একতার কণ্ঠঃ ট্রান্সফরমার চুরি ঠেকাতে আর চোর ধরে দিতে পারলে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন টাঙ্গাইলের সখীপুর পিডিবির (বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু বকর তালুকদার।
গত ১০ দিনে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার ১৭টি ফিডারের আওতাধীন ৬টি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি হয়। এতে ভোগান্তি পোহায় বিদ্যুতের গ্রাহকরা। ধারাবাহিক এ চুরির ঘটনায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এখন আতঙ্ক বিরাজ করছে। চুরির ঘটনায় সখীপুর ও মির্জাপুর থানায় মামলা দায়ের করাসহ চুরি ঠেকাতে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ওই পুরস্কার ঘোষণার আহবান করেন ওই কর্মকর্তা।
বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা যায়, সখীপুর উপজেলা থেকে এ উপজেলাসহ পাশ্ববর্তী ৮টি উপজেলার আংশিক বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। ১৭টি ফিডারের আওতায় এ কার্যক্রম চলে। মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের গাইড়াবেতীল রবি টাওয়ার এলাকা থেকে ১৮ মার্চ ২টি, দাড়িয়াপুর ইউনিয়নের লাঙ্গুলিয়া শিকদার বাড়ী এলাকা থেকে ১৯ মার্চ ১টি, ২২ মার্চ গজারিয়া ইউনিয়নের পাথরপুর বাঘবেড় এলাকা থেকে ১টি ও একই ইউনিয়নের পাথরপুর চৌরাস্ত থেকে ১টি এবং মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের মোথারচালা এলাকা থেকে ২৫ মার্চ রাতে ১টি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটে। আরও ৪টি ট্রান্সফরমার চুরির উদ্দেশ্যে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলেও নিতে পারেনি, সেগুলো বিদ্যুৎ অফিসে আনা হয়েছে। ট্রান্সফরমার চুরি ও যন্ত্রাংশ নষ্ট হওয়ায় বিদ্যুৎ অফিসের প্রায় ১০-১২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ওইসব ঘটনায় মির্জাপুর থানায় ২টি এবং সখীপুর থানায় ১টি মামলা করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, মধ্যে রাতে বিদ্যুৎ চলে যায়। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার স্বাভাবিক ঘটনা মনে করেন তারা। কিন্তু পরে সকালে শুনতে পান ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। এ কারণে চুরি যাওয়া ট্রান্সফরমারের আওতাধীন প্রায় ৯’শ পরিবার চরম ভোগান্তিতে পড়েন। ৫টি ট্রান্সফরমার সংযোগ দেওয়া হলেও উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের পাথারপুর চৌরাস্তার ট্রান্সফরমারটি এখনও সংযোগ দেওয়া হয়নি।
লাঙ্গুলিয়া গ্রামের বিদ্যুৎ গ্রাহক হোসেন জানান, রাতে ট্রান্সফরমার চুরি হয়। পরের দিন সকালে বিদ্যুৎ অফিসকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। এর দুই দিন পর বিদ্যুৎ অফিস আমাদের ট্রান্সফরমার সংযোগ দিয়েছে। ট্রান্সফরমারের জন্য কোন টাকা লাগেনি, শুধু সংযোগ দেওয়ার সময় কর্মচারীদের খরচ দেয়া হয়েছে।
বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির বিষয়টি নিশ্চিত করে গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এড. মো. আনোয়ার হোসেন জানান, যারা বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরফমার চুরি করেছে তারা সমাজ, দেশ ও জাতির শত্রু। এদের প্রতিহত করতে যার যার অবস্থান থেকে সর্তক থাকতে হবে। চুরির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য উপজেলা বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রেজাউল করিম জানান, ট্রান্সফরমার চুরির বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। দ্রুত আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে সখীপুর পিডিবির (বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু বকর তালুকদার জানান, আমি গত ২০ মার্চ কর্মস্থলে যোগদান করেছি। আমি ও আমার সহকারী প্রকৌশলী চুরির ঘটনাস্থল গুলোতে গিয়েছি। স্থানীয়দের সাথে কথা বলেছি কিন্তু সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য পাইনি। এ কারণে জড়িত ব্যক্তিদের সনাক্ত করতে পারিনি। গ্রাহকরা যাতে ক্ষতিগ্রস্থ না হয় এজন্য দ্রুত সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়েছে। বৈদ্যুতিক মালামাল চুরির ঘটনায় বিদ্যুতায়ন আইনে থানায় অজ্ঞাত নামে মামলা করেছি।
তিনি আরও জানান, চোর ধরিয়ে দিতে পারলে আমার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে তাকে ১০হাজার টাকা পুরষ্কার দেওয়া হবে বলেও ঘোষণা দিয়েছি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে টেংরা মাদলা খাল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির বহিস্কৃত কোষাধ্যক্ষ ও আওয়ামীলীগ নেতা মান্নান শিকদারের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মানববন্ধন করেছে ওই সমিতির সদস্যরা।
বুধবার (২৯ মার্চ) সকালে উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের টেংরা মাদলা খাল সমিতির কার্যালয়ে সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানব বন্ধনে মান্নান শিকদারের বিরুদ্ধে সমিতি ও সদস্যদের ৭ লাখ ৬৮ হাজার টাকা আত্মসাতসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
মান্নান শিকদার কাকড়াজান ইউনিয়ন আ.লীগের সহ-সভাপতি এবং ওই সমিতির সাবেক কোষাধ্যক্ষ।
ওই সমিতির সদস্য রেবেকা বলেন, মান্নান শিকদার সমিতির অর্থ সম্পাদক থাকা কালে গাভী দেওয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নিয়েছে। টাকা চাইতে গেলে মামলার ভয় দেখায়। তাই ইউএনও’র কাছে অভিযোগ করেছি। আমার মত আরো ৫ জন সদস্যের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। আমরা এই প্রতারকের বিচার চাই।
ওসমান গণি বলেন, এ সমিতিতে বৃক্ষরোপনের একটি প্রকল্প আসে। মান্নান শিকদার তার লোকবল নিয়ে রাতের আঁধারে সেই গাছগুলো তুলে ফেলেছে। ওই প্রতারকের আমরা বিচার চাই।
টেংরা মাদলা খাল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির
সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি সদস্য রুহুল আমীন জানান, ৬ জন সদস্য ও সমিতির নিজস্ব তহবিল হতে ৭ লাখ ৬৮ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মান্নান শিকদারকে সর্ব সম্মতিক্রমে কোষাধ্যক্ষ পদ থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। টাকা আত্মসাৎ ঘটনায় আদালতে মামলা করা হয়েছে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সে আমাদের বিরুদ্ধে নানাভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।
এ বিষয়ে আওয়ামীলীগ নেতা মান্নান শিকদার জানান, আমি সমিতির কোন টাকা আত্মসাৎ করিনি। অভিযোগগুলো মিথ্যা।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের পুকুর থেকে মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে পাথরাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।
স্থানীয়রা জানান, ইউপি চেয়ারম্যান রামপ্রসাদ সরকার রাস্তা সংস্কারের নামে এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে স্কুলের পুকুর থেকে মাটি কাটা শুরু করেন। এখন তার লোকজন রাতে মাটি কেটে বিক্রি করছেন।
পাথরাইল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা পুকুরের মাটি কেটে বিক্রির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য গত ২৬ মার্চ দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেছেন।
লিখিত অভিযোগে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা জানান, পাথরাইল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের তিন দিক ঘিরে রয়েছে বড় একটি পুকুর। বৃষ্টি ও বন্যার কারণে পুকুরে পাড় ভেঙে পড়েছে। স্কুলের পূর্বপাশের একটি রাস্তাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য গত মাসে সরেজমিন স্কুল পরিদর্শন করেন। সে সময় তিনি রাস্তা সংস্কারের জন্য বলে আসেন। ১০/১২ দিন আগে ইউপি চেয়ারম্যান রামপ্রসাদ সরকার স্কুলের পুকুরের মাটি কেটে পুকুরের পাড় বাঁধানো এবং রাস্তা সংস্কার কাজ শুরু করেন। কিন্তু এখন সেই পুকুরের মাটি কেটে বাইরে বিক্রি করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৮ মার্চ) দুপুরে সরেজমিন পাথরাইল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, পুকুরটিতে এখন পানি নেই। পুকুর পাড়ের বিভিন্ন অংশ থেকে মাটি কাটার চিহ্ন রয়েছে। দুই জায়গা দিয়ে পুকুরে ট্রাক্টর ও ভেকু (মাটি কাটার যন্ত্র) নামানোর জন্য রাস্তা করা হয়েছে। উত্তর পূর্ব পাশে নামানো রয়েছে একটি ট্রাক্টর চালিত ট্রলি। পশ্চিম দিকে ভেকু দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। ইউপি চেয়ারম্যানের অনুসারী ১০/১২ জন যুবক মাটি কাটার কাজ তদারকি করছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ১০/১২ দিন আগে মাটি কাটা শুরু হয়। দিনে মাটি কেটে পুকুরের পাড় বাঁধাই ও রাস্তা সংস্কার করা হয়। কিন্তু রাতভর মাটি কেটে অন্যত্র বিক্রি করা হয়। রাত ১টার পর থেকে ভোর পর্যন্ত ট্রাক্টর চালিত ট্রলি দিয়ে মাটি পাচার করা হয়। এলাকাবাসীর বাঁধার মুখে কয়েক দিন মাটি কাটা বন্ধ ছিলো। গত ২৪ মার্চ থেকে আবার মাটি কাটা শুরু হয়েছে। যেহেতু, চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে মাটি বিক্রি হচ্ছে তাই স্থানীয় লোকজন মানুষ কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দ্বীনবন্ধু প্রামানিক জানান, রাস্তা সংস্কার ও পুকুরের পাড় বাঁধানোর জন্য মাটি কাটার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে সেখান থেকে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে কিনা তা আমার জানা নেই।
বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র নীল কমল বসাক জানান, রাতভর মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। পুকুর গভীর হচ্ছে। বর্ষায় স্কুলের স্থাপনা ও যে রাস্তা সংস্কার করা হয়েছে তা হুমকির মধ্যে পড়ার সম্ভাবনা দেখা দেবে। এলাকাবাসী বাঁধা উপেক্ষা করে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে।
পাথরাইল ইউপি চেয়ারম্যান রাম প্রসাদ সরকার জানান, স্কুল কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই পুকুরের মাটি কেটে রাস্তা সংস্কার করা হচ্ছে। মাটি বিক্রির যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সত্য নয়।
দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানা আলী জানান, পাথরাইল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের পুকুর থেকে রাতে মাটি কাটার বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। দেলদুয়ার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে সেখানে যেন রাতে পুলিশের টহল টিম থাকে।
একতার কণ্ঠঃ জয়দেবপুর-টাঙ্গাইল রেল সড়কের মির্জাপুর রেল স্টেশনের অদূরে দুটি ট্রেন লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করা হয়েছে। এতে মৈত্রী এক্সপ্রেসের চালক তৌহিদুজ্জামানসহ ৬ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২৪ মার্চ) দুপুর ও রাতে মির্জাপুর ট্রেন স্টেশন এলাকার বাওয়ার কুমারজানি পূর্বপাড়া ও পশ্চিমপাড়া এলাকায় ঢাকাগামী মৈত্রী এক্সপ্রেস ও খুলনাগামী চিত্রা এক্সপ্রেস নামক দুটি ট্রেনে ওই ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় আহত চালক তৌহিদুজ্জামান রেলওয়ে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে শনিবার (২৫ মার্চ) দুপুরে ঢাকা ও টাঙ্গাইল থেকে রেলওয়ে পুলিশের কর্মকর্তারা মির্জাপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বলে জানান মির্জাপুর রেল স্টেশন মাস্টার কামরুল হাসান।
ঢাকা থেকে খুলনাগামী চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় আহত হন সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার রায়দৌলৎপুর গ্রামের আব্দুস ছবুরের ছেলে ইলিয়াস সরকার।
আহত এই ট্রেনযাত্রী জানান, শুক্রবার (২৪ মার্চ) রাত সাড়ে ৭টার দিকে তিনি ঢাকার কমলাপুর থেকে সিরাজগঞ্জের উদ্দেশ্যে ওই ট্রেনে উঠেন।
রাত আনুমানিক ৯টার দিকে মির্জাপুর রেল স্টেশনে পৌঁছানোর ঠিক আগ মুহূর্তে আচমকা পাথর এসে তার কপালে আঘাত করে এবং কপাল ফেটে রক্ত ঝরতে থাকে। এ ঘটনায় তার পাশের আরও ৪ যাত্রী আহত হন বলে জানান তিনি।
ওই সময় ট্রেনে অবস্থানকারী পাকশী রেলওয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) নাজিউর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আহতদের ট্রেনেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে একই দিন বেলা ৩টার দিকে কলকাতা থেকে ঢাকাগামী মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনটি মির্জাপুর স্টেশন এলাকায় পৌঁছানোর পর দুর্বৃত্তরা ওই ট্রেনে পাথর ছোড়ে। এ ঘটনায় ওই ট্রেনের চালক তৌহিদুজ্জামান গুরুতর আহত হন বলে জানান মির্জাপুর ট্রেনস্টেশনের স্টেশন মাস্টার কামরুল হাসান।
তিনি আরো জানান, শনিবার (২৫ মার্চ) তার (চালকের) চোখে অস্ত্রপচার হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের খবর পেয়ে শনিবার (২৫ মার্চ) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ঢাকা রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফেরদৌস আহমেদ, টাঙ্গাইল রেলওয়ে পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ফজলুর রহমান ও মির্জাপুর থানা পুলিশ। তারা পৌর কাউন্সিলর আজম সিদ্দিকী, হাফিজুর রহমান, রওশনারা বেগম, সাবেক কাউন্সিলর সাইজুদ্দিনসহ স্থানীয় কয়েকজন তরুণ-যুবকদের নিয়ে বৈঠক করেন।
ঢাকা রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফেরদৌস আহমেদ জানান, ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেন নি। তবে ঢাকা রেলওয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে কাফনের কাপড় মোড়ানো অবস্থায় নবজাতকের লাশ উদ্ধার করেছে কালিহাতী থানা পুলিশ।
শুক্রবার (২৪ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলার আউলটিয়া বেতবন থেকে নবজাতকের লাশটি উদ্ধার করা হয়। কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলা বাংড়া ইউনিয়নের আউলটিয়া এলাকায় বেতবাগানে আনুমানিক এক দিন বয়সী একটি নবজাতকের লাশ সবার অগোচরে কে বা কারা ফেলে রেখে যায়। পথচারীরা কাফনের কাপড় মোড়ানো নবজাতকের লাশটি দেখতে পেয়ে কালিহাতী থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ এসে লাশটি উদ্ধার করে।
কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান জানান, নবজাতকের লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরো জানান, এ ব্যাপারে থানায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে কে বা কারা মৃত নবজাতকের লাশ ফেলে রেখে গেছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়ায় নিখোঁজের ৪ দিন পর রিনা বেগম (২০) নামের এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৪ মার্চ) সকালে করটিয়া জমিদার বাড়ীর পুর্ব তরফের পুকুর থেকে ওই লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশ উদ্ধারের পর থেকে তার স্বামী মনির হোসেন পলাতক রয়েছে।
নিহত রিনা বেগম করটিয়া ঢুলিপাড়া গ্রামের মো. ফারুক হোসেনের মেয়ে।
জানা যায়, ৪ বছর পুর্বে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া পুর্বপাড়ার মো. রাজনের ছেলে মনির হোসেনের(২৫) সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় রিনা বেগমের। তাদের ঘরে ১১ মাসের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। সোমবার (২০ মার্চ) গভীররাতে তাকে খুজে পাওয়া যাচ্ছেনা বলে স্বামী মনির এলাকায় প্রচার চালায়। শুক্রবার সকালে জমিদারবাড়ীর পুর্ব তরফের পুকুর পাড়ে হাটাহাটির সময় পুকুরে পাঁ ভেসে থাকতে দেখে চিৎকার করে উঠে স্থানীয় এক কিশোর। পরে স্থানীয়রা এসে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করলে রিনার লাশ বলে সকলে শনাক্ত করে তার স্বজনরা। লাশ উদ্ধারের পর থেকে নিহত গৃহবধূর স্বামী পলাতক রয়েছে।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, নিহত রিনা বেগমের স্বামী মনির অপপ্রচার চালায় তার স্ত্রীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা। তিনি আরো অপপ্রচার চালায় তার স্ত্রী অন্যকোন ছেলের সাথে পালিয়ে গেছে। কথাটি আমরা কেই বিশ্বাস করিনি।
তারা আরো জানান, তখন থেকেই আমাদের সন্দেহ ছিলো। কারন আমরা রিনা বেগম সর্ম্পকে জানতাম। সে অত্যান্ত নম্র-ভদ্র ও সংসারী মেয়ে ছিলো। তাছাড়া ১১ মাসের শিশু বাচ্চা রেখে রিনা পরপুরুষের সাথে পালিয়ে যাওয়ার মত মেয়ে না। লাশ উদ্ধারের পরপরই স্বামীসহ পরিবারের সকলেই পলাতক রয়েছে।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) আব্দুস ছালাম মিয়া জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশটি উদ্ধার করে।
তিনি আরো জানান, নিহতের লাশ ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের কালিহাতী উপজেলার বাগুটিয়া ব্রিজের পাশে বুধবার (২২ মার্চ) রাতে অভিযান চালিয়ে সাড়ে ৮৭ লাখ টাকা মূল্যের নকল ব্যান্ডরোল সহ মো. রাসেল মাহমুদ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ(ডিবি দক্ষিণ)।
গ্রেপ্তারকৃত মো. রাসেল মাহমুদ ওরফে নুর আমিন বগুড়া সদর উপজেলার তেলিহারা দক্ষিণ পাড়া গ্রামের জিন্নাহ প্রামানিকের ছেলে।

টাঙ্গাইল জেলা গোয়েন্দা পুলিশের(ডিবি-দক্ষিণ) অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন জানান, গোপনে খবর পেয়ে ডিবির একটি চৌকষ দল বুধবার (২২ মার্চ) রাতে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের বাগুটিয়া ব্রিজের পশ্চিম পাশে অভিযান চালায়। অভিযানে ১০ লাখ ৮০ হাজার ৪৮০টি নকল ব্যান্ডরোল সহ মো. রাসেল মাহমুদ ওরফে নুর আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। জব্দকৃত নকল ব্যান্ডরোলের মূল্য ৮৭ লাখ ৫১ হাজার ৮৮৮ টাকা। তার বিরুদ্ধে কালিহাতী থানায় ১৯৭৪ সনের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫অ/২৫অ(ন) ধারায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে কৌশলে নকল ব্যান্ডরোল প্রস্তুত ও বিকিকিনির মূল হোতাদের সনাক্ত এবং গ্রেপ্তারের লক্ষে ১০(দশ) দিনের পুলিশ রিমান্ড চেয়ে গ্রেপ্তারকৃত মো. রাসেল মাহমুদ ওরফে নুর আমিনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে বিষাক্ত নেশা জাতীয় ‘স্পিরিট’ পান করে ৪ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরো দুইজন গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের পালিমা বাজারের জনসেবা হোমিও ফার্মেসী থেকে গত শনিবার( ১৮ মার্চ) রাতে বিষাক্ত ‘স্পিরিট’ পান করায় বিভিন্ন সময়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মৃত্যুবরণ করেন।
এদিকে বিষাক্ত ‘স্পিরিট’ পান করে মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় আতংক ও শোক বিরাজ করছে।
স্থানীয়রা বলেন, শুধু নারান্দিয়া নয় উপজেলার বিভিন্ন এলাকা মাদকে ছেয়ে গেছে। এতে এলাকার যুবসমাজ ধ্বংসের পথে। এ এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
জানা যায়, শনিবার (১৮ মার্চ) রাতে বিষাক্ত ‘স্পিরিট’ পান করে অসুস্থ হওয়ায় পাঁচ জনকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শনিবার রাত ও রবিবার (১৯ মার্চ) সকালের মধ্যে ৩ জনের মৃত্যু হয়। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে রবিবার রাত ২টার দিকে পালিমা গ্রামের মৃত ছামান আলীর ছেলে ফারুক মিয়া (৩৫) ও সোমবার (২০ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কুচুটি গ্রামের মৃত কোরবান আলীর ছেলে জুলহাস মিয়া (৪২) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কুচুটি গ্রামের মৃত বক্কর আলীর ছেলে আমছের আলী (৫০) নিজ বাড়িতে মারা যান। অন্যদিকে তারাপদ কর্মকার নামের আরেক ব্যক্তি একই দোকানের ‘স্পিরিট’ পান করে সম্প্রতি মারা গেছেন।
এ ঘটনায় অসুস্থরা হচ্ছেন- বিলপালিমা গ্রামের মুক্তার আলীর ছেলে মেহেদী ও কুচুটি গ্রামের জুয়েল। এরমধ্যে মেহেদীকে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে পারিবারিক সূত্রে জানাগেছে। এ ঘটনার পর থেকে পালিমা বাজারের জনসেবা হোমিও ফার্মেসি বন্ধ করে দোকানের মালিক-কর্মচারীরা পলাতক রয়েছেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আতিকুর রহমান জানান, নিহত জুলহাস, আমছের আলী, ফারুকসহ পাঁচজন শনিবার (১৮ মার্চ) রাতে পালিমা বাসস্ট্যান্ডের জনসেবা হোমিও ফার্মেসী থেকে অ্যালকোহল জাতীয় ‘স্পিরিট’ কিনে পান করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদেরকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুইজন ও বাড়িতে এসে একজন মারা গেছেন। মেহেদী নামে একজনকে ঢাকা একটি হাসপাতালে স্থানান্তর (রেফার্ড) করা হয়েছে। অন্যদিকে তারাপদ কর্মকার নামের আরেক ব্যক্তি ‘স্পিরিট’ পান করে সম্প্রতি মারা গেছেন।
নারান্দিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদ তালুকদার জানান, দীর্ঘদিন ধরে পালিমা বাসস্ট্যান্ডের জনসেবা হোমিও ফার্মেসী থেকে অ্যালকোহল জাতীয় ‘স্পিরিট’ বেচাকেনা হচ্ছে। ফার্মেসীতে অবৈধ ‘স্পিরিট’ বিক্রি বন্ধের জন্য জনসেবা ফার্মেসির মালিক সামাদকে আগেও নিষেধ করা হয়েছিল।
তিনি আরো জানান, এলাকার প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় নারান্দিয়া বাজারের ব্যবসায়ী বিবেক মোদক দীর্ঘদিন যাবত মদ ও ‘স্পিরিট’ বিক্রি করে আসছে। মাদক বিক্রির দায়ে এরআগেও তিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন।
কালিহাতী থানার নারান্দিয়া বিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআই মিন্টু চন্দ্র ঘোষ জানান, শুক্রবার (২৪ মার্চ) দুপুরে নারান্দিয়া বাজারের কালিমন্দিরের পাশের একটি মুদি দোকান থেকে অবৈধ মদ বিক্রির সময় বিবেক মোদক নামে এক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান জানান, ‘স্পিরিট’ পান করে নিহত হওয়ার ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না। থানায় কেউ অভিযোগও করেন নাই। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ অধিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে একসময় নানাজনের কাছ থেকে মূলধন সংগ্রহ করেন রুবেল সিকদার। বিভিন্নজন থেকে সংগ্রহ করা কোটি টাকার সেই বিশাল অংকের মূলধন দিয়ে রুবেল খুলে বসেন হরেক রকমের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।
জমি বেচা-কেনা, বিভিন্ন পন্যের শো-রুম, গাড়ি কিনে শুরু করেন রেন্ট এ কারের ব্যবসা। পরিবর্তন আসে চলা ফেরায়। রুবেলের এমন ‘হঠাৎ’ কোটিপতি বনে যাওয়া নিয়ে এলাকায় চলতো নানা কানাঘোষা। এরপর ‘হঠাৎ’ কোটিপতি রুবেল উধাও হয়ে যান হঠাৎ করেই। ভুক্তভোগীরা মামলা করেন কোর্টে। ভুক্তভোগীদের করা ৮টি মামলায় ৬৬ মাসের সাজা হয় তার। ওয়ারেন্ট বের হয় অন্য আরো দুটি মামলার। কিন্তু রুবেল থেকে যায় অধরা।
অবশেষে বুধবার (২২ মার্চ) বাহ্মনবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ থানা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন অভিযান পরিচালনাকারী মির্জাপুর থানার পরিদর্শক মো. গিয়াসউদ্দিন পিপিএম। তিনি বলেন, অনেক চেষ্টার পর তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় রুবেলকে আশুগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রুবেল সেখানে তার এক আত্মীয়কে সাথে নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন বলে তিনি জানান।
কোর্টে মামলা করা কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, ভাল মুনাফার কথা বলে রুবেল তাদের কাছ থেকে টাকা নেন। কয়েক মাস ঠিকঠাক মতো ব্যবসায়ের হিসাব ও লভাংশ দিলেও হঠাৎ আত্মগোপনে চলে যায় রুবেল। এরপর টাঙ্গাইল আদালতে চেক ডিজঅনারের মামলা করেন তারা।
মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম জানান, গ্রেপ্তারকৃত রুবেল দীর্ঘদিন যাবৎ জালিয়াতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের প্রতারণা করছিলো। তার বিরুদ্ধে ১০টি মামলার ওয়ারেন্ট ছিলো যেগুলোর ৮টিতে তিনি সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া এক স্কুল ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রী বর্তমানে ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
এ ঘটনায় বুধবার (২২ মার্চ) সকালে ওই শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে সখীপুর থানায় মামলা করেন। পরে অভিযুক্ত হাবিবুর রহমানকে (৬৫) গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
অভিযুক্ত হাবিবুর রহমান উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের বৈলারপুর গ্রামের মৃত ওয়াজেদ আলীর ছেলে।
ভুক্তভোগীর পরিবার জানিয়েছে, হাবিবুর রহমান ওই স্কুল ছাত্রীর সম্পর্কে প্রতিবেশী দাদা। এর সুবাদে মেয়েটির বাড়িতে তার যাওয়া আসা ছিল। কয়েকমাস আগে ফুসলিয়ে এবং প্রলোভন দেখিয়ে ওই স্কুলছাত্রীকে প্রথমে ধর্ষণ করে হাবিবুর রহমান। এরপর নানা ভয়-ভীতি ও হুমকি দিয়ে তাকে নিয়মিত ধর্ষণ করে। সম্প্রতি ধর্ষণের শিকার ওই স্কুল ছাত্রীর শারীরিক গঠনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দেয়। পরে ডাক্তারি পরীক্ষা করানো হলে তার গর্ভে ৫ মাসের সন্তানের বিষয়টি ধরা পড়ে।
মামলার বাদি এবং ওই ছাত্রীর বাবা জানান, আমরা গরীব মানুষ। বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য এলাকার অনেকেই আমাদের ভয় ভীতি দেখাইছে। আমি এ ঘটনার সঠিক বিচার চাই।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সালাউদ্দিন মিয়া (ওসি তদন্ত) জানান, এ ঘটনায় অভিযুক্ত হাবিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরো জানান, ওই স্কুল ছাত্রীকে মেডিকেল করার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মারপিটের ঘটনায় মো. রফিকুল ইসলাম(৩২) নামে এক যুবক টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়ায় প্রাণ নাশের হুমকির দিয়েছে আব্দুস ছালাম (৪২) নামের এক আদম ব্যবসায়ী। বর্তমানে প্রাণ ভয়ে বসত ভিটে ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন ওই যুবক।
বুধবার(২২ মার্চ) সকালে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপারের অফিসে এ অভিযোগ দেন।
ওই আদম ব্যবসায়ী আব্দুস ছালাম উপজেলার বড়বাজু দেউপুর গ্রামের মৃত মর্তুজ আলীর ছেলে।
রফিকুল ইসলাম উপজেলার সল্লা ইউনিয়নের দেউপুর গ্রামের মৃত রেজাউল করিমের ছেলে।

জানাগেছে, উপজেলার সল্লা ইউনিয়নের বড়বাজু দেউপুর মৌজার ১১২ ও ১১৪ দাগের সাড়ে ১২ শতাংশ ভুমি রফিক পৈত্রিকসুত্রে পান। কিছুদিন পুর্বে সে তার মা রোকেয়া বেগমকে জমি দুটি লিখে দেন। সম্প্রতি ওই সম্পত্তির খাজনা-খারিজ তার মায়ের নামে করে দিতে গেলে উক্ত দুই দাগে সম্পত্তি ভোগকারী তার চাচা আব্দুস ছালাম তাতে বাঁধা প্রদান করে। চাচার কথা না শুনায় প্রতিহিংসার বসবর্তী হয়ে গত বুধবার সন্ধ্যায় স্থানীয় বড়বাজু দেউপুর বাজারে রহিমের চায়ের দোকানে তার ফুফাতো ভাই বায়োজিত পন্নী তালুকদারসহ তাকে বেদম মারপিট করে চাচা ছালাম।
মারপিটের সময় জীবন বাঁচানোর তাগিদে রফিক “৯৯৯” ফোন দেন। ফোন পেয়ে কালিহাতী থানার এসআই রফিকুল ইসলাম তার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করে। পরে স্থানীয়রা তাদের আহত অবস্থায় কালিহাতী স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
রফিকুল ইসলাম জানান, মারপিটের সময় আমার চাচা জমির তিনটি দলিল ও নগদ ১লাখ টাকা জোর করে ছিনিয়ে নেন।
তিনি বলেন, আমার চাচা প্রভাবশালী আদম ব্যবসায়ী হওয়ায় ঘটনার পর থেকে প্রাণের ভয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। যে কারণে ঘটনার পর কালিহাতী থানায় অভিযোগ দায়ের করতে পারিনি। বর্তমানে একটু সুস্থ্য হওয়ায় টাঙ্গাইল পুলিশ সুপার মহাদয়ের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।
তিনি আরো বলেন, লিখিত অভিযোগের বিষয়টি কোনভাবে জানতে পেরে বিভিন্নভাবে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে আমার চাচা। তিনি ইতিপুর্বে একটি ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত হয়েছিলেন। এছাড়াও ভুমিদস্যূতা ও জঙ্গি সংগঠনের সমপৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
মারপিটের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় মফিজ উদ্দিন জানান,ঘটনার বিষয়ে পুলিশের কাছে সাক্ষ্য দেওয়ার পর থেকে আব্দুস ছালাম ও তার বাহামভুক্ত লোকজন নানাভাবে আমাকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।
সল্লা ইউনিয়নের স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মো. আনিছুর রহমান আনু জানান, মারপিটের ঘটনার কথা তিনি শুনেছেন। ইতিপুর্বে আব্দুস ছালামের বিরুদ্ধে শিশু ধর্ষণের বিষয়টি সত্য, এটা এলাকার সবাই জানে। পরে রহস্যজনকভাবে মামলাটি মীমাংসা করে ফেলেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুস ছালাম জানান, তিনি বুধবার সারাদিন সল্লা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল আলীমের সাথে ছিলেন। তিনি তার ভাতিজা রফিকুলকে কোন ধরনে হুমকি-ধামকি দেই নাই।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার কাঠুরী ও মানিকগঞ্জের দৌলতপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডিবি পুলিশ পরিচয়ধারী চার ব্যক্তিকে আটক করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র্যাব।
মঙ্গলবার (২১ মার্চ) দুপুরে র্যাব-১৪ সিপিসি-৩ এর কোম্পানি অধিনায়ক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিউদ্দীন মোহাম্মদ যোবায়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব-১৪ জানায়, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা রাঙাচিরা গ্রামের দুলাল মন্ডলের ছেলে সাগর মন্ডলকে সোমবার (২০ মার্চ) রাতে ডিবি পুলিশ পরিচয়ধারী চার ব্যক্তি অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তার চালিত মাইক্রোবাস (হায়েচ) নিয়ে ডাকাতির উদ্দেশ্যে মানিকগঞ্জের দিকে রওয়ানা দেয়।
মাইক্রোবাসের চালক সাগর মন্ডলের কাছ থেকে খবর পেয়ে সিপিসি-৩ টাঙ্গাইল ক্যাম্পের অধিনায়ক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিউদ্দীন মোহাম্মদ যোবায়েরের নেতৃত্বে র্যাবের একটি চৌকষ দল নাগরপুর উপজেলার কাঠুরী ও মানিকগঞ্জের দৌলতপুর এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে একটি পিস্তল সদৃশ বস্তু, সুইচ গিয়ার চাকু, ডিবি পুলিশ পরিচয়ের ভুয়া ভিজিটিং কার্ড, টর্চ লাইট, নগদ এক হাজার টাকা ও পাঁচটি মোবাইল ফোন সহ চার ব্যক্তিকে আটক করে।
আটককৃতরা হচ্ছেন- মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার বাচামারা গ্রামের মৃত রহমুদ্দিনের ছেলে শেখ মো. সোনা মিয়া (৩৩), একই এলাকার মো. ভাষা মিয়ার ছেলে মো. ঠান্ডু মিয়া(২৫), টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার হরিপুর গ্রামের মো. খাদেমুল ইসলামের ছেলে মো. মোশারফ হোসেন (৩৫) ও বাসাইল উপজেলার কাশিল গ্রামের মো. রবিন মিয়ার ছেলে মো. আকাশ মিয়া (৩৪)।
র্যাব-১৪ আরও জানায়, আটককৃতদের সঙ্গে আরও দুইজন যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও র্যাবের উপস্থিতি জানতে পেরে তারা পালিয়ে যায়। এ বিষয়ে নাগরপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।