একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীর ঝিনাই নদীতে নিখোঁজ দুই শিশুর মধ্যে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার(৫ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার নাগবাড়ী ইউনিয়নের কোনাবাড়ী এলাকায় ঝিনাই নদী থেকে স্থানীয় এক মাছ শিকারি শিশুর মরদেহটি উদ্ধার করেন। পরে খবর পেয়ে শিশুর স্বজনেরা গিয়ে মরদেহটি শনাক্ত করেন।
উদ্ধারকৃত মৃত শিশু বর্ষা (২) কালিহাতী পৌর এলাকার হরিপুর পশ্চিম পাড়া গ্রামের ইজিবাইক চালক বিদ্যুতের মেয়ে।
অপরদিকে, নিখোঁজ রয়েছে ট্রাক চালক মিঞ্জুর মেয়ে শিশু মারিয়া (২)। তাকে উদ্ধারে ঝিনাই নদীর বিভিন্ন এলাকায় তৎপরতা চালাচ্ছেন ফায়ার সার্ভিস ও স্বজনরা।
এরআগে বৃহস্পতিবার(৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় বাড়ি সংলগ্ন ঝিনাই নদীতে বোতল নিয়ে খেলতে গিয়ে নদীতে পড়ে নিখোঁজ হয় দুই চাচাতো বোন শিশু মারিয়া ও বর্ষা।
টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ডুবুরি দলের টিম লিডার মহিদুর রহমান জানান, রাতের বেলায় জলাধারে উদ্ধার অভিযান নিষেধের কারণে বৃহস্পতিবার রাতে আমরা আসতে পারিনি। শুক্রবার সকালে খোঁজাখুঁজি করে সকাল ১০টার পর অভিযান সমাপ্ত করা হয়। এরপর নদীর ভাটিতে নিখোঁজদের স্বজনদের সাথে আমাদের সদস্যরা খোঁজ অব্যাহত রেখেছেন।
কালিহাতী থানার ওসি তদন্ত মনিরুজ্জামান মনির বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, লাশ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের পাশ থেকে অজ্ঞাত এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৫ আগস্ট) সকালে মহাসড়কের কালিহাতী উপজেলার দশকিয়া ইউনিয়নের ধলাটেঙ্গর এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ।
বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার এসআই জ্বিলকদ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত জানান, শুক্রবার কোনো এক সময় কোনো যানবাহনের ধাক্কায় ওই যুবক নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাঁর বয়স আনুমানিক (৩৬) বছর।
তিনি আরো জানান, সকালে স্থানীয় লোকজন মহাসড়কের পাশে লাশটি পড়ে থাকতে দেখে থানায় খবর দেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে মর্গে পাঠায়। নিহত যুবকের নাম ও পরিচয় জানা যায়নি।
একতার কণ্ঠঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন শহীদ শেখ কামালের ম্যুরালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে টাঙ্গাইলে।
শুক্রবার (৫ আগস্ট) সকালে শেখ কামালের ৭৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে টাঙ্গাইল জেলা স্টেডিয়ামের সামনে এই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক।
এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন, জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনি, পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর, জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্মসাধারণ সম্পাদক খন্দকার আশরাফউজ্জামান স্মৃতি, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক নাহার আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক জামিলুর রহমান মিরন, জেলা আওয়ামী লীগের ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মির্জা মইনুল হোসেন লিম্টু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাতিনুজ্জামান খান সুখন প্রমূখ।
এর আগে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে একই স্থানে শেখ কামালের প্রতিকৃতিতে জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক ও সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেনকে সাথে নিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানান। এরপরই পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর, জেলা আওয়ামী লীগসহ দলটির বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
পরে সাবেক খেলোয়াড় ও ক্রীড়া সংগঠকদের নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়।
উল্লেখ্য,টাঙ্গাইল জেলা ক্রীড়া সংস্থা উদ্যোগে প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে শেখ কামালের ম্যুরালটি নির্মিত হচ্ছে।
একতার কণ্ঠঃ ভাতিজা ঢাকায় চাকরি করেন। স্ত্রীকে রেখেছিলেন গ্রামের বাড়িতে। চাচা মিজানুর রহমান (৩৫) সেই সুযোগ নিয়ে ভাতিজা-বউয়ের সঙ্গে গড়ে তোলেন প্রেমের সম্পর্ক। এরপর পালিয়ে যান তারা। ঘটনাটি ঘটেছে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীর উপজেলার বানিয়াজান গ্রামে।
জানা যায়, চাচা মিজানুর রহমান এক সন্তানের জনক। ওই গৃহবধূরও রয়েছে ৬ বছরের এক ছেলে সন্তান। এ নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচার ঝড় বইছে।
পরিবার ও প্রতিবেশীরা জানান, বিয়ের পর থেকেই ওই গৃহবধূকে রেখে তার স্বামী ঢাকায় চাকরি করে। বিয়ে করেছেন প্রায় ৭-৮ বছর আগে। মিজান এর আগেও আরেকটি বিয়ে করেছিলেন। পরকীয়ার ঘটনা প্রথম স্ত্রী জেনে গেলে তিনি চলে যান। আবার দ্বিতীয় বিয়ে করলে সে বউও চলে যায় এই পরকীয়ার কারণেই।
এদিকে ওই গৃহবধূর মা-বাবা কেও বিষয়গুলো জানানো হয় স্বামীর পরিবার থেকে। সোমবার ( আগস্ট) রাতে দুইজনকেই আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলে পরিবার। এর পরিপ্রেক্ষিতে মিজান গৃহবধূকে বিয়ে করতে ঘটনাস্থলে কাজী ডাকেন। কাজী বিয়ে পড়াতে অসম্মতি জানিয়ে চলে যান। ঘটনাটি জানাজানি হলে খামার ফেলে বুধবার (৩ আগস্ট) সকালে মিজান ওই গৃহবধূকে নিয়ে পালিয়ে যান।
এ বিষয়ে ওই গৃহবধূর স্বামী কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তবে ঘটনাটি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে জানিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় কাজী মুকুল হোসেন জানান, ‘ওই রাতের ঘটনাতে আমাকে ডাকা হয়েছিল। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দেখে চলে এসেছি।’
এ বিষয়ে চাচা মিজানুর রহমানের মোবাইল নম্বরে একধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ধরেননি।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম তালুকদার ফটিক জানান, তিনি ঘটনাটি জেনেছেন। এলাকাতে খুবই চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এটা খুবই ন্যাক্কারজনক ঘটনা।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলের সাগরদীঘি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হেকমত সিকদারের বিরুদ্ধে মানববন্ধনে হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার পর দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) সকালে উপজেলার সাগরদীঘি চৌরাস্তায় ইউপি চেয়ারম্যান হেকমত সিকদারের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানববন্ধনের আয়োজন করে স্থানীয় এলাকাবাসী। শত শত নারী পুরুষ ওই মানববন্ধনে অংশ নিয়ে সড়কের একপাশে অবস্থান নেয়। এ সময় চেয়ারম্যান হেকমত সিকদারের নেতৃত্বে তার কিছু লোকজন শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনে বাধা দেয়। এক পর্যায়ে তারা মানববন্ধনে অংশ গ্রহনকারীদের উপর হামলা চালায়।ওই সময় দুই পক্ষের লোকজন উত্তেজিত হয়ে পরে।

পুলিশের উপস্থিতেই দুই পক্ষে মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। উভয় পক্ষের দাবী এ ঘটনায় উভয় পক্ষের ৫ জন আহত হয়েছে। এক পর্যায় উত্তেজিত জনতা ইউপি চেয়ারম্যানকে ধাওয়া করে। তিনি দৌড়ে স্থানীয় এক দোকানে আশ্রয় নেয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তিন রাউন্ড গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে চেয়ারম্যানকে উদ্ধার করে। এরপরও দুই পক্ষের লোকজন দুই পাশে অবস্থান নেয়। দুপুরের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। সংঘর্ষের সময় আতঙ্কে বাজারের সব দোকান বন্ধ করে রাখেন ব্যবসায়ীরা।

এ প্রসঙ্গে সাগরদিঘি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি জিন্নত আলী জানান, চেয়ারম্যানের দুর্নীতির বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনে চেয়ারম্যান বহিরাগত লোকজন নিয়ে অর্তকিত হামলা করে। এতে এলাকায় উত্তপ্ত পরিস্থির সৃষ্টি হয়। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে ।পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সাগরদীঘি ইউপি চেয়ারম্যান হেকমত সিকদার জানান, আওয়ামী লীগের একটি গ্রুপ জামায়াত, বিএনপির লোকদের সঙ্গে নিয়ে আমাকে হেয় করার জন্য মাঝে মধ্যেই আমার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করে। ইতিমধ্যে তারা আমার বিরুদ্ধে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে। তারা আজকেও মানববন্ধনের আয়োজন করলে আমার লোকজনের সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ভাংচুর করা হয় ৫ টি মোটরসাইকেল।
ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম জানান, উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে পুলিশ পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে আনে । যারা বিশৃঙ্খলা তৈরী করেছে, তদন্ত পূর্বক তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে বাসে ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি রাজা মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) ভোরে টাঙ্গাইল শহরের নতুন বাস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রাজা মিয়ার বাড়ি কালিহাতী উপজেলার বল্লা গ্রামে। তার বাবার নাম হারুন অর রশিদ। তিনি টাঙ্গাইল শহরের নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ঈগল পরিবহনের যে বাসটি ডাকাতের কবলে পড়ে, সেই বাসের চালককে সরিয়ে দিয়ে রাজা চালকের সিট দখল করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এ ঘটনায় কে কে জড়িত ছিলো রাজা আমাদের জানিয়েছে।
তিনি আরো জানান, মধুপুরে বাসে ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান শুরু করে পুলিশ। ভোরে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার রাতে কুষ্টিয়া থেকে ঈগল পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ২৪ থেকে ২৫ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। গভীর রাতে সিরাজগঞ্জ পৌঁছালে সেখান থেকে একদল ডাকাত যাত্রীবেসে ওই বাসে ওঠে। বাসটি বঙ্গবন্ধু সেতু পার হওয়ার পর যাত্রীবেশে থাকা ওই তরুণ দল অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের বেঁধে ফেলে। কয়েক মিনিটের মধ্যে যাত্রীদের কাছ থেকে মোবাইল, নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নেয়। এরপর এক নারী যাত্রীকে ধর্ষণ করে তারা। বাসটি বিভিন্ন স্থানে ঘুরিয়ে তিন ঘণ্টার মতো নিয়ন্ত্রণে রাখে। পরে পথ পরিবর্তন করে টাঙ্গাইল ময়মনসিংহ সড়কের মধুপুর উপজেলার রক্তিপাড়া জামে মসজিদের পাশে বালির স্তূপে বাসটি উল্টিয়ে ডাকাত দল পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় বাসের এক যাত্রী বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে টাঙ্গাইলের মধুপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।
একতার কণ্ঠঃ: টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। এই অভিযোগে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মধুপুর থানায় মামলা করেছেন বাসের এক যাত্রী।
মধুপুর থানায় বুধবার(৩ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে এই মামলা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাজহারুল আমিন।
তিনি জানান, কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা ঈগল পরিবহনের বাসে মঙ্গলবার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটেছে বলে যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন। ২৪ থেকে ২৫ জন যাত্রী ছিলেন তাতে।
যাত্রীদের বরাতে ওসি বলেন, ‘বাসটি সিরাজগঞ্জের কাছাকাছি দিবারাত্রি হোটেলে রাতের খাবারের জন্য বিরতি দেয়। রাত দেড়টার দিকে আবার যাত্রা শুরু করে। পথে কাঁধে ব্যাগ বহনকরা ১০ থেকে ১২ জন তরুণ ওঠেন।
‘বাসটি বঙ্গবন্ধু সেতু পার হওয়ার পর ওই তরুণরা অস্ত্রের মুখে একে একে সব যাত্রীদের বেঁধে ফেলে। কয়েক মিনিটের মধ্যে সবার কাছ থেকে মোবাইল ফোন, টাকা ও গয়না লুট করে নেয়। এরপর এক নারী যাত্রীকে ধর্ষণ করে।’
ওসি অভিযোগের বরাতে আরও জানান, বাসটি বিভিন্ন স্থানে ঘুরিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখে ওই দলটি। পরে পথ বদলে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কের মধুপুর উপজেলার রক্তিপাড়া জামে মসজিদের পাশে বালির ডিবিতে বাসটি উল্টিয়ে তারা পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে ঈগল পরিবহনের ব্যবস্থাপক আয়নাল হোসেন থানায় আসেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের চালক, হেলপার ও সুপারভাইজারদের বেঁধে রেখে যাত্রীদের কাছে যা যা ছিল সব নিয়ে গেছে ডাকাতরা।’
ওসি মোহাম্মদ মাজহারুল আমিন আরো জানান, ধর্ষণের অভিযোগ করা নারীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে। বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
একতার কণ্ঠঃ কুষ্টিয়া থেকে যাত্রী নিয়ে চট্টগ্রাম যাচ্ছিল বাসটি। বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিমপাড়ে পৌঁছালে এতে ১০-১২ জন যাত্রী ওঠেন। যাত্রীবেশে ওঠা এই যাত্রীরা বাসটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বাকি যাত্রীদের জিম্মি করে ফেলে। হাত-মুখ ও চোখ বেঁধে অস্ত্রের মুখে টানা তিন ঘণ্টা জিম্মি করে রাখা হয় যাত্রীদের। এই পুরো সময় বাসটি চলন্ত অবস্থায় ছিল। এর মধ্যেই চলে ডাকাতি ও ধর্ষণ। মধুপুরের কাছে এসে বাসটি দুর্ঘটনার শিকার হলে স্থানীয়রা এসে যাত্রীদের উদ্ধার করেন।
বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিমপাড় থেকে ছিনতাই করা বাসের যাত্রীদের সর্বস্ব লুটের পর নারী যাত্রীদের পালাক্রমে ধর্ষণের এ ঘটনা ঘটেছে বুধবার (৩ আগস্ট)ভোরে। আন্তজেলা ডাকাত দলের সদস্যদের এই ভয়াবহ কাণ্ডের শিকার হয়েছেন কুষ্টিয়া-চট্টগ্রাম চলাচলকারী ঈগল পরিবহনের যাত্রীরা।
বাস যাত্রীদের কাছ থেকে জানা যায়, মঙ্গলবার(২ আগস্ট) কুষ্টিয়া থেকে ঈগল পরিবহনের একটি বাস অন্তত ২৫ জন যাত্রী নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। বাসটি বঙ্গবন্ধু সেতু পার হলে যাত্রীবেশী ডাকাতেরা অস্ত্রের মুখে ঘুমন্ত যাত্রীদের হাত-মুখ ও চোখ বেঁধে জিম্মি করে। এর পর যাত্রীদের কাছে থাকা মোবাইল, টাকা, স্বর্ণালংকার লুট করে নেয়। পরে ডাকাত দলের সদস্যেরা গাড়িতে থাকা নারী যাত্রীদের ধর্ষণ করে বলে জানান একাধিক যাত্রী।
টানা তিন ঘণ্টা যাত্রীদের ওপর চালানো নির্যাতনের পর টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার রক্তিপাড়া নামক স্থানে এসে বাসটির গতি থামিয়ে ডাকাত দল নেমে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই চোখ-মুখ ও হাত বাঁধা যাত্রীদের নিয়ে বাসটি রাস্তার পাশের বালুর ঢিবিতে কাত হয়ে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাঁদের উদ্ধার করেন।
কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা বাসটিতে নাটোরের বড়াই গ্রামের বাসিন্দা ফল ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান যাত্রী হন রাত ১০টায়। তিনি নাটোরের তরমুজ চত্বর থেকে বাসে ওঠেন। তিনি আমড়া, কাঁঠাল ও তাল ঢাকায় বিক্রি করার জন্য নিয়ে যাচ্ছিলেন।
ঈগল পরিবহনে অনেক দিন ধরে নিয়মিত যাতায়াত করা এই ভুক্তভোগী যাত্রী জানান, ‘আমরা বাসে উঠে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। আমাদের বাসটি সিরাজগঞ্জের কাছাকাছি “দিবারাত্রি হোটেলে” রাতের খাবারের জন্য বিরতি দেয়। বাসের অনেকেই ওই হোটেলে খাবার খান। আমিও ওই বাসের সুপারভাইজার রাব্বি ও সহযোগী দুলালের সাথে বসে খাবার খেয়েছি। আগে যে চালক বাস চালাতেন, সেই চালক ছিলেন না। কড্ডার মোড়ে আসার পর গেঞ্জি, শার্ট পরা ১০-১২ জন যাত্রী ওঠেন। তাঁদের প্রত্যেকেরই পিঠে ব্যাগ ছিল। তাঁরা বাসের খালি সিটগুলোতে বসে পড়েন। বাসটি বঙ্গবন্ধু সেতু পার হওয়ার পর যাত্রীবেশে ওঠা এই ডাকাত দলের সদস্যেরা অন্য ঘুমন্ত যাত্রীদের অস্ত্রের মুখে একে একে বেঁধে ফেলে। একই সঙ্গে প্রত্যেক যাত্রীর চোখ ও মুখ বেঁধে জিম্মি করে বাসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় তারা। এমনকি শিশুদেরও একই কায়দায় বেঁধে রাখে তারা। পরে সব যাত্রীর কাছ থেকে মোবাইল, টাকা, গয়না লুট করে নেয়। তার পর নারী যাত্রীদের ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায়।’
হাবিবুর রহমান জানান ‘আমার পাশে বসা নারীকে চার দফায় ধর্ষণ করা হয়েছে বলে আমি অনুধাবন করতে পেরেছি। আমরা অসহায় ছিলাম। হাত, মুখ, চোখ বাঁধা ছিল। কিছুই করতে পারিনি। টানা তিন ঘণ্টা আমরা ওই বাসটিতে জিম্মি ছিলাম। বাসটি কোথা থেকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে, আমরা কিছুই জানি না। দুর্ঘটনায় শিকার হওয়ার পর আমরা জানতে পারি, টাঙ্গাইলের মধুপুরের রক্তিপাড়া এলাকায় আছি।’
তিনি আরো জানান,স্থানীয় বাসিন্দারা আমাদের উদ্ধার করেছেন। রক্তিপাড়া জামে মসজিদের ইমাম আমাকে নাশতাও করিয়েছেন।’
এদিকে খবর পেয়ে কুষ্টিয়া থেকে মধুপুরে আসেন ঈগল পরিবহনের ব্যবস্থাপক আয়নাল হোসেন। গাড়িটির চালক ও সহযোগীদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, ‘মির্জাপুরের পাকুল্লা এলাকার একটি ফাঁকা মাঠে বাসটি ঘুরিয়ে টাঙ্গাইলের দিকে নিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে বাসটিকে ময়মনসিংহের মহাসড়কের মধুপুরের দিকে নেয় ডাকাতেরা।’
বাসের নারী যাত্রী কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানার তারাগুনিয়া গ্রামের শিল্পী বেগম জানান ‘আমি আমার অসুস্থ মেয়েকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছিলাম। আমাদের সবাইরে হাত, মুখ, চোখ বাইন্দা ডাকাতরা সব লুট কইরা নিছে। আমার স্বামী পিয়ার আলিকে ছুরি দিয়ে আঘাত করছে। আমার কাছ থিকা ৩০ হাজার টাকা নিয়া গেছে।’ ওই বাসে থাকা অন্য নারী যাত্রীরা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে জানান তিনি।
বাসটিতে করে বেসরকারি চাকরিজীবী নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা আব্দুর রশিদ নাটোর থেকে বাড়ি যাচ্ছিলেন অসুস্থ মাকে দেখার জন্য। সঙ্গে ছিল বেতনের ২২ হাজার ৮০০ টাকা। এর মধ্যে ১০০ টাকা রেখে বাকি পুরো টাকাই ডাকাতেরা নিয়ে গেছে বলে জানান তিনি।
সংবাদ পেয়ে মধুপুর থানা-পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। গাড়িতে থাকা দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের কথা স্বীকার করেছেন মধুপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এনামুল হক।
বুধবার বিকেল ৫টায় ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ডিবি পুলিশের একটি দল তদন্তকাজ চালাচ্ছে। পুলিশের সহযোগিতায় একদল উদ্ধারকর্মী বাসটি উদ্ধার করছেন। টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে থানায় এসে বাসযাত্রী ও সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। এ সময় ময়মনসিংহ থেকে আসা ডিএনএ পরীক্ষাগারের কর্মীদের থানায় অবস্থান করতে দেখা গেছে।
এ বিষয়ে মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাজহারুল অমিন বলেন, ডাকাতদল যাত্রীদের মালামাল লুটের পর নারীযাত্রীকে ধর্ষণ করেছে। ভুক্তভোগীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এক যাত্রী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন।
ওসি আরও জানান, জড়িতদের গ্রেপ্তারের জোর চেষ্টা চলছে। বাস চালক ও হেলপারকেও পিটিয়ে আহত করে বেঁধে রেখে যাত্রীদের সর্বস্ব লুট করে তারা।
পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সারের আর্থিক সহায়তা ছিনতাইয়ের শিকার যাত্রীদের প্রত্যেকের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে বৈরান নদ থেকে ভাসমান অবস্থায় রামেশ্বর চন্দ্র সূত্রধর (৭০) নামের এক ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মৃত রামেশ্বর চন্দ্র সূত্রধর পৌর এলাকার হাটবৈরান গ্রামের বাসিন্দা ।
পরিবার সুত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৮ জুলাই) বিকাল থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন । নিখোঁজ থাকায় পরিবারের পক্ষ থেকে গোপালপুর থানায় সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করা হয়েছিল।
এলাকাবাসী জানায়, মঙ্গলবার (২ আগস্ট) দিবাগত রাতে বৈরান নদে মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন এলাকাবাসী।গোপালপুর থানার পুলিশ বুধবার (৩ আগস্ট) সকালে মরদেহটি উদ্ধার করে।এসময় রামেশ্বর চন্দ্র সূত্রধরের স্বজনরা লাশটি শনাক্ত করেন ।
স্থানীয় হাটবৈরান গ্রামের বাসিন্দা মো. আব্দুল বাসেত জানান, বিগত দুইদিন থেকে এলাকাবাসী বৈরান নদের মাঝখানে ভাসমান বস্তু দেখতে পায়, মরদেহ দৃশ্যমান হলে লোকজন পুলিশে খবর দেয়।
রামেশ্বরের ছেলে সাধন চন্দ্র সুত্রধর জানান, গত বৃহস্পতিবার কাজ শেষে বাড়ি ফেরার সময় তার বাবা নিখোঁজ হন, লাশ ফুলে যাওয়ায় শনাক্ত করতে অসুবিধা হলেও হাতেের আংটি ও হাত পায়ের গড়ন দেখে সবাই মিলে শনাক্ত করেছি এটাই বাবার লাশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী অভিযোগ জানাবেন।
এ বিষয়ে গোপালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোশারফ হোসেন জানান, রামেশ্বর চন্দ্র সুত্রধর নিখোঁজ হওয়ার পর তার স্বজনরা এসে থানায় সাধারণ ডায়েরী করেন। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার একটি মাদ্রাসার তিনজন ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করায় দুই যুবককে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার (৩ আগস্ট)বিকালে তাদের তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের হামিদপুর গ্রামের মাহমুদুল হাসান (২১) ও একই ইউনিয়নের তৈলধারা গ্রামের নাজমুল (১৯)।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (ইউএনও) প্রকৌশলী ফারজানা আলম।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, উপজেলার একটি মাদ্রাসার তিনজন ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার অপরাধে “নারীর শ্লীলতাহানীর উদ্দেশ্যে কথা ও অঙ্গভঙ্গি করার অপরাধে” দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৫০৯ ধারা অনুযায়ী দুই যুবককে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
একই অপরাধে অভিযুক্ত আরেক কিশোর, অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় মুচলেখা দিয়ে তাকে তার অভিভাবকের হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে কবিরাজের ভূত তাড়ানোর চিকিৎসায় তাসলিমা আক্তার (২৩) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার ( ২ আগস্ট) বিকেলে ওই গৃহবধূ মারা যান।
মৃত তাসলিমা উপজেলার যাদবপুর গ্রামের মোতালেব হোসেনের মেয়ে। এ ঘটনায় আপাতত অস্বাভাবিক মৃত্যুর (ইউডি) মামলা নিয়েছে সখীপুর থানা-পুলিশ।
তবে গৃহবধূর পরিবারের লোকজন কবিরাজ আসমান আলীকেই দায়ী করছেন। অভিযুক্ত কবিরাজ উপজেলার বেড়বাড়ি গ্রামের তাহের আলী কবিরাজের ছেলে।
সোমবার ভূত তাড়ানোর উদ্দেশ্যে চুন ও পেঁয়াজের রসমিশ্রিত তরল দ্রব্য নাক দিয়ে ঢোকালে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন ওই গৃহবধূ।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল গ্রামের রাসেল আহমেদের সঙ্গে তাসলিমার বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই তিনি মানসিক রোগে ভুগছিলেন। তাসলিমা সম্প্রতি বাবার বাড়িতে এলে পরিবারের লোকজন তাঁকে পার্শ্ববর্তী গ্রামের আসমান কবিরাজের কাছে নিয়ে যান। তাসলিমার ওপর ভূতের আছর পড়েছে দাবি করে বেশ কয়েক দিন ধরেই ঝাড়-ফুঁক করছিলেন ওই কবিরাজ। সোমবার একপর্যায়ে ওই কবিরাজ গৃহবধূর নাক দিয়ে পেঁয়াজের রস, চুনসহ বিভিন্ন গাছের রস ঢেলে দেন। এতে তাসলিমা অচেতন হয়ে পড়েন। পরদিন মঙ্গলবার তিনি মারা যান।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আলতাফ হোসেন বলেন, কবিরাজি চিকিৎসারত অবস্থায় ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।
মৃত গৃহবধূর বাবা মোতালেব হোসেন বলেন, ‘আমার মেয়ে কিছুটা মানসিকভাবে দুর্বল থাকলেও মারা যাবে এ রকম অবস্থা ছিল না। কবিরাজের ভুল চিকিৎসার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।’
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রেজাউল করিম জানান , মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে । ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির টাঙ্গাইল জেলার মেয়াদ উত্তীর্ণ আহবায়ক কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছে জেলার পদবঞ্চিত নেতা কর্মীরা।
বুধবার(৩ আগস্ট) সকালে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান নিয়ে এ কর্মসূচি পালন করে দলটির জেলার পদবঞ্চিত নেতারা।
জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ছাইদুল হক ছাদু’র সভাপতিত্বে ও সাবেক সহ-সভাপতি সাদিকুল আলম খোকা’র সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি জিয়াউল হক শাহীন।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান আনিছ, ঘাটাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আখম রেজাউল করিম, কালিহাতী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক শুকুর মাহমুদ, ঘাটাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র মঞ্জুরুল হক মঞ্জু, মধুপুর পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আঃ লতিফ পান্না, কালিহাতী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম শোভা, , কালিহাতী পৌরসভার সাবেক মেয়র আলী আকবর জব্বার প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি এক বছর অতিবাহিত হলেও এরপরও জেলা বিএনপির পুর্নাঙ্গ কমিটি দিতে পারেনি। মেয়াদোত্তীর্ণ এই কমিটি জেলা উপজেলাসহ বিভিন্ন বিএনপি অঙ্গসংগঠনের পকেট কমিটি অনুমদন দেয় কমিটি। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, কোনো ধরনের সম্মেলন ছাড়া তৃণমূলের মতামত না নিয়েই কথিত বিএনপি কমিটি গঠন করা হয়। মেধাবী ও পরিক্ষিত নেতাদের বাদ দিয়ে অযোগ্য নেতা কর্মীদের দিয়েই জেলার অধিকাংশ কমিটি ঘোষনা দিয়েছে। এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করা হয়।
এর আগে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন উপজেলা ও পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে সমাবেশে সমবেত হয়।