টাঙ্গাইলে প্রবাসীর স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু


০৮:১৪ পিএম, ১৮ জুলাই ২০২৩
টাঙ্গাইলে প্রবাসীর স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু - Ekotar Kantho

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার সহদেবপুর ইউনিয়নের আকুয়া গ্রামের এক প্রবাসীর স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৭ জুলাই) রাতে এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত গৃহবধু বিথি আক্তার (১৭) উপজেলার লুহুরিয়া গ্রামের মনিরুজ্জামান বাজেলের মেয়ে। সে স্থানীয় একটি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

স্থানীয়রা জানায়, ৭ মাস পুর্বে উপজেলার লুহুরিয়া গ্রামের মনিরুজ্জামান বাজেলের মেয়ে বিথি আক্তারের সাথে একই উপজেলার সহদেবপুর ইউনিয়নের আকুয়া গ্রামের আব্দুল্লাহ আনসারীর বড় ছেলে সিঙ্গাপুর প্রবাসী সুমন আনসারীর সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের ৩ মাস পর সুমন প্রবাসে চলে যান। তারপর থেকেই সৎ শ্বাশুড়ি শাহিনা আক্তার যৌতুকের জন্য নানা অত্যাচার শুরু করে।

তারা আরও জানায় , রবিবার (১৬ জুলাই ) দুপুরে ওই প্রবাসীর স্ত্রী শ্বশুরকে স্থানীয় হাট থেকে শশা কিনে আনতে বলেন। ছেলের বউয়ের কথামত শ্বশুর শশা কিনে আনলে শ্বাশুড়ি ওই শশা বাড়ির বাহিরে ফেলে দেয়। স্বামীকে নানা ধরনের বকাঝকা করতে থাকে। ছেলের বউ শ্বশুরের পক্ষ নিয়ে কথা বললে শ্বাশুড়ির মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সবাই মিলে রাতের খাবার শেষে শ্বাশুড়ি প্রবাসীর স্ত্রীকে একগ্লাস দুধ খেতে দেয়। শ্বাশুড়ির দেওয়া দুধ খেয়ে প্রবাসীর স্ত্রী ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন।

সোমবার (১৭ জুলাই ) সকালে বিথি ঘুম থেকে না উঠলে তার শ্বাশুড়ি তাকে ডাকা-ডাকি করে। তাতেও না উঠলে বিথির বাবার বাড়িতে ফোন দেওয়া হয়। ফোনপেয়ে তার বাবার বাড়ির লোকজন এসে দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে। পরে তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

তারা আরও জানায়, মৃত্যুর পর রাতেই নিহতের বাবার সাথে মীমাংসার জন্য ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সহিদুল ইসলাম, মেম্বার হযরত আলী, আতোয়ার রহমান, মাহমুদুল হক,মিন্টু মিয়া ও ওহাব আলীসহ একাধিক মাতব্বর মিলে দফায়-দফায় বৈঠক করেন। মীমাংসা না হওয়ায় একপর্যায়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহতের দাদি হোসনেয়ারা ও ফুপু মর্জিনা আক্তার জানান, বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে সোনার গহনা দেওয়ার কথা ছিল। সেই গহনা দিতে একটু সময় লাগায় তার সৎ শ্বাশুড়ি দুধের সাথে বিষ মিশিয়ে বিথিকে মেরে ফেলেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, ঘটনার পরপরই তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে এ ঘটনা ঘটতো না। তাকে উদ্ধার করতে দরজা ভাঙ্গার প্রয়োজন হলে শ্বাশুড়ি বাঁধা দিয়ে বলে, এটা অনেক দামি দরজা এটা ভাঙা যাবে না। অন্যকোন উপায়ে তাকে বের করার কথা বলে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য সহিদুল ইসলাম গভীররাতে দফায়-দফায় বিষয়টি নিয়ে সমঝোতা বৈঠকের কথা স্বীকার করেন।

এ বিষয়ে কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ মোল্লা আজিজুর রহমান জানান, খবর পেয়ে মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) দুপুরে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

তিনি আরও জানান, এ ব্যাপারে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।


নিউজটি শেয়ার করুন

কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।