একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর, সখীপুর ও নাগরপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে মঙ্গলবার(১০ আগস্ট) এক শিশু সহ চার জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্ব স্ব স্থানীয়রা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া সরকারি সা’দত কলেজের অফিস সহায়ক আমিনুল ইসলাম(৩৪) ফাঁসিতে ঝুঁলে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার সকালে কলেজের টিনসেড ঘর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি পাশের গড়াসিন গ্রামের বাসিন্দা।
নাগরপুর উপজেলার মামুদনগর ইউনিয়নের বাড়িগ্রামের মৃত কাদেরের ছেলে মিয়া চাঁন (৬৫) সেচ পাম্প চালাতে গিয়ে বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে মঙ্গলবার সকাল ১১ টার দিকে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন।
এছাড়া উপজেলার ভাদ্রা ইউনিয়নের লক্ষীদিয়া এলাকায় যমুনার শাখা নদী নোয়াই থেকে মধ্য বয়সী এক অজ্ঞাত নারীর অর্ধগলিত মরদেহ পুলিশ উদ্ধার করেছে।
অপরদিকে, সখীপুর উপজেলার কালিদাস গ্রামের নমপাড়ায় মঙ্গলবার(১০ আগস্ট) সকালে ঘরের পেছনে খেলতে গিয়ে বিদ্যুতের ছেঁড়া তারে জড়িয়ে স্মৃতি রাণী সরকার(৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শিশুটি ওই এলাকার রতন কুমার সরকারের মেয়ে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে সুলতানা খাতুন (২৪) নামে এক নারী স্ত্রীর অধিকার আদায়ে বিষের বোতল আর কাবিননামা হাতে নিয়ে গত তিনদিন তিনরাত ধরে স্বামীর বাড়ির বারান্দায় বসে আছেন।
গত শনিবার (৩১ জুলাই) থেকে উপজেলার দাড়িয়াপুর দক্ষিণপাড়া ফাইলা পাগলার মাজার এলাকায় অধিকার আদায়ের জন্য এ অনশন চলছে তার।
স্ত্রীর অধিকার না পেলে তিনি সেখানেই বিষপানে আত্মহত্যা করবেন বলে জানান। তিনি টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা সদরের আজগর আলীর মেয়ে। খবর শুনে দলবেঁধে আশপাশের লোকজন ওই নারীকে এক নজর দেখতে ভিড় করছেন।
জানা যায়, সুলতানা খাতুন টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা সদরের আজগর আলীর মেয়ে। গাজীপুর চৌরাস্তায় সেবা এনজিও নামে একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুবাদে উপজেলার দাড়িয়াপুর ইউনিয়নের দাড়িয়াপুর ফাইলা পাগলার মাজার এলাকার মৃত মোজাফ্ফর মিয়ার ছেলে আবদুর রহিম মিয়ার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
ওই এনজিওতে সুলতানা ছিলেন মাঠকর্মী আর রহিম ছিলেন সহকারী ম্যানেজার। ২০১৭ সালের ৩ আগস্ট ৭ লাখ টাকা দেনমোহরে তারা বিয়ে করেন। সেই থেকে তারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে গাজীপুর চৌরাস্তার ভাওয়াল কলেজ সংলগ্ন আক্কাছ আলীর বাসায় ভাড়া থাকতেন। কিছুদিন আগে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে রহিম বাসা থেকে চলে যান এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের নম্বর পাল্টিয়ে গ্রামের বাড়ি দাড়িয়াপুরে চলে আসেন। পরবর্তীতে ওই নারী রহিমের সঙ্গে নানাভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি তাকে স্ত্রী হিসেবে অস্বীকার করেন। একপর্যায়ে ঠিকানা মোতাবেক ৩১ জুলাই শনিবার স্ত্রীর অধিকার আদায়ে কাবিননামা এবং বিষের বোতল হাতে নিয়ে রহিমের বাড়ি চলে আসেন সুলতানা। তার আসার খবর শুনে রহিম ও তার পরিবারের লোকজন বাড়িঘরে তালা ঝুলিয়ে অন্যত্র চলে যান।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আবদুর রহিমের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে ওই নারীকে জোরপূর্বক বিয়ে করতে বাধ্য করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
দাড়িয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনসার আলী আসিফ জানান, বিষয়টি মীমাংসার লক্ষ্যে বুধবার (৪ আগস্ট) স্বামী রহিমসহ উভয়পক্ষের লোকজনকে ডাকা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নারী সদস্যের হাত থেকে টেন্ডার ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ নেতা ও তার ছেলের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগে তাদের দু’জনকে আসামি করে টাঙ্গাইলের সখীপুর থানায় মামলা হয়েছে।
মামলার বাদী বহেড়াতৈল ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত (৭,৮,৯) ওয়ার্ডের নির্বাচিত সদস্য রেনু আক্তার। আর আসামিরা হলেন- সখীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নজরুল ইসলাম নবু (৫০) ও তার ছেলে লিঙ্কন আহম্মেদ (২৫)।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, বহেড়াতৈল বাজার খেয়াঘাটের এক বছরের জন্য ইজারা দেয়ার লক্ষ্যে ২১ জুন(সোমবার) দরপত্র আহ্বান করা হয়। শিডিউল কেনার সর্বশেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয় ২৮ জুন (সোমবার)। এরপর ৫০০ টাকা করে জমা দিয়ে ১০ জন শিডিউল কিনেন।
মঙ্গলবার(২৯ জুন) বেলা ১টা পর্যন্ত টেন্ডার জমা দেয়ার সময় নির্ধারণ করা হয়। সকাল ১১টায় প্রথমে উপজেলা আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নজরুল ইসলাম নবুর ছেলে ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা লিঙ্কন আহম্মেদ শিডিউল জমা দেন।
ইউপি সদস্য রেনু আক্তার বলেন, ’বেলা সাড়ে ১২টার দিকে আমি টেন্ডার জমা দেয়ার জন্য ইউএনও কার্যালয়ের সামনে এলে আসামিরা আমার হাতে থাকা দরপত্র ছিনিয়ে নেন। এ সময় আমি কান্নাকাটি করে ইউএনওকে বিষয়টি ফোনে জানাই। এরপরও ওই নেতা ও তার ছেলে আমার হাত থেকে ছিনিয়ে নেয়া টেন্ডার ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এ কারণে আমি ওই দুইজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেছি।’
অভিযোগের বিষয়ে নজরুল ইসলাম নবু বলেন, ‘ইতোপূর্বে কোনো টেন্ডার ছাড়াই এই খেয়াঘাটটি পরিচালনা করতেন ইউপি চেয়ারম্যানসহ তার লোকজন। এ বছরই প্রথম এই খেয়াঘাটটির অস্থায়ী ভিত্তিতে মাত্র তিনমাসের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়ায় আনা হয়। তবে টেন্ডার ছিনিয়ে নেয়ার বিষয়ে কি ঘটেছে সেটি আমার জানা নেই।’ এ নিয়ে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে এমনটাই দাবি করেন তিনি।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একে সাইদুল হক ভুঁইয়া বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা ও তার ছেলের বিরুদ্ধে খেয়াঘাট টেন্ডারের শিডিউল ছিনতাইয়ের অভিযোগে মামলা করেছেন রেনু আক্তার নামের এক ইউপি সদস্য। আসামিদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।
সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চিত্রা শিকারী জানান, এ বিষয়ে ওই নারী ইউপি সদস্য সখীপুর থানায় অভিযোগ করেছেন। ওই খেয়াঘাটের ইজারা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ দুই বছরেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারেনি টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলা ছাত্রলীগ। ফলে ছয় সদস্যের কমিটি দিয়েই কোনোরকম চলছে কমিটি। তবে দলীয় কার্যক্রমে সক্রিয় নন সেই ছয়জনের কয়েকজন।
২০১৯ সালের ২৪ মার্চ তৎকালীন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী স্বাক্ষরিত পত্রে এক বছর মেয়াদী উপজেলা ছাত্রলীগ কমিটি ঘোষণা করা হয়।
পত্রে উল্লেখ করা হয়, শর্ত ভঙ্গ করলে ওই কমিটি বাতিল বলে গণ্য হবে। ওই পত্রে শরীফুল ইসলাম শরীফ সভাপতি ও রাসেল আল মামুনকে সাধারণ সম্পাদক করে ছয় সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়। আগামী ৩০ দিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার শর্ত দেয়া হয়। কিন্তু দুই বছরের অধিক সময় পার হলেও টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলা ছাত্রলীগ তাদের কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে পারেনি।
এছাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সঙ্গে জেলা ছাত্রলীগ, উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে সাংগঠনিক যোগাযোগ না থাকায় ওই কমিটি অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
কমিটির ছয় সদস্য হলেন- সভাপতি শরীফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক রাসেল আল মামুন, সহসভাপতি-১ আল মাহমুদ প্রান্ত, সহসভাপতি-২ আব্দুল রউফ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জামিল মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান হোসেন।
এদের মধ্যে সভাপতি শরীফুল ইসলামের গোপন বিয়ে ও পরে বিচ্ছেদের বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ায় উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় অকার্যকর কমিটিকে আনুষ্ঠানিক বাতিল ঘোষণা করে নতুন কমিটি গঠনের মাধ্যমে উপজেলা ছাত্রলীগকে সক্রিয় ও গতিশীল করার দাবি জানিয়েছেন মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি আল মাহমুদ প্রান্ত বলেন, ‘গত দুবছরে কমিটির একটি সভাও হয়নি। শরীফুল ইসলাম শরীফ সভাপতি হওয়ার পর ২০২০ সালের ১৯ জানুয়ারি রেজিস্ট্রিমূলে গোপনে বিয়ে করেন। নিয়ম অনুযায়ী বিয়ের অপরাধে তিনি অনেক আগেই বাদ পড়েছেন। এছাড়া যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জামিল মাহমুদ সরকারি চাকরি করছেন ও সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান হোসেন কোভিড-১৯ এর আগেই বিদেশে পাড়ি জমান। ফলে নীতিগতভাবে কমিটি এখন বিলুপ্ত।’
সরকারি মুজিব কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি খন্দকার রকিবুল হাসান বিজয় বলেন, ‘উপজেলা ছাত্রলীগ ছয় সদস্য থেকে কমে গিয়ে তিন সদস্য হয়েছে। আইনত সখীপুর ‘উপজেলা ছাত্রলীগ’ বলতে কিছুই নেই। তাই আমরা ছাত্রলীগকে গতিশীল ও কার্যকরী করতে নতুন কমিটি চাই। যাদের নেতৃত্বে উপজেলা ছাত্রলীগ সক্রিয় ও গতিশীল হবে।’
এ বিষয়ে জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক রনি আহমেদ বলেন, ‘ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে কোনো সম্মেলন ছাড়াই কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে আঁতাত করে ছয় সদস্যের একটি কমিটি অনুমোদন আনেন। কেন্দ্রীয় কমিটির শর্তানুযায়ী ওই কমিটি বাতিল বলে গণ্য হয়েছে। সেই শর্ত মোতাবেক সখীপুর উপজেলা ছাত্রলীগের কোনো কমিটি নেই। শিগগিরই সখীপুর উপজেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে।’
গোপনে বিয়ে করা ও সম্প্রতি বিচ্ছেদের বিষয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শরিফুল ইসলাম শরিফ বলেন, ‘উপজেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করে অনেক আগেই বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে জমা দেয়া হয়েছে। করোনা পরিস্থিতির কারণে ওই কমিটি এখনো পাশ হয়নি।’
জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল বলেন, ‘সভাপতির বিয়ের বিষয়টি আমিও শুনেছি। যেহেতু কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ ওই উপজেলা কমিটি দিয়েছে, সে জন্য এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় কমিটিই দিবে।’
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে পোল্ট্রি ফার্মে শিয়াল মারার বিদ্যুতের ফাঁদে পড়ে অজ্ঞাত এক যুবকের (৩২) মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার(২৪) দিনগত রাতের কোন এক সময়ে উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের ভাতগড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ফার্মের বেড়ায় লাগানো শিয়াল মারার ফাঁদে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ওই গ্রামে পোল্ট্রি ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম তার ফার্মে কুকুর, শেয়াল ও চুরি রুখতে রাতে চারদিকে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে রাখেন। গত বৃহস্পতিবার দিনগত রাতেও তিনি একই ভাবে ফার্মের বেড়ার সঙ্গে বিদ্যুতের সংযোগ দিয়ে রাখেন। রাতে কোন এক সময় অজ্ঞাত ওই যুবক ফার্মের বেড়ার স্পর্শে এলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যায়।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান তারিকুল ইসলাম বলেন, পোল্ট্রি ফার্মের মালিক বেড়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে রাখে এটা তার জানা ছিল না। এছাড়া যে যুবক মারা গেছে তাকেও তিনি চেনেনা। মনে হয় মৃত যুবকটি ওই ফার্মে চুরি করতে এসেছিল।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) একে সাইদুল হক ভূঁইয়া বলেন, প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে অজ্ঞাত ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অজ্ঞাত এ লাশের এখনো কোন পরিচয় পাওয়া যায়নি। লাশ শনাক্তের জন্য পিবিআইয়ের সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে।
একতার কণ্ঠ: টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার বাজাইল গ্রামের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর এক নারীকে(৪০) বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় স্বগোত্রীয় দিনা সরকার(৩০) ও মণ্টু সরকারকে(৩২) জেলা গোয়েন্দা পুলিশ(ডিবি দক্ষিণ) গ্রেপ্তার করেছে। মঙ্গলবার(১৫ জুন) দুপুরে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
টাঙ্গাইল পুলিশ সুপারের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর এক নারীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে তিন জনকে আসামি করে রোববার(১৩ জুন) ভিকটিম(ওই নারী) বাদী হয়ে সখীপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক হওয়ায় জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(অপরাধ) মো. শরফুদ্দীনের তত্ত্বাবধানে একটি চৌকষ টিম গঠন করা হয়।
পুলিশ সুপার জানান, টাঙ্গাইলের গোয়েন্দা পুলিশের(ডিবি দক্ষিণ) অফিসার ইনচার্জ মো. সাজ্জাদ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত চৌকষ টিম অক্লান্ত পরিশ্রম করে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জেলার মির্জাপুর ও নাগরপুর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত আসামি ভিকটিমের স্বগোত্রীয় দিনা সরকার ও মণ্টু সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত দিনা সরকার ওই গ্রামের প্রকাশ সরকারের ছেলে ও মণ্টু সরকার স্বর্গীয় নারায়ন সরকারের ছেলে এবং ভিকটিমের(ওই নারীর) প্রতিবেশি।এজাহারভুক্ত অপর আসামি ময়নাল মিয়ার ছেলে সবদুল মিয়াকে(৩৫) গ্রেপ্তারে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
প্রকাশ, গত ১১ জুন(বৃহস্পতিবার) দিনগত গভীর রাতে সখীপুর উপজেলার হাতীবান্ধা ইউনিয়নের বাজাইল বড়চালা গ্রামের দিনা চন্দ্র সরকার, মণ্টু চন্দ্র সরকার ও সবদুল মিয়া নামে তিন ব্যক্তি মদ্যপ অবস্থায় ওই নারীর বাড়িতে যান। তারা ওই নারীকে ডেকে ঘরের বাইরে এনে জোর করে বাড়ির পাশের বনে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালান। ওই বখাটেরা ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে ওই নারীর মুখম-লসহ শরীরের স্পর্শকাতর সহ নানা স্থানে কামড়ে জখম করে চলে যান। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহতাবস্থায় ওই নারীকে উদ্ধার করে প্রথমে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স ও পরে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে(ওসিসি) ভর্তি করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান রুমি আক্তারের উপর যৌতুক লোভী স্বামীর নির্যাতনের প্রতিবাদ ও নির্যাতনকারী স্বামী স্কুল শিক্ষক মিজানুর রহমানের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল।মঙ্গলবার (১৫ জুন) পৌর সভার মোখতার ফোয়ারা চত্বরে সকাল সাড়ে দশটায় শুরু হয়ে ঘন্টা ব্যাপি এ এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে অভিযুক্ত মিজানুর রহমানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলর সাবেক কমান্ডার পৌর মেয়র বীরমুক্তিযোদ্ধা আবু হানিফ আজাদ, সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস আলী সিকদার,সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা এম ও গনি,সাবেক ডিপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইদুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল্লাহ মিয়া, নির্যাতিতা রুমির বাবা বীরমুক্তিযোদ্ধা আবদুল মান্নান, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শফিউল ইসলাম কাজী বাদল, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক, কামরুল হাসান আজাদ প্রমুখ বক্তব্য দেন। এতে উপজেলার তিন শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা ও সন্তান কাউন্সিলের নেতাকর্মী অংশ নেন। এ ঘটনায় ওই স্কুল শিক্ষককে স্কুল পরিচালনা কমিটি থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।
জানা যায়, ২০১৩ সালের ১৫ নভেম্বর মিজানুর রহমানের সঙ্গে উপজেলার দাড়িয়াপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মান্নানের মেয়ে রুমি আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় রুমির বাবা মেয়েকে চার ভরি স্বর্ণালংকার দেন। বিয়ের পরের বছর মিজানুর একটি মোটরসাইকেল দাবি করেন। জামাতাকে দেড় লাখ টাকার একটি মোটরসাইকেলও কিনে দেন ওই বীরমুক্তিযোদ্ধা। ২০১৭ সালে রুমির গর্ভে কন্যাসন্তান আসে। অস্ত্রোপচারের জন্য শ্বশুরের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নেন মিজানুর। দুই বছর আগে চাকরিতে সমস্যার কথা বলে শ্বশুরের কাছ থেকে আরও ৫০ হাজার টাকা আদায় করেন তিনি। চার মাস ধরে আরও দুই লাখ টাকা দাবি করে স্ত্রী রুমিকে নির্যাতন করে আসছিলেন মিজানুর। না দেওয়ায় কিছুদিন আগে মিজানুর তাঁর স্ত্রীকে তালাক দেন।
প্রসঙ্গত: গত ৯ জুন বুধবার সখীপুর থানায় রুমি আক্তার বাদী হয়ে স্বামী মিজানুর রহমানকে একমাত্র আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করলে পুলিশ মামলার তিন ঘন্টার মধ্যে আসামি মিজানুর রহমানকে গ্রেফতার ও আসামিসহ টাঙ্গাইল আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
একতার কণ্ঠঃ গাভি দুধ দেয়—এটা আমাদের সবার জানা আছে। কিন্তু ১০ মাস বয়সের বকনা বাছুর দুধ দেয়, এটা অস্বাভাবিক ঘটনা। ব্যতিক্রমী এই ঘটনাটি ঘটেছে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার গড়গোবিন্দপুর গ্রামের খোরশেদ আলমের বাড়িতে। বকনা বাছুরটি এখন দিনে তিন লিটার করে দুধ দিচ্ছে। বাছুরটির মা দুধ দিচ্ছে ছয় লিটার। এ ঘটনা শুনে প্রতিদিন উৎসুক মানুষ ভিড় করছে ওই বাড়িতে।
সরেজমিনে খোরশেদ আলমের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল, তাঁর স্ত্রী মর্জিনা খাতুন ১০ মাস বয়সের বকনা গরুর ওলান থেকে দুধ সংগ্রহ করছেন। এমন দৃশ্য দেখতে উৎসুক জনতা ওই বাড়িতে ভিড় করছে। সংগ্রহ শেষে দেখা গেল, প্রায় দেড় লিটার দুধ জমেছে। তিনি সকালেও দেড় লিটার দুধ সংগ্রহ করেছেন বলে জানান। একটা দিন দুধ সংগ্রহ না করলে ওলান থেকে এমনি এমনি দুধ ঝরে পড়ে। তিনি গত ১৫দিন ধরে এই বাছুর গরু থেকে এভাবে দুধ সংগ্রহ করছেন।
খোরশেদ আলমের স্ত্রী মর্জিনা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি গাভি পালন করছেন। ১০ মাস আগে তাঁর পালিত গাভির বাছুর হয়। আর সেই বাছুরকে লালন-পালন করে আসছেন তিনি। ১৫ দিন আগে তিনি ১০ মাস বয়সী বাছুরকে গোসল করাতে গেলে গরুটির দুধের বাঁট ফোলা দেখে ধারণা করেন, এর বাঁটে দুধ জমেছে। তিনি তাৎক্ষণিক গরুটির ওলান থেকে দুধ সংগ্রহ করেন। প্রথম কয়েক দিন আধা লিটার দুধ পান তিনি। এখন দুধের পরিমাণ বেড়েছে। পরিবারের সদস্যরা এই দুধ পান করছেন। মাঝেমধ্যে এলাকার লোকজনকেও বিনামূল্যে দিচ্ছেন তিনি।
খোরশেদ আলমের চাচা আবদুল হাই তালুকদার বলেন, সাধারণত যে গাভী বাচ্চা জন্ম দেয়, সেই গাভীই দুধ দিয়ে থাকে। অল্প বয়সী বাছুরটি দুধ দেয় এটা একটা ব্যতিক্রমী ঘটনা। অনেকেই বিষয়টি শুনে আশ্চর্য হয়েছেন। তাই প্রতিবেশীরা এ দৃশ্য দেখতে বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আবদুল জলিল বলেন, হরমনের কারণে এমনটা হয়। ঘটনাটি ভিন্ন রকম মনে হলেও ওই দুধ পুরোপুরি স্বাস্থ্যসম্মত। এ ধরনের ঘটনা দেশে আগেও ঘটেছে। অতএব আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে নাতির লাঠির আঘাতে শরিফুন্নেছা (৬৫) নামের এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। বুধবার( ১২ মে) বিকেল তিনটার দিকে উপজেলার দেবলচালা গ্রামের নাজমুল (২১) নামের এক যুবক ঐ বৃদ্ধার মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করলে তাঁর মৃত্যু হয় বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। অভিযুক্ত নাজমুল সম্পর্কে ওই বৃদ্ধার ছেলের ঘরের নাতি। ঘটনার পরপরই নাজমুল বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। নিহত শরিফুন্নেছা ওই এলাকার আবদুল বাছেদ মিয়ার স্ত্রী।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নাতি নাজমুল ভ্যান চালিয়ে বাড়ি এসে ঈদের কাপড় কেনা কাটার প্রসঙ্গ তুলে কথা কাটাকাটি করে। এক পর্যায়ে দাদির মাথায় আকস্মিক ভাবে মোটা কাঠের খন্ড দিয়ে আঘাত করে। এ সময় দাদি শরিফুন্নেছা মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। মাথা ফেটে রক্তক্ষরণ হয়ে হাসপাতালে নেয়ার সময় তাঁর মৃত্যু হয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়েছে। এ ঘটনায় বিকেল ছয়টা পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।
সখীপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একে সাইদুল হক ভূঁইয়া বলেন, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুর পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা হাফেজ খানের ছেলে মো. আশরাফুল ইসলাম (৫৫)। তিনি কারণে-অকারণে সাধারণ মানুষের নামে মামলা করেন। কেউ তার কাছে টাকা পান, সেই টাকা চাইতে গেলে মামলা, তাকে কিছু বলতে গেলে মামলা, তার সঙ্গে কথা কাটাকাটি হলেও মামলাসহ অনেকটা অকারণেই তার মামলার শিকার হয়েছেন উপজেলার অর্ধশতাধিক মানুষ।
এ কারণে আশরাফুল ইসলাম এলাকায় ‘মামলাবাজ আশরাফ’ নামে পরিচিত। সেই মামলাবাজ আশরাফ এবার মামলার জালেই আটক হয়েছেন। বৃহস্পতিবার(২৯ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে পৌরসভার কাঁচা বাজার এলাকা থেকে সখীপুর থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। শুক্রবার(৩০ এপ্রিল) দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অর্থ আত্মসাৎ মামলায় আশরাফুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ জানায়, ২০২০ সালের ৪০৬ ও ৪২০ ধারার মামলায় মো. আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। ওই পরোয়ানার ভিত্তিতেই বৃহস্পতিবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সখীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওমর ফারুক ও মনিরুজ্জামান বলেন, সে সখীপুরের একজন চিহ্নিত মামলাবাজ লোক। তার মেয়ের জামাই, জামাই বাড়ীর লোকজন ও স্থানীয় লোকজনের নামে বিভিন্ন সময় থানায় ও আদালতে মামলা করে আসছে। সে প্রায় ৩০টি মামলার বাদী।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে তার মামলার শিকার এক ভুক্তভোগী জানান, মামলাবাজ আশরাফ অন্যের মামলা ক্রয় করে পরিচালনা করে। টাকার বিনিময়েও অন্যের পক্ষে মামলা করে দেয়। ওই ভুক্তভোগী আরও বলেন, আমি আমার ভায়রার পাওনা টাকা ফেরত দিতে বলায় সে একটি মামলায় আমার নাম ঢুকিয়ে দিয়েছিল। ওই মামলায় আমি ২১ দিন জেল খেটেছি। ওই মামলাবাজ বহু মানুষকে হয়রানি করেছে। এবার নিজেই মামলার ফাঁদে পড়েছে।
সখীপুর থানার ওসি একে সাইদুল হক ভূঁইয়া বলেন, আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মূলে মো. আশরাফুল ইসলাম নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। সে একজন মামলাবাজ লোক, কম করে হলেও সে উপজেলার বিভিন্ন মানুষের বিরুদ্ধে ২০টি মামলার বাদী।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ সুষ্ঠু পরিকল্পনা, ইচ্ছেশক্তি আর যথাযথ শ্রম দিলে, যে কোন কাজেই যে, প্রতিষ্ঠা লাভ করা সম্ভব-সেটাই প্রমাণ করেছে টাঙ্গাইলের সখীপুরের কচুয়া গ্রামের গৃহবধূ হাসিনা বেগম । স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহযোগিতায় বাণিজ্যিকভাবে ভূট্টা ও সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছেন তিনি । স্বামী আর সন্তানদের সময় দেওয়ার পর অবসরে নিজেদের সীমিত সম্পদের প্রতি ইঞ্চি মাটির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে অধিক ফসল ফলিয়ে একের পর এক সফলতা বয়ে এনেছেন হাসিনা বেগম। তার এ সাফল্যে উৎসাহিত হয়ে আশপাশের গ্রামের চাষীরাও ঝুকছেন ভূট্টা ও সূর্যমুখী ফুল চাষে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রতিটি সূর্যমুখী গাছে মৌচাকের মতো বিশাল একেকটি গোল ফুল হলুদ রঙের নজরকাড়া রূপ ছড়িয়ে দিচ্ছে। সূর্যের মুখোমুখি প্রতিটি ফুল ফলভারে কিছুটা নুয়ে আছে। খেতজুড়ে হলুদ আর সবুজের মাখামাখি। পাশেই ভুট্টাখেত। তাতেও নরম সবুজের প্রতিটি ভুট্টাগাছের মাথায় কাশফুলের মতো ছড়ানো খয়েরি রঙের ফুল। প্রতিটি গাছেই ভুট্টা ধরেছে। ক্রমশ পুরুষ্ট হয়ে উঠছে ভুট্টার দানা। ভুট্টা আর সূর্যমুখীর দুটি খেতই এলাকায় নতুন আলো ছড়াচ্ছে।
চাষী হাসিনা বেগম জানান, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে সূর্যমুখী ও ভুট্টার প্রদর্শনী প্লট নিয়ে এক বিঘা জমিতে সূর্যমুখী ও ৪৫ শতাংশ জমিতে ভুট্টার চাষ করেছি। আমাকে কৃষি অফিস থেকে সার্বক্ষণিক পরামর্শে দিয়েছে। আশার চেয়েও ফলন ভালো হয়েছে ।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো.আব্দুস ছাত্তার বলেন, হাসিনা বেগম কৃষি অফিসের প্রদর্শনী প্লট নিয়ে ভুট্রা ও সূর্যমুখী চাষ করেছে।ফলনও ভালো হয়েছে। অন্য ফসলের চেয়ে ভুট্টা ও সূর্যমুখী ফুল চাষে খরচ কম। এতে সার, ওষুধও কম লাগে। তেমন পরিচর্যা করতে হয় না। উপজেলার অনেক কৃষক এখন ভুট্টা ও সূর্যমুখী ফুল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো.নূরুল ইসলাম বলেন, আমরা চাইছি অনাবাদি জমি আবাদের আওতায় নিয়ে আসতে। গতানুগতিক চাষের বাইরে কম খরচে যাতে বেশি লাভ হয়, সে রকম চাষাবাদে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে সূর্যমুখীর চাহিদা আছে। এখন সাধারণ মিলেও এগুলো প্রক্রিয়াজাত করা যায়। প্রথমে স্থানীয় চাহিদা পূরণ করা হবে। কোলেস্টেরলমুক্ত। অন্য তেলের মতো ক্ষতিকর না। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সূর্যমুখীর তেলের এখন অনেক চাহিদা। এখানেও আস্তে আস্তে চাহিদা তৈরি হবে। সূর্যমুখী ও ভুট্টা বাড়তি হলে বাজার চেইন আমরা সৃষ্টি করে দিব। ফসল বিক্রি করতে তখন অসুবিধা হবে না। কৃষক এক বিঘা জমিতে লক্ষ টাকা আয় করতে পারবে। ধান চাষে এটা পাবে না।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে স্ত্রীর আঘাতে মৃত্যু হয়েছে তার স্বামীর। সোমবার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার ইছাদিঘী গ্রামে এমন ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর আটক করা হয় অভিযুক্ত ওই নারীকে। পরে গ্রেপ্তার দেখানো হয় তাকে।
জানা গেছে, নিহত ওই স্বামীর নাম কিতাব আলী (৪০)। তিনি উপজেলার ইছাদিঘী গ্রামের মৃত কেরামত আলীর ছেলে। নিহত কিতাব আলী ভাঙারির ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন । আর গ্রেপ্তার হওয়া তার স্ত্রীর নাম হামিদা আক্তার (২৫)।
উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার আবুল কালাম আজাদ বলেন, সোমবার বিকেলে তিনটার দিকে কিতাব আলীর সঙ্গে তার স্ত্রী হামিদা আক্তারের ঝগড়া হয়। সে সময় তারা একে অপরকে কামড় দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে স্বামীর স্পর্শকাতর স্থানে কামড় দেন স্ত্রী, তাতেই ঢলে পড়েন স্বামী কিতাব আলী। পরে তাকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করেন কতর্ব্যরত চিকিৎসক।
এ বিষয়ে সখীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এএইচএম লুৎফুল কবির বলেন, নিহত কিতাব আলীর তৃতীয় স্ত্রী হামিদা আক্তারকে আটকের পর গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। নিহত কিতাব আলীর আগের ঘরে মেয়ে বাবলি আক্তার বাদী হয়ে তার সৎ মা হামিদা আক্তারের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃত ওই নারীকে মঙ্গলবার(২৭ এপ্রিল) আদালতে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান পরিদর্শক লুৎফুল কবির।