আরমান কবীর: টাঙ্গাইলের মধুপুরে সরকারি বনভূমি দখল করে বিলাসবহুল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে বন বিভাগের জমিতে বিভিন্ন ধরনের বাগান ও স্থাপনা গড়ে তোলার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন উপজেলার অরণখোলা ইউনিয়নের গাছাবাড়ি গ্রামের মামুন নামের এক ব্যক্তি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মামুনের পরিবার একসময় আর্থিকভাবে অসচ্ছল ছিল। তার বাবা আবদুল খালেক ঘোড়ার গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। মামুনও একসময় পুরোনো মোটরসাইকেল কিনে ভাড়ায় যাত্রী পরিবহনের মাধ্যমে সংসার চালাতেন।
তবে কয়েক বছরের ব্যবধানে তার আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন এবং বিপুল অর্থ ব্যয়ে বড় ভবন নির্মাণ নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা শুরু হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গাছাবাড়ি বিটের আওতাধীন ২ নম্বর কৃষি প্লটের কয়েক বিঘা জমি দখল করে সেখানে বিশাল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বন বিভাগের জমিতে বিভিন্ন ধরনের বাগান ও অন্যান্য স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে উপজেলার অরণখোলা মৌজার গাছাবাড়ি এলাকায় গিয়ে বন বিভাগের বিট অফিসের পাশে সরকারি জমিতে নির্মিত একটি বড় ভবন দেখা গেছে।
সম্প্রতি ওই ভবন অপসারণের বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ভবনটির মালিকানা সম্পর্কে জানতে চাইলে মামুন দাবি করেন, জায়গাটি তিনি পৈতৃক সূত্রে পেয়েছেন। তার ভাষ্য, দখলে থাকা জমিটি রেকর্ডভুক্ত এবং এর দাগ নম্বর ১৩৪১৫।
তবে মামুনের এ দাবির সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট জমির খতিয়ান, দাগ নম্বর, রেকর্ড, মালিকানার দলিল এবং বন বিভাগের জমির সীমানা পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। জমিটি পৈতৃক সম্পত্তি হলে তার স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় নথিপত্র রয়েছে কি না, সেটিও যাচাইয়ের কথা বলেছেন তারা।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, “একজন ব্যক্তি কীভাবে সম্পদ অর্জন করবেন, সেটি তার ব্যক্তিগত বিষয়। তবে সেই সম্পদ অর্জন বা স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে সরকারি জমি দখলের অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত করা জরুরি।”
তাদের মতে, মামুনের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন নিয়ে ওঠা প্রশ্নের পাশাপাশি জমির বৈধতা ও ভবন নির্মাণের অর্থের উৎসও যথাযথভাবে খতিয়ে দেখা উচিত।
এ জন্য বন বিভাগ, জেলা প্রশাসন এবং দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে গাছাবাড়ি বিটের কর্মকর্তা আবদুল কদ্দুস জানান, সংশ্লিষ্ট জায়গাটি খালি করার জন্য জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। অতি শিগগিরই এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয়দের দাবি, জমির রেকর্ড, মালিকানা, বনভূমির সীমানা এবং ভবন নির্মাণের বৈধতা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা জনসমক্ষে আনা হোক। সরকারি বনভূমি দখলের অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।