জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠেয় এ উৎসবের ঘোষণা দেওয়া হয় ৩১ আগস্ট টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে, বিশেষ করে জেলা প্রশাসক শরীফা হকের নির্দেশনায় উৎসবটি আয়োজন করা হচ্ছে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ উৎসবের মাধ্যমে টাঙ্গাইলের দুইশত বছবের মিষ্টি তৈরির ঐতিহ্য দেশ ও বিদেশে তুলে ধরা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে জেলার স্থানীয় ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও বিভিন্ন পণ্যকে পর্যটকদের সামনে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।
উৎসবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম মিষ্টি তৈরির সঙ্গে যুক্ত কারিগরদের হাতে তৈরি বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি প্রদর্শন করা হচ্ছে। পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য থাকবে টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী শাড়ির বড় পরিসরের প্রদর্শনী।
আয়োজকদের মতে, উৎসবের প্রধান তিনটি লক্ষ্য হলো, টাঙ্গাইলের দুইশত বছরের মিষ্টিশিল্পকে দেশ-বিদেশে তুলে ধরে ‘ব্র্যান্ড টাঙ্গাইল’ গড়ে তোলা, ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পকে সংরক্ষণের পাশাপাশি তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ তৈরি করা এবং স্থানীয় পণ্যের প্রসারের মাধ্যমে জেলার অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা।
টাঙ্গাইলের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য শাড়ি, আনারস, চমচম, সন্দেশসহ স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে কেন্দ্র করে আয়োজন করা হয়েছে এবারের উৎসব। এই উৎসবে জেলার ১২ উপজেলা থেকে ২৩টি স্টল অংশ নিয়েছে; এর মধ্যে ২০টি স্টলে ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি এবং তিনটি স্টলে টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি প্রদর্শন করা হচ্ছে।
আয়োজকদের আশা, এর মাধ্যমে জেলার পর্যটন খাত আরও বিকশিত হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, মিষ্টি কারিগর, তাঁতি ও ব্যবসায়ীরা নতুন বাজার ও ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পাবেন।
তিন দিনের এই ‘মিষ্টি উৎসব’ শুধু মিষ্টি খাওয়ার আয়োজন নয়। এটি টাঙ্গাইল মিষ্টির ২০০ বছরের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির এক সম্মিলিত উদযাপন।
মেলায় দুই জমজ কন্যাকে সাথে নিয়ে এসেছেন খুরশিদা হক, তিনি জানালেন, তিনি চাকুরী সূত্রে ঢাকায় থাকেন।জেলা প্রশাসনের ফেসবুকে মিষ্টি উৎসবের খবর দেখে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুরতে এসেছেন। তিনি আরোও জানান, টাঙ্গাইলের শাড়ি নিয়ে এই ধরনের উৎসবের আয়োজন করা উচিত। মেলার পরিবেশ অত্যন্ত ভালো, পরিবার পরিজন নিয়ে নিরাপদে ঘুরছি।
জয়কালী মিষ্টান্ন ভান্ডারের স্বপন ঘোষ বলেন, টাঙ্গাইলের চমচমের ইতিহাস, ২০০ বছরের ইতিহাস। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় ইতিপূর্বে এই নিয়ে কোন ধরনের মেলার আয়োজন করা হয়নি। বর্তমান জেলা প্রশাসক ও সরকারকে ধন্যবাদ এই মিষ্টি উৎসব আয়োজন করার জন্য। এই মেলায় বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার লোক এসেছে মিষ্টি খেতে ও পরিবারের জন্য নিয়ে যেতে। আশা করি, এই উৎসবের মাধ্যমে টাঙ্গাইল জেলাকে আরও ব্যান্ডিং করা যাবে।
জেলা প্রশাসক শরীফা হক বলেন, ‘টাঙ্গাইলের জিআই পণ্য শুধু টাঙ্গাইলের নয়, এগুলো বাংলাদেশের গর্ব’—এই বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই উৎসবের অন্যতম লক্ষ্য। এর মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী করার পাশাপাশি টাঙ্গাইলের পর্যটন সম্ভাবনাকেও এগিয়ে নেওয়া হবে।
মেলা উদ্বোধনের পর প্রাণি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘টাঙ্গাইলের চমচম সারা বাংলাদেশ তথা বিশ্বের অনেক মানুষই কমবেশি চেনে। টাঙ্গাইলের শাড়ি যেমন বাংলাদেশের গর্ব ও ঐতিহ্য, তেমনি চমচমও আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। এই পণ্যকে কীভাবে আরও এগিয়ে নেওয়া যায়, সেটি আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্যের মধ্যে পড়ে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের যে ঐতিহ্য রয়েছে, সেটিকে মানুষের মাঝে তুলে ধরার জন্যই এ আয়োজন। টাঙ্গাইলে যে ঐতিহ্য ও অর্জন রয়েছে, তা বাংলাদেশের মানুষের জন্যও গর্বের বিষয়। এই ঐতিহ্যকে ধারণ করে আগামী দিনে ঐতিহাসিক ও নিরাপদ টাঙ্গাইল গড়ে তুলতে চাই। এ ব্যাপারে সবার সার্বিক সহযোগিতা প্রয়োজন।’
উল্লেখ্য,- দশরথ গৌড়(বাঙালি হালুইকর) নামে এক ব্যক্তি ব্রিটিশ আমলে আসাম থেকে টাঙ্গাইলের যমুনা নদীর তীরবর্তী পোড়াবাড়িতে আসেন। তিনি যমুনার পানি ও গরুর খাঁটি দুধ দিয়ে প্রথমে চমচম তৈরি শুরু করেন। পরে সেখানেই মিষ্টির ব্যবসা শুরু করেন তিনি।
এর আগে ১৬০৮ সালে পোড়াবাড়ি গ্রামটিকে নদীবন্দর হিসেবে গড়ে তোলা হয়। সে সময়কালে ধলেশ্বরীর পশ্চিম তীরে গড়ে উঠেছিল জমজমাট ব্যবসা কেন্দ্র পোড়াবাড়ি বাজার। তখন পোড়াবাড়ি ঘাটে ভিড়তো বড় বড় সওদাগরি নৌকা, লঞ্চ ও স্টিমার। এ বাজারে যোগ হয় সুস্বাদু চমচম, গড়ে ওঠে মিষ্টির বাজার। ধীরে ধীরে পোড়াবাড়িতে প্রায় অর্ধশত চমচম তৈরির দোকান গড়ে ওঠে। তবে এখন পোড়াবাড়ী নয়, মিষ্টি শিল্পের প্রতিনিধিত্ব করছে টাঙ্গাইল শহরের পাঁচআনি বাজার।
জেলায় চমচমের পাশাপাশি সাদা চমচম, রসগোল্লা, আমির্তী, পানতোয়া, কালোজাম, ক্ষিরমোহন, রসমালাই, মালাইকারী, ছানার পোলাও, দই (লাল), দই (সাদা), সন্দেশ, জিলাপি, ইত্যাদি এখন মন ভিজিয়েছে ভোজন রশিকদের।
এ ছাড়াও রয়েছে জেলার মির্জাপুর উপজেলার জামুকীর কালিদাসের গুড়ের ও চিনির সন্দেশ জেলাকে খ্যাতি এনে দিয়েছে।
আরমান কবীর:টাঙ্গাইলকে যদি ব্র্যান্ড হিসেবে বিশ্লেষণ করি, তাহলে এর ৩টি পিলার পাব: তাঁত, আনারস, চমচম। তাঁত আজ অস্তিত্ব সংকটে। আনারস মৌসুমি। কিন্তু চমচম? ২০০ বছর ধরে সে একাই টাঙ্গাইলের “সফট পাওয়ার”।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার পোড়াবাড়ি গ্রামটি ধলেশ্বরী নদীর তীরে অবস্থিত। নদীর পানিতে আয়রন ও মিনারেলের অনুপাত এমন যে ছানা কাটলে দানা হয় ঝরঝরে, কিন্তু শক্ত হয় না। দেশের অন্যান্য জেলার পানিতে সেই “মাউথফিল” আসে না।
টাঙ্গাইলের মিষ্টি তৈরির অন্যতম প্রধান উপকরণ হলো তাজা দুধ। দুধ জ্বাল দিয়ে তা থেকে ছানা তৈরি করা হয়। এরপর ছানাকে কাপড়ের পুঁটলিতে বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা হয়, যাতে অতিরিক্ত পানি ঝরে যায়। নিচে রাখা বড় পাত্রে ছানা থেকে ঝরে পড়া তরল জমা হয়।
সাধারণ মেশিনে ১০ মিনিটে যে কাজ হয়, টাঙ্গাইলের চমচমের কারিগর হাতে ২ ঘণ্টা ধরে ছানা মথে। ফলে প্রোটিনের স্ট্রাকচার ভাঙে না। তাই কামড় দিলে দানাদার, কিন্তু গলে যায়।
ছানা প্রস্তুত হওয়ার পর তা ভালোভাবে মথে নির্দিষ্ট আকার দেওয়া হয়। এরপর চিনির ঘন সিরায় ধীরে ধীরে জ্বাল দেওয়া হয়। দক্ষ কারিগরের হাতের নিপুণতায় সাধারণ ছানা তখন রূপ নেয় সুস্বাদু চমচমে।
ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি তৈরিতে যত্ন ও সময় প্রয়োজন হয়। ৬-৭ ঘণ্টা চিনির সিরায় ডোবানোর ফলে চমচমের চিনি ভেতরে ঢোকে। ফলে বাইরে ক্যারামেলাইজড লেয়ার তৈরি হয় আর ভেতরে ৭০% ময়েশ্চার। চমচম তৈরির এই পদ্ধতির কারণে প্রায় ২০০ বছরের খ্যাতি ধরে রেখেছে টাঙ্গাইলের চমচম।
বিদেশে রপ্তানি না হলেও অতুলনীয় স্বাদের কারণে এ জেলা থেকে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলায় চমচম যায়। এ ছাড়াও বাণিজ্যিকভাবে না হলেও ব্যক্তি পর্যায়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে চমচম রপ্তানি করা হয়।
ইতিহাস বলছে- দশরথ গৌড় নামে এক ব্যক্তি ব্রিটিশ আমলে আসাম থেকে টাঙ্গাইলের যমুনা নদীর তীরবর্তী পোড়াবাড়িতে আসেন। তিনি যমুনার পানি ও গরুর খাঁটি দুধ দিয়ে প্রথমে চমচম তৈরি শুরু করেন। পরে সেখানেই মিষ্টির ব্যবসা শুরু করেন তিনি।
এর আগে ১৬০৮ সালে পোড়াবাড়ি গ্রামটিকে নদীবন্দর হিসেবে গড়ে তোলা হয়। সে সময়কালে ধলেশ্বরীর পশ্চিম তীরে গড়ে উঠেছিল জমজমাট ব্যবসা কেন্দ্র পোড়াবাড়ি বাজার। তখন পোড়াবাড়ি ঘাটে ভিড়তো বড় বড় সওদাগরি নৌকা, লঞ্চ ও স্টিমার। এ বাজারে যোগ হয় সুস্বাদু চমচম, গড়ে ওঠে মিষ্টির বাজার। ধীরে ধীরে পোড়াবাড়িতে প্রায় অর্ধশত চমচম তৈরির দোকান গড়ে ওঠে।
তবে এখন পোড়াবাড়ী নয়, মিষ্টি শিল্পের প্রতিনিধিত্ব করছে টাঙ্গাইল শহরের পাঁচআনি বাজার।
জেলায় চমচমের পাশাপাশি সাদা চমচম, রসগোল্লা, অমৃতী, পানতোয়া, কালোজাম, ক্ষীরমোহন, রসমালাই, মালাইকারী, ছানার পোলাও, দই (লাল), দই (সাদা), সন্দেশ, জিলাপি, ইত্যাদি এখন মন ভিজিয়েছে ভোজন রসিকদের। এ ছাড়াও রয়েছে জেলার মির্জাপুর উপজেলার জামুকীর কালিদাসের গুড়ের ও চিনির সন্দেশ। যা জেলাকে খ্যাতি এনে দিয়েছে।
বর্তমানে মিষ্টি শিল্পে টাঙ্গাইলের ঘোষ ও পাল সম্প্রদায় বংশানুক্রমিক ভাবে নিয়োজিত আছে। তবে দে, নাগ ইত্যাদি উপাধিধারী অনেকেও মিষ্টান্ন তৈরিতে নিয়োজিত হয়েছেন। টাঙ্গাইলের মোদক উপাধি প্রাপ্তরাও মিষ্টি শিল্পের সঙ্গে জড়িত।
টাঙ্গাইল শহর ও পোড়াবাড়ি মিলিয়ে ২০০টির অধিক মিষ্টির দোকান। প্রতিদিন গড়ে প্রতিটি দোকানে ৫ মণ, বছরে প্রায় ১৮০ মণ চমচম তৈরি হয়। প্রতি কেজি গড়ে ৩৫০ টাকা ধরলে শুধু চমচমের বার্ষিক টার্নওভার প্রায় ২৮ কোটি টাকা।
টাঙ্গাইলের মিষ্টির ঐতিহ্যের সঙ্গে স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানও জড়িত। জেলার বিভিন্ন মিষ্টির দোকান ও কারখানায় বহু মানুষ সরাসরি ও পরোক্ষভাবে যুক্ত। প্রতিদিন তাজা দুধ সংগ্রহ থেকে শুরু করে ছানা তৈরি, মিষ্টি প্রস্তুত, প্যাকেটজাত ও বাজারজাত, পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি বিস্তৃত কর্মযজ্ঞ।
পোড়াবাড়ির মিষ্টি ব্যবসায়ীদের মধ্যে বর্তমানে খোকা ঘোষ ও গোপাল চন্দ্র দাস, গৌর ঘোষ, হারু ঘোষ, কানাই ঘোষ উল্লেখযোগ্য।
তবে পোড়াবাড়ি নয়, বর্তমানে টাঙ্গাইল শহরের পাঁচআনি বাজার মিষ্টি শিল্পের প্রতিনিধিত্ব করছে। জয়কালী মিষ্টান্ন ভাণ্ডার, গোপাল মিষ্টান্ন ভাণ্ডার ও টাঙ্গাইল পোড়াবাড়ি মিষ্টি ঘরে এখনও নির্ভেজাল পোড়াবাড়ির চমচম পাওয়া যায়। এই পাঁচআনি বাজারে প্রায় অর্ধশত মিষ্টির দোকান রয়েছে। আর যেখানে চমচমের জন্ম সেই পোড়াবাড়িতে এখন রয়েছে হাতেগোনা মাত্র চার থেকে পাঁচটি মিষ্টির দোকান।
টাঙ্গাইলের চমচম এখনও কেন এত জনপ্রিয়, সে তথ্য জানতে চাইলে স্থানীয় বাসিন্দা সাহান হাসান ও উম্মে সালমা মাসুদ বলেন, “ছোট বেলায় দেখেছি হাতেগোনা কয়েকটি মিষ্টির দোকান ছিল। এখনতো প্রায় অর্ধশতাধিক দোকান হয়েছে। সে সময়ের মিষ্টির স্বাদ ও বর্তমানে যে স্বাদ তাতে অনেকটা পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু মিষ্টির গুণগত মান আগের তুলনায় খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। অন্যান্য মিষ্টির তুলনায় পোড়াবাড়ির চমচম অনেক সুস্বাদু। দীর্ঘ পরিক্রমায় এখনও সেই সুনাম ধরে রেখেছেন চমচম ব্যবসায়ীরা।”
জয় কালী মিষ্টান্ন ভান্ডারের স্বপন ঘোষ বলেন, “আমার বাবা ১৯৩৯ সাল থেকে মিষ্টির ব্যবসা শুরু করেন। সেখান থেকে আমিও মিষ্টির ব্যবসা করছি। আমার পরের জেনারেশনে আমার ছেলেও আছে। মূলত এই পোড়াবাড়ির চমচমের উৎপত্তি হয়েছে সেই ব্রিটিশ আমল থেকে।”
চমচমের স্বাদ ও মান বিষয়ে স্বপন ঘোষ বলেন, “চমচম সুস্বাদু হওয়ার একটা কারণ হচ্ছে- চরাঞ্চল থেকে যে সমস্ত গাভীর দুধ আসে, সেগুলো অনেক ভালো। আর জলেরও একটা বিষয় আছে। দুধ, জল ও কারিগরের সমন্বয়েই এই মিষ্টির স্বাদ হয়। মিষ্টিগুলো খুবই প্রাকৃতিক। মিষ্টি তৈরিতে কোনও ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় না। এসব কারণেই চমচম বিখ্যাত হয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়াও বিভিন্ন দেশে এই পোড়াবাড়ির মিষ্টির সুনাম রয়েছে। তবে তৎকালীন সময়ে মিষ্টির যে ফ্লেভার ছিল, সেটা বর্তমানে নেই। আমরা চেষ্টা করছি আগের ফ্লেভার ধরে রাখতে। তারপরও টাঙ্গাইলের পোড়াবাড়ির মিষ্টির চেয়ে কোথাও আর ভালো মিষ্টি তৈরি হয় না।”
তবে আধুনিকতার এই সময়ে ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির মান ও স্বকীয়তা ধরে রাখা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে উৎপাদন, মানসম্মত দুধের ব্যবহার, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং ঐতিহ্যবাহী প্রস্তুত প্রণালির সংরক্ষণ, এসব বিষয়ে আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
একই সঙ্গে পোড়াবাড়ির চমচমসহ টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টিকে ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা গেলে স্থানীয় কারিগর ও উদ্যোক্তারা আরও উপকৃত হতে পারেন।
আরমান কবীর: দেশের আইনশৃঙ্খলা, সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে ৩০ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপকে বিভিন্ন জেলার দায়িত্ব দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকার দায়িত্ব পেয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক, টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সংযোগ অধিশাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন জেলায় আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়ন কার্যক্রমসহ সার্বিক সরকারি কার্যাবলি তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপদের।
প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারমূলক জরুরি কর্মসূচি হচ্ছে টেকসই উন্নয়ন, সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দুর্নীতি নির্মূল নিশ্চিত করা। এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ে আরও কার্যকর তদারকি ও সমন্বয়ের লক্ষ্যে এই দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে।
রাজধানী ঢাকার মতো দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জেলার দায়িত্ব সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে দেওয়াকে তাঁর প্রতি সরকারের আস্থা ও প্রত্যাশার গুরুত্বপূর্ণ বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন দায়িত্বে তিনি ঢাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং জনকল্যাণ ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের তদারকিতে ভূমিকা রাখবেন।
এদিকে, টাঙ্গাইলের সন্তান সুলতান সালাউদ্দিন টুকু রাজধানী ঢাকার মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলার দায়িত্ব পাওয়ায় টাঙ্গাইলবাসীর মধ্যেও আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মনে করছেন, জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা টুকুর ওপর ঢাকার মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলার দায়িত্ব অর্পণ টাঙ্গাইলের জন্যও গর্বের বিষয়।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও মাঠপর্যায়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের কারণে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু নতুন দায়িত্বে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে প্রত্যাশা করছেন তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মীরা।
আরমান কবীর: টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে নেওয়া বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ যমুনা নদীতে ফেলার সময় একটি পিকআপ আটক করেছেন স্থানীয়রা।
বুধবার দিবাগত রাতে ভূঞাপুরের গোবিন্দাসী টি-রোড এলাকায় পিকআপটি আটক করা হয়। পরে পুলিশ ওষুধসহ গাড়িটি নিজেদের হেফাজতে নেয়।
স্থানীয়রা জানান, রাত ১১টার দিকে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ বস্তায় করে পিকআপে তোলা হয়। পরে সেগুলো গোবিন্দাসী যমুনা নদীর দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। টি-রোড এলাকায় স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তাঁরা পিকআপটি থামিয়ে দেন। খবর পেয়ে ভূঞাপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওষুধসহ গাড়িটি থানায় নিয়ে যায়।
স্থানীয়দের ধারণা, হাসপাতালের রোগীদের মধ্যে বিতরণ না করা এসব ওষুধের একটি অংশ মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ায় সেগুলো নদীতে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। তবে ওষুধগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ কি না এবং কেন সেগুলো নদীতে নেওয়া হচ্ছিল, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পিকআপচালক আজমত বলেন, বাবুল নামের এক ব্যক্তি হাসপাতাল থেকে গোবিন্দাসী এলাকায় বস্তাগুলো নিয়ে যাওয়ার জন্য তাঁর পিকআপ ভাড়া করেন। বস্তাগুলোর ভেতরে কী ছিল, তা তিনি জানতেন না।
ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু নয়িম মোহাম্মদ সোহেল কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কথা স্বীকার করে বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে।
ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)রেজাউল করিম বলেন, স্থানীয়দের হাতে আটক হওয়া পিকআপভর্তি ওষুধ ও চালককে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
আরমান কবীরঃ একসময় যে মঞ্চে নাটকের সংলাপে মুখরিত হতো টাঙ্গাইল, আজ সেই মঞ্চের বারান্দায় বসে পানের দোকান। যে চত্বরে বইমেলার ভিড় লাগত, সেই চত্বর এখন ট্রাকস্ট্যান্ড। মাঝরাতে সেখানে বসে মাদকের আড্ডা।
এটি টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী ভাসানী হলের বর্তমান অবস্থা। ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে প্রায় এক যুগের বেশি সময় ধরে পরিত্যক্ত। টাঙ্গাইলের সাংস্কৃতিক প্রাণ আজ অক্সিজেনের অভাবে নিঃশ্বাস নিচ্ছে।
জানা গেছে,টাঙ্গাইল শহরের প্রাণকেন্দ্রে প্রায় ৩৫ শতাংশ জমির ওপর “টাঙ্গাইল টাউন হল” নামে মিলনায়তনটি নির্মিত হয়। ১৯৭৬ সালের ১৬ আগস্ট তৎকালীন রাষ্ট্রপতির শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক আবুল ফজল ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
১৯৭৮ সালের ২ এপ্রিল ঢাকা বিভাগের কমিশনার খানে আলম খান উদ্বোধন করেন।
পরবর্তীতে টাঙ্গাইল পৌরসভার তৎকালীন চেয়ারম্যান সামছুল হকের উদ্যোগে নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় “ভাসানী হল”। মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই নামকরণ।
প্রায় এক হাজার আসনবিশিষ্ট এই মিলনায়তনটি একসময় দেশের অন্যতম বৃহৎ ও দৃষ্টিনন্দন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ছিল।
স্থানীয় প্রবীণ ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের মতে, কয়েক দশক ধরে টাঙ্গাইলের নাটক, সংগীত, আবৃত্তি, বইমেলা এবং রাজনৈতিক কর্মীদের মহামিলন ক্ষেত্র ছিল এটি।
টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও মওলানা ভাসানীর দৌহিত্র মাহমুদুল হক সানু বলেন, ভাসানী হল সংস্কার এখন সময়ের দাবি। শুধুমাত্র মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নামে নামকরণ করা হয় বিধায় দীর্ঘদিন ধরে হলটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।টাঙ্গাইল সদর আসনের এমপি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু গত ১২ জুন হলটি পরিদর্শন করেন, আশা করছি, খুব দ্রুতই বর্তমান সরকার এই মিলনায়তনটি আধুনিক ও যুগোপযোগী করে সংস্কার করার পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
বিশিষ্ট সুরকার-গীতিকার ফিরোজ আহমেদ বাচ্চু বলেন, এই মিলনায়তনটি ঘিরেই নাট্যচর্চাসহ সংস্কৃতিকর্মীদের নিয়মিত আড্ডা বসত। প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাসে এর চত্বরে হতো বইমেলা। ঈদের সময় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন নাটক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কনসার্টের আয়োজন করত। এ ছাড়া এ ভাসানী হলে জেলার অনেক রাজনৈতিক সভা-সমাবেশও অনুষ্ঠিত হতো। সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মূল কেন্দ্র ছিল হলটি।
ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নামকরা থিয়েটার দল আসত। হতো নাট্যোৎসব। পাড়া-মহল্লার সংগঠনগুলো এখানেই মঞ্চ মাতাত।
তিনি আরো বলেন,কালের বিবর্তনে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো হারিয়ে গেছে। সংস্কারের অভাবে ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। প্রায় এক যুগ আগে প্রশাসন এটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে।সাংস্কৃতিক প্রাণকেন্দ্র আজ অপরাধের হটস্পট।
তরুণ ইউসুফ, টাঙ্গাইলের অন্যতম সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বলেন, “টাঙ্গাইলকে সাংস্কৃতিক নগরী বলা হয়। কিন্তু এই সাংস্কৃতিক নগরীর জন্য একটি সুন্দর মানসম্মত সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নেই। একসময় ভাসানী হল ঘিরে যে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ছিল, তা বন্ধ হয়ে গেছে এক যুগ আগেই। তাই দ্রুত ভাসানী হল পুনর্নির্মাণ করা জরুরি হয়ে উঠেছে।”
মৌসুমী রহমান শৈলী শিল্প চর্চা একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা বলেন, “টাঙ্গাইলে একটি আধুনিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ খুবই জরুরি। একসময় ভাসানী হল আমাদের প্রাণকেন্দ্র ছিল। ভাসানী হল পুনর্নির্মাণ হলে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের গতি বাড়বে।
কামরুজ্জামান খান, টাঙ্গাইল ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বলেন, “মাদকের ছোবল এবং কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত থেকে মুক্তি পেতে হলে ক্রীড়া অঙ্গন এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে মুখরিত রাখতে হবে। তাই সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে গতিশীল করতে ভাসানী হল সংস্কার খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
কবি মাহমুদ কামাল বলেন, হলটি মওলানা ভাসানীর নামে থাকায় বিগত সরকার সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বর্তমান সরকারের কাছে দাবি, ভাসানী হলটি পুনর্নির্মাণ কিংবা সংস্কার করা হোক।
এটি শুধু একটি ইট-সিমেন্টের স্থাপনা নয় ,স্থানীয়রা মনে করেন, এটি টাঙ্গাইলের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। জেলার গৌরবময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে এবং শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি দ্রুত সংস্কার করা জরুরি।
টাঙ্গাইল সদর আসনের এমপি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু গত ১২ জুন হলটি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি দ্রুত এই ঐতিহাসিক হলটি পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের জন্য গণপূর্ত বিভাগকে নির্দেশনা দেন।
তিনি বলেন, “ভাসানী হল টাঙ্গাইলের জন্য অত্যন্ত ঐতিহ্যবাহী ও গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনা। এটি পুনর্নির্মাণের ব্যাপারে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে।”
একটি শহর বাঁচে তার সংস্কৃতি দিয়ে। ভাসানী হল মরে গেলে টাঙ্গাইলের সাংস্কৃতিক আত্মা মরে যাবে। ট্রাকস্ট্যান্ড সরিয়ে, মাদকের আড্ডা বন্ধ করে, আবার যদি মঞ্চে আলো জ্বলে, তবেই টাঙ্গাইল ফিরে পাবে তার “সাংস্কৃতিক নগরী”র পরিচয়।এখন দেখার বিষয়, আশ্বাস কত দ্রুত বাস্তবে রূপ নেয়।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে অসুস্থ অবস্থায় রাস্তায় ফেলে যাওয়ার ঘটনায় আলোচিত প্রবাসফেরত জামাল উদ্দিন (৫৫) মারা গেছেন। সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে ভাতিজি ইসমত আরার বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। জামাল উদ্দিনের ভাতিজি ইসমত আরা মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত ২ আগস্ট রাতে উপজেলার কালমেঘা এলাকায় অসুস্থ জামাল উদ্দিনকে রাস্তায় ফেলে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে তার স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। পরদিন স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ভাতিজির বাড়িতে নিয়ে যান। পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়। গত ৬ আগস্ট এলাকাবাসীর আর্থিক সহায়তায় তাকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
জানা যায়, জামাল উদ্দিন দীর্ঘদিন সৌদি আরবে ছিলেন। কয়েক মাস আগে অসুস্থ হয়ে দেশে ফেরার পর থেকে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছিলেন না।
এদিকে রাস্তায় ফেলে যাওয়ার পর প্রায় দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও স্ত্রী ও সন্তানরা তার খোঁজ নেননি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তবে স্ত্রী রিনা আক্তার দাবি করেছেন, প্রায় আড়াই মাস আগে তিনি জামাল উদ্দিনকে তালাক দিয়েছেন।
একজন অসুস্থ মানুষ জীবনের শেষ সময়ে স্বজনদের কাছ থেকে দূরে থেকে অন্যের সহায়তায় চিকিৎসা নিয়েই চলে গেলেন—ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভের জন্ম দেয়।
ভাতিজি ইসমত আরা জানান ,স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক সপ্তাহ চিকিৎসাধীন থাকার পর গত শুক্রবার চাচাকে আমার বাড়িতে নিয়ে আসি। সোমবার বিকেল ৩টার দিকে চাচার মৃত্যু হয়েছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল পৌর শহরে বেড়েছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী সহ কিশোরদের মাদকের প্রতি আসক্তি। তারা যুক্ত হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের মাদক সেবনের সাথে। বিশেষ করে ভয়ংকর মাদক ইয়াবা ও গাঁজা সেবনের সাথে বেশি যুক্ত স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা। দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে এইসব শিক্ষার্থী সহ কিশোররা। প্রশাসনের লাগাতার অভিযান চললেও কমেনি মাদক সেবনের প্রবণতা।ফলে শহরে বেড়েছে অপরাধের হার।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পৌর শহরের ক্যাপসুল মার্কেট, কেন্দ্রীয় ঈদগাহ, বেড়াডোমা ব্রিজ পার, টাঙ্গাইল আউটার স্টেডিয়াম, হাউজিং মাঠ, সবুর খান টাওয়ারের সামনের রাস্তা, ছয়আনি পুকুর পার, টাঙ্গাইল সরকারি বিন্দুবাসিনী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পেছনের বড় পুকুর পার, শহিদ স্মৃতি পৌর উদ্যানের পেছনের নজরুল সেনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তাসহ পুরো গলি, পরিত্যক্ত ভাসানী হল চত্বর, কান্দাপাড়া, বাজিতপুর টেক্সটাইল মোড়, রাবনা বাইপাস , সৌখিন মৎস্য শিকারি সমিতির পাশে লেক পার সহ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশে এরা দলবেঁধে সন্ধ্যার পর মিলিত হয় মাদক সেবনে। এই সব আড্ডায় একই সাথে চলে মোবাইল জুয়া।
মাদকাসক্ত এই সব কিশোর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন নামে গ্রুপ খুলে নিজেদের মধ্যে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখে। প্রশাসন কিম্বা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কোন অভিযানের খবর এইসব গ্রুপের মাধ্যমে মুহূর্তেই সদস্যদের কাছে পৌঁছে যায়।
এইসব ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে কোথায় মিলিত হতে হবে, কোন ধরনের মাদক বর্তমানে সহজলভ্য – এমন খবর সহজেই পেয়ে থাকে সংশ্লিষ্ট গ্রুপের সদস্যরা।
এছাড়া শহরে মাদকের সংকট হলেই তারা মাদক সংগ্রহের জন্য মোটরসাইকেল , সিএনজি অটোরিকশা যোগে চলে যাচ্ছে শহরতলীর গালা ইউনিয়নের মনতলা, মগড়া ইউনিয়নের ছোট বাসালিয়া, ঘারিন্দা রেল স্টেশন, সন্তোষ, দাইন্না ইউনিয়নের শ্যামার ঘাট, অলোয়া জমিদার বাড়ির আশপাশের এলাকাসহ বাইপাস এলাকায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাদক বিক্রেতা জানান, এখন আর মাদক বিক্রির কোন নির্দিষ্ট স্পট নেই। মোবাইল ফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় চাহিদা অনুযায়ী মাদক পৌঁছে দেওয়া হয়। ইয়াং জেনারেশনের কাছে এখন সবচেয়ে বেশি চাহিদা ইয়াবা ও গাঁজার। অর্ডার পেলে পৌর এলাকার যে কোন স্থানে তিনি ৩০ মিনিটের মধ্যে অর্ডারকৃত মাদকদ্রব্য পৌঁছে দেন। তবে দূরত্ব অনুযায়ী চার্জ ধরা হয়।”
শহরের নামকরা একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্র জানায়, শহরের আদালত পাড়ার এক বন্ধুর সাথে থেকে সে ইয়াবা খাওয়া শিখেছে। ইয়াবা না পেলে গাঁজা চলে। তবে মাদক ছাড়া তার একদমই ভালো লাগে না। এমনকি পরীক্ষার হলেও পরীক্ষা দেওয়ার পূর্বে মাদক সেবন করে যেতে হয়, না হলে তার মাথা কাজ করে না।
সে আরও জানান, বেশ কিছু দিন হলো প্রশাসনের কড়াকড়ির কারণে মাদক সেবনের সমস্যা হচ্ছে ও দামও বেড়েছে, তাই চেষ্টায় আছে কিভাবে মাদক সেবন থেকে বিরত থাকা যায়।
টাঙ্গাইল আউটার স্টেডিয়ামের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন দোকানদার জানান, প্রতিদিনই ঈদগাহে বসে জমজমাট মাদকের আড্ডা। শহরের বিভিন্ন এলাকার কিশোর-যুবকেরা এসে জড়ো হয় এই মাঠে, মাঝ রাত পর্যন্ত চলে মাদক সেবন, একই সাথে চলে মোবাইল জুয়া। মাঝে মাঝে প্রশাসন অভিযান চালালে কিছু দিন বন্ধ থাকে, তারপর আবার আগের মত চলে মাদক সেবন ও জুয়া।
এ প্রসঙ্গে সরকারি সৈয়দ মহব্বত আলী ডিগ্রী কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, সরকার ইদানিং মাদক ব্যবসায়ী সহ মাদক সেবীদের আটকে বেশ তৎপর। তারপরও থেমে নেই মাদক সেবন। শুধুমাত্র প্রশাসনিক তৎপরতা মাদকের ভয়াবহতা বন্ধ করতে পারবে না, এর জন্য প্রয়োজন পারিবারিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সচেতনতা।
টাঙ্গাইল সচেতন নাগরিক ফোরামের সভাপতি আকিবুর রহমান ইকবাল বলেন, বিগত দিনে স্কুল- কলেজের শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, রাজনৈতিক বড় ভাইয়ের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে কিশোর গ্যাং ও কিশোরদের মধ্যে মাদকাসক্তি তৈরি হয়েছিল। সেই কালচার থেকে বের হয়ে আসতে কিছুটা সময় লাগবে। বর্তমান সরকার মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে। আশা করছি, খুব শীঘ্রই অবস্থার উন্নতি হবে। এ ছাড়াও মাদকের বিরুদ্ধে পারিবারিক ও সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।”
এ বিষয়ে জানতে টাঙ্গাইল জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আহসান কবীর বুলবুলের সরকারি মুঠোফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে বার বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
মাদকাসক্তি ও কিশোরদের মোবাইল গেমে আসক্তির কারণে টাঙ্গাইল পৌর শহরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিক সমাজ। তারা দ্রুত প্রশাসনিক অভিযান ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই পরিস্থিতি উন্নতির দাবি জানিয়েছেন।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের পৌর শহরে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ৪টি ক্লিনিক ও হাসপাতালকে মোট ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। এ সময় পাইলট হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগ সিলগালা করা হয়।
রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের টাঙ্গাইল কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেলের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানে প্যাথলজিস্টের অনুপস্থিতিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ, ওষুধ রাখার ফ্রিজের তাপমাত্রা সঠিক না থাকা এবং নষ্ট হয়ে যাওয়া রক্ত সংরক্ষণের মতো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়।
অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় পাইলট হাসপাতালকে ৫০ হাজার টাকা, অ্যাপলো হাসপাতালকে ২৫ হাজার টাকা, সেনা কম্বাইন্ড হাসপাতালকে ২৫ হাজার টাকা এবং জনতা ক্লিনিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের টাঙ্গাইল কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল জানান, বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে ক্লিনিকগুলোতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এখানে এসে অভিযোগগুলো প্রমাণিত হওয়ায় তাদের জরিমানা এবং সিলগালা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আরমান কবীর:টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ির সুনাম ছড়িয়ে আছে দেশ-বিদেশে। বাংলাদেশ তথা দেশের বাহিরে টাঙ্গাইলের পরিচিতি রয়েছে তাঁতের শাড়ি, চমচম ও মধুপুরের আনারসের জন্য। কিন্তু কালের আবর্তে সেই ঐতিহ্যের তাঁতের শাড়ির কারিগররা আজ অস্তিত্বের সংকটে।
উৎপাদন খরচ বেড়েছে কয়েকগুণ, অথচ বাড়েনি তাঁতিদের মজুরি। শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর ডিপিডিটি টাঙ্গাইল শাড়িকে ভৌগোলিক নির্দেশক জিআই পণ্যের স্বীকৃতি দিলেও বাস্তবে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প নানা সংকটে ধুঁকছে।
অন্যদিকে, বাজারে পাওয়ার লুমে তৈরি কম দামের শাড়ির দাপটে হস্তচালিত তাঁতের শাড়ির চাহিদা আরও কমেছে। এ ছাড়াও বর্তমানে নারীদের শাড়ির চেয়ে থ্রি পিস, সালোয়ার কামিজের প্রতি ঝুঁকে পড়াও এই শিল্পের সংকটের অন্যতম কারণ বলে জানিয়েছেন তাঁত সংশ্লিষ্ট অনেকে।
এই ত্রিমুখী সংকটে সংসারের চাকা সচল রাখতে পূর্বপুরুষের শত বছরের পেশা ছেড়ে রিকশা, অটোরিকশা চালানো, চায়ের দোকান কিংবা দিনমজুরির মতো পেশায় ঝুঁকছেন টাঙ্গাইলের অনেক তাঁতি। অনেকেই পার্শ্ববর্তী ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গিয়ে এই পেশায় যুক্ত হয়েছেন।
জেলা তাঁত বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, টাঙ্গাইল সদর, কালিহাতী, বাসাইল ও দেলদুয়ারসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বর্তমানে প্রায় ১৫ হাজার হস্তচালিত তাঁত চালু রয়েছে। বন্ধ রয়েছে প্রায় তিন হাজার তাঁত। অন্যদিকে, পাওয়ার লুমের সংখ্যা জেলায় ২০ থেকে ২৫ হাজার। কম দামে বেশি উৎপাদনের কারণে পাওয়ার লুমের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে হস্তচালিত তাঁত শিল্প।
সরেজমিনে টাঙ্গাইলের তাঁতপল্লী খ্যাত দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইল বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, সুতা, রং ও অন্যান্য কাঁচামালের দাম কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় শাড়ি উৎপাদনের ব্যয় অনেক বেড়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় শ্রমিকদের পারিশ্রমিক বাড়েনি।
সপ্তাহজুড়ে কঠোর পরিশ্রম করে দুই থেকে তিনটি শাড়ি বুনে যে আয় হয়, তা দিয়ে বর্তমান বাজারে একটি পরিবারের ন্যূনতম চাহিদাও পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
পাথরাইল এলাকার তাঁতি অভিজিৎ বসাক বলেন, “তাঁত বুনে সংসার চালানো সম্ভব হচ্ছিল না। তাই সব তাঁত বিক্রি করে দিয়েছি। এখন তাঁতঘরে চায়ের দোকান করেছি। এই কাজ না করলে পরিবার চালানো সম্ভব হতো না।”
একই এলাকার তাঁতি অমিত বসাক বলেন, “আগে একটি শাড়ি বুনতে তিন থেকে চার দিন লাগলেও তখন হাতে বোনা শাড়ির মূল্য ছিল। কিন্তু এখন পাওয়ার লুমে দিনে ১৫ থেকে ২০টি শাড়ি তৈরি হচ্ছে। সেই প্রতিযোগিতায় হস্তচালিত তাঁত টিকতে পারছে না।” ফলে অনেকেই বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে অন্য পেশাকে বেছে নিয়েছে।
পাথরাইলের চন্ডী এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তাতী জানান,“একটি টাঙ্গাইল জামদানি শাড়ি বুনতে দুই থেকে তিন দিন সময় লাগে। একটি শাড়ির জন্য মজুরি পান ৮৫০ টাকা। সপ্তাহে দুই-তিনটির বেশি শাড়ি তৈরি করা সম্ভব হয় না। ফলে এই আয় দিয়ে কোনোভাবেই সংসারের ব্যয় মেটানো যায় না।”
অনেকেই পার্শ্ববর্তী ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় গিয়ে সুনামের সাথে তাঁতের শাড়ি বুনছেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে ভালো আছেন তারা। কিন্তু টাঙ্গাইলের তাঁতীদের অধিকাংশই ভালো নেই।
পাথরাইল এলাকার শাড়ি ব্যবসায়ী সুবির বসাক বলেন, “হাতে বোনা কাপড়ের এখনও আলাদা কদর রয়েছে। কিন্তু উৎপাদন ব্যয় বেশি হওয়ায় এর দামও বেশি পড়ে। একই ডিজাইনের শাড়ি পাওয়ার লুমে অনেক কম খরচে তৈরি হওয়ায় ক্রেতারা সেদিকেই ঝুঁকছেন। এতে ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্প দিন দিন পিছিয়ে পড়ছে।”
টাঙ্গাইল শাড়ি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রঘুনাথ বসাক বলেন, “শাড়ির দাম কমে যাওয়ায় তাঁতিদের ন্যায্য মজুরি দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে দক্ষ কারিগররা একে একে পেশা ছাড়ছেন। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে ঐতিহ্যবাহী টাঙ্গাইল তাঁত শিল্প টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।”
তিনি আরও বলেন, “তাঁতিদের পাশাপাশি লোকসানের মুখে পড়ে অনেক ছোট ও মাঝারি তাঁত মালিকও তাদের কারখানা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। দক্ষ কারিগরের সংকটে অনেক সচল তাঁতও এখন অচল হয়ে পড়ছে।”
বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের টাঙ্গাইল বেসিস সেন্টারের লিয়াজোঁ অফিসার জায়দুর রহমান জানান, হস্তচালিত তাঁত শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকার প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে ঋণ ও বিপণন সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে তাঁতিদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু হয়েছে। পাশাপাশি টাঙ্গাইলে একটি শাড়ি বিপণন কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম টাঙ্গাইলের বাজিতপুরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে আধুনিক প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। টাঙ্গাইলে তাঁতের শাড়ি জিআই পন্য স্বীকৃতি । আধুনিক প্রযুক্তি যন্ত্রপাতি, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তাঁতিদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং তরুণ প্রজন্মকে তাঁত শিল্পে আগ্রহী করে তুলবে। তাঁতিদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ ও প্রণোদনা সহায়তা করা হবে।
তাঁত সংশ্লিষ্টদের মতে, ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা, বাজারে প্রকৃত টাঙ্গাইল শাড়ির সুরক্ষা, আধুনিক প্রশিক্ষণ এবং কার্যকর বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী টাঙ্গাইলের তাঁত শিল্প।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় জয়নাল আবেদীন (৬০) নামের এক বৃদ্ধ কৃষক নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার(২৮ জুলাই)বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার সখীপুর-গোড়াই আঞ্চলিক সড়কের প্রতিমা বংকী মিনি স্টেডিয়ামের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত জয়নাল আবেদীন উপজেলার প্রতিমা বংকী বাজার এলাকার মৃত গুঞ্জর আলীর ছেলে।
নিহতের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, কৃষক জয়নাল আবেদীন ঘাস কাটার উদ্দেশে সখীপুর-গোড়াই আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশ দিয়ে হেঁটে সখীপুরের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় বেপরোয়া গতিতে আসা ওই মোটরসাইকেল তাঁকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে মাথায় আঘাত লেগে জয়নাল আবেদীন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মোস্তফা কামাল জানান, জয়নাল আবেদীনের মাথায় আঘাত লেগে কান দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছে। ফলে হাসপাতালে পৌঁছানোর পূর্বেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
সখীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম বলেন, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি মামলায় এক আসামীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে টাঙ্গাইলের দায়রা জজ আদালতের বিচারক সিনিয়র দায়রা জজ মো: হাফিজুর রহমান এ দণ্ডাদেশ দেন।
দন্ড প্রাপ্তরা হলো,টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলার কাহারতা রামখা পাড়া গ্রামের আ: খালেকের ছেলে হোসেন আলী (৩৫)। এই মামলার অপর আসামি সখিপুর পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের বাদশা মিয়ার ছেলে হিরু মিয়া ওরফে হায়দাকে (৫৫) পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো দুই মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত।
টাঙ্গাইল দায়রা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো: শফিকুল ইসলাম রিপন জানান, বিগত ২০২৫ সালের ২২ জানুয়ারি সন্ধ্যায় পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সখিপুর থানার বড়চওনা এলাকায় কালিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সামনে অভিযান চালিয়ে আসামি হোসেন আলী ও হিরু মিয়াকে গ্রেফতার করে। এ সময় আসামি হোসেন আলীর কাছ থেকে ৯০ গ্রাম ও হিরু মিয়ার কাছ থেকে ১০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় টাঙ্গাইল ডিবি (দক্ষিণ) পুলিশের এসআই নুরুজ্জামান বাদি হয়ে সখিপুর থানায় মামলা করেন। বিচার শেষে আসামিদের এই সাজা দেন আদালত।
রায় ঘোষণার সময় আসামি হিরু মিয়া আদালতে হাজির থাকলেও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হোসেন আলী পলাতক রয়েছে। আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান পারভেজ ও অ্যাডভোকেট খ: মনিরুল ইসলাম মনির।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী সামিয়া আক্তারকে মুক্তিপণের আশায় অপহরণের পর হত্যা ও লাশ গুমের চেষ্টার মামলায় এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আ. ন. ম. ইলিয়াস এ দণ্ডাদেশ দেন।
দণ্ডিত আসামি সাব্বির মিয়া টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলার দাড়িয়াপুর উত্তরপাড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে। আসামির উপস্থিতিতেই রায় পড়ে শোনান বিচারক। পরে আসামিকে টাঙ্গাইল কারাগারে পাঠানো হয়।
টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. ওমরাও খান দীপু জানান, সখিপুরের দাড়িয়াপুর গ্রামের রনজু মিয়ার মেয়ে সামিয়া আক্তার (৯) দাড়িয়াপুর উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
২০২৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকালে প্রতিদিনের মতো সে প্রাইভেট পড়তে যায়। প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফেরার পথে আসামি সাব্বির পেছন থেকে মুখ চেপে ধরে সামিয়াকে অপহরণ করে পাশের একটি জঙ্গলে নিয়ে যায়। সেখানে সামিয়া নিজেকে ছাড়িয়ে নেয়ার চেষ্টা করলে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে আসামি।
পরে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে পাশের একটি ধানক্ষেতের ড্রেনে কাঁদামাটি দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। এরপর আসামি সাব্বির নিজের পরিচয় গোপন রেখে একটি ইমু আইডি থেকে ভয়েস এসএমএস-এর মাধ্যমে সামিয়ার বাবার কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
এ ঘটনায় পরদিন ৭ সেপ্টেম্বর সামিয়ার বাবা রনজু মিয়া সখিপুর থানায় মামলা করেন। মামলার এক দিন পর ৮ সেপ্টেম্বর সেই ধানক্ষেতের ড্রেন থেকে সামিয়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ২০২৩ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর সাব্বিরকে পুলিশ গ্রেফতার করে। পরে সাব্বির নিজের দোষ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। ২০২৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেয় পুলিশ। মোট ১৮ জন সাক্ষী এ মামলায় সাক্ষ্য প্রদান করেন।
আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন, স্টেট ডিফেন্স।
রায়ের পর সামিয়ার পরিবার ও এলাকাবাসী আদালতের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, এমন নৃশংস হত্যার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়ায় সমাজে অপরাধ কমবে।