাড়ি-গারোবাজার সড়কের খাগড়াটা এলাকায় পৌঁছলে ছিনতাইকারীরা সড়ক অবরোধ করে তার অটোরিকশা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।
এ সময় অটোচালক ঈমান আলী বাধা দেয়। তখন ছিনতাইকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে ইমান আলীর গলায় আঘাত করলে তার শ্বাসনালি কেটে যায়। সে আহত অবস্থায়ই অটোরিকশা চালিয়ে লোকালয়ে চলে আসে ও চিৎকার দেয়। তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে গেলে ছিনতাইকারীদল পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ঈমান আলীকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)আজহারুল ইসলাম সরকার জানান, লাশের গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে এক তরুণীকে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগে শহর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বড় মনির ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ মিছিল করেছে টাঙ্গাইলের সচেতন নারী সমাজ।
শুক্রবার (৭ এপ্রিল) সকালে প্রথমেই শহরের ভাসানী হলের সামনে থেকে সচেতন নারী সমাজের ব্যানারে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে এসে মিছিলটি শেষ হয়। পরে শহিদ মিনারের সামনে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন করে তারা।
এ সময় মানব বন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা আওয়ামী লীগ নেতা বড় মনি ও তার ভাই ছোট মনির বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তার সত্যতা নিশ্চিত করে ফাঁসির দাবি জানান। অন্যথায় আগামীতে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
উল্লেখ্য, বুধবার (৪ এপ্রিল) রাত ১০ টার দিকে টাঙ্গাইল সদর থানায় শহর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও বাস মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব গোলাম কিবরিয়া বড় মনির বিরুদ্ধে এক তরুণী ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন। তরুণী দাবি করেন, ধর্ষণের ফলে তিনি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা এবং ডাক্তারী পরীক্ষাতেও এর প্রমাণ মিলেছে। তারপর থেকে শহরে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বইছে।
গোলাম কিবরিয়া বড়মনি টাঙ্গাইল-২ গোপালপুর ভূঞাপুর আসনের সাংসদ তানভীর হাসান ছোট মনির বড় ভাই।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল কারাগারে লাল মিয়া (৩৮) নামে এক যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৭ এপ্রিল) সকালে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। টাঙ্গাইলের জেল সুপার মকলেছুর রহমান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
লাল মিয়া বাসাইল উপজেলার খাটোরা গ্রামের মৃত নাসিম উদ্দিনের ছেলে।
জেল সুপার জানান, লাল মিয়া অ্যাজমাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকাল ৭ টায় তার মৃত্যু হয়। আইনী পক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৮ জুন বাসাইল উপজেলার কাউলজানী গ্রামের বাসিন্দা মনিরুজ্জামান নামে এক ব্যবসায়ীকে হত্যার দায়ে তার ভায়রাকে আমৃত্যু কারাদন্ড এবং শ্যালিকাসহ চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছেন টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. মাসুদ পারভেজ। যাবজ্জীবন দন্ডপ্রাপ্তদের ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাস করে কারাদন্ডের কথা রায়ে বলা হয়েছে।
এরআগে ২০১০ সালের ১২ সেপ্টেম্বর বাসাইলের কাউলজানী গ্রামের আবু বক্কর ভূঁইয়ার ছেলে মনিরুজ্জামান ভূঁইয়া নিখোঁজ হন। তিনদিন পর পাশের মহেশখালী গ্রামের জমির আইল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর নিহতের বাবা আবু বক্কর ভূঁইয়া বাদি হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে বাসাইল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তে এ হত্যার সঙ্গে মনিরুজ্জামানের ভায়রা রেজাউল ইসলাম, শ্যালিকা আলো বেগমসহ আরো কয়েকজনের জড়িত থাকার বিষয়টি বের হয়ে আসে। ২০১১ সালের ৩০ এপ্রিল আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে ৮ জুন এই রায় দেন বিচারক।
দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন- দেলদুয়ার উপজেলার ডুবাইল গ্রামের মো. শামছু মিয়ার ছেলে রেজাউল ইসলাম রেজাকে আমৃত্যু দন্ড এবং রেজাউলের স্ত্রী আলো বেগম, বাসাইল উপজেলার খাটোরা গ্রামের মৃত নাসিম উদ্দিনের ছেলে লাল মিয়া, যশিহাটি গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে রেজভী ও দেলদুয়ার উপজেলার ডুবাইল গ্রামের ফজল মিয়ার ছেলে আলমগীর হোসেনকে যাবজ্জীবন সাজা দেয়া হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় অবৈধভাবে বালু-মাটি উত্তোলনের দায়ে পৃথক পৃথক স্থানে টাঙ্গাইল জেলা ও কালিহাতী উপজেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযানে ৫টি ভেকু, ১টি ড্রেজার মেশিন ও ১ হাজার ফুট পাইপ লাইন বিনষ্টসহ দুইজনকে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত।
বৃহস্পতিবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার পৌলী নদীতে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দীপ ভৌমিক ও সিনথিয়া হোসেনের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এসময় ভ্রাম্যমান আদালত পৌলী নদীর পশ্চিম পাশে অবৈধভাবে মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত ৩টি ভেকু বিনষ্ট করে। পরে দুইজনকে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
জরিমানা প্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন- টাঙ্গাইল পৌর এলাকার বিশ্বাস বেতকার সিদ্দিকুর রহমান রানাকে ১ লাখ ও কালিহাতী উপজেলার পৌলী গ্রামের মোঃ শফিকুল ইসলামকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অপরদিকে একই সময়ে কালিহাতী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ নাহিদ হোসেনের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভার চরভাবলা হাকিমপুর এলাকায় একটি ভেকু ও বাঁশি এলাকায় একটি ভেকু এবং একটি ড্রেজার মেশিনসহ এক হাজার ফুট পাইপ লাইন বিনষ্ট করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কালিহাতী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ নাহিদ হোসেন জানান, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও মাটি কাটা বন্ধে ভ্রাম্যমান আদালতের এ ধরনের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম কিবরিয়া বড় মনির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেছেন এক কিশোরী।
ধর্ষণের ফলে ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। বুধবার (৫ এপ্রিল) রাতে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলায় গোলাম কিবরিয়ার স্ত্রী নিগার আফতাবকেও আসামি করা হয়েছে।
গোলাম কিবরিয়া টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনিরের বড় ভাই এবং টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি।
টাঙ্গাইল সদর থানার ওসি মোহাম্মদ আবু ছালাম মিয়া মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হাবিবুর রহমানকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ওই কিশোরীর ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. খন্দকার সাদিকুর রহমান জানান, গাইনি বিভাগের জুনিয়র কনসালট্যান্ট লুৎফুন্নাহারকে প্রধান করে তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ড করা হয়েছে। এ বোর্ড ওই কিশোরীর ডাক্তারি পরীক্ষা করবে।
ওই কিশোরী নিজে বাদী হয়ে দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করেছেন, বড় মনি তাদের আত্মীয় এবং পূর্ব পরিচিত। হোয়াটসঅ্যাপে তাদের কথা হতো। ওই কিশোরীর ভাইয়ের সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ হয়। ওই কথা বড় মনিকে জানানোর পর তিনি সমস্যা সমাধান করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে গত ১৭ ডিসেম্বর শহরের আদালতপাড়ায় বড় মনির নিজের বাড়ির পাশে একটি ১০ তলা ভবনের চতুর্থ তলা ফ্ল্যাটে যেতে বলেন।
সেখানে যাওয়ার পর শারীরিক সম্পর্ক করার প্রস্তাব দেন। রাজি না হওয়ায় তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে তাকে একটি কক্ষে আটকে রাখেন। প্রায় তিন ঘণ্টা পর কক্ষে প্রবেশ করে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ধর্ষণ শেষে কারো কাছে এ ঘটনা প্রকাশ করতে নিষেধ করেন। প্রকাশ করলে প্রাণে মেরে ফেলা হবে বলে হুমকি দেন।
তার পর প্রতিনিয়ত তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে এবং প্রথমবার ধর্ষণের সময় তোলা ছবি দেখিয়ে প্রতিনিয়ত ধর্ষণ করতেন। মামলায় তিনি উল্লেখ করেন, এই ধর্ষণের ফলে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। এ কথা বড় মনিকে জানালে তাকে গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য চাপ ও হুমকি দিতে থাকেন। কিন্তু সন্তান নষ্ট করতে রাজি না হওয়ায় গত ২৯ মার্চ রাত ৮টার দিকে বড় মনি তার শ্বশুরবাড়ি আদালতপাড়ায় তুলে নিয়ে যান। সেখানে গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন।
রাজি না হওয়ায় ওই বাসায় এক কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরে তাকে সেখানে আবার ধর্ষণ করেন। ধর্ষণের পর বড় মনির স্ত্রী তাকে মারপিট করেন। এতে কিশোরী অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে রাত ৩টার দিকে বাসায় পৌঁছে দেন। তার পর থেকে তাকে নানা হুমকি দেওয়া হতো। শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ থাকার জন্য মামলা করতে বিলম্ব হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করেছেন।

মামলা প্রসঙ্গে গোলাম কিবরিয়া বড় মনি অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, রাজনৈতিকভাবে তাকে হেয় করার জন্য ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তার বিরুদ্ধে এ মামলা করা হয়েছে।