মোঃ আরমান কবীর সৈকত (সম্পাদক)

শিক্ষাজীবন শেষে চাকরি নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু    - Ekotar Kantho

শিক্ষাজীবন শেষে চাকরি নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু  

আরমান কবীর: শিক্ষাজীবন শেষ করেই একজন শিক্ষার্থী যাতে চাকরি পেতে পারে, সেই লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

তিনি বলেন, ‘ক্যারিয়ার ও চাকরি মেলা অত্যন্ত ভালো ও মহৎ উদ্যোগ। এর মাধ্যমে অনেকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বাংলাদেশকে বুকে ধারণ করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। দেশের ২০ কোটি মানুষ যদি যোগ্য হয়ে ওঠে, তাহলে বাংলাদেশকে বিশ্বের অন্যতম দেশে পরিণত করা সম্ভব।’

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে টাঙ্গাইলের সন্তোষে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত ক্যারিয়ার ও চাকরি মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এবং পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি দেশকে এগিয়ে নিতে সরকার ও রাষ্ট্রকে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে দিতে হয়। প্রধানমন্ত্রী সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর কর্মকাণ্ডকে সহযোগিতা করতে হলে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তাহলেই দেশ স্বাবলম্বী হবে।

তিনি বলেন, একটি দল বা গোষ্ঠী বিভিন্নভাবে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে। জনগণের আন্দোলনের মুখে বিদায় নেওয়া ফ্যাসিবাদী শক্তি এখন বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। কিন্তু দেশের মানুষ শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ চায়। তাই তাদের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, সব ধরনের ষড়যন্ত্র ও অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। এ জন্য নিজেদের সুসংগঠিত করতে হবে এবং যেকোনো ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে।

শিক্ষার মানোন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছেন। টাঙ্গাইলের শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে তিনি সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করবেন।

তিনি আরও বলেন, টাঙ্গাইলের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে হবে। শিক্ষার দিক থেকে টাঙ্গাইলকে দেশের শীর্ষস্থানীয় জেলাগুলোর মধ্যে নিয়ে যেতে হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম শহীদুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. আনিসুর রহমান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ আল-মামুন, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শামসুল আলম সরকার এবং ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ আলী। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ফিতা কেটে এবং বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে ক্যারিয়ার ও চাকরি মেলার উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৮. অক্টোবর ২০২৬ ১২:৫৬:এএম ৬ ঘন্টা আগে
চিকিৎসকদের অবহেলায় যেন কারও ক্ষতি না হয়: প্রতিমন্ত্রী টুকু - Ekotar Kantho

চিকিৎসকদের অবহেলায় যেন কারও ক্ষতি না হয়: প্রতিমন্ত্রী টুকু

আরমান কবীর: চিকিৎসকদের অবহেলার কারণে কোনো রোগী যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও যত্নশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ (টামেক) হাসপাতালের সম্মেলনকক্ষে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সমন্বয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, টাঙ্গাইলে প্রায় ৫০ লাখ মানুষের বসবাস। এখানে একটি জেনারেল হাসপাতাল ও একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল রয়েছে। জেনারেল হাসপাতালের সেবার মান কীভাবে উন্নত করা যায়, সে বিষয়েও কাজ করার চেষ্টা চলছে। তবে সেবার মানের দিক থেকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রতি মানুষের আস্থা রয়েছে। ঢাকার হাসপাতালগুলোর পাশাপাশি এখান থেকেও উন্নত চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে বলে মানুষ মনে করে। এটি অবশ্যই ইতিবাচক।

তিনি বলেন, হাসপাতালের সেবার মান কীভাবে আরও বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। সবাই সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করলে ইনশাআল্লাহ স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত করা সম্ভব হবে। যার যার ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। চিকিৎসকদের অবহেলার কারণে যেন কোনো রোগীর ক্ষতি না হয়, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও যত্নশীল হতে হবে।

এ সময় হাসপাতালের বিদ্যমান জনবল সংকট দ্রুত দূর করার আশ্বাস দেন প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি হাসপাতালের সেবার মান বাড়াতে স্বচ্ছ অভিযোগ বক্স স্থাপনের নির্দেশ দেন তিনি।

সভায় হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম, বিদ্যমান সমস্যা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। চিকিৎসক ও অন্যান্য জনবলের সংকট, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সরবরাহ, রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার মান, ওয়ার্ডের পরিবেশ, খাবারের মান এবং চিকিৎসকদের যথাসময়ে হাসপাতালে উপস্থিতি নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

এছাড়া হাসপাতাল থেকে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ, গেটের সামনে অবৈধ দোকান উচ্ছেদ, অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধান, টয়লেটের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন প্রতিষ্ঠা, ফরেনসিক বিভাগ চালু এবং অ্যাম্বুলেন্স সেবার মানোন্নয়ন নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।

পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সভার কার্যক্রম শুরু হয়। পরে হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুস স্বাগত বক্তব্য দেন। তিনি হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম, বিদ্যমান সমস্যা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে একটি উপস্থাপনা তুলে ধরেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ, পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম, টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবু হানিফ, সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু, টাঙ্গাইল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শম্ভু রাম পাল, বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু এবং ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি ডা. আব্দুল মতিন। এ ছাড়া সভায় চিকিৎসক, সাংবাদিক এবং বিএনপি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সভাটি সঞ্চালনা করেন টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফখরুল আমিন বাদল।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৭. অক্টোবর ২০২৬ ০৬:১৬:পিএম ১২ ঘন্টা আগে
চলন্ত বাসে নারী ধর্ষণ: চালকসহ ৩ জনের যাবজ্জীবন   - Ekotar Kantho

চলন্ত বাসে নারী ধর্ষণ: চালকসহ ৩ জনের যাবজ্জীবন  

আরমান কবীর:ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চলন্ত বাসে এক নারী যাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে বাসের চালক, চালকের সহকারী ও কন্ট্রাক্টরসহ তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আনম ইলিয়াস ওই রায় ঘোষণা করেন।

আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি দণ্ডিত প্রত্যেককে ২ লাখ টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হচ্ছেন- বাসের চালক মো. আলতাফ (২৫), চালকের সহকারী মো. রাব্বি (২১) এবং বাসের কন্ট্রাক্টর সাগর ওরফে সজিব মাতাব্বর (২৪)। এদের মধ্যে আলতাফ দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার নান্দেরাই গ্রামের আব্দুর রবের ছেলে, রাব্বি সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার শিবপুর গ্রামের খোকন মিয়ার ছেলে এবং সাগর ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার চাঁদর হাট বাজারের চুন্নু মাতাব্বরের ছেলে।

টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) ওমরাও খান দিপু বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এই মামলায় মোট ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত রোববার তিন আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর দণ্ডিতদের টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ১৪ জানুয়ারি রাত পৌনে ১২টার দিকে ধর্ষণের শিকার ওই নারী ঢাকার গাবতলী থেকে আশুলিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে সাভার পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন।

পথিমধ্যে বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে অন্য সব যাত্রী নেমে গেলে বাসটি ফাঁকা হয়ে যায়। এই সুযোগে চলন্ত বাসের ভেতর ওই তিন জন পর্যায়ক্রমে ওই নারীকে ধর্ষণ করে।

ধর্ষণ শেষে শেষে ভয়ভীতি দেখিয়ে ওই নারীর কানের দুল, নগদ ৩৬ হাজার টাকা এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এরপর তারা বাসটি নিয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চক্কর দিতে থাকে।

পরদিন সকালে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া আন্ডারপাস এলাকায় বাসটি থামলে ওই নারী সেখানে দায়িত্বরত হাইওয়ে পুলিশের টহল দলকে বিষয়টি জানান। হাইওয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে বাসসহ অভিযুক্ত তিনজনকে আটক করে টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

ঘটনার দিনই ওই নারী বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা টাঙ্গাইল সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ভীক্টর ব্যানার্জী তদন্ত শেষে গত ২৯ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৬. অক্টোবর ২০২৬ ১২:২৪:এএম ২ দিন আগে
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর পার্ক বাজার পরিদর্শন - Ekotar Kantho

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর পার্ক বাজার পরিদর্শন

আরমান কবীর: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বৃহস্পতিবার(২২ অক্টোবর) সকালে টাঙ্গাইল শহরের মেজর জেনারেল মাহমুদুল হাসান চাঁদ বাজার (পার্ক বাজার) পরিদর্শন করেছেন।

প্রতিমন্ত্রী পরিদর্শনকালে বাজারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ দেখেন এবং তা দ্রুত নির্মানের নির্দেশ দেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী, সহ-সভাপতি আজিম উদ্দিন বিপ্লব, জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সদস্য সচিব সালে মোহাম্মদ সাফি ইথেন, পৌর মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোতালেব হোসেন রানা, মেজর জেনারেল মাহমুদুল হাসান চাঁদ বাজার (পার্ক বাজার) দোকান মালিক ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি মো. বাবলু মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক মো. আমীর হামজা রুবেল প্রমুখ।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২২. অক্টোবর ২০২৬ ০৯:৩৭:পিএম ৫ দিন আগে
টাঙ্গাইলে অটোভ্যান ছিনতাইয়ে কিশোর হত্যা;মূলহোতাসহ গ্রেপ্তার ২  - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে অটোভ্যান ছিনতাইয়ে কিশোর হত্যা;মূলহোতাসহ গ্রেপ্তার ২ 

আরমান কবীর:টাঙ্গাইলের সখিপুরে অটোভ্যান ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে সবুজ (১৪) নামে এক কিশোর চালককে অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় মামলার মূলহোতাসহ দুই পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-১৪।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে সখিপুরের বহেরাতৈল ইউনিয়নের আন্দিগ্রাম এলাকার গভীর জঙ্গল থেকে ওই কিশোরের মাথার খুলি, চুল ও হাড়সহ মরদেহের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করা হয়। এ সময় তার পরিহিত শার্ট ও স্যান্ডেলও উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মামলার মূলহোতা শাহীন (৩০) ও হাবিব (৩৫)।

র‍্যাব-১৪ জানায়, তাদের মধ্যে হাবিবকে ১৯ অক্টোবর বিকেলে বাসাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে শাহীনের দেওয়া তথ্য ও দেখানো স্থান অনুযায়ী ভিকটিমের মরদেহের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করা হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে এসআরবি-১৪-এর সিপিসি-৩ টাঙ্গাইল ক্যাম্পের পক্ষ থেকে এক প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে এসব তথ্য জানায় অতিরিক্ত ডিআইজি, এসআরবি ১৪ এর অধিনায়ক মো: মাসুদ রানা।

তিনি জানান, সখিপুর উপজেলার মিলপুর এলাকার সিরাজ মিয়ার ছেলে সবুজ জীবিকার তাগিদে ভাড়ায় অটোভ্যান চালাত।

গত ২৬ সেপ্টেম্বর সকালে প্রতিদিনের মতো অটোভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর সে আর ফিরে আসেনি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর সখিপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

এরপর ২৭ সেপ্টেম্বর জেলার গোপালপুর থানার সুতী পলাশ এলাকায় চোরাই অটোভ্যানসহ সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরির সময় স্থানীয়রা আব্দুল করিম ও রফিকুল ইসলাম নামে দুজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। এ সময় ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আরও দুই সহযোগী হাবিব ও শাহীন পালিয়ে যান।

পরে সবুজের বাবা বাদী হয়ে সখিপুর থানায় গত ১৫ অক্টোবর একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলাটিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০-এর ৭/৩০ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

অতিরিক্ত ডিআইজি মাসুদ রানা বলেন, কিশোর সবুজ নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই এসআরবি-১৪-এর টাঙ্গাইল ক্যাম্প ছায়াতদন্ত শুরু করে। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ১৯ অক্টোবর বিকেল ৩টার দিকে বাসাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে মামলার এজাহারভুক্ত ৩ নম্বর আসামি হাবিবকে গ্রেপ্তার করা হয়।”

পরে হাবিবকে জিজ্ঞাসাবাদের সূত্র ধরে মূলহোতা শাহীনের অবস্থান শনাক্ত ও ভিকটিমের মরদেহ উদ্ধারে সখিপুরের বহেরাতৈল এলাকার আন্দিগ্রামের গভীর জঙ্গলে অভিযান চালানো হয়। তবে রাতের অন্ধকার ও ঘন জঙ্গলের কারণে প্রথম দফায় অভিযান সফল হয়নি।

সেই অভিযানের ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে মূলহোতা শাহীনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য ও দেখানো স্থান অনুযায়ী একই এলাকার গভীর জঙ্গলে তল্লাশি চালিয়ে সবুজের মরদেহের অবশিষ্টাংশ, মাথার খুলি, চুল, হাড়, পরিহিত শার্ট ও স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ভিকটিমের অটোভ্যান ছিনতাই করতেই তাকে অপহরণ ও হত্যার ঘটনা ঘটানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

অতিরিক্ত ডিআইজি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত হাবিবকে সখিপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মূলহোতা শাহীনকে গ্রেপ্তার এবং মামলার আলামত উদ্ধারের পর তাকে থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

 

সর্বশেষ আপডেটঃ ২১. অক্টোবর ২০২৬ ০১:৩১:এএম ১ সপ্তাহ আগে
এবার কালভার্টে কাঠের পরিবর্তে বাঁশ, কার্যসহকারী চাকরিচ্যুত - Ekotar Kantho

এবার কালভার্টে কাঠের পরিবর্তে বাঁশ, কার্যসহকারী চাকরিচ্যুত

আরমান কবীর: টাঙ্গাইল শহরের পার্ক বাজারে ঐতিহ্যবাহী শ্যামা বাবু খালের ওপর নির্মিত কালভার্টের সাটারিংয়ে কাঠের পরিরবর্তে বাঁশ ব্যবহার করার কারণে ঢালাইয়ের সময় ধসে পড়েছে।

এ ঘটনায় অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগকৃত কার্যসহকারী মো. আব্দুল আওয়ালকে চাকরিচ্যুত ও সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার মো. নাজমুল হাসানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।ঘটনাটি জেলাজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

এর আগে জেলার বাসাইলে এলজিইডির ব্রিজে বাঁশ ব্যবহার করায় দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল।

এ ঘটনায় শনিবার(১৮ অক্টোবর )গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী শম্ভুরাম পালকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনিসুর রহমান।

কমিটির সদস্য সচিব এলজিইজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শাহনাজ পারভীন ও সদস্য করা হয়েছে জনস্বাস্থ্যের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাইসুল ইসলামকে।

কমিটিকে তিন কার্য দিবসের মধ্যে তদন্তের প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

জানা যায়, ১৩ লাখ ৮৮ হাজার ৫৫৪ টাকা ব্যয়ে খালের ওপর কালভার্ট নির্মাণের জন্য এফ এ ট্রেডার্স নামে এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেয় টাঙ্গাইল পৌরসভা।

নির্মিত কালভার্টের সাটারিংয়ে কাঠের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করে ঢালাই করার সময় গত বুধবার ধসে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হলে টাঙ্গাইল পৌরসভা থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

এছাড়াও কার্যসহকারীকে চাকরিচ্যুত ও সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

সরেজমিন শনিবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়- কয়েকজন শ্রমিক পুনরায় সাটারিংয়ের কাজ করছেন। বাজারের ব্যবসায়ীরা তাদের কাছ থেকে কালভার্টটি ধসে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাচ্ছেন।

হাবিবুর রহমান নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, বাজারের কালভার্টটি নির্মাণের কাজ খুব ধীর গতিতে হচ্ছে। প্রতিনিয়ত হাজার হাজার মানুষসহ ব্যবসায়ীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অপরদিকে কাজের মান নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন।

টাঙ্গাইল পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান রেজাউল করিম বলেন, তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দিলে মূল বিষয়টি জানা যাবে। তবে এখনও ঠিকাদারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়নি।

টাঙ্গাইল পৌরসভার প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য পৌরসভা পৌরবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করছে। আমি ঘটনার পর পরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তাৎক্ষণিক কাজ বন্ধ করা হয়েছে। নতুন করে সাটারিং করে কাজ করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৯. অক্টোবর ২০২৬ ০১:১৭:এএম ১ সপ্তাহ আগে
টাঙ্গাইলে ৫৩ পূজামণ্ডপে জেলা পরিষদের চেক প্রদান - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ৫৩ পূজামণ্ডপে জেলা পরিষদের চেক প্রদান

আরমান কবীর: শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে টাঙ্গাইল জেলার ৫৩টি পূজামণ্ডপে চেক প্রদান করেছে জেলা পরিষদ, টাঙ্গাইল।

জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপের ধর্মীয় উৎসব উদযাপনে সহায়তার অংশ হিসেবে প্রতিটি পূজামণ্ডপকে ১০ হাজার টাকা করে চেক প্রদান করা হয়।

রোববার(১৮ অক্টোবর) সকালে জেলা পরিষদের হলরুমে এই চেক বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে পূজামণ্ডপ কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট ওবায়দুল হক নাসির।

এ সময় তিনি বলেন,গত বছরের তুলনায় এবার বেশি অনুদান দেওয়া হয়েছে। শারদীয় দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসব আনন্দমুখর পরিবেশে উদযাপনে পূজামণ্ডপ উদযাপন কমিটিগুলোকে সহযোগিতা করার লক্ষ্যেই জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে এ অর্থ উপহার দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন,প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এ দেশে কোনো সংখ্যালঘু নেই,সবাই বাংলাদেশি। তার নির্দেশনায় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রয়োজনে পূজামণ্ডপ পাহারা দেবেন। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই বাংলাদেশি হিসেবে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়ে বসবাস করবেন এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

 

তিনি বলেন,বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশে সব ধর্মের মানুষের নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালনের অধিকার রয়েছে। দুর্গাপূজা যাতে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়,সে জন্য সবাইকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা সামছুন্নাহার স্বপ্না,রসুলপুর পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি শ্রীভাস চন্দ্র, সাবালিয়া পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি বিশ্বনাথ, ঘাটাইল উপজেলার লাহেরী বাড়ি পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি গোপীনাথসহ জেলার ১২টি পূজামণ্ডপের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

চেক গ্রহণকারী টাঙ্গাইল বড় কালীবাড়ি পূজা উদ্যাপন কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন সরকার জেলা পরিষদের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান।

তিনি বলেন,ধর্মীয় উৎসব উদযাপনে এ ধরনের সহযোগিতা পূজামণ্ডপগুলোর জন্য সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৯. অক্টোবর ২০২৬ ১২:০৪:এএম ১ সপ্তাহ আগে
টাঙ্গাইলে বাস-পিকআপ-মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত ২ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে বাস-পিকআপ-মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত ২

আরমান কবীর: ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কী এলাকায় যাত্রীবাহী বাস-পিকআপ ও মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার মোটরসাইকেল আরোহী আসিফ (১৮) এবং সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার পিকআপের হেলপার আব্দুল রহিম (৪০)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকাগামী লেনে এস আই ট্রাভেলসের একটি যাত্রীবাহী বাস ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। এ সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনে থাকা একটি মোটরসাইকেলকে সজোরে ধাক্কা দেয়। পরে মোটরসাইকেলের সামনে থাকা একটি পিকআপকেও ধাক্কা দেয় বাসটি। এতে মোটরসাইকেল আরোহী আসিফ ও পিকআপের হেলপার আব্দুল রহিম ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

খবর পেয়ে গোড়াই হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

গোড়াই হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও পিকআপ পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৮. অক্টোবর ২০২৬ ০২:৪৫:এএম ১ সপ্তাহ আগে
মধুপুরে বনভূমি দখল করে বিলাসবহুল ভবন নির্মাণের অভিযোগ, জেলা প্রশাসনের নোটিশ - Ekotar Kantho

মধুপুরে বনভূমি দখল করে বিলাসবহুল ভবন নির্মাণের অভিযোগ, জেলা প্রশাসনের নোটিশ

আরমান কবীর: টাঙ্গাইলের মধুপুরে সরকারি বনভূমি দখল করে বিলাসবহুল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে বন বিভাগের জমিতে বিভিন্ন ধরনের বাগান ও স্থাপনা গড়ে তোলার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন উপজেলার অরণখোলা ইউনিয়নের গাছাবাড়ি গ্রামের মামুন নামের এক ব্যক্তি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মামুনের পরিবার একসময় আর্থিকভাবে অসচ্ছল ছিল। তার বাবা আবদুল খালেক ঘোড়ার গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। মামুনও একসময় পুরোনো মোটরসাইকেল কিনে ভাড়ায় যাত্রী পরিবহনের মাধ্যমে সংসার চালাতেন।

তবে কয়েক বছরের ব্যবধানে তার আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন এবং বিপুল অর্থ ব্যয়ে বড় ভবন নির্মাণ নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা শুরু হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গাছাবাড়ি বিটের আওতাধীন ২ নম্বর কৃষি প্লটের কয়েক বিঘা জমি দখল করে সেখানে বিশাল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বন বিভাগের জমিতে বিভিন্ন ধরনের বাগান ও অন্যান্য স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে উপজেলার অরণখোলা মৌজার গাছাবাড়ি এলাকায় গিয়ে বন বিভাগের বিট অফিসের পাশে সরকারি জমিতে নির্মিত একটি বড় ভবন দেখা গেছে।

সম্প্রতি ওই ভবন অপসারণের বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

ভবনটির মালিকানা সম্পর্কে জানতে চাইলে মামুন দাবি করেন, জায়গাটি তিনি পৈতৃক সূত্রে পেয়েছেন। তার ভাষ্য, দখলে থাকা জমিটি রেকর্ডভুক্ত এবং এর দাগ নম্বর ১৩৪১৫।

তবে মামুনের এ দাবির সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট জমির খতিয়ান, দাগ নম্বর, রেকর্ড, মালিকানার দলিল এবং বন বিভাগের জমির সীমানা পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। জমিটি পৈতৃক সম্পত্তি হলে তার স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় নথিপত্র রয়েছে কি না, সেটিও যাচাইয়ের কথা বলেছেন তারা।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, “একজন ব্যক্তি কীভাবে সম্পদ অর্জন করবেন, সেটি তার ব্যক্তিগত বিষয়। তবে সেই সম্পদ অর্জন বা স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে সরকারি জমি দখলের অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত করা জরুরি।”

তাদের মতে, মামুনের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন নিয়ে ওঠা প্রশ্নের পাশাপাশি জমির বৈধতা ও ভবন নির্মাণের অর্থের উৎসও যথাযথভাবে খতিয়ে দেখা উচিত।

এ জন্য বন বিভাগ, জেলা প্রশাসন এবং দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে গাছাবাড়ি বিটের কর্মকর্তা আবদুল কদ্দুস জানান, সংশ্লিষ্ট জায়গাটি খালি করার জন্য জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। অতি শিগগিরই এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

স্থানীয়দের দাবি, জমির রেকর্ড, মালিকানা, বনভূমির সীমানা এবং ভবন নির্মাণের বৈধতা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা জনসমক্ষে আনা হোক। সরকারি বনভূমি দখলের অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৫. অক্টোবর ২০২৬ ০৮:১১:পিএম ২ সপ্তাহ আগে
টাঙ্গাইলে ‘হানিট্র্যাপ’ চক্রের অভিযোগ: মূল হোতা উজ্জ্বল সরকার এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ‘হানিট্র্যাপ’ চক্রের অভিযোগ: মূল হোতা উজ্জ্বল সরকার এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে

আরমান কবীর: প্রলোভন, গোপন যোগাযোগ আর ব্ল্যাকমেইলের ফাঁদ। এমন নানা অভিযোগ ঘিরে এখন টাঙ্গাইলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি ‘হানিট্র্যাপ’ চক্র।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় এক মাস ধরে এ চক্রের মাধ্যমে নারীদের দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় মূল হোতা হিসেবে কালিহাতীর এলেঙ্গা পৌরসভার রাজাবাড়ী এলাকার মো. উজ্জ্বল সরকারের নাম সামনে এলেও তিনি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, উজ্জ্বল বিভিন্ন উঠতি বয়সের নারী ও স্কুল-কলেজের ছাত্রীদের দিয়ে টাকাওয়ালা ব্যক্তিদের টার্গেট করতেন। পরে ওই নারীদের দিয়ে বিভিন্ন পন্থায় আটক করে ভয়ভীতি দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিতেন উজ্জ্বল ও তার চক্রের সদস্যরা।

এ নিয়ে ৭ মিনিট ৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দুই মেয়ের সাথে উজ্জ্বলকে মুঠোফোনে কথা বলতে শোনা যায়।

এক মেয়ে উজ্জ্বলকে বলছে, _“ভাই আমরা এতো রিক্স নিচ্ছি, আমরা যাতে খালি হাতে না ফিরি।”_

জবাবে উজ্জ্বল ওই মেয়েদের বলছে, _“রুমে প্রবেশের সময় এসএমএস দিবে ‘ভাই আমরা ঢুকলাম’। তারপর আমাদের রুম পর্যন্ত যেতে ৩ থেকে ৫ মিনিট লাগবে। তারপর আমরা ভিডিও ধারণ করবো। টাকা কিভাবে দিবো, সেটা আমার উপর ছেড়ে দাও। টাকা নেয়ার বিষয়ে আমার পড়াশোনা করা আছে। টাকা না দেয়, এক কোটি টাকা কাবিন করে তোমাদের বিয়ে করাবো।”_

অভিযোগ রয়েছে, পরিচিতি ও ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে প্রথমে আস্থা অর্জন, এরপর ব্যক্তিগত তথ্য বা স্পর্শকাতর বিষয়কে কেন্দ্র করে চাপ সৃষ্টি করা হতো। কখনো অর্থ আদায়, কখনো সামাজিকভাবে হেয় করার ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের জিম্মি করার অভিযোগও রয়েছে চক্রটির বিরুদ্ধে।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা উজ্জ্বল এখনো কেন গ্রেপ্তার হননি? তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে সেগুলোর তদন্ত কত দূর এগিয়েছে? এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, তাদের শনাক্ত করা হয়েছে কি না?

এদিকে, এ ধরনের প্রতারণার শিকার অনেকেই সামাজিক সম্মানহানি, ভয়ভীতি কিংবা ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের আশঙ্কায় মুখ খুলতে চান না। ফলে অপরাধের প্রকৃত চিত্র সামনে আসতে দেরি হতে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত উজ্জ্বল সরকার বলেন, “আমি এ ধরনের কোন কাজের সাথে জড়িত না। আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। এর তীব্র নিন্দা জানাই।”

এ বিষয়ে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন টাঙ্গাইলের সচেতন মহল।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৫. অক্টোবর ২০২৬ ০৬:৩১:পিএম ২ সপ্তাহ আগে
টাঙ্গাইলে গৃহবধূকে ধর্ষণ ও ছবি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল: মাদরাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে গৃহবধূকে ধর্ষণ ও ছবি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল: মাদরাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার

আরমান কবীর: টাঙ্গাইলে এক গৃহবধূকে ধর্ষণ ও আপত্তিকর ছবি ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে খাইরুল ইসলাম (৩৩) নামে এক মাদরাসা শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১৪।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে র‍্যাব-১৪ এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা কলেজ মোড় এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই নারীর মেয়েকে পড়ানোর সুবাদে অভিযুক্ত শিক্ষক খাইরুল ইসলাম ওই বাড়িতে যাতায়াত করতেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৮ আগস্ট তিনি ওই নারীকে ধর্ষণ করেন এবং তাঁর আপত্তিকর ছবি ধারণ করেন। পরে ওই ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী গত ২ অক্টোবর টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন।

পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করে র‍্যাব-১৪ এর একটি দল তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেপ্তারকৃতকে কালিহাতী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে র‍্যাব জানিয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৪. অক্টোবর ২০২৬ ১২:৫৯:এএম ২ সপ্তাহ আগে
রাজনৈতিক মামলায় আত্মসমর্পণ করে শ্রমিকদল নেতা মোকলেস কারাগারে - Ekotar Kantho

রাজনৈতিক মামলায় আত্মসমর্পণ করে শ্রমিকদল নেতা মোকলেস কারাগারে

আরমান কবীর:২০১৭ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন ও প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানিয়ে মিছিল করার ঘটনায় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে করা রাজনৈতিক মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত শ্রমিকদল নেতা মোকলেস মিয়া ও যুবদল নেতা জাহিদুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে ম্যাজিস্ট্রেট রিয়াদ হাসান তা নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মোকলেস মিয়া ঢাকা মহানগর উত্তর শ্রমিক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা।

অপর আসামি জাহিদুল ইসলাম যাত্রাবাড়ী থানা যুবদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

মামলায় ৩২ জন সাক্ষীর তালিকা দেওয়া হলেও রাষ্ট্রপক্ষ নয়জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির করে। সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারিক কার্যক্রম শেষে ২০২৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২৬-এর বিচারক মোকলেস মিয়া ও জাহিদুল ইসলামকে দণ্ডবিধির ৩৫৩ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করেন। তাদের প্রত্যেককে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। তবে মামলার অন্য ধারাগুলো থেকে তাদের খালাস দেওয়া হয়।

এরপর ওই রায়ের বিরুদ্ধে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে ফৌজদারি আপিল করেন মোকলেস মিয়া ও জাহিদুল ইসলাম। আপিলে বলা হয়েছে, মামলায় ৩২ জন সাক্ষীর নাম থাকলেও রাষ্ট্রপক্ষ মাত্র নয়জনকে আদালতে হাজির করেছে। গুরুত্বপূর্ণ ও নিরপেক্ষ সাক্ষীদের সাক্ষ্য নেওয়া হয়নি বলেও আপিলে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য ও মামলার অন্যান্য উপাদান বিবেচনায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।

আপিল আবেদনে নিম্ন আদালতের রায় ও সাজা বাতিল করে তাদের খালাস দেওয়ার পাশাপাশি আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জামিনের আবেদন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “২০১৭ সালে মিথ্যা মামলায় ফ্যাসিস্ট সরকার সাজা দিয়েছিল। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে মোকলেস মিয়া ও জাহিদুল ইসলাম আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আমরা পরবর্তী সময়ে সাজা বাতিল ও জামিনের জন্য আইনগতভাবে আবারও আবেদন করব।”

এদিকে আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে মোকলেস মিয়া ও জাহিদুল ইসলামের মুক্তির দাবি জানান।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৬. অক্টোবর ২০২৬ ১২:৪২:এএম ৩ সপ্তাহ আগে
কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।