একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ৯০ বছরের এক বৃদ্ধাকে ধর্ষণের অভিযোগে পলাশ (২৬) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৬ এপ্রিল) ভোরের দিকে উপজেলার এলেঙ্গা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত পলাশ উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের কদিমহামজানী গ্রামের শরিফ উদ্দিনের ছেলে।
এর আগে মঙ্গলবার (২৫ এপ্রিল) রাতে পলাশকে আসামি করে ভুক্তভোগীর ছেলে বাদী হয়ে কালিহাতী থানায় মামলা করেন।
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার ভোরে নিজের ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন বৃদ্ধা। তার তিন ছেলে আলাদা আলাদা ঘরে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে থাকেন। বৃদ্ধার গোঙানির শব্দ পেয়ে পাশের ঘর থেকে ছেলের বউ এসে দেখেন দরজা বাইরে থেকে আটকানো। তখন ছেলের বউ চোর এসেছে বলে চিৎকার করেন। এরপর পরিবারের লোকজন ঘরে ঢুকে বৃদ্ধাকে খাটের নিচে পড়ে থাকতে দেখেন। ধর্ষণে বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করলে কিল ঘুষি দিয়ে বৃদ্ধের একটি দাঁত ভেঙে ফেলে অভিযুক্ত। পরে ভুক্তভোগী বৃদ্ধাকে গুরুতর আহত অবস্থায় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অভিযোগ পেয়ে অভিযুক্ত পলাশকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের গাইনী বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. সালমা জাহান জানান, ডাক্তারি পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান জানান, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়। তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার দশকিয়া ইউনিয়নের পালপাড়া গ্রামে ৯০ বছরের এক বৃদ্ধাকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠেছে মাদকাসক্ত এক যুবকের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (২৫ এপ্রিল) সকালে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে তার শারীরিক পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে বলে নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের গাইনি বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. সালমা জাহান।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার দশকিয়া ইউনিয়নের পালপাড়া গ্রামের এক বৃদ্ধা স্বামীর মৃত্যুর পর বাড়ির একটি টিনসেড ঘরে একাই ঘুমাতেন। তার তিন ছেলে পৃথক ঘরে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে থাকেন।
সোমবার(২৪ এপ্রিল) গভীর রাতে চুরির উদ্দেশ্যে ওই বৃদ্ধার ঘরে ঢুকে। পরে জোরপূর্বক ওই বৃদ্ধাকে ধর্ষণ করে। বৃদ্ধার চিৎকারে পাশের ঘরে থাকা বৃদ্ধার পুত্রবধু এগিয়ে আসলে ওই যুবক পালিয়ে যায়।
অভিযুক্ত পলাশ (২৫) উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের কদিম হামজানী গ্রামের শরিফ উদ্দিনের ছেলে।
স্থানীয়রা জানায়, ওই যুবক মাদকাসক্ত। সে মাদকের টাকা জোগাড় করতে প্রায়ই চুরি- ছিনতাই করে থাকে। তাদের ধারণা মাদকের টাকার জন্য ওই যুবক বৃদ্ধার ঘরে ঢুকে। পরে বৃদ্ধাকে একা পেয়ে ধর্ষণ করে। এসময় বৃদ্ধার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায়।
ধর্ষণের শিকার ওই বৃদ্ধার পুত্রবধূ জানান, শ্বাশুড়ির ডাক চিৎকার শুনতে পেয়ে ঘরে গিয়ে শ্বাশুড়িকে বিবস্ত্র অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি। পরে লক্ষ্য করি তার গোপনাঙ্গ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে । প্রতিবেশীদের সহায়তায় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করি।
তিনি আরো জানান, পলাশ নামের ওই যুবককে পালিয়ে যেতে দেখি।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের গাইনি বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. সালমা জাহান জানান, ওই নারীকে ডাক্তারী পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। তার গোপনাঙ্গে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। বর্তমানে ওই নারী হাসপাতালের ৩নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দশকিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমএ মালেক ভূঁইয়া জানান, ঘটনাটি অত্যান্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। তিনি ওই যুবকের শাস্তির দাবি জানান।
এ বিষয়ে কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান জানান, এ ঘটনায় কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে ধলেশ্বরী নদীতে অজ্ঞাত যুবকের (৩৫) লাশ পাওয়া গেছে।
সোমবার (২৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের ইশাপাশা এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৫ এপ্রিল) বিকেল পর্যন্ত উদ্ধারকৃত লাশটির পরিচয় পাওয়া যায়নি।
দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাছির উদ্দিন মৃধা জানান, স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়ার জমি সংলগ্ন প্রবাহমান ধলেশ্বরী নদীতে যুবকের লাশটি ভেসে উঠে। পরে স্থানীয়রা খবর দিলে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
তিনি আরো জানান, ময়না তদন্তের জন্য লাশটি টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অজ্ঞাত যুবকের বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যুবকটিকে কে বা কারা হত্যা করে লাশটি ফেলে রেখে গেছে। এ বিষয়ে পুলিশ বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে বেলাল হোসেন নামের এক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতার মুক্তির দাবিতে সড়ক অবরোধ করছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
সোমবার(২৪ এপ্রিল) পৌনে সাতটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত তারা টাঙ্গাইল-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের ধনবাড়ী উপজেলার ছাতারকান্দি এলাকায় গাছের গুড়ি ফেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ কার্যকর করে। এ সময় আন্দোলনকারিরা দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বানিয়াজানের ব্যবসায়ি রনি হাসানের সাথে বানিয়াজান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেনের সাথে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। এই দ্বন্দ্বের জের ধরে হামলা মামলার ঘটনাও ঘটেছে। গত রোববার (২৩ এপ্রিল) রনি হোসেনের সাথে বেলাল হোসেনে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। এই ঘটনার জের ধরে রনি হোসেন ধনবাড়ী থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে সোমবার বিকেলে বেলাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে ধনবাড়ী থানা পুলিশ। বেলাল হোসেনকে গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে তার কর্মী সমর্থকরা বিকেলেই ধনবাড়ী থানা চত্বরে গিয়ে বিক্ষোভ করে। সন্ধ্যা পর্যন্তও তাকে ছেড়ে না দেওয়ায় তারা টাঙ্গাইল-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের ধনবাড়ী উপজেলার ছাতারকান্দি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কাঠের গুড়ি ফেলে রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে। সন্ধ্যা পৌনে সাতটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ চলাকালে টাঙ্গাইল-জামালপুর মহাসড়কে গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকে।
স্থানীয় যুবলীগের কর্মী তমাল হোসেন জানান, গত ১৯ মার্চ সন্ধ্যায় ব্যবসায়ি রনি হাসান তার সহযোগিদের নিয়ে বেলাল হোসেনের ওপর আক্রমন করে। এতে বেলাল হোসেন গুরুত্বর আহত হয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এই ঘটনায় বেলাল হোসেনের দায়ের করা মামলায় রনি হোসেন সম্প্রতি জামিন নিয়ে আসেন। সোমবার রনি হোসেন দায়ের করা মামলায় বেলাল হোসেনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও এলাকাবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন।
এ ব্যাপারে ধনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন জানান, নেতাদের ভুল বুঝাবুঝি থেকে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে। বেলাল হোসেনকে থানায় আনার পর তার কর্মী সমর্থকরা সড়ক অবরোধ করেছিল। বিষয়টি বসে মীমাংসার আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারিরা সড়ক অবরোধ তুলে নেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ১ কোটি ১৫ লাখ টাকার (১১৫০ গ্রাম) হেরোইনসহ মানিক চান সওদাগর (২৮) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে র্যাব।
রবিবার (২৩ (এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার হামিদপুর বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
আটককৃত ব্যক্তি রাজশাহী জেলার দূর্গাপুর উপজেলার গৌরীহারা গ্রামের স মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে।
র্যাব-১৪, সিপিসি-৩, টাঙ্গাইলের কোম্পানী অধিনায়ক রফিউদ্দীন মোহাম্মদ যোবায়ের রবিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
র্যাব জানায়, রবিবার দুপুর দেড়টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হামিদপুর বাজার এলাকা হতে ১১৫০ গ্রাম হেরোইনসহ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী মানিক চান সওদাগরকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে উদ্ধারকৃত হেরোইনের আনুমানিক বাজার মূল্য ১ কোটি ১৫ লক্ষ টাকা। আটককৃত ব্যক্তি রাজশাহী জেলা হতে মাদকদ্রব্য হেরোইন সংগ্রহ করে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতি নিয়ে এসেছিল। সে আন্ত:জেলা মাদক ব্যবসায়ী চক্রের সদস্য।
র্যাব আরো জানায়,সে দীর্ঘদিন যাবত অভিনব কায়দায় মাদকদ্রব্য টাঙ্গাইলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রয় করে আসছিল। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে কালিহাতী থানায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে এক স্কুলছাত্রীকে (বান্ধবী) ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এসময় স্কুলছাত্রীর দাদি বিষযটি টের পেয়ে চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন বাড়ি থেকে অভিযুক্ত মেহেদী (১৬) এবং সহযোগী শেখ রাফিকে (১৬) কে আটক করে। একই সঙ্গে স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করে। আটকের পর মেহেদী তার বন্ধুদের আটকের খবর দিলে তারা এসে স্কুলছাত্রীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে মেহেদী ও রাফিকে ছিনিয়ে নেন।
শনিবার রাতে উপজেলার খানুরবাড়ী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ছিনিয়ে নেয়ার সময় স্থানীয়দের হাতে ধোলাই খেয়ে বেশ কয়েকজন আহত হয়। পরে আহত রাফি চিকিৎসা নেওয়ার জন্য ভূঞাপুর হাসপাতালে আসে। এ খবর পেয়ে পুলিশ রাফিকে আটক করে।
গ্রেপ্তার শেখ রাফি উপজেলার গোবিন্দাসী গ্রামের মিজানুর রহমান ওরফে জহুরুলের ছেলে এবং অভিযুক্ত একই গ্রামের ইদ্রিস সরকারের ছেলে।
এ ঘটনায় রবিবার ওই স্কুলছাত্রীর মা বাদী মামলা করেছেন। তবে, প্রধান আসামি মেহেদীসহ অজ্ঞাতরা পলাতক রয়েছে।
মেহেদী ও ওই স্কুলছাত্রী একই শ্রেণিতে পড়শোনা করত। এই সুযোগে ওই ছাত্রীকে বিভিন্ন সময় কু-প্রস্তাব দেয়। একপর্যায়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলে তার নগ্ন ছবি মোবাইলে তুলে রাখে। শনিবার রাত ১০টার দিকে ওই ছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে ফেসবুকে ছবি ছেড়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করে।
এ ঘটনায় গোবিন্দাসী ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার লুৎফর মন্ডল জানান, অভিযুক্ত ও তার সহযোগীকে আটক করার পর স্থানীয়রা জানালে ঘটনাস্থলে যাই। পরে ওই ছেলের লোকজন খবর পেয়ে বাড়িতে হামলা চালিয়ে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে ওই ছেলের লোকজন আমার ওপর হামলা করে।
এ ব্যাপারে ভূঞাপুর থানার ওসি মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম জানান, স্কুলছাত্রীর মা ধর্ষণ ও হামলার মামলা করেছে। স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও তার বাড়িতে হামলার ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায় এবং ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর মেডিকেল পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় পলাতক মেহেদীর সহযোগী শেখ রাফিকে হাসপাতাল থেকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া প্রধান আসামি মেহেদীসহ অজ্ঞাতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে অটোরিকসা চালক কিশোরকে খুন করে অটো ছিনতাই করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ধারনা করা হচ্ছে,চালকের মরদেহ ফেলে রেখে ছিনতাইকারী অটোরিক্সা নিয়ে পালিয়েছে।
নিহতের নাম মো. মনি (১৪) সে জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ি উপজেলার পুগলদীঘিয়া গ্রামের মো. রফিক মিয়ার ছেলে।
মধুপুর পৌরসভার কাইদকাইত এলাকার টাঙ্গাইল-জামালপুর মহাসড়কের ব্রীজের পাশে ২০-২৫ ফুট নিচে বেগুন ক্ষেত থেকে এ মরদেহটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের ধারনা,শনিবার ( ২২ এপ্রিল) ঈদুল ফিতরের দিন সন্ধ্যায় কোন এক সময়ে হত্যাকান্ডটি সংগঠিত হয়েছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, স্থানীয়রা শনিবার সন্ধ্যায় বেগুন ক্ষেতে কাজ করতে গিয়ে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে প্রতিবেশীদের জানালে তারা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
নিহতের বড় ভাই রবিন জানান, সে শনিবার ঈদের দিন বিকেল ৩ টার দিকে অটোবাইক নিয়ে বের হয়। বাড়ী ফিরতে দেরি হওয়ায় ফোনে যোগাযোগ করলে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনটি বন্ধ দেখায়। পরে চারদিকে খোঁজাখুঁজি করতে থাকে। এক পর্যায়ে , রবিবার( ২৩ এপ্রিল)সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে মরদেহের ছবি দেখে তারা মধুপুর চলে আসে। মধুপুর থানায় গিয়ে মরদেহ দেখে নিহতের স্বজনরা সনাক্ত করেন এটি নিখোঁজ হওয়া মনির মরদেহ ।
নিহতের স্বজনদের ধারণা অটোবাইক ছিনতাই করে তাকে খুন করা হয়েছে। উদ্ধাকৃত মরদেহের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মধুপুর থানা অফির্সাস ইনচার্জ (ওসি)মাজহারুল আমিন জানান, নিহতদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে জাহানারা (২৪) নামের এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার(২১ এপ্রিল) ভোরে স্বামীর বাড়ি থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
জাহানারা উপজেলার চতলবাইদ দক্ষিণপাড়া এলাকার আনিছ মিয়ার স্ত্রী ও গজারিয়া গ্রামের জোয়াহের আলীর মেয়ে।
গৃহবধূর বাবার বাড়ির সদস্যদের দাবি, তাঁকে খুন করে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে স্বামীর দাবি, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিমান করে আত্মহত্যা করেছেন তিনি।
জাহানারার পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ছয় বছর আগে উপজেলার চতলবাইদ গ্রামের আহাম্মদ আলীর ছেলে আনিছের সঙ্গে জাহানারার বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে আহসান হাবীব (৪) নামের একটি ছেলেও রয়েছে। কয়েক মাস ধরে আনিছ বিদেশে যাওয়ার জন্য জাহানারাকে বাবার বাড়ি থেকে দুই লাখ টাকা এনে দিতে বলছিলেন। কিন্তু এতে রাজি হয়নি জাহানারা। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে পারিবারিক কলহ শুরু হয়। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে খবর আসে জাহানারা ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে।
জাহানারার মা মমতা বেগম জানান, ‘গতকাল বৃহস্পতিবার(২০ এপ্রিল) ৮টার দিকেও মেয়ের সঙ্গে আমার কথা হয়। তখনো সব ঠিকঠাকই ছিল। রাত ১টার দিকে খবর পাই মেয়ে মারা গেছে। কয়েক দিন ধরে মেয়েকে টাকার জন্য নানাভাবে চাপ দিচ্ছিল জামাই।’
চাচাতো ভাই শাওন আহমেদ জানান, ‘খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ওই বাড়িতে যাই। গিয়ে দেখি ঘরের বাইরে বোনের মরদেহ। আমাদের ধারণা, তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান,এ নিয়ে থানায় হত্যা বা আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি।’
স্বামী আনিছ মিয়া জানান, ‘তুচ্ছ ঘটনায় আমার মা-বাবার সঙ্গে রাগ করে আমার স্ত্রী নিজ ঘরেই ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে।’
এ বিষয়ে সখীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল করিম জানান, ‘আপাতত একটি অপমৃত্যুর মামলা নেওয়া হয়েছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।’
একতার কণ্ঠঃ উনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন একটি দোকানে হতদরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করা খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর (ভিজিডি) চাল গোপনে বিক্রি করে পালিয়ে গেছেন ইউপি সচিব শেখ ফরিদ।
বৃহস্পতিবার (২০ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার অলোয়া ইউনিয়ন পরিষদে এই ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয়রা জানায়, অলোয়া ইউনিয়ন পরিষদে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর (ভিজিডি)চাল গত ১৩ এবং ১৪ তারিখে বিতরণ করা হয়। অনিয়ম করে বিতরণ করায় গোডাউনে থেকে যায় অনেক চালের বস্তা। যা বৃহস্পতিবার প্রকাশ্যে বিক্রি করার সময় তাদের নজরে আসে।
তারা আরও জানায়, অলোয়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব শেখ ফরিদ সুশীল নামের এক গ্রাম পুলিশের উপস্থিতিতে স্থানীয় কালোবাজারি আজাদের ভ্যানে ভর্তি করে চালের বস্তা বের করে নেন। পরে তা পরিষদ সংলগ্ন এক ওষুধের দোকানে নিয়ে সরকারি পাটের বস্তা থেকে
প্লাস্টিকের বস্তায় পরিবর্তন করেন। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়। তবে প্রশাসনের লোকজন আসার আগেই সচিব ও কালোবাজারি আজাদ পালিয়ে যায়। এরপর অভিযান চালিয়ে প্রশাসনের লোকজন বিক্রি করা চাল জব্দ করেন।
গ্রাম পুলিশ সুশীল জানান, আমি বাড়িতে ছিলাম।সচিব ফোন করে পরিষদে আসতে বলেন এবং খালি বস্তা গুনতে বলেন। পরিষদে গিয়ে দেখি আজাদ ভ্যান গাড়িতে চাল তুলছেন। পরে আর কিছু জানিনা। আজাদ মাঝে মধ্যেই পরিষদ থেকে এভাবে চাল নেয়।
এ বিষয়ে অলোয়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব শেখ ফরিদের বক্তব্যের জন্য মোবাইল ফোনে বারবার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অলোয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিক জানান, কয়েকদিন আগে ভিজিডির চাল বিতরণ করা হয়। এসময় কয়েকজন কার্ড নিয়ে না আসায় চালগুলো গোডাউনে রাখা হয়। সকালে খবর পেয়ে পরিষদের গুদামের তালা ভেঙে দেখি চালের বস্তাগুলো নেই।
তিনি আরো জানান, এছাড়া সচিবকেও পরিষদে পাওয়া যায়নি। পরে ইউএনও’র উপস্থিতিতে আজাদ মিয়ার দোকান থেকে ১০ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বেলাল হোসেন জানান, চাল উদ্ধারের ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া অভিযোগ উঠা ওই সচিবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত জানানো হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বেকারি পণ্য তৈরি, মেয়াদউত্তীর্ণ তারিখ না থাকা, ক্ষতিকারক রঙ ও পোড়া তেল ব্যবহার করে চিপস তৈরির অপরাধে দুই কারখানা মালিককে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে কালিহাতী উপজেলার হাতিয়া ও সল্লা বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
জরিমানাপ্রাপ্ত দুই কারখানা হলো- সাদেক বেকারী ও মেসার্স মম ফুড প্রোডাক্টস।
অভিযান পরিচালনা করেন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শিকদার শাহীনুর আলম।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শিকদার শাহীনুর আলম জানান, নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বেকারি পণ্য তৈরি ও পোড়া তেল ব্যবহার করে চিপস তৈরি করায় সাদেক বেকারীকে ৫ হাজার টাকা এবং মেসার্স মম ফুড প্রোডাক্টকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, এ ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
একতার কণ্ঠঃ ধর্ষণ মামলায় টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি গোলাম কিবরিয়া ওরফে বড় মনি এবং তাঁর স্ত্রী নিগার আফতাব হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন পেয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনের বিচারপতি ইকবাল কবির ও এ কে এম রবিউল হোসেনের আদালত তাঁদের চার সপ্তাহের আগাম জামিন মঞ্জুর করেন।
গোলাম কিবরিয়া টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ওরফে ছোট মনির ভাই ও জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব।
গোলাম কিবরিয়ার আইনজীবী মো. এহসান হাবিব জানান, গোলাম কিবরিয়া ও তাঁর স্ত্রী নিগার আফতাবকে চার সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছেন আদালত। চার সপ্তাহ শেষ হওয়ার আগেই তাঁদের টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করতে হবে।
শুনানিতে গোলাম কিবরিয়ার পক্ষে অংশ নেন সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন ফকির, সাবেক সহসভাপতি শহিদুল ইসলামসহ কয়েকজন আইনজীবী।
প্রসঙ্গত, ৫ এপ্রিল রাতে এক কিশোরী বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় গোলাম কিবরিয়া ওরফে বড় মনির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন। মামলায় গোলাম কিবরিয়ার স্ত্রী নিগার আফতাবকেও আসামি করা হয়। মামলায় ওই কিশোরী (১৭) অভিযোগ করেন, গোলাম কিবরিয়া তার পূর্বপরিচিত। গত ১৭ ডিসেম্বর তাকে শহরের আদালত পাড়ায় নিজের বাড়ির পাশের একটি ভবনে গোলাম কিবরিয়া ডেকে নেন। সেখানে তাকে ধর্ষণ করেন ও আপত্তিকর ছবি তুলে রাখেন। পরে আপত্তিকর ওই ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় বলে ওই কিশোরী মামলায় অভিযোগ করেছেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, একপর্যায়ে ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। বিষয়টি গোলাম কিবরিয়া জানার পর সন্তান নষ্ট করার জন্য চাপ দিতে থাকেন। তবে কিশোরী রাজি না হওয়ায় গত ২৯ মার্চ তাকে শহরের আদালত পাড়ায় গোলাম কিবরিয়ার শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটি কক্ষে ওই কিশোরীকে গোলাম কিবরিয়া আবার ধর্ষণ করেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে মরা গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত।
শনিবার (১৫ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে উপজেলার অলোয়া ইউনিয়নের অলোয়া মিঞা বাড়ি মোড় এলাকায় মাংস বিক্রি করার সময় ওই ব্যবসায়ীকে কারাদণ্ড প্রদান করেন উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাহিমা বিনতে আখতার।
এরআগে ১শ ৫০ কেজি ওজনের মরা গরু কেটে বিক্রি করছিল ওই মাংস ব্যবসায়ী।
দণ্ডপ্রাপ্ত মাংস ব্যবসায়ী হাসমত (৪৪) উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের হামিদ মন্ডলের ছেলে ।
জানা গেছে, মাংস ব্যবসায়ী হাসমত দীর্ঘদিন যাবদ অসুস্থ্য মরা গরু সংগ্রহ পূর্বক জবাই করে বিভিন্নস্থানে বিক্রি করে আসছিলেন। শনিবার রাতে অলোয়ার মিঞা বাড়ি মোড় এলাকায় বাজার দরের চেয়ে কম দামে গরুর মাংস বিক্রি করায় স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরে মরা গরু বিক্রির বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করা হয়। খবর পেয়ে প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে মাংস ব্যবসায়ীকে হাতে- নাতে আটক করে। এসময় মাংস ব্যবসায়ী হাসমত মরা গরুর বিক্রির কথা স্বীকার করে।
ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বেলাল হোসেন জানান, মরা গরুর মাংস বিক্রির খবর পেয়ে ভেটেনারী সার্জনসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাংস ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। পরে ওই মাংস ব্যবসায়ী মরা গরু বিক্রির কথা স্বীকার করায় তাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
তিনি আরো জানান, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।