একতার কণ্ঠঃ দীর্ঘ ৬ বছরেও শুরু হয়নি টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম। ফলে একদিকে হাসপাতালের যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে উন্নত মানের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে জেলাবাসী।
তবে এ ব্যাপারে কথা বলতে রাজি হয়নি সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ।
টাঙ্গাইল জেলায় প্রায় ৪০ লাখ মানুষের বসবাস। এছাড়াও ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনার কারণে জেলায় অবস্থিত ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে সবসময়ই রোগীর চাপ থাকে। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে উন্নতমানের যন্ত্রপাতি না থাকায় রোগীদের উন্নত চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হয় না। তাই জরুরি রোগী রেফার করতে হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। যে কারণে ২০১৪ সালে সরকার এসব মানুষের উন্নত চিকিৎসা সেবা দেয়ার লক্ষে টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেয়।
টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে ২০১৬ সালে প্রায় ৬’শ কোটি টাকা ব্যয়ে নুরানী কনস্ট্রাকশন নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করে। ২০১৯ সালে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পুনরায় দুই দফা সময় বর্ধিত করেও ২০২২ সালের মাঝামাঝি এসেও কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। লিফটের কাজ এখনও চলমান।

এদিকে কর্তৃপক্ষ বার বার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চালু করার ঘোষণা দিয়েও হাসপাতাল চালু করছে না। এতে টাঙ্গাইলবাসী উন্নত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই দ্রুত মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চালুর দাবি সেবা প্রত্যাশীদের।
এ বিষয়ে শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিচালক কথা বলতে রাজি হননি। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যেই হাসপাতাল চালু করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. খন্দকার সাদেকুর রহমান জানান, এ হাসপাতাল চালু না হওয়ায় নানা রকম সমস্যা হচ্ছে ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে। পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি ও অভিজ্ঞ ডাক্তার না থাকায় জটিল রোগীদের বাধ্য হয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করতে হচ্ছে। এদিকে প্রতিদিন ১২শ’ থেকে ১৪শ’ রোগীর সেবা দিতেও হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য সহকারী জুয়েল সিদ্দিকীর (৫০) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২ আগস্ট) বিকেলে পৌর এলাকার কলেজ মোড়ে নিজ বাসা “খাজা প্লাজা” থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
জুয়েলের পরিবার জানায়, মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে জুয়েলকে বাসায় রেখে তার স্ত্রী ছেলেকে নিয়ে স্কুলে যান। ছেলের স্কুল শেষে বাসায় ফিরলে জুয়েলের রুমের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ দেখতে পান তিনি। ঘরের দরজায় বার বার কড়া নাড়লেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া-শব্দ পাওয়া যায়নি। এক ঘণ্টা চেষ্টার পর দরজা ভেঙে মা-ছেলে ঘরে ঢুকে জুয়েলের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে জুয়েলের লাশ উদ্ধার করে।
এ প্রসঙ্গে ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম সরকার জানান, এ পর্যন্ত জুয়েলের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
একতার কন্ঠ: টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে নিখোঁজের ৪ দিন পর জয় চন্দ্র আর্য্য (২৪) নামের এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২ আগস্ট) বিকেলে কালিহাতী পৌর এলাকার সিলিমপুর পাটিতা পাড়া বেত বন থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
জানা গেছে,গত ২৯ জুলাই সকালে জয় চন্দ্র আর্য বাড়ি থেকে কাউকে কিছু না বলে চলে যায়। অনেক খুঁজাখুঁজি করে না পাওয়ায় গত ৩১ জুলাই নিহতের স্ত্রী আশা দাস বাদী হয়ে কালিহাতী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে মঙ্গলবার (৩১ জুলাই) দুপুরে স্থানীয় এক বৃদ্ধা লাকড়ি কুড়ানোর উদ্দেশ্যে বেত বনে গিয়ে একটি গাছের নিচে জুতা দেখতে পেয়ে উপর দিকে তাকিয়ে দেখে লাশ ঝুলে আছে। পরে সে ভয় পেয়ে দৌড়ে গিয়ে স্থানীয়দের জানালে স্থানীয়রা সেখানে গিয়ে এটা জয় চন্দ্র আর্য্যের লাশ বলে শনাক্ত করে এবং পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা( ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান জানান, খবর পেয়ে আমি আমার অফিসার ফোর্স সহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বেত বনের ভিতরে একটি গাছের ১৫-১৬ ফিট উপর থেকে নিহত জয় চন্দ্র আর্য্যের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করি।পরে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে হার্ট ও কিডনি জনিত সমস্যায় ভূগছিলেন বিধায় হতাশাগ্রস্থ হয়ে আত্মহত্যা করতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে সাজেদা বেগম (৬০) নামের এক বৃদ্ধা রোজারত (রোজদার) অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন।
সােমবার (১ আগস্ট) দুপুরে পৌর শহরের বর্ণি চন্দবাড়ী উত্তরপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সাজেদা বেগম ওই এলাকার আলেব আলীর স্ত্রী ও তিন সন্তানের জননী।
নিহতের মেয়ে আছমা বেগম জানান, সােমবার সকাল থেকেই বৃষ্টি হচ্ছিল। মা নফল রােজা রেখে সকাল থেকেই বাড়ির পাশের জমিতে কাজ করছিল। দুপুরে গাছ থেকে লেবু উঠিয়ে ঘরে প্রবেশ করার সময় টিনের বেড়াতে তার স্পর্শ লাগে। বেড়াতে স্পর্শ লাগতেই বিদ্যুতস্পৃষ্ট হন তিনি।
তিনি আরো জানান, ঘরের মেইন সুইচ দ্রুত বন্ধ করে তাঁকে হাসপাতালে নেয়ার পথে সে মারা যান। তিনি আরও কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, মা বলেছিল লেবুর শরবত দিয়ে ইফতার করবে। তাঁর ভাগ্য আর লেবুর শরবত দিয়ে ইফতার করা হলাে না।
পৌর মেয়র মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান বকল জানান, ‘বৃদ্ধাটির পরিবার খুবই হতদরিদ্র ও শান্ত প্রকৃতির। তাঁর মৃত্যুর খবরে এলাকায় শতশত লােকজন ওই বাড়িতে ভিড় জমায়। রাত ১০ টায় তার দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।’
ধনবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাে. চান মিয়া জানান, পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিনা ময়না তদন্তে পরিবারের নিকট মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।বিদ্যুত লাইনের ক্রটিগুলাে চেক করে সংযােগ দেয়া হয়েছে।
প্রকাশ, মৃত্যুর খরব পেয়ে সন্ধ্যায় ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান, সহকারী পুলিশ সুপার মধুপুর সার্কেলের (এএসপি) মােছা: শাহিনা আক্তার, পৌর মেয়র মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান বকল, ধনবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাে. চান মিয়া, ধনবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) ইদ্রিস হােসাইন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে উপজেলার দিঘলকান্দি ইউনিয়নের সাতবিলা গ্রামে ভিমরুলের কামড়ে রহিম বাদশা (৫০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুু হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ আগস্ট) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
রহিম দিঘলকান্দি ইউনিয়নের সাতবিলা গ্রামের মৃত হোসেন আলীর ছেলে। তিনি পেশায় একজন কৃষক ছিলেন।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১ আগস্ট) বিকালে রহিম বাদশা গ্রামের পাশে বাঁশ ঝাড়ে বাঁশ কাটতে যায়। সেখানে ভিমরুলের ঝাঁক তাকে আক্রমণ করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়। পরে স্বজনরা তাকে কালিহতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
সেখানে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করে। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাদিন অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
একতার কণ্ঠঃ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাজারে ফুলেল শ্রদ্ধাঞ্জলির মাধ্যমে শোকের মাসের কর্মসূচি শুরু করেছে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ।
সোমবার (১ আগস্ট) বিকালে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান খান ফারুক ও সাধারণ সম্পাদক বীরমুক্তিযোদ্ধা জোয়াহেরুল ইসলাম (ভিপি জোয়াহের) এমপির নেতৃত্বে এই শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য মো. ছানোয়ার হোসেন, সংসদ সদস্য হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারী, সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম টিটু, সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির, সংসদ সদস্য খান আহমেদ শুভ, টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর, জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আশরাফউজ্জামান স্মৃতি, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী, সাংগঠনিক সম্পাদক জামিলুর রহমান মিরন ও সুভাষ চন্দ্র সাহা প্রমুখ।
জেলা আওয়ামী লীগ ছাড়াও বিভিন্ন সহযোগি অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ নবম শ্রেণি পড়ুয়া প্রেমিকের বাড়িতে অনশনে বসেছে একই স্কুলের সপ্তম শ্রেণির আরেক ছাত্রী। শনিবার (৩০ জুলাই) থেকে এই অনশনে বসে ওই কিশোরী।
অনশনের খবরে প্রেমিক মো. রনি আহমেদ বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছে।
ঘটনাটি টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলায়। তাঁরা উভয়ই মুশুদ্দি আফাজ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
ওই কিশোরী জানায়, রনি দেড় বছর আগে আমাকে প্রেমের প্রস্তাব দিতে থাকলে এক পর্যায়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠলে স্কুলে যাওয়া-আসার পথে বিয়ের প্রলোভনে কু-প্রস্তাব দিতে থাকে। রনি বিয়ে করার কথা বলে আমার সাথে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তুলে। বিয়ের চাপ দিলে নানা তালবাহানা করে প্রতারণা শুরু করে।
ওই ভোক্তভূগী কিশোরী আরও জানায় ‘আমার তো সব শেষ করেছে রনি। বিয়ে না করলে আমার কি উপায় হবে। এখন তো আমাকে অন্য কেউ আর বিয়ে করবে না। বিয়ের দাবিতে ওদের বাড়িতে এসেছি। ওর পরিবারের লোকজন রনিকে বাড়ি থেকে ভাগিয়ে দিয়েছে। যদি বিয়ে না করে আত্মহত্যা ছাড়া আমার কোন আর পথ নাই। এ বাড়ি থেকে আমার লাশ নিয়ে যেতে হবে।’
স্থানীয় মিলটন মিয়া জানান, ‘বিয়ের প্রলোভনে ওই ছেলে, মেয়েটির সাথে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তুলে। মেয়েটি বিয়ের চাপ দিলে ছেলে বিয়ে করতে অস্বীকার করলে মেয়েটি বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। পরবর্তীতে বিয়ের দাবিতে শনিবার হতে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান করে অনশন করেছে
ওই কিশোরীর বাবা জানান, ‘সপ্তম শ্রেণি পড়ুয়া আমার অবুঝ মেয়েকে বিয়ের কথা বলে সর্বনাশ করেছে। আমরা গরীব মানুষ। এর সুষ্ঠু সমাধান চাই।’
রনির বাবা আ. ছাত্তার বলেন, ‘আমার ছেলে বাড়িতে নাই। ছেলে বাড়িতে আসলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। মেয়েটি আমার বাড়িতেই থাকুক।’
মুশুদ্দি আফাজ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম এ বিষয়ে এখনো কিছু জানেন না বলে জানান।
স্থানীয় মুশুদ্দি ইউপি চেয়ারম্যান আবু কাউসার জানান, ‘ঘটনাটি তিনি জেনেছেন। রবিবার (৩১ জুলাই) রাত্রে এর ফয়সালা করা হবে।’
ধনবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. চান মিয়া জানান, ‘বিষয়টি তার জানা নেই। এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেনি।’
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে বৃষ্টির মধ্যে বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল খেলতে গিয়ে বজ্রঘাতে হাসান মন্ডল (১৭) নামের এক কলেজ ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে।
রবিবার (৩১ জুলাই) বিকালে উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের ঘড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।এ ঘটনায় আহত হয়েছেন তার আরো ২ বন্ধু।
হাসান মন্ডল একই গ্রামের হুরমুজ আলী মন্ডলের ছেলে। সে নগরবাড়ী হাজী আবু হাসেম বিএম কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিল।
স্থানীয়রা জানান, কলেজছাত্র হাসান মন্ডল ও তার বন্ধুরা মিল ঘড়িয়া পূর্ব পাড়ায় বৃষ্টির মধ্যে ফুটবল খেলছিলেন। এ সময় হঠাৎ করে বজ্রাঘাতে হাসান মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
এরপরতাকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ছাড়া আহত ২ জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।
নারান্দিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদ তালুকদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, কলেজ ছাত্র হাসানের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার শুভকি এলাকায় স্ত্রীর সঙ্গে আপন ভাতিজার পরকীয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তার প্রবাসী স্বামী চরম বেকায়দায় পড়েছেন।
উপজেলার শুভকী এলাকার রফিকুল ইসলাম। পরিবারের অভাব-অনটন আর ভাগ্য বদলের আশায় দীর্ঘ ১২ বছর আগে পাড়ি জমান প্রবাসে। তিনি দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার কারণে পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফিরে আসলেও বৈবাহিক জীবনে নেমে আসে কালো মেঘ। আপন ভাতিজার বিরুদ্ধে তার পরিবারের সুখ কেড়ে নেয়ার অভিযোগ করেছেন প্রবাসী রফিকুল ইসলাম।
রফিকুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন যাবৎ তিনি প্রবাসে থাকার সুযোগে আপন ভাতিজা মাজিদুর রহমান তার স্ত্রীকে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করত। এক পর্যায়ে সেই উত্ত্যক্ত পরকীয়ায় রূপ নেয়। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে শুরু হয় পারিবারিক দ্বন্দ্ব। রফিকুল ইসলাম বারবার তার শ্বশুর বাড়ির লোকজনদের এ বিষয়ে জানালেও এ নিয়ে কোনো লাভ হয়নি। এরই মধ্যে তাদের পরকীয়া সম্পর্ক আরও গভীর হতে থাকে। এক পর্যায়ে তার স্ত্রী গর্ভবতী হওয়ার সংবাদ পায় রফিকুল। এটি বুঝতে পেরে তার স্ত্রী অ্যাবরশন (গর্ভপাত) করিয়ে ফেলেন। পরে কৌশলে ভাতিজার মোবাইল থেকে ভাতিজা ও তার স্ত্রীর অনৈতিক সম্পর্কের বেশ কিছু ছবি ও অডিও রেকর্ড সংগ্রহ করে।
এরপর রফিকুল লোকলজ্জার ভয়ে কাউকে কিছু না বলে তার স্ত্রীকে দিয়ে ভাতিজার বিরুদ্ধে একটি ইভটিজিংয়ের মামলা করান। সেই মামলায় ভাতিজা বেশ কিছুদিন কারাভোগ করেন। তারপরও থেমে নেই তাদের পরকীয়া সম্পর্ক।
এদিকে আপন ভাতিজার সাথে পরকীয়ার কারণে পরিবারের অন্য সদস্যরা ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে রফিকুল এ ঘটনার পর থেকেই তার স্ত্রীকে তালাক দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও প্রবাসে থাকার কারণে সেটি সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে চাচি-ভাতিজার পরকীয়া সম্পর্ক নিয়ে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। চলছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। রফিকুলের পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কেউ কোনো কথা বলার সাহস পাচ্ছে না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক এলাকাবাসী জানান, রফিকুলের স্ত্রীর সাথে ভাতিজা মাজিদুরের পরকীয়ার সম্পর্ক রয়েছে এটি তিনি শুনেছেন। মাজিদুর তার চাচিকে ইভটিজিং করার দায়ে জেলও খেটেছেন। পরিবারটি প্রভাবশালী হওয়ায় এ বিষয় নিয়ে কেউ কোনো কথা বলেনি।
রফিকুলের বড় ভাই আবু সাইম জানান, ভাতিজা মাজিদুরের বিরুদ্ধে রফিকুলের স্ত্রী একটি ইভটিজিং মামলা করেছিল। সেই মামলায় কয়েকদিন কারাভোগ করেছে। এরপর থেকেই রফিকুল চাইছে তার স্ত্রীকে তালাক দিতে। কিন্তু তিনি এবং পরিবারের সদস্যরা তাকে জানিয়েছেন রফিকুল যদি তার স্ত্রীকে তালাক বা অন্য কাউকে বিয়ে করার ইচ্ছে থাকে তাহলে দেশে এসে পারিবারিক ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে এর সমাধান করতে হবে। রফিকুল আসার পরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রফিকুলের স্ত্রী কোনো কথা বলতে রাজি হননি।
সংবাদ সূত্র – সময় টিভি অনলাইন
একতার কণ্ঠঃ জ্বালানি তেল,গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি ও বিদ্যুতের নজিরবিহীন লোডশোডিংয়ের প্রতিবাদে টাঙ্গাইলে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশে নিজেদের মধ্যে হট্রগোল হয়েছে। পরে লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে পুলিশ।
রবিবার(৩১ জুলাই) সকালে শহরের ভিক্টোরিয়া রোডস্থ জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন-আহবায়ক হাসানুজ্জামিল শাহিনের সভাপতিত্বে ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানুর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কবি আব্দুল হাই শিকদার।
এতে প্রধান বক্তা ছিলেন ঢাকা বিভাগীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বেনজির আহমেদ টিটো, জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল, যুগ্ম-আহবায়ক কাজী শাফিকুর রহমান লিটন, দেওয়ান শফিকুল ইসলাম, অমল ব্যানার্জী প্রমুখ।
এসময় বিএনপির অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বিচ্ছিন্ন ঘটনা সম্পর্কে বিএনপির নেতারা বলেন, সমাবেশকে বানচাল করতে কিছু পদবঞ্চিত নেতারা অতর্কিত হামলা চালানোর চেষ্টা করে পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে পুলিশ । পরে আমরা শান্তিপূর্ণ ভাবে সমাবেশ সম্পন্ন করি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীর এলেঙ্গায় বাংলার মেলা সংস্থা (বিএমএস) নামক এক এনজিও অফিস থেকে পারভেজ (২৩) নামের এক মাঠ সংগঠকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রবিবার (৩১ জুলাই) সকালে কালিহাতী উপজেলা এলেঙ্গা শাখা বাংলার মেলা সংস্থা (বিএমএস) অফিসের দ্বিতীয় তলার একটি রুম থেকে ওই সংগঠকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত পারভেজ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার হিরাকোটা গ্রামের বাহর আলীর ছেলে।
তিনি বাংলার মেলা সংস্থার মাঠ সংগঠক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
বাংলার মেলার কর্মীরা জানান, প্রতিদিন রাতে পারভেজ কাজ শেষে অফিস রুমে ঘুমান। রবিবার সকালে অফিসে অন্য কর্মীরা তাকে ডাকাডাকি করেন। কিন্তু কোনও সাড়া না পেয়ে রুমের জানালা দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে তার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেন।
এ বিষয়ে কালিহাতী থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্ত শেষ, মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুরের ধলেশ্বরী নদীতে বরশিতে ধরা পড়েছে ১০০ কেজি ওজনের বিরল প্রজাতির সামদ্রিক শুশুক। সমুদ্রের দুর্লভ জলজ প্রাণীটি নদীতে ভেসে লোকালয়ে আসায় স্থানীয় লোকজনের মাঝে ব্যাপক কৌতুহল দেখা দিয়েছে। এক নজর শুশুকটিকে দেখতে হাজার হাজার উৎসুক জনতা ভিড় করছে।
রবিবার (৩১ জুলাই) ভোরে উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের জাঙ্গালিয়া ধলেশ্বরী নদীতে সেন্টু নামের এক যুবকের বরশিতে ধরা পড়ে এ শুশুকটি।
সেন্টু উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের চরডাঙ্গা গ্রামের আমজাদ আলীর ছেলে।
এলাকাবাসী জানান, রবিবার ভোরে উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের জাঙ্গালিয়া এলাকায় ধলেশ্বরী নদীতে সেন্টু বোয়াল মাছ ধরার বরশি (জিয়ালা বরশি) ফেলে আসে। বরশি ফেলার পর ছোট একটি বোয়াল মাছ বরশিতে আটকে গেলে ওই যুবক মাছটি খুলে আনার জন্য উদ্যত হয়। এ সময় আকস্মিকভাবে বিশাল আকৃতির শুশুকটি বরশিতে আটকে যাওয়া বোয়াল মাছকে গিলতে গিয়ে আটকে যায়। পরে সেন্টু প্রাণীটি দেখে ভয় পেয়ে চিৎকার করতে থাকে। এ সময় তার চিৎকার শুনে নদী পাড়ের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে শুশুকটি ডাঙ্গায় তুলে আনে। এরপর সামুদ্রিক শুশুকটি স্থানীয় জাঙ্গালীয় বাজারে নেয়া হয়। মুহূর্তের মধ্যে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের লোকজনসহ দূর-দূরান্ত থেকে হাজারো মানুষ শুশুকটিকে দেখতে সেখানে ভিড় জমায়।
এদিকে স্থানীয় ইসমাইল মিয়া জানান, প্রাণীটি ১৫ হাজার টাকায় সেন্টুর কাছ থেকে কিনে নিয়েছে এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে নাগরপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাছুম বিল্লা বলেন, প্রাণীটি বিলুপ্তির পথে। এটি সংরক্ষিত প্রাণী। যদি জীবিত থাকতো তাহলে আমরা উদ্বার করে অবমুক্ত করতাম।