/ হোম / সখীপুর
টাঙ্গাইলে শরীরে আগুন জ্বালিয়ে গৃহবধূর আত্মহত্যা - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে শরীরে আগুন জ্বালিয়ে গৃহবধূর আত্মহত্যা

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে ঘরোয়া ভাবে শালিসি বৈঠক শেষে সোমা আক্তার (১৯) নামের এক গৃহবধূ শরীরে আগুন জ্বালিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।  বুধবার(১২ জানুয়ারী) ভোর রাতে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানায় তার স্বজনরা। উপজেলার বোয়ালী পশ্চিমপাড়া গ্রামে ওই গায়ে আগুন দেওয়ার ঘটনাটি ঘটেছে। নিহত সোমা আক্তার ওই এলাকার এরশাদ মিয়ার স্ত্রী।

তবে  আত্মহত্যা নয় আগুন জ্বালিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবী করেছেন নিহত সোমার মা পারভীন আক্তার। এ ঘটনায় কেউ থানায় অভিযোগ করে নাই  বলে জানিয়েছে সখীপুর থানা পুলিশ।

এলাকাবাসী জানায়, পারিবারিকভাবে বনাবনি না হওয়ায় গত শনিবার(৮ জানুয়ারী) দুপুরে এরশাদের বাড়িতে একটি শালিসি বৈঠক হয়। তার কিছুক্ষণ পর বাড়ির উঠোনে দাঁড়িয়ে সোমা নিজেই শরীরে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। এ ঘটনার চার দিন পর চিকিৎসারত অবস্থায় সে মারা যায়।

ওই এলাকার স্থানীয় ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম জানায়, মেয়েটা নিজেই শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। আমি তখন ওই বাড়ির রান্না ঘরের পাশে ছিলাম। শালিসি বৈঠকের কথা জিজ্ঞাস করলে তিনি বলেন আমি ঢাকায় যাচ্ছি। সন্ধ্যায় সব বলবো বলে ফোন কেটে দেয়।

মেয়ের মা পারভীন আক্তার বলেন, আমার মেয়েকে আগুন দিয়ে পুড়ার সময় মেয়ে কাইন্দ্যা কাইন্দ্যা কইছে আমারে বাঁচাও, কেউ এক কলসি পানি নিয়ে আসো। কিন্তু কেউ পানি নিয়ে এগিয়ে আসে নাই। এর আগেও আমার মেয়েকে লোহার প্যারাক (রড) দিয়ে শ্যাক দিতো। কত কইছি তোরে নিয়া যামুগা, আমার ম্যায়ায় (মেয়ে) কইছে একটা বাচ্ছা হইছে, আমি এখান থেকে যামুনা। কিন্তু পাশান স্বামী, শ্বশুর মিলে আমার মেয়েকে আগুন ধরিয়ে পুইড়া মারছে। আমি এর বিচার চাই।

মেয়ের মা পারভীন আক্তার আরও জানায়, প্রায় চার বছর আগে মির্জাপুর উপজেলার গয়রামপুর গ্রামের নইমুদ্দিনের মেয়ে সোমা আক্তারের সাথে সখীপুর উপজেলার বোয়ালীা পশ্চিমপাড়া ্এলাকার সোমেশ আলীর ছেলে এরশাদ মিয়ার সাথে বিয়ে হয়। এর আগেও এরশাদ একটি বিয়ে করেছিলেন। আর এ ঘটনা আমরা বিয়ে পরে জানি। সেই ঘরে একটি ১৫ বছরের মেয়ে আছে। সেই সংসার নিয়েও মামলা চলছে।

সখীপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) এ.কে সাইদুল হক ভূ্ইঁয়া বলেন, আগুনে পুড়ে এক গৃহ বধূর মৃত্যু হয়েছে বলে শুনেছি কিন্তু  কেউ থানায় লিখিত ভাবে অভিযোগ করেনি।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৩. জানুয়ারী ২০২২ ০১:১৪:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে নারী গ্রাম পুলিশকে শ্লীলতাহানি, ইউপি সচিবকে কারাদণ্ড - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে নারী গ্রাম পুলিশকে শ্লীলতাহানি, ইউপি সচিবকে কারাদণ্ড

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে এক নারী গ্রাম পুলিশকে (মহল্লাদার) শ্লীলতাহানির অভিযোগে ইউপি সচিবকে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। মঙ্গলবার(৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) চিত্রা শিকারী এ আদালত পরিচালনা করেন। এসময় উপজেলার কালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোশারফ হোসেনকে (৪২) এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

ওই নারী ও আদালত সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে পরিষদটি একদমই ফাঁকা ছিলো। আশপাশে কেউ ছিল না। পাশের রুমে ওই নারী গ্রাম পুলিশ (১৮) একা বসা ছিলো। পরে সচিব মোশারফ হোসেন তাকে ডেকে ভবনের ২য় তলায় একটি কক্ষ ঝাড়ু দিতে পাঠায়। মোশারফ ওই কক্ষে গিয়ে তাকে জোরপূর্বক শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে ওই নারী চিৎকার করলে এক মহিলা ইউপি সদস্য তাকে উদ্ধার করে। পরে লোকজন ঘটনাস্থলে এসে সচিব মোশারফকে আটক করে। পরে তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করলে আদালত এক বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানায়, সচিব মোশারফ হোসেন এর আগে উপজেলার হাতিবান্ধা ইউনিয়নে থাকা অবস্থায় অসচ্ছল ও গরিব নারীদের সরকারি বিভিন্ন সুবিধি দেওয়ার কথা বলে একাধিক নারীর সাথে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। পরিষদে ভবনে বিভিন্ন সময় তিনি আপত্তিকর অবস্থায় ধরাও পড়েছেন। অন্যদিকে ওই সচিবের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে জাল জন্মনিবন্ধন করে দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী বিচারক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চিত্রা শিকারী বলেন, নারী মহল্লাদারকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে কালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোশারফ হোসেনকে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৮. ডিসেম্বর ২০২১ ০১:৩৬:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা, বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা, বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা

একতার কণ্ঠঃ সোহানুর রহমান সোহানকে সভাপতি ও ইলিয়াস হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করে এক বছরের জন্য টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করা হয়েছে। শনিবার (৪ ডিসেম্বর) রাতে টাঙ্গাইল সার্কিট হাউজে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য এই কমিটির ঘোষণা করেন।নব ঘোষিত ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে জেলায় ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের মাঝে ক্ষোভের সৃস্টি হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের দলীয় প্যাডে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষরিত প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী এক বছরের জন্য বাংলাদেশ ছাত্রলীগ টাঙ্গাইল জেলা শাখার আংশিক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক শফিউল আলম মুকুলকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য করা হয়।

সোহানুর রহমান সোহান জেলা ছাত্রলীগের বিলুপ্ত আহবায়ক কমিটির সদস্য ও গোপালপুর উপজেলা ছাত্রলীগের বর্তমান যুগ্ম আহবায়ক। তার বাড়ি গোপালপুর পৌরসভার সুন্দর গ্রামে। ইলিয়াস হাসান জেলা ছাত্রলীগের বিলুপ্ত আহবায়ক কমিটির সদস্য ও করটিয়া সাদত কলেজের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক ছিলেন। তার বাড়ি সখিপুর উপজেলার বহেড়াতৈল গ্রামে।

প্রসঙ্গত, নব ঘোষিত ছাত্রলীগের এই কমিটি নিয়ে জেলায় ছাত্রলীগ নেতাদের মাঝে ক্ষোভের সৃস্টি হয়েছে। বিশেষ করে জেলা সদরের কোন ছাত্রলীগ নেতা  এই কমিটিতে না থাকায়  কমী-সমর্থদের মাঝে ওই ক্ষোভের সৃস্টি হয়। তাদের দাবী দ্রুত এই কমিটি পরিবর্তন করে জেলা শহর থেকে সভাপতি অথবা সাধারন সম্পাদক নির্বাচন করা হোক।  দীর্ঘ প্রায় একযুগ পর টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠন করা হলেও ছাত্রলীগের আন্দোলন সংগ্রমে পরিক্ষীত নেতারা তাদের কাঙ্খিত পদ পায়নি।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৫. ডিসেম্বর ২০২১ ০৪:৪২:পিএম ৪ বছর আগে
নিখোঁজ সেই ঢাবি শিক্ষার্থী  হিমেলের সন্ধান মিলল টাঙ্গাইল কারাগারে - Ekotar Kantho

নিখোঁজ সেই ঢাবি শিক্ষার্থী হিমেলের সন্ধান মিলল টাঙ্গাইল কারাগারে

একতার কণ্ঠঃ চার‌ দিন ধরে নি‌খোঁজ থাকার পর ঢাকা বিশ্ব‌বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হা‌মিদ শিকদার হিমেলের সন্ধান মিলেছে। সোমবার(২২ নভেম্বর) সকা‌লে টাঙ্গাইলে জেলা কারাগারে হিমেলের খোঁজ পেয়েছে তার পরিবার। বদলি পরীক্ষা দেওয়ার অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদাল‌ত তাকে এক মা‌সের জন্য কারাদণ্ড দি‌য়ে কারাগা‌রে পাঠিয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার(১৯ নভেম্বর) সকালে টাঙ্গাইলে উপ-খাদ্য প‌রিদর্শক পদে বদ‌লি পরীক্ষা (প্র‌ক্সি) দিতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয় হিমেল। তাঁর কাছে ডি‌জিটাল ডিভাইস পাওয়া যায়। পরে তাঁকে এক মাসের কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো.আতাউর রা‌ব্বি বলেন, বদ‌লি পরীক্ষা দিতে যাওয়া হামিদ শিকদার হিমেলের কাছে ডি‌জিটাল ডিভাইস পাওয়ায় এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে ঢাকাস্থ সখিপুর থানা স্টুডেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন উদয় বলেন, ঘটনার পর সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে হিমেলকে ব‌হিস্কার করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত- ঢা‌বির রসায়ন বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী হিমেল গত শুক্রবার হল থেকে টাঙ্গাইলের সখীপুরে তাঁর গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার কথা থাকলেও সে বা‌ড়ি যান‌নি। সন্ধান না পেয়ে শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৩. নভেম্বর ২০২১ ১২:০৯:এএম ৫ বছর আগে
তিন দিন ধরে নিখোঁজ ঢাবির শিক্ষার্থী টাঙ্গাইলের হিমেল - Ekotar Kantho

তিন দিন ধরে নিখোঁজ ঢাবির শিক্ষার্থী টাঙ্গাইলের হিমেল

একতার কণ্ঠঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হামিদ সিকদার হিমেলকে তিন দিন ধরে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। গত শুক্রবার (১৯ নভেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হল থেকে গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের সখীপুরে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। এর পর থেকেই নিখোঁজ রয়েছেন তিনি। তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ রয়েছে।

হিমেল ঢাকাস্থ সখীপুর থানা স্টুডেন্ট (ডিএসটিএস) অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এবং টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার জামাল হাটকোড়া গ্রামের বিল্লাল সিকদারের ছেলে। তিনি ঢাবির রসায়ন বিভাগের ২০১৪-১৫ সেশনের শিক্ষার্থী এবং বর্তমানে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত।

হিমেলের বাবা বিল্লাল সিকদার, চাচাতো ভাই মাহফুজ, একাধিক বন্ধু ও জিডি সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১৮ নভেম্বর) রাতে হিমেল তাঁর বাবাকে মোবাইল ফোনে জানান, শুক্রবার অথবা শনিবার বাড়ি ফিরবেন। পরে শুক্রবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল থেকে বের হয়ে এখনো বাড়ি ফেরেননি। এরপর থেকেই তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁর ব্যবহৃত মোবাইলটিও বন্ধ রয়েছে।

হিমেলের বন্ধু ফেরদৌস আহমেদ বলেন, শহীদুল্লাহ হলের প্রভোস্ট এরই মধ্যে হিমেলের কক্ষ পরিদর্শন করেছেন। তিনি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

হিমেলের বাবা বিল্লাল সিকদার মুঠোফোনে বলেন, `সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ করেছি। কোথাও ছেলের সন্ধান পাইনি। আমাদের সঙ্গে কখনো মনোমালিন্যও হয়নি, তাহলে কেন সে নিখোঁজ হবে?’

হিমেলের বাবা আরও বলেন, গত শনিবার সন্ধ্যায় ঢাবির অপর শিক্ষার্থী ও হিমেলের চাচাতো ভাই মাহফুজ তালুকদার শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। এ ছাড়া হিমেলের একাধিক বন্ধুও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর সন্ধান চেয়ে পোস্ট দিয়েছেন।

এ বিষয়ে শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সেলিম জানান, `নিখোঁজ হিমেলের ব্যবহৃত মোবাইলের সর্বশেষ লোকেশন টাঙ্গাইল দেখাচ্ছে। কিন্তু মোবাইল ফোনটি বন্ধ রয়েছে। আমরা বিভিন্নভাবে তাঁকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।’

সর্বশেষ আপডেটঃ ২২. নভেম্বর ২০২১ ০১:১৫:এএম ৫ বছর আগে
টাঙ্গাইলে স্কুলছাত্রীকে অপহরণের পর ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে স্কুলছাত্রীকে অপহরণের পর ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ৭ম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে রিশাদ মিয়া (৩০ ) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। বৃহস্পতিবার( ১৮ নভেম্বর) ভোরে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। র‌্যাব-১২ সিপিসি-৩ এর টাঙ্গাইলের কোম্পানি কমান্ডার লে. কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রিশাদ জেলার সখীপুর উপজেলার দাড়িয়াপুর গ্রামের মফিজ মিয়ার ছেলে। সে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বড় বেলতা এলাকায় ভাড়া বাসা নিয়ে বসবাস করছিল। পেশায় ট্রাক্টর চালক।

র‌্যাব জানায়, অভিযুক্ত রিশাদ মিয়া টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বড় বেলতা এলাকায় বাড়া বাসা নিয়ে বসবাস করছিল। হঠাৎ করে গত ১৪ নভেম্বর রিশাদ ওই এলাকার ৭ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে অপহরণ করে। ওই ঘটনায় কিশোরীর পরিবার টাঙ্গাইল সদর থানা ও র‌্যাব কার্যালয়ে অভিযোগ দেয়। এরপর র‌্যাব বিষয়টি নিয়ে অভিযানে নামে। ওই কিশোরীকে নিয়ে বারবার স্থান ত্যাগ করায় বেকায়দায় পড়ে র‌্যাব। বুধবার (১৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি বাসা থেকে হাত, পা ও মুখ বাধা অবস্থায় ওই কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়। এঘটনায় রাতেই রিশাদের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। পরে বৃহস্পতিবার ভোরে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল এলাকা থেকে রিশাদকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে অভিযুক্ত রিশাদকে গ্রেফতার করা হয়। রিশাদ ওই কিশোরীকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে। এঘটনায় আরও ৩-৪জন তাকে সহযোগিতা করে। তাদেরকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। গ্রেপ্তারকৃত রিশাদকে বৃহস্পতিবার(১৮ নভেম্বর) দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে। কিশোরীকে উদ্ধারের পর প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৯. নভেম্বর ২০২১ ১২:৫৮:এএম ৫ বছর আগে
টাঙ্গাইলে মোবাইল না পেয়ে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রের আত্মহত্যা - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে মোবাইল না পেয়ে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রের আত্মহত্যা

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে মায়ের কাছে মুঠোফোন না পেয়ে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রের আত্মহত্যা ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৬ নভেম্বর)সকালে সখীপুর উপজেলার ঘোনারচালা গ্রামে ওই ঘটনা ঘটে। নিহত কিশোর আশিক আহমেদ (১৩) মালয়েশিয়া প্রবাসী আলী আকবর ও ছালমা বেগমের ছেলে। সে ঘোনারচালা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। ছালমা বেগম দুই সন্তানকে নিয়ে ঘোনারচালা গ্রামে থাকেন।
ছালমা বেগম জানান, আশিক বেশির ভাগ সময় তাঁর মুঠোফোন নিয়ে গেমস খেলত। মঙ্গলবার সকালে মেয়েকে পরীক্ষাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার সময় আশিক মায়ের মুঠোফোনটি বাসায় রেখে যাওয়ার জন্য বায়না ধরে। কিন্তু তিনি ফোন নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে চলে যান। তিনি বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় আশিককে কান্না করতে দেখেছিলেন। কিছুক্ষণ পর আশিকের দাদি ঘরে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় আশিকের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান। খবর পেয়ে ছালমা বেগম বাড়িতে আসেন। পরে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।

আশিকের স্বজনদের ধারণা, মায়ের কাছে মুঠোফোন না পেয়ে আশিক ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

সখীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মজিবর রহমান জানান, পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই আশিকের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মুঠোফোন না দেওয়ায় ওই স্কুলছাত্র আত্মহত্যা করেছে বলে পরিবারের সদস্যরা ধারণা করছেন। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

এ বিষয়ে কালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল হাসান বলেন, অল্প বয়সী ছেলে-মেয়েদের জন্য মুঠোফোন ও গেমস এক ধরনের নেশা। মুঠোফোনের নেশায় আসক্ত হয়ে অনেক কিশোর কিশোরীরা আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে। এ সমস্যা থেকে রেহাই পেতে সবাইকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৭. নভেম্বর ২০২১ ০৪:২৬:পিএম ৫ বছর আগে
টাঙ্গাইলে বিয়ে না করেই ৮ মাস ঘর সংসার; বিয়ের দাবিতে কলেজ ছাত্রীর অনশন - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে বিয়ে না করেই ৮ মাস ঘর সংসার; বিয়ের দাবিতে কলেজ ছাত্রীর অনশন

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে বিয়ে না করেই স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বাসাভাড়া নিয়ে ৮ মাস ঘর সংসার করার অভিযোগ ওঠেছে রাবিব নামের এক কলেজ ছাত্রের বিরুদ্ধে। বিয়ের দাবিতে গত দুইদিন ধরে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন করছেন এক কলেজ ছাত্রী (১৯)।

পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড কাহার্তা রামখা পাড়া কটাবাড়িতে ওই ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ঘটনার পর থেকে প্রেমিক জাকারিয়া ইসলাম রাব্বী লাপাত্তা।রাব্বী ওই গ্রামের প্রবাসী লুৎফর রহমানের ছেলে এবং সরকারি মুজিব কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী।

সোমবার(১৫ নভেম্বর) বিকেলে সরেজমিন দেখা যায়, রাব্বিদের বাড়ির প্রতিটি ঘরের দরজা বন্ধ করে ভেতরে অবস্থান করছেন বাড়ির অন্য সদস্যরা। আর বাইরে এক কাপড়ে বসে অনশন করছেন ওই কলেজছাত্রী। স্থানীয়রা তাকে দেখতে ভিড় করছেন। খাবার দেয়া হয়েছে কী না জানতে চাইলে মেয়েটি কান্নায় ভেঙে পড়েন। জানান ঘরে ঢুকার চেষ্টা করলে তাকে লাথি মেরে ফেলে দিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন রাব্বির পরিবারের লোকজন। বিয়ে না করা হলে তিনি এ বাড়িতেই আত্মহত্যা করবেন বলে জানান।

জানা যায়, প্রায় দেড় বছর আগে রাব্বির এক বন্ধুর মাধ্যমে মুঠোফোনে প্রথম পরিচয় হয় আবাসিক মহিলা অর্নাস কলেজ পড়–য়া ওই ছাত্রীর সঙ্গে। এক পর্যায়ে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পৌরসভার উত্তরা মোড় আবদুস সালামের বাসা এবং ক্যাপ্টেনমোড় ঐশিদের বাসা ভাড়া নিয়ে ৮ মাস স্বামী-স্ত্রী হিসেবে ঘর সংসার করেন তারা। বার বার বিয়ের চাপ দিলেও নানা তাল বাহান শুরু করেন রাবিব। নিরুপায় হয়ে রবিবার(১৪ নভেম্বর) থেকে বিয়ের দাবিতে অনশন করছেন ওই কলেজছাত্রী।

এ ব্যাপারে রাব্বির দাদা আবদুর রহমান বলেন, নাতি অন্যায় করেছে মাতাব্বররা যে ব্যবস্থা নেবেন আমরা তা মেনে নেব।

ওই ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর খলিলুর রহমান বলেন, গত রাতে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য উভয় পক্ষকে নিয়ে বসা হয়। পরে ছেলে পক্ষের অনিহার কারণে নিষ্পত্তি সম্ভব হয়নি।স্থানীয় কাউন্সিলর ফজলুর রহমান বলেন,স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হচ্ছে।

সুষ্ঠু ব্যবস্থা না হলে আইনের আশ্রয় নেবেন বলে জানান ওই কলেজ ছাত্রীর বাবা লেবু মিয়া।

সখীপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একে সাইদুল হক ভূইয়া বলেন, এ বিষয়ে কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৬. নভেম্বর ২০২১ ০১:৪৩:এএম ৫ বছর আগে
জুতা ছাড়া চলেন দুইবারের নির্বাচিত ইউপি সদস্য জয়নাল - Ekotar Kantho

জুতা ছাড়া চলেন দুইবারের নির্বাচিত ইউপি সদস্য জয়নাল

একতার কণ্ঠঃ দুইবারের ইউপি সদস্য হয়েও ৩০ বছর যাবৎ জুতা ছাড়াই চলছেন জয়নাল আবেদীন (৬৬)। কলেজে চাকুরি, দুই দফায় পরিষদের ইউপি সদস্যের দায়িত্ব পালনসহ ব্যক্তি জীবন যাপনের পাশাপাশি জুতা ছাড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন সামাজিক নানা কর্মকান্ড।

এলাকায় তিনি জুতা ছাড়া মেম্বার হিসেবেই পরিচিত। জয়নাল আবেদীন টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কাকড়াজান মহানন্দাপুর বাশার চালা গ্রামের মৃত গফুর মিয়ার ছেলে। পেশায় তিনি একজন পোল্ট্রি খাবার বিক্রেতা।

স্থানীয়রা জানায়, প্রায় ৩০ বছর যাবৎ জুতা ছাড়াই চলাফেরা করছেন জয়নাল মেম্বার। শীত, বর্ষা কোন সময়ই তিনি জুতা পড়েন না। নিজ বাড়ি, অফিস আদালত, মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির থেকে শুরু করে সর্বত্রই জুতা ছাড়া চলাফেরা করেন তিনি। এরপরও কখন শুনেনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তিনি। জুতা ছাড়া মেম্বার হিসেবে তিনি উপজেলা জুড়ে ব্যাপক পরিচিত বলেও জানান তারা।

স্থানীয় সত্তর উর্দ্ধো আব্দুর রহিম জানান, জয়নাল মেম্বার খুবই ভালো মানুষ। বিপদে আপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানো তাঁর একটা ভালো গুণ। এ কারণে এলাকার মানুষ তাকে দুইবার ইউপি সদস্য নির্বাচিত করেছেন।

স্থানীয় মুসুল্লি আতোয়ার রহমান জানান, জয়নাল আবেদীন মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন। দীর্ঘদিন যাবৎ তাকে জুতা ছাড়াই চলাচল করতে দেখছি। ব্যক্তি হিসেবে ভালো ও জনপ্রিয় হওয়ায় ইতোমধ্যে তিনি দুইবার ইউপি সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়াও তিনি কাকড়াজান ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বারদের সংগঠনের সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি জানান, আমরা শুনেছি তিনি পীর ধরা। পীরের নির্দেশেই তিনি জুতা ছাড়া চলাফেরা করেন।

জয়নাল আবেদীন জানান, ১৯৬৯ সালে কালিহাতী উপজেলার বর্তমান আউলিয়াবাদ কলেজে অফিস সহকারী পদে যোগদান করেন তিনি। ২০০০ সালে চাকরি থেকে অবসরের যান তিনি। চাকুরিরত অবস্থায় কালিহাতীর ডা. আজহারুল ইসলাম পীরের মুরিদ হন তিনি। জুতা ছাড়া চলাফেরা করার নির্দেশ দেন পীর সাহেব। সেই নির্দেশ অনুসারেই ৩০ বছর যাবৎ জুতা ছাড়া চলাফেরা করছি। জুতা ছাড়া চলাফেরা করতে স্বাছন্দ বোধ করি। এ কারণে আমি এলাকায় জুতা ছাড়া মেম্বার হিসেবে ব্যাপক পরিচিত।

তিনি জানান, চাকুরি অবসরের পর নিজ এলাকায় পোল্ট্রির খাবার বিক্রির ব্যবসায় যুক্ত হন তিনি। ব্যবসার পাশাপাশি ৬৬ বছর বয়সী জয়নাল আবেদীন এলাকার মানুষের বিপদে আপদে পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার নিয়ে ইউপি নির্বাচনের প্রার্থী হন। বিগত ১৯৯৭ সাল থেকে ২০০২ এবং বিগত ২০১৬ থেকে ২০২১ সালের নির্বাচনের পূর্ব পর্যন্ত কাকড়াজান ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের মেম্বার নির্বাচিত হই। এছাড়াও আমি কাকড়াজান ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বারদের সংগঠনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।

তিনি জানান, ব্যক্তি জীবনে আমি তিন মেয়ে ও এক ছেলের বাবা। ইতোমধ্যেই তিন মেয়ে জোহরা আক্তার, জয়নব আক্তার ও শিরিন আক্তারকে বিয়ে দিয়েছি। ছেলে সিয়াম আহমেদ এখন ৮ম শ্রেনীর ছাত্র। পরিবারের সদস্যরাসহ সকলেই আমার এই ব্যতিক্রম জীবনযাপন মেনে নিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, জুতা ছাড়া চলাফেরা করতে তার কোন সমস্যা হয় না। পিচের তৈরী পাকা সড়ক কিংবা কাঁচা সড়কে খালি পায়ে চলে তার পায়ে কখনও ব্যথা পাননি। জুতা ছাড়া চলাফেরা করতে তিনি স্বাছন্দ বোধ করেন ও অনেক উপকারও পেয়েছেন। জুতা ছাড়া চলাফেরা করার কারণে বড় ধরনের কোন রোগ্যব্যাধি হয়নি, কমেনি চোখের জ্যোতিও। এবারের নির্বাচনে পরাজিত হওয়া সত্ত্বেও আজীবন তিনি জনগণের সেবা করা প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।

এ বিষয়ে কাকড়াজান ইউনিয়ন পরিষদের নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান মো. দুলাল হোসেন জানান, গুরুধরা মানুষ জয়নাল আবেদীন। গুরুর আদেশ মান্য করতেই তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ জুতা ছাড়া চলাফেরা করছেন। আমি তাকে ব্যক্তিগতভাবে ভালো মানুষ হিসেবে চিনি। এছাড়াও তিনি দুইবার কাকড়াজান ইউনিয়নের পরিষদের সদস্য ছিলেন বলেও জানান তিনি।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৫. নভেম্বর ২০২১ ০১:১৩:এএম ৫ বছর আগে
টাঙ্গাইলে সন্তান প্রসবের ১৮ ঘণ্টা পর এসএসসি পরীক্ষা দিল কিশোরী - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে সন্তান প্রসবের ১৮ ঘণ্টা পর এসএসসি পরীক্ষা দিল কিশোরী

একতার কন্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে সন্তান প্রসবের ১৮ ঘণ্টা পর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে এক কিশোরী। রবিবার(১৪ নভেম্বর) সকাল ১০টায় সখীপুর পিএম পাইলট মডেল গভ. স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষায় অংশ নেয় সে। তার নাম বীথি আক্তার।বীথির বাড়ি ঘাটাইলের সানবান্ধা গ্রামে।

বীথি আক্তার উপজেলার মোন্তাজনগর আবাসিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। বাল্যবিবাহ ও সন্তান প্রসব তাকে পরীক্ষা দেওয়া থেকে বিরত রাখতে পারেনি।

অষ্টম শ্রেণি পাস করার পর উপজেলার মোন্তাজনগর গ্রামের রানা হাসান নামের একজনের সঙ্গে বীথির বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামীর বাড়ি থেকে সে ২০১৯ সালে মোন্তাজনগর আবাসিক বালিকা বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে ক্লাস শুরু করে।

করোনাকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় এসএসসি পরীক্ষা হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। পরীক্ষার সময় নির্ধারিত না হওয়ার একপর্যায়ে বীথি আক্তার অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে।

শনিবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে বীথির প্রসববেদনা শুরু হলে তাকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ওই দিন বিকেল চারটায় স্বাভাবিকভাবে বীথি ছেলেসন্তানের মা হয়। হাসপাতাল থেকে রবিবার সকাল সাড়ে নয়টায় একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যানে করে বীথিকে তার মা এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার জন্য কেন্দ্রে নিয়ে যান।

ওই শিক্ষকেরা জানান, সে দেড় ঘণ্টার পরীক্ষা সুন্দরভাবে সম্পন্ন করেছে। প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে।

উপজেলার মোন্তাজনগর আবাসিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাকির হোসে বলেন, মেয়েটি ভালো ছাত্রী। বিয়ের পর সে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হয়। অন্যান্য মেয়ের মতো নিয়মিত ক্লাস করেছে। সে দমে যায়নি। বাল্যবিবাহ ও সন্তান প্রসব—এসব বাধা তাকে থামাতে পারেনি। বীথি প্রধান শিক্ষককে বলেছে, সে পড়াশোনা চালিয়ে যাবে।

মুঠোফোনে প্রধান শিক্ষক আরও জানান, সদ্য সন্তান প্রসবের কারণে বীথির পরিবার থেকে তাকে পরীক্ষা না দেওয়ার জন্য বলা হলেও সে শোনেনি।

সখীপুর পিএম পাইলট মডেল গভ. স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের সচিব এমদাদুল হক মিয়া বলেন, ‘পরীক্ষা চলাকালে আমি মেয়েটির খোঁজ নিয়েছি। সে খুব সাহসের সঙ্গে পরীক্ষায় অংশ নেয়।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মফিজুল ইসলাম বলেন, করোনাকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় এই উপজেলায় দুই শতাধিক মেয়ের বাল্যবিবাহ হয়েছে। বাল্যবিবাহ রোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে। পরীক্ষায় অংশ নেওয়ায় তিনি বীথিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

এদিকে, সখীপুর উপজেলায় এবারের এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় ৪৫ জন শিক্ষার্থী অনুপস্থিত। এর মধ্যে ২৪ জন মেয়ে ও ২১ জন ছেলে। এসএসসিতে অনুপস্থিত ২১ জনের মধ্যে ১১ জন মেয়ে। দাখিলে অনুপস্থিত ২৪ জনের মধ্যে ১৪ জন মেয়ে।

বাল্যবিবাহ হওয়ায় মেয়েরা এবং  জীবিকার সন্ধানে নেমে পড়ায় ছেলেরা শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৫. নভেম্বর ২০২১ ০৩:১৪:পিএম ৫ বছর আগে
টাঙ্গাইলে ১৩ ইউপিতে আ. লীগ, ৫টিতে বিদ্রোহী প্রার্থীর জয় - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ১৩ ইউপিতে আ. লীগ, ৫টিতে বিদ্রোহী প্রার্থীর জয়

 একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ৩ উপজেলায় ১৮টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ১৩টিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এবং ৫টিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জয়ী হয়েছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) মধ্যরাতে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সখীপুর উপজেলায় এ ইউনিয়নে ৪টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে দুইটিতে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও দুইটিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।

কাকড়াজান ইউনিয়ন: এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী দুলাল হোসেন ১৪ হাজার ৯৪৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী তারিকুল ইসলাম বিদ্যুৎ পান ৬৮৭৫ ভোট।
বহেড়াতৈল ইউনিয়ন: এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ওয়াদুদ হোসেন বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পান ৯ হাজার ৪২। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি হন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী গোলাম ফেরদৌস তিনি পান ৬ হাজার ১৪৭ ভোট।

যাদবপুর ইউনিয়ন: এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী একেএম আতিকুর রহমান ১০ হাজার ২৯১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী খন্দকার বজলুর রহমান বাবুল পান ৬ হাজার ১৫৮।

বহুরিয়া ইউনিয়ন: এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সরকার মোহাম্মদ নূরে আলম মুক্তা নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি পান ৮ হাজার ৭০৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামী লীগের প্রাথী গোলাম কিবরিয়া সেলিম পান ৬ হাজার ২১৭ ভোট।

 

ধনবাড়ী উপজেলা: এ উপজেলায় ৪টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে এবং ৩টিতে সাধারণ ও সংরক্ষিত পদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ৩টিতে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ও ১ টিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বিজয়ী হয়েছে। অপরদিকে মুশুদ্দি, বীরতারা এবং বলিভদ্র ইউনিয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়।

ধোপাখালী ইউনিয়ন: এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আকবর হোসেন বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পান ৮ হাজার ৮৯৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী কামাল হোসেন তালুকদার পান ৪ হাজার ১৩৭ ভোট।

যদুনাথপুর ইউনিয়ন: এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মীর ফিরোজ আহমেদ বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পান ১৬ হাজার ৩৩৪ জন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ পান ৭১৫ জন।

বানিয়াজান ইউনিয়ন: এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রাথী রফিকুল ইসলাম তালুকদার ফটিক ৯ হাজার ৩৫০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী মাসুদ আলম পান ১ হাজার ১৯ ভোট।

পাইস্কা ইউনিয়ন: এ ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী (ঘোড়া) জাহাঙ্গীর আলম ৭ হাজার ৩৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী আরশেদ আলী পান ২ হাজার ৩৬৫ ভোট।

 

এছাড়া বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় নির্বাচিত প্রার্থীরা হলেন- বলিভদ্র ইউনিয়নে রফিকুল ইসলাম, মুশুদ্দিতে আবু কায়সার ও বীরতারাতে আমহেদ আল-ফরিদ। এরা সবাই আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থী ছিলেন।

দেলদুয়ার উপজেলা: এ উপজেলায় ৭টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে ৫টিতে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও দুইটিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।

ডুবাইল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ইলিয়াস মিয়া, ফাজিলহাটী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শওকত আলী, দেলদুয়ার সদরে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মাসুদ উজ্জামান খান, পাথরাইল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রাম প্রসাদ ও দেউলী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী প্রার্থী দেওয়ান তাহমিনা হক বিজয়ী হয়েছে। এছাড়া লাউহাটী ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহীন মোহাম্মদ খান ও এলাসিন ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী মানিক রতন বিজয়ী হয়েছেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৫. নভেম্বর ২০২১ ০১:১৮:এএম ৫ বছর আগে
টাঙ্গাইলে স্কুল ছাত্রীর আত্মহত্যা - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে স্কুল ছাত্রীর আত্মহত্যা

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে ঐন্দ্রিলা কর্মকার(১৪) নামের অষ্টম শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রী ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে। সোমবার(৮ নভেম্বর) ভোরে সখীপুর পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের কালিদাস রোডের পল্টনপাড় নামক এলাকায় ওই আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। ঐন্দ্রিলা  একই এলাকার ডা:গোপাল কর্মকারের মেয়ে।

পুলিশ ও পারিবারিকসূত্রে জানা যায়,ঐন্দ্রিলা কর্মকার সখীপুর পি এম পাইলট মডেল স্কুল এন্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। পরিবারের সাথে রাতের খাবার শেষ করে সে তার নিজ রুমে ঘুমাতে যায়।

সোমবার ভোরে নিহতের মা তার খোঁজ খবর নিতে রুমে গিয়ে ঐন্দ্রিলাকে গলায় গামছা বাধাঁ অবস্থায় ফ্যানের সঙ্গে ঝুলতে দেখেন। পরে তাকে উদ্ধার করে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

সখীপুর থানার পরিদর্শক(এসআই) মো.মেহেদী হাসান জানান,হাসপাতালে গিয়ে প্রাথমিক সুরতহাল করা হয়। পরিবারের লোকজনের লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে লাশ ময়না তদন্ত ছাড়াই তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৯. নভেম্বর ২০২১ ০১:১১:এএম ৫ বছর আগে
কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।